মহাকর্ষ শুধু বস্তুকে আকর্ষণ করে

١. بِسۡمِ ٱللهِ ٱلرَّحۡمَـٰنِ ٱلرَّحِيمِِ ◯ 1. In the name of Allah, Most Gracious, Most Merciful. ٢. ٱلۡحَمۡدُ لِلَّهِ رَبِّ ٱلۡعَـٰلَمِينَِ ◯ 2. Praise be to Allah, The Cherisher and Sustainer of the Worlds; Nahmuduhu Wa Nusawlli A’laa Rosoolihil Kareem. গবেষণা এবং আল কুরআন চিন্তা-ভাবনা-গবেষণার প্রতি উৎসাহিত করে মহান আল্লাহ তায়া'লা পবিত্র কুরআনে ফরমান: ٢٩- كِتَابٌ أَنزَلْنَاهُ إِلَيْكَ مُبَارَكٌ لِّيَدَّبَّرُوا آيَاتِهِ وَلِيَتَذَكَّرَ أُولُو الْأَلْبَابِ ◯ “আমি আপনার নিকট বরকতময় কিতাব (আল কুরআন) নাযিল করেছি, যাতে করে তার আয়াতসমূহ নিয়ে তারা গবেষণা করে।” (সূরাহ ছ-দ: ২৯) ٨٢- أَفَلَا يَتَدَبَّرُونَ الْقُرْآنَ ۚ وَلَوْ كَانَ مِنْ عِندِ غَيْرِ اللَّـهِ لَوَجَدُوا فِيهِ اخْتِلَافًا كَثِيرًا “তারা কি কুরআন সম্পর্কে চিন্তা-ভাবনা করে না? উহা যদি আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো নিকট হতে আসত তবে তারা তাতে অনেক মতপার্থক্য পেত।” (নিসা- ৮২) আল কোরআন নিয়ে চিন্তা-গবেষণার গুরুত্ব ٢٤- أَفَلَا يَتَدَبَّرُونَ الْقُرْآنَ أَمْ عَلَىٰ قُلُوبٍ أَقْفَالُهَا ◯ তারা কি কুরআন নিয়ে গবেষণা করে না? নাকি তাদের অন্তরে তালা মেরে দেয়া হয়েছে?” (সূরা মুহাম্মাদ- ২৪) তারা কি ভূপৃষ্ঠে ভ্রমণ করে না, যাতে তারা জ্ঞান-বুদ্ধিসম্পন্ন হৃদয় ও শ্রুতিসম্পন্ন শ্রবণের অধিকারী হতে পারে! বস্তুত চক্ষু তো অন্ধ নয়, বরং অন্ধ হচ্ছে তাদের হৃদয়।’ (সূরা হজ : ৪৬) তবে কি তারা লক্ষ্য করে না উটের প্রতি, কীভাবে তা সৃষ্টি করা হয়েছে এবং আকাশের প্রতি, কীভাবে তাকে উঁচু করা হয়েছে এবং পাহাড়সমূহের প্রতি, কীভাবে তাকে প্রথিত করা হয়েছে এবং ভূমির প্রতি, কীভাবে তা বিছানো হয়েছে’। (সূরা গাশিয়া ১৭-২০) নিশ্চয়ই মহাকাশ ও পৃথিবী সৃষ্টিতে এবং দিবা-রাত্রির আবর্তনের মধ্যে বোধসম্পন্ন লোকদের জন্য নিদর্শন রয়েছে। যারা দাঁড়িয়ে, বসে ও শায়িত অবস্থায় আল্লাহকে স্মরণ করে এবং মহাকাশ ও পৃথিবীর সৃষ্টির বিষয়ে চিন্তা-গবেষণা করে এবং বলে, হে আমাদের প্রতিপালক! এ সবকিছু তুমি অনর্থক সৃষ্টি করনি। সব পবিত্রতা একমাত্র তোমারই। আমাদের তুমি দোজখের শাস্তি হতে বাঁচাও। (সূরা আল-ইমরান ১৯০-৯১) আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘হে নবী! বলে দাও, আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে, তার প্রতি দৃষ্টি নিবদ্ধ করো।’ (সূরা ইউনুস, আয়াত ১০১) প্রকৃতি নিয়ে , সৃষ্টিতত্ত্ব নিয়ে, মহাজাগতিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে ভেবে না দেখাকে আল্লাহ তায়ালা তিরস্কার করেছেন। কোরআনের ঘোষণা- 'তারা কি নিজেদের অঅন্তরে ভেবে দেখে না, আল্লাহ আসমান ও জমিন এবং এ দুয়ের মধ্যবর্তী সবকিছুই যথাযথভাবে ও নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সৃষ্টি করেছেন। (সূরা রুম, আয়াত ৮)[ তাফসিরে মা'আরেফুল কোরআন ও ইবনে কাছির অবলম্বনে] كِتَابٌ أَنْزَلْنَاهُ إِلَيْكَ مُبَارَكٌ لِيَدَّبَّرُوا آيَاتِهِ وَلِيَتَذَكَّرَ أُولُو الْأَلْبَابِ- “এ এটি এক কল্যাণময় কিতাব, যা আমরা তোমার প্রতি নাযিল করেছি। যাতে তারা এর অ আয়াতসমূহ অনুধাবন করে এবং জ্ঞানীরা উপদেশ গ্রহণ করে” (ছোয়াদ ৩৮/২৯)। পবিত্র কুরআনের কতিপয় আয়াতভিত্তিক গবেষণার সংক্ষিপ্ত বিবরণ বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম ১. কুন-ফায়াকুন- إِنَّمَا أَمْرُهُ إِذَا أَرَادَ شَيْئًا أَن يَقُولَ لَهُ كُن فَيَكُونُ ◯https://quranyusufali.com/36/ "হও, আর তা হয়ে যায়" । আরবি 'কুন' (كُن) অর্থ "হও" এবং 'ফায়াকুন' (فَيَكُونُ) অর্থ "আর তা হয়ে যায়" কুন (كُن): হও (আদেশ বা আদেশ সূচক ক্রিয়া) ফা (فَ): সুতরাং/এবং ইয়াকুন (يَكُونُ): তা হয়/হয়ে যায় কুন (كُن): হও-এই আদেশসূচক কুদরাতি এই মহান শব্দটি মহান আল্লাহর অসীম সৃষ্টি ক্ষমতা ও নির্দেশকে বোঝায়—তিনি কোনো কিছু সৃষ্টি করতে চাইলে শুধু 'হও' বললে তা তাৎক্ষণিকভাবে অস্তিত্বে চলে আসে । এককথায়, 'কুন ফায়াকুন' হলো মহান স্রষ্টার সেই পরম ক্ষমতা, যার মাধ্যমে মহাবিশ্বের সবকিছু অস্তিত্বে আসে । কুন (كُن) কুদরাতি এই শব্দটি মহান আল্লাহর নিরঙ্কুশ ক্ষমতা ও ইচ্ছা শক্তির প্রতীক । সৃষ্টিজগতে যেকোনো কিছু করার জন্য আল্লাহর কোনো বাহ্যিক উপাদানের প্রয়োজন হয় না, শুধু কুন (كُن): হও-এই আদেশই যথেষ্ট যা আল্লাহর সুবহা-নিয়াত অর্থাৎ সৃষ্টির ক্ষেত্রে কোনো প্রকার উপকরণ-উপাদান হতে পবিত্র, মুক্ত এবং উপকরণ-উপাদান হতে স্বমাদ অর্থাৎ অমুখাপেক্ষি এই ইসমি শিফাত বা গুণাবলীর অপূর্ব প্রকাশ। ২. -أَوَلَمْ يَرَ الَّذِينَ كَفَرُوا أَنَّ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ كَانَتَا رَتْقًا فَفَتَقْنَاهُمَا ۖ وَجَعَلْنَا مِنَ الْمَاءِ كُلَّ شَيْءٍ حَيٍّ ۖ أَفَلَا يُؤْمِنُونَ “যারা কুফরি করে তারা কি দেখে না যে, (১) আসমানসমূহ ও যমীন মিশে ছিল ওতপ্রোতভাবে তারপর আমরা উভয়কে পৃথক করে দিলাম। ৩. وَالسَّمَاءَ بَنَيْنَاهَا بِأَيْدٍ وَإِنَّا لَمُوسِعُونَ [ الذاريات: 47] আমি স্বীয় ক্ষমতাবলে আকাশ নির্মাণ করেছি এবং আমি অবশ্যই ব্যাপক ক্ষমতাশালী। [সূরা যারিয়াত: 47] অন্ধকার রাতে তারা ভরা আকাশ দেখে, দিনে প্রখর সূর্য তাপ আর ঝলমলে আলো দেখে, বিস্তুর্ণ শস্য-শ্যামল মাঠ প্রান্তর দেখে মানব জাতির সেই উষাকাল হতে এই প্রশ্ন জনমনে জেগেছিল যে, এই মহাবিশ্ব এলো কি করে? "এটাই হলো আদি প্রশ্ন" (বিজ্ঞানচিন্তা)। মডার্ণ কসমোলজিক্যাল স্ট্যান্ডার্ড মডেল থিওরি কর্তৃক ১৯৬৪ সালে মহাকাশে প্রাপ্ত পশ্চাৎপদ মহাজাগতিক রশ্মি (ব্যাক গ্র্যাউন্ড কসমিক রে) এর কম্পিউটার সিমুলেশনের মাধ্যমে জানা যায় যে, হাইয়েস্ট এনার্জেটিক রেডিয়েশনের মহাবিস্ফোরণ (Big Bang) থেকে শুরু হয়েছে মহাবিশ্ব। ১. কুন-ফায়াকুনঃ পবিত্র কুরআনের সূরাহ ইয়াসীনের ..নং আয়াতে বর্ণিতঃ "কুন" শব্দের মাধ্যমে যা ফায়াকুন হয়েছে তা হচ্ছে সূরাহ আম্বিয়ার ৩০ নং আয়াতে বর্ণিত "আসমান-যমীন একত্রে ছিল" যার বৈজ্ঞানিক নামঃ হাইয়েস্ট এনার্জেটিক রেডিয়েশন (Highest Energetic Radiation-অর্থাৎ মহাজাগতিক উচ্চ শক্তির বিকিরণ)। "পরে পৃথক করেছি"- এই আয়াতের বৈজ্ঞানিক নামঃ হাইয়েস্ট এনার্জেটিক রেডিয়েশনের "মহাবিস্ফোরণ বা বিগ ব্যাং" (Big Bang)। প্রত্যেক সৃষ্টি জোড়া-জোড়া বলা হয়ে থাকে, বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রা সেদিন থেকে শুরু হয়েছিল-যেদিন মানব মনে সত্যকে জানার আগ্রহ জন্মেছিল। মানব জীবনের উষাকালে জাগ্রত সেই সত্য জানার আগ্রহ থেকে সাধারণ ভাবুক থেকে কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, লেখক, দার্শনিক, বিজ্ঞানী সম্প্রদায়ের উদ্ভব ঘটে। মহাবিশ্ব জন্ম নিয়েছিল শক্তি থেকে কিন্তু এর বিকাশ হয়েছিল বুদ্ধিমত্তা দিয়ে। কিন্তু মানবকূল সত্যকে জানতে বেছে নেন কেবল শক্তি দ্বারা সৃষ্ট বস্তু-পদার্থে গড়া বিশ্ব প্রকৃতিকে; মহাজাগতিক বুদ্ধিমত্তাকে নয়। শুরুতে মানুষ জানতে পাঠ্য করেছিল প্রকৃতিকে। উল্লেখ্য, মডার্ণ কসমোলজিক্যাল স্ট্যান্ডার্ড মডেল থিওরিমতে, আজ থেকে প্রায় ১৩৭৫ কোটি বছর পূর্বে হাইয়েস্ট এনার্জেটিক রেডিয়েশনের মহাবিস্ফোরণ (Big Bang) থেকে শুরু হয়েছিল মহাবিশ্বের দ্বৈতরূপে-যার সংক্ষিপ্ত বিবরণ নিম্নরূপঃ ১) মহাশুন্য তথা মহাকাশ এবং ২) ৪ মহাবল যথাক্রমে(ক) বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় বল (খ) দূর্বল (গ) সবল নিউক্লিয় বল (ঘ) মহাকর্ষ বল (ঙ) ডার্ক এনার্জি এবং চ) ডার্ক ম্যাটার (ছ) ভরশুন্য ফোটন জাতীয় কণা (জ) ভরযুক্ত হিগস বোসন জাতীয় সর্ব প্রকার বস্ক‌ু কণা যদ্বারা যত সব বস্তু-পদার্থের উদ্ভব। প্রশ্ন হচ্ছেঃ মহাবিশ্ব কি দিয়ে তৈরি? কিংবা বস্তুতে কি আছে? এই প্রশ্নের জবাব খুঁজতে গিয়ে বস্তুকে ভাঙতে ভাঙতে গুঁড়া-গুঁড়া, চূর্ণ-বিচূর্ণ করতে করতে গিয়ে হয়রান পেরেশান হয়ে প্রাচীন গ্রীসের সেরা দার্শনিক ডেমোক্রিটাস বলে উঠেছিলেন এই বলেঃ আর ভাঙা যাবে না। এই বাক্যটি মাত্র একটি গ্রীক যে শব্দে নিহিত রয়েছে সে শব্দটির নাম অ্যাটম (ATOM)। অ্যাটম (ATOM) কি দিয়ে তৈরি? প্রশ্নটি প্রকৃতিতে এত এত কণা-এসব কি দিয়ে তৈরি? এই প্রশ্নের মতই পদার্থ বিজ্ঞানের ১০ প্রধান অমীমাংসিত এবং নিষিদ্ধ প্রশ্নের অন্যতম। এ ধরণের প্রশ্ন পদার্থ বিজ্ঞানে এ কারণে নিষিদ্ধ যে, এমন প্রশ্ন রয়েছে যার উত্তর এ জগতে নেই মর্মে পদার্থ বিজ্ঞানীদের সর্বসম্মত অভিমত। উল্লেখ্য, সুদূর মহাকাশের এমন প্রান্ত সীমায় বিজ্ঞানীদের দৃষ্টি পৌঁছে যা কেবল অআলোর পর্দা দিয়ে অআচ্ছাদিত-যাতে দৃষ্টি দিতে বিজ্ঞানীদের মানা। কারণ, আলোগুলি এমন যে সাধারণ চর্ম চোখে ধারণ অক্ষম। বিজ্ঞানীদের হাতে বর্তমানে এমন ডিটেক্টর নেই যদ্বারা এই আলো ধারণ করা যায়। তবে পর্দার ওপার হতে মাঝে মাঝে নিউট্রিনোর আনাগোনা থেকে ওপারের কিছু তথ্য পদার্থ বিজ্ঞানীরা জানছেন। পক্ষান্তরে প্রখ্যাত মার্কিন জ্যোতি-পদার্থ বিজ্ঞানী কার্ল সাগানের মতে, পৃথিবীকে অর্থবহ করতে সাহসী প্রশ্ন এবং উত্তরের গভীরতা দরকার (বিজ্ঞানচিন্তা)। অন্যদিকে WISTRC এর মতে, অর্থবহ পৃথিবীর জন্য অর্থবহ প্রশ্ন জরুরী। উত্তর মেরুতে কি আছে? এটি প্রশ্ন বটে। কিন্তু উত্তর মেরুর উত্তরে কি আছে? প্রশ্নটি অর্থহীন এবং অপ্রয়োজনীয়। WISTRC মনে করে অ্যাটম (ATOM) কিংবা মহাবিশ্ব কি দিয়ে তৈরি? এই প্রশ্ন উত্তর মেরুর উত্তরের খবর নেওয়ার মত বেয়াড়া প্রশ্ন নয় বরং সুদূরপ্রসারী গুরুত্ব রাখে। WISTRC আরও মনে করে যে, অ্যাটম (ATOM) কিংবা মহাবিশ্ব কি দিয়ে তৈরি? এই প্রশ্নের উত্তরে নিহিত আছে একাধারে স্ট্রিং থিওরি, বহুল প্রত্যাশিত কোয়ান্টাম গ্র্যাভিটনের মতো পদার্থ বিজ্ঞানের সবচেয়ে জটিল তত্ত্বের অপূর্ব সম্ভাবনা তত্ত্ব। প্রশ্নটির উত্তরে পদার্থ বিজ্ঞানের প্রায় শতভাগ এবং প্রকৃতি বিজ্ঞানের প্রায় অর্ধশত ভাগ সত্য নিহিত রয়েছে। বলা হয়ে থাকে বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রা সেদিন থেকে শুরু হয়েছিল যেদিন মানব মনে সত্যকে জানার আগ্রহ জন্মেছিল। অ্যাটম (ATOM) কিংবা মহাবিশ্ব কি দিয়ে তৈরি? অথবা প্রকৃতিতে এত এত কণা-এসব কি দিয়ে তৈরি? এই প্রশ্নের উত্তর নিহিত রয়েছে পবিত্র কুরআনের সূরাহ অআল যারিয়াতের ৪৭.নং এবং সূরাহ হাদীদের ২৫ নং নিম্নোক্ত আয়াতেঃ ৩. وَالسَّمَاءَ بَنَيْنَاهَا بِأَيْدٍ وَإِنَّا لَمُوسِعُونَ [ الذاريات: 47] আমি স্বীয় ক্ষমতাবলে আকাশ নির্মাণ করেছি এবং আমি অবশ্যই ব্যাপক ক্ষমতাশালী। [সূরা যারিয়াত: 47]https://surahquran.com/tafsir-Bangla-aya-47-sora-51.html وَأَنزَلْنَا الْحَدِيدَ فِيهِ بَأْسٌ شَدِيدٌ وَمَنَافِعُ لِلنَّاسِ "আমি আরো নাযিল করেছি লোহা, তাতে প্রচন্ড শক্তি ও মানুষের জন্য বহু কল্যাণ রয়েছে।https://www.hadithbd.com/quran/link/?id=5100, https://quranyusufali.com/57/ আইনস্টাইনের ভরশক্তি সমীকরণ আইনস্টাইনের বিখ্যাত ভর-শক্তি সমীকরণটি হলো \(E = mc^2\)। এটি পদার্থবিজ্ঞানের অন্যতম যুগান্তকারী সূত্র, যা প্রমাণ করে যে ভর এবং শক্তি একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। ভর, শক্তি ও আলো পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত হয় কীভাবে? আর তাদের মধ্যকার এই সম্পর্ক আমাদের নিজেদের এবং মহাবিশ্বের মৌলিক প্রকৃতি সম্পর্কে কী অর্থ প্রকাশ করে? ১৮৮০–এর দশকে পদার্থবিদেরা প্রশ্ন তুলতে লাগলেন, ভর কোথা থেকে আসে? এটি আসলে কী? পদার্থবিদেরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখতে পান, ইলেকট্রনের মতো কোনো চার্জিত কণা যখন চলাফেরা করে, তখন তা একটি চৌম্বকীয় ক্ষেত্র তৈরি করে। চৌম্বকীয় ক্ষেত্রটি কণার পেছনে ধাক্কা দেয়, যার কারণে কণাটির পক্ষে দ্রুত বেগে চলা কঠিন হয়ে ওঠে। ঘটনাটির এই প্রভাবের সঙ্গে আরেক বিষয়ের মিল খুঁজে পান বিজ্ঞানীরা। ধাক্কা দিয়ে নাড়ানো কঠিন কোনো পদার্থের যেমন ভর থাকে, ইলেকট্রনের প্রভাবও অনেকটা সে রকম। এখান থেকেই পদার্থবিদেরা প্রথম ধারণা পান যে ভর ও শক্তি (চৌম্বকীয় ক্ষেত্রের শক্তি) স্রেফ আলাদা বিষয় নয়, বরং অন্য কিছুও হতে পারে। কিন্তু সেই অন্য কিছুটা কী? অঙ্ক কষে দেখতে পান, পাথরটির ভরের যে পরিবর্তন হয়েছে, তার পরিমাণ ও ফোটনের শক্তির পরিমাণের সঙ্গে আলোর বেগের বর্গের গুণফলের সমান। অর্থাৎ ফোটনের শক্তি = (পাথরের ভরের পরিবর্তন) × (আলোর বেগ)২। মানে, পাথরটি থেকে যখন ফোটন বেরিয়ে আসছে, তখন পাথরের ভর বদলে যাচ্ছে। ভরের এই পরিবর্তনের পরিমাণ (একে যদি আলোর বেগের বর্গ দিয়ে গুণ করা হয়) আর ফোটনের শক্তির পরিমাণ একদম সমান। এ থেকে মনে হয়, পাথরটির কিছু ভর রূপান্তরিত হয়ে যাচ্ছে শক্তিতে, যা ফোটন রূপে বেরিয়ে আসছে। এখানে মনে রাখতে হবে, ফোটনের কোনো ভর নেই, এরা বিশুদ্ধ শক্তি। উল্লেখ্য তেজস্ক্রিয় ক্ষয় নিয়ে গবেষণা করে মেরি কুরি দেখালেন, যে তেজস্ক্রিয় শক্তির বিকিরণ হচ্ছে, সেটার জন্ম হচ্ছে বস্তুর ভর থেকে। পয়েনকার ভর আর শক্তির সেই সম্পর্কটা বের করেন বিখ্যাত সমীকরণ E=mc2 নামে। তবে পয়েনকার পারেননি নিউটনীয় বলবিদ্যার সাহায্যে এর ব্যাখ্যা দিতে কিংবা কোয়ান্টাম বলবিদ্যার সাহায্য নিতে। সেই কাজগুলোই করলেন আলবার্ট আইনস্টাইন। তিনি বিশেষ আপেক্ষিকতার অবতারণা করে স্থান–কাল আর ভরশক্তির সমন্বয় করেন বিশেষ আপেক্ষিকতা আর, কোয়ান্টাম তত্ত্বকে একীভূত করে ।কারণ, কোয়ান্টাম বলবিদ্যা দিয়ে E=mc2-এর হিসাব বের করা যায় সহেজেই। আইনস্টাইন কোয়ান্টাম মেকানিক্স তত্ত্ব ব্যবহার করে ভরশক্তির সমীকরণের প্রতিষ্ঠাতারূপে সফল হন । আইনস্টাইন মনে করেন, আলোর বেগ পরম রাশি-এ ধারণাকে সমীকরণের মারপ্যাঁচে আবদ্ধ করতে পারলেই বস্তুর প্রকৃত ভর জানা খুব সহজ- যদি তার শক্তির মান জানা যায়। অথবা যদি জানা থাকে বস্তুর ভর, তাহলে সেটার সঙ্গে আলোর বেগের বর্গ গুণ করলে পাওয়া যাবে তার শক্তি।এভাবে শক্তি আর ভরের মধ্যে স্পষ্ট একটা সম্বন্ধ দেখিয়ে দিলেন আইনস্টাইন। যুগ যুগ ধরে ভরকে, জড়তাকে বস্তুর জন্য মৌলিক রাশি বলে মনে করতেন যাঁরা, তাঁদের আসন টলে গেল। ভর নির্ভরশীল হয়ে উঠল বস্তুর শক্তির ওপর। আগে ভর আর শক্তির সমীকরণের আলাদা আলাদা সংরক্ষণশীলতা নীতি ছিল। আইনস্টাইন তাঁর ভরশক্তির সমীকরণে দেখালেন, ভর আর শক্তি আলাদাভাবে সংরক্ষণশীলতার আওতায় না আনলেও চলে। এরা পরস্পরের পরিপূরক। তাই দুটিকে এক করে একটা সংরক্ষণশীলতার নীতি দাঁড় করানো যায়—ভরশক্তির সংরক্ষণশীলতা নীতি। E=mc2 সমীকরণে E অর্থ এনার্জি বা শক্তি, m-এর অর্থ মাস বা ভর এবং c-এর অর্থ শূন্যস্থানে আলোর বেগ। এটি বলে, শক্তি হলো ভর আর আলোর বেগের বর্গের গুণফলের সমান নিউটনের গতির সূত্রে: F=ma। কয়েক শতাব্দী ধরে সমীকরণটি পদার্থবিজ্ঞানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জায়গা দখল করে রেখেছিল। এখানে F হলো বস্তুতে প্রয়োগকৃত বল, m মানে ভর এবং a হলো ত্বরণ। সূত্রটি থেকে জানা যায়, কোনো বস্তুর ভর অনেক বেশি হলে, তা নাড়াতে অনেক বেশি বল প্রয়োগ করতে হবে। আর ভর কম হলে, তা নাড়ানো যাবে সামান্য ধাক্কাতেই। সাধারণ হিসাবে, ভর হলো বস্তুর মোট পরিমাণ। এই সমীকরণ অনুসারে: \(E\) (Energy) = শক্তি \(m\) (Mass) = বস্তুর ভর \(c\) (Speed of light) = শূন্য মাধ্যমে আলোর বেগ (প্রায় \(3 \times 10^8\) মিটার/সেকেন্ড বা প্রায় তিন লক্ষ কিলোমিটার প্রতি সেকেন্ড) [1, 2, 3] এই সমীকরণের কাঁধে চেপে একসময় পরমাণুর হৃদয় খুঁড়ে কোয়ান্টাম পদার্থবিদেরা বের করে আনেন বিপুল পরিমাণ শক্তি। সেই শক্তির দাপটে ১৯৪৫ সালে তছনছ হয়ে গিয়েছিল জাপানের হিরোশিমা ও নাগাসাকি শহর। সমীকরণের E অর্থ এনার্জি বা শক্তি, m-এর অর্থ মাস বা ভর এবং c-এর অর্থ শূন্যস্থানে আলোর বেগ—যার পরিমাণ সেকেন্ডে ২৯,৯৭,৯২,৪৫৮ মিটার। এটি বলে, শক্তি হলো ভর আর আলোর বেগের বর্গের গুণফলের সমান। https://www.bigganchinta.com/physics/1itpn71xli সমীকরণটির মূল কথা: এই সূত্রটি প্রকাশ করে যে, সামান্য পরিমাণ ভরকেও যদি সম্পূর্ণরূপে শক্তিতে রূপান্তরিত করা যায়, তবে তা থেকে বিপুল পরিমাণ শক্তি নির্গত হবে। যেহেতু \(c^{2}\)-এর মান অত্যন্ত বিশাল (আলোর বেগের বর্গ), তাই অল্প একটু ভর থেকে অসীম শক্তির সৃষ্টি হতে পারে। এর সবচেয়ে বড় বাস্তব উদাহরণ হলো সূর্য এবং নক্ষত্রের ভেতরের নিউক্লিয়ার ফিউশন প্রক্রিয়া, যেখানে ভর শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। আলবার্ট আইনস্টাইনের এই আপেক্ষিকতার তত্ত্ব পপারমাণবিক চুল্লির মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করে। এই ফলাফল ছিল যুগান্তকারী। কারণ, হাজার হাজার বছর ধরে আমরা ভর ও শক্তিকে পুরোপুরি ভিন্ন বলে ভাবতাম। আইনস্টাইনের সমীকরণ থেকে দেখা গেল, ভর ও শক্তিকে পরস্পর সম্পর্কযুক্ত এবং একটিকে আরেকটিতে রূপান্তর করা সম্ভব। এখানে প্রশ্ন উঠতে পারে, এর মানে আসলে কী? বস্তুর ভরের মতো কোনো কিছু শক্তিতে রূপান্তর হয় কীভাবে? কিংবা শক্তি কীভাবে রূপান্তরিত হয় ভরে? প্রোটন আর নিউট্রনকে ভাঙলে পাওয়া যায় কোয়ার্ক। একটি প্রোটন গঠিত হয় দুটি আপ কোয়ার্ক ও একটি ডাউন কোয়ার্ক পরস্পর যুক্ত হয়ে। নিউট্রন গঠিত হয় দুটি ডাউন আর একটি আপ কোয়ার্কে। প্রোটনের তিনটি কোয়ার্কের ভর একত্রে মাপা হলে ভর পাওয়া যাবে ৯৩৮ MeV/c2। এক MeV/c2 হলো প্রায় ১.৭×১০-৩০ কিলোগ্রাম। কিন্তু প্রোটনটি ভেঙে প্রতিটি কোয়ার্ক আলাদা আলাদাভাবে মাপা হলে আপ কোয়ার্কের ভর পাওয়া যাবে মাত্র ২ MeV/c2 এবং ডাউন কোয়ার্কের ভর পাওয়া যাবে ৪.৮ MeV/c2। সাধারণ যোগ করেই বোঝা যাচ্ছে, বিপুল পরিমাণ ভরের কোনো হদিস নেই এখানে। বেমালুম গায়েব! নিউট্রনের কোয়ার্কগুলোর ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। তাহলে প্রোটনের বাকি ভর গেল কোথায়? এই গায়েবি ভর আসে কোথা থেকে? স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে, আলাদাভাবে কোয়ার্কদের খুব বেশি ভর নেই। প্রতিটির ভর প্রোটনের মোট ভরের মাত্র ১ শতাংশ। তারপরও কোয়ার্ক তিনটিকে একত্র করলে তাদের ভর ম্যাজিকের মতো প্রায় ১০০ গুণ বেড়ে যায়। যেন তিনটি লেগো খণ্ড একসঙ্গে জুড়ে দিলাম, আর বলা নেই, কওয়া নেই হুট করে তার ভর হয়ে গেল ৩০০ লেগো খণ্ডের সমান। প্রোটনে এই ভর এল কোথা থেকে? এর উত্তরটা সরল, কিন্তু বিস্ময়কর। আসলে তিনটি কোয়ার্ক একত্র হয়ে গঠন করে প্রোটন বা নিউট্রন। তিনটি কোয়ার্ককে একত্র করতে যে শক্তির প্রয়োজন, প্রোটন বা নিউট্রনের বাকি ভর আসে সেই শক্তি থেকে। আগেই দেখা যায়, শক্তিও ভরের মতো আচরণ করে। প্রোটনের ক্ষেত্রে তার ভর হলো তিনটি কোয়ার্ক কণার ভর এবং তাদের একত্রে আটকে রাখা শক্তির যোগফল। কোয়ার্ক কণাদের একত্রে আটকে রাখে শক্তিশালী পারমাণবিক বল। কোয়ার্কদের শক্ত বন্ধনে আটকে রাখে শক্তিশালী পারমাণবিক বলবাহী গ্লুয়ন কণা। শুধু প্রোটনের ক্ষেত্রেই নয়, প্রকৃতির সব ক্ষেত্রেই এটি সত্য। কাজেই একজন মানুষের মোট ভর আসলে তার সব কণা এবং কণাগুলোকে একত্রে আটকে রাখতে প্রয়োজনীয় শক্তির যোগফল। সাধারণ কাণ্ডজ্ঞানে আমাদের দেহের মোট যে ভর তা-ও আসলে শক্তি। আইনস্টাইনের তত্ত্বমতে, জমে থাকা শক্তিও জমাট বস্তুর মতোই। কোয়ান্টাম তত্ত্বমতে, গোটা মহাবিশ্বই কোয়ান্টাম ক্ষেত্রে পরিপূর্ণ। এখান থেকেই আসলে প্রতিটি কণার ভর আসে। প্রায় প্রতিটি কণাই হিগস ফিল্ডের সঙ্গে মিথস্ক্রিয়া করে। তবে কণার ভরের উৎসের এটি হলো আংশিক ব্যাখ্যা। পুরো ব্যাখ্যাটি হলো, ভর আসে হিগস ক্ষেত্রের শক্তি থেকে। কিছু কণা হিগস ক্ষেত্রে সংরক্ষিত শক্তির সঙ্গে অনেক বেশি মিথস্ক্রিয়া করে। প্রায় ১৩৭০ কোটি বছর আগে মহাবিস্ফোরণে মহাবিশ্বের জন্মের পর সেখানে ছিল কেবল তাপ আর শক্তি। তা থেকে জন্মেছিল কিছু কণা। শুরুতে তারা ভরহীন ছিল। কিন্তু হিগস বোসন কণার সঙ্গে মিথস্ক্রিয়া করে কিছু কণা হয়ে গেল ভারী,। এতদ্বসত্ত্বও ফোটনসহ ভরশুন্য কিছু কণা আজও হিগস শক্তি ক্ষেত্রের সংস্পর্শ মুক্ত থেকে ভরহীন রয়ে গেছে যারা মহাবিশ্বে ছুটে বেড়ায় আলোর বেগে। কোয়ান্টাম তত্ত্বমতে, কোয়ার্ক ও ইলেকট্রন কণা আসলে কোয়ান্টাম ক্ষেত্রের ছোট্ট ঢেউ ছাড়া কিছু নয়। আর এই ক্ষেত্র ছড়িয়ে আছে গোটা মহাবিশ্বে। কোয়ান্টাম তত্ত্বে একটি কণা হলো শক্তির বিস্ফোরণ বা শক্তির ঝলক। চিৎকার করলে বা জোরে শব্দ করলে বাতাসে শব্দতরঙ্গের যেমন ঢেউ ওঠে কিংবা সাগরের পানিতে যেমন ঢেউ ছড়িয়ে পড়ে, এটিও তেমন। কাজেই কণারা নিজেও আসলে একধরনের শক্তি। কোনো বস্তুর ভর আসলে ওই বস্তুর ভেতরে কণাগুলোকে আটকে রাখার জন্য তাদের ভেতরের বন্ধনের শক্তি। যেমন নিউক্লিয়াসে অবস্থিত প্রোটন এ বং' নিউট্রনকে পরস্পর সংঘর্ষের পরিবর্তে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে অবস্থানে শান্তির দূতের কাজ করে মেসন, কোয়ার্ক এবং এন্টি কোয়ার্কের মধ্যে সহাবস্থান তৈরি করে গ্লুয়ন। প্রতিটি কণার ভর আসলে এক প্রকার শক্তি। সাধারণ কাণ্ডজ্ঞানে আমরা যেটাকে ভর বলে মনে করি, তার কোনো অস্তিত্ব নেই। আসলে সবকিছুই শক্তি। সব বস্তুই আগে থেকেই শক্তি। কাজেই ভর ওজন কিংবা যেকোনো বায়বীয়,তরল, কঠিন সব বস্তুকণা এমনকি কম্পন, বিদ্যুৎ, শব্দ, তরঙ্গ আসলে সবই একধরনের শক্তি মাত্র। কোয়ান্টাম তত্ত্বমতে, শুন্যে শক্তি বিরাজমান থাকা নতুন কথা নয় (বিজ্ঞানচিন্তা)। কাজেই মহাকাশে কিংবা মহাবিশ্বে যা আছে একগাদা শক্তির গোলা। তার কিছু শক্তি আছে কণার রূপে, কিছু শক্তি আছে কণাগুলোর ভেতর বন্ধন হিসেবে আর কিছু আছে কণাদের গতি হিসেবে। সমতুল্য ভরের পরিবর্তন নির্ণয় করতে হলে ফোটনের শক্তিকে আলোর বেগের বর্গ দিয়ে ভাগ দিতে হয়। আলোর বেগের বর্গ অনেক বড় একটি সংখ্যা। তাই দেখা যাবে, এ ক্ষেত্রে সমতুল্য ভরের পরিমাণ অনেক কম পাওয়া যাবে। আমরা জেনেছি, সব ভরই আসলে শক্তি। কোনো বস্তুর কণাদের শক্তি হয় তাদের বন্ধনের মধ্যে কিংবা হিগস ফিল্ডের সঙ্গে তাদের মিথস্ক্রিয়ার ফলাফল। আসলে অনেক বছর ধরে ভর সম্পর্কে আমরা ভুলভাবে চিন্তা করেছি। সেই ভুল সহজে ভাঙার নয়। নতুন ধারণা অনুসারে, বস্তু বা পদার্থ বলতে আসলে কিছু নেই, সবই শক্তি। এ ধারণা এখন মহাবিশ্ব সম্পর্কে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টে দিয়েছে। ডার্ক ম্যাটারও ডার্ক এনার্জির জমাটরূপ। যেমন অক্সিজেন আর হাইড্রোজেনের অণু-কণার প্রকাশ প্লাজমা বা বাস্প আকারে, বাস্পের জমাট রূপ মেঘ , মেঘের জমাট রূপ বৃষ্টি, বৃষ্টির জমাট রূপ শিলা কিংবা বরফ। এখন পদার্থবিদেরা কেবল বস্তু-পদার্থ শক্তিতে পরিপূর্ণ বলে ভাবেন না, বরং মনে করেন যে, দৃশ্যমান গোটা মহাবিশ্ব বিরাজমান আছে শুধু জমাট শক্তিরূপে। এমনকি আমরাও ব্যতিক্রম নই। সত্যি বলতে, আমরা হলাম শক্তি দিয়ে তৈরি দীপ্তিমান, আলোকময় এক অনন্য অসাধারণ সত্তা। সূত্রঃ নির্বাহী সম্পাদক, বিজ্ঞানচিন্তা,সূত্র: ফ্রিকোয়েন্টলি আক্সড কোয়েশ্চনস অ্যাবাউট দ্য ইউনিভার্স/ জর্জ চ্যাম ও ড্যানিয়েল হোয়াইটসন; ঈশ্বরকণা, মানুষ ইত্যাদি/ পথিক গুহ; উইকিপিডিয়া যে প্রক্রিয়ায় স্ট্রিং থিওরিঃ শক্তির বহিঃপ্রকাশক সত্য অনেক সময় সরল পথে নিহিত থাকে, দুর্বোধ্যতায় নয় (নিউটনের স্মরণীয় উক্তিঃ উইকিপিডিয়া) নিউটন বলেছিলেন, বাহ্যিক কোনো বল প্রয়োগ না করলে স্থির বস্তু চিরকাল যেমনি স্থির থাকবে, তেমনি গতিশীল বস্তু বাধা না পেলে একই গতিতে অনন্তকাল ধরে চলতে থাকবে। বাস্তব জীবনে স্ট্রিং থিওরির অস্তিত্ব উদাহরণস্বরূপ একটি কয়েক হাত লম্বা চিকন শক্ত তার (স্ট্রিং) নিই। তারের মাথাটাকে A ধরি, মধ্যস্থলকে B এবং শেষ অংশকে C ধরি। তারের A এবং B-কে টান টান ভাবে বেঁধে নিই। নিউটনের সূত্র মতে, বাহ্যিক কোনো বল প্রয়োগ না করলে স্থির বস্তু চিরকাল স্থিরই থাকবে। সেমতে অআলোচ্য তার (স্ট্রিং) চিরকালের জন্য নীরব, নিস্তব্দ, নিশ্চলই থাকার কথা। এবার তর্জনী আঙগুল দ্বারা তারের মধ্যস্থলকে B বিন্দুতে কিছুটা শক্তি প্রয়োগ করলে স্থির তারটি নীরব, নিস্তব্দতা ভেঙ্গে এক প্রকার মৃদু কম্পন সৃষ্টির মাধ্যমে নাড়াচাড়া করবে । আরেকটু জোরে তারটিতে শক্তি প্রয়োগ করলে দেখা যাবে তারটিতে গুন গুন শব্দ হবে। অর্থাৎ এই প্রক্রিয়ায় শক্তি প্রয়োগের আউটপুট বা অর্জন হচ্ছে গুন গুন শব্দ। উদাহরণস্বরূপ রাতে বিরক্তিকর মশার যে গুন্জন তার মূলে আছে মশার দুই পাখার অনবরত কম্পন। এই কম্পনের আউটপুট বা অর্জন হচ্ছে সুখকর নিদ্রা হরক বিরক্তিকর মিনি জেট তুল্য বিরক্তিকর শব্দ। উল্লেখ্য, ২০১২ সালে CERN কর্তৃক বিলিয়ন বিলিয়ন প্রোটন কণা‌কে ৮ টেরা ভোল্ট শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে প্রায় আলোর গতিতে মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটিয়ে সেকেন্ডে ট্রিলিয়ন,ট্রিলিয়ন কম্পন সৃষ্টি করে লার্জ হ্যাড্রন কলাইডারে কৃত্রিমভাবে মহাবিশ্বের আদি কণা হিগস বোসন উৎপন্ন করা হয় । এছাড়া এক বিলিয়ন বছরেরও বেশি আগে দুইটি ব্ল্যাকহোলের মুখোমুখি সংঘর্ষে মহাকর্ষ তরঙ্গের উদ্ভব ঘটেছিল। এমতাবস্থায়, World Islamic Science Tech Research Center (WSTRC) মনে করে ১৩ টেরা ভোল্ট শক্তি প্রয়োগে সেকেন্ডে কোয়াড্রিলিয়ন অথবা কুইন্টিলিয়ন কম্পন সৃষ্টি করে কৃত্রিমভাবে ইলেকট্রন-কোয়ার্ক উৎপন্ন করা অসম্ভব কিছু নয়। বিজ্ঞানীদের অবশ্য শর্ত হচ্ছে, স্ট্রিং থিওরির স্ট্রিং দেখা যেতে হবে। তার জন্য বানাতে হবে, ১০-৩৩ সেন্টিমিটার দর্শনযোগ্য সুপার ডিজিটাল মাইক্রোস্কোপ! যা এ মুহুর্তে বিজ্ঞানীদের জন্য আকাশ কুসুম কল্পনা মাত্র। কারণ, বিজ্ঞানীদের হাতে আছে ১০-১৭ সেন্টিমিটার ক্ষুদ্র বস্তু দর্শনক্ষম ডিজিটাল মাইক্রোস্কোপ। এ যাবৎকালের সবচেয়ে ক্ষুদ্রতম কণার সূক্ষ্ণতা হচ্ছে মাত্র ১০-১৬ সেন্টিমিটার। স্ট্রিং থিওরি অনুমান করতে স্ট্রিংগুলোর পরীক্ষামূলক প্রমাণ হাজির করা দরকার স্ট্রিং থিওরি অনুমান করা গ্র্যাভিটন বা অন্য স্ট্রিংগুলোর পরীক্ষামূলক প্রমাণ হাজির করতে হলে দরকার অনেক অনেক বড় পার্টিকেল অ্যাক্সিলারেটর। গত দশকে হিগস-বোসন কণা সনাক্ত করা সার্নের লার্জ হ্যার্ডন কলাইডার বা এলএইচসিও সেজন্য যথেষ্ট নয়। বিজ্ঞানীদের হিসেবে, এই তত্ত্বটা সরাসরি প্রমাণের জন্য যে পার্টিকেল অ্যাকসিলারেটরের দরকার হবে, তার আকার হবে একটা গ্যালাক্সির সমান। আমাদের বর্তমান প্রযুক্তি জ্ঞান ও দক্ষতায় সেটা কোনোভাবেই সম্ভব নয়।স্ট্রিং থিওরির বেশ কয়েকটি ভার্সন রয়েছে। এসব ভার্সন অনুসারে আমাদের বস্তুজগতের মাত্রা চারটি (স্থানের মাত্রা ৩টি এবং সময়ের ১টি) নয়, বরং ২৬টি, ১১টি অথবা ১০টি। আপেক্ষিকতার তত্ত্ব অনুযায়ী আমরা মাত্র চারটি মাত্রার কথাই জানি। তাহলে বাকী মাত্রাগুলো কোথায় গেল? সেগুলো আমরা দেখতে বা অনুভব করতে পারছি না কেন? এর উত্তরে স্ট্রিং তাত্ত্বিকরা বলেন, বাকী মাত্রাগুলো আমরা দেখতে পাচ্ছি না কারণ, সেগুলো কোনো অতিক্ষুদ্র পরিসরে জট পাকিয়ে আছে। সেটা কত ছোট জায়গা? মাত্র ১০-৩৩ সেন্টিমিটার জায়গায়। পরমাণুর মতো অতিক্ষুদ্র সে পরিসর। বুঝতেই পারছেন, এত ছোট জায়গায় জট পাকিয়ে আছে বলেই সেগুলো আমরা সনাক্ত করতে পারছি না। আবার এই বাড়তি মাত্রাগুলো জট পাকাতে পারে কোটি কোটি উপায়ে। তাই প্রতিটি জট পাকানোর কারণে সৃষ্টি হতে পারে ভিন্ন ভিন্ন ধরনের স্থানকাল। এভাবে দেখা যায়, এ তত্ত্ব ১০৫০০ রকমের মহাবিশ্বের ভবিষ্যদ্বাণী করে। এসব মহাবিশ্ব বা মাল্টিভার্সের প্রতিটিই গুণে-মানে নিজের মতো করে অনন্য। একেই স্ট্রিং থিওরি সবচেয়ে চ্যালিঞ্জিং ব্যাপার বলে মনে করেন বিজ্ঞানীরা কারণ স্ট্রিং থিওরির একেকটি সমাধান হলো একটা গোটা মহাবিশ্ব। তাই তত্ত্বটাকে সরাসরি পরীক্ষা করার জন্য আমাদের দরকার গবেষণাগারে একটা আস্ত শিশু মহাবিশ্ব তৈরি করা! সেটি কি আমাদের পক্ষে সম্ভব? স্ট্রিং তত্ত্বের সমালোচকরা এ ব্যাপারে কঠোর ভাষায় বলেন, মানুষের পক্ষে এসব মাল্টিভার্সের পরীক্ষামূলক প্রমাণ দাখিল করা কখনোই সম্ভব নয়। তাত্ত্বিক পদার্থবিদ মিচিও কাকুর মতে, একমাত্র ঈশ্বরই পারেন এ তত্ত্বটা সত্যিকার অর্থে পরীক্ষা করে দেখতে।আবার স্ট্রিং থিওরি অনুমান করা গ্র্যাভিটন বা অন্য স্ট্রিংগুলোর পরীক্ষামূলক প্রমাণ হাজির করতে হলে দরকার অনেক অনেক বড় পার্টিকেল অ্যাক্সিলারেটর। গত দশকে হিগস-বোসন কণা সনাক্ত করা সার্নের লার্জ হ্যার্ডন কলাইডার বা এলএইচসিও সেজন্য যথেষ্ট নয়। বিজ্ঞানীদের হিসেবে, এই তত্ত্বটা সরাসরি প্রমাণের জন্য যে পার্টিকেল অ্যাকসিলারেটরের দরকার হবে, তার আকার হবে একটা গ্যালাক্সির সমান। আমাদের বর্তমান প্রযুক্তি জ্ঞান ও দক্ষতায় সেটা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। “মৌলিকভাবে স্ট্রিং থিওরির কিছু প্রমাণ আছে। খুব উচ্চশক্তিতে পার্টিকেলগুলোর বিস্ফোরণ ঘটালে স্ট্রিংগুলোর কাঠামো দেখতে পাওয়া যাওয়ার কথা” (অশোক সেন) মহাকাশের দিকে লক্ষ্য করলে দেখা যায় গ্রহ-নক্ষত্রগুলো যেন একে অপরের সাথে সুতার মালার মতো প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ। Computer Programming এর মাধ্যমে ১০০ কোটি আলোকবর্ষ দূরত্বের ভেতর কসমিক নেটওয়ার্ক যেটুকু দেখা যা তাতে দেখা যায় মহাবিশ্ব স্ট্রিং বা সুতায় বোনানো (বিজ্ঞানচিন্তা, ডিসেম্বর, ২০২০, বর্ষঃ ৫ল সংখ্যাঃ ৩, পৃষ্ঠা ৫২)। “নিউটনের সূত্রমতে, সূর্য ও পৃথিবীর মাঝখানে মহাকর্ষ বল এমনভাবে থাকে যেন অদৃশ্য কোনো দড়ি দিয়ে এই বস্ত্ত দুটিকে বেঁধে রাখার ফলে সূর্যের চার পাশের কক্ষপথে চিরকালের জন্য বাধা পড়ে পৃথিবী”( বিজ্ঞানচিন্তা পৃষ্ঠাঃ ৬৩)। পানির স্ট্রিং পানির রাসায়নিক মূল উপাদান ২টি। ১) হাইড্রোজেন ২) অক্সিজেন । ২টি হাইড্রোজেন আর ১টি অক্সিজেন পরমাণু মিলে পানির অণু (অ্যাটম) গঠিত হয়। এক ফোটা পানিতে কয়েক লক্ষ পানির অণু থাকে। অণুগুলো এক সাথে তড়িৎ আকর্ষণ বলের প্রভাবে আণবিক বন্ধনে আটকে থাকে। পানির পরমাণুর এই বন্ধনকে বলা হয় হাইড্রোজেন বন্ধন। শক্তিশালী হাইড্রোজেন বন্ধনের কারণে পানির অণুগুলো একে অপরের সাথে লেগে থাকে। পানির মধ্যে কিছু অন্য উপাদান থাকে। অণুগুলো এদের সাথেও প্রীতির বন্ধনে অআবদ্ধ হয় যাকে বলা হয় আসক্তি। এই আসক্তির কারণে পানিতে প্রবাহের সৃষ্টি হয় ফলে পানি গড়িয়ে চলে সমতল ভূমিতেও। একটি ঋণাত্মক পায়ন যখন প্রোটনের সাথে প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ হয় তখন দুটো মিলে তৈরি হয় নিউট্রন কণা। নিউক্লিয়াসের মধ্যে এভাবে মেসনদের প্রভাবে প্রোটন ভেক বদল করে পাল্টে যাচ্ছে নিউট্রন কণায়। আবার নিউট্রন ভেক বদল করে পাল্টে যাচ্ছে প্রোটনে। ঋণাত্মক মেসন তৈরি হয় একটা ডাউন কোয়ার্ক আর একটা অ্যান্টি আপ কোয়ার্ক দ্বারা। বিদ্যুতে স্ট্রিংঃ বিদ্যুৎ পরিবাহিত হয় স্ট্রিং বা তারের মাধ্যমে। এনালগ টেলিফোনে স্ট্রিংঃ আজও এনালগ টেলিফোনে তার ব্যবহৃত হয়ে থাকে। নিউরিনে স্ট্রিংঃ মস্তিস্কে স্ট্রিং একজনের মাথায় যে পরিমাণ স্ট্রিং বা তার থাকে সেই তারে পুরো পৃথিবীকে বেঁধে রাখা সম্ভব বলে বিজ্ঞানীদের দাবী। মহাকাশে স্ট্রিং Computer Programming এর মাধ্যমে ১০০ কোটি আলোকবর্ষ দূরত্বের ভেতর কসমিক নেটওয়ার্ক যেটুকু দেখা যা তাতে দেখা যায় মহাবিশ্ব স্ট্রিং বা সুতায় বোনানো (বিজ্ঞানচিন্তা, ডিসেম্বর, ২০২০, বর্ষঃ ৫ল সংখ্যাঃ ৩, পৃষ্ঠা ৫২)। অণু-পরমাণুতে স্ট্রিং কোয়ান্টাম তত্ত্বের মূল কথা হচ্ছে, প্রকৃতির উপাদানগুলো ভাঙলে এক সময় মূল কণিকা গুলো পাওয়া যায়। স্ট্রিং থিওরি বলে, এই মূল কণিকাগুলো আসলে এক ধরণের তন্ত্ত বা সুতার কম্পন। সেই সুতা বা স্ট্রিংগুলো বিভিন্ন মোডে কম্পনের কারণেই সেগুলোকে কণা হিসেবে অআমরা দেখি(বিজ্ঞানচিন্তা, পৃষ্ঠা ৪৭) প্রোটন-প্রোটনের মধ্যে যে বন্ধন সেখানে স্ট্রিং বা হাঁড়ের ভূমিকা পালন করে নিরপেক্ষ পায়ন মেসন।(বিজ্ঞানচিন্তা, জানুয়ারি ২০২১, পৃষ্ঠা ৬৮)। হেনেরিক ইউকাওয়া বলেন, একটা প্রোটন আর একটা নিউটনের মধ্যে ধনাত্মক পায়ন কণা বিনিময় হয়। ফলে তৈরি হয় শক্তিশালী নিউক্লিয় বল। অনেকে মনে করেন ভবিষ্যতে সব শক্তিকেই এই স্ট্রিং থিওরি দিয়ে ব্যাখ্যা করা যাবে।(অশোক সেন, স্ট্রি বিশেষজ্ঞ)। যে প্রক্রিয়ায় কোয়ান্টাম গ্র্যাভিটন শক্তির বহিঃপ্রকাশক June 01, 2026 মহাকর্ষ ও তার প্রতিবল বা প্রতি কণা কোয়ান্টাম গ্র্যাভিটন সম্পর্কিত WSTRC এর গবেষণালদ্ধ (২০১৮-২০২৬) আইডিয়ার সংক্ষিপ্ত বিবরণী নিম্নরূপঃ ভূমিকাঃ প্রত্যেক বিষয় মূলে পৌঁছে । প্রত্যেক বিষয় জোড়া জোড়া। হাইয়েস্ট এনার্জেটিক রেডিয়েশন আসমান এবং জমিনের এককরূপ। পরে বিগ ব্যাংয়ের মাধ্যমে পৃথক হয়। পৃথক হওয়ার পরও জোড়া জোড়া ছিল ১) ফোটন জাতীয় ভরশুন্য কণা এবং ২) ভরযুক্ত হিগস বোসন জাতীয় কণা দ্বারা মহাবিশ্বের সর্বপ্রথম আত্ম প্রকাশ ঘটেছিল আজ থেকে ১৩৭০ কোটি বছর আগে। মহাবিশ্বের অপর জোড়ত্ব হচ্ছে ১) বস্তুগত তথা শক্তিগত অবকাঠামো এবং ২) জ্ঞান-প্রজ্ঞাগত অবকাঠামো। আসমান এবং জমিনের মাধ্যমে মহাবিশ্বের বস্তুগত অবকাঠামোর উদ্ভব ঘটেছিল বিগ ব্যাংয়ের মাধ্যমে এবং উদ্ভব পরবর্তী মুহুর্তে ঘটে জ্ঞান-প্রজ্ঞার অপূর্ব প্রকাশ যা ঘটেছিল প্রথমতঃ শীতলমুখী এন্ট্রপির মাধ্যমে। দ্বিতীয় সময়ের যাত্রা শুরু হয়েছিল অগ্রযাত্রার মাধ্যমে। অতীতকে ছাড়িয়ে বর্তমান অবস্থানে দাঁড়িয়ে ভবিষ্যতের দিকে ক্রমেই ছুটছে মহাবিশ্ব। এই হচ্ছে মহাবিশ্বের পরম বাস্তবতা। অ্যারিস্টটল থেকে গ্যালিলিও, নিউটন এবং আইনস্টাইন প্রমুখ বিশ্বের শীর্ষ স্থানীয় প্রাচীন এবং আধুনিক বিজ্ঞানীরা কেবল মহাকর্ষ কিংবা মাধ্যাকর্ষণ শক্তি সম্পর্কে গবেষণা করেছিলেন;; মহাকর্ষের প্রতিবল বা প্রতি কণা গ্র্যাভিটন সম্পর্কে বিগত বিংশ শতাব্দীর সত্তর দশকের আগে তেমন কোন ধারণা ছিল না বল্লে চলে। বস্তুতঃ গ্র্যাভিটনের ধারণাটি বিজ্ঞানীদের পেয়ে বসে ১৯৭০ সালে যখন নোবেল বিজয়ী পদার্থ বিজ্ঞানী আবদুস সালাম এবং তাঁর অনুসারী খ্যাতনামা বিজ্ঞানীরা প্রতিবলের মাধ্যমে ৩ মহাবলের অস্তিত্ব নিশ্চিত করে চতুর্থ বল মহাকর্ষেরও প্রতিবল বা প্রতি কণার অস্তিত্ব থাকার আবশ্যকতা অনুভব করেছিলেন। তবে স্টিফেন হকিংসহ আধুনিক বিজ্ঞানীরা মহাকর্ষের প্রতি কণা গ্র্যাভিটন আবিস্কারে উঠে পড়ে লাগেন তখন- যখন অনুভব করেন যে, গাছ ঠাই দাঁড়িয়ে আছে মাটির গভীরে সুবিস্তৃত শেকড় ছড়িয়ে। শত তলা বিশিষ্ট দালান-বিল্ডিং দাঁড়িয়ে আছে মাটির গভীরে অত্যন্ত মজবুত পাইলিং-ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে। এমনকি আমাদের চোয়ালের বা মাড়ির যে বড় বড় দাঁত গুলি শরীরের সব চাপেও মুখ গহ্বরে স্বস্থানে অনড় দাঁড়িয়ে আছে প্রতিটি মাড়ির দাঁতে অন্ততঃ চার চারটি মজবুত পিলার থাকার কারণে অথচ মানুষসহ বিচরণশীল ক্ষুদ্র-বৃহৎ সকল প্রাণী কোনোরূপ শেকড়/ফাউন্ডেশন ছাড়াই কিভাবে বাতাসের প্রবল উর্ধ্বচাপ সত্ত্বেও পুরো দেহের ৯৯.৯৯৯ এরও বেশি অংশ শুন্যে অবস্থান সত্বেও ভূত্বকে কেবল পদ ত্বকের স্পর্শে কেন এবং কিভাবে আঠার মতো আটকে থেকে বহাল তবিয়তে নির্বিঘ্নে চলাফেরা করছে? প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে বিরাট বিশাল বট গাছ পর্যন্ত শেকড়সহ উপড়ে বহু দূরে ছিটকে পড়লেও মানুষতো দূরের কথা সামান্য পিঁপড়া পর্যন্ত উড়ন্ত হয় না কেন? এ সব প্রশ্ন থেকে জন্ম নেয় অনেক প্রশ্ন যার কতিপয় নিম্নরূপঃ xx কখনো কি ভীষণ বিস্ময়ে ভেবেছেন, আপনি পৃথিবীতে আটকে আছেন কেন? মহাকাশে ছিটকে পড়ছেন না কেন? এর একটিই উত্তর, মহাকর্ষ । এই বলটাই আপনাকে ভূপৃষ্ঠে আটকে রেখেছে। মহাকর্ষ ছাড়া আমরা কেউই পৃথিবীতে আটকে থাকতে পারতাম না, থাকতে হতো মহাশূন্যে ভেসে। (বিজ্ঞানচিন্তা)। xx যাঁরা বিছানায় শুয়ে, বসে কিংবা মাটিতে দাঁড়িয়ে পড়ছেন, তাঁরা নিশ্চয়ই জানেন মহাকর্ষ কী। অন্তত এটুকু নিশ্চয়ই জানেন, মহাকর্ষের টান না থাকলে এই লেখাটা পড়তে হতো মহাকাশে ভাসতে ভাসতে। মহাকর্ষ এবং তার প্রতি কণা গ্র্যাভিটন সম্পর্কিত কতিপয় দিক প্রসঙ্গ মহাকর্ষ একমুখী xx প্রথমতঃ মহাকর্ষ শুধু বস্তুকে আকর্ষণ করে বা টানে, বিকর্ষণ করে না। সেমতে মহাকর্ষের ধনাত্মক এবং ঋণাত্মক চার্জ না থাকারই কথা। বাকী তিন বল বহুমুখী বিদ্যুৎ–চৌম্বকীয় বলসহ সংশ্লিষ্ট কণার চার্জের ওপর নির্ভর করে অন্য বলগুলো আকর্ষণ, বিকর্ষণ দুটিই করে। বিদ্যুৎ–চৌম্বকীয় বলের সঙ্গে দুই ধরনের বৈদ্যুতিক চার্জ জড়িত। ধনাত্মক ও ঋণাত্মক। একইভাবে দুর্বল ও সবল পারমাণবিক বলেরও বৈদ্যুতিক চার্জের মতো ধর্ম রয়েছে, যাদের বলা হয় হাইপারচার্জ ও কালার। এগুলোর মানও ভিন্ন ভিন্ন। মহাকর্ষকে অন্যান্য বলের মতো করে ভাবা যায় xx প্রত্যেক বস্তু জোড়া জোড়া। সেমতে মহাকর্ষেও জোড় অর্থাৎ ধনাত্মক এবং ঋণাত্মক চার্জ থাকা দরকার। এ কারণে পদার্থ বিজ্ঞানীরা ৩ মহাবলের ন্যায় ৪র্থ মহাবল মহাকর্ষেরও প্রতিবল বা প্রতিকণারূপে গ্র্যাভিটনের অস্তিত্ব অনুভব করেন নিম্নোক্ত সায়েন্স ফিকশনের মাধ্যমেঃ "আপনি শুয়ে, বসে বা দাঁড়িয়ে যেখানেই থাকুন না কেন, আপনার দেহ থেকে অনবরত অতিক্ষুদ্র বলের মতো গ্র্যাভিটন কণা ছুটে যাচ্ছে ভূপৃষ্ঠের দিকে। আবার ভূপৃষ্ঠ থেকেও একই রকম কোয়ান্টাম কণা ছুটে আসছে আপনার দিকে। এই দুই মহাকর্ষ কণা বিনিময়ের কারণে আপনি পৃথিবীর বুকে আটকে থাকতে পারছেন"। ( সূত্রঃ বিজ্ঞানচিন্তাঃ https://www.bigganchinta.com/space) WSTRC এর ব্যাখ্যাঃ "দেহ থেকে অনবরত অতিক্ষুদ্র বলের মতো গ্র্যাভিটন কণা ভূপৃষ্ঠের দিকে ছুটে যাওয়াকে মনে করি ধনাত্মক চার্জ এবং ভূপৃষ্ঠ থেকে একই ভাবে কোয়ান্টাম কণা দেহের দিকে ছুটে আসাকে ঋণাত্মক চার্জ ধরা যেতে পারে যাতে ধনাত্মক এবং ঋণাত্মক চার্জ বিশিষ্ট মহাকর্ষ কণা এবং কোয়ান্টাম কণার পরস্পর মিথস্ক্রিয়ার মাধ্যমে বিজ্ঞানীদের বহুল আলোচিত স্বপ্নিল কোয়ান্টাম গ্র্যাভিটন কণার ধারণা পাকাপোক্ত করা যায়। অবশ্য এক্ষেত্রে পদার্থ বিজ্ঞানের অনেক ধারণামূলক বিষয়ের বৈপ্লবিক সংস্কার প্রয়োজন হতে পারে। যেমন মহাকর্ষ এবং মাধ্যাকর্ষণ শক্তি সমার্থক-এই ধারণার পরিবর্তন দরকার যাতে ধনাত্মক এবং ঋণাত্মক চার্জের ধারণা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভবপর হয়। অজানা উড়ন্ত কোয়ান্টাম কণার যে বৈজ্ঞানিক ধারণা রয়েছে তাতে মহাকাশীয় স্থানীয় মহাকর্ষকে ভাবা যেতে পারে সেই উড়ন্ত অজানা কোয়ান্টাম কণা হিসাবে। কারণ স্থানভেদে মহাকর্ষের ভর ভিন্ন ভিন্ন। সদ্য আবিস্কৃত নতুন পৃথিবী, কিংবা ব্ল্যাক হোলের আশ পাশের মহাকর্ষ, চাঁদের মহাকর্ষ আর পৃথিবীর মহাকর্ষ ত্বরণ এক এবং অভিন্ন নয়। তাই মহাকর্ষকে নিম্নরূপ ভাগ করা যায়ঃ মহাকর্ষের প্রকার ভেদ ১) স্থানীয় মহাকর্ষ এবং ২) মহাজাগতিক মহাকর্ষ । এছাড়া প্রয়োজন হতে পারে মহাকর্ষ সম্পর্কিত অনেক খুটিনাটি ধারণার সংস্কার। উদাহরণ স্বরূপঃ xx মহাকর্ষকে অন্যান্য বলের মতো করে ভাবা । তাছাড়া অন্য বলগুলোর চার্জের মতো ভাবা যেতে পারে বস্তুর ভরকেও। কারণ, মহাবিশ্বে শুধু এক ধরনের ভরই দেখা যায়। ঋণাত্মক বা নেগেটিভ ভর বলে কোনো কিছুর অস্তিত্ব নেই। ভরসংশ্লিষ্ট মহাকর্ষের মান xx মহাকর্ষের মান সংশ্লিষ্ট বস্তুর ভরের সঙ্গে সম্পর্কিত। বস্তুর ভরকে মহাকর্ষের চার্জ হিসেবে কল্পনা মহাকর্ষকেও অন্য বলগুলোর মতো ভাগ করা যায়। অর্থাৎ বস্তুর ভরকে মহাকর্ষের চার্জ হিসেবে কল্পনা করা যায়, যার মাধ্যমে বস্তুটি কতটুকু মহাকর্ষ অনুভব করবে, তা নির্ধারিত হবে।( সূত্রঃ বিজ্ঞানচিন্তাঃ https://www.bigganchinta.com/space) সাধারণ আপেক্ষিকতা তত্ত্ব মহাবিশ্বের অনেক অদ্ভুত পরিঘটনা সঠিকভাবে ব্যাখ্যা করতে পারে সাধারণ আপেক্ষিকতা তত্ত্ব মহাবিশ্বের অনেক অদ্ভুত পরিঘটনা সঠিকভাবে ব্যাখ্যা করতে পারে। এ তত্ত্ব ব্যাখ্যা করে, আলো কেন বস্তুর চারপাশে বেঁকে যায় এবং আপনার জিপিএস কেন কাজ করে। এমনকি কৃষ্ণগহ্বরের ভবিষ্যদ্বাণী করে তত্ত্বটি। আইনস্টাইনের এই সাধারণ তত্ত্বে বর্ণিত মহাকাশে ভারী বস্তুর অস্তিত্বের সম্ভাবনাকে গবেষণা করতে গিয়ে ব্ল্যাকহোলোর অস্তিত্ব অনুভব করেছিলেন। যে কারণে সম্ভাব্য গ্র্যাভিটন হতে হবে কোয়ান্টাম জাতীয় xx সাধারণ আপেক্ষিক তত্ত্ব বেশ ভালোভাবে মহাকর্ষকে ব্যাখ্যা করতে পারে। তাই আমাদের ধারণা হয়েছে, এটাই সম্ভবত প্রকৃতির সঠিক ব্যাখ্যা। ঝামেলা হলো সাধারণ আপেক্ষিক তত্ত্বটাকে কোয়ান্টাম বলবিদ্যার মতো অন্য কোনো মৌলিক তত্ত্বের সঙ্গে একত্র করা সম্ভব হয়নি। অথচ কোয়ান্টাম মেকানিকসও প্রকৃতির সঠিক ও নির্ভুল ব্যাখ্যা করতে পারে বলে বিজ্ঞানীরা মনে করেন। xx কোয়ান্টাম মেকানিকস অনুযায়ী, মহাবিশ্বের চিত্র একটু আলাদা। এ তত্ত্বে স্থানকে সমতল পটভূমি হিসেবে দেখা হয়। কিন্তু সাধারণ আপেক্ষিকতা অনুসারে, স্থান গতিশীল ও নমনীয়, যা সময়ের সঙ্গে মিলে স্থান-কাল গঠন করে। কাজেই বস্তুর ভর বা শক্তি স্থান-কালকে বাঁকিয়ে দিতে পারে। তাহলে প্রশ্ন আসে, কোন চিত্রটা সঠিক? মহাকর্ষ কি স্থানের বক্রতা নাকি কণার মধে৵ অজানা উড়ন্ত কোয়ান্টাম বল? হতে পারে, গ্র্যাভিটন উড়ন্ত অজানা কোনো কোয়ান্টাম কণা! সব কণা, পদার্থ এবং অন্য তিনটি মৌলিক বলকে ব্যাখ্যা করা হয় কোয়ান্টাম মেকানিকসের মাধ্যমে। কোয়ান্টাম মেকানিকসে সবকিছুকে কণা হিসেবে বর্ণনা করা হয়। এমনকি বলগুলোকেও কণা হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয় এ তত্ত্বে। সেমতে WSTRC মনে করে, গ্র্যাভিটনও কোয়ান্টায়িত। কারণ, প্রস্তাবিত গ্র্যাভিটন কণা বিদ্যুৎ চুম্বকীয় বলের বাহক কণা আলোর কোয়ান্টা ফোটনের সাথে সরাসরি মিথস্ত্রিয়া করে যার কারণে গ্র্যাভিটন কণা স্বাভাবিকভাকে কোয়ান্টায়িত। মহাকর্ষ সম্পর্কিত আরেকটি যে ধারণার সংস্কার দরকার তা হচ্ছে মহাকাশীয় স্থানীয় মহাকর্ষ টানে না পৃথিবীমুখী চাপে। পক্ষান্তরে ভূত্বকীয় মাধ্যাকর্ষণ সেই চাপকে টানতে গিয়ে স্যার আইজাক নিউটনের সায়েন্স ফিকশনটি যে বাস্তবরূপ লাভ করে তার ব্যাখ্যা নিম্নরূপঃ ভর এবং মহাকর্ষ xx বিপুল ভরের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ মহাকর্ষ বল। xx মহাকর্ষের মান সংশ্লিষ্ট বস্তুর ভরের সঙ্গে সম্পর্কিত। অবশ্য মহাকর্ষকেও অন্য বলগুলোর মতো ভাগ করা যায়। অর্থাৎ বস্তুর ভরকে মহাকর্ষের চার্জ হিসেবে কল্পনা করা যায়। ব্যাখ্যাঃ বিপুল ভরের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ । সাধারণতঃ ভারী বস্তু নিম্নমুখী হয়ে থাকে। মহাকর্ষ মহাকাশীয় চুম্বক ক্ষেত্র এবং বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় বলের সাথে মিথস্ক্রিয়ার কারণে অআরও চুম্বকায়িত হওয়ার ফলে এর চৌম্বক শক্তি বেড়ে যাওয়ায় ভরও বেড়ে স্বাভাবিকভাবে ভরত্বের কারণে নিম্নমুখী হয়ে থাকে। তদুপরি ভূত্বকীয় চৌম্বকীয় টানে মহাকর্ষ আরও দ্রুত নিম্নচাপের সম্মুখীন হয়। ফলে আকাশ এবং ভূত্বকের মধ্যবর্তী সব কিছু চাপে পড়ে যে চাপে পড়ে মানুষসহ বিচরণশীল প্রাণীরা বাতাসের প্রবল উর্ধ্বমুখী চাপকে উপেক্ষা করে ভূত্বকে বহালতবিয়তে আঠার মতো আটকে থাকে। উল্লেখ্য, মহাকর্ষ বল। ব্ল্যাকহোলের আশপাশের এলাকায় মতো মহাকর্ষের ভর যেখানে প্রবল সেখানে পা উঠাতে হিমশিম খেতে হয়। অন্যদিকে চাঁদে মহাকর্ষ ত্বরণ কম বিধায় অ্যাপোলো-১১ এর নভোচারীদের চাঁদে পা ফেলতে হিমশিম খেতে হয়। পৃথিবীতে মহাকর্ষ অন্য বলের তুলনায় ১০৩৬ গুণ দূর্বল হওয়া এবং চাঁদের ত্বরণ থেকে বেশি হওয়ার কারণে আমরা অতি স্বাচ্ছন্দ্যে পৃথিবীর বুকে পা ফেলতে পারছি। উল্লেখ্য, চাঁদের পৃষ্ঠে মহাকর্ষীয় ত্বরণ বা অভিকর্ষজ ত্বরণের (\(g\)) মান হলো প্রায় ১.৬২৫ মিটার/সেকেন্ড^২ (m/s^২)। এটি পৃথিবীর মহাকর্ষীয় ত্বরণের (প্রায় ৯.৮ m/s^২) ঠিক ছয় ভাগের এক ভাগ বা প্রায় ১৬.৬%। ত্বরণ কম হওয়ার কারণে চাঁদে কোনো বস্তুর ওজন পৃথিবীতে তার ওজনের মাত্র \(\frac{1}{6}\) অংশ হয়। অর্থাৎ, পৃথিবীতে ৬০ কেজি ওজনের একজন মানুষের ওজন চাঁদে হবে মাত্র ১০ কেজি। এতে প্রমাণিত হয় যে, মহাকর্ষের ভরের কারণে আমাদের দেহের ভর বা ওজনে তারতম্য ঘটে। ওজনদার বস্তু চাপায় অআমরা পিষ্ট হই, মহাকর্ষের চাপে আমরা পিষ্ট হচ্ছি কিন্তু মহাকর্ষে যে পরিমাণ দূর্বলতা রয়েছে তা আমাদের দেহের সহনীয় মাত্রা। চাঁদের মত কম হলে লাফিয়ে লাফিয়ে চলতে হতো। আবার ব্ল্যাকহোলের আশ পাশের মতো মহাকর্ষ ত্বরণ হলে আমাদের পা উঠাতে হিমশিম খেতে হতো। মহাকর্ষের দূর্বলতার রহস্য এখানেই নিহিত। ধনাত্মক ও ঋণাত্মক চার্জ প্রসঙ্গে পৃথিবী গঠিত হয়েছে প্রায় সমপরিমাণ ধনাত্মক ও ঋণাত্মক চার্জ দিয়ে। আবার সূর্যও গঠিত হয়েছে সমপরিমাণ ধনাত্মক ও ঋণাত্মক চার্জে। বিদ্যুৎ–চৌম্বকীয় বলের সঙ্গে ধনাত্মক ও ঋণাত্মক দুই ধরনের বৈদ্যুতিক চার্জ জড়িত xx বিদ্যুৎ–চৌম্বকীয় বলের সঙ্গে দুই ধরনের বৈদ্যুতিক চার্জ জড়িত। ধনাত্মক ও ঋণাত্মক। একইভাবে দুর্বল ও সবল পারমাণবিক বলেরও বৈদ্যুতিক চার্জের মতো ধর্ম রয়েছে, যাদের বলা হয় হাইপারচার্জ ও কালার। এগুলোর মানও ভিন্ন ভিন্ন। মহাকর্ষেও ধনাত্মক এবং ঋণাত্মক ধারার সূচনা দরকার মহাকর্ষ বল যদি ধনাত্মক হয় তাহলে ঋণাত্মক হবে মহাকর্ষ কণা গ্র্যাভিটন। গ্র্যাভিটনের সাথে মহাকর্ষের সম্পর্ক জাতিগত। আকর্ষণগত। দূর্বল আকর্ষণধর্মী (ম্যাগনেটিক) স্থানীয় মহাকর্ষ সবল করণ এবং কোয়ান্টায়িত করণ করা যেতে পারে দ্বিবিধ উপায়ে যথাঃ ১) বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় বলের বাহক কণা আলোর ম্যাগনেটধর্মী কোয়ান্টা কণা ফোটনের সাথে মিথস্ক্রিয়ার মাধ্যমে ২) মহাকাশে অবস্থিত চৌম্বক ক্ষেত্রের সাথে মিথস্ক্রিয়ার মাধ্যমে। চৌম্বকধর্মী এই দ্বিবিধ ধারায় মহাকর্ষ বাস্তব অর্থে অআর বেশী দূর্বল ভাবার অবকাশ নেই সত্য কিন্তু এই উভয় মাধ্যম কোয়ান্টাম গ্র্যাভিটন উদ্ভবের জন্য যথেষ্ট নয়। এর জন্য ভূত্বকে নিহিত মাধ্যাকর্ষণ শক্তির ঋণাত্মক সহায়তা নিতে হবে। কারণ ভূ-ত্বকে নিহিত রয়েছে ৮০ থেকে ৮৬ শতাংশ খনিক লৌহ কণিকা যা ঋণাত্মক বিকর্ষণধর্মী। এটা জানা কথা যে, স্থায়ী এবং বিশুদ্ধ চুম্বক একমাত্র লোহাকে অআকর্ষণ করে বা টেনে নেয়। তাই স্বভাবতঃ ম্যাগনেটিক মহাকর্ষ এবং তার প্রতিকণা ম্যাগনেটিক গ্র্যাভিটন পৃথিবী-চাঁদ প্রভৃতি গ্রহ-উপগ্রহের লৌহসমৃদ্ধ ভূ-ত্বককে টেনে কক্ষচ্যূত করার কথা কিংবা উপরে উঠিয়ে নেওয়ার কথা। কিন্তু ১০৩৬ মাত্রার দূর্বলতার কারণে এবং চাঁদ সূর্যের বিশাল অআকার-অআয়তনের কারণে উল্টো মহাকর্ষ এবং গ্র্যাভিটনকে টানছে মাধ্যাকর্ষণ শক্তি। সাধারণতঃ অআমরা জানি, চুম্বক লোহাকে টানে, লোহা চুম্বককে নয়। এই টানার ব্যাপারটি ইনভেরিয়েন্ট নয় বরং অআপেক্ষিক। কারণ, চুম্বকের টানাটানির ব্যাপারটি শর্তসাপেক্ষ। যদি চুম্বক বড় হয় এবং লোহা ছোট হয় তাহলেই চুম্বক লোহাকে টানবে। কিন্তু চুম্বক যদি ছোট হয়, লোহা যদি বড় হয় তাহলে লোহা বরং চুম্বককে টানবে-এটা স্বতঃস্ফুর্ত কথা। এতে সুস্পষ্ট প্রতীয়মান হয় যে, চুম্বকধর্মী কোয়ান্টায়িত মহাকাশীয় (উড়ন্ত) মহাকর্ষ ও গ্র্যাভিটনকে বড়ত্বের কারণে পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ শক্তি টেনে আনতে গিয়ে নিউটনের স্বপ্নিল অদৃশ্য দড়ির সৃষ্ট হয় যাতে নিউটনের ভাষায় চিরকালের জন্য সূর্যের সাথে বাধা পড়ে পৃথিবী। তবে এই সমীকরণ ধোপে টেকে না। টেকসই না হওয়ার কারণ, পৃথিবীর ভূত্বক ৮০ শতাংশ লৌহ কণিকা সমৃদ্ধ হলেও ভূ-ত্বকে মিনারেল ম্যাগনেশিয়াম এবং ভূস্তরের ব্যাপক বিস্তৃর্ণ এলাকাজুড়ে চুম্বক প্রবাহের কারণে ভূত্বক অআর অআয়রণিক থাকার কথা নয় বরং ম্যাগনেটিক হয়ে যায়। অবশ্য তাতে থেকে যায় ধনাত্মক এবং ঋণাত্মক বৈশিষ্ট্য। এ ক্ষেত্রে চুম্বকধর্মী কোয়ান্টায়িত মহাকাশীয় (উড়ন্ত) মহাকর্ষ ও গ্র্যাভিটন ধনাত্মক থেকে ঋণাত্মক চার্জ বিশিষ্ট হয়ে পড়ে দূর্বলতার কারণে পক্ষান্তরে বিশাল আয়তনের ভূত্বকের কারণে চাঁদ-পৃথিবী পরিণত হয় ঋণাত্মক থেকে ধণাত্মক চার্জ বিশিষ্ট। মহাকর্ষ ও তার প্রতি কণা গ্র্যাভিটনের সার বস্তু হচ্ছে চুম্বক যা ভরশক্তি সমীকরণমতে জমে থাকা শক্তির নামান্তর। পক্ষান্তরে স্ট্রিং থিওরির সার বস্তু হচ্ছে কম্পন যার মাত্রার উপর নির্ভর করে কোনটি ইলেকট্রন হবে কোনটি কোয়ার্ক বা অন্য ১৫ টি মৌলিক কণা হবে- যা ভরশক্তি সমীকরণমতে জমে থাকা শক্তির নামান্তর। উপসংহারঃ (ক) যেহেতু মহাকর্ষ শুধু বস্তুকে আকর্ষণ করে , বিকর্ষণ করে না। অথচ বিদ্যুৎ–চৌম্বকীয় বলের সঙ্গে দুই ধরনের বৈদ্যুতিক চার্জ জড়িত। ধনাত্মক ও ঋণাত্মক। একইভাবে দুর্বল ও সবল পারমাণবিক বলেরও বৈদ্যুতিক চার্জের মতো ধর্ম রয়েছে, যাদের বলা হয় হাইপারচার্জ ও কালার। এগুলোর মানও ভিন্ন ভিন্ন এবং (খ) যেহেতু পৃথিবী গঠিত হয়েছে প্রায় সমপরিমাণ ধনাত্মক ও ঋণাত্মক চার্জ দিয়ে। আবার সূর্যও গঠিত হয়েছে সমপরিমাণ ধনাত্মক ও ঋণাত্মক চার্জে এবং যেহেতু মহাকর্ষকেও অন্য বলগুলোর মতো ভাগ করা যায়। অর্থাৎ বস্তুর ভরকে মহাকর্ষের চার্জ হিসেবে কল্পনা করা যায় তেমনি মহাকর্ষের মধ্যেও আকর্ষণ-বিকর্ষণধর্মী ধনাত্মক এবং ঋণাত্মক চার্জ কল্পনা করা যায় নিম্নোক্তভাবেঃ কোয়ান্টাম গ্র্যাভিটনের মূলে রয়েছে একমাত্রিক আকর্ষণ বল মহাকর্ষ যার সাথে মিথস্ক্রিয়া হয় বিদ্যুৎ চুম্বকীয় বল এবং এই বলের বাহক কণা ভরশুন্য আলোর আকর্ষণধর্মী ম্যাগনেটিক কোয়ান্টা কণা ফোটন এবং মহাকাশে অবস্থিত চুম্বক ক্ষেত্রের সাথে । যার ফলে উদ্ভব ঘটে ম্যাগনেটিক ধনাত্মক চার্জের। পক্ষান্তরে চাঁদ, পৃথিবী, মঙ্গল, বুধ, শুক্র, বৃহস্পতি ইত্যাদি গ্রহ এবং চাঁদসহ সকল উপগ্রহ, মিল্কি ওয়ে বা ছায়াপথসহ সকল গ্যালাক্সির ভূত্বকে নিহিত খনিজ আয়ন (যা পৃথিবীতে রয়েছে ৮০%, পৃথিবীতে ৮০ হাজার বছর পূর্বে পতিত বৃহদাকার গ্রহানুতে পাওয়া যায় ৮৪ শতাংশ লৌহ কণিকা যা বিকর্ষণধর্মী এবং ঋণাত্মক চার্জ বিশিষ্ট। তবে ভূগর্ভে বিপুল পরিসরে রয়েছে চৌম্বক প্রবাহ যা ভূগর্ভের লৌহ কণিকাকে অস্থায়ী চুম্বকে পরিণত করে। ফলে ঋণাত্মক ভূত্বকীয় মাধ্যাকর্ষণ শক্তিও চুম্বকায়িত হওয়ায় মহাকর্ষীয় মহাকাশীয় গ্র্যাভিটনের মতো ধনাত্মক চার্জ বিশিষ্ট হওয়ার কথা। কিন্তু চুম্বকের স্বাভাবিক ধর্ম হচ্ছে ছোট চুম্বককে বড় চুম্বক টানে বা আকর্ষণ করে। মহাকর্ষ ১০৩৬ গুণ দূর্বল হওয়ায় বিদ্যুৎ চুম্বকীয় বল এবং এই বলের বাহক কণা ভরশুন্য আলোর আকর্ষণধর্মী ম্যাগনেটিক কোয়ান্টা কণা ফোটন এবং মহাকাশে অবস্থিত চুম্বক ক্ষেত্রের সাথে মিথস্ক্রিয়া সত্তেও পৃথিবীসহ অন্যান্য গ্রহ, চাঁদসহ অন্যান্য উপগ্রহ ভরসম্পন্ন বিশালাকার হওয়ায় তা বড় চুম্বকের পরিণত হওয়ায় মহাকাশীয় মহাকর্ষ এবং গ্র্যাভিটন সে তুলনায় দূর্বল হওয়ায় ভূত্বকীয় মাধ্যাকর্ষণ ধনাত্মক চার্জ বিশিষ্ট হয়ে টেনে নিজ বলয়ে টেনে আনতে গিয়ে মহাকাশ এবং ভূত্বকের মধ্যবর্তী স্থলে নিম্নমুখী যে চাপ সৃষ্টি হয় সেই নিম্নচাপকে মাধ্যাকর্ষণ টানতে গিয়ে তাতে উদ্ভব ঘটে নিউটন কথিত অদৃশ্য দড়ি যাতে চিরকালের মতো বাধা পড়ে পৃথিবীসহ গ্রহ-নক্ষত্র। যেহেতু কোয়ান্টাম তত্ত্ব মতে, বল/মহাবলও এক প্রকার কণা এবং যেহেতু কণা মাত্রই কণা পদার্থ বিজ্ঞানমতে কম্পমান এবং স্ট্রিং থিওরির মূল কথাঃ স্ট্রিংয়ের কম্পনের মাত্রাভেদে কোনটি ইলেকট্রন কোনটি কোয়ার্ক হয়ে থাকে এবং কম্পনের উৎসমূল শক্তি (Energy) এবং যেহেতু মহাকর্ষ এবং কোয়ান্টাম গ্র্যাভিটন একপ্রকার ম্যাগনেট বা চৌম্বক সেহেতু এই ম্যাগনেট বা চৌম্বকের মূলোৎসও শক্তি (Energy)আর শক্তি (Energy)। যেমন স্ট্রিং থিওরির স্ট্রিংয়ের কম্পনের মূলোৎস শক্তি অআর শক্তি। উপরোক্ত সমীকরণের মাধ্যমে এটা সুস্পষ্ট প্রতীয়মান যে, মহাবিশ্বের দৃশ্যমান মহাবিশ্বের বস্তুগত মূল অবকাঠামোর মূলোৎস শক্তি (Energy) আর শক্তি (Energy) মাত্র। এমতাবস্থায় দৃশ্যমান মহাবিশ্বটাকে বলা যায় হাইয়েস্ট এনার্জেটিক রেডিয়েশনের জমাট রূপমাত্র। যেমন ডার্ক ম্যাটার ডার্ক এনার্জির জমাট রূপ। xxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxx মহান আল্লাহর অশেষ রহমতে যে সব বিষয়ে গবেষণা হয়েছেঃ ১। কুন এবং ইসলামী সৃষ্টিতত্ত্ব ২। জ্ঞানের আলোকে মহাবিশ্বের বুদ্ধিমাত্রিক উদ্ভব এবং বিকাশ ৩। মহাকর্ষ এবং ইসলাম ৪। স্ট্রিং থিওরি এবং ইসলাম ৫। আইনস্টাইন এবং স্ট্যান্ডার্ড মডেল থিওরি কর্তৃক বেঁধে দেওয়া আলোর গতি ইনভেরিয়েন্ট নয়;আপেক্ষিক। মহান আল্লাহর অশেষ রহমতে যে সব বিষয়ে গবেষণা হবে ইনশা আল্লাহ ১। বিগ ব্যাং উত্তর মহাবিশ্বের উদ্ভব কি দূর্ঘটনা, নাকি উদ্দেশ্যপূর্ণ? ২। বিগ ব্যাং উত্তর মহাবিশ্বের এন্ট্রপি কেন শীতল মুখী? ৩। সময় কেন এগিয়ে চলে? ৪। পুকুর ডোবার নতুন পানিতে কিভাবে দেশীয় ছোট জাতের মাছ জন্মে? ৫। মহাকাশের শেষ কোথায়? ৬। প্রথম জীব-জন্তু, প্রথম গাছপালা কিভাবে জন্মেছিল? ৭। প্রত্যেক বিষয় জোড়ায়, জোড়ায় কেন? শক্তিনির্ভর মহাবিশ্বের পর্যায়ক্রমিক বিকাশের স্বরূপ কুন এবং ইসলামী সৃষ্টিতত্ত্ব بِسۡمِ ٱللهِ ٱلرَّحۡمَـٰنِ ٱلرَّحِيمِِ ◯ In the name of Allah, Most Gracious, Most Merciful. ٢. ٱلۡحَمۡدُ لِلَّهِ رَبِّ ٱلۡعَـٰلَمِينَِ ◯ 2. Praise be to Allah, The Cherisher and Sustainer of the Worlds ; https://quranyusufali.com/1/ নাহমুদুহু ওয়া নুসল্লি আ’লা-রসূলিহিল কারীম। মহাবিশ্বের গোড়ার কথা -মুহাম্মাদ শেখ রমজান হোসেন বলা হয়ে থাকেঃ বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রা সেদিন থেকে শুরু-যেদিন থেকে মানব মনে সত্যকে জানার আগ্রহ জেগেছিল। এই মহাবিশ্ব কি করে এলো? এই আদি প্রশ্নকে ঘিরে এই সত্য জানার আগ্রহ জন্মেছিল। এই আগ্রহ থেকেই প্রাচীন গ্রীসের সেরা দার্শনিক ডেমোক্রিটাস সর্বপ্রথম অ্যাটম আবিস্কার করে আধুনিক পদার্থ বিজ্ঞানের সূচনা করেন। তবে পুরো মহাবিশ্বকে জানতে হলে পদার্থ বিজ্ঞান যথেষ্ট নয়-তাই বিজ্ঞানীরা এমন এক বিজ্ঞানের উদ্ভব ঘটান যাতেে মহাবিশ্ব নামক পুরো বিশ্ব প্রকৃতির সত্যকে জানা সম্ভব। এ লক্ষ্যে রচনা করা হয় প্রকৃতি বিজ্ঞান যার ইংরেজী নাম ফিজিক্স। পদার্থ বিজ্ঞান ফিজিক্সের অংশমাত্র। তাই পদার্থ বিজ্ঞানে বড়জোর মহাবিশ্বের বস্তুগত অবকাঠামোকে জানা সম্ভব কিন্তু বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচালনা-ব্যবস্থাপনার জন্য দরকার মহাবিশ্বের বুদ্ধিবৃত্তিক অবকাঠামো-এই প্রশ্নকে ঘিরেঃ মহাবিশ্বের সুশৃঙ্খল পরিচালনা-ব্যবস্থাপনার উৎসমূল কে এবং কোথায়? মহাবিশ্বে-দৃশ্যমান বস্ত্তগত অবকাঠামোর উদ্ভব প্রক্রিয়া এবং বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচালনা-ব্যবস্থাপনার নিরিখে মহাবিশ্বের ধরণ মূলতঃ দুই প্রকার যথাঃ ১) Energy & ২) Knowledge সুতরাং,মৌলিকভাবে মহাবিশ্বকে জানতে প্রয়োজন মাত্র দুটি প্রশ্নের উত্তর। যথাঃ এক.মহাবিশ্ব কি দিয়ে তৈরি? দুই.মহাবিশ্ব কিভাবে পরিচালিত? -মহাবিশ্ব কি দিয়ে তৈরি, তা জানা গেছে Modern Cosmological Standard Model Theory এর মাধ্যমে। ১৯৬৪ সালে মহাকাশে প্রাপ্ত পশ্চাৎপদ মহাজাগতিক রশ্নির (Cosmic-Background Radiation) ধ্বংসাবশেষের Cosmological Standard Model কর্তৃক কম্পিউটার সিমুলেশনের মাধ্যমে জানা যায় যে, থেকে-তের শত কোটি ৭৫ লক্ষ বছর পূর্বে বিদ্যমান হাইয়েস্ট এনার্জেটিক রেডিয়েশন নামক অতি সুপ্ত উচ্চশক্তির বিকিরণে সংঘটিত মহাবিস্ফোরণ (বিগ ব্যাং) থেকে এই মহাবিশ্বের উদ্ভব ঘটেছিল। পক্ষান্তরে হাইয়েস্ট এনার্জেটিক রেডিয়েশন নামক প্রচন্ড উত্তপ্ত এবং অতি সুপ্ত উচ্চশক্তির বিকিরণে সংঘটিত মহাবিস্ফোরণ (বিগ ব্যাং) থেকে সৃষ্ট এই মহাবিশ্বের শীতলমুখী বিবর্তন থেকে এটা সুস্পষ্ট প্রতীয়মান হয় যে, বিগ ব্যাং বা মহাবিস্ফোরণ নিছক দূর্ঘটনার ব্যাপার ছিল না বরং এতে রয়েছে এক-অতি বুদ্ধিবৃত্তিক সত্বার সরাসরি ভূমিকা-যার জাগতিক নাম "প্রকৃতি" এবং আধ্যাত্মিক নাম "সৃষ্টিকর্তা"। . সৃষ্টিতত্ত্ব (Creationism) বিষয়ে রয়েছে একাধিক তত্ত্ব যথাঃ (ক) আস্তিক্যবাদী সৃষ্টিতত্ত্ব এবং (খ) প্রকৃতিবাদী সৃষ্টিতত্ত্ব । (ক) আস্তিক্যবাদী সৃষ্টি তত্ত্ব এই সৃষ্টিতত্ত্ব বিজ্ঞানমনস্ক ধর্মবিশ্বাসী সাধারণ জ্ঞানী-বিজ্ঞানীদের ধারণা-বিশ্বাসের উপর প্রতিষ্ঠিত। আস্তিক্যবাদী এই সৃষ্টি তত্ত্বের নাম ইমানিসনিজম। ‘ইমানিসনিজম’ (মহাবিশ্বের উৎপত্তি, সৃষ্টি ও পরিবর্তন সম্পকিত একটি ধারণার না। ইংরেজী ‘ইমানিসনিজম’’ শব্দটি এসেছে ল্যাটিন ‘Emanate’ শব্দ থেকে যার অর্থ To flow from...to pour fourth or out of অর্থাৎ কোন উৎস হতে বয়ে আসা, প্রবাহিত বা আগত, উৎসারিত ইত্যাদি। ইমানিজমের ধারণা-বিশ্বাস হচ্ছে, সব সৃষ্টির, সব বস্তুর উদ্ভব হয়েছে First Reality বা First Principle বা Perfect God থেকে। ‘ইমানিসনিজম’ হচ্ছে Transcendental Principle অর্থাৎ অলৌকিক বা মানুষের জ্ঞানে কুলায় না-এমন একটি বিষয় (Beyond human knowledge: Source: A Student Dictionary)| Latin emanatus, past participle of emanare, from e- + manare to flow Relavant Synonym for emanate emanate applies to the coming of something immaterial (such as a thought) from a source. emanate verb em·a·nate ˈem-ə-ˌnāt emanated; emanating : to come out from a source 💚 (খ) প্রকৃতিবাদী বৈজ্ঞানিক সৃষ্টি তত্ত্ব বৈজ্ঞানিক ভাষ্যমতে Highest Energetic Radiation-এ মহাবিস্ফোরণ (big bang) ঘটার পর মুহুর্তে তাপমাত্রা 10³ºk থেকে দ্রুত 10²8-এ নেমে আসে তখন (highest energetic photon) কণিকারা নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটিয়ে পদার্থ কণিকা হিসেবে প্রথম বারের মত ‘কোয়ার্ক’ এবং এন্টি কোয়ার্ক এর জন্ম দেয়। অতঃপর তাপমাত্রা যখন আরো নিচে নেমে 10¹³k কেলভিনে দাঁড়ায় তখন কোয়ার্ক এবং এন্টি কোয়ার্কের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটে। এতে উভয় এর ব্যাপক ধ্বংস সাধন ঘটে এবং অবশিষ্ট থেকে যায় কিছু কোয়ার্ক। এরপর যখন তাপমাত্রা আরো কমে গিয়ে 10¹ºk কেলভিন-এ দাঁড়ায় তখন ৩টি কোয়ার্ক (১টি আপ কোয়ার্ক এবং ২টি ডাউন কোয়ার্ক মিলিত হয়ে প্রোটন কণিকা (Proton Particle) এবং ৩টি কোয়ার্ক (২টি আপ কোয়ার্ক এবং ১টি ডাউন কোয়ার্ক) মিলিত হয়ে নিউট্রন কণিকা (Neutron Particle) সৃষ্টি হতে থাকে। তারপর তাপমাত্রা যখন 10000000000 কেলভিন-এ নেমে আসে তখন পরিবেশ আরো অনুকুলে আসায় সৃষ্ট প্রোটন কণিকা ও নিউট্রন কণিকা পরষ্পর মিলিত হয়ে প্রথমবারের মত মহাবিশ্বে এটমিক নিউক্লি গঠিত হতে থাকে। এরপর তাপমাত্রা আরও কমে গিয়ে 1000000000 কেলভিন তখন এটমিক নিউক্লি মহাবিশ্বে বিক্ষিপ্ত ভাবে ছুটে চলা ইলেকট্রনিক কণিকাকে (Electronic Particle) চর্তুদিকের কক্ষপথে ধারণ করে। ফলে প্রথমবারের মত অণু'র (atoms) সৃষ্টি হয়। আরও পরে যখন তাপমাত্রা ৩,০০০ কেলভিনে উপনীত হয় তখন মহাবিশ্বের মূল সংগঠন গ্যালাক্সি (Galaxy) সৃষ্টি হতে থাকে। পরবর্তীতে এর ভেতর নক্ষত্র, গ্রহ, উপগ্রহ ইত্যাদি সৃষ্টি হতে থাকে। অতঃপর তাপমাত্রা যখন আরো নিম্নগামী হয়ে মাত্র ৩ কেলভিনে নেমে আসে তখন সার্বিক পরিবেশ অনুকূলে থাকায় পৃথিবীতে গাছ-পালা, জীব-জন্তু ও প্রাণের ব্যাপক সমাবেশ সমাগম ঘটতে থাকে। মহাবিস্ফোরণ ( বিগ ব্যাং) উত্তর মহাবিশ্বের স্বরূপ প্ল্যাঙ্কীয় যুগ (প্ল্যাঙ্ক এপক) মহাবিশ্বের একেবারে শুরুর সময়কালটিকে বলা হয় প্ল্যাঙ্ক এপক বা প্ল্যাঙ্ক যুগ। বিগ ব্যাংয়ের ঠিক পর থেকে এর ব্যাপ্তি মাত্র ১০-৪৩ সেকেন্ড। শূন্যের পর দশমিক দিয়ে ৪৩টি শূন্য দেওয়ার পর ১ লিখলে যে সংখ্যা পাওয়া যায়, সংখ্যাটি তার সমান। বর্তমান বিজ্ঞান এ সময়ের মহাবিশ্বের খবর ভালো করে বলতে পারে না। আইনস্টাইনের সার্বিক আপেক্ষিকতা বলছে, এ সময়ের আগে একটি মহাকর্ষীয় সিঙ্গুলারিটির অস্তিত্ব ছিল। মনে করা হয়, এ সময়ে প্রকৃতির চারটি মৌলিক বল—মহাকর্ষ, তড়িৎ–চুম্বকত্ব এবং সবল ও দুর্বল নিউক্লীয় বল একীভূত ছিল। এমনকি এদের শক্তিও ছিল একই মাত্রার। যদিও বর্তমানে মহাকর্ষ অন্যদের তুলনায় মাত্রাতিরিক্ত রকম দুর্বল। এটি সবল বলের চেয়ে ১০৩৮ গুণ ও তড়িৎ–চুম্বকীয় বলের চেয়ে ১০৩৬ গুণ দুর্বল। প্ল্যাঙ্ক যুগে মহাবিশ্ব বিস্তৃত ছিল মাত্র ১০-৩৫ মিটার অঞ্চলজুড়ে। এই সংখ্যাটিকে বলা হয় প্ল্যাঙ্ক দৈর্ঘ্য। তবে সাইজ ছোট থাকলে এ সময় তাপমাত্রা ছিল বিশাল। ১০৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আগের এককের মতোই এরও নাম প্ল্যাঙ্ক তাপমাত্রা। আর হ্যাঁ, এ সময়কালটির নামও প্ল্যাঙ্ক সময়। মহা একীভবন যুগ পরের যুগের নাম মহা একীভবন যুগ । ব্যাপ্তি বিগ ব্যাংয়ের পরের ১০-৪৩ থেকে ১০-৩৬ সেকেন্ড। এ সময় মহাকর্ষ অন্য তিনটি মৌলিক বল থেকে আলাদা হয়ে যায়। এ জন্যই এ বল তিনটির একীভূত তত্ত্বকে মহা একীভবন তত্ত্ব বলা হয়। স্ফীতি যুগ মহা একীভবন যুগ এর পরপরই শুরু স্ফীতি যুগের। এ যুগেই সামান্য পরিমাণ সময়ের মধ্যে মহাবিশ্ব ১০২৬ গুণ বড় হয়ে যায়। ১ ন্যানোমিটার দৈর্ঘ্যের কোনো বস্তুকে এত বড় করলে সেটা ১০ দশমিক ৬ আলোকবর্ষ পরিমাণ লম্বা হবে। এ হিসাবটি অবশ্য পাওয়া যায় রৈখিক মাপকাঠিতে হিসাব করলে। আয়তনের দিক থেকে হিসাব করলে সাইজ বেড়েছিল ১০৭৮ গুণ অর্থাৎ মাত্র ১০ সেমি। বিগ ব্যাংয়ের ১০-৩২ সেকেন্ড পরই এ যুগের পরিসমাপ্তি ঘটে। তড়িৎ দুর্বল যুগ স্ফীতি যুগের সঙ্গে সঙ্গেই শুরু হয়েছিল তড়িৎ দুর্বল যুগের যার ব্যাপ্তিকাল ১০-১২ সেকেন্ড পর্যন্ত। এ সময় সবল বল আলাদা হয়ে গেল। একত্রে থাকল শুধু দুর্বল নিউক্লীয় বল এবং তড়িৎ-চুম্বকীয় বল। সৃষ্টি হয় ডব্লিউ, জেড ও হিগস বোসনদের মতো ব্যতিক্রমী কণিকা। কোয়ার্ক যুগ ১০-১২ সেকেন্ডের পর শুরু কোয়ার্ক যুগ। এ সময়কালে বিপুল পরিমাণ কোয়ার্ক, ইলেকট্রন ও নিউট্রিনো তৈরি হয়। কোয়ার্ক হলো প্রোটন ও নিউট্রনের গাঠনিক কণা। মহাবিশ্ব আরেকটু ঠান্ডা হলো। নামল ১০ কোয়াড্রিলিয়ন ডিগ্রির (১-এর পর ১৬টি শূন্য বসিয়ে যে সংখ্যা পাবেন) নিচে। তবে সবচেয়ে উল্লেযোগ্য ঘটনা হলো, চারটি মৌলিক বল সম্পূর্ণ আলাদা হয়ে গেল। ঠিক বর্তমানে যেভাবে আছে। জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্ট কোয়ার্কের সঙ্গে সঙ্গে এদের প্রতিকণা অ্যান্টিকোয়ার্ক বা প্রতিকোয়ার্কও তৈরি হচ্ছিল। তবে কণা ও প্রতিকণার দুটোরই সাক্ষাৎ ডেকে আনে মৃত্যু। কিন্তু আবার কোয়ার্ক বেঁচে না থাকলে তো পদার্থ তৈরি সম্ভব নয়। সম্ভব নয় গ্রহ, নক্ষত্রের সৃষ্টি। ফলে মানুষসহ কোনো প্রাণীও জন্ম নিত না মহাবিশ্বে। তাহলে হয়েছিল কীভাবে? কোয়ার্ককে বাঁচিয়ে রাখতে তাই বিশ্ব প্রকৃতিতে জরুরী হয়ে দেখা দিয়েছিল কোয়ার্ক ত্রাণকর্তার ভূমিকা পালনকারী একটি প্রাকৃতিক সত্বার। কোয়ার্ককে বাঁচাতে তাই হঠাৎ আবির্ভূত হয় একটি প্রক্রিয়া যার বৈজ্ঞানিক নাম “ব্যারিওজেনেসিস”। ব্যারিওজেনেসিস নামের একটি প্রক্রিয়া এ সময় খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ প্রক্রিয়ায় প্রতি বিলিয়ন জোড়া কোয়ার্ক-প্রতিকোয়ার্ক থেকে একটি করে কোয়ার্ক বেঁচে যায়। যেমন বিলিয়ন বিলিয়ন স্পার্ম থেকে মাত্র একটি স্পার্ম বেঁচে থেকে ওভামের সাথে মিলিত হয়ে মানব ভ্রণের বিকাশ ঘটায়। আর এ বেঁচে যাওয়া কোয়ার্করাই পরবর্তী মহাবিশ্বের পদার্থ তৈরির ক্রীড়নক। হ্যাড্রোন যুগঃ সুবিন্যস্ত, সুশৃঙ্খল, অভিন্ন প্রাকৃতিক সুষম যুগ হ্যাড্রোন যুগের এ সময়টিতে মহাবিশ্বে একটা স্থির নিয়ম বলবৎ ছিল। তখন মহাবিশ্বের সামগ্রিক শক্তি ও চার্জ ছিল সংরক্ষিত যার স্থায়িত্ব ছিল ১ সেকেন্ড থেকে মিনিট কয়েক পর্যন্ত। কোয়ার্ক দিয়ে গঠিত যৌগিক কণিকার নাম হ্যাড্রোন। হ্যাড্রোন কণিকাদের মধ্যে আমাদের সবচেয়ে পরিচিত হলো প্রোটন ও নিউউল্লেখ্য, প্রোটন, নিউট্রন ৩টি কোয়ার্ক দিয়ে গঠিত যার একক নাম ব্যারিয়ন আর পায়ন ২টি কোয়ার্ক দিয়ে গঠিত যার একক নাম মেসন। আর ব্যারিয়ন+মেসন মিলে গঠিত হয় হ্যাড্রন কণা পরি হ্যাড্রোন যুগে মহাবিশ্বের তাপমাত্রা আরেকটু কমে এক লাখ কোটি ডিগ্রি হলো। ফলে কোয়ার্করা যুক্ত হয়ে হ্যাড্রোন গঠিত হওয়ার উপযুক্ত পরিবেশ পেল। পাশাপাশি ইলেকট্রন ও প্রোটনের সংঘর্ষে তৈরি হয় নিউট্রন ও নিউট্রিনো। এই নিউট্রিনো কণারা আজ পর্যন্ত মহাবিশ্বজুড়ে ছুটে চলেছে আলোর কাছাকাছি বেগে। লেপটন যুগ হ্যাড্রোন পরবর্তী যুগের নাম লেপটন যুগ। এ যুগে পূর্ববর্তী অল্প কিছু ছাড়া প্রায় সব হ্যাড্রোন ও প্রতি–হ্যাড্রোন নিঃশেষ হয়ে যায়। ফলে মহাবিশ্বে চলছিল লেপটন ও প্রতি–লেপটনদের (যেমন ইলেকট্রনের প্রতিকণা প্রতি–ইলেকট্রন) রাজ-রাজত্ব। এ দুই বিপরীত চার্জধারী কণার মিলনে অবমুক্ত হয় শক্তি। এ শক্তির বহিঃপ্রকাশ ঘটে ফোটনের (আলোর কণিকা) মাধ্যমে। উল্টোভাবে ফোটনরাও আবার মিলিত হয়ে ইলেকট্রন-পজিট্রন জোড় তৈরি করতে থাকে। মহাবিশ্বের প্রথম ৩ মিনিট সময়কালের এখানেই সমাপ্তি ঘটে। এরপর থেকে সময়ের ব্যবধান দাঁড়ায় বিশাল মাপকাঠিতে। এরপর বিশ্ব সংগঠনে প্রকৃতি সময় নেয় অন্ততঃ ১৭ মিনিট যা ছিল অতীব জরুরী এবং গুরুত্বপূর্ণ সময়-পর্ব। এতে সংঘটিত হয় গুরুত্বপূর্ণ নিউক্লীয় সংশ্লেষণ। এটি হলো নতুন পরমাণুর নিউক্লিয়াস (কেন্দ্র) তৈরির প্রক্রিয়ার নাম। প্রোটন ও নিউট্রন ফিউশন বিক্রিয়ার মাধ্যমে মিলিত হয়ে তৈরি করে এ নতুন পরমাণু। এভাবেই গড়ে ওঠে হাইড্রোজেন, হিলিয়াম ও লিথিয়ামের মতো পর্যায় সারণির প্রথম দিকের মৌলগুলো। এ অবস্থায় মহাবিশ্বের তাপমাত্রা ছিল প্রায় ১০০ কোটি ডিগ্রি। কিন্তু এ সময়ের পরই তাপমাত্রা ও ঘনত্ব এত বেশি কমে গেল যে, নিউক্লীয় ফিউশনে সাময়িক বিরতি ঘটেছিল। এই ফিউশন পরবর্তী সময়ে আবার শুরু হয়। তবে সেটা সমগ্র মহাবিশ্বে নয়। ফোটন এপক যুগ এবারের যুগের নাম ফোটন এপক। তখন মহাবিশ্বে চলছিল বিকিরণের আধিপত্য। পরমাণুর নিউক্লিয়াস ও ইলেকট্রনের উত্তপ্ত স্যুপে গড়া প্লাজমা দিয়ে মহাবিশ্ব তখন ভর্তি। বিকিরণের আধিপত্য থাকার কারণে অধিকাংশ লেপটন ও প্রতি–লেপটন নিঃশেষ হয়ে গিয়েছিল। ফলে মহাবিশ্বজুড়ে তখন ছিল ফোটনের ছড়াছড়ি। আর ফোটন মানেই বিকিরণ। আমাদের পারিপার্শ্বিক দৃশ্যমান আলোও একধরনের বিকিরণ। ফোটন যুগের ফোটনরা লেপটন যুগে বেঁচে যাওয়া প্রোটন, ইলেকট্রন ও পরমাণুকেন্দ্রের সঙ্গে মিথস্ক্রিয়া করতে থাকে। এ যুগের স্থায়িত্ব ৩ মিনিট থেকে ২ লাখ ৪০ হাজার বছর। কসমোলজিক্যাল রিকম্বিনেশন বা মহাজাগতিক পুনর্গঠন যুগ এরপর উদ্ভব ঘটে কসমোলজিক্যাল রিকম্বিনেশন বা মহাকাশীয় পুনর্গঠন যুগ। এটি ছিল বিশ্ব জগতে এক ঐতিহাসিক যুগ সন্ধিক্ষণ। এ যুগে হঠাৎ করে তাপমাত্রা সূর্যের পৃষ্ঠ তাপমাত্রার কাছাকাছি ৩০০০ ডিগ্রি নেমে গিয়ে সৃষ্টি হয় রিকম্বিনেশন বা পুনর্গঠন যুগ। এ সময় আয়নিত হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম নিউক্লিয়াস ইলেকট্রনের সঙ্গে সন্ধি করে ফেলে। ফলে কেন্দ্রে প্রোটন ও কক্ষপথে ইলেকট্রন নিয়ে পরিপূর্ণ পরমাণু তৈরি হয়ে যায়। এ প্রক্রিয়ারই নাম রিকম্বিনেশন। মহাবিশ্বের প্রায় ৭৫ শতাংশ হাইড্রোজেন ও ২৫ শতাংশ হিলিয়াম—এই অনুপাতটি এ কালের শেষের দিকেই তৈরি হয়। ডার্ক এরা বা অন্ধকার যুগ রিকম্বিনেশন যুগের পর থেকে ১৫ কোটি বছর পর্যন্ত সময়কালকে বলে অন্ধকার যুগ (Dark Era) বলা হয়। যুগটি হলো পরমাণু তৈরির পরের ও নক্ষত্রের জন্মের আগের সময়কাল। ফোটনের অস্তিত্ব থাকলেও নক্ষত্রের জন্ম না হওয়ায় এক অর্থে মহাবিশ্ব অন্ধকারই বটে। রহস্যময় ডার্ক ম্যাটারই এ সময় মহাবিশ্বে রাজত্ব করত বলে ধারণা কর পুনঃ আয়নীকরণ যুগ এরপর শুরু হলো পুনঃ আয়নীকরণ। মহাকর্ষের আকর্ষণে প্রথম কোয়াসার তৈরি হলো। অন্যদিকে মহাবিশ্ব আবার প্রশম অবস্থা থেকে আয়নিত অবস্থায় চলে গেল। এ যুগটির ব্যাপ্তি বিগ ব্যাং-পরবর্তী ১৫ থেকে ১০০ কোটি বছর। নক্ষত্র ও গ্যালাক্সির জন্মপ্রক্রিয়া পুনঃ আয়নীকরণ যুগের পরের ৩০ থেকে ৫০ কোটি বছর ধরে চলল নক্ষত্র ও গ্যালাক্সির জন্মপ্রক্রিয়া, যা পরে চলতেই থাকল। মহাবিশ্ব প্রসারণের পাশাপাশি মহাকর্ষের প্রভাবে বিভিন্ন অঞ্চলের গ্যাস ঘনীভূত হতে হতে জন্ম হয় এসব নক্ষত্র। প্রথম দিকে জন্ম নেওয়া নক্ষত্ররা ছিল বিশাল বড় বড়। সূর্যের প্রায় এক শ গুণ ভারী। এদের আয়ু অবশ্য কম হতো। সুপারনোভা বিস্ফোরণের মাধ্যমে ঘটত এদের মৃত্যু। একটি ক্ষুদ্র কেন্দ্রীয় অংশ অবশিষ্ট থাকত। বাকি পদার্থ বিস্ফোরণের ধাক্কায় ছিটকে যেত বাইরে- যা ছিল নতুন নক্ষত্র তৈরির উপাদান। নক্ষত্র তৈরির এ চক্রটি কিন্তু আজও চলমান। ইসলামী সৃষ্টিতত্ত্ব ইন্নামা-আমরুহূ-ইযা-আরা-দা শাইআন্ আইঁ ইয়াকূলা লাহু কুন্ ফাইয়াকূন” অর্থঃ “তিনি যখন কোন কিছু করতে ইচ্ছা করেন, তখন তাকে কেবল বলে দেন ‘হও’ তখনই তা হয়ে যায়” । (সূরা ইয়া-সী-ন : আয়াত- ৮২) “তিনিই সঠিকভাবে নভোমন্ডল ও ভূমন্ডল সৃষ্টি করেছেন।” (সূরা আনআ’মঃ আয়াত ৭৩) । “বিশ্ব বলিতে পূর্বে কিছুই ছিলনা” । (ফাওয়ায়ে সিদ্দিকীন, ১ম খন্ড, পৃষ্ঠাঃ ৭৪, কুরআন হাদীস রিসার্চ সেন্টার (ফুরফুরা দরবারের গবেষণা প্রতিষ্ঠান), প্রকাশনায়ঃ ইশায়াতে ইসলাম, কুতুবখানা, মার্কাজে ইশায়াতে ইসলাম, ২/২, দারুস সালাম, মীরপুর, ঢাকা-১২১৬), প্রকাশকালঃ সাবান-১৪২০হিজরি, নভে¤বর ১৯৯৯ ঈসাব্দ) “গোটা সৃষ্টিকূলের মধ্যে আল্লাহ তা'আলার কুন ফা ইয়া কুনের তাজাল্লীই বিরাজমান” (প্রাগুক্ত পৃঃ ৩৮)। “আসমান-যমীন, আরশ কুরসী লাওহ-কলম, গাছ পালা, বৃক্ষ লতা, এক কথায় দৃশ্যমান ও অদৃশ্য যত কিছু রয়েছে “সব কিছুই সৃষ্টি করেছেন মহান আল্লাহ” (প্রাগুক্ত পৃঃ ৩৩)। “আল্লাহ তায়ালা সমস্ত বস্তুকে পূর্ব উপাদান ব্যতীত সৃষ্টি করেছেন” (প্রাগুক্ত পৃঃ ১৬২)। . (আল্লাহপাক) “বিশেষ মুছলেহাতের কারণে প্রথমে বিনা উপাদানে উপকরণে সৃষ্টি করে, সেই সব উপাদানের মাধ্যমে বিভিন্ন বস্তু সৃষ্টি করার ব্যবস্থা চালু করেছেন”(সূত্রঃ ফাতাওয়ায়ে সিদ্দিকীন, ১-৪ খন্ড, পৃষ্ঠা ১৬৩)। উল্লেখ্য, এক সময় কেবলই আল্লাহ (ﺎﻠﻠﻪ) আর আল্লাহ-ই ছিলেন। মহান আল্লাহ ব্যতিত সৃষ্টি (ﻣﺨﻟﻖ) সত্বার কোন অস্তিত্ব কখনই ছিল না। কোন এক মহাসন্ধিক্ষণে আল্লাহপাক তাঁর কুদরতি এক মহাপরিকল্পনার (Master Plan) অধীনে ‘কুন’ হয়ে যাও‘’- এই কুদরতি আদেশ বা হুকুমবলে সম্পূর্ণ ‘নাই’ (Nil/Zero) থেকে কোন প্রকার জাগতিক তত্ত্ব, তথ্য, উপাত্ত, সূত্র, আইন-কানুন, বিধি-বিধান থেকে সম্পূর্ণ পুতঃপবিত্র (সুবহান) এবং অনির্ভরশীল(স্বমাদ) হয়ে সৃষ্টি করলেন এক মহাসৃষ্টি সত্বা (Great Creation) বা ﻣﺨﻟﻖ)-যাতে সম্মিলিতভাবে (Combinedly) নিহিত ছিল আকাশ/মহাকাশ[(ﺍﻠﺴﺎﻮﺍﺕ)( (Sky)] ও জমিন [ﻼﻠﺭﺽ Earth (পৃথিবী) ] মহাবিশ্বের জীবন এবং পরিবেশবান্ধব বুদ্ধিদীপ্ত পর্যায়ক্রমিক বিকাশের স্বরূপ মহাবিশ্বের শীতলমুখী এন্ট্রপিঃ প্রকৃতির বুদ্ধিমাত্রিক প্রকাশ! উচ্চশক্তির বিকিকরণে (Highest energetic Radiation) মহাবিস্ফোরণ (Big Bang) ঘটার পূর্ব মুহূর্তে তাপমাত্রা ছিলো 1032 k, অর্থাৎ ১০,০০০ কোটি, ০ কোটি, কোটি কোটি ডিগ্রি কেলভীন (k)। মহাবিস্ফোরণ ঘটার পর যখন ঐ শক্তির তাপমাত্রা নেমে আসে 1028 k-এ, পরে যখন 1017k-এ নেমে আসে, তখন Highest energetic photon কণিকারা নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধিয়ে পদার্থ কণিকা হিসেবে প্রথমবারের মতো 'কোয়ার্ক এবংএ্যান্টি কোয়ার্ক-এর জন্ম দেয়। অতঃপর তাপমাত্রা যখন আরো নিচে নেমে 1013 k-এ দাঁড়ায়, তখন কোয়ার্ক এবং এ্যান্টিকোয়ার্ক-এর মধ্যে সংঘর্ষ ঘটে। এতে উভয়ের ব্যাপকভাবে ধ্বংস সাধন ঘটে এবং অবশিষ্ট থেকে যায় কিছু 'কোয়ার্ক’ (Quark)। এরপর তাপমাত্রা যখন আরো কমে গিয়ে 1010k-এ দাঁড়ায় তখন পরিবেশ অনুকূলে পেয়ে ৩টি কোয়ার্ক (১টি up Quark এবং ২টি down Quark) মিলিত হয়ে ‘প্রোটন কণিকা এবং ৩টি কোয়ার্ক (২টি up Quark এবং ১টি down Quark) মিলিত হয়ে নিউট্রন কণিকা সৃষ্টি হতে থাকে। সৌর জগতে পৃথিবী কেন্দ্রিক চাঁদ-সূর্যের বুদ্ধিমাত্রিক সেটিং-শুটিংঃ প্রকৃতির বুদ্ধিমাত্রিক প্রক্রিয়ায়! চাঁদ-সূর্যের বুদ্ধিমাত্রিক সেটিং-শুটিং বড়ত্ব আর দূরত্ব বিবেচনায় সৌর জগতে সূর্যের সেটিং আর ছোটত্ব আর দূরত্ব বিবেচনা চাঁদের সেটিং থেকে এটা সুস্পষ্ট প্রতীয়মান হয় যে, এসব সেটিং-শুটিং যেন পৃথিবীর পরিবেশ-প্রতিবেশ কেন্দ্রিক করেই বুদ্ধিমাত্রিক প্রক্রিয়ায় করা হয়েছে। সূর্য পৃথিবীর চাইতে ১৩ লক্ষ গুণ বড় সত্য; তবে সূর্যকে পৃথিবী থেকে অন্ততঃ ৯ কোটি ৩০ লক্ষ মাইল দূরে রাখা হয়েছে যাতে পৃথিবীর তাপমাত্রা ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নীচে থাকে এবং সূর্য গ্রহণের সময় সূর্য-পৃথিবী যাতে সমান আকৃতির দেখায়। সূর্যকে পৃথিবী থেকে অন্ততঃ ৯ কোটি ২৯ লক্ষ মাইল দূরে রাখা হলে পৃথিবী হয়তো পরিণত হতো ভয়ংকর উত্তপ্ত গ্রহে আর ৯ কোটি ৩১ লক্ষ মাইল দূরে রাখা হলে পৃথিবী হয়তো পরিণত হতো ভয়ংকর শীতল। চাঁদ পৃথিবীর চাইতে ছোট সত্য; তবে চাঁদকে পৃথিবী থেকে অন্ততঃ গড় দূরত্ব প্রায় ৩৮৪,৩৯৯ কিলোমিটার (২৩৮,৮৫৪ মাইল) দূরে রাখা হয়েছে কারণ চাঁদের নিজস্ব তাপ এবং অআলো নেই। সম্ভবতঃ চন্দ্র গ্রহণের সময় চাঁদ-পৃথিবী সমান আকৃতির দেখানো এবং জোয়ার-ভাটার অনুকূলতার জন্য মহাকাশে চাঁদের এমন সেটিং! বিজ্ঞানের সেরা প্রযুক্তি কম্পিউটার আবিস্কারের জন্মকথা নিউরোলজিস্টদের মতে, মানব মস্তিস্ক প্রতিদিন গড়ে অর্ধ লক্ষাধিক চিন্তা-ভাবনায় ভারাক্রান্ত হয়ে থাকে। এই চিন্তা-ভাবনার সাথে মানব দেহের কোনো অঙ্গেরই সংযোগ খুঁজে পান নি এই নিউরোলজিস্টরা। যেমন কোনো দৈহিক যোগসূত্র পাওয়া যাচ্ছে না হৃদপিন্ডের স্পন্দনের উৎসমূল। তবে দূর গ্রহে উৎপন্ন গামা রশ্মির সাথে এই চিন্তা-ভাবনার সংযোগের সম্ভাবনা বিজ্ঞানীরা উড়িয়ে দিচ্ছেন না। উল্লেখ্য "মনে করার" মধ্যে সরাসরি মস্তিস্কের তথা দৈহিক সম্পর্ক রয়েছে কিন্তু "মনে পড়ার" বিষয়টি ঘটে আপনা আপনি (অটোমেটিক্যালি) যার সাথে দৈহিক সম্পর্ক খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। কোথাও যাওয়া হচ্ছে। কি করবেন, সাথে কি নিয়ে যাবেন কি নিয়ে যাবেন না-তা মস্তিস্কের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে আপনা আপনি জানান দেওয়া হচ্ছে । বিগ ব্যাংয়ের পর যেমন মহাবিশ্ব স্তরে স্তরে মানোন্নয়েনর মাধ্যমে অআজ এনালগ থেকে ডিজিটালে উন্নীত হয়েছে বিশেষ করে কম্পিউটার তার পেছনে রয়েছে "মনে পড়ার" বিষয়টি। আলবার্ট আইনস্টাইন তাই বলতেনঃ আমি জ্ঞান দ্বারা নয়-কল্পনা শক্তি দ্বারা চালিত হই। কম্পিটারিং সিস্টেমঃ এনালগ থেকে ডিজিটালে উত্তরণ কম্পিটারিং সিস্টেমঃ এনালগ থেকে ডিজিটালে উত্তরণ বিজ্ঞানীদের কল্পনা শক্তির বহিঃপ্রকাশ মাত্র-যা "মনে পড়ার" থেকে উদ্ভূত। নিম্নে আজকের ডিজিটাল কম্পিটারের পর্যায়ক্রমিক উত্তরণের সংক্ষিপ্ত বিবরণ নিম্নে পেশ করা হলোঃ সিপিইউ হলো computer system unit এর মধ্যে বিদ্যমান সিলিকন বিশেষ। যার মাধ্যমে computerএর সমস্ত কার্যকলাপ হয়ে থাকে। অভ্যন্তরীণ স্মৃতি এবং গাণিতিক যুক্তির অংশসহ বিশাল দায়িত্ব পালন করে সিপিইউ। আমাদের সকল অঙ্গ প্রত্যঙ্গের মধ্যে মস্তিস্ক যেমন গুরুত্বপূর্ণ CPU কম্পিউটারের ক্ষেত্রে ঠিক তেমন গুরুত্বপূর্ণ হার্ডওয়ার উপাদান। আধুনিক মাইক্রোকম্পিউটারের CPU এর অন্যতম দিক হলো এতে মাইক্রোপ্রসেসর এর ব্যবহারের সুযোগ বিদ্যমান । তথ্য প্রক্রিয়াকরণ এবং প্র্রক্রিয়াকরণের ফলাফল সবই সম্পন্ন করে CPU যার প্রধান অংশঃ ক. A.L.U= Arithmetic Logical Unit. এর দ্বারা কম্পিউটার সব ধরণের গাণিতিক সমস্যার সমাধান দেয়। খ. C.U. =Control Unit. প্রাপ্ত নির্দেশ নির্দিষ্ট অংশ প্রেরিত হয়ে এর মাধ্যমে ফলাফল মনিটরে প্রতিফলিত হয় এবং নির্দেশক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ পায়। গ্রীক compute শব্দ থেকে Computer কথাটির উৎপত্তি যার অর্থ গণনাযন্ত্র। বর্তমানে computer দিয়ে ১)গাণিতিক ২) যৌক্তিক (লজিক) সিদ্ধান্তমূলক ডাটা প্রেরণ (Data input) করলে সেটা প্রক্রিয়াকরণ (processing) হওয়ার পর ফলাফল (output) পাওয়া যায়। Computer এর সংক্ষিপ্ত ইতিহাস গণনাযন্ত্র হিসাবে সর্বপ্রথম চীনে আবিস্কৃত হয় অ্যাবাকাস নামক এক যন্ত্র। Abacas a wooden frame with halls strung on parallel wires. এটি হলো সর্বপ্রথম অংক ভিত্তিক গণনা যন্ত্র। (সূত্রঃ আইটি সাপোর্ট সিস্টেম-১, (বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক অনুমোদিত, ডিপ্লোমা ইন কম্পিউটার সায়েন্স, ২য় সেমিস্টার, ২০১৯), পৃঃ ০১ এর পর পরই অ্যাবাকাসের কাছাকাছি একটি গণনাযন্ত্রের ব্যবহার শুরু হয় জাপানে যার নাম সরোবান ( Sorbian) । সরোবান খৃষ্টপূর্ব ৫০০ শতাব্দীর সময়কার গণনাযন্ত্র। এটি যোগ-বিয়োগ করতে সক্ষম। লগারিদম ১৬১৭ সালে জন নেপিয়ার তৈরি করেন লগারিদম। এর মধ্যে মোট ৯টি সারিতে নাম্বারকে আড়াআড়িভাবে করে সাজানো হয়। এটিকে নেপিয়ার বোনসও বলা হয়। এটি গুণ ও ভাগ করতে সক্ষম। এটি ১৭ শতাব্দী থেকে শুরু করে ১৯ শতাব্দীর শেষ পর্যন্ত বলবৎ ছিল। ডিফারেন্স ইন্জিন ১৮১২ সালে বৃটিশ গণিতবিদ চার্লস ব্যাবেজ আবিস্কার করেন ডিফারেন্স ইন্জিন। অ্যানালিটিক্যাল ইন্জিন মূলতঃ ১৮৩৩ সালে চার্লস ব্যাবেজই অ্যানালিটিক্যাল ইন্জিন উদ্ভাবন করেন। এটি সম্পূর্ণ অটোমেটিক ও সব ধরণের গাণিতিক কাজে সক্ষম। এটি প্রোগ্রাম ( Programme) সংরক্ষণ করতে পারতো এবং ইনস্ট্রাকশন (Instruction) মেনে চলতে পারতো। অ্যানালিটিক্যাল ইন্জিনে সর্বপ্রথম বাইনারি কোড (Binary Code System) অর্থাৎ শুন্য (০) এবং এক (১) এর ব্যবহার শুরু হয়। (প্রাগুক্ত পৃষ্ঠা ১৭) লেডি অ্যাড অগাস্টাঃ পৃথিবীর প্রথম প্রোগ্রামার কবি লর্ড বেয়ন এর মেয়ে লেডি অ্যাডা অগাস্টা বেয়ন ১৮৪৩ সালে বাইনারি ইনস্ট্রাকশনের সূচনা করেন। তাই পৃথিবীর প্রথম প্রোগ্রামার বলা হয় লেডি অ্যাডা অগাস্টা বেয়ন-কে। (প্রাগুক্ত পৃঃ ১৭)। হলারিথ মেশিন ( Hollerith Machine) ১৮৯০ সালে আবিস্কৃত হয় প্রথম বিদ্যুৎ চালিত মেশিন হলারিথ । আবিস্কারক হারম্যান হলারিথ। এটি ডাটা রেকর্ডিং, টেক্সট (পাঠ্যক্রম) পড়তে পারতো। এর অপর নাম টেবুলেটিং মেশিন (পৃঃ ১৮)। বেল-১ ১৮৯৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় বিখ্যাত Computer Company IBM. এই কোম্পানি যে যন্ত্র তৈরি করে তার নাম Bell-1. এটি একটি Mechanical Complex Calculator. হার্ভার্ড ইউনিভাসিটি ১৯৩০ সালে হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির হাওয়ার্ড একিন (Howard Aiken) ও IBM (International Business Machine) যৌথভাবে প্রথম Electrical Computer আবিস্কার করেন। এটির নাম Mark-1. এটি ৫১ ফুট লম্বা এবং ৮ ফুট উঁচু ছিল। ওজন ছিল ৫ (পাঁচ) টন। যন্ত্রাংশ সংযোগ দিতে ৫০০ (পাঁচশত) মাইল লম্বা তারের প্রয়োজন হতো। এটি এখনো প্রথম Computer স্মারক (স্মৃতি) হিসাবে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে সযত্নে সংরক্ষিত আছে। (পৃঃ ১৯) উন্নত কম্পিউটার ১৯৩৭ সালে ডাঃ জন অ্যাটানাসোফ এবং জন বেরি একত্রে Computer-কে উন্নত করেন। তাঁদের Computer এর নাম ছিল ABC (Atanasoff Berry Computer). Computer এর প্রযুক্তিগত উন্নয়ন প্রযুক্তিগত উন্নয়নের ফলে Computer সিন্ধু থেকে ক্রমশঃ বিন্দুতে পরিণত হতে চলেছে। যার ফলে এখন পকেট Computer সময়ের ব্যাপার মাত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। Computer এর প্রযুক্তিগত উন্নয়নের ধাপ বা স্তকে বলা হয় প্রজন্ম (Generation)। ধাপগুলি নিম্নরূপঃ প্রথম প্রজন্মের কম্পিউটারঃ ১৯৪০ সাল হতে ১৯৫৬ সাল পর্যন্তঃ হাজার হাজার ডায়োড ভাল্ভ, রেজিস্টার, ক্যাপাসিটর ইত্যাদি দিয়ে তৈরি। এতে ভ্যাকুয়াম টিউব ব্যবহৃত হতো যা কয়েকটি ঘর জুড়ে বিস্তৃত হতো। বিশাল আয়তন বিশিষ্ট প্রথম প্রজন্মের Computer চালু অবস্থায় ভীষণ গরম হয়ে যেতো। তাই যাতে পুড়ে না যায় সে জন্য মাঝে মাঝে ঠান্ডা পানি ব্যবহার করা হতো। এটি সীমিত তথ্য ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন। পরিচালনার জন্য ব্যবহৃত হতো প্রচুর বিদ্যুৎ শক্তি। দ্বিতীয় প্রজন্মের কম্পিউটারঃ ১৯৫৭ সাল হতে ১৯৬৩ সাল পর্যন্তঃএতে ট্রানজিস্টার ব্যবহৃত হতো যা Computer-এ বিপ্লব সাধন করে। উল্লেখ্য, ১৯৪৮ সালে আমেরিকার বেল ল্যাবরেটরীতে উইলিয়াম শকলি, জন বার্ডিন এবং এইচ ব্রিটেন যৌথভাবে এ টানজিস্টার তৈরি করেন। এ ট্রানজিস্টার Computer প্রযুক্তিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেন। এটি প্রথম প্রজন্মের Computer থেকে তুলনামূলক অনেক ছোট এবং কম বিদ্যুৎ-তে চালিত। তৃতীয় প্রজন্মের কম্পিউটারঃ ১৯৬৪ সাল হতে ১৯৭০ সাল পর্যন্তঃ রবার্ট নয়েস ও জ্যাক কিলবি প্রায় একই সময় পৃথকভাবে বড় সার্কিট ক্ষুদ্র করার পদ্ধতি আবিস্কার করেন। এ পদ্ধতিতে প্রাপ্ত ছোট সার্কিটকে IC Integrated বলা হয়। এ প্রজন্মের Computer-এ IC Integrated ব্যবহৃত হওয়ায় এটি দ্বিতীয় প্রজন্মের Computer থেকে তুলনামূলক অনেক ছোট এবং উৎপাদন ব্যয় অনেক কমে যায়। এতে প্রথমবারের মত প্রিন্টার ব্যবহার শুরু হয়। চতুর্থ প্রজন্মের কম্পিউটারঃ ১৯৭১ সাল হতে অদ্যাবধি (২০১৯) সাল পর্যন্তঃ ১৯৭১ সাল থেকে ৪র্থ প্রজন্ম শুরু হয়। LSI (Large Scale Integration) ও VLSI (Very Large Scale Integration) এবং Semi Conductor Memory দিয়ে এ প্রজন্মের Computer তৈরি। VLSI দিয়ে তৈরি ক্ষুদ্রাকৃতির এই কম্পিউটার-কে বলা হয় মাইক্রো কম্পিউটার। আমেরিকার জন ব্লাংকার বেকার ১৯৭১ সালে কেনব্যাক (Kenbak) নামক প্রথম মাইক্রো-কম্পিউটার তৈরি করেন। পরে ১৯৭৭ সালে মাইক্রো কম্পিউটার পূর্ণাঙ্গ রূপ ধারণ করে ১৯৮১ সালে IBM কোম্পানি বাণিজ্যিক ভিত্তিতে যখন Computer উৎপাদন শুরু করে। IBM কোম্পানি কর্তৃক প্রস্ত্ততকৃত Computer আকারে আরও ছোট হয়ে আসে। তবে বেড়ে যায় এর গতি। এতে ROM (Read only Memory), PROM, EPROM প্রভৃতি স্মৃতি উদ্ভাবনী প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়। তাছাড়া, Programming Language, DOS, Widows, Unix Operating System এ প্রজন্মের কম্পিউটারে ব্যবহৃত হতে থাকে। (প্রাগুক্ত পৃঃ ২৪) পঞ্চম প্রজন্মের কম্পিউটারঃ এটি ৪র্থ প্রজন্মের কম্পিউটার থকে শক্তিশালী করার কাজে গবেষণা চলছে। এতে Supper VLSI (Very Large Scale Integration) Clip এবং Optical Fiber এর সমন্বয়ে এ প্রজন্মের কম্পিউটার তৈরি। এতে অত্যন্ত শক্তিশালী মাইক্রোপ্রসেসর ও প্রচুর পরিমাণে ডাটা ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন করার গবেষণা চলছে । (পৃঃ ২৫)

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

Holy Romado-n 1445 Hijrah/2024 News

Article