বিশ্ব সংবাদ
বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লিতে তার সঙ্গে বৈঠক করে পশ্চিমবঙ্গ থেকে নির্বাচিত এনসিপিআইয়ের তিন সংখ্যালঘু সংসদ সদস্য আবু তাহের, খলিলুর রহমান ও ইউসুফ পাঠান অভিযোগ করেন, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণের নামে একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় সম্প্রদায়কে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে বলে মানুষের মধ্যে ধারণা তৈরি হয়েছে। তারা দাবি জানান, আদালতের নির্দেশনা কার্যকর হলে তা যেন সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেই সমানভাবে প্রয়োগ করা হয়। ভারতের পশ্চিমবঙ্গে মসজিদ থেকে লাউডস্পিকার অপসারণকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া বিতর্ক এবার পৌঁছেছে দেশটির কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর দপ্তরে।তারা দাবি জানান, আদালতের নির্দেশনা কার্যকর হলে তা যেন সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেই সমানভাবে প্রয়োগ করা হয়।বৈঠক শেষে আবু তাহের বলেন, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা মানতে তাদের কোনো আপত্তি নেই। তবে সেই নির্দেশনা যেন শুধু মসজিদের ক্ষেত্রে নয়, দুর্গাপূজা, কালীপূজা কিংবা অন্য যেকোনো ধর্মীয় অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রেও একইভাবে কার্যকর হয়। একটি ধর্মকে আলাদাভাবে লক্ষ্য করে ব্যবস্থা নেওয়া হলে তা মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সংসদ সদস্যদের দাবি, পশ্চিমবঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ে যে অভিযান চলছে, তা নিয়ে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিষয়টি বিবেচনার জন্য তারা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।বৈঠকে শাহ তাদের বক্তব্য শোনেন এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গে সম্প্রতি শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের অভিযান জোরদার হয়েছে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, গত সোমবার রাতে কলকাতার পর্ণশ্রী থানায় একাধিক মসজিদ কমিটির প্রতিনিধিদের ডেকে লাউডস্পিকার অপসারণের বিষয়ে আলোচনা করা হয়। এরপর কলকাতাসহ রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় মসজিদ থেকে লাউডস্পিকার খুলে ফেলার ঘটনা সামনে আসে। একই সময়ে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলায়ও অভিযান চালানো হয়।রাজ্য প্রশাসনের দাবি, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা এবং শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের বিধি অনুযায়ী সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেই একই নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে।
তবে ইন্ডিয়ান সেক্যুলার ফ্রন্ট এবং পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ অভিযোগ করেছে, বাস্তবে মুসলিম সম্প্রদায়ের ওপরই বেশি চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। এ নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার কথাও জানিয়েছেন সংগঠনের নেতারা।
এই পরিস্থিতিতে তিন সাংসদের শাহর সঙ্গে বৈঠক রাজনৈতিক গুরুত্ব পেয়েছে। রাজ্যে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে আইন প্রয়োগ নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা এখন কেন্দ্রের নজরেও পৌঁছে গেল।https://www.jugantor.com/international/1136940
In 2017, Modi became the first Indian prime minister to visit Israel, breaking a taboo in Indian politics. His latest visit to the Jewish state came merely days before the Israeli-US attack on Iran in February. Speaking from the Knesset, Modi declared India’s unwavering support for the genocidal Jewish state: “India stands with Israel, firmly, with full conviction, in this moment, and beyond.”
The Israelis returned the favour by conferring a made-up award on him to indulge his award-collecting ego.
After years of being treated as a pariah by the Western powers, Modi has become the apple of their eye, with the huge Indian market of 1.46 billion people providing them with a vast market in which to flog their wares.
As Modi’s political power has soared, the fortunes of his cronies, such as Adani, have rapidly accelerated northwards.
With one of the most overtly corrupt American administrations in charge, Adani’s unscrupulous practices, which have enabled him to accumulate an enormous personal fortune, are also going global
২০১৭ সালে, মোদি প্রথম ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ইসরায়েল সফর করেন, যা ভারতীয় রাজনীতির একটি প্রথা ভেঙে দেয়। ফেব্রুয়ারিতে ইরানের উপর ইসরায়েল-মার্কিন হামলার মাত্র কয়েকদিন আগে তিনি ইহুদি রাষ্ট্রটিতে সর্বশেষ সফর করেন। নেসেট থেকে দেওয়া ভাষণে মোদি গণহত্যায় লিপ্ত ইহুদি রাষ্ট্রটির প্রতি ভারতের অবিচল সমর্থন ঘোষণা করেন: “ভারত এই মুহূর্তে এবং এর পরেও, দৃঢ়ভাবে, পূর্ণ প্রত্যয়ের সাথে ইসরায়েলের পাশে আছে।”
ইসরায়েলিরা এর প্রতিদান হিসেবে তার পুরস্কার সংগ্রহের অহংবোধকে প্রশ্রয় দিতে তাকে একটি মনগড়া পুরস্কার প্রদান করে।
বছরের পর বছর ধরে পশ্চিমা শক্তিগুলোর দ্বারা একঘরে হয়ে থাকার পর, মোদি এখন তাদের নয়নের মণি হয়ে উঠেছেন, এবং ১.৪৬ বিলিয়ন মানুষের বিশাল ভারতীয় বাজার তাদের পণ্য বিক্রির জন্য এক বিরাট ক্ষেত্র তৈরি করে দিয়েছে।
মোদির রাজনৈতিক ক্ষমতা যেমন বেড়েছে, তেমনি আদানি-র মতো তার ঘনিষ্ঠদের ভাগ্যও দ্রুতগতিতে উত্তর দিকে এগিয়েছে।
আমেরিকার অন্যতম প্রকাশ্য দুর্নীতিগ্রস্ত একটি প্রশাসন ক্ষমতায় থাকায় আদানির নীতিহীন কার্যকলাপ, যা তাকে বিপুল ব্যক্তিগত সম্পদ অর্জনে সক্ষম করেছে, তাও বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে।https://mail.google.com/mail/u/3/#inbox/FMfcgzQhVrCjWncDvCMhXmpffHpQdZlg
dui017 sale, modi prothom varotiiyo prodhanmontri hishebe israel safar koren, jaa varotiiyo rajnitir ekti protha bhenge dey. februaryte iraner upor israyel-markin hamlar matro koyekdin age tini ehudi rastrotite sarboshesh safar koren. neset theke deoa bhasane modi gonohottay lipto ehudi rashtratir proti bharoter abichal somorthon ghoshona koren: “bharoto ei muhurte ebong er poreo, driddvabe, purno protyoyer sathe israeler pashe ache.”
israyelira er protidan hishebe tar puraskar sangraher ahongbodhoke proshroy dite take ekti mongada puraskar prodan kore.
bochorer por bochor dhore poschima shaktigulor dwara ekghore hoye thakar por, modi ekhon taader noyoner moni hoye uthechen, ebong 1.46 billion manusher bishal varotiiyo bazar taader ponno bikrir jonno ek birat khetra toiri kore diyeche.
modir rajnoitik khamota jemon bereche, temni adani-ra moto tar ghonisthoder vagyo drutogotite uttar dike egiyeche.
amerikar onyotomo prokashyo durnitigrosto ekti prashasan khamotay thakay adanir nitihin karjokolap, jaa take bipul byaktigoto sampad orjone sakkham koreche, tao bissojure chhoriye porche.
আরও দেখুন
হুমকির ধরন বা তীব্রতা সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি তাদের কাছে বিস্তারিত কিছু জানতে চাইনি। কারণ আমাকে প্রায়ই নানা ধরনের হুমকির মুখে পড়তে হয়।’
নিজেকে একজন ‘প্রভাবশালী ও গুরুত্বপূর্ণ প্রেসিডেন্ট’ দাবি করে ট্রাম্প আরও বলেন, ‘আমাকে ঘিরে এমন অনেক হুমকি আসে যা আপনারা জানতেও পারেন না। যে কোনো প্রভাবশালী প্রেসিডেন্টকেই এমন হুমকির মুখোমুখি হতে হয়। যেসব প্রেসিডেন্ট প্রভাবশালী নন, তাদের কেউ হুমকি দেয় না। আমার মনে হয় বিগত প্রায় ছয় বছরে আমি যতটা কাজ করেছি, তা আর কেউ করতে পারেনি।’ প্রতিবেদনে বলা হয়, তুরস্ক থেকে রওনা দেওয়ার সময় ট্রাম্প সবার সামনেই এয়ার ফোর্স ওয়ান বিমানে ওঠেন। কিন্তু বিমানে ওঠার কিছুক্ষণ পরেই তাকে খুব সতর্কতার সঙ্গে পেছনের দরজা দিয়ে বের করে একটি খাবার সরবরাহের ট্রাকের (ক্যাটারিং ট্রাক) ভেতরে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। এরপর সেই ট্রাকের মাধ্যমে তাকে গোপন একটি ছোট সামরিক বিমানে (এয়ার ফোর্স সি-৩২এ) তুলে নেওয়া হয়। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ট্রাম্প জানান, পুরো সিদ্ধান্তটি সিক্রেট সার্ভিস এবং সামরিক বাহিনীর নেওয়া এবং তিনি কেবল তাদের নির্দেশ মেনে চলেছেন। ওহাইও সফর শেষে জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘পুরো বিষয়টি নিশ্চিতভাবেই সিক্রেট সার্ভিস নিয়ন্ত্রণ করেছে। তারা যা করতে বলে, আমি কেবল সেটাই মেনে চলি। সামরিক বাহিনী ও সিক্রেট সার্ভিস চেয়েছিল আমি যেন ভিন্ন একটি বিমানে যাত্রা করি। দুটি বিমানই সমান নিরাপদ ছিল, কিন্তু তারা সুরক্ষার তাগিদে অন্যটিতে যেতে বলেছিল, তাই আমি গিয়েছি।’ ইরানের হামলার আশঙ্কায় ২০২৬ সালের জুলাইয়ে তুরস্কের ন্যাটো সম্মেলন থেকে দেশে ফেরার সময় এক অভিনব ও গোপন কৌশল নিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট’-এর প্রতিবেদনে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। ইরানের হুমকিতে খাবারের ট্রাকে লুকিয়ে বিমান পরিবর্তনের কথা স্বীকার করলেন ট্রাম্প
ওয়াশিংটন পোস্টকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এক মার্কিন কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন, ইরান থেকে আসা একটি বিশ্বাসযোগ্য হুমকির কারণে এই কাজ করতে বাধ্য হয় মার্কিন গোয়েন্দারা।
‘ট্রাম্পকে গুপ্তহত্যার ছক ইসরাইলের সাজানো নাটক’
গত মাসে তুরস্কের আঙ্কারায় ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যার একটি ছক কষেছিল ইরান—ইসরাইলি গোয়েন্দাদের এমন দাবিকে পুরোপুরি ভুয়া বলে সন্দেহ করছে তুরস্ক।
ইসরাইল দাবি করেছিল, ইরানের একটি গোপন দল আঙ্কারা বিমানবন্দরে ট্রাম্পের বিমানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পরিকল্পনা করছে। এই সতর্কতার পর মার্কিন সিক্রেট সার্ভিস তড়িঘড়ি করে ট্রাম্পের বিমান ও যাত্রাপথ পরিবর্তন করে এবং তাকে কড়া নিরাপত্তায় সরিয়ে নেয়।
তবে তুরস্কের কর্মকর্তাদের দৃঢ় বিশ্বাস, এটি ছিল ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকারের একটি সাজানো নাটক। এর প্রধান উদ্দেশ্য ছিল—ইরানের সাথে যুদ্ধ থামিয়ে ট্রাম্প যে চুক্তির আলোচনা করছিলেন, তা যেকোনো মূল্যে বানচাল করা। পাশাপাশি, তুরস্কের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক খারাপ করা এবং তুরস্কের কাছে অত্যাধুনিক এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রির প্রক্রিয়া আটকে দেওয়া।
তুরস্ক আরও জানিয়েছে, ন্যাটো সম্মেলনের মতো ওই কড়া নিরাপত্তার মধ্যে তুরস্কে এ ধরনের বড় হামলা চালানোর কোনো বাস্তব সুযোগ বা সাহস ইরানের নেই। আঙ্কারার এক সূত্রের মতে, যে হামলার কোনো অস্তিত্বই ছিল না বা কোনো পরিকল্পনাই ছিল না, মূলত সেই কাল্পনিক হামলার হিরো সাজতেই ইসরাইল এই মিথ্যা প্রতিবেদন দিয়েছিল।
সূত্র: মিডলইস্ট আই।
মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা ইতিপূর্বে বেশ কয়েক মাস অআগে ট্রাম্প প্রশাসনকে এ মর্মে সতর্ক বার্তা জারি করে যে, ইসরাইল এমন ঘটনা ঘটাতে যাচ্ছে যা ট্রাম্প এবং যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে। উল্লেখ্য বিগত বিংশ শতাব্দীর পাঁচ দশকে মার্কিন নৌবহন আক্রান্ত হলে ইসরাইল এর দায় ইরানের উপর চাপিয়ে দেয়। পরে তদন্তে প্রমাণিত হয় এই হামলা ইসরাইলী সূত্রে সংঘটিত হয়েছিল। ১৯৯৩ সালে প্রথমবারের মতো টু-ইন-টাওয়ারে হামলার পর পরই প্রত্যক্ষদর্শীর বরাত দিয়ে পাশ্চাত্য মিডিয়া খবর প্রকাশ করে যে, হামলার পর পরই মধ্যপ্রাচ্যের চেহারার কাউকে দৌঁড়ে যেতে দেখা গেছে। মার্কিন ফেডারেল অআদালতে তদন্তে প্রমাণিত হয় ম্যাকুভিয়ার নামের এক মার্কিন চাকুরিচ্যুত মার্কিন তরুন সেনা প্রতিশোধকমূলকভাবে এই হামলা করেছিলেন যার কারণ ২০০১ সালের অআগষ্ট মাসে ম্যাকুভিয়ারকে ইলেকট্রিক চেয়ারে মৃত্যু দন্ড কার্যকর করা হয়। তার সপ্তাহ খানেক পরে অআগষ্টের শেষ সপ্তাহ এবং সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে কয়েক দিন ব্যাপী জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থা কর্তৃক দক্ষিণ অআফ্রিকার ডারবানে বিশ্ব শান্তি সম্মেলনের অআয়োজন করা হয়। তাতে পোপ দ্বিতীয় জনপলের স্বপ্নিল নতুন মিলোনিয়ামের নতুন শতাব্দীতে শান্তিময় পৃথিবী প্রতিষ্ঠায় বিশ্ববাসীর কার্যকর ভূমিকার উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। এই শান্তিকে অআরও বেগবান করতে বিশ্ব শান্তির বিরুদ্ধে সকল প্রতিবন্ধকতা তুলে নেওয়ার অংশ হিসাবে মধ্যপ্রাচ্যের ক্ষত বিবেচিত একটি দেশকে সন্ত্রাসী দেশ হিসাবে ঘোষণার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে এই সিদ্ধান্ত কেবল খসড়া অআকারে সম্মেলনে উপস্থাপন করা হলে যুক্তরাষ্ট্র সংশি্ষ্ট দেশকে নিয়ে সম্মেলন বয়কটের হুমকি দেয় এবং বেরিয়েও অআসে। ইউরোপীয় দেশগুলো জাতিসংঘকে স্পষ্ট জানিয়ে দেয় যে, উক্ত দেশকে চূড়ান্তভাবে সন্ত্রাসী দেশ ঘোষণা করা হলে একযোগে প্রতিবাদস্বরূপ সম্মেলন বয়কট করা হবে। এই হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে জাতিসংঘ চূড়ান্ত ঘোষণা থেকে বিরত থাকে। এর কয়েকদিন পরই দ্বিতীয় বারের মতো টু-ইন-টাওয়ার অআক্রান্ত হয়। জলন্ত টাওয়ারের হাস্যরত অবস্থায় ছবি তোলা হলে মার্কিন গোয়েন্দা বিভাগ তৎক্ষণাৎ ছবি ধারণরত দুই ব্যক্তিকে অআটক করে। দুই দিন অআটক থাকার পর তাদেরকে ছেড়ে দেওয়া হয়। জানা যায় যে, হাস্যরত ফটোগ্রাফাররা একটি বিশেষ দেশের নাগরিক। এবং গোয়েন্দা সংস্থাকে হাসির তাৎপর্য তুলে ধরে বলা হয়, দুইটি টাওয়ারের বিনিময়ে তোমরা পেতে যাচ্ছে একাধিক দেশের অধিকারত্ব যার ছক সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর পরই করা হয়েছিল এবং ২০০১ সালে অআফগানিস্তান দখলের পর মার্কিন সেনা সমাবেশ জর্জ বুশ ৩০/৪০/৫০ এমনকি ৬০টি দেশ দখলের ঘোষণা দেন যা অআল গরিদমের অআলোকে বিবেচ্য বটে। উক্ত ঘোষণায় বুশ উত্তর কোরিয়ার নামও উল্লেখ করেছিলেন বাকী দেশ গুলির নাম উল্লেখ করা হয়নি। তবে ওঅআইসির দেশের সংখ্যা ৫৭, চীন+উত্তর কোরিয়া+রাশিয়া মিলে দেশের সংখ্যা দাঁড়ায় ৬০টি। বাংলাদেশের সিরিয়াল ছিল ২৬-এ। বর্ণক্রমিক ভাবে এ-দিয়ে অআফগানিস্তান শুরু হলেও পরে তা অআর রক্ষা হয়নি ইরাক দ্বিতীয় এবং তৃতীয় দেশ ছিল সিরিয়া। কিন্তু সাদ্দাম হুসেইনের অনড় ভূমিকার কারণে যুক্তরাষ্ট্র ইরাকেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে। অআত্মঘাতী হামলার তোড়ে ৫১তম অঙ্গ রাজ্য হিসাবে মার্কিন প্রশাসক ব্লেমারের শাসন বেশিদিন এগোয়নি। ইরান সমর্থিত শিয়াপন্থী এবং সাদ্দামের প্রতিদ্বন্দ্বি বনি সদরের হাতে প্রশাসন ছেড়ে দিয়ে মার্কিন প্রশাসন স্বদেশে ফিরে যায়।
হরমুজে নৌজোট গঠনে মার্কিন উদ্যোগে ইউরোপের অনাগ্রহ
হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখতে কয়েক মাস ধরে একটি আন্তর্জাতিক নৌজোট গঠনের চেষ্টা চালিয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্র। গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে নৌবাহিনীর নিরাপত্তাবেষ্টনী গড়ে তুলে জাহাজ চলাচল নির্বিঘ্ন রাখাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।বিশ্লেষকদের মতে, নৌজোট গঠনে এই অচলাবস্থা ইউরোপীয় দেশগুলোর গভীর সতর্কতার প্রতিফলন। তাদের আশঙ্কা, এমন একটি অনিশ্চিত ও দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে এমন সংঘাতে জড়িয়ে পড়া ইউরোপের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে যে সংঘাত তারা নিজেরা শুরু করেনি এবং যার প্রতি তাদের সরাসরি সমর্থনও নেই, সেখানে সামরিকভাবে জড়িয়ে পড়ার বিষয়ে ইউরোপীয় সরকারগুলো সতর্ক অবস্থান নিয়েছে।
এ ছাড়া উপসাগরীয় দেশগুলোর পক্ষ থেকে এ ধরনের সামরিক উদ্যোগের সুস্পষ্ট সমর্থন না থাকায় ইউরোপের অনাগ্রহ আরও বাড়ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউট (আরইউএসআই) ও সেন্টার ফর আমেরিকান প্রগ্রেসের জ্যেষ্ঠ গবেষক এইচ এ হেলিয়ার আল জাজিরাকে বলেন, অন্যদের হয়ে ইরানের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার বিষয়ে যুক্তরাজ্য বা ফ্রান্সের খুব একটা আগ্রহ নেই। বিশেষ করে এ ধরনের পদক্ষেপের জন্য আঞ্চলিক দেশগুলোর পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট আহ্বান না থাকলে তাদের সামরিকভাবে সম্পৃক্ত হওয়ার সম্ভাবনা আরও কম।
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক জলপথ। বিশ্বের বিপুল পরিমাণ জ্বালানি এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হওয়ায় অঞ্চলটিতে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা তৈরি হলে আন্তর্জাতিক বাজার ও বৈশ্বিক অর্থনীতিতে এর বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে প্রণালিতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগ থাকলেও ইউরোপীয় মিত্রদের সতর্ক অবস্থানের কারণে প্রস্তাবিত নৌজোট গঠন এখনো অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে।সূত্র: আলজাজিরাhttps://www.jugantor.com/international/1137675
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মোদি জানান, নেতানিয়াহুর সঙ্গে তার ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।
তিনি বলেন, সময়ের সঙ্গে আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠা ভারত-ইসরাইল বিশেষ কৌশলগত অংশীদারত্বের নানা দিক নিয়ে তাদের কথা হয়েছে। একই সঙ্গে পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কেও মতবিনিময় করেছেন তারা।এ সময় শান্তি, উদ্ভাবন ও সমৃদ্ধিকে ভিত্তি করে বিশেষ কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন মোদি ও নেতানিয়াহু।
এর আগে ২৬ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত ভারত-ইসরাইলের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তা উন্নয়নের মাধ্যমে শান্তি, নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধির অভিন্ন লক্ষ্য অর্জনে উভয় দেশ দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
https://www.jugantor.com/international/1137258
https://www.linkedin.com/posts/antonio-guterres_nelson-mandela-exemplified-peace-justice-ugcPost-7484982817593012224-IESk/?utm_source=share&utm_medium=member_desktop&rcm=ACoAACgi0cEBqVSK2hMqVSQK9k8wYRakAsVM8nM
https://www.facebook.com/reel/1653554159078262UK faces direct challenge from Putin 'within months' to test Burnham government, insiders sayBritain and its NATO allies face a direct challenge from Vladimir Putin 'within months' to test Andy Burnham's new government and Donald Trump's focus on Iran, UK intelligence sources have warned.
They say that Putin will seek to take advantage of any difference in UK resolve now that Mr Burnham has replaced Sir Keir Starmer as Prime Minister.
The Mail on Sunday can also reveal that Moscow is already seeking to stretch UK resources by re-routing its shadow fleet of oil tankers away from the Channel after one of them was intercepted there by Royal Marine Commandos last month.
The vessels, which ferry millions of barrels of oil in defiance of Western sanctions, are instead reaching the Atlantic via the seas north of the Shetland Islands.
Even as Mr Burnham was taking over as PM last Monday, a Russian frigate sparked alarm by carrying out a live-fire artillery exercise just 46 miles south of Plymouth.
But now UK intelligence sources are warning of potentially much greater provocation from Moscow.
One intelligence source said: 'There's now a strong belief Putin is preparing some sort of direct confrontation with NATO at some point over the next couple of months.
'There are a number of factors playing into this - the belief Trump is distracted by Iran and signs of division among the Ukrainian leadership.'
UK faces direct challenge from Putin 'within months' to test Burnham government, insiders sayBritain and its NATO allies face a direct challenge from Vladimir Putin 'within months' to test Andy Burnham's new government and Donald Trump's focus on Iran, UK intelligence sources have warned.
They say that Putin will seek to take advantage of any difference in UK resolve now that Mr Burnham has replaced Sir Keir Starmer as Prime Minister.
The Mail on Sunday can also reveal that Moscow is already seeking to stretch UK resources by re-routing its shadow fleet of oil tankers away from the Channel after one of them was intercepted there by Royal Marine Commandos last month.
The vessels, which ferry millions of barrels of oil in defiance of Western sanctions, are instead reaching the Atlantic via the seas north of the Shetland Islands.
Even as Mr Burnham was taking over as PM last Monday, a Russian frigate sparked alarm by carrying out a live-fire artillery exercise just 46 miles south of Plymouth.
But now UK intelligence sources are warning of potentially much greater provocation from Moscow.
One intelligence source said: 'There's now a strong belief Putin is preparing some sort of direct confrontation with NATO at some point over the next couple of months.
'There are a number of factors playing into this - the belief Trump is distracted by Iran and signs of division among the Ukrainian leadership.'
The source made clear that Putin's own frustration with how the war in Ukraine was unfolding was also a factor, saying: 'There's a feeling that if he [Putin] can't somehow change the momentum on the battlefield, the war will be lost.'
However, he added that the change of government in the UK would also lead the Russian president to 'want to try and test Burnham, and see if he can exploit any divisions between the old and new administrations'.
The warnings come amid threats by Iran to strike British bases which it regards as 'legitimate targets' for allowing US bombers to operate from them in the escalating conflict with Tehran.
The UK has allowed US use of bases such as RAF Fairford but on the basis that the operations are only 'defensive'.
But this newspaper understands that so serious are the Iranian threats that British secret intelligence services have activated a major covert operation to counter any attack on RAF Fairford.
There are also continuing concerns that despite plans to improve, Britain was still highly vulnerable to a ballistic missile attack and was within range of some Iranian missiles.
Tim Ripley of the Defence Eye website said: 'America's top commander in the Middle East, Admiral Brad Cooper, has confirmed that the Iranians have a type of missile with the range potentially to hit London.'https://www.msn.com/en-xl/news/other/uk-faces-direct-challenge-from-putin-within-months-to-test-burnham-government-insiders-say/ar-AA28H1Mg?ocid=msedgntp&pc=U531&cvid=6a65729a1a6f49ce92ff6e0b25b087db&ei=13
বার্নহাম সরকারকে পরীক্ষা করতে 'কয়েক মাসের মধ্যেই' পুতিনের কাছ থেকে সরাসরি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে যুক্তরাজ্য, বলছে ভেতরের খবর। যুক্তরাজ্যের গোয়েন্দা সূত্র সতর্ক করেছে যে, অ্যান্ডি বার্নহামের নতুন সরকার এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরান-কেন্দ্রিক নীতিকে পরীক্ষা করতে 'কয়েক মাসের মধ্যেই' ভ্লাদিমির পুতিনের কাছ থেকে একটি সরাসরি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে চলেছে ব্রিটেন এবং তার ন্যাটো মিত্ররা।
তারা বলছে যে, স্যার কিয়ার স্টারমারের পরিবর্তে মিঃ বার্নহাম প্রধানমন্ত্রী হওয়ায় যুক্তরাজ্যের সংকল্পে যেকোনো ভিন্নতার সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করবেন পুতিন।
দ্য মেইল অন সানডে আরও প্রকাশ করতে পারে যে, গত মাসে রয়্যাল মেরিন কমান্ডোদের দ্বারা ইংলিশ চ্যানেল-এ একটি ট্যাঙ্কার আটক হওয়ার পর, মস্কো ইতিমধ্যেই তার গোপন তেল ট্যাঙ্কার বহরকে চ্যানেল থেকে অন্য পথে ঘুরিয়ে দিয়ে যুক্তরাজ্যের সম্পদ সীমিত করার চেষ্টা করছে।
পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে লক্ষ লক্ষ ব্যারেল তেল পরিবহনকারী এই জাহাজগুলো এখন শেটল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের উত্তরের সমুদ্রপথ দিয়ে আটলান্টিক মহাসাগরে পৌঁছাচ্ছে।
গত সোমবার মিঃ বার্নহাম যখন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিচ্ছিলেন, ঠিক তখনই প্লাইমাউথের মাত্র ৪৬ মাইল দক্ষিণে একটি রুশ ফ্রিগেট সরাসরি গোলাবর্ষণের মহড়া চালিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করে।
কিন্তু এখন যুক্তরাজ্যের গোয়েন্দা সূত্রগুলো মস্কোর পক্ষ থেকে আরও বড় ধরনের উস্কানির সম্ভাবনার বিষয়ে সতর্ক করছে।
একটি গোয়েন্দা সূত্র বলেছে: ‘এখন এমন একটি জোরালো বিশ্বাস তৈরি হয়েছে যে, পুতিন আগামী কয়েক মাসের মধ্যে কোনো এক সময়ে ন্যাটোর সঙ্গে এক ধরনের সরাসরি সংঘাতের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।’
‘এর পেছনে বেশ কয়েকটি কারণ কাজ করছে - যেমন, ট্রাম্প ইরান নিয়ে ব্যস্ত আছেন এমন ধারণা এবং ইউক্রেনের নেতৃত্বের মধ্যে বিভাজনের লক্ষণ।’
বার্নহাম সরকারকে পরীক্ষা করতে ‘কয়েক মাসের মধ্যেই’ পুতিনের কাছ থেকে সরাসরি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে যুক্তরাজ্য, বলছে ভেতরের খবর। যুক্তরাজ্যের গোয়েন্দা সূত্রগুলো সতর্ক করেছে যে, অ্যান্ডি বার্নহামের নতুন সরকার এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরান-কেন্দ্রিকতাকে পরীক্ষা করতে ‘কয়েক মাসের মধ্যেই’ ভ্লাদিমির পুতিনের কাছ থেকে একটি সরাসরি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে চলেছে ব্রিটেন এবং তার ন্যাটো মিত্ররা।
তারা বলছে যে, যেহেতু বার্নহাম এখন স্যার কিয়ার স্টারমারের স্থলাভিষিক্ত হয়ে প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন, তাই যুক্তরাজ্যের সংকল্পে যেকোনো ধরনের ভিন্নতার সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করবেন পুতিন।
দ্য মেইল অন সানডে আরও প্রকাশ করতে পারে যে, গত মাসে রয়্যাল মেরিন কমান্ডোদের হাতে ইংলিশ চ্যানেল থেকে তাদের একটি গোপন তেল ট্যাঙ্কার আটক হওয়ার পর, মস্কো ইতিমধ্যেই যুক্তরাজ্যের সম্পদের ওপর চাপ কমাতে সেগুলোর পথ পরিবর্তন করার চেষ্টা করছে।
পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে লক্ষ লক্ষ ব্যারেল তেল পরিবহনকারী এই জাহাজগুলো এখন শেটল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের উত্তরের সমুদ্রপথ দিয়ে আটলান্টিকে পৌঁছাচ্ছে।
এমনকি গত সোমবার মিঃ বার্নহ্যাম যখন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিচ্ছিলেন, তখনও প্লাইমাউথের মাত্র ৪৬ মাইল দক্ষিণে একটি রুশ ফ্রিগেট সরাসরি গোলাবর্ষণের মহড়া চালিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করে।
কিন্তু এখন যুক্তরাজ্যের গোয়েন্দা সূত্রগুলো মস্কোর পক্ষ থেকে আরও বড় ধরনের উস্কানির সম্ভাবনার বিষয়ে সতর্ক করছে।
একটি গোয়েন্দা সূত্র বলেছে: ‘এখন এমন একটি জোরালো বিশ্বাস জন্মেছে যে, পুতিন আগামী কয়েক মাসের মধ্যে কোনো এক সময়ে ন্যাটোর সঙ্গে কোনো ধরনের সরাসরি সংঘাতের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।’
‘এর পেছনে বেশ কয়েকটি কারণ কাজ করছে - যেমন, ট্রাম্প ইরান নিয়ে ব্যস্ত আছেন বলে বিশ্বাস এবং ইউক্রেনের নেতৃত্বের মধ্যে বিভাজনের লক্ষণ।’
সূত্রটি স্পষ্ট করে বলেছে যে, ইউক্রেনে যুদ্ধ যেভাবে এগোচ্ছিল তা নিয়ে পুতিনের নিজের হতাশাও একটি কারণ ছিল। সূত্রটি জানায়: ‘এমন একটি ধারণা রয়েছে যে, তিনি [পুতিন] যদি কোনোভাবে যুদ্ধক্ষেত্রের গতিপথ পরিবর্তন করতে না পারেন, তাহলে যুদ্ধে হেরে যাবেন।’
তবে, তিনি আরও যোগ করেন যে, যুক্তরাজ্যে সরকার পরিবর্তনের ফলে রুশ প্রেসিডেন্ট ‘বার্নহ্যামকে পরীক্ষা করে দেখতে চাইবেন এবং দেখবেন যে তিনি পুরোনো ও নতুন প্রশাসনের মধ্যেকার কোনো বিভাজনকে কাজে লাগাতে পারেন কি না’।
তেহরানের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান সংঘাতে মার্কিন বোমারু বিমানগুলোকে ব্রিটিশ ঘাঁটি থেকে উড্ডয়নের অনুমতি দেওয়ায় ইরান সেগুলোকে ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু’ হিসেবে গণ্য করে এবং সেখানে হামলা চালানোর হুমকি দেওয়ায় এই সতর্কবার্তাগুলো এসেছে।
যুক্তরাজ্য আরএএফ ফেয়ারফোর্ডের মতো ঘাঁটিগুলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে, তবে এই শর্তে যে অভিযানগুলো শুধুমাত্র ‘প্রতিরক্ষামূলক’ হবে।
কিন্তু এই সংবাদপত্র জানতে পেরেছে যে, ইরানের হুমকি এতটাই গুরুতর যে ব্রিটিশ গোয়েন্দা সংস্থাগুলো আরএএফ ফেয়ারফোর্ডের ওপর যেকোনো হামলা প্রতিহত করার জন্য একটি বড় ধরনের গোপন অভিযান শুরু করেছে।
এই উদ্বেগও অব্যাহত রয়েছে যে, পরিস্থিতির উন্নতির পরিকল্পনা থাকা সত্ত্বেও ব্রিটেন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং ইরানের কিছু ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লার মধ্যে রয়েছে।
ডিফেন্স আই ওয়েবসাইটের টিম রিপলি বলেছেন: ‘মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার শীর্ষ কমান্ডার, অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার, নিশ্চিত করেছেন যে ইরানের কাছে এমন এক ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে যা দিয়ে লন্ডনে আঘাত হানার সম্ভাবনা রয়েছে।’https://www.msn.com/en-xl/news/other/uk-faces-direct-challenge-from-putin-within-months-to-test-burnham-government-insiders-say/ar-AA28H1Mg?ocid=msedgntp&pc=U531&cvid=6a65729a1a6f49ce92ff6e0b25b087db&ei=13
নেতানিয়াহুকে গ্রেফতার করাতে পারেন মামদানি
নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি বলেছেন, সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে (ইউএনজিএ) যোগ দিতে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তার শহরে এলে তাকে গ্রেফতারের আদেশ দিতে পারেন তিনি।
এই বিষয়ে এখনও আলোচনা চলছে। এ মন্তব্যের পর নেতানিয়াহুর পক্ষ থেকেও দ্রুত প্রতিক্রিয়া এসেছে। খবর আলজাজিরার।
শনিবার প্রকাশিত দ্য নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মেয়র মামদানি বলেন, বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এমন একজন যুদ্ধাপরাধী যার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত ইতোমধ্যেই আনুষ্ঠানিক অভিযোগ এনেছে। ফলে আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী তার বিচার হওয়া উচিত এবং তাকে দ্য হেগের আদালতে দাঁড় করানো উচিত।
নেতানিয়াহু নিউইয়র্কে পা রাখলে তাকে গ্রেফতার করা হবে কি না-এমন এক প্রশ্নের জবাবে মেয়র তার আইনি সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরেন।
মামদানি বলেন, আমার বিশ্বাস, প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর স্থান হেগে। তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে অভিযুক্ত একজন যুদ্ধাপরাধী। গত কয়েক বছরে তার কর্মকাণ্ডের কারণে অনেকেই এই মত পোষণ করেন।
তিনি জানান, নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ সরাসরি তার প্রশাসনের অধীনে পরিচালিত হলেও, নেতানিয়াহুর মতো একজন বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানকে গ্রেফতার করার আইনি এখতিয়ার সিটির মেয়রের রয়েছে কি না, তা এখনও পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। তবে বিষয়টি তারা হালকাভাবে নিচ্ছেন না।
এই মুহূর্তে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে কোনো আইনি পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব কি না, তা খতিয়ে দেখতে সিটির আইন বিভাগের সঙ্গে তিনি নিবিড় ও সক্রিয় আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে নিশ্চিত করেছেন মেয়র জোহরান মামদানি।
মামদানির এমন মন্তব্যের পর ইসরাইলের পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে।
জাতিসংঘে নিযুক্ত ইসরাইলি রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যানন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, মেয়র হিসাবে নিজের দায়িত্ব এবং শহরে ক্রমবর্ধমান ইহুদি-বিদ্বেষের মোকাবিলার দিকে নজর না দিয়ে, তিনি ইসরাইল রাষ্ট্রের ওপর আক্রমণ চালিয়ে শত্রুতা উসকে দিতে এবং শিরোনাম হতে চেয়েছেন।
ড্যানন আরও বলেন, এতে কোনো কিছুই পরিবর্তন হবে না। ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু নিউইয়র্কে আসবেন, গর্বের সঙ্গে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেবেন এবং ইসরাইলের সত্য ও নাগরিকদের রক্ষা করার অবিচল অধিকারের কথা বিশ্বের সামনে তুলে ধরবেন। আর যদি কাউকে গ্রেফতার করতেই হয়, তবে তা নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানিকে করা উচিত।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি নিউইয়র্কের একটি রেডিও অনুষ্ঠানে নেতানিয়াহু মামদানির বিরুদ্ধে হামাসকে সমর্থনের অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, আমার মনে হয়, গোপনে তিনি আমেরিকাকে ঘৃণা করেন।https://www.jugantor.com/international/1129120
নেতানিয়াহুকে গ্রেফতারের চাইতে মামদানীর জন্য জরুরী হচ্ছে প্রথমবারের মতো ১৯৯৩ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের এক বছর পূর্তিতে টু-ইন টাওয়ার হামলার ঘটনা মার্কিন ফেডারেল অআদালতে তোলার ন্যায় ২০০১ সালে দ্বিতীয় বার সংঘটিত হামলার মামলা মার্কিন আদালতে বিচারাধীন করা। এ ক্ষেত্রে বিশেষ বিবেচনায় অআনা যেতে পারেঃ ১) কেন প্রথমবারের ন্যায় দ্বিতীয়বার মার্কিন আদালতে মামলা তোলা হয়নি? ২) কোনো প্রকার গ্রেফতার, জবানবন্দি, তদন্ত, রিপোর্ট পেশের অআগে কোন্ প্রক্রিয়ায় আসামী সনাক্ত হলো?
বিশ্বকাপ জয়ের পর মাঠেই মোনাজাত ধরলেন ইয়ামাল
নেতানিয়াহুকে গ্রেফতারের প্রশ্নে যা বললেন মামদানি
নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি বলেছেন, আগামী সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) অধিবেশনে যোগ দিতে দখলদার ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নিউইয়র্কে এলে তাকে গ্রেফতার করা সম্ভব কিনা, সে বিষয়ে তিনি নগর কর্তৃপক্ষের আইন বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করছেন।
শনিবার (১৮ জুলাই) প্রকাশিত দ্য নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মামদানি বলেন, গাজায় সম্ভাব্য মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) জারি করা গ্রেফতারি পরোয়ানার মুখোমুখি হওয়া নেতানিয়াহুকে বিচারের আওতায় আনা উচিত।
তিনি বলেন, আমি বিশ্বাস করি, প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর স্থান দ্য হেগে। তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত তাকে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত করেছে। গত কয়েক বছরে তার কর্মকাণ্ডের কারণে বহু মানুষ একই মত পোষণ করেন।
ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকারের পক্ষে সরব ডেমোক্র্যাটিক সোশ্যালিস্ট নেতা মামদানি মেয়র নির্বাচনি প্রচারণার সময়ও প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, নেতানিয়াহু নিউইয়র্কে এলে তাকে গ্রেফতারের উদ্যোগ নেবেন। তবে সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের আইনি সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল।
সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, নিউইয়র্ক সিটির আইন বিভাগের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে আলোচনা চলছে। তিনি বলেন, আইন আমাকে নিউইয়র্ক সিটিতে যা করার অনুমতি দেয়, আমরা সেটাই করব। তবে এ উদ্দেশ্যে নতুন কোনো আইন তৈরি করব না।
মামদানির বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় নেতানিয়াহু মার্কিন রেডিও উপস্থাপক সিড রোজেনবার্গকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেন, মামদানি গোপনে আমেরিকাকে ঘৃণা করেন।
অন্যদিকে জাতিসংঘে ইসরাইলের রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যানন বলেছেন, গ্রেফতারের হুমকি সত্ত্বেও আগামী সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নেতানিয়াহু নিউইয়র্কে যাবেন।
মেয়র নির্বাচনি প্রচারণার সময় মামদানি ইসলামবিদ্বেষমূলক মন্তব্য ও ব্যক্তিগত আক্রমণেরও শিকার হন। একপর্যায়ে রেডিও উপস্থাপক সিড রোজেনবার্গ তাকে ‘তেলাপোকা’ বলে মন্তব্য করেন। পরে এ মন্তব্যের জন্য তিনি ক্ষমা চান।
গত মে মাসে প্রকাশিত এক জনমত জরিপে দেখা যায়, প্রায় ৭৫ শতাংশ ডেমোক্র্যাট ভোটার ইসরাইলকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তার বিরোধিতা করেন। তিন বছর আগে এ হার ছিল ৪৫ শতাংশ। জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় অর্ধেক ভোটার মনে করেন, তাদের দল ইসরাইলের প্রতি অতিরিক্ত সমর্থন দেখাচ্ছে।
যদিও এ পরিবর্তন এখনো দলটির শীর্ষ নেতৃত্বের নীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেনি, তবু অনেক ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা ধীরে ধীরে নিজেদের অবস্থান পরিবর্তন করছেন। সম্প্রতি মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাট সদস্যদের প্রায় অর্ধেকই ইসরাইলকে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা বন্ধের পক্ষে ভোট দিয়েছেন।
সূত্র: আলজাজুলাইয়ে ৩ বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলে ৩টিতেই হেরেছে আর্জেন্টিনাআরও একটা বিশ্বকাপ ফাইনালে পৌঁছে গেছে আর্জেন্টিনা। বাংলাদেশ সময় আগামী ২০ জুলাই বিশ্বকাপের এই চূড়ান্ত লড়াইয়ে স্পেনের মুখোমুখি হবে লিওনেল মেসির দল। তবে এই ম্যাচের আগে দলটাকে শঙ্কায় রেখেছে ‘জুলাই’। কারণ ইতিহাস বলছে এই মাসে কখনোই বিশ্বকাপ জেতেনি আর্জেন্টিনা, ৩ ফাইনাল খেলে হেরেছে ৩টিতেই। এবারের ফাইনাল সেই ইতিহাস বদলে দেওয়ার সুযোগ এনে দিয়েছে দলটির সামনে।
আর্জেন্টিনা এর আগে তিনবার বিশ্বকাপ জিতেছে। ১৯৭৮, ১৯৮৬ ও ২০২২ সালে শিরোপা ঘরে তোলে তারা। তবে এই তিনটি জয়ের কোনোটিই জুলাই মাসে আসেনি।
১৯৭৮ সালে নিজেদের মাটিতে প্রথম শিরোপা জেতে আর্জেন্টিনা। সেই ফাইনাল হয়েছিল ২৫ জুন। নেদারল্যান্ডসকে ৩-১ গোলে হারিয়ে প্রথম বিশ্বকাপ জেতে তারা।
১৯৮৬ সালে মেক্সিকোতে দ্বিতীয় শিরোপা জেতে আর্জেন্টিনা। দিয়েগো ম্যারাডোনার হাত ধরে আসা সেই ফাইনালও হয়েছিল জুন মাসে, ২৯ তারিখে। পশ্চিম জার্মানিকে ৩-২ গোলে হারিয়েছিল তারা।
সবশেষ ২০২২ সালে কাতারে তৃতীয় শিরোপা জেতে আর্জেন্টিনা। লিওনেল মেসির নেতৃত্বে ফ্রান্সকে হারিয়ে সেই জয় আসে। তবে সেই ফাইনাল হয়েছিল ডিসেম্বর মাসে, ১৮ তারিখে। কারণ কাতারের গরম আবহাওয়ার জন্য সেবার বিশ্বকাপ শীতকালে আয়োজন করা হয়েছিল।
৩ বিশ্বকাপ জিতলেও আর্জেন্টিনা ফাইনালে খেলেছে সব মিলিয়ে ৬ বার। বাকি তিন ফাইনালের তিন বারই খেলা হয়েছে এই জুলাই মাসে। প্রথম বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলা হয়েছিল ১৯৩০ সালের ৩০ জুলাই। সেদিন উরুগুয়ের কাছে ৪-২ গোলে হারে আর্জেন্টিনা।
এরপরের জুলাই মাসে বিশ্বকাপে ফাইনালটা আর্জেন্টিনা খেলেছে ১৯৯০ সালে। দিয়েগো ম্যারাডোনার আর্জেন্টিনা সেবার ৮ জুলাই মাঠে নেমে জার্মানির কাছে হারে ১-০ গোলে।
জুলাইয়ের ফাইনালের তেঁতো স্বাদ মেসিও নিয়েছেন। ২০১৪ বিশ্বকাপের ফাইনাল হয়েছিল ১৩ জুলাই। সেবারও ১-০ গোলে জার্মানির কাছে হারতে হয় আর্জেন্টিনাকে।
এবার ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালও হচ্ছে জুলাই মাসেই। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো মিলে আয়োজিত এই বিশ্বকাপের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে বাংলাদেশ সময় ২০ জুলাই। স্পেনের বিপক্ষে এই ম্যাচ জিততে পারলে জুলাই মাসে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ জেতার রেকর্ড গড়বে আর্জেন্টিনা।
লিওনেল মেসির সম্ভাব্য শেষ বিশ্বকাপে দলটির সামনে তাই দুটো লক্ষ্য। একদিকে শিরোপা ধরে রাখা, অন্যদিকে নতুন এক ইতিহাস গড়া।রেকর্ড দূষণে টরন্টো: বিশ্বের সবচেয়ে খারাপ বায়ুমান, স্বাস্থ্য সতর্কতা জারি
Icon
কানাডা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬, ১১:২৮ পিএম
7 Shares
facebook sharing button
twitter sharing button
whatsapp sharing button
messenger sharing button
print sharing button
copy sharing button
রেকর্ড দূষণে টরন্টো: বিশ্বের সবচেয়ে খারাপ বায়ুমান, স্বাস্থ্য সতর্কতা জারি
বুধবার সকালে টরন্টোর বাতাসের মান বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় ছিল। ছবি: সংগৃহীত
Mojo Birat Car Bar
পরবর্তী খেলাসমূহ
রোববার ১৯ জুলাই ২০২৬ [তৃতীয় স্থান নির্ধারণী] রাত ৩টা
পরাজিত ১০১
পরাজিত ১০১
–
পরাজিত ১০২
পরাজিত ১০২
হার্ড রক স্টেডিয়াম, মায়ামি, যুক্তরাষ্ট্র
সোমবার ২০ জুলাই ২০২৬ [ফাইনাল] রাত ১টা
জয়ী ম্যাচ ১০১
জয়ী ম্যাচ ১০১
–
জয়ী ম্যাচ ১০২
জয়ী ম্যাচ ১০২
মেটলাইফ স্টেডিয়াম, নিউজার্সি, যুক্তরাষ্ট্র
আরও পড়ুন
সৌদির কাছে ১.৯৬ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রির সম্ভাব্য অনুমোদন দিল যুক্তরাষ্ট্র
চরম অজনপ্রিয় ইরান যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসতে মরিয়া ট্রাম্প
জনমতের লড়াইয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পিছিয়ে পড়ছে ইসরাইল: ভ্যান্স
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অস্তিত্ব রক্ষার যুদ্ধে লিপ্ত ইরান: গালিবাফ
সব দেশের জন্য ৫ বছর মেয়াদি মাল্টিপল-এন্ট্রি ভিসা চালু করল আমিরাত
ফলো করুন
যুগান্তর হোয়াটসঅ্যাপ
যুগান্তর মেসেঞ্জার
বনাঞ্চলের দাবানলের ধোঁয়ায় ঢেকে গেছে টরন্টোর আকাশ। বুধবার (১৫ জুলাই) সকালে শহরটির বাতাসের মান বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে ‘এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড ক্লাইমেট চেঞ্জ কানাডা’ টরন্টোর জন্য অরেঞ্জ এয়ার কোয়ালিটি সতর্কতা জারি করেছে।
উত্তর-পশ্চিম অন্টারিওর দাবানলের ধোঁয়া দক্ষিণে নেমে আসায় পুরো গ্রেটার টরন্টো এরিয়া ধোঁয়ার চাদরে ঢেকে গেছে। আবহাওয়া সংস্থার সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত অনেক এলাকায় বাতাসের নিম্নমান অব্যাহত থাকতে পারে।
সতর্কতায় বলা হয়েছে, ধোঁয়ার পরিমাণ যত বাড়বে, স্বাস্থ্যঝুঁকিও তত বাড়বে। তাই অপ্রয়োজনীয়ভাবে বাইরে অবস্থান, খেলাধুলা বা অন্যান্য শারীরিক কর্মকাণ্ড সীমিত রাখা কিংবা সম্ভব হলে অন্য সময়ে করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশ্বব্যাপী বায়ুর মান পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান IQAir-এর তথ্য অনুযায়ী, বুধবার সকাল ৮টার দিকে টরন্টোর বাতাসের মান বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ অবস্থানে ছিল।
স্বাস্থ্যঝুঁকি: ধোঁয়ার কারণে যেসব উপসর্গ দেখা দিতে পারে:
* চোখ, নাক ও গলায় জ্বালাপোড়া
* মাথাব্যথা
* হালকা কাশি
গুরুতর ক্ষেত্রে দেখা দিতে পারে:
* শ্বাসকষ্ট বা শোঁ শোঁ শব্দ
* বুকে ব্যথা
* তীব্র কাশি
এ ধরনের গুরুতর উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বিশেষ ঝুঁকিতে রয়েছেন:
* ৬৫ বছরের বেশি বয়সিরা
* গর্ভবতী নারী
* শিশু ও নবজাতক
* দীর্ঘমেয়াদি বা শ্বাসযন্ত্রের রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা
বাসিন্দাদের জন্য পরামর্শ
* যতটা সম্ভব ঘরের ভেতরে থাকুন।
* জানালা ও দরজা বন্ধ রাখুন।
* বাইরে গেলে সময় কমিয়ে আনুন।
* তীব্র গরমের মধ্যেও শীতল পরিবেশে থাকার চেষ্টা করুন এবং পর্যাপ্ত পানি পান করুন।
সিটি অব টরন্টোর সিদ্ধান্ত: বায়ুদূষণের কারণে বুধবার CampTO-এর সব আউটডোর ফিল্ড ট্রিপ ও নিবন্ধিত বহিরাঙ্গন কার্যক্রম বাতিল, স্থগিত অথবা সম্ভব হলে ইনডোরে স্থানান্তর করা হয়েছে।
তাপপ্রবাহও অব্যাহত: টরন্টোতে এখনও হিট ওয়ার্নিং কার্যকর রয়েছে। বুধবার তাপমাত্রা ৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস, তবে আর্দ্রতার কারণে অনুভূত হতে পারে ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি। আবহাওয়া দপ্তর বলছে, তীব্র গরম ও দাবানলের ধোঁয়া মিলিয়ে স্বাস্থ্যঝুঁকি আরও বেড়ে গেছে।
কানাডা
সম্পর্কিত খবর
বিনিয়োগ চুক্তি নিয়ে সৌদি-কানাডার আলোচনা, খনিজ খাতে বাড়ছে অংশীদারত্ব
ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত ভেনেজুয়েলাকে ৩৫ লাখ ডলার সহায়তা দেবে কানাডা
ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত ভেনেজুয়েলাকে ৩৫ লাখ ডলার সহায়তা দেবে কানাডা
কানাডায় বন্দুক হামলায় হামলাকারীসহ নিহত ৩
সদস্যপদ হারানোর পথে একটি দেশ
কানাডা থেকে আলাদা হওয়া নিয়ে অক্টোবরে আলবার্টায় গণভোট
https://www.linkedin.com/pulse/%25E0%25A6%2587%25E0%25A6%25B7%25E0%25A6%259F%25E0%25A6%25B0%25E0%25A6%25A3-%25E0%25A6%2587%25E0%25A6%25B8%25E0%25A6%25B2%25E0%25A6%25AE%25E0%25A6%2595-%25E0%25A6%25B8%25E0%25A7%259F%25E0%25A6%25A8%25E0%25A6%25B8-%25E0%25A6%259F%25E0%25A6%2595-%25E0%25A6%25A8%25E0%25A6%2589%25E0%25A6%259C-%25E0%25A6%259A%25E0%25A6%25A4%25E0%25A6%25B0%25E0%25A6%25A5-%25E0%25A6%25B8%25E0%25A6%25B8%25E0%25A6%2595%25E0%25A6%25B0%25E0%25A6%25A3-muhammad-sheikh-ramzan-hossain-yct2ফেসবুক অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়া বা পরিচয় যাচাইয়ের জটিলতায় পড়ার ঘটনা নতুন নয়। এমন পরিস্থিতিতে ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে ‘ভেরিফিকেশন সেলফি’ নামে একটি ফিচার আছে ফেসবুকে। এটি অ্যাকাউন্টের প্রকৃত মালিকানা নিশ্চিত করতে সহায়তা করে এবং সন্দেহজনক কার্যক্রম শনাক্ত করতেও ভূমিকা রাখে।
ফেসবুক ব্যবহারকারীদের অ্যাকাউন্ট নিরাপদ রাখতে বিভিন্ন ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো ‘ভেরিফিকেশন সেলফি’। এই ফিচার ব্যবহার করলে প্রয়োজনে ফেসবুক আপনার পরিচয় যাচাই করতে পারে, ফলে অ্যাকাউন্ট পুনরুদ্ধার বা মালিকানা নিশ্চিত করার প্রক্রিয়া সহজ হতে পারে।
যেভাবে চালু করবেনhttps://www.youtube.com/watch?v=R1h_PTBXbUY
ফেসবুক হেল্প সেন্টার থেকে জানা যায়, ফিচারটি চালু করতে প্রথমে ফেসবুক অ্যাপে প্রবেশ করে ওপরের ডান পাশে থাকা থ্রি-লাইন মেনুতে যেতে হবে। এরপর Settings & Privacy থেকে Settings নির্বাচন করে Accounts Center-এ প্রবেশ করুন।
এরপর Password and Security অপশনে গিয়ে Verification Selfie নির্বাচন করুন এবং সংশ্লিষ্ট ফেসবুক অ্যাকাউন্ট বেছে নিন।
পরবর্তী ধাপে Next বাটনে চাপলে অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যুক্ত ই-মেইলে একটি ভেরিফিকেশন কোড পাঠানো হবে। কোডটি প্রবেশ করার পর আবার Next নির্বাচন করে Start Selfie অপশনে ক্লিক করতে হবে।
https://www.linkedin.com/pulse/%25E0%25A6%2587%25E0%25A6%25B7%25E0%25A6%259F%25E0%25A6%25B0%25E0%25A6%25A3-%25E0%25A6%2587%25E0%25A6%25B8%25E0%25A6%25B2%25E0%25A6%25AE%25E0%25A6%2595-%25E0%25A6%25B8%25E0%25A7%259F%25E0%25A6%25A8%25E0%25A6%25B8-%25E0%25A6%259F%25E0%25A6%2595-%25E0%25A6%25A8%25E0%25A6%2589%25E0%25A6%259C-%25E0%25A7%25AB%25E0%25A6%25AE-%25E0%25A6%25B8%25E0%25A6%25B8%25E0%25A6%2595%25E0%25A6%25B0%25E0%25A6%25A3-muhammad-sheikh-ramzan-hossain-yfkec/ ৫ম সংস্করণ
আরও পড়ুন
গুগল থেকে অবসরের ঘোষণা ইন্টারনেটের জনক ভিন্ট সার্ফের
গুগল থেকে অবসরের ঘোষণা ইন্টারনেটের জনক ভিন্ট সার্ফের
এরপর মোবাইল ক্যামেরা ব্যবহারের অনুমতি দিলে স্ক্রিনে দেখানো নির্দেশনা অনুযায়ী মুখের সেলফি ভেরিফিকেশন সম্পন্ন করতে হবে। প্রয়োজনে মাথা নাড়ানো, ডানে-বামে তাকানো বা চোখের দৃষ্টি পরিবর্তনের মতো নির্দেশনা অনুসরণ করতে হতে পারে। ভেরিফিকেশন সফল হলে ফিচারটি সক্রিয় হয়ে যাবে।
তবে শুধু এই ফিচার চালু করলেই অ্যাকাউন্ট শতভাগ নিরাপদ থাকবে বা কখনোই হ্যাক হবে না এমন নিশ্চয়তা নেই। নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে শক্তিশালী ও ইউনিক পাসওয়ার্ড ব্যবহার, টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন চালু রাখা, অপরিচিত লিংকে ক্লিক না করা, নিয়মিত লগইন কার্যক্রম পরীক্ষা করা এবং ই-মেইল ও ফোন নম্বর হালনাগাদ রাখার পরামর্শ দিয়েছেন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা।c
ইতালিতে একই পরিবারের ৩ বাংলাদেশিকে ছুরিকাঘাতে হত্যা, আহত ছেলেইতালির রাজধানী রোমে নিজ বাসায় দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে নারী ও শিশুসহ একই পরিবারের তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন পরিবারের আরও এক সদস্য। নিহতদের বাড়ি নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায়।শুক্রবার (২৬ জুন) স্থানীয় সময় রাতে রোমের পাশ্ববর্তী ক্যাসালোত্তি এলাকার ভিয়া মন্তিলিওর একটি অ্যাপার্টমেন্টে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরকাঁকড়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা সিরাজুল ইসলামের ছেলে কামাল উদ্দিন বাবুল (৪০), তার স্ত্রী আরজু বেগম (৩৮) এবং পাঁচ বছর বয়সি মেয়ে আরোয়া ইসলাম আরিশা। এ ঘটনায় তাদের ২০ বছর বয়সি ছেলে আমির হোসেন অয়ন আহত হন। তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় জেমেলি পলিক্লিনিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ইতালিপ্রবাসীদের বরাত দিয়ে নিহত বাবুলের ভাতিজা আফনান হোসেন নাইম জানান, স্থানীয় সময় রাত আনুমানিক ৮টার দিকে কয়েকজন দুর্বৃত্ত বাবুলের ফ্ল্যাটে প্রবেশ করে। তারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে বাবুল, তার স্ত্রী ও শিশুকন্যার ওপর হামলা চালায়।
ঘটনার সময় বাইরে থাকা ছেলে আমির হোসেন অয়ন বাসায় ফিরে রুমে প্রবেশের চেষ্টা করলে বিষয়টি টের পান। এ সময় পালিয়ে যাওয়ার সময় দুর্বৃত্তরা তাকেও ছুরিকাঘাত করে আহত করে।
অয়নের চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা চারজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক বাবুল, তার স্ত্রী ও মেয়েকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত অয়ন বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
https://www.jugantor.com/country-news/1119137
ভারতের অযোধ্যার রাম মন্দিরের দানবাক্স থেকে কোটি কোটি রুপি আত্মসাতের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর নতুন তথ্য সামনে এসেছে। বিশেষ তদন্ত দল (এসআইটি)-এর অন্তর্বর্তী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নগদ অর্থ গণনার দায়িত্বে থাকা কয়েকজন কর্মী পরিকল্পিতভাবে সিসিটিভি ক্যামেরা আড়াল করে এবং চুরি করা টাকা প্রথমে মন্দিরের টয়লেটে লুকিয়ে রেখে পরে বাইরে পাচার করতেন।তদন্তের অগ্রগতির মধ্যেই বৃহস্পতিবার নৈতিক দায় স্বীকার করে রাম মন্দির ট্রাস্টের দুই কর্মকর্তা চম্পত রাই ও অনিল মিশ্র পদত্যাগ করেছেন। এদিকে মামলায় গ্রেফতার আট অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রয়েছে। খবর এনডিটিভি।
তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মন্দিরের দানবাক্স খালি করে ব্যাংকে জমা দেওয়া অর্থের হিসাব পর্যালোচনা করতে গিয়ে প্রথমে অনিয়মের বিষয়টি ট্রাস্টের নজরে আসে। সাধারণত একটি দানবাক্সে ৬ থেকে ৭ লাখ রুপি থাকার কথা থাকলেও কয়েক সপ্তাহ ধরে ৫০০ রুপির নোটের বান্ডিলে ঘাটতি ধরা পড়ে।
এরপর সন্দেহের ভিত্তিতে অর্থ গণনার কক্ষে গোপন ক্যামেরা বসানো হয়। সেই ফুটেজে দেখা যায়, একজন কর্মী ইচ্ছাকৃতভাবে সিসিটিভি ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে দৃশ্য আড়াল করতেন। এ সময় তার সহযোগী নোটের বান্ডিল থেকে টাকা বের করে নিজের পোশাকের মধ্যে লুকিয়ে ফেলতেন।
এসআইটির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, আত্মসাতের আরেকটি কৌশলও ব্যবহার করা হতো। অভিযুক্তরা নোটের বান্ডিলে অতিরিক্ত নোট ঢুকিয়ে রাখতেন। পরে শুধু বান্ডিলের সংখ্যা গুনে ভাউচার তৈরি করা হতো। ব্যাংকে অর্থ পাঠানোর আগে সেই অতিরিক্ত নোট সরিয়ে নেওয়া হতো। ফলে কাগজে-কলমে হিসাব ঠিক থাকলেও বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করা সম্ভব হতো।
তদন্তে আরও জানা গেছে, চুরি করা অর্থ প্রথমে মন্দির চত্বরে থাকা টয়লেটে লুকিয়ে রাখা হতো। পরে সুযোগ বুঝে তা বাইরে নিয়ে যাওয়া হতো এবং অন্য একটি স্থানে ভাগ করে নেওয়া হতো।
সূত্রের দাবি, ২০২৪ সালে মন্দির উদ্বোধনের পর থেকেই এই চক্র সক্রিয় ছিল। এসআইটির অন্তর্বর্তী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের ২৭ এপ্রিল থেকে ৫ জুন পর্যন্ত সিসিটিভি ফুটেজে অন্তত ৭০টি চুরির ঘটনা শনাক্ত হয়েছে।
এ ঘটনায় কয়েকজন ব্যাংক কর্মকর্তার নামও তদন্তে উঠে এসেছে বলে জানা গেছে। পাশাপাশি আরও কয়েকজন সরকারি কর্মচারীর ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
যদিও বিভিন্ন প্রতিবেদনে ৭ থেকে সাড়ে ৭ কোটি রুপি আত্মসাতের দাবি করা হয়েছে, তবে এখনো সরকারি হিসাবে ক্ষতির পরিমাণ জানানো হয়নি। এ পর্যন্ত প্রায় ৭০ লাখ রুপি উদ্ধার করা হয়েছে এবং সেগুলো গণনার কাজ চলছে। তদন্তকারীদের ধারণা, উদ্ধার হওয়া অর্থের পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।
এসআইটির প্রতিবেদনে আট অভিযুক্তের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন নগদ অর্থ গণনার দায়িত্বে থাকা অবিনাশ শুক্লা, অনুকল্প মিশ্র, লাভকুশ মিশ্র, মনীশ কুমার যাদব, করুণেশ পান্ডে, রামাশঙ্কর মিশ্র, সুভাষ শ্রীবাস্তব এবং রামশঙ্কর যাদব ওরফে তিন্নু যাদব।
তদন্তে উঠে এসেছে, অভিযুক্তদের অনেকেই সুপারিশের মাধ্যমে চাকরি পেয়েছিলেন। যেমন, ট্রাস্টের প্রশাসনিক কর্মী ও চম্পত রায়ের সাবেক চালক তিন্নু যাদব তার চাচাতো ভাই মনীশ যাদবকে অর্থ গণনার দলে নিয়োগ করান। একইভাবে অনুকল্প মিশ্র তার ভগ্নিপতি লাভকুশ মিশ্রকেও একই দলে যুক্ত করেন।
এসআইটি আরও জানিয়েছে, দায়িত্ব শেষে কর্মীদের শরীর তল্লাশি না করায় নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড় ধরনের গাফিলতি ছিল। এই সুযোগেই তারা দানবাক্স খোলার কক্ষ থেকেই নিয়মিত টাকা ও মূল্যবান সামগ্রী চুরি করতেন।
তদন্তে আরও অভিযোগ উঠেছে, অবিনাশ শুক্লা চুরি করা অর্থ নিজের ব্যাংক হিসাবে জমা দিতেন। শুধু নগদ অর্থই নয়, ভক্তদের দান করা স্বর্ণালংকারও আত্মসাৎ করা হয়েছে। এর মধ্যে কানের দুল, নাকফুল, চুড়ি, রামলালার জন্য উৎসর্গ করা গয়না এবং নূপুরও ছিল।
এসআইটির প্রতিবেদনে তিন্নু যাদব ও সুভাষ শ্রীবাস্তবকে পুরো চক্রের মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, অর্থ আত্মসাতের পরিকল্পনা তৈরি থেকে শুরু করে বাস্তবায়ন পর্যন্ত এই দুজনের ভূমিকাই ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে সুভাষ শ্রীবাস্তব অন্যদের দলে ভেড়ানো এবং অর্থ গণনার দায়িত্ব বণ্টনের কাজ দেখতেন।
এ ছাড়া গত তিন বছরের অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা পর্যালোচনায় দানবাক্সের সংখ্যা ও হিসাবের মধ্যে অসঙ্গতি, অপর্যাপ্ত সিসিটিভি নজরদারি, অর্থ গণনার রেকর্ড সংরক্ষণে দুর্বলতা এবং তদারকির ক্ষেত্রে জবাবদিহির অভাবের বিষয়ও চিহ্নিত করেছে এসআইটি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব সমস্যা আগেই শনাক্ত হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে নিরাপত্তা প্রোটোকল কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ ছিল এবং নিয়ম মেনে চলা ছিল কেবল আনুষ্ঠানিকতা।
উলেখ্য, ১৯৯২ সালে কট্টরপন্থী হিন্দুত্ববাদীদের দ্বারা কয়েক শতাব্দী পুরোনো বাবরি মসজিদ ধ্বংসের পর সুপ্রিম কোর্টের রায়ে সেখানে এই রাম মন্দির নির্মাণ করা হয়। মসজিদ ভাঙার এই ঘটনা ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপিকে রাজনৈতিকভাবে অপ্রতিদ্বন্দ্বী করে তুলতে বড় ভূমিকা রেখেছিল। তবে উদ্বোধনের মাত্র কয়েক বছরের মাথায় এই বড় ধরনের দুর্নীতি সামনে আসল। 4th Rrvision
যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ ইরান-সংশ্লিষ্ট একটি ৬০ দিনের সাধারণ লাইসেন্স জারি করেছে। যার আওতায় আগামী ২১ আগস্ট পর্যন্ত ইরানি উৎসের অপরিশোধিত তেল, পতীব্র তাপপ্রবাহে বিপর্যস্ত ইউরোপ, ১৮ জনের মৃত্যুেট্রোকেমিক্যাল মৃতদের মধ্যে দক্ষিণ-পূর্ব ফ্রান্সে একটি উত্তপ্ত গাড়ির ভেতর আটকে থাকা দুই শিশুও রয়েছে। কারপেনত্রাস শহরের একজন প্রসিকিউটর জানিয়েছেন, দক্ষিণ-পূর্ব ফ্রান্সের একটি বাড়ির সামনে পার্ক করা পারিবারিক গাড়ির ভেতর থেকে দুই ও চার বছর বয়সি দুই শিশুকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করেন তাদের মা। তবে উদ্ধারকর্মীরা শত চেষ্টা করেও তাদের বাঁচাতে পারেননি। লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কলেজের চরম আবহাওয়া ও জলবায়ু গবেষক ক্লেয়ার বার্নস জানিয়েছেন, এই প্রক্রিয়ার কারণে উত্তর আফ্রিকা ও সাহারা মরুভূমি থেকে তীব্র গরম বাতাস ইউরোপের দিকে ধেয়ে আসছে। বাতাস ও বাতাসের গতিপ্রবাহ না থাকায় এই অসহ্য গরম দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে, যা জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ইউরোপ বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি গতিতে উত্তপ্ত হচ্ছে।
তীব্র এই গরমে ফ্রান্সের বর্দো অঞ্চলে তাপমাত্রা ৪১.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছায়, যা গত আগস্টের রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে। দেশটির শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে অথবা ক্লাসের সময়সূচিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। রাজধানী প্যারিসেও জুনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৮.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
শুধু ফ্রান্স নয়, স্পেনের অপেক্ষাকৃত শীতল উত্তরাঞ্চলীয় শহর সান সেবাস্তিয়ানেও তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছাবে বলে আবহাওয়া পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, যা জুনের স্বাভাবিক গড় তাপমাত্রার চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি। পরিস্থিতি বিবেচনায় স্পেনের শ্রম মন্ত্রণালয় তীব্র গরমে কর্মীদের কাজের সময় কমানো বা সমন্বয় করার আইনগুলো কোম্পানিগুলো মেনে চলছে কিনা তা পর্যবেক্ষণ করছে।এদিকে ইতালির ১২টি শহরে সোমবার রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। তুরিন শহরে বিদ্যুৎ গ্রিডের ওপর অতিরিক্ত চাপের কারণে সৃষ্ট বিদ্যুৎ বিভ্রাট সামাল দিতে জরুরি জেনারেটর যুক্ত করা হয়েছে এবং কর্মীদের শিফট দ্বিগুণ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ব্রিটেনের আবহাওয়া অফিস সতর্ক করেছে যে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের কিছু অংশে তাপমাত্রা ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যেতে পারে, যা ১৯৫৭ সালের জুনের রেকর্ডকে অনায়াসেই ভেঙে দেবে।
এই চরম আবহাওয়ার প্রভাব মানুষের পাশাপাশি বন্যপ্রাণীদের ওপরও মারাত্মকভাবে পড়েছে। বেলজিয়ামের একটি বন্যপ্রাণী পুনর্বাসন কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা রোমেন দে জেগেরে জানান, ভবনের ছাদে তাপমাত্রা ৫০ থেকে ৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছানোর কারণে সেখানে বাসা বেঁধে থাকা সোয়ালো বা চড়ুইয়ের মতো পাখিরা আক্ষরিক অর্থেই বাসার ভেতর সেদ্ধ হয়ে মারা যাচ্ছে। প্রাণ বাঁচাতে অনেক পাখি ছাদ থেকে নিচে ঝাঁপিয়ে পড়ছে। গত তিন দিনে তাদের আশ্রয়কেন্দ্রে এমন ১৫০টি বিপন্ন পাখি ও প্রাণী নিয়ে আসা হয়েছে।
সূত্র: সিবিসি নিউজ।
এছাড়া বর্দো অঞ্চলে তীব্র গরমের কারণে স্বাস্থ্যগত জটিলতায় ভুগে ৮০ থেকে ৯৫ বছর বয়সি তিন প্রবীণ নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। শুধু তাই নয়, গরম থেকে একটু স্বস্তি পেতে নদী বা জলাশয়ে নামার পর রোববার (২১ জুন) থেকে সোমবারের মধ্যে অন্তত ১৩ জনের ডুবে মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। ফরাসি নাগরিক নিরাপত্তা সেবার মুখপাত্র জেরোম বোলাঞ্জার সবাইকে কেবল নজরদারি রয়েছে এমন নিরাপদ স্থানেই সাঁতার কাটার আহ্বান জানিয়েছেন।বর্তমানে পশ্চিম ও মধ্য ইউরোপের একটি বড় অংশ একটি ‘হিট ডোম’ বা তাপ বলয়ের নিচে ঢাকা পড়ে রয়েছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, এই বিশেষ আবহাওয়া পরিস্থিতিটি ‘ওমেগা ব্লক’ নামে পরিচিত, যা গ্রিক অক্ষর ওমেগার মতো আকার ধারণ করে মাঝখানে গরম বাতাস ধরে রাখে।ও অন্যান্য পেট্রোলিয়াম পণ্যের উৎপাদন, সরবরাহ এবং বিক্রির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।খেলা শেষে ড্রেসিংরুমে নোট রেখে গেল ইরান, কী লেখা আছে তাতে?বিশ্বকাপের মাঠে শুধু গোল আর জয়ের গল্পই নয়, থাকে আবেগ, কৃতজ্ঞতা আর লড়াইয়ের আখ্যান। যুক্তরাষ্ট্রের সেচ্ছ্বাচারিতা, ফিফার দ্বিচারিতা আর নানা শঙ্কা-সংশয় পেরিয়ে চোখে-চোখ রেখে লড়েছে ইরান। নিজেদের ছাপও রেখে গেছেন। ছোট্ট চিরকুটে বার্তাও দিয়েছেন মেহদি তারেমিরা।বেলজিয়ামের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করে নকআউট পর্বে যাওয়ার আশা টিকিয়ে রেখেছে ইরান। তবে বিশ্বকাপ শেষ হয়ে যাওয়ার সংশয়ও আছে। লস অ্যাঞ্জেলেসের সোফাই স্টেডিয়ামের ড্রেসিংরুমে তাই ইরান রেখে গেছে এক হৃদয়ছোঁয়া বার্তা।
ইরান ফুটবল ফেডারেশনের প্রকাশিত হাতে লেখা সেই বার্তায় লেখা ছিল— ‘হাজার বছরের প্রাচীন পারস্য থেকে আজকের সভ্য ইরান পর্যন্ত, ইরানের চেতনা জীবিত ও অটল। লস অ্যাঞ্জেলেসকে আতিথেয়তার জন্য ধন্যবাদ। আমরা লস অ্যাঞ্জেলেসে গর্ব নিয়ে এসেছিলাম, সম্মানের সঙ্গে খেলেছি এবং মর্যাদা নিয়ে বিদায় নিচ্ছি।’বার্তায় ইরানি সমর্থকদেরও ধন্যবাদ জানানো হয়, যারা দলের জন্য ‘হৃদয়, কণ্ঠ এবং আত্মা’ উৎসর্গ করেছেন। শেষে সব দেশের মধ্যে শান্তি, সম্মান এবং বন্ধুত্বের আহ্বান জানানো হয়।
লস অ্যাঞ্জেলেসে ইরান তাদের গ্রুপের দুটি ম্যাচই খেলেছে। টুর্নামেন্ট চলাকালীন ইরান দল মূলত মেক্সিকোর তিজুয়ানায় আছেন। সেখান থেকে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে ম্যাচ খেলছে। কারণ তাদের যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান ও ভ্রমণ নিয়ে বিভিন্ন বিধিনিষেধ রয়েছে। পাশাপাশি দলের কয়েকজন স্টাফ ও কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞাও আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দলের ভ্রমণ ব্যবস্থা নিয়মিতভাবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে এবং কিছু বিধিনিষেধ শিথিল করার বিষয়ে আলোচনা চলছে।
ইরানের কোচ আমির গালেনোয়ি বারবার এই ভ্রমণ-সংক্রান্ত বিধিনিষেধের সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন ইরানক এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে যা অন্য কোনো দলকে করতে হয়নি।https://www.linkedin.com/pulse/%25E0%25A6%2587%25E0%25A6%25B7%25E0%25A6%259F%25E0%25A6%25B0%25E0%25A6%25A3-%25E0%25A6%2587%25E0%25A6%25B8%25E0%25A6%25B2%25E0%25A6%25AE%25E0%25A6%2595-%25E0%25A6%25B8%25E0%25A7%259F%25E0%25A6%25A8%25E0%25A6%25B8-%25E0%25A6%259F%25E0%25A6%2595-%25E0%25A6%25A8%25E0%25A6%2589%25E0%25A6%259C-%25E0%25A6%259A%25E0%25A6%25A4%25E0%25A6%25B0%25E0%25A6%25A5-%25E0%25A6%25B8%25E0%25A6%25B8%25E0%25A6%2595%25E0%25A6%25B0%25E0%25A6%25A3-muhammad-sheikh-ramzan-hossain-yct2c
4th Rrvision
তবে ইরানের এখনও নকআউট পর্বে যাওয়ার আশা আছে। তারা তাদের শেষ গ্রুপ ম্যাচ খেলবে সিয়াটলে, মিশরের বিপক্ষে। ওই ম্যাচের ফলের ওপর নির্ভর করবে ইরান আসলেই কি বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিচ্ছে নাকি থাকছhttps://www.jugantor.com/sports/1117169ে।ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, ইরানের তেলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিদেশে আটকে থাকা তেহরানের বিপুল বাজেয়াপ্ত সম্পদের একাংশও ছাড় করা হয়েছে। লেবানন যুদ্ধ অবসানে বড় অগ্রগতি হয়েছে বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি।রোববার (২১ জুন) সুইজারল্যান্ডের স্টান্সস্ট্যাডের কাছে লুসার্ন হ্রদের তীরে অবস্থিত বুর্গেনস্টক রিসোর্টে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে অনুষ্ঠিত শীর্ষ বৈঠক শেষে তিনি এসব কথা বলেন।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ইরানের জন্য একটি বড় পুনর্গঠন ও উন্নয়ন পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।’ তবে এই বাজেয়াপ্ত সম্পদের পরিমাণ ও পুনর্গঠন পরিকল্পনার বিস্তারিত কিছুই বলা হয়নি ওই পোস্টে। এ বিষয়ে এখনো মন্তব্য করেনি হোয়াইট হাউস।মার্কিন প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক যোগাযোগের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সোমবারের (২২ জুন) ট্রেজারি বিভাগের ঘোষণায় বলা হয়েছে, নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে ইরানি তেল ও জ্বালানি পণ্য নিয়ে লেনদেনের ক্ষেত্রে এই সাধারণ লাইসেন্স কার্যকর থাকবে।
এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি সচিব স্কট বেসেন্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে জানান, সুইজারল্যান্ডে চলমান ফলপ্রসূ আলোচনার ধারাবাহিকতায় ইরান কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে অবাধ ও উন্মুক্ত জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করা এবং আইএইএ-এর পরিদর্শকদের দেশটিতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া।
স্কট বেসেন্ট বলেন, সুইজারল্যান্ডে চলমান গঠনমূলক আলোচনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ইরান হরমুজ প্রণালিতে অবাধ নৌপরিবহন নিশ্চিত করতে এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার পরিদর্শকদের প্রবেশাধিকার দিতে সম্মত হয়েছে। তিনি ইঙ্গিত দেন, এই অগ্রগতির প্রেক্ষাপটেই যুক্তরাষ্ট্র সাময়িকভাবে ইরানের তেল ও জ্বালানি খাতে কিছু লেনদেনের অনুমোদন দিয়েছে।বিশ্ব জ্বালানি বাজারে ইরান একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল উৎপাদনকারী দেশ। ফলে মার্কিন ট্রেজারির এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক তেলবাজার, আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং ইরানের সঙ্গে পশ্চিমা বিশ্বের সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। ২১ আগস্ট পর্যন্ত কার্যকর এই লাইসেন্সের মেয়াদ শেষে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
সূত্র: আল-জাজিরা।https://www.jugantor.com/economics/1117265
এর আগে ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম ফারস নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানি প্রতিনিধি দলের অর্থনীতিবিষয়ক বিশেষজ্ঞ হোসেইন গোরবানজাদেহ জানিয়েছেন, ইরানের তেল ও তেলজাত পণ্যের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় সাময়িক ছাড় দেওয়ার খসড়া চুক্তি ইতোমধ্যেই চূড়ান্ত হয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি তার এক্স হ্যান্ডেলে দেওয়া পোস্টে আরও লিখেছেন, পাকিস্তানি ও কাতারি মধ্যস্থতাকারীদের দৌত্যে ‘লেবানন যুদ্ধ অবসানের ক্ষেত্রে বড় অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে।’ তিনি বলেন, তাদের সামনে ‘প্রথম প্রকৃত পরীক্ষা’ হতে যাচ্ছে লেবানন ‘ডি-কনফ্লিকশন সেল’।মধ্যস্থতাকারী কাতার ও পাকিস্তান বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান এই সেল গঠনে একমত হয়েছে। লেবাননে সামরিক অভিযানের অবসান ঘটাতে এটি বড় ভূমিকা রাখবে। দেশ দুটি এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছে, সদ্য সমাপ্ত আলোচনাটি ‘ইতিবাচক ও গঠনমূলক পরিবেশে’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে ‘আশাব্যঞ্জক অগ্রগতিও’ হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ‘মধ্যস্থতার ওপর রাজনৈতিক নজরদারি’ অটুট রাখতে একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি (গঠনে রাজি হয়েছে ওয়াশিংটন ও তেহরান। প্রধান আলোচকরা নিয়মিত এই কমিটিকে রিপোর্ট করবেন। পারমাণবিক ইস্যু, নিষেধাজ্ঞা ও সমঝোতা স্মারকের কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে একটি মনিটরিং ও বিরোধ নিষ্পত্তি গ্রুপ গঠন করা হবে।
বিবৃতি অনুযায়ী, আগামী ৬০ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর রূপরেখায় একমত হয়েছে এই কমিটি। সেই লক্ষ্যে এ সপ্তাহের বাকি দিনগুলোতে সুইজারল্যান্ডে ‘সমস্ত’ অমীমাংসিত ইস্যুতে কারিগরি আলোচনা চলবে।
বিবৃতিতে জানানো হয়, লেবাননে সামরিক অভিযান বন্ধ করতে কাতার ও পাকিস্তানের সহায়তায় লেবাননকে যুক্ত করে একটি ‘ডি-কনফ্লিকশন সেল’ গঠনে সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার উন্মুক্ত ও অবৈধ অভিবাসীদের বৈধ করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীরআল-জাজিরার বিশ্লেষণবাংলাদেশিদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার দ্রুত উন্মুক্ত করতে সে দেশের প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সোমবার (২২ জুন) সকালে পুত্রজায়ায় মালয়েশিয়ায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী এই আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমকে আরও বেশি বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ এবং দ্রুত শ্রমবাজার উন্মুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনার অনুরোধ জানিয়েছি। পাশাপাশি অনিয়মিত শ্রমিকদের বৈধকরণ এবং আটক বাংলাদেশিদের সম্ভাব্য প্রত্যাবাসনের বিষয়টিও উত্থাপন করেছি।’
তিনি বলেন, ‘আমরা একমত হয়েছি যে শ্রমিক নিয়োগ প্রক্রিয়া হতে হবে স্বচ্ছ, ন্যায্য ও সাশ্রয়ী, যাতে মধ্যস্বত্বভোগীদের ভূমিকা কমে এবং শ্রমিকদের ব্যয় হ্রাস পায়।’
দুই দেশের উচ্চ পর্যায়ে বৈঠকের পর মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যৌথ সংবাদ সম্মেলনে আসেন। প্রথমে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বক্তব্য রাখেন। পরে তারেক রহমান দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের বিষয়বস্তু তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন।
দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় এই বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মালয়েশিয়ার প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে দেন আনোয়ার ইব্রাহিম। বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বিভিন্ন বিষয় এবং সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।কোয়ান্টাম মেকানিকস আর আপেক্ষিকতাকে একীভূত করতে পদার্থবিদেরা এখন পর্যন্ত যতবার চেষ্টা করেছেন, ততবারই ব্যর্থ হয়েছেন।
বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলে ছিলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা (অর্থ মন্ত্রণালয় ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়) রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা (প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়) এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। মালয়েশিয়ার প্রতিনিধি দলে ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাতুক সেরি সাইফুদ্দিন নাসুতিওন ইসমাইল, পররাষ্ট্রমন্ত্রী দাতুক সেরি মোহাম্মদ হাসান, মানবসম্পদমন্ত্রী দাতুক সেরি আর রামানান, প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সচিব দাতো’ শাহরোল আনুয়ার বিন সারমান এবং সেক্রেটারি জেনারেল তান শ্রী আমরান মোহাম্মদ জিন।
যৌথ সংবাদ সম্মেলনে শুরুতে প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের প্রতি ধন্যবাদ জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘গত ফেব্রুয়ারিতে আমি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করার পর প্রথম যে শুভেচ্ছা বার্তাগুলোর একটি পেয়েছিলাম, তা ছিল মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের কাছ থেকে। তিনি আমাকে অভিনন্দন জানান এবং মালয়েশিয়া সফরের আমন্ত্রণ জানান।’
তিনি বলেন, তার সেই আন্তরিক আমন্ত্রণ গ্রহণ করতে পেরে আমি সম্মানিত বোধ করছি। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমার প্রথম বিদেশ সফরে আমার স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে মালয়েশিয়ায় আসতে পেরে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত।’
পিতা প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ১৯৭৯ সালে মালয়েশিয়া সফরে কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘সেই সফর দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করেছিল এবং শ্রমবিষয়ক সহযোগিতার ভিত্তি স্থাপন করেছিল।’তিনি বলেন, ‘আমি আমার মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ১৯৯৩ সালের মালয়েশিয়া সফরের কথাও স্মরণ করছি। তার সেই সফর আমাদের বন্ধুত্বকে আরও গভীর করে এবং দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র উন্মোচন করে।’
তিনি আরও বলেন, ‘মালয়েশিয়া বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত ও ঘনিষ্ঠ অংশীদার।’
তারেক রহমান বলেন, ‘পারস্পরিক আস্থা, অভিন্ন মূল্যবোধ এবং জনগণের মধ্যে দৃঢ় সম্পর্কের ভিত্তিতে আমাদের এই বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছে।’
মালয়েশিয়ায় তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা এবং আতিথেয়তা জানানো জন্য প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম, মালয়েশিয়া সরকার ও জনগনের প্রতি ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
তিনি বলেন, ‘আরও একবার মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মালয়েশিয়া সরকার এবং দেশটির জনগণকে তাদের বন্ধুত্ব ও আন্তরিক আতিথেয়তার জন্য ধন্যবাদ জানাই। আমরা মধুর স্মৃতি নিয়ে দেশে ফিরছি।’
‘ফলোপ্রসু আলোচনা হয়েছে’
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘মালয়েশিয়ার মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আমার বিস্তৃত ও ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। আমরা দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে মতবিনিময় করেছি।’
তিনি বলেন, ‘আজ আমরা বাংলাদেশ–মালয়েশিয়া সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছি। যৌথ কমিশন বৈঠক এবং দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় পরামর্শ প্রক্রিয়াসহ বিদ্যমান কাঠামোর মাধ্যমে সম্পৃক্ততা বাড়ানোর বিষয়ে আমরা একমত হয়েছি।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের প্রবৃদ্ধিকে স্বাগত জানিয়েছি এবং বাংলাদেশ–মালয়েশিয়া মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে আলোচনাকে এগিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
‘দুই দেশের সম্পর্কে নতুন অধ্যায়ের সূচনা’
বৈঠকে সংস্কৃতি বিষয়ক সমঝোতা স্মারকসহ সন্ত্রাসবাদ দমন বিষয়ে গবেষণা ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহযোগিতা সংক্রান্ত একটি দলিল এবং বিনিয়োগ সংক্রান্ত একটি দ্বিপাক্ষিক দলিল বিনিময় হওয়ায় স্বাগত জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এসব উদ্যোগ আমাদের সহযোগিতাকে আরও সুদৃঢ় করবে এবং সম্পর্কের ইতিবাচক গতিধারা বজায় রাখতে সহায়তা করবে।’
তিনি বলেন, ‘আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আজকের আলোচনা বাংলাদেশ–মালয়েশিয়া সম্পর্কের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে। আমরা যৌথ সমৃদ্ধি, আঞ্চলিক শান্তি এবং আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে একসঙ্গে কাজ করার প্রত্যাশা করছি।’
এ বৈঠকের পর দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে সংস্কৃতি বিষয়ক একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এ ছাড়া সন্ত্রাসবাদ দমন বিষয়ে গবেষণা ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহযোগিতা সংক্রান্ত একটি দলিল এবং বিনিয়োগ সংক্রান্ত একটি দ্বিপাক্ষিক দলিল বিনিময় করা হয়। দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীগণ দলিল দুটি বিনিময় করেন।
এরপর দু’দেশের সরকার প্রধানমন্ত্রী একটি যৌথ সংবাদ সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন।
‘মালয়েশিয়ার ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) জনগণের কাছ থেকে শক্তিশালী জনসমর্থন পেয়েছে। জনগণের বিপুল সমর্থনের ভিত্তিতে আমরা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছি। আমাদের অগ্রাধিকার হলো কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা।আমরা একটি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলছি এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করছি।’
তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, বাংলাদেশে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে এবং আমি মালয়েশিয়ার ব্যবসায়ীদের এসব সুযোগ কাজে লাগানোর আন্তরিক আহ্বান জানাচ্ছি।’
দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের আলোচনা ‘তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি), জ্বালানি, অবকাঠামো, জনশক্তি, হালাল শিল্প, কৃষিভিত্তিক প্রক্রিয়াজাতকরণ, শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, প্রতিরক্ষা, ডিজিটাল অর্থনীতি, সেমিকন্ডাক্টর এবং অন্যান্য উচ্চমূল্য সংযোজন খাত অন্তর্ভুক্ত ছিল বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত বাংলাদেশি শ্রমিক, শিক্ষার্থী, পেশাজীবী এবং উদ্যোক্তারা দুই দেশের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করছেন। তাদের অবদান উভয় দেশের অর্থনীতি ও সমাজের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।’
‘রোহিঙ্গা সমস্যা প্রসঙ্গে’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর দুর্দশা নিয়ে আমি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি এবং তাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের বিষয়ে মালয়েশিয়ার ধারাবাহিক সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’
‘বাংলাদেশ আসিয়ানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক চায়’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আঞ্চলিক সহযোগিতার বিষয়েও আলোচনা করেছি। বাংলাদেশ আসিয়ানের (ASEAN) সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ সম্পৃক্ততা চায় এবং আসিয়ানের সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার হওয়ার প্রত্যাশা করে।’
‘একই সঙ্গে আমরা আঞ্চলিক সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব (আরসিইপি)-এ যোগদানে আগ্রহী। বাংলাদেশের আঞ্চলিক সংযুক্তি প্রচেষ্টায় মালয়েশিয়ার সমর্থনের জন্য আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।’
বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন বৈশ্বিক বিষয় নিয়েও মতবিনিময় হয়েছে জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা জাতিসংঘ এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থায় একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছি।’
‘জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতিত্বের জন্য বাংলাদেশের প্রার্থিতাকে সমর্থন করায় মালয়েশিয়াকে ধন্যবাদ জানাই। পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে আমাদের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আমরা আশাবাদী।’
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম এবং তার সহধর্মিণীকে সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।’
‘বাংলাদেশের জনগণ তাদের স্বাগত জানাতে গর্ববোধ করবে।’
ইসরাইলকে একঘরে করতে ইরানের নতুন চাল
লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরাইলের চলমান হামলাকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হচ্ছে। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, এই সংঘাতময় পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে তেহরান মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইলের মধ্যকার দীর্ঘদিনের অবিচ্ছেদ্য জোটে ফাটল ধরানোর চেষ্টা করছে। এই দুই পরম মিত্র দেশের মধ্যে দূরত্ব তৈরি করতে ইরান লেবানন পরিস্থিতিকে একটি কৌশলগত হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা।
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক উলফগ্যাং পুশতাই আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ইরান বর্তমানে লেবাননকে একটি মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করছে যাতে ইসরাইলের বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সরকার এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যকার ফাটলকে আরও চওড়া করা যায়।
আপাতদৃষ্টিতে তেহরানের উদ্দেশ্য দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি আগ্রাসন বন্ধ করা বলে মনে হলেও, বাস্তবতা ভিন্ন। তেহরান, বৈরুত, হিজবুল্লাহ এবং খোদ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও জানেন যে ইসরাইলি আক্রমণ পুরোপুরি বন্ধ করা এই মুহূর্তে খুব একটা বাস্তবসম্মত নয়। কারণ নিজেদের ওপর আঘাত এলে ইসরাইল অবশ্যই তার পাল্টা জবাব দেবে।বিশ্লেষণ অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ও যুদ্ধবিরতির উদ্যোগকে বাধাগ্রস্ত না করতে ইসরাইলিরা সাময়িকভাবে কিছুটা শান্ত থাকতে পারে। তবে যেকোনো উসকানি বা হামলার মুখে তারা নিজেদের সুরক্ষায় প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা নিতে দ্বিধা করবে না। এই জটিল পরিস্থিতিকে ওয়াশিংটন এবং তেল আবিবের মধ্যকার সম্পর্ককে দুর্বল করার একটি বিশাল সুযোগ হিসেবে দেখছে ইরান। এই মুহূর্তে তেহরানের প্রধান লক্ষ্য হলো এই দুই দেশের দীর্ঘদিনের সামরিক ও রাজনৈতিক জোটে চির ধরানো, এবং এই উদ্দেশ্যেই তারা তাদের বর্তমান কৌশলগুলো পরিচালনা করছে।
ইরানের সঙ্গে সাম্প্রতিক অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তি নিয়ে তৈরি হওয়া সমালোচনার কড়া জবাব দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক বার্তায় তিনি দাবি করেছেন, এই চুক্তির জন্য যুক্তরাষ্ট্র নয়, বরং ইরানই চরম মরিয়া ও হতাশাজনক পরিস্থিতিতে ছিল।
সমালোচকদের উদ্দেশ্য করে ট্রাম্প তার পোস্টে লেখেন, আমরা কোনো হতাশা থেকে আলোচনায় বসিনি, ইরানই চরম নিরুপায় হয়ে আমাদের কাছে এসেছিল। ইরানের বর্তমান অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি ইঙ্গিত করে তিনি বেশ জোরালো ভাষায় যোগ করেন, ওরা পুরোপুরি শেষ!
চুক্তির পরবর্তী ধাপের বিষয়ে আলোকপাত করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান, সমঝোতা স্মারকে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য যে ৬০ দিনের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র সেই অনুযায়ীই এগোবে। তিনি বলেন, আমরা এই ৬০ দিনের সময়সীমা পুরোপুরি কাজে লাগাব।
রফিকুল ইসলাম জামাল বলেন, এ দলটি ১৯৭১ সালে এ দেশের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে ছিল। যে দলটি বাংলাদেশের সৃষ্টির বিরুদ্ধে ছিল, আমি মহান সংসদে দাবি করব— তারা বাংলাদেশের রাজনীতি করতে পারবে না, তাদের রাজনীতিও ফ্যাসিস্টদের মতো নিষিদ্ধ করা হোক।
এই নেতা বলেন, আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছিলেন- নামের পরে ইসলাম থাকলেই ইসলাম হয় না। যারা ধর্মের নামে রাজনীতি করেন, গত নির্বাচনে তারা ভোটের বিনিময়ে মানুষকে বেহেশত দিয়েছেন। আমরা দেখেছি, বিড়ির সুখ টানের মধ্য দিয়েও তারা বলেছিল—সকল পাপ মওকুফ হয়ে যাবে। এইভাবে একের পর এক বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়ে যারা ইসলামের নামে রাজনীতি করছে, এ দলটি ১৯৭১ সালে এ দেশের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে ছিল। যে দলটি বাংলাদেশের সৃষ্টির বিরুদ্ধে ছিল, আমি মহান সংসদে দাবি করব— তারা বাংলাদেশে রাজনীতি করতে পারবে না, তাদের রাজনীতিও ফ্যাসিস্টদের মতো নিষিদ্ধ করা হোক।
ঝালকাঠি-১ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম জামাল বিরোধী দল জামায়াতের নাম উল্লেখ না করে ফ্যাসিস্টদের মতো দলটির রাজনীতি নিষিদ্ধ চেয়েছেন। সোমবার (২২ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।https://www.jugantor.com/politics/1117258?utm_source=izooto&utm_medium=push_notifications
আরও পড়ুন
হিজবুল্লাহর হামলায় ইসরাইলি কমান্ডারসহ ৪ সেনা নিহত
হিজবুল্লাহর হামলায় ইসরাইলি কমান্ডারসহ ৪ সেনা নিহত
একই সাথে ইরানকে কোনো ধরণের আর্থিক ছাড় দেওয়া হচ্ছে না উল্লেখ করে ট্রাম্প সাফ জানিয়ে দেন, তারা কোনো অর্থ পাচ্ছে না, এমনকি ১০ সেন্টও নয়! তার এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি স্পষ্ট করে দিলেন যে চূড়ান্ত চুক্তি সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত ইরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা বা আর্থিক কড়াকড়ি শিথিল করার কোনো সম্ভাবনা নেই।
সূত্র: আল-জাজিরাসমঝোতা চুক্তি ইরানের আগ্রহ নয়, মার্কিন মরিয়াভাবের ফসল: খামেনিযুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্প্রতি একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মুজতবা খামেনি। তবে এই চুক্তি নিয়ে মার্কিন প্রশাসনকে খোঁচা দিতেও ছাড়েননি তিনি। এক বার্তায় তিনি দাবি করেছেন, ইরানের কোনো আগ্রহ নয় বরং আমেরিকার চরম মরিয়াভাবই এই চুক্তি স্বাক্ষরের পেছনে মূল কারণ হিসেবে কাজ করেছে।
খামেনি লিখেছেন, ‘আপনারা ইতোপূর্বেই অবগত হয়েছেন যে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপ্রধানদের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।’
তিনি উল্লেখ করেন, ইরানি কর্মকর্তারা অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে এই পর্যায়ে পৌঁছানোর জন্য কাজ করলেও, মার্কিন পক্ষই এর জন্য সবচেয়ে বেশি চাপ সৃষ্টি করেছিল। সর্বোচ্চ নেতার ভাষায়, ‘যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টই মূলত নিরুপায় হয়ে এই চুক্তি সম্পন্ন করতে সব ধরনের কৌশল ও সুযোগ ব্যবহার করেছেন।’
এই চুক্তির বিষয়ে নিজের ব্যক্তিগত আপত্তির কথা প্রকাশ করে আয়াতুল্লাহ খামেনি বলেন, ‘নীতিগতভাবে আমার দৃষ্টিভঙ্গি ভিন্ন ছিল।’ তবে ইরানের প্রেসিডেন্ট দেশের জনগণের অধিকার এবং ‘প্রতিরোধ ফ্রন্ট’-এর স্বার্থ রক্ষা করার প্রতিশ্রুতি দেওয়ায় তিনি এই চুক্তিতে সম্মতি দিয়েছেন বলে জানান।
তিনি মার্কিন প্রশাসনকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, চুক্তির বাইরে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্র যদি অতিরিক্ত কোনো দাবি চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে, তবে ইরান তা কখনোই মেনে নেবে না। দেশবাসীকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে তিনি নিজেকে ‘এক বিনম্র সেবক’ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং চুক্তির শর্তগুলো বাস্তবায়নের দিকে নজর রাখার কথা বলেন।
রাজকীয় ভোজসভায় ঐতিহাসিক স্বাক্ষর
জি-৭ শীর্ষ সম্মেলন শেষে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর আমন্ত্রণে ভার্সাই প্রাসাদে আয়োজিত এক নৈশভোজে এই সমঝোতা স্মারকটি স্বাক্ষরিত হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার)-এ ফরাসি প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ এই ঐতিহাসিক ঘটনাটি নিশ্চিত করে একে ‘দীর্ঘস্থায়ী শান্তির পথ সুগমকারী এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করার চাবিকাঠি’ হিসেবে বর্ণনা করেন।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধটি আসলে কেন হয়েছিল?
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকটি ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর হামলা চালানোর ভুল সিদ্ধান্তের রাজনৈতিক, সামরিক ও অর্থনৈতিক পরিণতি তুলে ধরেছে।
মানবিক ক্ষয়ক্ষতি ইতোমধ্যেই স্পষ্ট। ইরান ও লেবাননে হাজারো মানুষ নিহত হয়েছে, যাদের মধ্যে অনেকেই বেসামরিক।
যুক্তরাষ্ট্র এবং পরোক্ষভাবে ইসরাইলও একটি কৌশলগত পরাজয়ের মুখে পড়েছে।
তেহরানের শাসনব্যবস্থা তাদের সবচেয়ে খারাপ আশঙ্কার মুখোমুখি হয়েছিল– বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী দেশ যুক্তরাষ্ট্র এবং মধ্যপ্রাচ্যের পরাশক্তি ইসরাইলের যৌথ সামরিক অভিযানে তাদের দুর্বল বা ধ্বংস করার প্রচেষ্টা।
কিন্তু এই শাসনব্যবস্থা শুধু টিকেই থাকেনি বরং আরও শক্তিশালী হয়েছে।
বিশ্ব অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ তেল ও গ্যাসসহ অন্যান্য সরবরাহের এক-পঞ্চমাংশ যে পথ দিয়ে চলাচল করে- সেই হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার কৌশল ট্রাম্পকে এমন কিছু ছাড় দিতে বাধ্য করেছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের ইরানবিরোধী কট্টরপন্থি গোষ্ঠী এবং ইসরাইলি সরকারকে ক্ষুব্ধ ও উদ্বিগ্ন করেছে।
সমঝোতা স্মারকটিতে লেবাননের যুদ্ধ শেষ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। ইসরাইলের মতে, এটি সম্ভব নয়। তারা লেবাননে অবাধ সামরিক স্বাধীনতা চায়, যা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মধ্যে আরও গভীর বিভাজন তৈরি করতে পারে এবং আমেরিকার সঙ্গে কোনো চুক্তির বিরোধী ইরানের কট্টরপন্থিদের অবস্থানকে শক্তিশালী করতে পারে। স্নায়ু যুদ্ধের পর তড়িঘড়ি যে সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্র নিয়েছিল তা থেকে ভুলের অগ্রযাত্রা শুরু হয়েছে। চীন,উত্তর কোরিয়া, ভিয়েতনামের মতো বাম পন্থার কথা ভুলে তারা এমন প্রতিপক্ষ খোঁজার দায়িত্ব মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাকে দায়িত্ব দেওয়া হয় যে প্রতিপক্ষ স্মায়ুযুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষশক্তি ছিল কেবল বামপন্থী বাথ পার্টি প্রধান সাদ্দাম শাসিত ইরাক ব্যতিত। গোয়েন্দা সংস্থা পেরিল রেড এর পরবর্তী প্রতিপক্ষের অনুমান করেছিল পেরিল গ্রীণ (সূত্রঃ অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস)। সেমতে ছক অআঁকা। ১৯৯১ সালে যে যুক্তরাষ্ট্র সাদ্দাম থেকে যে প্রক্রিয়ায় কুয়েত দখল মুক্ত করেছিলেন সে প্রক্রিয়ায় সার্বিয়া থেকে বসনিয়া উদ্ধার থেকে বিরত থাকে যুক্তরাষ্ট্র অথচ তখন একমাত্র পরাশক্তি ছিল যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্র শোশনীয়ভাবে পরাশক্তির শক্তি মত্তা দেখাতে অক্ষম ছিল। কেবল শক্তিতে নয় নৈতিকভাবেও যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইলকে অন্ধ সমর্থন করতে গিয়ে দূর্বল হয়ে পড়ে। অথচ সোভিয়েত ইউনিয়ন পরবর্তী একটি দায়িত্বশীল পরাশক্তি বিশ্ব শান্তির জন্য জরুরী ছিল। ততক্ষণে রাশিয়া পরিণত হয় তৃতীয় পরাশক্তিতে। ফলে সোভিয়েত শব্দ ছাড়াই রাশিয়া স্থলাভিষিক্ত হয় সোভিয়েত ইউনিয়নের। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্র আরও দূর্বল হয়ে পড়ে।
প্রণালি আবার খুলে দেওয়ার বিনিময়ে এই স্মারকে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দর অবরোধ তুলে নেবে, তেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করবে- যার ফলে ইরান বিলিয়ন ডলার আয় করতে পারবে। একইসঙ্গে বিদেশে জব্দ থাকা ইরানের সম্পদ মুক্ত করে আরও বিলিয়ন ডলার ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়াও শুরু করার কথা বলা হয়েছে।
এর পর শুরু হবে পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে কঠিন আলোচনা।
এই সবকিছু ফিরিয়ে নেওয়া হচ্ছে ২৭ ফেব্রুয়ারির অবস্থায়, যেটি ছিল যুদ্ধের আগের দিন। সেই দিন হরমুজ প্রণালি খোলা ছিল এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচকরা পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে আলোচনা করছিলেন।
এই সমঝোতা স্মারকের ফলে আলোচকরা আবার কাজে ফিরবেন এবং জাহাজগুলো হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল করতে পারবে।
সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্টে জো বাইডেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন এক্স-এ লিখেছেন, এই যুদ্ধবিরতির একমাত্র ‘অর্জন’ হলো হরমুজ প্রণালির সম্ভাব্য পুনরায় খোলা- যা যুদ্ধ শুরুর আগেও খোলা ছিল। আর সেটি করতে গিয়েও সম্ভবত আমাদের ইরানকে অর্থ দিতে হবে।
তবে যুদ্ধটি আসলে কেন হয়েছিল— এই প্রশ্নটি অনিবার্য এবং তা দূর হবে না।
এটি এখন পর্যন্ত ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতির সবচেয়ে বড় ভুল হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে। এটি ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের সমাপ্তির সূচনাও হতে পারে। অক্টোবরে নির্বাচনের মুখোমুখি হয়ে তাকে নিরাপত্তা ব্যর্থতার জন্য ভোটারদের জবাবদিহি করতে হবে, যে ব্যর্থতার কারণে ইসরাইলের শক্তিশালী সামরিক ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজা থেকে হামাসের আক্রমণ পরিকল্পনা শনাক্ত করতে ব্যর্থ হয়েছিল।
নেতানিয়াহুর কঠোর সামরিক নীতি ও কূটনীতিকে অবজ্ঞা করার পেছনে অন্তত আংশিক উদ্দেশ্য ছিল নিজেকে ইসরাইলের ‘মিস্টার সিকিউরিটি’ হিসেবে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা।
তেহরান সবসময় হরমুজ প্রণালি বন্ধ করার সম্ভাব্য শক্তি সম্পর্কে সচেতন ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী, কূটনীতিক এবং গোয়েন্দারাও তা জানত।
কিন্তু ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি, যিনি একজন সতর্ক ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত ছিলেন, তিনি প্রণালিটিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের ঝুঁকি নিতে চাননি।
যুদ্ধের শুরুতে ইসরাইল তাকে এবং তার ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টাদের হত্যা করার পর, তার উত্তরসূরিরা সঠিকভাবেই মনে করেছিল যে তারা অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে রয়েছে এবং প্রণালি বন্ধ করতে দ্বিধা করেনি।
ইরান এখন বুঝতে পেরেছে যে বৈশ্বিক অর্থনীতির এই সংকীর্ণ প্রবেশপথ নিয়ন্ত্রণ কতটা শক্তিশালী অস্ত্র। মধ্যপ্রাচ্যে বহু বছর ধরে বিপুল অর্থ ব্যয়ে গড়ে তোলা মিত্র ও প্রতিনিধির নেটওয়ার্কের তুলনায় এটি ব্যবহারে সহজ এবং অনেক সস্তা।
সিরিয়ার আসাদ শাসনব্যবস্থা, ২০২৪ সালের শেষ দিকে যেটির পতন হয়েছে, সেটি ছাড়া ইরানের তথাকথিত ‘প্রতিরোধ অক্ষ’ বা সমর্থনকারী শক্তিগুলো কোনোভাবে এখনো টিকে আছে। তবে ইসরাইলের আঘাতে তা এতটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যে তারা আদৌ কতটা ‘প্রতিরোধ’ করতে পারবে, তা এখন অনিশ্চিত।
ইরান একটি পারমাণবিক কর্মসূচিতে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করেছে, যা তারা অস্ত্র নির্মাণের উদ্দেশ্যে নয় বলে দাবি করলেও বাস্তবে তা তেহরানের জন্য হুমকি হওয়ার পাশাপাশি একটি বিকল্প হিসেবেও আবির্ভুত হয়েছে।
কিন্তু এটি এমন একটি যুদ্ধ উসকে দিয়েছে, যার ফলে শাসনব্যবস্থা টিকে থাকলেও ইরানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালি বন্ধ করা সহজ ছিল এবং এর দ্রুত ও বিধ্বংসী প্রভাব আরবের তেল উৎপাদনকারী রাষ্ট্রগুলোসহ বিশ্বের বড় অংশকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
https://www.jugantor.com/international/1115869
হাইব্রিডদের দাপটে কোণঠাসা হয়ে পড়ছেন বিএনপির ত্যাগীরা। পতিত আওয়ামী লীগ থেকে আসা কিছু অসাধু ব্যক্তি বিএনপির নাম ব্যবহার করে চাঁদাবাজি, দখলদারি, লুটপাট ও মব সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে। আর বদনাম হচ্ছে বিএনপির। এসব অনুপ্রবেশকারীদের কারণে বঞ্চিত হচ্ছে দীর্ঘ ১৭ বছরের ত্যাগ ও সংগ্রাম করা নেতাকর্মীরা।ক্ষমতার পাঁচ মাসেই দলে বাড়ছে নবাগত ও ‘হাইব্রিড’ নেতাকর্মীদের আনাগোনা। এ নিয়ে দলটির তৃণমূলে বাড়ছে ক্ষোভ ও হতাশা। এমন প্রেক্ষাপটে অনুপ্রবেশকারীদের নিয়ে দলটির হাইকমান্ডের কঠোর অবস্থানের চিত্র ফুটে উঠেছে।
সম্প্রতি বরিশালে দলীয় সাংগঠনিক সভায় বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দলে অনুপ্রবেশকারী ও হাইব্রিড ঠেকাতে তৃণমূল নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার কড়া নির্দেশনা দিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, ‘১৭ বছর ধরে ভয়াবহ নির্যাতন, গুম, খুন এবং হাজার হাজার রাজনৈতিক মামলার ঝড় উপেক্ষা করেও তৃণমূলের ত্যাগী নেতাকর্মীরাই দলকে টিকিয়ে রেখেছেন। সেই ত্যাগের যথাযথ মূল্যায়ন করেই দলকে সামনে এগিয়ে নেওয়া হবে। কোনো অবস্থাতেই দলে হাইব্রিড বা অনুপ্রবেশকারীদের ঠাঁই দেওয়া যাবে না।’
তবে ক্ষমতার মাত্র পাঁচ মাসের মাথায় সরকারপ্রধানের এমন তীব্র সতর্কবার্তাকে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ ও ইতিবাচক মনে করছেন বিএনপি নেতা ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, সরকার গঠনের পর সব সময়ই এক ধরনের সুবিধাবাদী ও ফায়দা লুটতে চাওয়া ‘হাইব্রিড’ শ্রেণির উত্থান ঘটে; যারা ক্ষমতার আশপাশে ভিড়তে মরিয়া হয়ে ওঠে। এদের কারণে দলের ত্যাগী নেতারা মূল্যায়ন পান না। নানা ক্ষোভ ও অভিমানে একটা সময় অনুপ্রবেশকারীদের আড়ালে চলে যান দলের দুর্দিনে রাজপথে থাকা নেতাকর্মীরা। এই বিষয়টি আগেভাগেই অনুধাবন করতে পেরেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা বলছেন, দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে সব ধরনের তথ্য রয়েছে। তিনি নিয়মিতই নানাভাবে কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং সাংগঠনিক বিষয়ে খোঁজ নেন। হাইব্রিড ও অনুপ্রবেশকারীদের কর্মকাণ্ডের রিপোর্টও বিএনপি চেয়ারম্যানের কাছে আছে। সামনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন ও দল পুনর্গঠনে অনুপ্রবেশকারীরা যাতে ঢুকে বিশৃঙ্খলা করতে না পারে, সে বিষয়ে তারেক রহমান সবাইকে সতর্কবার্তা দিয়েছেন। এর মধ্য দিয়ে কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের নেতারা সতর্ক হওয়ার পাশাপাশি ত্যাগীদের মূল্যায়নের সম্ভাবনা দেখছেন।
অনুপ্রবেশকারীদের নিয়ে বরিশালে যখন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সতর্কবার্তা দেন, তখন পাশেই বসা ছিলেন বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল। জানতে চাইলে তিনি যুগান্তরকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী যে বার্তা দিয়েছেন সে বিষয়ে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। বিভিন্ন জায়গায় অনুপ্রবেশকারীরা নানাভাবে দলের সুনাম ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করছে। গত ১৭ বছরে যারা বিএনপির সঙ্গে ছিলেন না, তারা এখন বিএনপি নেতা বনে গেছেন-তৃণমূলে এমন অভিযোগ প্রায়ই শোনা যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ কারণেই সবাইকে সতর্ক থাকার নির্দেশনা দিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, ‘১৭ বছর ধরে ভয়াবহ নির্যাতন, গুম, খুন এবং হাজার হাজার রাজনৈতিক মামলার ঝড় উপেক্ষা করেও তৃণমূলের ত্যাগী নেতাকর্মীরাই দলকে টিকিয়ে রেখেছেন। সেই ত্যাগের যথাযথ মূল্যায়ন করেই দলকে সামনে এগিয়ে নেওয়া হবে। কোনো অবস্থাতেই দলে হাইব্রিড বা অনুপ্রবেশকারীদের ঠাঁই দেওয়া যাবে না।’
তবে ক্ষমতার মাত্র পাঁচ মাসের মাথায় সরকারপ্রধানের এমন তীব্র সতর্কবার্তাকে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ ও ইতিবাচক মনে করছেন বিএনপি নেতা ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, সরকার গঠনের পর সব সময়ই এক ধরনের সুবিধাবাদী ও ফায়দা লুটতে চাওয়া ‘হাইব্রিড’ শ্রেণির উত্থান ঘটে; যারা ক্ষমতার আশপাশে ভিড়তে মরিয়া হয়ে ওঠে। এদের কারণে দলের ত্যাগী নেতারা মূল্যায়ন পান না। নানা ক্ষোভ ও অভিমানে একটা সময় অনুপ্রবেশকারীদের আড়ালে চলে যান দলের দুর্দিনে রাজপথে থাকা নেতাকর্মীরা। এই বিষয়টি আগেভাগেই অনুধাবন করতে পেরেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা বলছেন, দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে সব ধরনের তথ্য রয়েছে। তিনি নিয়মিতই নানাভাবে কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং সাংগঠনিক বিষয়ে খোঁজ নেন। হাইব্রিড ও অনুপ্রবেশকারীদের কর্মকাণ্ডের রিপোর্টও বিএনপি চেয়ারম্যানের কাছে আছে। সামনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন ও দল পুনর্গঠনে অনুপ্রবেশকারীরা যাতে ঢুকে বিশৃঙ্খলা করতে না পারে, সে বিষয়ে তারেক রহমান সবাইকে সতর্কবার্তা দিয়েছেন। এর মধ্য দিয়ে কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের নেতারা সতর্ক হওয়ার পাশাপাশি ত্যাগীদের মূল্যায়নের সম্ভাবনা দেখছেন।
অনুপ্রবেশকারীদের নিয়ে বরিশালে যখন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সতর্কবার্তা দেন, তখন পাশেই বসা ছিলেন বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল। জানতে চাইলে তিনি যুগান্তরকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী যে বার্তা দিয়েছেন সে বিষয়ে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। বিভিন্ন জায়গায় অনুপ্রবেশকারীরা নানাভাবে দলের সুনাম ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করছে। গত ১৭ বছরে যারা বিএনপির সঙ্গে ছিলেন না, তারা এখন বিএনপি নেতা বনে গেছেন-তৃণমূলে এমন অভিযোগ প্রায়ই শোনা যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ কারণেই সবাইকে সতর্ক থাকার নির্দেশনা দিয়েছেন।
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স যুগান্তরকে বলেন, ক্ষমতাসীন দলে সাধারণত সুবিধাবাদী বা হাইব্রিড নেতাদের অনুপ্রবেশের একটি প্রবণতা দেখা যায়। এদের কারণে অনেক সময় দলের ত্যাগী ও নিবেদিতপ্রাণ নেতাকর্মীরা মূল্যায়ন পান না। ফলে তারা হতাশ হয়ে পড়েন এবং দলের কাজে স্পৃহা হারিয়ে ফেলেন। অনুপ্রবেশকারীরা সাধারণত দলের সামগ্রিক স্বার্থের চেয়ে নিজেদের ব্যক্তিগত স্বার্থ ও লাভ-লোকসানকে বেশি প্রাধান্য দিয়ে থাকে। দল মনে করে, যে কোনো মূল্যে এই ধরনের অনুপ্রবেশ ঠেকানোর পাশাপাশি ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করা জরুরি। এটি করা গেলে দলের সুনাম অক্ষুণ্ন থাকে এবং জনগণের আস্থা ধরে রাখা সম্ভব।
প্রধানমন্ত্রীর বার্তাটিকে সামগ্রিকভাবে ইতিবাচক ও সময়োপযোগী হিসাবে দেখছেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক। তিনি যুগান্তরকে বলেন, নির্বাচনে জয়ের পর বা ক্ষমতার কাছাকাছি এলে সুযোগসন্ধানী বা তথাকথিত ‘হাইব্রিড’ ও বর্ণচোরাদের ভিড় বাড়াটা নতুন কিছু নয়। অতীতে অন্যান্য দলের ক্ষেত্রেও এটি দেখা গেছে। বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীরা যাতে দলের ভেতরে এসে কোনো ধরনের অস্থিরতা তৈরি করতে না পারে এবং কোনো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে বসতে না পারে, সে ব্যাপারে সতর্ক করাই এর লক্ষ্য। প্রধানমন্ত্রীর এই নির্দেশনাকে যদি তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা যায়, তবে রাজনৈতিক দল হিসাবে বিএনপি এবং সরকারের ভবিষ্যৎ পরিচালন ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বক্তব্যকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কাজী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান। যুগান্তরকে তিনি বলেন, বিএনপিতে অনুপ্রবেশকারীদের কারণে স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ ও হতাশা তৈরি হচ্ছে। দল যখন ক্ষমতায় থাকে, তখনই অনুপ্রবেশকারীদের আনাগোনা বাড়ে। তাই প্রধানমন্ত্রী কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতাকর্মীদের এই অনুপ্রবেশের ব্যাপারে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, অনুপ্রবেশকারীরা ক্ষমতার কাঠামোতে ঢুকে গেলে প্রকৃত ত্যাগী কর্মীরা হতাশ ও নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েন; যা দলের অস্তিত্বের জন্য হুমকিস্বরূপ। ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূলত দলের ‘অ্যাম্বাসেডর’ হিসাবে গণ্য করা হয়, যারা দলের সাফল্য জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেন।
বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের অভিযোগ, গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে অন্য দলের নেতাকর্মীরা ভোল পাল্টে বিএনপিতে ভিড়ছেন। সুযোগ বুঝে কোথাও কোথাও আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দিচ্ছেন, আবার কোথাও অনানুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হচ্ছেন। এখন ‘বিএনপি সেজে’ তারা ফ্যাসিবাদী আমলের ব্যবসা-বাণিজ্য, দখলবাজি ও নানা অপরাধমূলক কাজ করে যাচ্ছেন। বিএনপির শীর্ষ পর্যায় থেকে এদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণা করা হলেও কোনো কোনো ক্ষেত্রে কার্যকর ফল মিলছে না।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে-পরে দেশের বিভিন্ন জেলায় আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন দলের অন্তত অর্ধলক্ষাধিক নেতাকর্মী বিএনপিতে ভিড়েছেন। এদের কারণে ১৭ বছর আন্দোলন-সংগ্রামে নির্যাতিত ও নিপীড়িত ত্যাগী নেতারা কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন বলে আলোচনা উঠছে।
গত ৩ জুন গোপালগঞ্জ-২ আসনের সংসদ-সদস্য ডা. কে এম বাবরের হাতে ফুল দিয়ে সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ মো. ছানোয়ার হোসেন মোল্লা ১,২০০ কর্মীকে সঙ্গে নিয়ে বিএনপিতে যোগ দেন। একই অনুষ্ঠানে নিজড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি নুরুল ইসলাম শেখও বিএনপিতে যোগ দেন।
বিএনপির বিজয় আঁচ করতে পেরে নির্বাচনের আগেও বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন অনেকে। ৭ ফেব্রুয়ারি পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীতে উপজেলা আওয়ামী লীগের অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী বিএনপিতে যোগ দেন। ২৭ জানুয়ারি কুমিল্লার তিতাস উপজেলায় শতাধিক নেতাকর্মী বিএনপিতে যোগ দেন। ১৭ জানুয়ারি গাজীপুরের কাপাসিয়ায় যোগদান করেন ৪০০-এর বেশি নেতাকর্মী। একই দিনে শরীয়তপুর সদর উপজেলার শৌলপাড়া ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের পাঁচ শতাধিক নেতাকর্মী বিএনপিতে যোগ দেন। ১৩ জানুয়ারি শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলার সামন্তসার ইউনিয়নে বিএনপিতে যোগ দেন আওয়ামী লীগের চার শতাধিক নেতাকর্মী। এর আগে ৪ জানুয়ারি নীলফামারীর সৈয়দপুরে আওয়ামী লীগের শতাধিক নেতাকর্মী ও সমর্থক বিএনপিতে যোগ দেন। পাবনার সাঁথিয়া উপজেলায় এক দোয়ার মাহফিলের মাধ্যমে বিএনপিতে যোগ দেন আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের প্রায় ৫০০ কর্মী।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বিএনপিতে যোগদানের প্রবণতা সবচেয়ে বেশি-গোপালগঞ্জ, শরীয়তপুর, ফরিদপুর, কুমিল্লা, নোয়াখালী, গাজীপুর, রংপুর, নীলফামারী, পটুয়াখালী, বরিশাল, সিলেট, মৌলভীবাজার ও ঢাকার ডেমরাসহ কয়েকটি এলাকায়। কোথাও কোথাও জেলা পর্যায়ের বিএনপির শীর্ষ নেতারা অনুপ্রবেশ করার সুযোগ করে দিয়েছেন। যদিও ২০২৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর গুলশানের দলীয় কার্যালয়ে একটি অনুষ্ঠানে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছিলেন, নির্বাচন সামনে রেখে দলে যোগদানের হিড়িক পড়েছে। এরপরই দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির পক্ষ থেকে নতুন করে কাউকে দলে না নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। তবে সে সিদ্ধান্ত কতটুকু মানা হচ্ছে-এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপির অনেকেই। https://www.jugantor.com/tp-lastpage/1133038


মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন