ইষ্টার্ণ ইসলামিক সায়েন্স-টেক নিউজ (প্রথম খন্ড)
https://www.linkedin.com/pulse/ইষটরণ-ইসলমক-সয়নস-টক-নউজ-বলদশ-muhammad-sheikh-ramzan-hossain-sm7lc/
https://www.linkedin.com/pulse/ইষটরণ-ইসলমক-সয়নস-টক-নউজ-বলদশ-muhammad-sheikh-ramzan-hossain-sm7lc/
গবেষণা এবং আল কুরআন চিন্তা-ভাবনা-গবেষণার প্রতি উৎসাহিত করে মহান আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে ফরমান
:- كِتَابٌ أَنزَلْنَاهُ إِلَيْكَ مُبَارَكٌ لِّيَدَّبَّرُوا آيَاتِهِ وَلِيَتَذَكَّرَ أُولُو الْأَلْبَابِ
◯“আমি আপনার নিকট বরকতময় কিতাব (আল কুরআন) নাযিল করেছি, যাতে করে তার আয়াতসমূহ নিয়ে তারা গবেষণা করে।” (সূরাহঃ ছ-দ)
২৯)- أَفَلَا يَتَدَبَّرُونَ الْقُرْآنَ ۚ وَلَوْ كَانَ مِنْ عِندِ غَيْرِ اللَّـهِ لَوَجَدُوا فِيهِ اخْتِلَافًا كَثِيرًافَلَا
“তারা কি কুরআন সম্পর্কে চিন্তা-ভাবনা করে না? উহা যদি আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো নিকট হতে আসত তবে তারা তাতে অনেক মতপার্থক্য পেত।” (নিসা- ৮২)
আল কোরআন নিয়ে চিন্তা-গবেষণার গুরুত্ব
٢٤- أَفَلَا يَتَدَبَّرُونَ الْقُرْآنَ أَمْ عَلَىٰ قُلُوبٍ
তারা কি কুরআন নিয়ে গবেষণা করে না? নাকি তাদের অন্তরে তালা মেরে দেয়া হয়েছে?” (সূরা মুহাম্মাদ- ২৪)
- أَفَلَمْ يَسِيرُوا فِي الْأَرْضِ فَتَكُونَ لَهُمْ قُلُوبٌ يَعْقِلُونَ بِهَا أَوْ آذَانٌ يَسْمَعُونَ بِهَا فَإِنَّهَا لَا تَعْمَى الْأَبْصَارُ وَلَـٰكِنْ تَعْمَى الْقُلُوبُ الَّتِي فِي الصُّدُورِ ◯
‘তারা কি ভূপৃষ্ঠে ভ্রমণ করে না, যাতে তারা জ্ঞান-বুদ্ধিসম্পন্ন হৃদয় ও শ্রুতিসম্পন্ন শ্রবণের অধিকারী হতে পারে! বস্তুত চক্ষু তো অন্ধ নয়, বরং অন্ধ হচ্ছে তাদের হৃদয়। (সূরা হজ : ৪৬)
- أَفَلَا يَنظُرُونَ إِلَى الْإِبِلِ كَيْفَ خُلِقَتْ ١٧ ◯
17. Do they not look At the Camels, How they are made ?—
١٨- وَإِلَى السَّمَاءِ كَيْفَ رُفِعَتْ ◯
18. And at the Sky, How it is raised high ?—
١٩- وَإِلَى الْجِبَالِ كَيْفَ نُصِبَتْ ◯
19. And at the Mountains, How they are fixed firm ?—
٢٠- وَإِلَى الْأَرْضِ كَيْفَ سُطِحَتْ ◯
‘তবে কি তারা লক্ষ্য করে না উটের প্রতি, কীভাবে তা সৃষ্টি করা হয়েছে এবং আকাশের প্রতি, কীভাবে তাকে উঁচু করা হয়েছে এবং পাহাড়সমূহের প্রতি, কীভাবে তাকে প্রথিত করা হয়েছে এবং ভূমির প্রতি,কীভাবে তা বিছানো হয়েছে’ (সূরা গাশিয়া ১৭-২০)
١٩٠- إِنَّ فِي خَلْقِ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَاخْتِلَافِ اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ لَآيَاتٍ لِّأُولِي الْأَلْبَابِ ◯
١٩١- الَّذِينَ يَذْكُرُونَ اللَّـهَ قِيَامًا وَقُعُودًا وَعَلَىٰ جُنُوبِهِمْ وَيَتَفَكَّرُونَ فِي خَلْقِ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ رَبَّنَا مَا خَلَقْتَ هَـٰذَا بَاطِلًا سُبْحَانَكَ فَقِنَا عَذَابَ النَّارِ ◯
‘নিশ্চয়ই মহাকাশ ও পৃথিবী সৃষ্টিতে এবং দিবা-রাত্রির আবর্তনের মধ্যে বোধসম্পন্ন লোকদের জন্য নিদর্শন রয়েছে। যারা দাঁড়িয়ে, বসে ও শায়িত অবস্থায় আল্লাহকে স্মরণ করে এবং মহাকাশ ও পৃথিবীর সৃষ্টির বিষয়ে চিন্তা-গবেষণা করে এবং বলে হে আমাদের প্রতিপালক! এ সবকিছু তুমি অনর্থক সৃষ্টি করনি। সব পবিত্রতা একমাত্র তোমারই। আমাদের তুমি দোজখের শাস্তি হতে বাঁচাও। (সূরা আল-ইমরান ১৯০-৯১)
জ্ঞান কি?
What is Knowledge?
কোন বিষয় বা বস্তু সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গরূপে জানা বা বুঝার অনুভব-উপলদ্ধি-কে জ্ঞান বলা যেতে পারে। এই জ্ঞান বাস্তব দর্শন,শোনা কিংবা নিবিড় অধ্যয়নের মাধ্যমে হতে পারে। এই জ্ঞান তাই প্রধানতঃ দু'প্রকার । যথাঃ (১) তাত্ত্বিক জ্ঞান এবং (২) বাস্তব বা ব্যবহারিক জ্ঞান।
দর্শন বিজ্ঞানের আলোচিত জ্ঞান-কে "তত্ত্ব জ্ঞান" বলা হয়। দার্শনিক প্লেটো জ্ঞানকে "প্রমাণিত সত্য বিশ্বাস" বলে সংজ্ঞায়িত করেন। অভিজ্ঞতালদ্ধ কিংবা অনুভব-উপলদ্ধিজাত পঠিত এবং লিখিত উপকারী অথবা অপকারী সর্ব প্রকার জ্ঞান-কে ইসলামী পরিভাষায "ঈলম" এবং বিজ্ঞান বা প্রজ্ঞা-কে "হিকমাহ" বলা হয়। উপকারী ঈলম বা জ্ঞান-কে পবিত্র হাদিসে ইসলামী পরিভাষায় "ঈলমান নাফিয়ান" উপকারী জ্ঞান বলা হয়েছে যা অর্জনে পবিত্র হাদীসে উৎসাহিত করা হয়েছে।
ইসলামীমতে সর্বোত্তম জ্ঞান হচ্ছেঃ দীনের সহীহ জ্ঞান। অন্তর্দৃষ্টি সম্পন্ন জ্ঞানকে ইসলামী পরিভাষায় রুশদ, ইলহাম, ইলকা বলা হয়। অন্তর্দৃষ্টিকে বলা হয় কাশফ।
বিজ্ঞানীরা সাধারণতঃ অন্তদৃষ্টি সহকারে গবেষণার মূল প্রতিপাদ্য বিষয়ে পরীক্ষা, নিরীক্ষা, সমীক্ষা, পর্যবেক্ষণ, পর্যালোচনা শেষে যে চূড়ান্ত এবং মৌলিক সিদ্ধান্তে উপনীত হন তাকেইআবিস্কার বলা হয়। আইনস্টাইন তাই দাবী করতেন, তিনি জ্ঞানে নয় বরং কল্পনাশক্তিতে গবেষণা করেন। পক্ষান্তরে স্যার আইজাক নিউটন বলতেনঃ তাঁর সকল আবিস্কার হচ্ছে সৃষ্টিকর্তার নিকট প্রার্থনার (দোয়ার) ফসল।
বিজ্ঞান কি এবং কেন?
Science is a systematic initiative that builds and organizes specialized knowledge in the form of theoretical formulas in the form of nature-based experiments, surveys, observations and reviewable interpretations of the universe, including the Earth.
অর্থাৎ বিজ্ঞান এমন একটি পদ্ধতিগত উদ্যোগ- যা পৃথিবীসহ মহাবিশ্ব সম্পর্কে প্রকৃতিভিত্তিক পরীক্ষা নিরীক্ষা, সমীক্ষা, পর্যবেক্ষণ এবং পর্যালোচনাযোগ্য, অনুসিদ্ধান্ত, সিদ্ধান্ত ইত্যাদির তাত্ত্বিক সূত্রাকারে ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ সংক্রান্ত বিশেষ জ্ঞান তৈরি এবং সংগঠিত করে তোলে।
“বিজ্ঞান” শব্দটি ইংরেজি “Science” শব্দের বঙ্গানুবাদ। Science শব্দটির বুৎপত্তি ল্যাটিন শব্দ “Scientia” থেকে, যার অর্থ জ্ঞান। বাংলায় বিজ্ঞান শব্দটিকে বিশ্লেষণ করলে পাওয়া যায় বি(শেষ)+জ্ঞান=বিজ্ঞান।
বস্তুত: ভৌত বিশ্বের যা কিছু পর্যবেক্ষণযোগ্য, পরীক্ষণযোগ্য ও যাচাইযোগ্য, তার সুশৃঙ্খল, নিয়মতান্ত্রিক গবেষণালব্ধ 'বিশেষ জ্ঞান'ই হচ্ছে 'বিজ্ঞান' (Science) ।
বিজ্ঞানের প্রকারভেদ
বিজ্ঞান মূলতঃ দু' প্রকার যথাঃ (১) তাত্ত্বিক (Theoretical Science), (২) এবং প্রয়োগিক (Practical science)।
আধুনিক বিজ্ঞানকে তাত্ত্বিক ( Theoretical Science) সাধারণত তিনটি প্রধান ভাগে ভাগ করা হয়:
১. প্রাকৃতিক বিজ্ঞান (Physics)-যা প্রাকৃতিক ঘটনাবলি ব্যাখ্যা প্রদান করে। জীববিজ্ঞান, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়নসহ এ ধরনের সকল বিজ্ঞান প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের অন্তর্ভুক্ত।
২. সামাজিক বিজ্ঞান (Social Science) -যা মানুষের আচার-ব্যবহার এবং সমাজ নিয়ে অধ্যয়ন করে।
৩. সাধারণ/বিধিবদ্ধ বিজ্ঞান (General Science) -যা বিজ্ঞানের আদি মৌলিক বিষয়। এই বিজ্ঞান যুক্তি, গণিত ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা করে।
(সূত্রঃ উইকিপিডিয়া, এনসাইক্লোপিডিয়া)
প্রয়োগিক (Practical science)
প্রযুক্তির সংজ্ঞা
Technology is the sum of any techniques, skills, methods, and processes used in the production of goods or services or in the accomplishment of objectives, such as scientific investigation. Wikipedia
বিজ্ঞানের আবিষ্কারকে মানুষের প্রায়োগিক কাজে লাগানোর উপায়কে প্রযুক্তি বলে। অর্থাৎ কোন বৈজ্ঞানিক জ্ঞানকে বাস্তবিক ক্ষেত্রে প্রয়োগ করলে তাকে ফলিত বিজ্ঞান বা প্রায়োগিগ বিজ্ঞান বলে । যেমন প্রকৌশলবিদ্যা এবং চিকিৎসাশাস্ত্র।
https://ansbd.org/15317/
প্রযুক্তি হল জ্ঞান, যন্ত্র এবং তন্ত্রের ব্যবহার কৌশল যা আমরা আমাদের জীবন সহজ করার স্বার্থে ব্যবহার করছি।প্রযুক্তির সংজ্ঞায় বলা যায়, "প্রযুক্তি হল কিছু প্রায়োগিক কৌশল যা মানুষ তার প্রতিবেশের উন্নয়নকার্যে ব্যবহার করে।" যেকোন যন্ত্র এবং প্রাকৃতিক উপাদান সম্বন্ধে জ্ঞান এবং তা দক্ষভাবে ব্যবহারের ক্ষমতারকেও প্রযুক্তি বলা হয়।
► ‘ প্রযুক্তি অন্তর্ভুক্ত করে সমস্ত মেশিন, সরঞ্জাম, যন্ত্রপাতি এবং যোগাযোগ ও পরিবহনের ডিভাইস ও দক্ষতা যা আমরা তৈরি এবং ব্যবহার করি (১৯৩৭ সালে মার্কিন সমাজবিজ্ঞানী রেড বাইন প্রদত্ত প্রযুক্তির সংজ্ঞা)।
► ‘প্রযুক্তি হল শিল্প ও প্রকৌশল ক্ষেত্রে বিজ্ঞানের ব্যবহার যা প্রয়োজনীয় জিনিস আবিষ্কার ও সমস্যা সমাধানে ব্যবহৃত হয়’ এবং ‘মেশিন বা সরঞ্জাম হল প্রযুক্তির তৈরি ফলাফল’(মেরিয়ামিয়াম-ওয়েস্টার লার্নার্স ডিকশন)।
► এটি হলো আমরা চারপাশের কাজ কিভাবে করি তার কৌশল (উরসুলা ফ্রাঙ্কলিন কর্তৃক ১৯৮৯ সালে ‘রিয়েল ওয়ার্ল্ড অফ টেকনোলজি’ লেকচারে প্রদত্ত সংজ্ঞা)।
► ‘প্রযুক্তি এমন একটি পদ্ধতি- যা মানুষের উদ্দেশ্য পূরণ করে’ (ডব্লিউ ব্রায়ান আর্থার)।
‘প্রযুক্তি’ শব্দটির ব্যবহার গত ২০০ বছরে তাৎপর্যপূর্ণভাবে পরিবর্তিত হয়েছে। বিংশ শতাব্দীর আগে এই শব্দটি কখনো কখনো ম্যাসাচুসেট্স ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি এর কৌশলগত বিদ্যাকে বোঝানো হতো ।
‘প্রযুক্তি’ শব্দটি প্রাধান্য পায় ইউরোপ কেন্দ্রিক দ্বিতীয় শিল্প বিপ্লবের পর। বস্তুতঃ এই শব্দটির অর্থ বিংশ শতাব্দীতে পরিবর্তিত হয় যখনথর্স্টেইন ভেবলেন থেকে শুরু করে আমেরিকান সমাজবিজ্ঞানীরা জার্মান Technik থেকে ‘প্রযুক্তি’ এর অনুবাদ করা শুরু করেন। জার্মান ও ইউরোপীয় ভাষায় technik এবং technologie দুটি শব্দ ভিন্ন অর্থ প্রকাশ করে কিন্তু ইংরেজিতে এ দুটিকেই একই অর্থে ‘Technology’ তে অনুবাদ করা হয়েছে।
বিস্তৃত পরিসরে ব্যাপক অর্থে প্রযুক্তি হল যন্ত্র ও সরঞ্জাম যা বাস্তব জীবনের সমস্যা সমাধানে ব্যবহৃত হয়। এটি একটি সুদূরপ্রসারি ধারণা যা সরল যন্ত্র যেমন চামচ থেকে শুরু করে অনেক জটিল যন্ত্র যেমন মহাশূন্য স্টেশন ইত্যাদি-কে অন্তর্ভুক্ত করে। https://bn.wikipedia.org/wiki/প্রযুক্তি
বিজ্ঞানের শর্তাবলীঃ
কোন বিষয় বিজ্ঞানের আওতাভুক্ত হতে হলে সংশ্লিষ্ট বিষয়টি সুনির্দিষ্ট বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণ এবং পরীক্ষণের মাধ্যমে প্রমাণিত হতে হবে।
বিজ্ঞানী কারা?
জড়-প্রাণী নির্বিশেষে প্রকৃতির ধারাবাহিক পর্যবেক্ষণ ও গবেষণার ফলে কোন বিষয়ে প্রাপ্ত ব্যাপক ও বিশেষ জ্ঞানের সাথে জড়িত ব্যক্তিবিজ্ঞানী, বিজ্ঞানবিদ কিংবা বৈজ্ঞানিক নামে পরিচিত হয়ে থাকেন।
বিজ্ঞানীরা বিশেষ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুসরণ করে জ্ঞান অর্জন করেন এবং প্রকৃতি ও সমাজের নানা মৌলিক বিধি ও সাধারণ সত্য আবিষ্কারের চেষ্টা করেন।
বিজ্ঞানী হওয়ার শর্তাবলীঃ
যে গবেষকই পরীক্ষণটি করুন না কেন ফলাফল একই হতে হবে। অর্থাৎ ব্যক্তি চেতনা অনুযায়ী বিজ্ঞানভিত্তিক পরীক্ষণের ফলাফল কখনও পরিবর্তিত হতে পারে না।
গবেষণা
বিজ্ঞান এক বা একাধিক বিজ্ঞানীর গবেষণার উপর নির্ভর করে। গবেষণাগুলো সাধারণত বিজ্ঞানীদের দ্বারা শিক্ষাক্ষেত্রে এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠানে, সরকারি প্রতিষ্ঠানে এবং কোম্পানিভিত্তিক উদ্যোগে করা হয়। বৈজ্ঞানিক গবেষণার বাস্তবিক প্রভাব বৈজ্ঞানিক নীতি গ্রহনে বাধ্য করেছে। বৈজ্ঞানিক নীতি দ্বারা বিজ্ঞানভিত্তিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রভাবিত করা হয়। প্রতিষ্ঠানগুলোকে জনসার্থে ব্যবহৃত পন্য, স্বাস্থ্যসেবা, জন কাঠামো, পরিবেশের সুরক্ষা এবং অস্ত্র তৈরির মত বিষয়গুলোকে প্রাধান্য দিতে নীতিমালা অনুসরন করানো হয়।
গণিতকে অনেকেই আলাদা একটি শ্রেণি হিসেবে দেখেন। অর্থাৎ তাদের মতে প্রাকৃতিক বিজ্ঞান, সামাজিক বিজ্ঞান আর গণিত এই তিনটি শ্রেণি মিলে বিজ্ঞান। ঐ দৃষ্টিকোণে গণিত হলো আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞান আর প্রাকৃতিক ও সামাজিক বিজ্ঞান হলো পরীক্ষণমূলক বিজ্ঞান।
গবেষণা গুরুত্ব
গবেষণা (Research) হল মানুষের বুদ্ধিবৃত্তিক অনুসন্ধান প্রক্রিয়া এবং নতুন কিছু আবিষ্কারের নেশায় বিজ্ঞানীদের কার্যাবলী। যিনি গবেষণা করেন বা গবেষণা কর্মের সাথে জড়িত, তিনি গবেষক বা গবেষণাকারী (Researcher) নামে পরিচিতসুনির্দিষ্ট প্রজেক্ট (প্রকল্প) বা উদ্দেশ্যের আওতায় প্রয়োজনীয় বৈজ্ঞানিক তত্ব, তথ্য, উপাত্ত এবং আনুষঙ্গিক বৈজ্ঞানিক সাজ-সরন্জাম বা প্রযুক্তি সংগ্রহ করতঃ এতদ্বিষয়ে নিরলস পরীক্ষা-নিরীক্ষা, সমীক্ষা, পর্যালোচনা, পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে নিবিড় তথ্য বিশ্লেষণ ও সূত্র উদ্ভাবন করতঃ উদ্ভাবিত সূত্রমতে গবেষণা সম্পকির্ত গৃহীত অনুসিদ্ধান্ত, ও সিদ্ধান্ত এবং চূড়ান্ত ফলাফল গ্রহণ উপস্থাপন এবং প্রাসঙ্গিক আলোচনা সন্নিবেশিত করা হয়। গবেষণার প্রধান ধাপসমূহ হচ্ছেঃ
●গবেষণার বিষয়বস্তু, লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য চিহ্নিতকরণ● প্রাসঙ্গিক গবেষণা ও তথ্য পর্যালোচনা
●গবেষণার সমস্যা নির্দিষ্টকরণ
● অনুমিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও গবেষণার প্রশ্ন নির্দিষ্টকরণ
● তথ্যসংগ্রহ, বিশ্লেষণ
● প্রাথমিক ও চূড়ান্ত গবেষণা প্রতিবেদন তৈরিকরণ।
যে প্রক্রিয়ায় বিজ্ঞানীরা তাঁদের গবেষণাপত্র প্রকাশ করেন
নিউট্রিনোর গতি পরীক্ষায় নির্ভুলতা পরিমাপের বৈজ্ঞানিক ধরণ
পরীক্ষার নির্ভুলতা প্রমাণের ধরণঃ
নিউট্রিনো প্রচলিত আলোর গতির সামান্য উর্ধ্বে অর্থাৎ প্রতি সেকেন্ডে ১ লক্ষ ৮৬ হাজার ৬০ ন্যানো সেকেন্ড বেগে) ছুটে চলে। সুইজারল্যান্ড হতে ইতালিতে আসতে যে সময় লাগত পরীক্ষান্তে দেখা গেছে যে, বর্তমান প্রচলিত আলোর গতির চাইতে অন্ততঃ ৬০ ন্যানো সেকেন্ড আগে ইতালিতে নিউট্রিনো পৌঁছে গেছে। ১ ন্যানো সেকেন্ড=১ সেকেন্ডের ১০০ কোটি ভাগের এক ভাগ।
উল্লেখ্য, যেকোন বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার ফলাফল পাওয়ার পর বিজ্ঞানীদের প্রথম কাজই হলো, পরীক্ষাটির ভুল-ত্রুটি দূর করা। এ ধরণের ভুল-ত্রুটি দূর করার জন্য বিজ্ঞানীরা যা করে থাকেন তা হচ্ছে : একই পরীক্ষা বার বার করা।
বিভিন্ন কারণে পরীক্ষার ফলাফল অভিন্ন নাও আসতে পারে। তখন একাধিক পরীক্ষার গড় ফলাফল হিসাব করা হয়। সেই সাথে ভুলের আশংকাও হিসাব করা হয়।
আলোচ্য অপেরা পরীক্ষায় নিউট্রিনোর গতি পরিমাপ করা হয়েছে কয়েক বছর ব্যাপী প্রায় ১৬,০০০ (ষোল হাজার) বার। তারপরও গড় যে ফলাফল পাওয়া গেছে, তাতে ভুলের আশংকা গণ্য করার পরও নিউট্রিনোর গতি আলোর গতির চেয়ে বেশী প্রমাণিত হয়। এখন বাকী থাকল আসলে পরীক্ষাটিতেই অর্ন্তনহিতি কোন ভুল আছে কিনা তা যাচাই করা। অপেরা পরীক্ষাটিতে এখন পর্যন্ত কোন ভুল পাওয়া যায়নি বিধায় সার্ণের পরীক্ষকরা তাই সব তথ্য ইন্টারনেটে প্রকাশ করে দিয়েছেন।
নিউট্রিনোর গতির ইসলামী মূল্যায়ন
আইনস্টাইনসহ জগদ্বিখ্যাত বিজ্ঞানীদের অভিমত ছিলঃ আলোর গতি প্রতি সেকেন্ডে ১,৮৬,০০০ (এক লক্ষ ছিয়াশি হাজার)মাইল ইনভেরিয়েন্ট অর্থাৎ অপরিবর্তনীয়। নিউট্রিনোর আলোর গতির চাইতে অন্তত ৬০ ন্যানো সেকেন্ড অগ্রগামিতায় প্রমাণিত হয় যে, আলোর গতি অপরিবর্তনীয় নয় বরং স্থান-কাল-পাত্র ভেদে আপেক্ষিক অর্থাৎ পরিবর্তনীয় যা পবিত্র মিরাজের সত্যতাকে আবারও প্রতিপন্ন করে। উল্লেখ্য, আলোর প্রকৃত প্রাকৃতিক গতি প্রতি সেকেন্ডে ১,৮৬,২৮২ মাইলের কিছু বেশি।
‘বুরাক’ আরবী ‘বরকুন’ শব্দ থেকে নিস্পন্ন যার অর্থ বিদ্যুৎ (Electric/Current)| । বিদ্যুতের অন্যতম প্রধান ধর্ম হচ্ছে দ্রুত পরিবাহিত হওয়া যার জন্য দ্রুতগতি বুঝাতে বলা হয়ে থাকে বিদ্যুৎ গতি।
উল্লেখ্য, প্রথমতঃ পবিত্র মেরাজুন্নবী সাল্লাল্লাহু আ'লাইহি ওয়াসাল্লাম পূর্বে পবিত্র মক্কা আল মুয়াজ্জিমা থেকে পবিত্র মসজিদুল আল আকসা পর্যন্ত রাত্রিকালীন মহানবী সাল্লাল্লাহু আ'লাইহি ওয়াসাল্লাম এর পরিভ্রমণকে ইসলামের ইতিহাসে ‘ইসরা’ বলা হয় ।
ইসরা-তে মহানবী সাল্লাল্লাহু আ'লাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বহনকারী যানের নাম ছিল বুরাক- যা এক অতি দ্রুতগামী বদ্বিতীয়তঃ পবিত্র মেরাজুন্নবী সাল্লাল্লাহু আ'লাইহি ওয়াসাল্লাম সংঘটিত হয়েছিল ঐ রাতের দ্বিতীয় পর্যায় মিরাজ বা সিঁড়িযোগে মসজিদুল আল আকসা হতে সাত আসমানের সর্বশেষ সীমানা সিদরাতুল মুনতাহা এবং তৃতীয়তঃ সিদরাতুল মুন্তাহা হতে রফ্ রফ যানে ‘আরশে ‘আজীম পর্যন্ত পৌঁছা- এসবই দুনিয়াবী সাধারণ আলোর গতিতে নয়, স্রেফ আল্লাহ পাকের সৃষ্ট অকল্পনীয় কুদরতি গতি সম্পন্ন হয়েছে- যে গতিতে রাণী বিলকিসের সিংহাসন চোখের পলকে বাদশাহ সোলায়মান ‘আলাইহিস্ সালামের নিকট আল্লাহপাকের হুকুমে পৌঁছে গিয়েছিল।
একইভাবে আখেরাতে নেক্কার বান্দারাও আল্লাহপাকের কুদরতি গতিতেই মুহুর্তের মধ্যে অতি দ্রুততার সাথে পুলসিরাত পার হয়ে জান্নাত বাসী হবেন। আলোর গতির চাইতেও বস্তু বা বস্তু কণার গতি যে বেশি হতে পারে- সার্ণে কর্তৃক আলোর চাইতে দ্রুতগতি সম্পন্ন বস্তু কণা "নিউট্রিনো" আবিস্কারে এতে সুস্পষ্ট প্রতীয়মান এবং মিরাজসহ ইসলামের অন্যান্য গতি বিষয়ক বিষয়াদির বৈজ্ঞানিক সত্যতা স্রেফ আল্লাহ তায়ালার কুদরাতি ব্যাপার মাত্র।
যে প্রক্রিয়ায় হিগস-বোসন কণার অস্তিত্ব প্রমাণিত হলো
‘কণা’ (PARTICLE) সম্পর্কিত গাণিতিক মডেলের (mathematical model) সূত্রমতে, উচ্চ গতিতে প্রোটনের সঙ্গে প্রোটনের আন্তঃসংঘর্ষ ঘটানো হলে বেশ কিছু মৌলিক কণা উৎপন্ন হয়। সেমতে, CERN এর লার্জ হ্যাড্রন কোলাইডার যন্ত্রে উচ্চ গতিতে প্রোটনের সঙ্গে প্রোটনের আন্তঃসংঘর্ষ ঘটিয়ে বেশ কিছু মৌলিক কণা উৎপাদন করা হয়। উৎপাদিত এই মৌলিক কণা-কে বলা হয় “হিগস্-বোসনহিগস-বোসন কণা'র অস্তিত্ব প্রমাণে CERN এর বিপুল আয়োজন !
পদার্থবিদরা বিশ্বাস করেন যে, রহস্যময় হিগস-বোসনের সঙ্গে সংঘর্ষে বিভিন্ন মাত্রার ভরের (Mass) জন্ম হয়। পদার্থ বিজ্ঞানের এ সংক্রান্ত বেশ কিছু প্রশ্নকে সামনে রেখে ১৯৭১ সাল থেকে কণাত্বরণ যন্ত্র লার্জ হ্যাড্রন কলাইডারে এ বিষয়ে বাস্তব প্রমাণের উদ্যোগ নেয়া হয় । তবে ২০০৮ সাল থেকে এই কলাইডারের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়।বিপুল শক্তিসম্পন্ন অতি পারমাণবিক কণার জন্ম-তত্ত্ব আবিস্কার করতে CERN আয়োজন করেছিল বিশাল আকারের মহাপরিকল্পনা। এই পরীক্ষা মানব ইতিহাসে শুধু গুরুত্বপূর্ণই নয়; দীর্ঘ সময়সাপেক্ষ এবং ব্যয় বহুলও বটে। অতি পারমাণবিক কণার জন্ম-তত্ত্ব গবেষণার প্রাক্কলিত ব্যয় ছিল তৎকালীন প্রায় ৫০০ কোটি পাউন্ড এবং তাতে উপস্থাপিত হয়েছে অন্ততঃ ৬০,০০০ (ষাট হাজার) অত্যাধুনিক কম্পিউহিগস-বোসন কণার নির্ভুল অস্তিত্ব প্রমাণে CERN এর সর্বোচ্চ সর্তকতাট
বস্তু-পদার্থজাত বিশ্ব সৃষ্টির নির্ভুল ও অভিন্ন রহস্য বা উৎসমূল আবিস্কারের মহৎ লক্ষ্যে আজিকার বিশ্বের খ্যাতনামা সর্ববৃহৎ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি গবেষণা কেন্দ্রে CERN কর্তৃক বিশ্বের খ্যাতনামা বিজ্ঞানীদের-কে যথাক্রমে (১)(১) atoroidal lhc apparatus (atlas) এবং (২) compact muon solenoid (cms) নামক দু'টি দলে বিভক্ত করা হয়। সর্ম্পূণ পৃথক ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনায় একদল-কে জেনেভা এবং অপর দল-কে লন্ডনে নিয়োজিত করা হয়েছিল-যাতে উভয় দল একে অপরের কার্যক্রম সর্ম্পকে বিন্দুমাত্র অবহতি না হতে পারে। উদ্দেশ্য: নির্ভুলভাবে অভিন্ন ফলাফল লাভ। অবশেষে উভয় দল বিশাল দূরত্বে (জেনেভা হতে লন্ডন) অবস্থান করে কোন প্রকার পূর্ব যোগাযোগ ব্যতিরেকেই হিগস-বোসন অতিপারমানবিক কণা প্রাপ্তির বিষয়ে একই সঙ্গে একই ফলাফলে উপনীত হয়। যার ফলে CERN কর্তৃপক্ষ ২০১২ সালের ৪ঠা জুলাই, বুধবার এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মলেনে বিশ্ববাসীকে এ মর্মে বিজ্ঞাপিত করে যে, স্ট্যান্ডার্ড মডেলের স্বীকৃত ১২তম “হিগস-বোসন নামক বহুল প্রত্যাশিত মৌলিক কণারটির সন্ধান পাওয়া গেছে।
দৃশ্যমান ও অদৃশ্যমান জীব ও জড় নির্বিশেষে সকল সৃষ্টিজগতের সৃষ্টিকর্তা কে এবং এটি কখন এবং কিভাবে সংঘটিত হয়েছিল-এ সম্পর্কিত বিস্তারিত তাত্ত্বিক ইতিহাস-কে সৃষ্টিতত্ত্ব (Creationism)বলা হয়। এ বিষয়ে রয়েছে একাধিক তত্ত্ব যথাঃ (ক) আস্তিক্যবাদী সৃষ্টিতত্ত্ব এবং (খ) বস্তুবাদী সৃষ্টিতত্ত্ব
(ক) আস্তিক্যবাদী সৃষ্টি তত্ত্ব
এই সৃষ্টিতত্ত্ব বিজ্ঞানমনস্ক ধর্মবিশ্বাসী সাধারণ জ্ঞানী-বিজ্ঞানীদের ধারণা-বিশ্বাসের উপর প্রতিষ্ঠিত। আস্তিক্যবাদী এই সৃষ্টি তত্ত্বের নাম ইমানিসনিজম (Emanisnism)| । ‘ইমানিসনিজম’ (মহাবিশ্বের উৎপত্তি, সৃষ্টি ও পরিবর্তন সম্পকিত একটি ধারণার নাম। ইংরেজী ‘Emanisnism’ শব্দটি এসেছে ল্যাটিন ‘Emanate’ শব্দ থেকে যার অর্থ To flow from...to pour fourth or out of অর্থাৎ কোন উৎস হতে বয়ে আসা, প্রবাহিত বা আগত, উৎসারিত ইত্যাদি। ইমানিজমের ধারণা-বিশ্বাস হচ্ছে, সব সৃষ্টির, সব বস্তুর উদ্ভব হয়েছে First Reality বা First Principle বা Perfect God থেকে। ইমানিশনিজম হচ্ছে Transcendental Principle অর্থাৎ অলৌকিক বা মানুষের জ্ঞানে কুলায় না-এমন একটি বিষয় (Beyond human knowledge: Source: A Student Dictionary)|
Latin emanatus, past participle of emanare, from e- + manare to flow
Relavant Synonym for emanate
spring, arise, rise, originate, derive, flow, issue, emanate, proceed, stem mean to come up or out of something into existence.
spring implies rapid or sudden emerging.
arise and rise may both convey the fact of coming into existence or notice but rise often stresses gradual growth or ascent.
originate implies a definite source or starting point.
derive implies a prior existence in another form.
flow adds to spring a suggestion of abundance or ease of inception.
issue suggests emerging from confinement through an outlet.
stem implies originating by dividing or branching off from something as an outgrowth or subordinate development.
emanate applies to the coming of something immaterial (such as a thought) from a source.
emanate
verb
em·a·nate ˈem-ə-ˌnāt
emanated; emanating
1
: to come out from a source
a scent emanating from the flowers
2
: emit sense 1a, give out
seems to emanate confidence
emanation
ˌem-ə-ˈnā-shən
noun
emanational
-shnəl
-shən-ᵊl
adjective
emanative
ˈem-ə-ˌnāt-iv (adjective)
https://www.merriam-webster.com/dictionary
উপরোক্ত সৃষ্টিতত্ত্ব মতে Nothing থেকে Everything সৃষ্টি হয়নি বরং অত্যন্ত সূক্ষ্ণদর্শী এবং মহা প্রবল প্রতাপশালী মহাজ্ঞানী একক সৃষ্টিকর্তা-ই সুপরিকল্পিত ও সুশৃঙ্খলিত এবং কঠোর নিয়মানুবর্তিতার মধ্য দিয়ে এই মহাবিশ্ব সৃষ্টি করেছেন (সুবহা-নাল্লাহি ওয়াবিহামদিহী, সুবহা-নাল্লাহিল আজীম।
ইমানিশনিজম ছাড়াও আস্তিক্যবাদী সৃষ্টি বিশ্ব ধর্ম সমূহে ভিন্ন ভিন্ন ভাবে উপস্থাপিত হয়েছে যাতে কোথাও সাদৃশ্য আবার কোথাও বৈশাদৃশ্য বিদ্যমান।
ইসলামী সৃষ্টিতত্ত্ব
আস্তিক্যবাদী সৃষ্টি তত্ত্বের অপর নাম “ইসলামী সৃষ্টিতত্ত্ব”। ইসলামী সৃষ্টিতত্ত্বে মহাবিশ্বের মহান সৃষ্টিকর্তা, সৃষ্টির পূর্ব অবস্থা এবং পরের অবস্থা, পরিবর্তন এবং মহা ধ্বংসতত্ত্ব (কেয়ামত) ইত্যাদি সম্পর্কিত পবিত্র কুরআন ও সহীহ্ সুন্নাহ ভিত্তিক বিশদ বিবরণ রয়েছে।
ইসলামী সৃষ্টিতত্ত্ব
বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম
أَوَلَمْ يَرَ الَّذِينَ كَفَرُوا أَنَّ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ كَانَتَا رَتْقًا فَفَتَقْنَاهُمَا ۖ وَجَعَلْنَا مِنَ الْمَاءِ كُلَّ شَيْءٍ حَيٍّ ۖ أَفَلَا يُؤْمِنُونَ
“যারা কুফরি করে তারা কি দেখে না যে, (১) আসমানসমূহ ও যমীন মিশে ছিল ওতপ্রোতভাবে তারপর আমরা উভয়কে পৃথক করে দিলাম।(২); এবং প্রাণবান সব কিছু সৃষ্টি করলাম পানি থেকে (৩); তবুও কি তারা ঈমান আনবে না”? (সূরা আল-আম্বিয়ার ৩০নং আয়াত) মূলঃ তাফসীর ইবনে কাসীর।
وَهُوَ الَّذِىۡ خَلَقَ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضَ بِالۡحَـقِّؕ وَيَوۡمَ يَقُوۡلُ كُنۡ فَيَكُوۡنُ ؕ قَوۡلُهُ الۡحَـقُّ ؕ وَلَهُ الۡمُلۡكُ يَوۡمَ يُنۡفَخُ فِى الصُّوۡرِ ؕ عٰلِمُ الۡغَيۡبِ وَ الشَّهَادَةِ ؕ
“তিনিই সঠিকভাবে নভোমন্ডল সৃষ্টি করেছেন। যেদিন তিনি বলবেন: হয়ে যা, অত:পর হয়ে যাবে। তাঁর কথা সত্য” (সূরা আনআ’মঃ আয়াত ৭৩)
وَ قَالَ الَّذِیۡنَ كَفَرُوۡا لَا تَاۡتِیۡنَا السَّاعَۃُ ؕ قُلۡ بَلٰی وَ رَبِّیۡ لَتَاۡتِیَنَّكُمۡ ۙ عٰلِمِ الۡغَیۡبِ ۚ لَا یَعۡزُبُ عَنۡهُ مِثۡقَالُ ذَرَّۃٍ فِی السَّمٰوٰتِ وَ لَا فِی الۡاَرۡضِ وَ لَاۤ اَصۡغَرُ مِنۡ ذٰلِكَ وَ لَاۤ اَكۡبَرُ اِلَّا فِیۡ كِتٰبٍ مُّبِیۡنٍ ٭ۙ﴿۳﴾
আর কাফিররা বলে, ‘কিয়ামত আমাদের কাছে আসবে না।’ বল, ‘অবশ্যই, আমার রবের কসম! যিনি গায়েব সম্পর্কে অবগত, তা তোমাদের কাছে আসবেই। আসমানসমূহ ও যমীনে অনু পরিমাণ কিংবা তদপেক্ষা ছোট অথবা বড় কিছুই তাঁর অগোচরে নেই, বরং সবই সুস্পষ্ট কিতাবে রয়েছে, আল-বায়ান [সূরা সাবা: ৩]
(খ) বস্তুবাদী সৃষ্টিতত্ত্ব
বস্তুবাদী সৃষ্টিতত্ত্বে কেবল মহাবিশ্বের কিভাবে উৎপত্তি ঘটেছে সে সম্পর্কে ধারণামূলক বিশ্ব সৃষ্টিতত্ত্ব রয়েছে। বস্তুবাদী সৃষ্টিতত্ত্বের অপর নাম “যান্ত্রিক বস্তুবাদ”। এ তত্ত্ব মতে, বস্তুর যান্ত্রিক ধারায় সৃষ্টির অস্তিত্ব লাভ, পরিচালনা এবং ব্যবস্থাপনা ঘটছে। অর্থাৎ যা ঘটেছে, ঘটছে এবং ঘটবে-সবই বস্তুর যান্ত্রিক ধারার অনিবার্য ফসল (নাউ'যুবিল্লাহি মিন জালিক)।
এ ধরণের ধারণা-বিশ্বাস এক ধরণের নিশ্চয়তাবাদের উপর প্রতিষ্ঠিত। এতে যা ঘটবে তা ঘটবেই এবং যা ঘটবে না, তা কখনই ঘটবে না। এ ধরণের বিশ্বাস ইসলামীমতে কেবলমাত্র “অপরিবর্তনশীল তকদির” এর সাথে প্রায় সাদৃশ্যপূর্ণ। তবে, ইসলামী মতে এর অনুঘটক যন্ত্র নয়; সর্বশক্তিমান আল্লাহ।
তবে এমন কিছু ঘটনা/বিষয় রয়েছে যা পরর্বিতনশীল এবং আল্লাহপাকের কুদরতি ইচ্ছায় এর পরবর্তন সাধন হয়ে থাকে অথবা এমন দোয়া-মুনাজাত রয়েছে তা পরর্বিতনশীল তাকদীরের পরর্বিতন ঘটায়। যেমনঃ “বিসমিল্লাহিল্লাজি লা-ইয়াদিররু মাআশফি শাইয়্যুন ফিল আরদ্বি ওয়ালা-- ফিস্ সামা-য়ি ওয়াহুয়াস সামিউল আ’লিম” (সকাল-বিকাল তিন বার করে পাঠ্য)-এই দোয়ার বরকতে মহান আল্লাহ রব্বুল আলামীন পরিবেশ-প্রতিবেশ বা অবস্থার পরিবর্তন ঘটায়- যার (ঘটনা-দূর্ঘটনা) সংঘটন ছিল অনিবার্সয এবং সময়ের ব্যাপার মাত্র।
xxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxx
বিজ্ঞান-প্রযুক্তির জগতে মুসলমানদের মৌলিক ভূমিকা
জ্ঞান-বিজ্ঞানে মুসলমানদের মৌলিক ভূমিকার অমুসলিম স্বীকৃতি
“The Arabs laid the foundation of those methods of experimental research, which in conjunction with mathematical analysis gave birth of modern Science”. (Robert Briffault)“
Source: The contribution of Mohamadans (Muslims) as transmitter of knowledge from ancient to modern European civilization must not be underrated”. (Bertrand Russell: The History of Western Philosophy).
Former President Eisenhower, USA dedicates D.C. Islamic Center, June 28, 1957. He said:
"Civilization owes to the Islamic world some of its most important tools and achievements. From fundamental discoveries in medicine to the highest planes of astronomy, the Muslim genius has added much to the culture of all peoples. That genius has been a wellspring of science, commerce, and the arts and has provided for all of us many lessons in courage and in hospitality.”
“It is a privilege to take part in this ceremony of dedication. Meeting with you now, in front of one of the newest and most beautiful buildings in Washington, it is fitting that we rededicate ourselves to the peaceful progress of all men under one God.
“And I should like to assure you, my Islamic friends, that under the American Constitution, under American tradition, and in American hearts, this center, this place of worship, is just as welcome as could be a similar edifice of any other religion. Indeed, America would fight with her whole strength for your right to have here your own church and worship according to your own conscience.
“This concept is indeed a part of America, and without that concept we would be something else than what we are.”
https://www.whitehousehistory.org/press-room/press-backgrounders/u-s-presidential-visits-to-domestic-mosques
উল্লেখ্য, ওয়াশিংটন ডিসি ইসলামিক সেন্টার আমেরিকায় ইসলামের প্রতীক। ডিসি এলাকায় প্রায় ৬,০০০ মুসলমান ইসলামিক সেন্টার মসজিদে শুক্রবার জুমার নামাজ আদায় করেন। সেন্টারটি প্রথম ১৯৫৭ সালে খোলা হয়।ইসলামিক সেন্টার যুক্তরাষ্ট্রে সৌভ্রাতৃত্বের ধর্ম পবিত্র ইসলামের মৌলিক আদর্শ সে দেশে তুলে ধরার ক্ষেত্রে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তাছাড়া, এ সেন্টারটি ;মুসলমানদের জন্য ইসলামী সাহিত্য চর্চা, অতি দরিদ্র পরিবারকে সাহায্যের প্রদান, ইসলামী শরাহ-শরীয়ত মতে বিয়ে অনুষ্ঠান, শিশু ও বয়স্কদের জন্য সহীহ কুরআনসহ মুসলিম সম্প্রদায়ের পারস্পরিক মিলন মেলা হিসাবে নিরলসভাবে কাজ করছে।
.চন্দ্রপৃষ্ঠে আগ্নেগিরি মুখের তিনজন বিখ্যাত মুসলিম বৈজ্ঞানিক নামে নামকরণ
চন্দ্রপৃষ্ঠে তিনটি আগ্নেগিরি মুখের নামকরণ করা হয়েছে তিনজন বিখ্যাত মুসলমানদের বৈজ্ঞানিক নামের সে বিশ্ববরেণ্য বৈজ্ঞানিক হচ্ছেন ১) আলবেরুনি ২) ইবনে সিনা ৩) ওমর খৈয়াম।
উল্লেখ্য International Astronomical Union কর্তৃক ১৯৭১ সালে এই নামকরণ করা হয়েছিল;।nbsp;(সূত্রঃ ইতিহাসের পাতা থেকে সৈয়দ আশরাফ আলী )এর পূর্বে ১৯৩৫ সালে International Astronomical Union কর্তৃক চন্দ্রপৃষ্ঠের কয়েকটি Lunar Farmers যা তখনকার সময়ে দূরবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে পরিমাপ করা হয়েছে এর মধ্যে যে সমস্ত Lunar Farmers AUকর্তৃক যে কয়েক জন মুসলিম জ্ঞানী-বিজ্ঞানীর নামে নামকরণ করা হয়েছে তারা হলেনঃ আব্দুর রহমান আল সুফি উলুগ বেগ মাশাল্লাহ (প্রকৃতপক্ষে ইনি আরব ইহুদি বিজ্ঞানী আলফা রাগানি আল বাতানি সাবিত ইবনে কুররা আল হাসান ৮. আল হাইশাম ৯ আল যারকালী ১০ যাবির ইবনে আফলাহা ১১. নাসিব আল দ্বীন প্রমুখ।
মধ্যযুগীয় মুসলিম বিজ্ঞানীদের জীবন-কথা
১. জাবির ইবনে হাইয়ানঃ জাবির ইবনে হাইয়ানই সর্বপ্রথম এসিড আবিষ্কারক এবং সালফিউরিক এসিড তরলীকরণে সাফল্য অর্জন করেন। সোডিয়াম কার্বনেট, পটাশিয়াম, আর্সেনিক এবং সিলভার নাইট্রেট উদ্ভাবন তাঁর এক অমূল্য আবিষ্কার। তাকে আধুনিক রসায়ণবিদদের একজন ধরা হয়। তার রচিত ৫০০ বইয়ের মাঝে দর্শন, তর্ক ও রসায়ণ শাস্ত্রে আমরা মাত্র ৮০টি সম্পর্কে জানি।
২. আল-বাতানীঃ তিনি একজন শ্রেষ্ঠ জোর্তিবিদ হিসাবে পাশ্চাত্য জগতে বিশেষভাবে সমাদৃত। বিবিধ ত্রিকোণোমিতিক সমীকরণ সমাধান তার উল্লেখযোগ্য আবিষ্কার। তিনি এর গাণিতিক ছক প্রস্তত করেন। প্রকৃতপক্ষে তিনিই ত্রিকোণমিতি শাস্ত্রের জন্মদাতা।কয়েক শতাব্দী পর্যন্ত তার গ্রন্থগুলো রেফারেন্স বই হিসেবে পঠিত হত।
৩. আল-ইদ্দুসীঃ তিনিই সর্বপ্রথম পৃথিবীর মানচিত্র অংকন করেন যা যথার্থতার দিক থেকে আধুনিক মানচিত্রের কাছাকাছি ছিলো। তিনি সমান্তরাল সরল রেখা দিয়ে পৃথিবীকে ৭টি ভাগে ভাগ করেন।তার বিখ্যাত বই নুগহাত আল মোস্তফা কিফ ইখতিরাক আল অরফাক তিন শতাব্দী পর্যন্ত ইউরোপের প্রধান ভৌগোলিক গ্রন্হ হিসাবে পরিগণিত হত ।
৪. ইবনে আল বিতারঃ এই বিজ্ঞানী জীব বিজ্ঞান ও চিকিৎসা বিজ্ঞানের ব্যবহারিক প্রয়োগের দিকে তিনি বিশেষভাবে মনোযোগী ছিলেন তার বিখ্যাত বই আল জামি লি মোফরাদাত আল আদওয়াইয়া ওয়াল আগদিয়ে ১৮৮১ সালে ফরাসী ভাষায় প্রকাশিত হলে ফরাসী বিজ্ঞানীরা এমন ৮০টিরও বেশী বিষয়ের সাথে পরিচিত হন যা ইতিপূর্বে তাদের অজানা ছিলো।এই অভিধানটিবর্ণানুক্রমিকভাবে সাজানো হয় এবং এতে ১৪০০ প্রকার ওষুধের বর্ণণা ছিল যার ৩০০টি এর আগে কখনো জানা
৫. ইবনুল হায়তামঃদৃষ্টিবিজ্ঞান ও আলোক রশ্মি সংক্রান্ত গবষেণায় তিনি বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেন। তিনিই সর্বপ্রথম চোখের ছবি অংকন করে আলোকের প্রতিফলন ও প্রতিসরণের নিয়মবালী ব্যাখ্যা করেন। তিনি চোখের কাঠামোতে আলোর প্রতিফলন কর্নিয়ার উপর পতিত ছবি, আলোক রশ্মি একত্রীকরণের সূত্র,কোন ছবির সম্প্রসারণ, প্রতিফলন এবং সংযুক্ত এবং বস্তুর রং পরিদর্শন ইত্যাদি ব্যাপারে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন। ১০৩৯ খ্রিস্টাব্দে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
৬.আব্বাস বিন ফিরনাগঃ অটোলিলিয়ান থলের বহু শতাব্দী পূর্বেই কর্ডোভার এই বিজ্ঞানী এক জোড়া পাখা তৈরি করে ৩০০ মিটার উঁচু থেকে ঝাপ দিয়ে স্পেনের কর্ডোভা নগরীর উপর দিয়ে যান। কিন্তু গতি নিয়ন্ত্রণ ও দিক পরিবর্তনের কোন ব্যবস্হা না থাকায় তিনি ভারসাম্য হারিয়ে মাটিতে পড়ে গিয়ে জীবন বিসর্জন দেন এবং ভবিষ্যৎ বংশধরদের জন্য রেখে যান চিন্তুার জগতে এক প্রাতঃস্মরণীয় ঘটনা যা থেকে বিমান, রকেট প্রযুক্তির উদ্ভব ঘটে। এমনিভাবে এমন আরো অনেক মুসলিম বিজ্ঞানী ও দার্শনিক আছেন যাদের অনেক-কেই আমরা জানিনা ।তাই বিংশ শতাব্দীর ক্রান্তিলগ্নে দাড়িয়ে আমাদেরকে স্মরণ করতে হবে সোনালী যুগের সেই দিনগুলির কথা যখন আমরা জ্ঞানে বিজ্ঞানে বিশ্বকে নেতৃত্ব দিয়েছিলাম। আমাদেরকে আবারও জ্ঞানে বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে ঘটাতে হবে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন । যে বিজ্ঞানের অবদানে হবেনা হিরোশিমা ও নাগাসাকির মতো ধ্বংসলীলা যা বয়ে আনবে ইনশা আল্লাহ মানবজাতির জন্য এক মহা প্রশান্তি।
(সূত্রঃ ইতিহাসের পাতা থেকে/গ্রন্থকারঃ আশরাফ আলী)
হেরা গুহা ; ইসলামী জ্ঞান-বিজ্ঞানের সূচনাস্থল
১) হেরা গুহা (غارnbsp;حراءnbsp;Ġār Ḥirāʾ) সৌদি আরবের মক্কায় জাবালে নূর পর্বতে অবস্থিত একটি গুহা।সর্বপ্রথম কুরআন অবতীর্ণ হওয়ার স্থান হিসেবে এই গুহা প্রসিদ্ধ। ইসলামের ইতিহাসমতে, পবিত্র লাইলাতুল ক্বদরে আল্লাহর তরফ থেকে ফেরেশতা সর্দার জিব্রাইল আলাইহিমুস সালাম এই গুহায় সূরাহ আল আলাক্বের প্রথম ৫ আয়াত নিয়ে সর্বপ্রথম হযরতমুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এই হেরা গুহায় মোরাকাবা ,মোশাহাদারত অবস্থায় কুরআনের বাণী নিয়ে এসেছিলেন। জাবালে নূরঃসৌদি আরবের মক্কা নগরীর কাছে অবস্থিত এক ঐতিহাসিক পর্বতের নাম জাবালে নূর। আক্ষরিক অর্থে আরবি জাবালে নূর শব্দের মানে দাঁড়ায় আলোর পর্বত। এই আলো শুধু আক্ষরিক অর্থেই সীমাবদ্ধ নেই। কেননা, এই পর্বতে অবস্থিত হেরা গুহায় নাজিল হয়েছিল পবিত্র আল কোরআন।
২) দারুল আরকাম মক্কা আল মুয়াজ্জিমাদারুল আরকাম এর শাব্দিক অর্থ হলো, আরকাম নামক ব্যক্তির ঘর। আরকাম একজন সাহাবীর নাম। উনার পূর্ণ নাম হলো, আরকাম ইবনে আবুল আরকাম। শুরু যুগে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নতুন ইসলামে দীক্ষিত সাহাবীদেরকে নিয়ে আরকাম রা. এর ঘরে সমবেত হতেন। এবং তাদেরকে দীনী বিষয়াদি শিক্ষা দিতেন। এটা হলো ইসলামের প্রথম মাদরাসা বা ধর্মীয় পাঠশালা https://ar.wikipedia.orgnbsp;
আসহাবে সুফফা
Article content
এই সেই পবিত্র মাসাজিদ আন নবী (সল্লাল্লাহু আ'লাইহি ওয়াসাল্লাম চত্বর
আসহাবে সুফফার সাহাবীরা সাধারণত সহায়সম্বলহীন ছিলেন, যারা ব্যবসায়, শিল্প, কৃষি এবং ইসলাম শিখতে চেষ্টা করছেন। তারা কোন হস্তকর্মে শিক্ষিত ছিলেন না, তাই তারা সাধারণত মুহাম্মাদ-এর সাহচার্যে ও কুরআন তিলাওয়াত করে দিন কাটিয়ে দিতেন এবং ইসলামি জ্ঞান অর্জন করতেন। তারা উবাদা ইবনু সামিতের অধীনে কুরআন ও সুন্নাহ অধ্যয়ন করতেন। যখন তৎকালীন ইসলামী সরকার ধর্মীয় গবেষণায় শিক্ষক হিসাবে কাউকে নিয়োগ দিতেন, তখন এদের মধ্যে কেউ একজন শিক্ষক হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হতেন।
সুফফা হলো ছাদবিশিষ্ট প্রশস্ত স্থান। সুফফার মূল ভূমির উচ্চতা ছিল প্রায় অর্ধমিটার। প্রাথমিক পর্যায়ে এর দৈর্ঘ্য ছিল ১২ মিটার এবং প্রস্থ ছিল ৮ মিটার। মসজিদে নববির উত্তর-পূর্বাংশে নির্মিত সুফফার দক্ষিণ দিকে ছিল রাসুলুল্লাহ (সা.) ও তাঁর স্ত্রীদের অবস্থানের কক্ষগুলো এবং সংলগ্ন পশ্চিম পাশে ছিল মেহরাব। প্রাথমিকভাবে সুফফা মুহাজির সাহাবিদের অবস্থানের জন্য নির্মিত হয় বলে এটি ‘সুফফাতুল মুহাজিরিন নামে পরিচিতি লাভ করে। পরে এটি বাইরে থেকে আগত শিক্ষার্থী সাহাবি এবং মদিনার উদ্বাস্তু সাহাবিদের রাত্রিকালীন আবাসস্থল ও দিবাভাগে শিক্ষায়তন হিসেবে ব্যবহৃত হতো। বিপুলসংখ্যক সাহাবি এখানে অবস্থান করতে পারতেন। সুফফা ছিল ইসলামের প্রথম আবাসিক মাদরাসা।
ইসলামী জ্ঞান-বিজ্ঞানের ইতিকথা
উমাইয়া যুগে মুসলিম জ্ঞান-বিজ্ঞান
উমাইয়া খলিফা কাতেবে ওয়াহি হযরত আমীরে মুয়াবিয়া (প্রথম) রদ্বিয়াল্লাহু দামেস্কে বইয়ের একটি সংগ্রহ গড়ে তোলেন। এখানে ইসলামী তিব্ব অর্থাৎ চিকিৎসা, আলকেমি ও অন্যান্য বিষয়ের উপর গ্রিক ও খ্রিষ্টান উৎসের গ্রন্থ ছিল।
দামেস্কভিত্তিক এই গ্রন্থশালাকে তৎকালীন 'বাইতুল হিকমাহ' (বিজ্ঞানালয়) মনে করা হত। তবে পূর্ণাঙ্গরূপে বাইতুল হিকমাহ প্রতিষ্ঠিত হয় আব্বাসী খেলাফত কালীন সময়ে। https://bn.wikipedia.org/wiki//আরব_বিশ্ব
উল্লেখ্য, উমাইয়ারা চৈনিকদের কাছ থেকে কাগজ তৈরীর প্রক্রিয়া রপ্ত করে। তারা নিজেদের অধীনে অনেক বুদ্ধিবৃত্তিক কেন্দ্র সৃষ্ট করে খ্রিষ্টান ও পারসিয়ান (ইরানী) জ্ঞানী-গুণীদের আরবিতে অনুবাদ ও নতুন জ্ঞান সৃষ্টির জন্য নিয়োগ প্রদান করা হতো। আরব বিশ্বে জ্ঞানের উন্মেষের জন্য এসব ঘটনা ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।
উমাইয়া যুগে মুসলিম জ্ঞান-বিজ্ঞান
বিজ্ঞানের ইতিহাসে একটি জনশ্রুতি আছে যে, হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু আনহু রাসায়নিক ফর্মুলা হিসেবে পারদ ও অভ্র দিয়ে বিদ্যুৎ সদৃশ বস্তুর ব্যবহারের ইঙ্গিত দিয়ে বলেছিলেনঃ (AI overview)
https://www.google.com/searchহযরত+আলী+রা+বলেছিলেন+পারদ&oq=হযরত+আলী+রা+বলেছিলেন+পারদ+&gs_lcrp=EgZjaHJvbWUyDggAEEUYChg5GKABGMMEMgcIARAhGI8CMgcIAhAhGI8C0gEJMzkwODJqMGo3qAIAsAIA&sourceid=chrome&ie=UTF-8
যুজ আল ফারার ওয়তি তালাক
ওয়াশ্ শাইয়ান আশবাহুল বারাক
ইজাসাম জালাত ওয়া আস কাহাত
মালাক তাল গারার ওয়াশ শারার
অর্থ: “পারদ ও অভ্র একত্র করে যদি বিদ্যুৎ ও বজ্রসদৃশ কোনো বস্তুর সঙ্গে সংমিশ্রণ করতে পার, তাহলে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের মালিক হতে পারবে।” সম্ভবতঃ বিষয়টির মূল্যায়ন করে কথিত আছে যে, আমিরে মুয়াবিয়ার দৌহিত্র খালিদ ইবনে ইয়াজিদ সিংহাসনের আকাঙ্খা ত্যাগ করে রসায়ন বিজ্ঞান গবেষণাগার বা ল্যাবরেটরী প্রতিষ্ঠা করে স্বর্ণ তৈরির কৃত্রিম ফর্মুলা আলকেমির চর্চা করেছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে যে, পৃথিবীর বিস্তৃর্ণ এলাকা জয়ের ফলে প্রশাসনিক আর্থিক সংস্থানের অন্যতম রাজস্বের উৎস ছিল উক্ত আলকেমিক স্বর্ণ প্রযুক্তি।
বাইতুল হিকমাহ (আরবি: بيت الحكمة; Bayt al-Hikma) বা জ্ঞানগৃহ ছিল আব্বাসীয় আমলে ইরাকের বাগদাদে প্রতিষ্ঠিত একটি গ্রন্থাগার, অনুবাদকেন্দ্র ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।[১] এটিকে ইসলামি স্বর্ণযুগের একটি প্রধান বুদ্ধিবৃত্তিক কেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়।[২][৩][৪] বাইতুল হিকমাহ খলিফা হারুনুর রশিদ (শাসনকাল ৭৮৬-৮০৯ খ্রিষ্টাব্দ) প্রতিষ্ঠা করেন এবং তার পুত্র আল মামুন (শাসনকাল ৮১৩-৮৩৩ খ্রিষ্টাব্দ) এর সময় তা সর্বোচ্চ চূড়ায় পৌছায়। জ্ঞানের আদানপ্রদানের জন্য আল মামুন অনেক জ্ঞানীগুণী ব্যক্তিকে বাইতুল হিকমাহতে নিয়ে আসেন। ৯ম থেকে ১৩ শতক পর্যন্ত পারসিয়ান ও খ্রিষ্টানসহ[৫] অসংখ্য পণ্ডিত ব্যক্তি এই গবেষণা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সাথে জড়িত ছিলেন। আরবিতে গ্রন্থ অনুবাদ ও সংরক্ষণের পাশাপাশি পণ্ডিতরা বিভিন্ন ক্ষেত্রে মৌলিক অবদান রাখেন।[৬][৭]
আল মামুনের শাসনামলে মানমন্দির স্থাপিত হয়। এসময় এই প্রতিষ্ঠানটি গণিত, জ্যোতির্বিদ্যা, চিকিৎসাবিজ্ঞান, আলকেমি, প্রাণিবিদ্যা, ভূগোল ও মানচিত্রাঙ্কনবিদ্যাসহ বিভিন্ন বিষয়ে জ্ঞানচর্চার অপ্রতিদ্বন্দ্বী স্থান হয়ে উঠে। ভারতীয়, গ্রীক ও পারসিয়ান রচনা ব্যবহার করে পণ্ডিতরা বৈশ্বিক জ্ঞানের বিরাট ভান্ডার অর্জন করেন এবং এর মাধ্যমে তাদের নিজেদের আবিষ্কারের দিকে এগিয়ে যান। নবম শতকের মধ্যভাগে বাইতুল হিকমাহ ছিল পৃথিবীর সবচেয়ে বৃহৎ গ্রন্থভান্ডার।[৭]
মোঙ্গলদের বাগদাদ অবরোধের সময় শহরের পতন হলে এই গ্রন্থাগারটিও ধ্বংস হয়ে যায়।
cccccccccccccccccccccccccccccccccccccccccccccccccccccccccccccccccccccccccccccccc
আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞানে মুসলিম বিজ্ঞানীদের ভূমিকা
রসায়ন বিজ্ঞানের প্রাণ আধুনিক পর্যায় সারণীর স্থপতি জাবের ইবনে হাইয়ান
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন