ইষ্টার্ণ ইসলামিক সায়েন্স টেক নিউজ (দ্বিতীয় সংস্করণ)

গবেষণা এবং আল কুরআন চিন্তা-ভাবনা-গবেষণার প্রতি উৎসাহিত করে মহান আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে ফরমান :- كِتَابٌ أَنزَلْنَاهُ إِلَيْكَ مُبَارَكٌ لِّيَدَّبَّرُوا آيَاتِهِ وَلِيَتَذَكَّرَ أُولُو الْأَلْبَابِ ◯“আমি আপনার নিকট বরকতময় কিতাব (আল কুরআন) নাযিল করেছি, যাতে করে তার আয়াতসমূহ নিয়ে তারা গবেষণা করে।” (সূরাহঃ ছ-দ) ২৯)- أَفَلَا يَتَدَبَّرُونَ الْقُرْآنَ ۚ وَلَوْ كَانَ مِنْ عِندِ غَيْرِ اللَّـهِ لَوَجَدُوا فِيهِ اخْتِلَافًا كَثِيرًافَلَا “তারা কি কুরআন সম্পর্কে চিন্তা-ভাবনা করে না? উহা যদি আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো নিকট হতে আসত তবে তারা তাতে অনেক মতপার্থক্য পেত।” (নিসা- ৮২) আল কোরআন নিয়ে চিন্তা-গবেষণার গুরুত্ব ٢٤- أَفَلَا يَتَدَبَّرُونَ الْقُرْآنَ أَمْ عَلَىٰ قُلُوبٍ তারা কি কুরআন নিয়ে গবেষণা করে না? নাকি তাদের অন্তরে তালা মেরে দেয়া হয়েছে?” (সূরা মুহাম্মাদ- ২৪) - أَفَلَمْ يَسِيرُوا فِي الْأَرْضِ فَتَكُونَ لَهُمْ قُلُوبٌ يَعْقِلُونَ بِهَا أَوْ آذَانٌ يَسْمَعُونَ بِهَا فَإِنَّهَا لَا تَعْمَى الْأَبْصَارُ وَلَـٰكِنْ تَعْمَى الْقُلُوبُ الَّتِي فِي الصُّدُورِ ◯ ‘তারা কি ভূপৃষ্ঠে ভ্রমণ করে না, যাতে তারা জ্ঞান-বুদ্ধিসম্পন্ন হৃদয় ও শ্রুতিসম্পন্ন শ্রবণের অধিকারী হতে পারে! বস্তুত চক্ষু তো অন্ধ নয়, বরং অন্ধ হচ্ছে তাদের হৃদয়। (সূরা হজ : ৪৬) - أَفَلَا يَنظُرُونَ إِلَى الْإِبِلِ كَيْفَ خُلِقَتْ ١٧ ◯ 17. Do they not look At the Camels, How they are made ?— ١٨- وَإِلَى السَّمَاءِ كَيْفَ رُفِعَتْ ◯ 18. And at the Sky, How it is raised high ?— ١٩- وَإِلَى الْجِبَالِ كَيْفَ نُصِبَتْ ◯ 19. And at the Mountains, How they are fixed firm ?— ٢٠- وَإِلَى الْأَرْضِ كَيْفَ سُطِحَتْ ◯ ‘তবে কি তারা লক্ষ্য করে না উটের প্রতি, কীভাবে তা সৃষ্টি করা হয়েছে এবং আকাশের প্রতি, কীভাবে তাকে উঁচু করা হয়েছে এবং পাহাড়সমূহের প্রতি, কীভাবে তাকে প্রথিত করা হয়েছে এবং ভূমির প্রতি,কীভাবে তা বিছানো হয়েছে’ (সূরা গাশিয়া ১৭-২০) ١٩٠- إِنَّ فِي خَلْقِ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَاخْتِلَافِ اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ لَآيَاتٍ لِّأُولِي الْأَلْبَابِ ◯ ١٩١- الَّذِينَ يَذْكُرُونَ اللَّـهَ قِيَامًا وَقُعُودًا وَعَلَىٰ جُنُوبِهِمْ وَيَتَفَكَّرُونَ فِي خَلْقِ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ رَبَّنَا مَا خَلَقْتَ هَـٰذَا بَاطِلًا سُبْحَانَكَ فَقِنَا عَذَابَ النَّارِ ◯ ‘নিশ্চয়ই মহাকাশ ও পৃথিবী সৃষ্টিতে এবং দিবা-রাত্রির আবর্তনের মধ্যে বোধসম্পন্ন লোকদের জন্য নিদর্শন রয়েছে। যারা দাঁড়িয়ে, বসে ও শায়িত অবস্থায় আল্লাহকে স্মরণ করে এবং মহাকাশ ও পৃথিবীর সৃষ্টির বিষয়ে চিন্তা-গবেষণা করে এবং বলে হে আমাদের প্রতিপালক! এ সবকিছু তুমি অনর্থক সৃষ্টি করনি। সব পবিত্রতা একমাত্র তোমারই। আমাদের তুমি দোজখের শাস্তি হতে বাঁচাও। (সূরা আল-ইমরান ১৯০-৯১) জ্ঞান কি? What is Knowledge? কোন বিষয় বা বস্তু সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গরূপে জানা বা বুঝার অনুভব-উপলদ্ধি-কে জ্ঞান বলা যেতে পারে। এই জ্ঞান বাস্তব দর্শন,শোনা কিংবা নিবিড় অধ্যয়নের মাধ্যমে হতে পারে। এই জ্ঞান তাই প্রধানতঃ দু'প্রকার । যথাঃ (১) তাত্ত্বিক জ্ঞান এবং (২) বাস্তব বা ব্যবহারিক জ্ঞান। দর্শন বিজ্ঞানের আলোচিত জ্ঞান-কে "তত্ত্ব জ্ঞান" বলা হয়। দার্শনিক প্লেটো জ্ঞানকে "প্রমাণিত সত্য বিশ্বাস" বলে সংজ্ঞায়িত করেন। অভিজ্ঞতালদ্ধ কিংবা অনুভব-উপলদ্ধিজাত পঠিত এবং লিখিত উপকারী অথবা অপকারী সর্ব প্রকার জ্ঞান-কে ইসলামী পরিভাষায "ঈলম" এবং বিজ্ঞান বা প্রজ্ঞা-কে "হিকমাহ" বলা হয়। উপকারী ঈলম বা জ্ঞান-কে পবিত্র হাদিসে ইসলামী পরিভাষায় "ঈলমান নাফিয়ান" উপকারী জ্ঞান বলা হয়েছে যা অর্জনে পবিত্র হাদীসে উৎসাহিত করা হয়েছে। ইসলামীমতে সর্বোত্তম জ্ঞান হচ্ছেঃ দীনের সহীহ জ্ঞান। অন্তর্দৃষ্টি সম্পন্ন জ্ঞানকে ইসলামী পরিভাষায় রুশদ, ইলহাম, ইলকা বলা হয়। অন্তর্দৃষ্টিকে বলা হয় কাশফ। বিজ্ঞানীরা সাধারণতঃ অন্তদৃষ্টি সহকারে গবেষণার মূল প্রতিপাদ্য বিষয়ে পরীক্ষা, নিরীক্ষা, সমীক্ষা, পর্যবেক্ষণ, পর্যালোচনা শেষে যে চূড়ান্ত এবং মৌলিক সিদ্ধান্তে উপনীত হন তাকেইআবিস্কার বলা হয়। আইনস্টাইন তাই দাবী করতেন, তিনি জ্ঞানে নয় বরং কল্পনাশক্তিতে গবেষণা করেন। পক্ষান্তরে স্যার আইজাক নিউটন বলতেনঃ তাঁর সকল আবিস্কার হচ্ছে সৃষ্টিকর্তার নিকট প্রার্থনার (দোয়ার) ফসল। রূহঃ মহাবিশ্বের মহাবিস্ময়! মধ্যযুগের জ্ঞান-বিজ্ঞানের সোনালী যুগের আরবের শ্রেষ্ঠ প্রাণ রসায়ন এবং পদার্থ বিজ্ঞানী জাবির ইবনে হাইয়ান ‘রূহ’ ও ‘জিসম’ এই দুই বিষয়কে দুটি ভাগে ভাগ করেছেন। ‘রূহ’ মানে আত্মা (Sole) এবং ‘জিসম’ মানে দেহ (Body)। জিসমের অন্য নাম হলো ‘নফস’। রূহ জীবিত, নফ্স মৃত। সাধারণতঃ আরবি পরিভাষায় যে কোন পদার্থের পরিচ্ছন্নতা, স্বচ্ছতা বা উজ্জ্বলতাকে বলা হয় আত্মা বা রূহ। অপরিষ্কার ও অনুজ্জ্বল পদার্থকে বলা হয় মৃত বা নফ্স। উল্লেখ্য মহান আল্লাহর শান-মান-বড়ত্বকে স্মরণ করার নাম জিকরুল্লাহ। এতে ক্বলব (হৃদয়-আত্মা) পরিচ্ছন্ন, স্বচ্ছ এবং উজ্জ্বল অর্থাৎ ঈমানী, রূহানী, নূরানী) হয় বলে-বলা হয় "যার ক্বলবে আল্লাহপাকের স্মরণ (জিকর) আছে তার ক্বলব জিন্দা বা জীবিত, যার ক্বলবে আল্লাহ তা'য়ালার স্মরণ নেই- তার ক্বলব মুরদা বা মৃত"। যাহোক জাবির ইবনে হাইয়ানের মতে, প্রত্যেক রাসায়নিক দ্রব্যই অন্যসব জীবজন্তুর মত দেহ এবং আত্মার সন্বয়ে গঠিত। এর একটি হলো দৈহিক অংশ ও অন্যটি হলো আত্মিক অংশ। রাসায়নিকের কাজ হলো দেহ এবং আত্মা সঠিকভাবে বিন্যাস করে যে, দেহে আত্মা যতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়ে অবস্থান করতে পারে, সেই দেহকে ততটা সুগঠিত করে দেওয়া। ধাতুর রূপান্তরের কাজটি অনেকটা আত্মাকে দেহের মধ্যে সন্নিবেশ করার মতই। প্রত্যেক প্রাণী পানি থেকে উদ্ভূত মর্মে পবিত্র কুরআনে বর্ণিত আছে। তবে ব্যতিক্রম মানবাত্মা বা রুহ। রুহ কি? এ প্রশ্নের জবাবে আল্লাহ তায়ালা ফরমানঃ وَيَسْــَٔلُونَكَ عَنِ ٱلرُّوحِ‌ۖ قُلِ ٱلرُّوحُ مِنْ أَمْرِ رَبِّى وَمَآ أُوتِيتُم مِّنَ ٱلْعِلْمِ إِلَّا قَلِيلاً আর তারা তোমাকে রূহ সম্পর্কে প্রশ্ন করে। বল, ‘রূহ আমার রবের আদেশ থেকে, আর তোমাদেরকে জ্ঞান থেকে অতি সামান্যই দেয়া হয়েছে’। আল-বায়ান সূরাঃ ১৭/ আল-ইসরা (বনী-ইসরাঈল) | Al-Isra (Bani-Israil) | اٌلاِسْرٰاء (بَنِي إِسْرَائِيل) আয়াতঃ ৮৫ মাক্কী https://www.hadithbd.com/quran/link/?id=2114 মহাবিশ্বকে যদি দেহ ধরা হয় তাহলে তার আত্মা বা রুহ হচ্ছে উচ্চশক্তির বিকিরণ (Highest Energetic Radiation) যার মহাবিস্ফোরণে (Big Bang) মহাবিশ্বের (Universe) উদ্ভব। স্ট্রিং থিওরি এবং কণা পদার্থ বিজ্ঞানমতে, প্রত্যেক পদার্থ কম্পন থেকে উৎপন্ন আর কম্পন শক্তি থেকে উদ্ভব। সুতরাং প্রত্যেক বস্তুর দেহ হলো ইলেকট্রন+কোয়ার্ক আর তার রূহ বা আত্মা হলো শক্তি (Energy)। চাঁদের পিঠে উল্কাপাতঃ পৃথিবীতে নয় কেন? আড়াই শ বছর আগের এক সন্ধ্যা। ইউরেনাস আবিষ্কারের ছয় বছর পেরিয়ে গেছে। আবিষ্কর্তা উইলিয়াম হার্শেল তখন খ্যাতির শীর্ষে। ১৭৮৭ সালের এপ্রিল মাসের কথা। দিনটি ছিল ঠিক অমাবস্যার পরদিন। তারিখ ১৯ এপ্রিল। সেদিন সন্ধ্যাবেলায় হার্শেল তাঁর দূরবীক্ষণ যন্ত্র নিয়ে তাকিয়ে ছিলেন চাঁদের দিকে। যে যন্ত্র দিয়ে তিনি ইউরেনাস আবিষ্কার করেছিলেন, এটি কিন্তু সেই যন্ত্র নয়। মাপে বেশ বড়। এটি তিনি নতুন করে তৈরি করেছিলেন। সে প্রায় ১০ ফুট দীর্ঘ দূরবীক্ষণ যন্ত্র। আর এই যন্ত্র দিয়েই ওই দিন এক অদ্ভুত ঘটনা তিনি দেখতে পেয়েছিলেন চাঁদের পিঠে।হঠাৎ তাঁর চোখে পড়েছিল আলোর ঝলক। এক জায়গায় নয়, তিনটি অঞ্চলে আগুন জ্বলে ওঠার চিহ্ন। আতশবাজির মতো। সব অঞ্চলে আগের দিন আলোর ঝলক দেখেছিলেন, সেদিকে। তিনটি গর্ত। একটি হলো চাঁদের থালার এক ধারে, নাম অ্যারিস্টার্কাস। তখন অবশ্য অন্য নাম ছিল। জোহানেস হ্যাভেলিয়াস, যিনি চাঁদের প্রথম মানচিত্র তৈরি করেছিলেন, তিনি নাম রেখেছিলেন মুন পরফেরাইট। উল্লেখ্য, তিনিও ২০০ বছর আগে, ১৬৫০ সালে এই অঞ্চলে লালচে ঝলক দেখেছিলেন। প্রাচীন গ্রিসের বিখ্যাত জ্যোতির্বিদ অ্যারিস্টার্কাসের সম্মানে এর নামকরণ করা হয়েছে। বাকি দুটি অঞ্চল ছিল চাঁদের থালার মাঝামাঝি জায়গায়। গর্ত দুটির নাম মেনিলাউস ও ম্যানিলিউস। পাশাপাশি অবস্থান এগুলোর। দূরত্ব বেশি নয়। ৪০০ কিলোমিটারের কম। কলকাতা-ঢাকার মতোই কাছাকাছি। যেখানে ১৯৬৯ সালে নীল আর্মস্ট্রং নেমেছিলেন, সেখান থেকে প্রায় হাজার কিলোমিটার দূরে রয়েছে গর্ত দুটি। হার্শেল পরদিনও দেখতে পেলেন, সেই অঞ্চলগুলো তখনো জ্বলজ্বল করছে। সেই অংশগুলো তখনো অন্ধকারে ঢাকা। তাঁর মনে হয়েছিল যেন গনগন করে কয়লার টুকরা জ্বলছে। লাল-কমলা রঙের আভা এবং তার ওপরে সাদা ছাইয়ের একটা পাতলা আস্তরণ যেন। যেমনটা দেখা যায় কয়লার উনুনে। কম আগুনে জ্বলতে থাকা কয়লার উনুন দেখছেন, এমনটা মনে হয়েছিল তাঁর। হার্শেল দুরবিন ঘুরিয়ে বৃহস্পতির একটি উপগ্রহের সঙ্গে চাঁদের এই উজ্জ্বল অঞ্চলটির মাপ তুলনা করে নিয়েছিলেন। প্রথম উজ্জ্বল অঞ্চলটির মাপ তাঁর মনে হয়েছিল পাঁচ কিলোমিটারের বেশি। ঠিক গোলাকার নয়, তবে অঞ্চলের সীমানারেখাটি খুব স্পষ্ট। উজ্জ্বল অঞ্চলটি যেন এক জায়গায় এসে হঠাৎ শেষ হয়ে গেছে। তিনি মনে করেছিলেন, এটা অগ্ন্যুৎপাতের চিহ্ন। চাঁদে যখন পাহাড় আছে, তখন আগ্নেয়গিরি থাকাও সম্ভব। তিনি এই নতুন আবিষ্কারে খুব উত্তেজিত হয়ে পড়েছিলেন। তাঁকে তখন ইউরেনাস আবিষ্কর্তা হিসেবে রাজকোষ থেকে বার্ষিক ভাতা দেওয়া হতো। তিনি তখনকার ইংল্যান্ডের রাজা তৃতীয় জর্জকে নিমন্ত্রণও করেছিলেন একবার এসে দুরবিনে এই আশ্চর্য দৃশ্য দেখে যাওয়ার জন্য। ১৯৫৩ সালে আরেকটি ঘটনা ঘটেছিল। আমেরিকার ওকলাহোমা প্রদেশে টুকলা নামের জায়গায় এক চিকিৎসক ছিলেন, নাম লিওন স্টুয়ার্ট। তিনি আবার শখের জ্যোতির্বিদও ছিলেন। রোগী দেখতে যেতে না হলে সন্ধ্যাবেলাটা দূরবীক্ষণ যন্ত্র দিয়ে আকাশের তারা দেখেই কাটাতেন। মাঝেমধ্যে তাঁর ক্যামেরা সেই দুরবিনের সঙ্গে জুড়ে দিয়ে ছবিও তুলতেন। সেই বছর নভেম্বর মাসের ১৫ তারিখে তিনি এক জবর ছবি তুলেছিলেন। চাঁদের পিঠে বিস্ফোরণের ছবি। সেদিনও শুক্লপক্ষের চাঁদ ছিল, কিন্তু অর্ধেক আলোকিত। অন্ধকার অংশে এক জায়গায় হঠাৎ তিনি দেখলেন, এক আলোর ঝলক। ৮ থেকে ১০ সেকেন্ড পরই মিলিয়ে গেল। কিন্তু ততক্ষণে তিনি ছবি তুলে নিয়েছেন। ঘুম রহস্য উনিশ শতকের প্রথম দিকে মস্তিষ্কের নিউরন বা স্নায়ুকোষ এবং এর কাজ সম্পর্কে ব্যাপক ধারণা লাভ করতে থাকেন বিজ্ঞানীরা। ঘুমের ফিজিওলজি বা সারকাডিয়ান রিদম সম্পর্কে পুরোপুরি জানার আগেই পৃথিবীতে প্রথম ঘুমের ওষুধ আবিষ্কার করা হয়ে যায় ১৯৩০ সালে—বারবিটাল বা বারবিচুরেট। ৩০ বছরের মধ্যে বারবিচুরেট যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে ব্যবহৃত ‘আসক্তিকর’ বা অ্যাবিউজড ওষুধে পরিণত হয়। ১৯১১ সালে বিজ্ঞানী হেনরি পিয়েরন প্রথম বলেন যে মস্তিষ্কে কিছু রাসায়নিক পদার্থ আমাদের ঘুম পাড়াতে সাহায্য করে, যার নাম তিনি দেন হিপনোটক্সিন। ঘুমের ফিজিওলজির সবচেয়ে বিশদ ব্যাখ্যা দেন বিজ্ঞানী নাথানিয়েল ক্লেইটমেইন, ১৯২৫ সালে। মস্তিষ্কের কর্মকাণ্ডের তরঙ্গগুলো আবিষ্কার করছেন হার্ভে আর হোবার্ট। কথিত আছে, একবার নাথানিয়েল ক্লেইটম্যান টানা ১৮০ ঘণ্টা জেগে ছিলেন ঘুমের অভাবে শরীরে কী কী সমস্যা হয় তা দেখতে। আরেকবার সহকর্মী রিচার্ডসনকে নিয়ে তিনি কেন্টাকির ম্যামথ গুহায় এক মাস অন্ধকারে লুকিয়ে থাকেন টানা অন্ধকার সারকাডিয়ান রিদমে কী প্রভাব ফেলে তা দেখার জন্য। অবশেষে ১৯৩৯ সালে ক্লেইটম্যানের যুগান্তকারী গ্রন্থ স্লিপ অ্যান্ড ওয়েকফুলনেস প্রকাশিত হয়। পরে তাঁর সঙ্গে যোগ দেন আরেক বিজ্ঞানী ইউজেন এসিরিনস্কি। ঘুম-জাগরণ-স্বপ্নের রহস্যময় জগতের সিংহভাগই এ দুই গবেষকের হাতে উন্মোচিত। আমাদের ঘুমের আছে নির্দিষ্ট ফিজিওলজি বা শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া। মূলত ঘুমের দুটি পর্যায়—রেম স্লিপ (র্যাপিড আই মুভমেন্ট) আর ননরেম (ননর্যাপিড আই মুভমেন্ট) স্লিপ। ননরেমের আবার চারটি উপপর্যায় আছে। ঘুমের মধ্যে অবিরত এই ননরেম আর রেম পর্যায়ের চক্র চলমান থাকে। এই চক্রের বিশৃঙ্খলা ঘটলেই নানা ধরনের স্লিপ ডিজঅর্ডার ঘটে। ঘুম শুরু হয় ননরেমের প্রথম পর্যায় বা স্টেজ ওয়ানের ক্ষুদ্র এপিসোড দিয়ে। তারপর দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ পর্যায় শেষ করে প্রবেশ করে রেম পর্যায়ে। ঘুমন্ত অবস্থায় ৭৫ থেকে ৮০ শতাংশ জুড়ে থাকে ননরেম পর্যায়, আর রেম থাকে ২০ থেকে ২৫ শতাংশ। ননরেম ও রেমের প্রথম চক্রটি সাধারণত ৭০-১০০ মিনিট স্থায়ী হয়। পরবর্তী সময়ে স্থায়িত্ব বাড়তে থাকে। রাত গভীর হতে থাকলে একেকটি চক্র ৯০ থেকে ১২০ মিনিট স্থায়ী হতে থাকে। রাত যত গভীর হয়, রেম পর্যায়ের স্থায়িত্ব তত বাড়ে। ননরেমের প্রথম পর্যায়টি খুবই কম স্থায়িত্বের, সাধারণত ১ থেকে ৭ মিনিটের, হালকা ঘুম। এ সময় মস্তিষ্কে লো ভোল্টেজ আলফা ওয়েভ দেখা যায়। আলফা ওয়েভ জাগরণমুখী রিল্যাক্সেশন পর্যায়। ফলে এ সময় অল্পতেই ঘুম ভেঙে যায়। দ্বিতীয় পর্যায় ১০ থেকে ২৫ মিনিটের, লো ভোল্টেজ স্লিপ স্পিন্ডল আর কে কমপ্লেক্স দেখা দেয় মস্তিষ্কে। এই স্লিপ স্পিন্ডল আমাদের স্মৃতি সঞ্চয়ের কাজের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এ সময় মস্তিষ্ক মেমোরি বা স্মৃতিকে সুরক্ষিত করার কাজটি করে। পরবর্তী দুটি পর্যায় হাই ভোল্টেজ স্লো ওয়েভ অ্যাকটিভিটির। এরপরই মস্তিষ্ক প্রবেশ করে রেম স্লিপে। রেম মানে র‌্যাপিড আই মুভমেন্ট, এ সময় চোখের মণি দ্রুত নড়াচড়া করে। মাংসপেশি শিথিল হয়ে পড়ে আর আমরা স্বপ্ন দেখতে শুরু করি। কেউ যদি এই রেম স্লিপের সময় হঠাৎ জেগে ওঠে, তবে স্বপ্নগুলো মনে করতে পারে, নয়তো পারে না। রেম পর্যায়েও মস্তিষ্ক স্মৃতি সঞ্চয়ের কাজ করে। ঘুমের সময় যে কেবল মস্তিষ্কের তরঙ্গগুলোর পরিবর্তন ঘটে তা নয়, সমস্ত শরীরেই চলতে থাকে নানা পরিবর্তন। যেমন হৃদ্‌স্পন্দন, রক্তচাপ, শ্বাসপ্রশ্বাসের ওঠানামা চলতে থাকে বিভিন্ন পর্যায়ে। রেম স্লিপের সময় মস্তিষ্কের কয়েকটি নির্দিষ্ট এলাকায় বিপাক ক্রিয়ায়ও রক্তপ্রবাহ বাড়ে, লিমবিক সিস্টেমও ভিজ্যুয়াল এলাকায় কমে। হরমোনের ওঠানামা চলতে থাকে। প্রথম কয়েক ঘণ্টা গ্রোথ হরমোন নিঃসৃত হতে থাকে বেশি, যে জন্য প্রচলিত ধারণা হচ্ছে, শিশুরা ঘুমের মধ্যেই বাড়ে। ওদিকে কর্টিসোল ও অ্যাড্রিনালিনের মাত্রা কমে। ঘুমের একটি অন্যতম হরমোন হলো মেলাটোনিন, যা আলো বা অন্য উদ্দীপকে হ্রাস পায়। ঘুম ও জাগরণকে মস্তিষ্কের যেসব এলাকা নিয়ন্ত্রণ করে, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ব্রেন স্টেম ও হাইপোথ্যালামাস। এতে মস্তিষ্কের পোনস এবং মিডব্রেন এলাকায় রেটিকুলার অ্যাকটিভেটিং সিস্টেম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ঘুমন্ত অবস্থায় রেটিকুলার অ্যাকটিভেটিং সিস্টেম নিষ্ক্রিয় অবস্থায় থাকে, আর থ্যালামাস থেকে কোনো সংবেদন সেখানে পৌঁছায় না। জাগ্রত অবস্থায় উল্টোটা ঘটে। আসলে স্বপ্ন কী? এ নিয়ে গবেষণা কম হয়নি, মানব সভ্যতার শুরু থেকে আজ পর্যন্ত। কেউ বলেছেন, এটা একটি মানসিক চাপ থেকে আসে। কেউ বলেছেন, শারীরিক বিভিন্ন ভারসাম্যের ব্যাঘাত ঘটলে এটা দেখা যায়, সে অনুযায়ী। কেউ বলেছেন, সারাদিন মনে যা কল্পনা করে তার প্রভাবে রাতে স্বপ্ন দেখে। স্বপ্ন আধুনিক মনোবিজ্ঞানেরও একটি বিষয়। আল্লাহ তা‘আলার পক্ষ থেকে মানুষের জন্য পরিপূর্ণ জীবন ব্যবস্থা হিসেবে এসেছে ইসলাম। এই ইসলাম মানুষের স্বপ্নের ব্যাপারেও উদাসীন থাকেনি। স্বপ্ন সম্পর্কে তার একটি নিজস্ব বক্তব্য আছে। তার এ বক্তব্য কোনো দার্শনিক বা বিজ্ঞানীর বক্তব্যের সাথে মিলে যাবে, এমনটি জরুরি নয়। মিলে গেলেও কোনো দোষ নেই। স্বপ্ন ও তার ব্যাখ্যা বিশেষজ্ঞ ইমাম মুহাম্মাদ ইবন সীরীন রহ. বলেছেন, «الرُّؤْيَا ثَلاَثٌ: حَدِيثُ النَّفْسِ، وَتَخْوِيفُ الشَّيْطَان وَبُشْرَى مِنَ اللَّهِ» “স্বপ্ন তিন ধরনের হয়ে থাকে। মনের কল্পনা ও অভিজ্ঞতা। শয়তানের ভয় প্রদর্শন ও কুমন্ত্রণা ও আল্লাহ তা‘আলার পক্ষ থেকে সুসংবাদ”।[1] ইসলামে স্বপ্নের একটি গুরুত্ব আছে। নিঃসন্দেহে এটা ইসলামী জ্ঞান-বিজ্ঞানের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বস্তুবাদীরা বলে থাকে, ‘মানুষ যখন ঘুমায়, তখন তার মস্তিষ্কে তার স্মৃতিগুলো নাড়াচাড়া করে। যাচাই-বাছাই করে, কিছু পুনর্বিন্যাস করে। তারপর স্মৃতির ফাইলে যত্ন করে রেখে দেয়। এই কাজটা সে করে মানুষ যখন ঘুমিয়ে থাকে। মস্তিস্কের এই কাজ-কর্মই আমাদের কাছে ধরা দেয় স্বপ্ন হিসেবে।‌‌’ এটি স্বপ্নের একটি প্রকার মাত্র। বাকী দু’প্রকার কি আপনাদের মস্তিস্কে ধরা পড়ে? ইসলাম তো বলে স্বপ্ন তিন প্রকার। হাদীসে দেখা যায়, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের সালাতের পর মুসল্লীদের দিকে মুখ করে বসতেন। প্রায়ই জিজ্ঞেস করতেন, গত রাতে তোমাদের কেউ কি কোনো স্বপ্ন দেখেছ? আল-কুরআনে ইবরাহীম আলাইহিস সালামের স্বপ্ন, ইউসুফ আলাইহিস সালামের স্বপ্নের কথা উল্লেখ আছে। ইউসূফ আলাইহিস সালামের সময়ে মিশরের বাদশার স্বপ্ন, তাঁর জেলখানার সঙ্গীদের স্বপ্ন ও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্বপ্ন নিয়ে তো আল-কুরআনে বিস্তর আলোচনা হয়েছে। মিশরের বাদশাহ তার সভাসদের স্বপ্ন বিশেষজ্ঞদেরকে নিজ স্বপ্ন সম্পর্কে প্রশ্ন করেছিল। জানতে চেয়েছিল, সেই স্বপ্নের ব্যাখ্যা। তারা বলেছিল, এটা এলোমেলো অলীক স্বপ্ন। তারা এর ব্যাখ্যা দিতে পারল না। নবী ইউসুফ আলাইহিস সালামের সুন্দর ব্যাখ্যা দিলেন। নিজের পক্ষ থেকে নয়। আল্লাহ তা‘আলার শিখানো ইলম থেকে।[2] আমি বক্ষ্যমাণ বইতে কুরআন ও সহীহ হাদীসের আলোকে স্বপ্ন ও তার ব্যাখ্যার কিছু মৌলিক ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করব। তবে কী স্বপ্ন দেখলে কী হয়, তা এখানে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হবে না। এটা নির্দিষ্ট করে আলোচনা করা সম্ভবও নয়। মানে এটা বাজারে প্রচলিত কোনো খাবনামা নয়। স্বপ্ন সম্পর্কে মৌলিক কিছু আলোচনা ও একটি ধারণা দেওয়ার প্রয়াস মাত্র। স্বপ্ন দ্রষ্টার অবস্থাভেদে একই স্বপ্নের ব্যাখ্যা বিভিন্ন রকম হতে পারে। স্বপ্ন তিন প্রকার: এক. মনে মনে যা সারাদিন কল্পনা করে তার প্রভাবে ঘুমের মধ্যে ভালো-মন্দ কিছু দেখা। এগুলো আরবীতে আদগাছু আহলাম বা অলীক স্বপ্ন বলে। দুই. শয়তানের কুমন্ত্রণা ও প্রভাবে স্বপ্ন দেখা। সাধারণত এ সকল স্বপ্ন ভীতিকর হয়ে থাকে। তিন. আল্লাহ তা‘আলার পক্ষ থেকে ইশারা-ইঙ্গিত হিসেবে স্বপ্ন দেখা। স্বপ্ন সম্পর্কে কিছু কথা হাদীসে এসেছে: আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, «سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، يَقُولُ: «لَمْ يَبْقَ مِنَ النُّبُوَّةِ إِلَّا المُبَشِّرَاتُ» قَالُوا: وَمَا المُبَشِّرَاتُ؟ قَالَ: «الرُّؤْيَا الصَّالِحَةُ» “আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, নবুওয়াতে আর কিছু অবশিষ্ট নেই, বাকী আছে কেবল মুবাশশিরাত (সুসংবাদ)। সাহাবীগণ প্রশ্ন করলেন, মুবাশশিরাত কী? তিনি বললেন: ভালো স্বপ্ন”।[1] এ হাদীস থেকে আমরা যা জানতে পারলাম: এক. স্বপ্ন নবুওয়াতের একটি অংশ। নবী ও রাসূলদের কাছে জিবরীল যেমন সরাসরি অহী নিয়ে আসতেন, তেমনি স্বপ্নের মাধ্যমে আল্লাহ তা‘আলার নবী ও রাসূলদের কাছে প্রত্যাদেশ পাঠাতেন। দুই. মুসলিম জীবনে স্বপ্ন শুধু একটি স্বপ্ন নয়। এটা হতে পারে মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ তা‘আলার পক্ষ থেকে স্বপ্নদ্রষ্টার প্রতি একটি বার্তা। তিন. আল মুবাশশিরাত অর্থ সুসংবাদ। সঠিক স্বপ্ন যা আল্লাহ তা‘আলার পক্ষ থেকে হয়ে থাকে, তা স্বপ্ন দ্রষ্টার জন্য একটি সুসংবাদ। জীবজগৎ কেন রাতকে ঘুমের জন্য বেছে নিয়েছে? মস্তিষ্কের সুপ্রাকায়সমেটিক নিউক্লিয়াস হলো আলোকসংবেদী সার্কাডিয়ান পেসমেকার। দিনের আলো রেটিনা হয়ে হাইপোথ্যালামাস দিয়ে পিনিয়াল গ্রন্থি থেকে মেলাটোনিন নিঃসরণ ঘটায়। ফলে আমরা দিনের আলোয় জাগ্রত হই। আদিমকাল থেকে সূর্যোদয়ের সঙ্গেই তাই প্রাণিজগতের ঘুম ভাঙে। এ ছাড়া গাবা, হিস্টামিন, অ্যাসিটাইলকোলিন, গ্লুটামেটসহ আরও কিছু নিউরোট্রান্সমিটার কাজ করে ঘুমের পেছনে। বিংশ শতাব্দীর পর এই ঘুম হয়ে উঠছে আধুনিক মানুষের সবচেয়ে আগ্রহেরও আলোচ্য বিষয়গুলোর একটি। আধুনিক জীবনযাপনের অন্যতম অনুষঙ্গ হয়ে উঠবে ইনসমনিয়া, প্যারাসমনিয়া, স্লিপঅ্যাপনিয়া, হিপনাগোগিকহ্যালুসিনেশন, রেস্টলেসলেগ সিনড্রোম ইত্যাদি স্লিপ ডিজঅর্ডার। স্থূলতা, হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, হরমোনজনিত সমস্যা, ডিপ্রেশনসহ নানান শারীরিক রোগবালাইয়ের সঙ্গে ঘুমের সম্পর্ক স্থির করা হচ্ছে। স্লিপ হাইজিন নিয়ে প্রচুর কাজ হচ্ছে। এত কিছুর পরও ঘুমের অনেক কিছুই রয়ে যাবে রহস্যাবৃত। ভবিষ্যতে হয়তো এসব রহস্য বিজ্ঞানের হাত ধরে উন্মোচিত হবে। সৌজন্যেঃ এন্ডোক্রাইনোলজি অ্যান্ড মেটাবলিজম, গ্রিন লাইফ মেডিকেল কলেজ, ঢাকা ঘুমিয়ে কেন স্বপ্ন দেখে মানুষ? মানুষ স্বপ্ন দেখে এবং অধিকাংশ মানুষ স্বপ্নের বিষয়বস্তু নিয়ে ভাবে। প্রশ্ন আসে, কেন মানুষ স্বপ্ন দেখে? এই নিয়ে শত শত বছর ধরে মানুষ ভাবে আর নানা রকম ব্যাখ্যা দাঁড় করায়। প্রাচীন গ্রিক ও রোমান সভ্যতার লোকেরা স্বপ্নের কোনো ঐশ্বরিক ক্ষমতা আছে বলে মনে করত। এছাড়া স্বপ্ন দেখা নিয়ে নানা সময়ে নানা ব্যাখ্যা দিতে চেয়েছে মানুষ। তবে স্বপ্নের খানিকটা আধুনিক সংজ্ঞা পাওয়া যায় ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষ ভাগে এসে—সিগমুন্ড ফ্রয়েড ও কার্ল জাংগের মাধ্যমে। ফ্রয়েডের তত্ত্বের মূল কথা ছিল এই,যে, মানুষের মনের অমীমাংসিত ও অবদমিত ইচ্ছাগুলো মীমাংসার একটি সুযোগ সৃষ্টি করে স্বপ্ন। কার্ল জাংগ মনে করতেন যে, স্বপ্নের একটি মনস্তাত্ত্বিক গুরুত্ব রয়েছে এবং স্বপ্নের অর্থ নিয়ে তাঁর ভিন্ন রকম তত্ত্ব ছিল। মানুষ স্বপ্ন দেখে এবং অধিকাংশ মানুষ স্বপ্নের বিষয়বস্তু নিয়ে ভাবে। সিগমুন্ড ফ্রয়েড মনে করতেন যে স্বপ্ন হলো আমাদের অবচেতন মনের একটি জানালা। তিনি বিশ্বাস করতেন যে স্বপ্নের মাধ্যমে একজন ব্যক্তির অবচেতন আকাঙ্ক্ষা, চিন্তাভাবনা ও প্রণোদনা প্রকাশিত হয়। রাতে দেখা স্বপ্ন দিনে হুবহু ঘটে কিভাবে? রাতে দেখা স্বপ্ন দিনে হুবহু ঘটে কিভাবে? ঘটনাগুলি কি? চলচ্চিত্রের মতো পূর্ব থেকে অডিও-ভিডিও করা? প্রযুক্তিগত উত্কর্ষের কারণে অনেক তত্ত্ব উপস্থাপিত হয়। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো স্নায়বিক তত্ত্বটি। স্বপ্ন হলো স্রেফ মগজের বৈদ্যুতিক প্রণোদনা, যা আমাদের স্মৃতি থেকে নির্বিচারভাবে আমাদের ভাবনা এবং কল্পনার বিষয়গুলোকে তুলে আনে। মানুষ যখন ঘুম থেকে জাগে, তখন স্বপ্নের একটি কল্পরূপ নেয় মনে। প্রকৃত অর্থে এটি হলো স্বপ্নের একটি জ্ঞানেন্দ্রিয় ধারণা দাঁড় করানোর স্বতঃস্ফূর্ত উদ্যোগ। মনোবিজ্ঞানীরা অবশ্য স্বপ্ন দেখার সত্যিই একটি অভীষ্ট লক্ষ্য আছে বলে মনে করেন।মৃত ব্যক্তি স্বপ্ন দেখা দেয় কি করে? AI উত্তর মৃত ব্যক্তিকে স্বপ্নে দেখার প্রধান বৈজ্ঞানিক কারণ হলো মনের অবচেতন প্রক্রিয়া, যেখানে মস্তিষ্ক প্রিয়জনকে হারানোর শোক, স্মৃতি এবং আবেগগুলোকে প্রসেস বা সামঞ্জস্য করার চেষ্টা করে [২, ৩]। এটি মূলত মস্তিষ্কের স্মৃতি সুসংহতকরণ (memory consolidation), হারানো প্রিয়জনকে নিয়ে চিন্তা, বা মনের অব্যক্ত কথা ও অনুশোচনা প্রকাশের একটি স্বাভাবিক মানসিক প্রক্রিয়া [৪, ৭, ৮]। বিস্তারিত কারণগুলো নিচে দেওয়া হলো: · শোক বা Grief প্রক্রিয়া: প্রিয়জনকে হারানোর পর মস্তিষ্কের শোক কাটিয়ে ওঠার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এমন স্বপ্ন আসে [৩, ১৩]। · স্মৃতির পুনরুত্থান: ওই ব্যক্তিকে নিয়ে দিনের কোনো সময়ে বা নিয়মিত চিন্তা, স্মৃতি বা আলোচনার ফলে মস্তিষ্কে তাদের অবয়ব তৈরি হয় [৪, ১৪]।· অসমাপ্ত কাজ বা অনুভূতি: যদি ওই ব্যক্তির সাথে কোনো কথা বলা বাকি থাকে, ভুল বোঝাবুঝি বা অনুশোচনা থাকে, তবে মন ঘুমের মধ্যে তা সমাধান করার চেষ্টা করে [৩, ৭, ৯]। · মানসিক নিরাপত্তা ও আকাঙ্ক্ষা: তাদের প্রতি তীব্র ভালোবাসা বা একা বোধ করার কারণেও অবচেতন মন তাদের সাথে সংযুক্ত থাকার জন্য এমন স্বপ্ন তৈরি করে [৪, ৭]। · মস্তিষ্কের স্মৃতি পুনর্বিন্যাস: ঘুমের মধ্যে মস্তিষ্ক পুরনো তথ্য বা স্মৃতি পরিষ্কার করার সময় মৃত ব্যক্তির স্মৃতি সামনে চলে আসতে পারে [৮]। পৃথিবীর প্রতিটি মানবসহ সকল প্রাণীর সকল কার্যক্রম বৈশ্বিক অআচরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। স্বপ্ন তন্মধ্যে একটি বিষয়। মৃত ব্যক্তিকে স্বপ্ন দেখার সাধারণ এবং বৈজ্ঞানিক কারণ থাকতে পারে। কিন্ত্ত মৃত ব্যক্তিরা কিভাবে জীবিত ব্যক্তিদের দেখা দেন, গুরুত্বপূর্ণ শুভ সংবাদ কিংবা দুঃসংবাদ দিতে পারেন যা স্বপ্নদ্রষ্টা অনেক সময় বাস্তবে প্রতিফলন দেখতে পান? স্বজনদের মৃত ব্যক্তিকে স্বপ্ন দেখার বৈজ্ঞানিক কারণঃ মার্কিন মনোবিজ্ঞানী রুবিন নাইমান (পিএইচডি), যিনি যিনি তার জীবনের কয়েক বছর ধরে ঘুমের ধরন ও অভ্যাস নিয়ে গবেষণা করেছেন। তারমতে, ‘একটি স্বপ্ন ব্যক্তির চেতনার সম্প্রসারণ ঘটায়, আলোকিত করে আবার মনস্তাত্ত্বিক সচেতনতাও বাড়ায়।জীবনের নানা টানাপোড়েনে মৃত কোনো প্রিয়জনকে স্বপ্ন দেখার কারণ হতে পারে তাকে মনে করা বা তার কোনো স্মৃতিতে জড়িয়ে থাকা। স্বপ্নের বিশ্লেষক লরি লোয়েনবার্গের মতে, পরিচিত কোনো মৃত ব্যক্তির সঙ্গে যদি আচরণগত বিভিন্ন অভ্যাসের মিল থাকে সেক্ষেত্রেও তার কথা মাথায় ঘুরপাক খেতে থাকে। আর এ কারণে তাকে স্বপ্নেও দেখা যেতে পারে। কিছু বিশেষজ্ঞরা একমত যে, স্বপ্নে মৃত ব্যক্তিকে সুখী বা সুসজ্জিত অবস্থায় দেখার অর্থ হলো, আপনার জীবনেও হয়তো কোনো খুশির ঘটনা ঘটতে চলছে, যা আপনাকে আনন্দিত ও সফল করবে। বিষয়টির সত্যতা হল স্বপ্নগুলি গভীর তাৎপর্যপূর্ণ কিছু প্রস্তাব করে, আমরা সেগুলি সম্পর্কে যা ভাবি না কেন। কারো কারো মতে, স্বপ্নে, মৃত ব্যক্তি প্রায়শই তাদের আত্মার অন্তর্দৃষ্টি র সাথে আমাদের আত্মার সংযোগ প্রদান করে বলে আমরা মৃত স্বজন, বন্ধু বান্ধব কিংবা প্রতিবেশিদের স্বপ্নে দেখে থাকি। নতুন বিজ্ঞানঃ ফ্রন্টিয়ার সায়েন্সের নতুন প্রশ্নঃ মৃত ব্যক্তি কি করে এবং কেন স্বজনদের রাতে স্বপ্নে দেখা দেয়? ’জীবিত ব্যক্তির মৃতকে দেখার বৈজ্ঞানিক এবং সাধারণ কারণ জানা যায় কিন্ত মৃত ব্যক্তি কি করে এবং কেন স্বজনদের রাতে স্বপ্নে দেখা দেয় ? এর বৈজ্ঞানিক কারণই বা কি হতে পারে? নতুন বিজ্ঞানের নতুন প্রশ্ন! অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে যে, নিকটাত্মীয়, দূরাত্মীয়, পাড়া-প্রতিবেশি কিংবা চেনা জানা এমন জীবিত ব্যক্তির নিকট মৃত ব্যক্তিরা মাঝে মাঝে স্বপ্নে হাজির হন কখনও হাস্যোজ্জ্বল চেহারায় কেউ বিমর্ষ অবস্থায় সে জীবিত ব্যক্তি স্বপ্ন দেখার পর মৃত ব্যক্তির আত্মার শান্তির জন্য, ক্ষমার জন্য দোয়া ক‌রে থাকেন। এতে সুস্পষ্ট প্রতীয়মান হয় যে, মৃত ব্যক্তি দৈহিক অস্তিত্ব হারালেও প্রাণের অস্তিত্ব ঠিকই থাকে যে প্রাণ সজীব, জীবন্ত এবং সচেতন। মৃত ব্যক্তির অবস্থা সম্পর্কে ইসলামী দৃষ্টিকোণ প্রশ্নোত্তর প্রশ্নঃ নং- ১৯৪৩০. মৃত ব্যক্তি জীবিতদের হালত সম্পর্কে অবগত থাকে কিনা। بسم الله الرحمن الرحيم রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন ,«ما من مسلم يمر بقبر أخيه كان يعرفه في الدنيا فَيُسَلم عليه، إلا رد الله عليه روحه، حتى يرد عليه السلام». “যখন কোনো মুসলিম ব্যক্তি দুনিয়াতে পরিচিত তার কোনো মৃত্যু ভাইয়ের কবরের পাশ দিয়ে গমন করে এবং তাকে সালাম দিলে তখন তার সালামের উত্তর দেওয়ার জন্য আল্লাহ তার রূহকে ফেরত দেন।”[1] https://muslimbangla.com/masail/19430/undefined হাদীসের এ কথা দ্বারা প্রমাণিত যে, মৃত ব্যক্তি তাকে চিনতে পারেন এবং তার সালামের উত্তর দেন। পরকালীন জীবন সম্পর্কে সন্দেহবাদী অবিশ্বাসীদের প্রশ্নঃ “সে বলে, কে জীবিত করবে অস্থিসমূহকে- যখন সেগুলো পঁচে গলে যাবে? (সূরাহ্ ইয়া-সী-ন, আয়াত ৭৮সন্দেহবাদী অবিশ্বাসীদের এ প্রশ্নের জবাবে স্বয়ং আল্লাহপাক ফরমানঃ “বলুন (আয় আমার পেয়ারা হাবীব); যিনি প্রথমবার সেগুলোকে সৃষ্টি করেছেন, তিনিই জীবিত করবেন। তিনি সর্ব প্রকার সৃষ্টি সম্পর্কে সম্যক অবগত”। (সূরাহ্ ইয়া-সী-ন, আয়াত ৭৮-৭৯) “এ মাটি থেকেই আমি তোমাদের সৃজন করেছি, এতেই তোমাদেরকে ফিরিয়ে দিব এবং পুনরায় এ থেকেই আমি তোমাদেরকে উত্থিত করব।”। (সূরা ত্বহা, আয়াত-৫“মানুষ কি মনে করে যে, আমি তার অস্থিসমূহ একত্রিত করবো না? পরন্ত্ত আমি তার আংগুলগুলো পর্যন্ত সঠিকভাবে সন্নিবেশিত করতে সক্ষম” (সূরাহ্ আল ক্বেয়ামাহ্-আয়াত-৩-৪)“এবং এ কারণে যে, কেয়ামত অবশ্যম্ভাবী, এতে সন্দেহ নেই এবং এ কারণে যে, কবরে যারা আছে, আল্লাহ তাদেরকে পুনরুত্থিত করবেন” (সূরা হাজ্জ, আয়াত-০৭: পবিত্র কোরআনুল করীম, মূলঃ তাফসীর মাআরেফুল ক্বোআল হাদীসের আলোকে। “মানুষের দেহের সবকিছু জরাজীর্ণ হয়ে যাবে। কিন্তু নিতম্বের শেষ হাঁড় (ত্রিকোণাস্থিত) নষ্ট হয় না। মানুষকে তার সাথে বিন্যাস করা হবে। এরপর আল্লাহ বৃষ্টি বর্ষণ করবেন। ফলে মানুষ উদ্ভিদের মতো গজিয়ে উঠবে”। (বুখারী, মুসলিম-রিয়াদুস্ সালেহীন, হাদিস নং-১৮৩৬, ৪র্থ খন্ড)। লক্ষ্যণীয় যে, পুরাতন কবরে খালি চোখে কখনও শত-সহস্র বছর পূর্বেকার মৃতদেহের কোন প্রকার চিহ্ন থাকার কথা নয়-এমনকি শক্তিশালী অণুবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যেও যা দেখা বা উপলদ্ধি করা সম্ভব নয় বরং মানব দেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সব কিছুই মাটিতে একেবারে একাকার হয়ে যাওয়ারই কথা। এমনতর অবস্থাতেও হাঁড়জাত মানব দেহের অতি পারমানবিক কণার ক্ষুদ্রাতি ক্ষুদ্র, সূক্ষ্ণাতি সূক্ষ্ণ অস্তিত্ত্বের ঘোষণা রয়েছে পবিত্র হাদিসে বর্ণিত “উস্ উস” শব্দে। পবিত্র হাদীসটি- নিম্নরূপঃ “হযরত আবু হুরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু আ‘নহু থেকে বর্ণিত মহানবী হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, আদম সন্তানের শরীরে এমন একটি অস্থি আছে- যেটি মাটিতে কখনো মিশে যাবে না। (প্রশ্ন করা হলো) হে আল্লাহর রসূল! এটি কী ? তিনি বললেনঃ এটি হলো "উস্উস্"(অস্থি-Coccyx)” (বুখারী, আল নাসায়ী, আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ, মুসনাদ এবং মুয়াত্তা হাদীস)। উল্লেখ্য, মানব দেহের নার্ভাস সিস্টেমের প্রান্ত ধারক হিসাবে অস্থি বা ত্রিকোণাস্থিতির গুরুত্ব রয়েছে, এখানে যে প্লেয়াক্স রয়েছে তাকে বলা হয় “মূলাধার"।(সূত্রঃ বিজ্ঞান, সনাতন ধর্ম, বিশ্বসভ্যতা-৪র্থ অধ্যায়ঃ গোবর্দ্ধন গোপালদাস, ভারত, সূত্রঃ সাপ্তাহিক সোনার বাংলা। পরীক্ষান্তে দেখা যাো যে, নারীর ডিম্বকোষের (Ovary) সাথে পুরুষের শুক্রকীটের নিষিক্ত হওয়ার মাত্র ২(দুই) সপ্তাহ পরে "উস্উস্" নামক শক্ত হাঁড়ের জন্ম হয়। ৩য় সপ্তাহেরের পর এই হাঁড় থেকে একটি লম্বা দন্ড তৈরী হয় তা পরবর্তীতে মেরুদন্ডের হাঁড় তৈরী করে এবং ধীরে ধরে পূর্ণাঙ্গ মানব দেহ তৈরী হতে থাকে। ১৫ দিবসে ভ্রুণের পৃষ্ঠদেশে এর প্রাথমিক গুণাগুণ বা ধর্ম পরিলক্ষিত হয় একটি নির্দিষ্ট প্র“প্রাথমিক সংযোগস্থল”। যেদিকে প্রাথমিক গুণাগুণ/ধর্ম প্রকাশিত হয় তাকে বলা হয় “ভ্রণের পৃষ্ঠদেশ”। প্রাথমিক গুণাগুণ এবং সংযোগস্থল থেকে যে সকল ভ্রুণ কোষ এবং ) Ectoderm (ভ্রুণের বহিরাবরণ): কেন্দ্রীয় পেশী ও চর্ম দ্বারা গঠিত। (২ Mesoderm (ভ্রুণের মধ্যকরণ): পাচনতন্ত্র গঠনে মন্থন পেশী, কংকালতন্ত্রের পেশী, সংবহনতন্ত্র, হৃদযন্ত্র, অস্থি, প্রজনন এবং মূত্রতন্ত্র গঠন(মূত্রাশয় ব্যতিত), ত্বকনিম্নস্হিত কোষ, নাসিকাতন্ত্র, প্লীহা এবং মূত্রগ্রন্থি এ পর্যায়ে গঠিত হয (১) Ectoderm (ভ্রুণের বহিরাবরণ): কেন্দ্রীয় পেশী ও চর্ম দ্বারা গঠিত। (২ Mesoderm (ভ্রুণের মধ্যকরণ): পাচনতন্ত্র গঠনে মন্থন পেশী, কংকালতন্ত্রের পেশী, সংবহনতন্ত্র, হৃদযন্ত্র, অস্থি, প্রজনন এবং মূত্রতন্ত্র গঠন(মূত্রাশয় ব্যতিত), ত্বকনিম্নস্থিত কোষ, নাসিকাতন্ত্র, প্লীহা এবং মূত্রগ্রন্থি এ পর্যায়ে গঠিত হয় (৩) Endoderm: পাচনতন্ত্রের সীমারেখা, শ্বসনতন্ত্র, পাচনতন্ত্র সম্পর্কিত অঙ্গপ্রত্যঙ্গ (যকৃত ও অগ্ন্যাশয় ব্যতীত), মূত্রাশয়, স্বরতন্ত্র ইত্যাদি এ পর্যায়ে গঠিত হয়। তারপর প্রাথমিক গুণাগুণ/ধর্ম এবং সংযোগস্থল নিতম্বের ত্রিকোণাকার অস্থি এলাকায় অবস্থান করে মেরুদন্ডের শেষে যাতে উস্উস্ Coccyx গঠিত। উল্লেখ্য, কবরস্থ হওয়ার পর শত-সহস্র-লক্ষ-কোটি বছর অতিক্রান্ত হলেও অস্থি বা উস্উস্ (Coccyx) এর ক্ষুদ্রাতি ক্ষুদ্র, সূক্ষ্ণাতি সূক্ষ্ণ হাঁড়জাত মানব দেহের এই অতি পারমানবিক কণার অস্তিত্ত্ব থেকেই যাবে। এ কারণে বিজ্ঞানীদের নিঃসংকোচ স্বীকারোক্তিঃ বিজ্ঞানীরা মৌলিক, আদি, আসল বা অকৃত্রিমভাবে ক্ষুদ্র-বৃহৎ বস্তু না পারেন সৃষ্টি করতে, না পারেন সমূলে বিনাশ করতে। প্রসংগত উল্লেখ্য, প্রাথমিক গুণাগুণ এবং সংযোগস্হল থেকে ভ্রুণ গঠিত হওয়ার পর সেগুলি মেরুদন্ডের সর্বশেষ অস্থিতে অবস্থান করে এবং তাদের বৈশিষ্ট্যসমূহ ধারণ করে। সুতরাং, এতে সুস্পষ্ট প্রতীয়মান যে, ত্রিকোণস্থিত ধারণ করে মূল কোষসমূহ-যা মহানবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পবিত্র হাদীসে বর্ণিত উস্উস্ থেকে কিয়ামতে মানবজাতির পুনরুত্থান সম্পর্কে প্রমাণ বহন করে। "উস্উস্"(অস্থি-Coccyx) থেকে মানব জাতিকে পুনরায় সৃষ্টি করা সম্ভব যা প্রাথমিক গুণাগুণ/বৈশিষ্ট্য ধারণ করে। তাই "উস্উস্"(অস্থি-Coccyx)ক্ষয়প্রাপ্ত হতে পারেগবেষকরা লক্ষ্য করেছেন যে, ভ্রুণকোষ গঠন এবং উৎপত্তি প্রাথমিক গুণাগুণ এবং সংযোগস্থল দ্বারা প্রভাবিত হয় এবং এগুলি গঠনের পূর্বে কোন কোষ (সেল) বিভাজিত হতে পারে না। যে সব গবেষকরা এটা প্রমাণ করেছেন তাঁদের অন্যতম একজন হলেন জার্মান বিজ্ঞানী হ্যান্স স্পিম্যান। প্রাথমিক গুণাগুণ এবং সংযোগস্থল এর ওপর পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তিনি দেখলেন যে, এগুলিই হচ্ছে ভ্রুণ গঠনকারী মৌলিক উপাদান। তাই তিনি এদের নাম দিলেন প্রাইমারী সংগঠক। ১৯৩১ সালে হ্যান্স স্পিম্যান প্রাথমিক সংগঠনটি চূর্ণ-বিচূর্ণ করে ফেলেন । ১৯৩৩ সালে এটিকে সিদ্ধ (বয়েলড) করে দেখলেন যে, এতে কোষের কোনরূপ ক্ষতি হলো না বরং এ থেকে ২য় ভ্রুণ জন্মালো। ১৯৩৫ সালে হ্যান্স স্পিম্যান প্রাথমিক সংগঠক আবিস্কারের জন্য নোবেল পুরস্কার লাভ করেন । উল্লেখ্য, ডঃ ওসমান আল জিলানী এবং শেখ আবদ-আল মাজিদ আজানদানি ১৪২৩ হিজরী সালের মাহে রমাদানে "উস্উস্"(অস্থি-Coccyx) এর ওপর ব্যাপক গবেষণা চালান। ৫টি "উস্উস্"(অস্থি-Coccyx)এর ২টির মধ্যে ১টি মেরুদন্ডের "উস্উস্"(অস্থি-Coccyx)-কে অন্ততঃ ১০ মিনিট ধরে একটি পাথরের ওপর গ্যাসের সাহায্যে পোড়ানো হলে সেগুলি উপ্তপ্ত লোহা যেরূপ লাল বর্ণ লাভ করে তেমনি "উস্উস্"(অস্থি-Coccyx)গুলি প্রথমে লাল বর্ণ ধারণ করে পরে শীতল হয়ে কালো বর্ণ-এ অর্থাৎ কয়লায় পরিণত হলে ঐ "উস্উস্"(অস্থি-Coccyx)এর কয়লাগুলিকে জীবাণুমুক্ত বক্সের মধ্যে পুরে সানার সবচেয়ে বিখ্যাত Laboratory-Al Olaki Laboratory -তে নিয়ে গেলে সানা বিশ্ববিদ্যালয়ের Histology Pathology তত্ত্বের অধ্যাপক "উস্উস্"(অস্থি-Coccyx)গুলি বিশ্লেষণ করে দেখলেন যে, আগুনে "উস্উস্"(অস্থি-Coccyx)গুলি বড় ধরনের প্রভাবে পড়েনি অর্থাৎ কেবল স্থুল কোষগুলি পুড়ে গেলেও মূল "উস্উস্"(অস্থি-Coccyx) জীবন্ত রয়ে যায়। (সুবহা--নাল্লাহি ওয়াবিহামদিহী, সুবহা--নাল্লাহিল আ’জীম)। মৃত ব্যক্তিকে বরই পাতা মেশানো পানিতে গোসল দেয়ার বৈজ্ঞানিক কারণ মানুষ মারা গেলে বরই পাতা মেশানো পানি দিয়ে গোসল করানো হয়। কিন্তু কেন বরই পাতা মেশানো পানি দিয়ে গোসল করানো হয়, এ বিষয়টি অনেকেই জানে না। মৃতব্যক্তিকে বরই পাতা মেশানো পানি দিয়ে গোসল দেয়ার কথা বলেছেন বিশ্বনবি। হাদিসে এসেছে- হজরত ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বর্ণনা করেন, ‘এক ব্যক্তি আরাফাতে অবস্থানের সময় তার উটনী থেকে পড়ে যায়। এতে তার ঘাড় মটকে যায় (এতে সে মারা যায়)। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তাকে বরই পাতাসহ পানি দিয়ে গোসল করাও এবং দুই কাপড়ে তাকে কাফন দাও। তাকে সুগন্ধি লাগাবে না এবং তার মাথা ঢাকবে না। কেননা কেয়ামতের দিন সে তালবিয়া পাঠ করতে করতে উঠবে।’ (বুখারি) হাদিসের নির্দেশনা অনুযায়ী মৃতব্যক্তির গোসলের পানিতে বড়ই বা কুলপাতা দেয়া ইসলামি শরিয়ত সম্মত একটা রীতি। কেননা বরই পাতা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য খুব কার্যকরী। যদি বরই পাতা না পাওয়া যায় তবে সাবান বা এ জাতীয় কিছু ব্যবহার করাই যথেষ্ট। আর বরই পাতা মেশানো পানিতে গোসল করানো হলে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাত আদায় হয়। বিজ্ঞানের গবেষণা থেকে প্রমাণিত যে, বরই পাতায় বেশ কিছু এন্টিসেপটিক উপাদান রয়েছে। যা পানিতে কিছুক্ষণ ভিজিয়ে রাখলে বা পানিতে দিয়ে হালকা গরম করলে বরই পাতা থেকে এক ধরনের আঁঠালো নির্যাস পানির সঙ্গে মিশে যায়। আর এ নির্যাসগুলো মানুষের শরীরকে জীবাণু মুক্ত করার কার্যকরী অ্যান্টিসেপটিক হিসেবে কাজ করে। সহজে এ শরীরে যেমন পোকা-মাকড় আক্রমণ করতে পারে না আবার এ দেহে সহজে পচন ধরে না। প্রায় দেড় হাজার বছর আগে এ কারণেই বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মৃত ব্যক্তিকে বরই পাতা মেশানো পানি দিয়ে গোসল করানোর কথা বলেছেন। কেউ জানে না, অতিপারমাণবিক কণার ক্ষুদ্র জগতে মহাকর্ষের ভূমিকা কেমন প্রকৃতির চার বলের মধ্যে মানুষ সবার আগে জানতে ও বুঝতে পারে মহাকর্ষের কথা। তবু এখন পর্যন্ত এ বল সম্পর্কেই মানুষ সবচেয়ে কম জানে। পড়ন্ত আপেল বা গ্রহ-নক্ষত্রের গতি ব্যাখ্যায় আমাদের তত্ত্বগুলো যথেষ্ট সফল। কিন্তু কেউ জানে না, অতিপারমাণবিক কণার ক্ষুদ্র জগতে মহাকর্ষের ভূমিকা কেমন। সে জন্যই বিজ্ঞানীদের চাওয়া এমন এক তত্ত্ব, যা ছায়াপথ থেকে কোয়ার্ক কণা পর্যন্ত বড়-ছোট সবকিছু ব্যাখ্যা করতে পারবে। অনেক বড় চাওয়া। মহাবিশ্বের অন্যতম জটিল ও কষ্টসাধ্য কাজ। তাই তো অনুসন্ধান শুরুর পর আটটি দশক পার হয়ে গেলেও এখনো মেলেনি দেখা। এখনো তাই মহাবিশ্বের বড় ও ছোট জগতের জন্য আলাদা সূত্র। বড় কাঠামোয় ভালো কাজ করে মহাকর্ষ। যার সবচেয়ে আধুনিক ব্যাখ্যা দেয় আইনস্টাইনের সার্বিক আপেক্ষিকতা তত্ত্ব। এ তত্ত্বে বস্তুর ভর আশপাশের স্থান-কালকে বাঁকিয়ে দেয়। তাকেই আমরা দেখি মহাকর্ষ হিসেবে। এযাবৎকালের সব পরীক্ষা সফলভাবে উতরে গেছে তত্ত্বটি৷ অতিপারমাণবিক কণার ক্ষুদ্র জগতে আবার কাজ করে কোয়ান্টাম তত্ত্ব। এ তত্ত্ব কাজ করে তিনটি বল নিয়ে: বিদ্যুৎ–চুম্বকীয় বল এবং দুর্বল ও সবল নিউক্লীয় বল। বল তিনটির ব্যাখ্যায় কাজ করে কণাপদার্থবিদ্যার স্ট্যান্ডার্ড মডেল। এসব বলে অংশ নেওয়া কণাদের আচরণও ব্যাখ্যা করে মডেলটি। নিজ নিজ জগতে তত্ত্ব দুটি সফল হলেও অন্যের জগতে অসহায়।লুপ কোয়ান্টাম মহাকর্ষ এখনো অসম্পূর্ণ। রয়েছে বড় বড় সীমাবদ্ধতাও। এটি বলতে পারে না, কীভাবে কোয়ান্টাম দশা থেকে তৈরি হয় স্থান-কালের জ্যামিতি। কোয়ান্টায়িত স্থান-কাল দিয়ে বলার উপায় নেই, কোনটা সমতল জায়গা আর কোনটা কৃষ্ণগহ্বরের মতো প্রচণ্ড বক্র। অর্থাৎ এই তত্ত্বটিরও কিছু সমস্যা রয়েছে এখনো। স্ট্রিং থিওরি ও লুপ কোয়ান্টাম গ্র্যাভিটি—তত্ত্ব দুটির কোনটি টিকবে, নাকি নতুন প্রস্তাবিত তত্ত্ব আসবে, তা সময়ই বলে দেবে। আদৌ যদি মহাবিশ্বের কোনো থিওরি অব এভরিথিং বা সার্বিক তত্ত্ব থেকে থাকে, তবে। এমনও হতে পারে, মহাবিশ্বের আসলে কোনো সার্বিক তত্ত্বই নেই। সেটাও এক সম্ভাব্য অবস্থা। সে ক্ষেত্রে সার্বিক তত্ত্ব অন্বেষণ কিংবা মহাবিশ্বকে ব্যাখ্যার সম্ভাব্য তত্ত্বগুলো খুঁজে ফিরবে মানুষ যুগ যুগ। তরুণ গবেষকেরা দুই তত্ত্বকে একীভূত করারও চেষ্টা করছেন। এলকিউজির বড় একটি অসুবিধা হলো, স্থান-কালের ছোট পরিসর থেকে জুম আউট করে বড় কাঠামোয় চলে আসা। বড় কাঠামোয় এসে এর আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতার ফলাফল দিতে পারতে হবে। কিন্তু তা হচ্ছে না তত্ত্বে। আরও বড় সমস্যা হলো,মহাকর্ষহীন অবস্থায় এটি অকার্যকর।লুপ কোয়ান্টাম গ্র্যাভিটির প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বী স্ট্রিং থিওরি। মৌলিকভাবে দুই তত্ত্ব একদম আলাদা। এলকিউজি কাজ করে স্থান-কালকে বিচ্ছিন্ন খণ্ড ধরে নিয়ে। ওদিকে স্ট্রিং থিওরি বলে, সব বস্তু মৌলিকভাবে স্ট্রিং বা সুতা দিয়ে তৈরি। স্ট্রিংয়ের প্রান্ত খোলা বা নিজের সঙ্গেই মিশে থাকতে পারে। এদের আছে কম্পন। হতে পারে লম্বা, আবার ভেঙে যেতে পারে বা জোড়াও লাগতে পারে একে অপরের সঙ্গে। এগুলো থেকেই মূর্ত হয় বস্তু ও স্থান-কাল। অন্যদিকে এলকিউজি বস্তু নিয়ে ভাবে না। বস্তু থাকে স্থান-কালের মধ্যে। এটি তাই কাজ করে স্থান-কালের বৈশিষ্ট্য নিয়ে। আইনস্টাইনের মহাকর্ষের মসৃণ পটভূমিকে এখানে স্ট্রিংয়ের কম্পন দিয়ে প্রকাশ করা হয়, যাতে প্রকাশিত হয় কোয়ান্টাম বৈশিষ্ট্য৷ স্ট্রিং থিওরি বলে, স্থান-কালের মাত্রা ১০টি। এলকিউজি উচ্চতর মাত্রায় কাজ করে না। স্ট্রিং থিওরি বলে অতিপ্রতিসাম্যের কথা। যার অর্থ হলো, পরিচিত সব কণার আছে অনাবিষ্কৃত জোড়া। এলকিউজি তত্ত্বে এমন কোনো কথা নেই। দুই তত্ত্বের বিরোধ জড়িয়েছে সমর্থকদেরও। এক দল আরেক দলের কোনো বৈজ্ঞানিক সম্মেলনে যায় না। মহাবিশ্বের সংকোচন (বিগ ক্রাঞ্চ) ও প্রসারণ হয় পালাক্রমে বাংলাদেশিয়াস-নতুন প্রজাতির দেশি মাছ:সাগরে নতুন ৬৫ প্রজাতির মাছের সন্ধান ৩ ডিসে, ২০২৫ — , বঙ্গোপসাগরের বাংলাদেশ সীমানায় প্রথমবারের মতো টুনা মাছের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। মাছের পাশাপাশি টুনা মাছের লার্ভা বা বাচ্চাও পাওয়া গেছে। এটার জন্য দেশের মানুষ দীর্ঘদিন অপেক্ষা করেছে। বাংলাদেশে ব্রহ্মপুত্র নদে 'লাউবুকা ব্রহ্মপুত্রায়েনেসিস' (Laubuka brahmaputraensis) নামের নতুন প্রজাতির ছোট দেশি মাছের সন্ধান মিলেছে somewhereinblog.net। থাইল্যান্ডের গবেষকরা এটি আবিষ্কার করেন, যা দেখতে চেলা মাছের মতো। এছাড়াও বঙ্গোপসাগরের বাংলাদেশ সীমানায় ৬৫টি নতুন প্রজাতির মাছের সন্ধান পাওয়া গেছে prothomalo.com। নতুন প্রজাতির মাছ সম্পর্কে বিস্তারিত: লাউবুকা ব্রহ্মপুত্রায়েনেসিস: ব্রহ্মপুত্র নদে প্রাপ্ত এই মাছটি ছোট আকৃতির এবং এটি লাউবুকা প্রজাতির অন্তর্ভুক্ত m.somewhereinblog.net। সামুদ্রিক নতুন প্রজাতি: ২০২৫ সালের জরিপে বঙ্গোপসাগরে ৬৫টি নতুন প্রজাতির মাছ, ৫টি নতুন প্রজাতির মাছ এবং প্রথমবারের মতো টুনা মাছের লার্ভা (বাচ্চা) পাওয়া গেছে। বৈশিষ্ট্য: এই মাছগুলো সাধারণত ছোট আকৃতির এবং দেশি চেলা মাছের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। এই নতুন আবিষ্কারগুলো বাংলাদেশের মৎস্য সম্পদ ও জীববৈচিত্র্যকে আরও সমৃদ্ধ করেছে দেশের সমুদ্রসীমায় নতুন আরও ৬৫ প্রজাতির মাছের সন্ধান পাওয়া গেছে, যার মধ্যে ৫ প্রজাতির মাছ সারা বিশ্বের মধ্যে প্রথম দেখা গেছে। এত দিন সাগরে মোট ৪৭৫ প্রজাতির মাছ পাওয়া যেত। আগের প্রজাতির সঙ্গে এখন নতুন করে এসব মাছের প্রজাতি যুক্ত হবে। এসব মাছের পূর্ব ইতিহাস এবং গোত্র নির্ধারণের জন্য দক্ষিণ আফ্রিকার ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। আবার প্রথমবারের মতো দেশের সমুদ্রসীমায় টুনা মাছের উপস্থিতিও পাওয়া গেছে। হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন মৎস্য অধিদপ্তর এবং জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) যৌথ উদ্যোগে করা মৎস্যসম্পদ জরিপের প্রাথমিক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। এফএওর সহায়তায় ৮টি দেশের ২৪ জন বিজ্ঞানীর মাধ্যমে মাসব্যাপী এ জরিপ পরিচালনা করা হয়। জাতিসংঘের একটি গবেষণা জাহাজ এ বছরেএফএওর সহায়তায় ৮টি দেশের ২৪ জন বিজ্ঞানীর মাধ্যমে মাসব্যাপী এ জরিপ পরিচালনা করা হয়। জাতিসংঘের একটি গবেষণা জাহাজ এ জরিপ পরিচালনা করে। জরিপে বঙ্গোপসাগরের ৬৮টি স্টেশন থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়।https://www.prothomalo.com/business/economics/qv4byn7tyvWhat is Knowledge? কোন বিষয় বা বস্তু সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গরূপে জানা বা বুঝার অনুভব-উপলদ্ধি-কে জ্ঞান বলা যেতে পারে। এই জ্ঞান বাস্তব দর্শন,শোনা কিংবা নিবিড় অধ্যয়নের মাধ্যমে হতে পারে। এই জ্ঞান তাই প্রধানতঃ দু'প্রকার । যথাঃ (১) তাত্ত্বিক জ্ঞান এবং (২) বাস্তব বা ব্যবহারিক জ্ঞান। দর্শন বিজ্ঞানের আলোচিত জ্ঞান-কে "তত্ত্ব জ্ঞান" বলা হয়। দার্শনিক প্লেটো জ্ঞানকে "প্রমাণিত সত্য বিশ্বাস" বলে সংজ্ঞায়িত করেন। অভিজ্ঞতালদ্ধ কিংবা অনুভব-উপলদ্ধিজাত পঠিত এবং লিখিত উপকারী অথবা অপকারী সর্ব প্রকার জ্ঞান-কে ইসলামী পরিভাষায "ঈলম" এবং বিজ্ঞান বা প্রজ্ঞা-কে "হিকমাহ" বলা হয়। উপকারী ঈলম বা জ্ঞান-কে পবিত্র হাদিসে ইসলামী পরিভাষায় "ঈলমান নাফিয়ান" উপকারী জ্ঞান বলা হয়েছে যা অর্জনে পবিত্র হাদীসে উৎসাহিত করা হয়েছে। ইসলামীমতে সর্বোত্তম জ্ঞান হচ্ছেঃ দীনের সহীহ জ্ঞান। অন্তর্দৃষ্টি সম্পন্ন জ্ঞানকে ইসলামী পরিভাষায় রুশদ, ইলহাম, ইলকা বলা হয়। অন্তর্দৃষ্টিকে বলা হয় কাশফ। বিজ্ঞানীরা সাধারণতঃ অন্তদৃষ্টি সহকারে গবেষণার মূল প্রতিপাদ্য বিষয়ে পরীক্ষা, নিরীক্ষা, সমীক্ষা, পর্যবেক্ষণ, পর্যালোচনা শেষে যে চূড়ান্ত এবং মৌলিক সিদ্ধান্তে উপনীত হন তাকেইআবিস্কার বলা হয়। আইনস্টাইন তাই দাবী করতেন, তিনি জ্ঞানে নয় বরং কল্পনাশক্তিতে গবেষণা করেন। পক্ষান্তরে স্যার আইজাক নিউটন বলতেনঃ তাঁর সকল আবিস্কার হচ্ছে সৃষ্টিকর্তার নিকট প্রার্থনার (দোয়ার) ফসল। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে অন্তত ৩০টি দল এলকিউজি নিয়ে গবেষণায় রত। একপর্যায়ে এসে গবেষণা দুই দিকে বেঁকে যায়। একটি হলো প্রথাগত লুপ কোয়ান্টাম গ্র্যাভিটি। অপরটি স্পিন ফোম থিওরি। এলকিউজি থেকে পাওয়া সবচেয়ে আধুনিক তত্ত্বের নাম লুপ কোয়ান্টাম কসমোলজি। যেখানে বিগ ব্যাংকে ধারণা করা হয় বিগ বাউন্সের অংশ। যাতে বলা হয় মহাবিশ্বের সংকোচন (বিগ ক্রাঞ্চ) ও প্রসারণ হয় পালাক্রমে৷ এক মহাবিশ্বের সংকোচন থেকে জন্ম হয় পরের মহাবিশ্বের। উপরোক্ত বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে WSTR মনে করে মহাকর্ষও কোয়ান্টায়িত। যেমন লোহা জাতীয় বস্তু বিদ্যুয়ায়িত হয়ে থাকে। উদাহরণস্বরূপ, শুকনো চুলের ঘর্ষনে প্ল্যাস্টিকের চিরুনী যেমন স্থির বিদ্যুত চৌম্বকায়িত হয়ে ছোট ছোট কাগজের টুকরাকে আকর্ষণ করে নিজের দিকে টেনে নেয় তেমনি শুন্যে বিদ্যমান বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় বলের বাহক আলোর কোয়ান্টা ফোটনরূপে যে কণা ছড়িয়ে আছে মহাবিশ্ব জুড়ে তা মিথস্ক্রিয়া করে মহাকর্ষের সাথে । ফলে মহাকর্ষও কোয়ান্টায়িত হয়ে থাকে। শুধু তাই নয়; আকাশ-মহাকাশে সৃষ্টি করে এক প্রকার ধনাত্মক চার্জ। এই চার্জের সাথে পৃথিবীর ন্যায় গ্রহ-চাঁদের ন্যায় উপগ্রহে বিদ্যমান বিকর্ষণধর্মী খনিজ লৌহ কণিকা সমৃদ্ধ ভূত্বকের সৃষ্ট ঋণাত্মক চার্জের পরস্পরের মিথস্ক্রিয়ার সৃষ্টি করে বিজ্ঞানীদের বহুল আলোচিত, স্বপ্নিল কোয়ান্টাম গ্র্যাভিটন যাকে বলা যেতে পারে প্রকৃতির অতি বুদ্ধিমাত্রিক কলা কৌশল! কোয়ান্টাম গ্র্যাভিটি কেন প্রয়োজন বিশাল গ্রহ, নক্ষত্রও পরমাণু দিয়ে তৈরি। এই কণাদের ভাঙা বা জোড়া লাগা থেকে পাওয়া যায় আকর্ষণ ও বিকর্ষণ। চুম্বকের বিপরীত মেরু আকৃষ্ট হয়। এর পেছনে থেকে কাজ করে চৌম্বকক্ষেত্র। তবে আরও মৌলিকভাবে এটা আসলে কোয়ান্টাম কণার ওপর নির্ভর করে। কিন্তু প্রকৃতির চার মৌলিক বলের মধ্যে এক মহাকর্ষেরই কোনো কোয়ান্টাম ধর্ম পাওয়া যায়নি। তাই কেউ জানে না মহাকর্ষীয় ক্ষেত্রের উৎস কী বা এর অভ্যন্তরে কণারা কীভাবে কাজ করে। এন্ট্রপিঃ প্রকৃতির মহাজাগতিক বুদ্ধিদীপ্ত বিবর্তন আধুনিকবৈজ্ঞানিকসৃষ্টিতত্ত্বেরইতিকথাঃমহাবিস্ফোরণ (Big Bang) ঘটারপূর্বেকারঅবস্থাঃ Computer simulation এরমাধ্যমেবিজ্ঞানীরাএসিদ্ধান্তেউপনীতহনযে, সর্ম্পূণনাই/শুন্য/নিল (Nil)/জিরো(Zero) থেকেমহাবিশ্বেরমহাসৃষ্টিরসূচনারপূর্বের্অথাৎমহাবিস্ফোরণ(Big Bang) ঘটারপূর্বেমহাশক্তিশালীএকপ্রকারআলোকশক্তিইবিদ্যমানছিল-যারবৈজ্ঞানিকনামঃ “মহাসূক্ষ্ণআলোকবিন্দু” (Highest Energetic Radiation) ।এতেইসম্মিলিতভাবে নিহিত ছিল আজকের আসমান ও যমিন বা পৃথিবী। বিজ্ঞানীদের ধারণা, প্রায় ১৫০০ কোটি থেকে ২০০০ কোটি বৎসর পূর্বে উক্ত ““মহাসূক্ষ্ণ” বিন্দুটি ১০৩ e.s.a পর্যায়ে স্থিতি লাভ করেছিল। ১৯৬৫ সালে পশ্চাৎপদ বিকিরণ (Back Ground Radiation) আবিস্কারের ফলে বিজ্ঞান এ সত্য মানব জাতিকে অবগত করাতে সক্ষম হয় যে, শুণ্য থেকে সৃষ্ট উক্ত Highest Energetic Radiation নামক মহাআলোক গোলকটি মহাবিস্ফোরণ (Big Bang) এর পূর্বে (১) আলো (২) শক্তি ও (৩) তাপ-এই ত্রিমাত্রিক অবস্থায় বিরাজমান ছিল । এই সময় তাপমাত্রার পরিমাণ ছিল ১০৩২ ডিগ্রি কেলভিন অর্থাৎ ১০,০০০ কোটি, কোটি, কোটি, কোটি ডিগ্রি কেলভিন। মহাবিস্ফোরণ (big bang) ঘটার পরবর্তী মুহুর্তের অবস্থা বৈজ্ঞানিক ভাষ্যমতে Highest Energetic Radiation-এ মহাবিস্ফোরণ (big bang) ঘটার পর মুহুর্তে তাপমাত্রা 1030k থেকে দ্রুত ১০২৮ তে নেমে আসে তখন (highest energetic photon) কণিকারা নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটিয়ে পদার্থ কণিকা হিসেবে প্রথম বারের মত ‘কোয়ার্ক’ এবং এন্টি কোয়ার্ক এর জন্ম দেয়। অতঃপর তাপমাত্রা যখন আরো নিচে নেমে ১০১৩ কেলভিনে দাঁড়ায় তখন কোয়ার্ক এবং এন্টি কোয়ার্কের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটে। এতে উভয় এর ব্যাপক ধ্বংস সাধন ঘটে এবং অবশিষ্ট থেকে যায় কিছু কোয়ার্ক। এরপর যখন তাপমাত্রা আরো কমে গিয়ে ১০১০ কেলভিন-এ দাঁড়ায় তখন ৩টি কোয়ার্ক (১টি আপ কোয়ার্ক এবং ২টি ডাউন কোয়ার্ক) মিলিত হয়ে প্রোটন কণিকা (Proton Particle) এবং ৩টি কোয়ার্ক(২টি আপ কোয়ার্ক এবং ১টি ডাউন কোয়ার্ক) মিলিত হয়ে নিউট্রন কণিকা (Neutron Particle) সৃষ্টি হতে থাকে। তারপর তাপমাত্রা যখন ১০৯ কেলভিনে নেমে আসে তখন পরিবেশ আরো অনুকুলে আসায় সৃষ্ট প্রোটন কণিকা ও নিউট্রন কণিকা পরষ্পর মিলিত হয়ে প্রথমবারের মত মহাবিশ্বে এটমিক নিউক্লি গঠিত হতে থাকে। এরপর তাপমাত্রা আরও কমে গিয়ে ১০৮ কেলভিন তখন এটমিক নিউক্লি মহাবিশ্বে বিক্ষিপ্তভাবে ছুটে চলা ইলেকট্রনিক কণিকাকে (Electronic Particle) চর্তুদিকের কক্ষপথে. ধারণকরে।ফলে প্রথমবারের মত অণু'র (atoms) সৃষ্টি হয়। আরওপরেযখন তাপমাত্রা ৩,০০০ কেলভিনে উপনীত হয় তখন মহাবিশ্বের মূল সংগঠন গ্যালাক্সি (galaxy) সৃষ্টি হতে থাকে। পরবর্তীতে এর ভেতর নক্ষত্র, গ্রহ, উপগ্রহ ইত্যাদি সৃষ্টি হতে থাকে। অতঃপর তাপমাত্রা যখন আরো নিম্নগামী হয়ে মাত্র ৩ কেলভিনে নেমে আসে তখন সার্বিক পরিবেশ অনুকূলে থাকায় পৃথিবীতে গাছ-পালা, জীব-জন্তু ও প্রাণের ব্যাপক সমাবেশ সমাগম ঘটতে থাকে। আঙুলের ছাপ বা ফিঙ্গারপ্রিন্টের জন্ম কাহিনী আঙুলের ছাপ বা ফিঙ্গারপ্রিন্ট—এক অনন্য জিনিস। অপরাধবিজ্ঞান বলে, পৃথিবীর প্রত্যেক মানুষের আঙুলের ছাপই আলাদা, কারও সঙ্গে কারোর আঙুলের ছাপের হুবহু মিল নেই। অপরাধী শনাক্তে পুলিশ-গোয়েন্দাদের বড় ভরসা আঙুলের ছাপ। শুধু কি অপরাধী শনাক্ত? আজকের দিনে আঙুলের ছাপ হয়ে উঠেছে আমাদের পরিচয় শনাক্তের এক অপরিহার্য অনুষঙ্গ। আঙুলের ছাপ শনাক্তকরণের পদ্ধতি আবিষ্কারের ফলে এক ধাক্কায় বিজ্ঞান এগিয়ে গিয়েছিল অনেকটা পথ। তৎকালীন বৃটিশ ভারতীয় সরকার ফিঙ্গারপ্রিন্টের 'হেনরি ক্লাসিফিকেশন সিস্টেম' তৈরি করার দায়িত্ব দেয়া হয় গণিতপ্রিয় আজিজুল ও হেমচন্দ্র‌কে। কাজ শুরু হলো কলকাতার রাইটার্স বিল্ডিংয়ে। আজিজুল তৈরি করলেন সিস্টেমের গাণিতিক ভিত্তি। আর হেমচন্দ্র বানালেন আঙুলের ছাপের টেলিগ্রাফিক কোড সিস্টেম। নিজের তৈরি বিশেষ এক গাণিতিক ফর্মুলার ওপর ভিত্তি করে আজিজুল ৩২টি সারি বানান। তারপর ওই ৩২ সারিতে বানান ১ হাজার ২৪টি খোপ। এসব খোপে তিনি গড়ে তুললেন ৭ হাজার আঙুলের ছাপের বিশাল সংগ্রহ। এতে অনেকটাই সহজ হয়ে যায় লাখ লাখ আঙুলের ছাপের শ্রেণিবিন্যাস করার কাজ।বর্তমান বায়োমেট্রিক সিস্টেম তৈরিতেও বড় ভূমিকা রেখেছে 'হেনরি ক্লাসিফিকেশন'। নানা যাচাই-বাছাইয়ের পর আনুষ্ঠানিকভাবে আঙুলের ছাপের সাহায্য অপরাধী শনাক্ত করার প্রচলন শুরু হয়। ১৯০০ সালের মধ্যে অ্যানথ্রোপমেট্রিকের জায়গা নিয়ে নেয় এই পদ্ধতি। এর আগে চার্লস ডারউইনের কাজিন ও নৃবিজ্ঞানী ফ্রান্সিস গ্যালটন উদ্ভাবিত অ্যানথ্রোপমেট্রিক পদ্ধতিতে অপরাধী শনাক্ত করা হতো। কিন্তু এ পদ্ধতিতে আঙুলের ছাপের শ্রেণীবিন্যাস করতে লেগে যেত ঘণ্টার পর ঘণ্টা। কিন্তু আজিজুল হকের সাব-ক্লাসিফিকেশন বা শ্রেণীবিন্যাসকরণ পদ্ধতির দৌলতে মাত্র এক ঘণ্টাতেই সে কাজ সম্ভব হয়ে যায়। হেনরি সিস্টেম গড়ে তোলার অল্প দিন পরেই কলকাতায় স্থাপিত হয় বিশ্বের প্রথম ফিঙ্গারপ্রিন্ট ব্যুরো। এই সংস্থা প্রতিষ্ঠার অনেক পর স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডেও একই ধরনের আরও একটি ব্যুরো গড়ে তোলা হয়। পরে আমেরিকাতেও স্থাপন করা হয় একই ধরনের প্রতিষ্ঠান। এখন বিশ্বের সব দেশেই ফিঙ্গারপ্রিন্ট ব্যুরো আছে। এসব প্রতিষ্ঠানে আজিজুল হকের আবিষ্কৃত আঙুলের ছাপের শ্রেণীবিন্যাসকরণ পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়। 'কারেন্ট সায়েন্স' সাময়িকীর ২০০৫ সালের ১০ জানুয়ারি সংখ্যায় জিএস সোধী ও যশজিৎ কউর 'দ্য ফরগটেন ইন্ডিয়ান পাইওনিয়ারস অভ ফিঙ্গারপ্রিন্ট সায়েন্স' নামে এক নিবন্ধ লেখেন। ওই নিবন্ধে তারা হাতের ছাপ শ্রেণীবিন্যাসকরণে আজিজুল হকের অবদানের কথা অকুণ্ঠ চিত্তে স্বীকার করেছেন। ওই নিবন্ধ থেকে এ-ও জানা যায় যে, আজিজুল হক তার কাজের স্বীকৃতি চেয়ে আবেদনও করেছিলেন। কিন্তু তার আবেদন গ্রাহ্য করা হয়নি। স্যার হেনরি ১৯২৬ সালের ইন্ডিয়া অফিসের তখনকার সেক্রেটারি জেনারেলকে লেখা এক চিঠিতে আজিজুল হককে উদ্দেশ্য করে জানান, 'আমি স্পষ্ট করতে চাই যে আমার মতে, শ্রেণীবিন্যাসকরণ (ফিঙ্গারপ্রিন্ট) পদ্ধতিকে নিখুঁত করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছেন আমার কর্মচারীদের মধ্যে তিনি ।আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি না দিলেও অসামান্য কাজের খানিকটা পুরস্কার আজিজুল পেয়েছিলেন। ব্রিটিশ সরকারের তরফ থেকে তাকে খান বাহাদুর উপাধি দেওয়া হয়। সেইসঙ্গে দেওয়া হয় পাঁচ হাজার টাকা ও ছোটখাটো একটা জায়গির। আর চাকরিতে পদোন্নতি পেয়ে হয়েছিলেন পুলিশের এসপি। পাশাপাশি হেমচন্দ্রও পান রায় বাহাদুর উপাধি ও পাঁচ হাজার টাকা অর্থপুরস্কার। আঙ্গুলের আগা কে এক কথায় ডাটা ব্যাংক বলা জেতে পারে। নিশ্চয় ডিএনএ একটি অতি মূল্যবান আবিষ্কার। আঙ্গুলের আগার রেখার গঠন এবং গড়ন মাতৃগর্ভের প্রথম তিন মাসে হয়। এর অনেক ব্যাখ্যা রয়েছে, একটি হল মানুষের সকল চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য এই আঙ্গুলের ছাপে এনকোডেড রয়েছে। সুতরাং আমাদের পুনরুত্থান এর সময় আল্লাহ আমাদের শরীর পুরাপুরি ফিরিয়ে দিবেন এবং আমাদের বিচার করবেন, আর শুধু আঙ্গুলির মাথার ছাপ দিয়েই আমাদের সকল চারিত্রিক ডিএনএআবিষ্কারহবারপরএইধারনাবদলেগেছেযেকোষতারঅবস্থিতএলিমেন্টনিয়েএকটিসাধারনসৃষ্টিনয়।আরওগভিরগবেষণায়এরজটিলতাপ্রকাশপেয়েছে।মানুষেরএকটিডিএনএকোটিকোটিকোডসম্বলিতহয়, আমাদেরচুলেররঙথেকেশুরুকরেনখপর্যন্তসকলতথ্যএইকোডএথাকে. আঙ্গুলেরআগারএকটিডিএনএএরকোডছাপালেলক্ষপৃষ্ঠারহাজারকপিবইহবে।আরআঙ্গুলেরআগারএকটিডিএনএদিয়েযেকারোসকলতথ্যজানাসম্ভব।রআনএআছে : মানুষকিভেবেছেআমিতারঅস্থিসমুহএকত্রকরতেপারবনা? অবশ্যইআমিসক্ষমএমনকিতারআঙ্গুলেরআগাকেওপূণরায়সৃষ্টিকরতে।আজথেকেচৌদ্দশতবছরআগেরলোকেরাফিঙ্গারপ্রিন্টসম্পর্কেখুবকমএজানত।তবেকেনআল্লাহকুরআনএফিঙ্গারপ্রিন্টএরতুলনাদিয়েছেন? আসুনএকটুদেখি।'মহাবিশ্বের কাজকর্মের জটিলতার মতো সুপারকম্পিউটার খ্যাত আমাদের মস্তিস্কের জটিলতাও কম নয়। আমাদের মস্তিষ্কে প্রায় ১০ হাজার কোটি (১০০ বিলিয়ন) নিউরন আছে। এই ১০ হাজার কোটি নিউরনের প্রায় ১ কোটি (১০০ ট্রিলিয়ন) জটিল স্নায়বিক সংযোগের মাধ্যমে চলে আমাদের মস্তিষ্কের সব কাজকর্ম।১৮৭৫ সালে জেন জিন্সেন নামক এক ইংলিশ বিজ্ঞানী আবিস্কার করেন যে আঙ্গুলের ছাপ একটি অসাধারন বিষয়।উল্লেখ্য, ২০২০ সালের নভেম্বরের মাঝামাঝি ফ্রন্টিয়ার্স ইন ফিজিকস জার্নাল সূত্রে জানা যায় যে, আমাদের মস্তিষ্কের মরফোলজি বা গঠনবিজ্ঞান আর মহাবিশ্বের গঠনবিজ্ঞানের মধ্যে যে আশ্চর্য মিল আছে, তার সুনির্দিষ্ট তুলনামূলক বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ পাওয়া গেছে অতিসম্প্রতি। ইতালির বোলোগনা বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যোতিঃপদার্থবিজ্ঞানী ফ্রাঙ্কো ভাজ্জা এবং ভেরোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব নিউরোসার্জারির স্নায়ুবিজ্ঞানী আলবার্তো ফেলেত্তি মহাবিশ্বের কসমিক নেটওয়ার্ক বা মহাজাগতিক জাল এবং মস্তিষ্কের নিউরাল নেটওয়ার্ক বা নিউরনের জালের গঠনবিজ্ঞানের মধ্যে চমকপ্রদ মিল খুঁজে পেয়েছেন।উল্লেখ্য, পদার্থবিজ্ঞানের অনেক মৌলিক সূত্রের মধ্যে গঠনগত সাদৃশ্য আছে। যেমন নিউটনের মহাকর্ষ বলের সূত্রের সঙ্গে বিদ্যুৎ–চুম্বক বলের কুলম্বের সূত্রের মিল আছে। উভয় বলই দূরত্বের বর্গের বিপরীত অনুপাতিক। কিন্তু তাদের প্রকৃতি অনেকটাই ভিন্ন। যেমন মহাকর্ষ বল মহাবিশ্বের সব জায়গায় সব ধরনের পদার্থের ওপর কাজ করে। কিন্তু বিদ্যুৎ–চুম্বক বল কাজ করে শুধু চার্জযুক্ত কণার মধ্যে। তেমনি মস্তিষ্কের নিউরনের নেটওয়ার্ক এবং মহাবিশ্বের কসমিক নেটওয়ার্কের কার্যপদ্ধতির মধ্যে অনেক পার্থক্য থাকলেও তাদের গাণিতিক গঠনবিজ্ঞানে আশ্চর্য সাদৃশ্য রয়েছে। আমাদের মস্তিষ্ককে থ্রি পাউন্ড ইউনিভার্স বা দেড় কেজি ভরের মহাবিশ্ব বলা হয়। এই তুলনা যে কেবল বাহ্যিক সাদৃশ্যের কারণে তুলনা নয়, তা প্রমাণ করার জন্য অধ্যাপক ভাজ্জা ও অধ্যাপক ফেলেত্তি নিউরাল নেটওয়ার্ক ও কসমিক নেটওয়ার্কের যে বিস্তারিত গাণিতিক বিশ্লেষণ করেন তার সংক্ষিপ্ত নিম্নরূপঃ আমাদের মস্তিষ্কের মোট ভরের ৮০ শতাংশ হলো গ্রে ম্যাটার। এই গ্রে ম্যাটারে আছে প্রায় ৬০০ কোটি নিউরন এবং ৯০০ কোটি অন্যান্য কোষ। মস্তিষ্কের সেরিবিলামে (cerebellum) আছে প্রায় ৭ হাজার কোটি নিউরন এবং প্রায় ১ হাজার ৬০০ কোটি অন্যান্য কোষ। মানুষের মস্তিষ্কের মোট নিউরনের সংখ্যা মহাবিশ্বের মোট গ্যালাক্সির সংখ্যার প্রায় সমান। নিউরনগুলো মস্তিষ্কে জোটবদ্ধ হয়ে পরস্পরের মধ্যে স্নায়বিক সংযোগের মাধ্যমে তৈরি করে জটিল নিউরাল নেটওয়ার্ক। একইভাবে মহাবিশ্বের গ্যালাক্সিগুলোর মধ্যে মাধ্যাকর্ষণ এবং অন্যান্য জটিল প্রাকৃতিক প্রক্রিয়ায় তৈরি হয় কসমিক নেটওয়ার্ক। যদিও কসমিক নেটওয়ার্ক নিউরাল নেটওয়ার্কের তুলনায়বিলিয়ন বিলিয়ন বিলিয়ন (১০২৭) বা ১০ লাখ কোটি কোটি কোটি গুণ বড়। নিউরাল নেটওয়ার্ক ও কসমিক নেটওয়ার্কের মধ্যে আছে আশ্চর্য দৃশ্যমান সাদৃশ্য। মস্তিষ্কের উপাদানের ৭৭-৭৮ শতাংশ পানি, ১০-১২ শতাংশ লিপিড, ৮ শতাংশ প্রোটিন, ১ শতাংশ কার্বোহাইড্রেট, ২ শতাংশ অন্যান্য জৈব যৌগ, লবণ ১ শতাংশ। পানি স্নায়বিক সংযোগে কোনো ভূমিকা রাখে না। দেখা যাচ্ছে, মস্তিষ্কের মোট ভরের ৭৭ থেকে ৭৮ শতাংশ কোনো ধরনের স্নায়বিক সংযোগে অংশ নেয় না। এদিকে মহাবিশ্বের মোট শক্তির প্রায় ৭৫ শতাংশ অদৃশ্য শক্তি বা ডার্ক এনার্জি। কসমিক নেটওয়ার্কে এই অদৃশ্য শক্তির সরাসরি কোনো ভূমিকা আমরা এখনো দেখতে পাই না। দেখা যাচ্ছে, নিউরাল ও কসমিক উভয় নেটওয়ার্কেই প্রায় ৭৫ শতাংশ উপাদানের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ নেই। প্রশ্ন হচ্ছে, মানব মস্তিস্কের সাদৃশ্য এমনতর অভিনব কসমিক নেটওয়ার্কের উদ্ভব কীভাবে হয়েছে, তা সঠিকভাবে খুঁজে বের করা খুব সহজ কাজ নয় বলেই বিজ্ঞানীরা এখনো নিশ্চিতভাবে বলতে পারছেন না ঠিক কীভাবে কী হয়েছে। আমাদের মস্তিস্ক সুপার কম্পিউটারের তুলনায় সুপার ডিজিটাল হতে পারে তবে কসমিক নেটওয়ার্কের ধারে কাছেও হতে পারে না। কারণ, কম্পিউটারে মহাবিশ্বের একটি সার্থক মডেল তৈরি করতে সর্বোচ্চ ১০ পেটাবাইট (১ পেটাবাইট = ১০২৪ টেরাবাইট) ডেটা দরকার। আর এত বিপুল পরিমাণ ডেটা বিশ্লেষণ করার জন্য দরকার সুপার ডিজিটাল কম্পিউটার। আমাদের মস্তিষ্কের সব নিউরনকে কাজে লাগালে আমরা ২ দশমিক ৫ পেটাবাইট ডেটা আমাদের মাথার মধ্যে রাখতে পারব।আমরা আমাদের মস্তিষ্ককে যত বেশি খাটাব, মস্তিষ্কের নিউরাল নেটওয়ার্ক তত বেশি শক্তিশালী হবে, তত বেশি জটিল সমস্যার সমাধান আমরা করতে পারব। পুরো মহাবিশ্বের নেটওয়ার্কে যত তথ্য আছে, তার সব তথ্য ধরে রাখার মতো ক্ষমতা আমাদের মস্তিষ্কের নিউরনে আছে। এই ক্ষমতাকে কাজে লাগানোর জন্য দরকার নিয়মিত মাথা খাটানো। অর্থাৎ মগজের চর্চা। যে যত বেশি চর্চা করবে, তার নিউরাল নেটওয়ার্ক হবে ততই কার্যকর। সূত্র: ফ্রাঙ্কো ভাজ্জা ও আলবার্তো ফেলেত্তি, ফ্রন্টিয়ার্স ইন ফিজিকস (২০২০); নটিলাস (২০১৯),বিজ্ঞানচিন্তাhttps://www.bigganchinta.com/physics/r7d9ltj14kবায়োমেডিকেল ফিজিকস বিভাগ, আরএমআইটি, মেলবোর্ন, অস্ট্রেলিয়া প্ল্যাঙ্ক স্কেলে এসে কোয়ান্টাম তত্ত্ব ও সার্বিক আপেক্ষিকতা—দুটিই মুখ থুবড়ে পড়েপ্রশ্ন হলো, স্থান-কালকে কোয়ান্টায়িত করার মানে কী? এর মানে হলো, মৌলিক একটি একক বা বিচ্ছিন্ন খণ্ডের অস্তিত্ব আছে অতিক্ষুদ্র, অ–ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য ও সূক্ষ্ম কাঠামোয়। যেমন ধরুন একটি ছবি। একে জুম করতে থাকলে একসময় দেখবেন, মসৃণ ছবিটায় ফুটে উঠবে বহু ছোট ছোট বর্গ। এদের নাম পিক্সেল। স্থান-কালের ব্যাপারটাও এর সঙ্গে তুলনীয়। জুম ইন করে ছোট ছোট এককের দিকে যেতে থাকলে দেখা যাবে, স্থান-কাল অবিচ্ছিন্ন বা মসৃণাভাবে ভবিষ্যতের দিকে ছুটে চলছে না। চলছে বিচ্ছিন্ন এক ঘড়ির দ্রুত টিক বা স্পন্দনের মতো। চলাচলের পথটা মসৃণ নয়; বরং এ যেন স্থান-কালের এক পদক্ষেপ থেকে আরেক পদক্ষেপে থেমে থেমে হামাগুড়ি দিয়ে এগিয়ে যাওয়া। স্থান-কালের এ কোয়ান্টায়ন হয় প্ল্যাঙ্ক স্কেলে। খুব ক্ষুদ্র দৈর্ঘ্য, সময়ে বা শক্তিতে৷ ১০৯ জুল শক্তি, ৫×১০-৪৪ সেকেন্ড ব্যাপ্তি বা ১০-৩৫ মিটার দৈর্ঘ্যকে প্ল্যাঙ্ক স্কেল ধরা হয়। শক্তির পরিমাণটা প্ল্যাঙ্ক ভরের সমতুল্য পরিমাণ (আইনস্টাইনের ভর-শক্তির সমীকরণ E = mc2 থেকে)। আর প্ল্যাঙ্ক দৈর্ঘ্য প্রোটনের ১০ লাখ-কোটি-কোটি গুণ ছোট। প্ল্যাঙ্ক স্কেল পর্যন্তই শক্তি ও পদার্থের অর্থপূর্ণ পরিমাপ সম্ভব। মজার ব্যাপার হলো, প্ল্যাঙ্ক স্কেলে এসে কোয়ান্টাম তত্ত্ব ও সার্বিক আপেক্ষিকতা—দুটিই মুখ থুবড়ে পড়ে। কোনোটির পূর্বাভাসই কাজ করে না। মহাবিশ্বের জন্মের ঠিক পরপর এমন অবস্থা ছিল। আরও সঠিক করে বললে, জন্মের ১০-৪৩ সেকেন্ড পরে ছিল সে অবস্থা। মহাবিশ্বের এই বিশেষ সময়টার নামও প্ল্যাঙ্ক যুগ। সে সময়ের অবস্থার কেমন ছিল বা সেটা কীভাবে হয়েছিল, তা বলতে পারে না দুই তত্ত্বের কোনোটিই। স্থান-কালের কোয়ান্টায়ন হয় প্ল্যাঙ্ক স্কেলে। খুব ক্ষুদ্র দৈর্ঘ্য, সময়ে বা শক্তিতে৷ ১০৯ জুল শক্তি, ৫×১০-৪৪ সেকেন্ড ব্যাপ্তি বা ১০-৩৫ মিটার দৈর্ঘ্যকে প্ল্যাঙ্ক স্কেল ধরা হয়।কোয়ান্টায়নের একটি দারুণ সুবিধা হলো সিঙ্গুলারিটি সমস্যার সমাধান। আইনস্টাইনের তত্ত্বে অসীম ঘনত্ব ও মহাকর্ষের স্থানে তৈরি হয় সিঙ্গুলারিটি বা অনন্যতা। অনেকে বলেন, পরম বিন্দু। এই যেমন মহাবিশ্বের শুরুতে বা কৃষ্ণগহ্বরের কেন্দ্রে। যেখানে অসীম মহাকর্ষ সব পদার্থকে টেনে নিয়ে গেছে একটি বিন্দু বা রেখায়। আয়তনকে করেছে শূন্য।আমরা ঠিক জানি না কৃষ্ণগহ্বরের কেন্দ্র বা বিগ ব্যাংয়ের সময়ের অবস্থা। মহাকর্ষীয় সিঙ্গুলারিটি বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে কোয়ান্টামধর্মীমহাকর্ষের প্রভাবে সৃষ্ট এ সিঙ্গুলারিটির নাম মহাকর্ষীয় সিঙ্গুলারিটি। তবে সংজ্ঞাই বলছে, সিঙ্গুলারিটি অতিশয় ক্ষুদ্র। সে হিসাবে বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে এটি কোয়ান্টামধর্মী।অদৃশ্য শক্তি (Dark Energy)কম্পনঃ স্ট্রিংয়ের প্রাণস্পন্দন ! কম্পনঃ স্ট্রিং তত্ত্বের একটি মৌলিক দিক কম্পাঙ্কের সংজ্ঞা একক সময়ে অর্থাৎ এক সেকেন্ডের মধ্যে যতবার পূর্ণতরঙ্গ সম্পন্ন করে তাকে কম্পাঙ্ক (n) বলা হয় যদি কোনো বস্তু প্রতি সেকেন্ডে কমপক্ষে ২০ বার কাঁপে তবে সেই বস্তু থেকে উৎপন্ন শব্দ শোনা যাবে। এভাবে আবার কম্পন যদি প্রতি সেকেন্ডে ২০,০০০ বার এর বেশি হয় তাহলেও শব্দ শোনা যাবে না। সুতরাং আমাদের কানে যে শব্দ শোনা যায় তার কম্পাঙ্কের সীমা হলো ২০ Hz থেকে ২০,০০০ Hz। কম্পাঙ্কের এই পাল্লাকপ শ্রাব্যতার পাল্লা বলে। যদি কম্পাঙ্ক ২০ Hz এর কম হয় তবে তাকে শব্দেতর কম্পন বলে। যদি কম্পাঙ্ক ২০,০০০Hz এর বেশি হয় তবে তাকে শব্দোত্তর কম্পন বআমাদের অন্তঃকর্ণের মধ্যে এই পর্দায় শব্দ পৌঁছালে আমরা শুনতে পাই। ২০ হাজার হার্জের শব্দ আমাদের শ্রবণা অনভূত সৃষ্টি করে না। যেমন উচ্চ শব্দের কোনো মাধ্যম থেকে আমরা শব্দ পাই না। আমাদের মস্তিষ্ক তা গ্রহণ করে না।https://bn.quora.com/শব্দের-কম্পাঙ্ক-20-000-Hz-এর-বেশি ►হার্ভার্ড-স্মিথসোনিয়ান সেন্টারের জ্যোতিপদার্থবিদরা দক্ষিণ মেরুতে স্থাপিত টেলিস্কোপের সাহায্যে যে তরঙ্গ প্রবাহের সন্ধান পেয়েছেন, তা ১৪শ' কোটি বছর আগে এই তরঙ্গের উৎপত্তি এবং তরঙ্গটি বিগ ব্যাং-এর প্রথম কম্পন” বলে বর্ণনা করেছেন-যা আলবার্ট আইনস্টাইনের এক শতকের পুরোনো আপেক্ষিক তত্ত্বের মিল পাওয়া যায় ৷ এ থেকে এই প্রথম ‘কসমিক ইনফ্লেশন' বা মহাজাগতিক স্ফীতির সরাসরি তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেল৷ শুধু তাই নয় এই তত্ত্ব থেকে এ কথাও সহজেই বলা যায় যে, মহাবিশ্ব তার সূচনাকালীন ‘চোখের পলক ফেলার সময়ের মধ্যে একশ ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন গুণ বিস্তার লাভ করেছে ৷ এই আলোক তরঙ্গ নির্ণয়ের ফলে মহাবিশ্বের সৃষ্টি ঠিক কত কোটি বছর আগে – এটা নিয়ে বিশ্বজুড়ে বিদ্যমান নানা যে জল্পনা-কল্পনা চলছে এ মহাজাগতিক তথ্য এসব জল্পনা-কল্পনার একটা সদুত্তরও হতে পারে বলে বিজ্ঞানীদের বিশ্বাস (সূত্রঃ উইকিপিডিয়া)। কম্পাঙ্ক:কোয়ান্টাম শক্তির বাহক►বিদুৎ-চৌম্বকীয় শক্তি নির্গত হয় বিচ্ছিন্ন গুচ্ছ আকারে। এই গুচ্ছেরই নাম কোয়ান্টা যা থেকে কোয়ান্টাম শব্দের বুৎপত্তি। প্রতিটি কোয়ান্টার শক্তি নির্ভর করে শুধুমাত্র এর কম্পাঙ্কের ওপর। এতে প্রতীয়মান যে, কোয়ান্টার শক্তির উৎসমূল কম্পন যা স্ট্রিং থিওরির ভিতকোয়ান্টাম ফিল্ড থিওরি অনুসারে, কোয়ান্টাম ফিল্ডকে প্রচণ্ড শক্তিতে আঘাত করা হলে সেই ফিল্ডে এক ধরনের কম্পন তৈরি হয়। এই কম্পনে সেই ফিল্ডে “কোয়ান্টা” (Quanta) নামক এক প্রকার কণিকা তৈরি হয়- যা বিজ্ঞানীরা পর্যবেক্ষণ যন্ত্রে অতিপারমাণবিক কণিকা হিসেবে পর্যবেক্ষণ করে থাকেন। অর্থাৎ আমরা যেসব মৌলিক কণিকার কথা বলি, এগুলো মূলত বিভিন্ন কোয়ান্টাম ফিল্ডের কম্পন। ইলেকট্রনের ফিল্ডকে আঘাত করা হলে ইলেকট্রন তৈরি হবে। কোয়ার্ক ফিল্ডে আঘাত করলে কোয়ার্ক তৈরি হবে। ইলেকট্রোম্যাগনেটিক ফিল্ডে আঘাত করলে আলোর কণিকা ফোটন তৈরি হবে। হিগস ফিল্ড যেহেতু একটি কোয়ান্টাম ফিল্ড, তাই হিগস ফিল্ডকে আঘাত করলেও একটি কণিকা তৈরি হবে। হিগস ফিল্ডের কোয়ান্টাকে আমরা বলি হিগস বোসন (গড'স পার্টিকেল)। শক্তিঃ কম্পনের প্রাণস্পন্দন ! স্ট্রিং থিওরিমতে কম্পমান সূক্ষ্ণ সুতা/তারের উৎসমূল শক্তি (Energy) জার্মান পদার্থ বিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইনের বিশেষ আপেক্ষিকতা তত্ত্ব E=mc2 সমীকরণমতে বস্তু ও শক্তি আসলে সমার্থক। (বিজ্ঞান চিন্তা পৃঃ ৪৪)। ... “তাই জমে থাকা শক্তিও জমে থাকা বস্তুর মত” (পৃঃ ৩৫)। স্ট্রিং থিওরীর মূল লক্ষ্যঃ স্ট্রিংগুলোর কোয়ান্টাম অবস্থা ও বৈশিষ্ট্য ব্যবহার করে প্রকৃতিতে বিদ্যমান সকল মৌলিক কনিকার আচরণ ব্যাখ্যা করা স্ট্রিং থিওরীর মূল লক্ষ্য।যায়, মহাবিশ্বের উদ্ভব বিগ ব্যাং থেকে। বিগ ব্যাং কিসের বিস্ফোরণে ঘটেছিল? তারও উত্তর রয়েছে এমসিএসএম থিওরিতে। এই থিওরি বলছে, বিগ ব্যাং ঘটেছিল হাইয়েস্ট এনার্জেটিক রেডিয়েশনের বিস্ফোরণ থেকে? যদি প্রশ্ন করা হয়, হাইয়েস্ট এনার্জেটিক রেডিয়েশনের পূর্ব কি ছিল? এর উত্তর পাওয়া যায় বিগ ব্যাং থিওরির প্রবক্তা বৃটিশ পদার্থ বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিংয়ের মন্তব্যে। তিনি দাবী করেন, হাইয়েস্ট এনার্জেটিক রেডিয়েশনের পূর্বে মহাবিশ্ব ব্যাপক শুন্যময় ছিল। তাঁর দাবী শুন্য থেকে হাইয়েস্ট এনার্জেটিক রেডিয়েশন তথা মহাবিশ্বের উদ্ভব ঘটেছিল। চূড়ান্ত প্রশ্ন হতে পারে, শুন্যময় অবস্থার আগে কি ছিল? এ প্রশ্নের পরোক্ষ উত্তর রয়েছে এমসিএসএম কোয়ান্টাম থিওরিতে। এই থিওরিতে শুন্যে শক্তি বিরাজ করা নতুন কিছু নয়। এতে সুস্পষ্ট প্রতীয়মান যে, মহাবিশ্বের উদ্ভব তথা বিগ ব্যাং, হাইয়েস্ট এনার্জেটিক রেডিয়েশনের পূর্বে যে শুন্যাবস্থা তাতে বিদ্যমান ছিল কেবল শক্তি আর শক্তি। শক্তি পরিচিতি আইনস্টাইনের ভরশক্তি সমীকরণ তথা স্পেশাল রিলিটিভিটি থিওরির মূল কথা ভরশক্তি। এমতে যা ভর তা-ই শক্তি, যা শক্তি তা-ই ভর। অর্থাৎ জমে থাকা শক্তি জমে থাকা বস্তুর মতই। সেমতে বস্তু+ভর+শক্তি সমার্থক। শক্তির সাধারণ বৈশিষ্ট্য কী? পদার্থবিজ্ঞান ও রসায়নে শক্তির নিত্যতার সূত্র জানায় যে কোনো একটি বদ্ধ সিস্টেমের শক্তি সর্বদা ধ্রুব থাকে; এটি সময়ের সাথে পরিবর্তনশীল নয়। এর মানে এই যে শক্তির কোনো সৃষ্টি বা ধ্বংস নেই; বরং এটি কেবল এক রূপ থেকে অন্য রূপে স্থানান্তরিত হয়। এই শক্তির নিত্যতার সূত্রটি সর্বপ্রথম প্রস্তাব এবং পরীক্ষা করেন এমিলি দ্যু শাতলে । https://digiexamguide.com/341-2/ শক্তির নিত্যতা তত্ত্ব “প্রত্যেক বিষয়বস্ত্ত মূলে পৌঁছে” (ফারাবী আল আরাবি)। বস্ত্তগত বিবেচনায় এই মূল হচ্ছে শক্তি। স্ট্রিং থিওরিতে রয়েছে এই শক্তির চমৎকার মেরুকরণ যার সংক্ষিপ্ত বর্ণনা নিম্নরূপঃ আইনস্টাইনেরতত্ত্বমতে, কোনোবস্ত্তরআয়ুস্কালফুরাতেশুরুকরলেবস্ত্তটিরভর, শক্তিআস্তেআস্তেচুপসেযেতেথাকে।এভাবেচুপতেচুপতেএকসময়পরিণতহয়একপরমবিন্দুতে যাকে সিঙ্গুলারিটি বলা হয়। কণা পদার্থ বিজ্ঞানমতে প্রতিটি অণু-পরমাণু কম্পমান। স্ট্রিং থিওরিমতেও কণাগুলো কম্পনশীল। CIRNN এর মতে, এই কম্পনের উৎসমূল শক্তি। সূত্রঃ নিউটনের প্রথম সূত্র বলে, “বাহ্যিক কোন বল প্রয়োগ না করলে স্থির বস্তু চিরকাল স্থির ও গতিশীল বস্তু চিরকাল গতিশীল থাকবে”। এককথায়, বস্তু নিজে তার অবস্থার পরিবর্তন করতে পারেনা, করতে হলে বাইরের বল (শক্তি) প্রয়োজন। স্ট্রিং তত্ত্বের নিউটনীয় পরীক্ষা অতি সূক্ষ্ণ বা চিকন (সরু) শক্ত কয়েক ফুট লম্বা একটি স্ট্রিং বা তার নিই । মনে মনে তারটিকে A, B এবং C-তে ভাগ করি। তারের অগ্রভাগ-কে A, মধ্যম অংশ-কে B এবং প্রান্ত বা শেষ অংশকে C ধরি। অতঃপর তারটির অগ্রভাগ এবং শেষ ভাগ-কে টান টান ভাবে শক্তভাবে বেধে রাখি। দেখা যাবে, তারটি কোনো প্রকার কম্পন এবং শব্দ ছাড়াই নিরব-নিথরভাবে নিস্ক্রীয় পড়ে আছে। এরপর তারটির মধ্যভাগে হালকাভাবে দৈহিক শক্তি প্রয়োগে তর্জনী আঙ্গুল দ্বারা নাড়া দিলে দেখা যাবে, তারটি ক্রমশঃ সক্রিয় হয়ে মৃদু কম্পন এবং মৃদু শব্দ সৃষ্টি করছে। যতই তারের মধ্যভাগে শক্তিবৃদ্ধি করে যত দ্রুত নাড়া দেয়া হয় তত বেশি কম্পন এবং শব্দ সৃষ্টি হবে। এখানে কম্পন এবং শব্দের উৎসমূল দাঁড়াবে শক্তি। শক্তির নিত্যতা: শক্তির নিত্যতা বা থার্মোডিনামিক্সের ১ম সূত্র বলে “শক্তির কোন সৃষ্টি নেই, ধ্বংস নেই এটা কেবল একরূপ থেকে অন্যরূপে রূপান্তরিত হয়।” মহাবিশ্ব হচ্ছে শক্তির সমষ্টি। E=mc2 সূত্রানুসারে বস্তুর ভরটাও হল শক্তি। প্রশ্ন, এই শক্তি উৎস কী? বলা হয়ে থাকে, শুন্যের উৎসমূল শূণ্যতা থেকে। প্রশ্ন হতে পারে, শূণ্য মানে কি শুধুই শুন্য অর্থাৎ কিছুই নয় কিংবা কিছুই না? এর উত্তর Modern Cosmological Standard Model এর কোয়ান্টাম থিওরি মতে, শূণ্যতা আসলে শূন্যতা নয় এটা হল বিশাল হিগস ক্ষেত্র। এর ভেতরে আছে কোয়ান্টাম ফ্ল্যাকচুয়েশন ভ্যাকুয়াম এনার্জি! প্রশ্ন হল, এই ভ্যাকুয়াম এনার্জিটা কোথা থেকে আসে? যেহেতু এটা একটা এনার্জি (শক্তি) তাই এই শক্তিটা অন্যকারো রূপান্তরিত রূপ হতে বাধ্য। শূণ্য থেকে শূণ্য হয়, শূণ্য থেকে শক্তি হয়না। কথিত শূণ্যতার ক্ষেত্রে ভ্যকুয়াম এনার্জি থাকে এটা ভাল। কিন্তু এই ভ্যাকুয়াম এনার্জি কই থেকে আসে তার তার বিশ্নেষণ কি কখনো বিবেচনা করা হয়েছে ? শক্তি নিজেই পরিচয় বহণ করে সে অন্যকারো পরিবর্তিত রূপ। তাহলে গোড়ায় একটি আদিম বা প্রাইমেটিভ শক্তির অস্তিত্ব বাধ্যতামূলক। প্রশ্ন হল, ওই প্রাইমেটিভ শক্তিটা কি ছিল? শুরুতে এমন কোন প্রাইমেটিভ শক্তি ছিল যা শূণ্যতাকেও ভ্যাকুয়াম এনার্জি দিল? মহাবিশ্বের সবকিছু পরিবর্তনশীল। প্রশ্ন হল পরিবর্তন কি স্বত:স্ফূর্ত? নিজে নিজে হতে পারে? নিউটনের প্রথম সূত্র বলে, “বাহ্যিক কোন বল প্রয়োগ না করলে স্থির বস্তু চিরকাল স্থির ও গতিশীল বস্তু চিরকাল গতিশীল থাকবে”। অর্থাৎ, বস্তুর অবস্থার পরিবর্তনে বাইরের বল (শক্তি) প্রয়োজন। মেরু (ঠান্ডা) অঞ্চলের প্রাণীদের চর্বি বেশী থাকবে, মরুভূমিতে থাকলে উঠের পানি সঞ্চয়ে জন্মগত সুব্যবস্থা-একটি সুচিন্তিত, সুপরিকল্পিত, গভীর জ্ঞান, প্রজ্ঞা, বিবেক, বুদ্ধিমত্তার উৎস কী? এই নকশা- প্লান -ব্লুপ্রিন্ট কোথা থেকে এল? প্রকৃতি? প্রকৃতি কি বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন কোন অস্তিত্ব যার প্ল্যানিং এর ক্ষমতা আছে? অবশ্য প্রকৃতি নামটা ঈশ্বরের সমার্থ হিসাবে ব্যবহৃত হয়। সেটা বাদ দিয়ে যদি প্রকৃতি মানে যদি আবহাওয়া জলবায়ু ইত্যাদির সমষ্টি বিবেচনা করি তবে এগুলোর কি স্বাধীন বুদ্ধিমত্তা আছে? যদি না থাকে তো বৈচিত্রময় প্রাণিজগত তৈরীর জন্য কোন গ্রান্ডমহাজাগতিক তার (Cosmic string)/স্ট্রিং: মহাবিশ্বের বস্তুগত মূল অবকাঠামোর ভিত্তি! বর্তমান বিজ্ঞানে ‘Cosmic String' তথা মহাজাগতিক তার (স্ট্রিং) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় যা খুবই উচ্চ পর্যায়ের জ্ঞান সমৃদ্ধ। বিংশ শতাব্দির ৮০-র দশকে প্রথমবারের মতো বিজ্ঞান ‘Cosmic String' তথা মহাজাগতিক তার (স্ট্রিং) সম্পর্কিত সৃষ্টিতত্ত্ব উপস্থাপন করে বিশ্বে রীতিমত তাক লাগিয়ে দেয়। Big Bang model গবেষণাকারী বিজ্ঞানগণ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে গিয়ে এই মহাজাগতিক তারের উপস্থিতি এবং এ মহাবিশ্বের সৃষ্টির একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে এই তারের যাদুময়ী কর্মকাণ্ড সম্পর্কে ধারণা লাভ করতে থাকে। এ মহাজাগতিক তারগুলো (Cosmic strings) লম্বায় লক্ষ লক্ষ আলােকবর্ষ কিংবা তার চেয়েও বেশি লম্বা। কিন্তু ব্যাস এত সূক্ষ্ম যে কল্পনা করাও বেশ দুরূহ ব্যাপার। গাণিতিকভাবে প্রকাশ করলে দাঁড়ায় ১০-৩৩ cm প্রায়। অর্থাৎ ১ সে.মি. দৈর্ঘ্যকে ১০০ কোটি, কোটি, কোটি কোটি দিয়ে ভাগ করলে যা হবে তার সমান মাত্র। এদের আকৃতি কোথাও কুণ্ডলীর মতো, কোথাও আংটির মতো, কোথাও সর্পিল আবার কোথাও দেখতে কটিবন্ধের মতো । Cosmic strings-এর পদার্থ ভর অকল্পনীয়, বিরাট ও বিশাল, মাত্র কয়েক কিলোমিটার তারের ভর সমগ্র পৃথিবীর ভরের চাইতেও কয়েক গুণ বেশি। এ তারগুলো খুবই শক্তিশালী এবং এদের ঘনত্ব 'ব্ল্যাক হোলের ঘনত্বের চেয়েও বেশি।যেহেতু স্ট্রিং থিওরি হল গানিতিকভাবে গঠিত একটি কোয়ান্টাম মেকানিক্সের তত্ত্ব,- তাই স্পিন-২ টাইপে গ্রাভিটনের অস্তিত্ব এটাই প্রমাণ করে যে, স্ট্রিং তত্ত্ব কার্যতঃ কোয়ান্টাম গ্রাভিটিরই (মহাকর্ষের কোয়ান্টাম রুপ) পরিপূরক এক অভিন্ন তত্ত্ব । এই তত্ত্ব মতে, তারগুলো মূলতঃ ২ প্রকার। ক) খোলা এবং খ) বন্ধ দুই ধরনেরই হতে পারে। খোলা তারগুলোর দুই প্রান্ত একটি আরেকটির সাথে জোড়া না লেগে আলাদা আলাদাভাবে থাকে, আর বন্ধ তারগুলোর দুই প্রান্ত পরস্পরের সাথে জোড়া লেগে লুপ গঠন করে। খোলা তারগুলোর চেয়ে বন্ধ তারগুলো কিছুটা ভিন্ন ভাবে আচরণ করে থাকে। বন্ধ তারগুলো গ্রাভিটন উৎপন্ন করে, অপরদিকে শুধুমাত্র খোলা তারগুলো ফোটনের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ আচরণ করে। স্ট্রিং থিওরি মতে কোয়ার্কই শেষ ক্ষুদ্রতম কণা নয় মহাবিশ্বের সার্বিক কার্যক্রমে বলের দিক থেকে ৪ প্রধান বল যথাক্রমে ১.মহাকর্ষ বল ২. সবল নিউক্লীয় বল ৩. দূর্বল নিউক্লীয় বল এবং ৪.চৌম্বুক তড়িৎ.বল। অন্যদিকে কণা বিবেচনায় এ পর্যন্ত আবিস্কার বিবেচনায় মহাবিশ্বের মূল কণিকার সংখ্যা হলো ১৬। যার মধ্যে ১৪টি ফার্মিয়ান গোত্রের কণা আর আলোর ফোটন কণাসহ বাকী চারটিকে বলা হয় বোসন শ্রেণীর কণা। এই ১৬টি মৌলিক কণার মধ্যে সবচেয়ে ক্ষুদ্রতম কণা হচ্ছে কোয়ার্ক কণা। এটি মাত্র ১০-১৬ সেন্টিমিটার অআয়তন বিশিষ্ট। এমনকি ইলেকট্রনের চাইতেও ক্ষুদ্র। কোয়া‌র্কের চাইতে ক্ষুদ্রতম কণা এ যাবৎ পাওয়া যায় নি।তবে পদার্থ বিজ্ঞানীরা শতভাগ নিশ্চিত নয় যে, কোয়ার্কই প্রকৃতির সবচেয়ে ক্ষুদ্রতম। স্ট্রিং থিওরি মতেও ‌কোয়ার্কই একমাত্র সর্বশেষ ক্ষুদ্রতম কণা নয়। আরও ক্ষুদ্রতম অণু কণা রয়েছে যার ক্ষুদ্রাতি ক্ষুদ্রতা হচ্ছে প্রায় ১০-৩৩ সেন্টিমিটার। এ মতে, কণাগুলি বিন্দুর মত নয়, কম্পমান সুতার ন্যায় লম্বাটে যা অনেকটা একমাত্রিক তারের মতো-যার কারণে এটাকে বলা হয় কম্পনমান লম্বাটে স্ট্রিং সুতা কিংবা তার (ওয়্যার) । স্ট্রিংয়েরকম্পনেনিহিতমহাবিশ্বসৃষ্টির বস্তুগত অবকাঠামোরমূলকথা।এইকম্পনেরমাত্রারউপরনির্ভরকরেকোন্বস্তুকিরূপহবে।স্ট্রিংবাসুতারকম্পনেরমাত্রাবিভিন্নপ্রকারেরহয়েথাকে।যেমনইলেকট্রনেরজন্যতন্তুর (স্ট্রিং) কম্পনমাত্রাএকরকম।কোয়ার্কেরজন্যতন্তুরকম্পনমাত্রাআবারআরেকরকম।অন্য ১৪টিকণারজন্যতন্তুরআলাদামাত্রারকম্পননির্দিষ্টআছে। তন্তুর কম্পনের মাত্রাই ঠিক করে দেয়, তা থেকে সৃষ্ট কণার ভর, চার্জ, স্পিন কেমন হবে।এই বৈশিষ্ট্যগুলোই একধরণের কণা থেক আরেক ধরণের কণার মধ্যে পার্থক্য তৈরি করে। এসব বিচিত্র কণা দিয়েই গড়ে উঠেছে আমাদের মহাবিশ্ব। এই মহাবিশ্ব তাই সুতায় বোনা মহাবিশ্ব (বিজ্ঞানচিন্তা বর্ষঃ ৬ সংখ্যাঃ ০১, অক্টোবর, ২০২১, পৃষ্ঠাঃ ৫৪)।স্ট্রিং থিওরির আদি কথা স্ট্রিং থিওরির প্রাথমিক নাম ছিল বোসনিক স্ট্রিং থিওরি। স্ট্রিং থিওরির এই মডেলটি ছিল খুব নিম্ন শক্তির “কোয়ান্টাম গ্র্যাভিটি” সংক্রান্ত।এটি ফোটনের মত কেবল “গেজ বোসন” কনিকার আচরণ ব্যাখ্যা করত। স্ট্রিং থিওরির নতুন বিশ্বের নতুন জীবনের ধারণা! স্ট্রিং তত্ত্বমতে, স্থান-কাল ক্রমে ক্ষয়ে যেতে থাকবে এবং এক সময় নিজের উপর দুমড়ে মুচড়ে পড়বে। মহাবিশ্বের কণাগুলো যে বিন্দুতে বসে আছে, ওগুলো অ্যাবসুলেট মিনিমাম নয়; লোকাল মিনিমাম। একটা সময় গিয়ে লোকাল মিনিমাম অবস্থা ভেঙ্গে পড়তে পারে। তখন কণাগুলো আর এই বিন্দুতে থাকতে পারবে না। চলে যাবে অ্যাবসুলেট মিনিমাম শক্তির বিন্দুতে। আর সেই বিন্দুগুলো আসলে আলাদা আরেকটা মহাবিশ্বের (যেটা আসলে অ্যাকচুয়াল মহাবিশ্ব) অংশ। তাই লোকাল অবস্থা ভেঙ্গে পড়লে আমাদের বর্তমান মহাবিশ্বের আর অস্তিত্ব থাকবেনা অর্থাৎ বিগ ব্যাং পূর্ব হাইয়েস্ট এনার্জেটিক রেডিয়েশন নামক মহা আলোর পরম বিন্দু সিঙ্গুলারিটি তথা স্ট্রিংয়ে পরিণত হবে ।ফলে, এই মহাবিশ্বের সব উপাদান চলে যাবে আরেকটা মহাবিশ্বে। এটা যদি ঘটে, তাহলে মহাবিশ্বের তাপীয় মৃত্যুর আগেই আমরা অ্যাকচুয়াল মহাবিশ্বে চলে যাব।যদিপ্রশ্নকরাহয়, মহাবিশ্বেরউৎপত্তিকিভাবে? তাহলেএরউত্তরেরজন্যনির্ভরযোগ্যবৈজ্ঞানিকউৎসহবেমডার্ণকসমোলজিক্যালস্ট্যান্ডার্ডমডেলথিওরি।এইথিওরিমতেবলা মহাজাগতিক ক্ষুদ্র তরঙ্গ পটভূমির পরিমাপ করার মাধ্যমে জানা গেছে যে মহাবিশ্ব প্রায় সমতলীয়। এ কারণে এর শতকরা প্রায় ৭০ভাগ শক্তি ঘনত্বের কোন ব্যাখ্যা পাওয়া যায় না। নবতারার স্বাধীন পরিমাপের মাধ্যমে এটি প্রমাণ করা হয়েছে যে, মহাবিশ্বের সম্প্রসারণ একটি অরৈখিক ত্বরণে হচ্ছে। এই ত্বরণ ব্যাখ্যার জন্য সাধারণ আপেক্ষিকতা তত্ত্বে এমন একটি মহাবিশ্বের ধারণা গ্রহণ করা প্রয়োজন যাতে ঋণাত্মক চাপবিশিষ্ট বিপুল সংখ্যক শক্তি উপাদান থাকা প্রয়োজন। এ থেকেই এসেছে অদৃশ্য শক্তির ধারণা। ২০০৬ সালে ডব্লিউএমএপি থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুসারে মহাবিশ্বে ৭৪% অদৃশ্য শক্তি, ২২% অদৃশ্য বস্তু এবং মাত্র ৪% সাধারণ বস্তু যা এযাবৎ কালের পদার্থবিজ্ঞানীদের অতি চেনা-জানার মধ্যে রয়েছে। উল্লেখ্য, ১৯৬৪ সালে আরনো পেনজিয়াস এবং রবার্ট উড্রো উইলসন অনেকটা আকস্মিকভাবেই পটভূমি বিকিরণ আবিষ্কার করেন। তারা এ সময় বেল ল্যাবরেটরিসের মালিকানাধীন একটি ক্ষুদ্রতরঙ্গ গ্রাহক যন্ত্র দিয়ে বিভিন্ন পর্যবেক্ষণের মান নিরূপণ করছিলেন। তারা যে বিকিরণ আবিষ্কার করেন তা আইসোট্রপীয় ছিল এবং এর মধ্যে কৃষ্ণবস্তুর বিকিরণের ধর্ম বাদ্যমান ছিল; এর তাপমাত্রা ছিল প্রায় ৩ কেলভিন। এই আবিষ্কার মহাবিস্ফোরণ মতবাদের পক্ষে একটি যুক্তেই হয়ে দাঁড়ায় এবং পেনজিয়াস ও উইলসনকে এনে দেয় নোবেল পুরস্কার। (সূত্রঃ উইকিপিডিয়া), প্ল্যাঙ্ক স্কেলে এসে কোয়ান্টাম তত্ত্ব ও সার্বিক আপেক্ষিকতা—দুটিই মুখ থুবড়ে পড়েপ্ল্যাঙ্ক স্কেলে এসে কোয়ান্টাম তত্ত্ব ও সার্বিক আপেক্ষিকতা—দুটিই মুখ থুবড়ে পড়ে।অদৃশ্য।অদৃশ্য বস্তু (Dark Matter) মহাজাগতিক ক্ষুদ্র তরঙ্গ পটভূমি এবং মহাকাশ সম্প্রসারণের বৃহৎ-পরিসর গঠন পর্যবেক্ষণ ও সুপারনোভা পর্যবেক্ষণসহ মহাবিশ্বের বিভিন্ন উপাদানের পরিমাণের আনুপাতিক শক্তি-ঘনত্ব পরিমাপকারী ল্যাস্ব্‌ডা-কোল্ড ডার্ক ম্যাটার (Lambda-Cold Dark Matter) বা ল্যাম্বডা-শীতল অদৃশ্য বস্তু) বা কনকর্ডেন্স মডেল(concordance model) এর নকশা অনুসারে ১৯৭০ ও ৮০'র দশকে বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ দ্বারা এটি প্রমাণিত হয়, মহাবিশ্বের ছায়াপথসমূহ এবং এদের অন্তবর্তী স্থানে বিদ্যমান মহাকর্ষীয় বলের আপাত শক্তির পরিমাণ এত বেশি যে, দৃশ্যমান পদার্থগুলোর পক্ষে এ শক্তি সরবরাহ করা সম্ভব নয়। অর্থাৎ নির্দিষ্ট পদার্থের তুলনায় শক্তি অনেক বেশি। এর পর বিজ্ঞানীরা এই ধারণা গ্রহণ করতে বাধ্য হন যে, মহাবিশ্বের শতকরা প্রায় ৯০ ভাগ পদার্থই সাধারণ বেরিয়ন পদার্থ নয় বরং এরা হচ্ছে অদৃশ্য বস্তু (dark matter)। এর পূর্বে ধারণা করা হত মহাবিশ্বের সকল পদার্থই সাধারণ যা আমরা দেখতে বা অনুধাবন করতে পারি। অদৃশ্য, প্রবল শক্তিমত্তার অধিকারী বলে সত্যিই কিছু আছে! ►১৯৭৮ সালে ১১টি সর্পিল ছায়াপথ পরীক্ষা করেন রুবিন ও তাঁর সহকর্মীরা। উক্ত ছায়াপথের প্রতিটি এতই জোরে ঘুরছিল যে, নিউটনের সূত্র অনুযায়ী তাদের কোনোভাবে একত্রে থাকার কথা নয়। একই বছর আলবার্ট নামক এক ডাচ রেডিও জ্যোতির্বিদ আরও ডজন খানেক সর্পিল ছায়াপথের পরিপূর্ণ বিশ্লেষণ প্রকাশ করেন। তাদের মধ্যেও একই ধরনের কণা ধর্ম পরিদৃষ্ট হয়েছিল। এসব মহাকাশীয় ঘটনা জ্যোতির্বিদদের বুঝতে সহায়ক হয়েছিল যে, আসলে ডার্ক ম্যাটার, ডার্ক এনার্জি অর্থাৎ অদৃশ্য, প্রবল শক্তিমত্তার অধিকারী বলে মহাবিশ্ব জুড়ে সত্যিই কিছু আছে ।সমাধান নয় বরং গভীরই হয়েছে আমাদের অজানাটা! ►মহাবিশ্ব তথা প্রকৃতির অন্তনির্হিত তত্ত্ব-তথ্য জানতে চাওয়াটাই বিজ্ঞানীদের জন্য যেন এখন সমস্যা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। ত্রিশের দশক থেকে এ পর্যন্ত অজানা অদৃশ্য ডার্ক এনার্জি এবং ডার্ক ম্যাটার সম্পর্কে অনেক কিছুই জানা গেছে। তাতে কোনো সমাধান নয়, বরং যেন আরও গভীর হয়েছে আমাদের অজানাটাই। কারণ, খুঁজে পাওয়া যায়নি ওই রহস্যময় বস্তু ও শক্তির উৎসমূল। তাই ডাক ম্যাটার এখন বিজ্ঞানের সবচেয়ে বড় রহস্যগুলোর মধ্যে অন্যতম (বিজ্ঞানচিন্তা)। মহাকাশে চোখ রেখে জ্যোতির্বিদেরা মাঝে মধ্যে কি অদ্ভূত কিছু বিষয় দেখতে পান??? ►মহাকাশে চোখ রেখে জ্যোতির্বিদেরা মাঝে মধ্যে অদ্ভূত কিছু বিষয় দেখতে পান। ডার্ক ম্যাটার সংক্রান্ত সম্প্রতি পাওয়া আরেকটা প্রমাণ অবিশ্বাস্য রকম উদ্ভট বলে মনে হয়। জ্যোতির্বিদরা মহাকাশে একটা মহাজাগতিক সংঘর্ষ পর্যবেক্ষণ করেছেন। দুটি গ্যালাক্সি ক্লাষ্টারের সংঘর্ষ হয়েছিল কোটি কোটি বছর আগে। স্বাভাবিকভাবে এই সংঘর্ষে গ্যাস ও ধুলার মতো সাধারণ পদার্থগুলোর বড় ধরনের বিস্ফোরণ দেখা গেল। এর বাইরে আরেকটা ঘটনা দেখে বিস্ময়ে হাঁ হয়ে গেলেন বিজ্ঞানীরা। সংঘর্ষ এলাকাটা ভালো করে খেয়াল করে তাঁরা দেখলেন, ডার্ক ম্যাটারের দুটি বিশাল গুচ্ছ পরস্পর সংঘর্ষের মুখে পড়ল। কিন্তু এমনভাবে একটা আরেকটার ভেতর দিয়ে চলে গেল যেন কিছুই হয়নি।...সাধারণ পদার্থ যেমন সংঘর্ষে ছিন্নবিচ্ছিন্ন হয়, ডার্ক ম্যাটারের বেলায় তেমন কিছু ঘটেনি।ডার্ক ম্যাটারের সঙ্গে ডার্ক ম্যাটারের সংঘর্ষে কিছুই হয় না-এই টুকুন জানাই যেন সম্বল। ►কিছু মহাজাগতিক ঘটনা পর্যবেক্ষণ করে বিজ্ঞানীরা ডার্ক ম্যাটার সম্পর্কিত কিছু তথ্য জেনেছেন। সেগুলো হলো এর ভর আছে, এগুলো অদৃশ্য। ডার্ক ম্যাটারের সঙ্গে ডার্ক ম্যাটারের সংঘর্ষে কিছুই হয় না-এই টুকুন জানাই যেন সম্বল। এছাড়া ডার্ক ম্যাটার সম্পর্কে আমরা আর কিছুই জানিনা। এসব দেখে মনে হয়, পদার্থ বিজ্ঞানও মাঝেমধ্যে বোটানির মতো শুধু তালিকা তৈরি করা ছাড়া আর কিছু করতে পারে না। যে কারণে কোমা ক্লাস্টারের নক্ষত্রগুলো ছিটকে যাচ্ছে না ফ্রিৎজ জুইকি ভাবলেন একটিমাত্র উপায়েই কোমা ক্লাস্টারের নক্ষত্রগুলো ছিটকে যাওয়া রোধ করা সম্ভব, সেটা হলো টেলিস্কোপে সেখানে যে পরিমাণ বস্তু পাওয়া যাচ্ছে, তার চেয়ে যদি কয়েক শত গুণ বেশি বস্তু থাকে তাহলেই কেবল নক্ষত্রগুলো পরস্পর বিচ্ছিন্ন না হয়ে একজোটে সহাবস্থান করতে পারবে। উল্লেখ্য, জুইকির ফলাফল বছর খানেক আগেও ডাচ বিজ্ঞানী... এর গণনার সাথে মিলে যায়। ফ্রিৎজ জুইকি এবার তার সবোর্চ মেধার প্রয়োগ হিসাবে ব্যবহার করলেন তার গভীর অন্তর্দৃষ্টি যাকে কাশফ বলা হয় । জুইকি সেই অন্তর্দৃষ্টতে স্বীয় অন্তরাত্মা দিব্যি অনুভব করলেন যে, নিউটোনিয়ান সূত্রের উর্ধ্বে উঠে গ্যালাক্সির নক্ষত্রগুলোর পরস্পর সহাবস্থানে থাকতে হলে গ্যালাক্সিগুলোতে দৃশ্যমান ভরের চেয়ে যদি আরও অন্ততঃ ৪০০ গুণ অদৃশ্য বস্তু থাকে। সেই অজানা অদৃশ্য বস্তুদের জুইকি নাম দিলেন Dunkle Materie (Dark Matter) বা ডার্ক ম্যাটার (গুপ্ত বস্তু)। এতে স্পষ্ট প্রতীয়মান হয় যে, মহাবিশ্বে পদার্থের বন্টনের ক্ষেত্রে ভয়াবহভাবে কিছু একটা ঠিক নেই। ইতিহাসে সেটাই ছিল প্রথম ইঙ্গিত। অর্থাৎ মহাবিশ্বে পৃথিবীর মতো নিউটোনিয়ান গাণিতিক সূত্রের কার্যকারিতার ক্ষেত্রে প্রচন্ড রকমের ব্যতিক্রম দেখা যায়।ফ্রিৎজ জুইকির এই তত্ত্ব পৃথিবীতে সুপ্রতিষ্ঠিত নিউটোনিয়ান মহাকর্ষ তত্ত্বের ব্যতিক্রম ঘটাবে- তা সেকালের প্রখ্যাত বিজ্ঞানীরাও মানতে রাজী ছিলেন না, সাহসী হননি। এ ধরনের নিউটোনিয়ান সূত্রের কিছুটা ব্যতিক্রম আগেও দেখা যায় উনিশ শতকে ইউরেনাসের কক্ষ পথ বিশ্লেষণ করার সময়। কেউ কেউ নিউটোনিয়ান সূত্রের সত্যতা সম্পর্কে প্রশ্ন রাখেন ,কেউ কেউ সৌরজগতে এমন কোনো গ্রহের অস্তিত্ব অনুভব করেছিলেন যা বিজ্ঞানীদের নিকট অজানা ছিল। এই অজ্ঞাত গ্রহের মহাকর্ষই ইউরেনাসকে সবলে টানছে। পরে দ্বিতীয় অনুমানটাই সঠিক বলে প্রমাণিত হলো। অজ্ঞাত গ্রহ নেপচুন! ১৮৪৬ সালে নেপচুন নামের নতুন গ্রহ খুঁজে পাওয়া যায় নিউটনের সূত্র ব্যবহার করে অনুমান করা ঠিক ঠিক জায়গাতেই। ১৯৬২ সালের কথা। যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে ম্যাকডোনাল্ড অবজারভেটরিতে ৮২ ইন্চি সাইজের টেলিস্কোপ বসানো হয়েছিল। সেখানেই মার্কিন জ্যোতির্বিদ ভেরা রুবিন তাঁর দুই সহযোগির সঙ্গে মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির ঘূর্ণন নিয়ে গবেষণা করছিলেন। এসময় এক অদ্ভূত ব্যাপার চোখে পড়ল রুবিনের। নিয়ম অনুযায়ী সাধারণতঃ সূর্য থেকে কোনো নক্ষত্র যত দূরে থাকে, সেটি চলাচল করে ততই ধীর গতিতে। বুধ সূর্যের নিকটতম গ্রহ হওয়ায় এটির ঘূর্ণন গতি তুলনামূলকভাবে বেশি। প্লুটোর গতি বুধের চাইতে ১০% ধীর। কারণ, প্লুটো সূর্য থেকে অনেক দূরে। কিন্তু ভেরা রুবিন ছায়াপথের নীল নক্ষত্রগুলো বিশ্লেষণ করতে গিয়ে দেখেন নক্ষত্রগুলো ছায়াপথের চারপাশে সমান গতিতে ঘুরছে। বুধ, প্লুটোর মত কম-বেশি গতির তারতম্যে নয়। অর্থাৎ ছায়াপথের কেন্দ্র থেকে নক্ষত্রগুলোর দূরত্ব তাদের গতির ওপর কোন প্রভাব ফেলছেনা। একে বলা হো ফ্ল্যাট রোটেশন কার্ভ যা নিউটোনিয়ান গতিসূত্রের বিধান মানছে না। গবেষকেরা তবে কী খুঁজছেন? বড় বড় নক্ষত্রপুঞ্জের মধ্যাকর্ষণ শক্তির কারণে আলো যেখানে বাঁক নিয়েছে কিংবা দূরবর্তী ছায়াপথ থেকে আসা আলোর বদলে যাওয়ার ধরণ পর্যবেক্ষণ করে বিজ্ঞানীরা গুপ্ত বস্তুর সম্ভাব্য অবস্থান ধারণা করতেপারেন। এই পদ্ধতিকে বলা হয় উইক গ্র্যাভিটেশনাল লেন্সিং। জুরিখের গবেষকেরা এ কাজেই এ.আই ব্যবহার করে মহাকাশের পদার্থগুলোর এক ধরণের মানচিত্র তৈরির চেষ্টা করছেন। প্রকল্পটির আরেক গবেষক টমাশ ক্যাক প্রশ্যাক বলেন, ‘প্রচুর তথ্য থেকে এ.আই স্বয়ংক্রিয়ভাবে জটিল কিছু ফিল্টার তৈরি করে মানচিত্র থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করে নেয়।’ এ.আইয়ের নিউরাল নেটওয়ার্কয়ের প্রশিক্ষণের জন্য গবেষকেরা কম্পিউটারে তৈরি ডেটা এতে ইনপুট দেন। অনেকটা মহাবিশ্বের সিম্যুলেশনের মতো। সিম্যুলেশন থেকে এ.আই. যা শিখছে, তাতে রাতের আকাশের ছবি থেকে গুপ্ত বস্তু পর্যবেক্ষণ করে মহাজাগতিক উপাত্ত সংগ্রহ সহজ হয়েছে। তবে সে জন্য যতটা সম্ভব নিখুঁত এবং বেশি পরিমাণ তথ্য ইনপুট দিতে হয়। আর এতে প্রচলিত পদ্ধতির তুলনায় এ.আই ৩০ শতাংশ বেশি নিখুঁত ফলাফল দিচ্ছে বলে উল্লেখ করেন গবেষকেরা। উল্লেখ্য, গবেষকেরা এ.আই-কে চিলির ভিএলটি সার্ভে টেলিস্কোপ থেকে সংগৃহীত তথ্য দেন। এতে মহাকাশের যে পরিমাণ অঞ্চলের তথ্য রয়েছে তা চাঁদের আয়তনের ২ হাজার ২০০ গুণ। প্রায় দেড় কোটি ছায়াপথের তথ্য রয়েছে যা সাধারণ কম্পিউটারে প্রক্রিয়াজাতকরণ সম্ভব না। এতে ব্যবহার করা হচ্ছে সুইজারল্যান্ডের লুগানো শহরের সুইস ন্যাশনাল সুপারকম্পিউটিং সেন্টারের কম্পিউটার। দেশটির যেকোনো বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান এই সুপারকম্পিউটার ব্যবহার করতে পারে। এই শক্তিশালী কম্পিউটার ঠাণ্ডা রাখার জন্য নিকটবর্তী লুগানো হ্রদ থেকে সেকেন্ডে ৪৬০ লিটার পানি সরবরাহ করতে হয়। https://www.tab.com.bd/ai-search-dark-matter/ সত্য অনেক সময় সরল পথে নিহিত, বক্রতা ও দুর্বোধ্যতায় নয় (স্যার আইজাক নিউটন)-নিউটনের দার্শনিক উক্তি অনুযায়ী গ্র্যাভিটন এবং স্ট্রিং থিওরীর স্ট্রিং খুঁজতে হবে সহজ-সরল পথে। গ্র্যাভিটনের সহজ পথ স্বয়ং নিউটন দেখিয়ে গিয়েছেন এই বলেঃ অদৃশ্য দড়ির টান বলে। এতে একাধারে গ্র্যাভিটন ও স্ট্রিং উভয়ের সমাধান রয়েছে মর্মে WSTRC মনে করে। WSTRC আরও মনে করে গ্র্যাভিটন এবং স্ট্রিং বিজ্ঞানে জগতে অআস্ত একএকটা মশার সমতুল্য। স্ট্রিং বুঝতে মশাই যথেষ্ট। মশার নেই নিজস্ব কন্ঠস্বর। মশা কখনও কথা বলেছে কারো সাথে তার নজির নেই। কিন্তু দুই পাখাই যথেষ্ট কারো রাতের ..ঘুমকে হারাম করে দিতে। যেন মিনি জেট বিমান কানের কাছ দিয়ে উঠে যাচ্ছে এবং বিকট বিরক্তিকর শব্দে।মশার যাদুকরির উৎস অআর কিছুনয় দুই পাখার অনবরত কম্পন-যা স্ট্রিং থিওরি, ‌কণা পদার্থ বিজ্ঞান এবং অয়লারের বেটা ফাংশন তত্ত্বের মূল কথা। নিউটন গ্র্যাভিটনকে সাধারণ দড়ির সাথে কল্পনা করতে গিয়ে অআধুনিক যুগের সেরা বৈজ্ঞানিক প্রতিপাদ্য বিষয় স্ট্রিং থিওরির গোড়াপত্তন করে গেছেন। কারণ, স্ট্রিং মানেই দড়ি, দড়ি মানেই স্ট্রিং। অথচ স্ট্রিং অআটকে অআছে নিউটনের ক্লাসিক্যাল বল বিজ্ঞানের অপরিহার্য শর্তে। শর্তটা হচ্ছেঃ যা চোখে দেখা যায় না-তার অস্তিত্ব নেই। অবশ্য, যা চোখে দেখা যায় না; তা দেখা যায় উত্তল লেন্স (Convex Lens) বা সরল অণুবীক্ষণ যন্ত্র (Magnifying Glass) সাধারণ দূরবীক্ষণ, ….টেলিস্কোপ, বিশেষ টেলিস্কোপঃ হাবল/জেমসওয়েব মাইক্রোস্কোপে, কণা ডিটেক্টর কিংবা তরঙ্গ ডিরেক্টর, এক্সরে, এমআরআই ইত্যাদিতে। তবে এসব দিয়ে দেখা যাচ্ছে না ডার্ক ম্যাটার, ডার্ক এনার্জিকে যাতে রয়েছে মহাবিশ্বের বস্তুগত জ্ঞান বা সত্যের যথাক্রমে ২১% এবং৭৫% (৯৬% অদৃশ্যমান)-অর্থাৎ বিজ্ঞানীদের মহাবিশ্বের জানা পদার্থের পরিমাণ ৪% যাতে মহাকর্ষের মাত্র ১০ শতাংশ জুড়ে আছে। বাকী ৯০ শতাংশ মহাকর্ষ অদৃশ্যমান। এতদ্বসত্ত্বেওবিজ্ঞানীরা যেন জীবন্ত অনুভব করছেন ৯৬ শতাংশ ডার্ক এনার্জি এবং ডার্ক ম্যাটারকে, মহাকর্ষের ৯০% এর অস্তিত্বকে। অনুরূপ স্ট্রিং দেখার জন্য ১০-৩৩ সেন্টিমিটার সুপার ডিজিটাল মাইক্রোস্কোপ অআবিস্কারের অআশায় প্রহর গণার চেয়ে স্ট্রিংয়ের অস্তিত্বকে ডার্ক ম্যাটার-এনার্জি, গ্র্যাভিটন, এক্স-রে, স্ট্রেন্জ কোয়ার্ক, নিউট্রিনোর মত না দেখেই বিশ্বাসে রয়েছে নিউটনের সরলীকরণ তত্ত্বের বাস্তব অনুসরণ, অনুকরণ। তাছাড়া পদার্থ বিজ্ঞানীদের সর্বসম্মত মতও হচ্ছে, প্রকৃতিকে বস্তুগতভাবে পুরোপুরি জানতে হলে এমন একটি টুইন কণার দরকার যা অবশ্যই হতে হবে “অদৃশ্য” (Un seen)। উল্লেখ্য, স্ট্রিং তত্ত্বকে সমর্থন করা পর্যবেক্ষণমূলক প্রমাণ খুঁজে পাওয়ার দাবি করেছেন বিজ্ঞানীরা সায়েন্টিফিক আমেরিকান,https://www.prothomalo.com/technology/science/উল্লেখ্য, জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের হিসাব মতে, মহাবিশ্বে অন্ততঃ দশ হাজার কোটি গ্যালাক্সি রয়েছে আবার প্রতিটি গ্যালাক্সিতে রয়েছে অন্ততঃ দশ হাজার কোটি তারা-নক্ষত্র। প্রতিটি নক্ষত্রে রয়েছে একাধিক গ্রহ-উপগ্রহ। প্রশ্ন হচ্ছে, প্রকৃতি কেন গ্যালাক্সি হিসাবে বেছে নিল মিল্কিওয়ে (ছায়াপথ), নক্ষত্র হিসাবে বেছে নিল সূর্য নামক সৌরজগত আর গ্রহ হিসাবে পৃথিবীকে যেখানে ১১মাত্রিক সুপার স্ট্রিংগুলি উচ্চতর ডাইমেনশনে বিচরণ করে ভাইব্রেশন মুডে কম্পিত হয়ে সৃষ্টি করে জড়-প্রাণী নির্বিশেষ বস্তুগত সকল কিছু? তা-ও আবার সূদূর অতীতে একটি বারের জন্য? যাতে রয়েছে জোড়া জোড়া যা পরবর্তী প্রজন্মের জন্য উৎস হয়ে আছে? পৃথিবী থেকে সূর্যের অআয়তন ১৩ লক্ষ গুণ বড় হওয়া সত্ত্বেও পৃথিবী থেকে ৯ কোটি ৩০ লক্ষ মাইল দূরবর্তী আকাশে সেটিং হওয়া, পৃথিবী থেকে চাঁদ তুলনামূলক ছোট হওয়ায় এবং সূর্যের তুলনায় কম দূরত্বে চাঁদের সেটিং হওয়াতে প্রশ্ন হচ্ছে ,এতে কি এক প্রখর বুদ্ধি এবং প্রজ্ঞাদীপ্ত সত্বা নেপথ্যে কাজ করছে?প্রসঙ্গতঃ আরো উল্লেখ্য যে, পৃথিবীরসমগোত্রীয়সকলপ্রাণীরকন্ঠস্বরএকএবংঅভিন্নহওয়ারকারণহতেপারে, অভিন্নস্বরতন্ত্র।কিন্তুপৃথিবীরসমগোত্রীয়সকলমানুষেরস্বরতন্ত্রএকএবংঅভিন্নহওয়াসত্ত্বেওকন্ঠস্বরভিন্নকেন? স্ট্রিংতত্ত্বেএরব্যাখ্যাকি? WSTRC মনেকরেযে, মানুষসহপৃথিবীরপ্রতিটিপ্রাণীরস্বরতন্ত্রঅনেকটারেকর্ডপ্লেয়ারবাগ্রমোফোনেরন্যায়যাএকইযান্ত্রিকউপায়েনির্মিত।কিন্ত্তকন্ঠস্বরবাচনভঙ্গিরকারণেভিন্নতালাভকরে।কোনোবাক্যকেপদ্যেরভঙ্গিতেপাঠকরলেতাপদ্যএবংগদ্যেরভঙ্গিতেপাঠকরলেতাগদ্যইশোনাযাবে, গানেরসূরেপ্রকাশকরলেগানইশোনাবে।পৃথিবীরসকলদেশেরসকলপ্রাণীররবএকইহলেওপৃথিবীরসকলদেশেরসকলমানুষের ভাষা এক না হওয়ার কারণ ভাষার তারতম্য। ভাষা গঠিত হয় স্বরবর্ণ (Vowel) এবং ব্যান্জনবর্ণ (Consonant)। ভাষা বিজ্ঞানীদের মতে, কয়েক কিলোমিটারের ব্যবধানে উচ্চারণ ধ্বনিতে পরিবর্তন আসে।ভাষায় বড় ধরণের পরবর্তন আসে ভিন্ন ভিন্ন স্বরবর্ণ (Vowel) এবং ব্যান্জনবর্ণের (Consonant) কারণে। প্রশ্ন হচ্ছেঃ বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন স্বরবর্ণ (Vowel) এবং ব্যান্জনবর্ণ (Consonant) আসলো কোত্থেকে? মানুষের জ্ঞানে একটা সীমাবদ্ধতা রয়েছে-এটা মানতে হবে বলেই পদার্থ বিজ্ঞানীদের সর্বসম্মত অভিমতঃ এমন প্রশ্ন রয়েছে যা এ জগতে নেই। WSTRC মনে করে, অর্থবহ পৃথিবীর জন্য যেমন অর্থবহ প্রশ্ন দরকার, তেমনি অর্থহীন প্রশ্ন পরিতাজ্য। উত্তর মেরুতে কি আছে? এটি অর্থবহ প্রশ্ন হতে পারে-কিন্ত্ত উত্তর মেরুর উত্তরে কি আছে? প্রশ্নটি যেমন সমস্যা জর্জরিত পৃথিবী এবং ক্ষণজন্মা বিজ্ঞানীদের জন্য অর্থহীন তেমন বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন স্বরবর্ণ (Vowel) এবং ব্যান্জনবর্ণ (Consonant) আসলোসবচেয়ে বড় প্রশ্নটি হচ্ছে, প্রকৃতি কেন পৃথিবীতে মানুষ (Human) এমন এক সত্বাকে বেছে নিল যে সত্বা “নবজাতক” (Infant) নামে জন্মে অতি দূর্বলতার মাধ্যমে, মরেও বৃদ্ধ (Old) নামে চলৎশক্তি, শ্রবণশক্তি, বাকশক্তি, দৃষ্টিশক্তিহজম শক্তি, তন্দ্রাশক্তি ইত্যাদি সব শক্তি হারিয়ে। অথচ শতগুণ শক্তিধর বাঘ, সিংহ, শতগুণ বৃহদাকার হাতি-গন্ডার,জলহস্তি, তিমি রয়েছে পৃথিবীতে? যে সত্বা জন্মে অনেকটা জ্ঞানশুন্য অবস্থায়, ধীরে ধীরে কথা বলার শক্তি থেকে সবশক্তি লাভ করে জ্ঞান নামক এক সত্বার কারণে। জ্ঞান-বুদ্ধিতে তাইতো আজ চিড়িয়াখানা নামক বন্দিশালায় বন্দী শক্তিধর বাঘ, সিংহ, শতগুণ বৃহদাকার হাতি-গন্ডার,জলহস্তি ইত্যাদি!স্ট্রিং থিউরি নিয়ে কাজ করলে দেখা যাবে, এই থিউরির জন্য যে গানিতিক সমীকরণগুলির প্রয়োজন, তাদেরকে শুধুমাত্র তিনটি ডাইমেনশন (dimension) বা মাত্রা যথা দৈর্ঘ্য, প্রস্থ এবং উচ্চতা ব্যবহার করে সম্পূর্ণরূপে বর্ণনা করা যাচ্ছে না। এমনকি "সময়কে" চতুর্থ মাত্রা (fourth dimension) হিসেবে বিবেচনায় এনেও তেমন কোন কার্যকরী ফল পাওয়া যায় না। এমনকি মোট ৫, ৬ কিংবা ৭ মাত্রাও এই থিউরির জন্য পর্যাপ্ত নয়। স্ট্রিং থিউরি মূলত কাজ করে থাকে ১১ ডাইমেনশনাল মহাবিশ্বে, যাদের ভিতর ১০ টি হল স্পেস বা স্থান সংক্রান্ত ডাইমেনশন এবং বাকী একটি হল "সময় বা টাইম" সংক্রান্ত ডাইমেনশন। আমাদের অতি পরিচিত প্রথম তিনটি ডাইমেনশন অর্থাৎ দৈর্ঘ্য, প্রস্থ এবং উচ্চতা বাদে অবশিষ্ট ৭ টি স্থান সংক্রান্ত ডাইমেনশন এতই ছোট যে (প্লাংক দৈর্ঘ্য-এর সমমানের, ১০^-৩৫ মিটার) এরা সংকুচিত হয়ে আমাদের চারপাশের স্থানের প্রতিটি বিন্দুতে অবস্থান করছে, যাদেরকে আমরা খালি চোখে দেখতে পারি না।শুধুমাত্র সুপার স্ট্রিংগুলিই ওইসব উচ্চতর ডাইমেনশনে বিচরণের ক্ষমতা রাখে এবং সেখানে এরা বিভিন্ন ভাইব্রেশন মুডে কম্পিত হয়ে বিভিন্ন মৌলিক কণিকা এবং বলকে আমাদের সামনে উন্মুক্ত করছে। WSTRC মনে করে, ১১ মাত্রিক সুপার স্ট্রিংগুলি উচ্চতর ডাইমেনশনে বিচরণ করে ভাইব্রেশন মুডে কম্পিত হয়ে সাগর-মহাসাগর, নদ নদী, খাল বিল,ঝিল, পুকুর ডোবা অর্থাৎ জলজ ভূমিতে মাছ এবং মাছ জাতীয় যত সব প্রাণী, বনে-জঙ্গলে জীব-জন্তুরূপেআমাদের সামনে উন্মুক্ত করছে। তবে বিস্ময়ের ব্যাপার হচ্ছে যে, এই সুপার স্ট্রিংগুলি উচ্চতর ডাইমেনশনে বিচরণ করে ভাইব্রেশন মুডে কম্পনের অআউটপুট কেন একবার মাত্র ঘটেছিল এই সমীকরণে এবং কেন এই সমীকরণকে বিপরীত লিঙ্গ অআকারে চলমান রাখা হয়েছে। ধরে নেওয়া যেতে পারে শুরুতে গরু থেকে গাভীর জন্ম হয়েছিল যাতে পরবর্তী প্রজন্মের উত্তরণ অব্যাহত থাকে। এভাবে মনে করা যেতে পারে যে, প্রকৃতিতে সুপার স্ট্রিংগুলি উচ্চতর ডাইমেনশনে বিচরণ করে ভাইব্রেশন মুডে কম্পন সুদূর অতীতে একবারই ঘটে পৃথিবীতে প্রাণীর উদ্ভব ঘটিছিল বস্তুগতভাবে। তবে প্রাণীর প্রাণের উৎদ্ভব কিভাবে? এটা অনন্ত প্রশ্ন বটে। তাছাড়া অআমরা যাকে প্রকৃতি বলে জানি সেই প্রকৃতিটিরই সংজ্ঞা কি সুপার স্ট্রিংগুলি উচ্চতর ডাইমেনশনে বিচরণ করে ভাইব্রেশন মুডে কম্পনে পাওয়া যায়? তাছাড়া সুপার স্ট্রিংগুলি উচ্চতর ডাইমেনশনে বিচরণ করে ভাইব্রেশন মুডে কম্পনের জন্য প্রকৃতি কেন বেছে নিল পৃথিবীকে? এর উত্তর না নিউটনের ক্লাসিকাল বল বিজ্ঞান , না অআইনস্টাইনের বিশেষ এবং সাধারণ অআপেক্ষিকতা তত্ত্ব না ম্যাক্স প্ল্যাংকীয় কোয়ান্টাম থিওরিতে পাওয়া যাবে? না এর উত্তরের গভীরতা রয়েছে নতুন বিজ্ঞান Frontier Science-তা খতিয়ে দেখা যেতে পারে মর্মে WSTRC মনে করে। উপরে উল্লেখিত উচ্চতর ডাইমেনশন থেকেই মূলত "মাল্টিভার্স" বা "বহু মহাবিশ্ব" ধারণার উৎপত্তি। অর্থাৎ যদি উচ্চতর ডাইমেনশনগুলি সত্যিই বিরাজ করে থাকে (যা লার্জ হ্যাড্রন কলাইডার গবেষণাগারে পরীক্ষার মাধ্যমে প্রমাণের জন্য চেস্টা চলছে), তাহলে এটা নিশ্চিত হওয়া যাবে যে আমাদের মহাবিশ্ব বাদেও রয়েছে অগণিত মহাবিশ্ব।আমাদের মহাবিশ্ব হল তাদের মধ্যে একটি। হয়ত বা ঐসব মহাবিশ্বের যে কোন দুটির সংঘর্ষই ছিল বিগব্যাং যার মাধ্যমে আমাদের মহাবিশ্ব আজ থেকে প্রায় ১৩.৮ বিলিয়ন বছর আগে জন্মগ্রহণ করে যাত্রা শুরু করেছিল। উচ্চতর ডাইমেনশনগুলির অস্তিত্ব প্রমাণিত হলে বিজ্ঞানের আরো কিছু রহস্যময় জটিল প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যাবে। এর মধ্যে একটি হল, পদার্থ বিজ্ঞানে রয়েছে কতগুলো মৌলিক ধ্রুবক সংখ্যা (প্রায় ২০ টি, যেমন ইলেকট্রনের ভর, মহাকর্ষীয় ধ্রুবক ইত্যাদি) যেগুলো গভীর থেকে ভূমিকা রেখে আমাদের মহাবিশ্বকে খুব সুচারুভাবে পরিচালনা করে চলেছে। এদের একটির মানও সামান্য হেরফের হলে আমাদের মহাবিশ্বের চেহারা সম্পূর্ণ আলাদা হত, এমনকি আমরাও অস্তিত্বে আসতাম না, মহাবিশ্ব শুধু বিকিরণে ভরা থাকত। কিন্তু কেউই জানে না এই সংখ্যাগুলো কেন ঐ বিশেষ মানকেই বেছে নিয়েছে। স্ট্রিং থিউরিতে বর্ণিত অতিরিক্ত ডাইমেনশনগুলি প্রমাণ করা সম্ভব হলে হয়ত একদিন বেরিয়ে আসবে মহাবিশ্বের এই অতি রহস্যময় মৌলিক প্রশ্নের উত্তরটিও।মানব দেহে অক্সিজেন কিভাবে কাজ করে? কীভাবে দেহে রক্ত প্রবাহিত হয়?বিজ্ঞানীদের লক্ষ্য পরম সত্যে পৌঁছার জন্য সার্বিক একীভূতকরণকে ত্বরাণ্বিত করা। উনবিংশ শতাব্দী এমনকি বিংশ শতাব্দীর প্রথম বর্ষ পর্যন্ত বিজ্ঞানীরা ধরেই নিয়েছিলেন যে, যা যা অআবিস্কার সবই নিউটনীয় ক্লাসিক্যাল বল বিজ্ঞানের বদৌলতে ঘটে গেছে। অআলবার্ট অআইনস্টাইনদের দৃঢ় বিশ্বাস ছিল যে, স্যার অআইজাক নিউটন প্রকৃতির সব ভাষা বুঝে ফেলেছিলেন। কেবল বাকী ছিল ঘূর্ণঝড়ের ….দাবানল, ভূমিকম্প, অগ্নুৎপাতের মত বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা। তা জানা সম্ভব হলেও ষোল কলা পূর্ণ হবে …..। কিন্ত্ত ব্ল্যাকহোল থেকে নির্গত থোক থোক অআলোর বিন্দু কণা………………….· উনবিংশ শতাব্দীকে বলা যেতে পারে নিত্য নতুন কণা অআবিস্কারের বিপ্লব। কণা পদার্থে অনেকে দুই তিন বারও নোবেল পুরস্কার পেয়ে কেউ কেউ বিরক্ত হয়েছিলেন ঘুম থেকে জাগিয়ে নোবেল সংবাদ শোনানোর কারণে। একজন বলেই ফেলেছেনঃ অআমার ঘুম নোবেল থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। কেউ কেউ বলেছিলেনঃ অআর যদি নতুন করে কণা অআবিস্কার কেউ করেন তাহলে তাকে নোবেল পুরস্কার নয় তিরস্কার করা উচিত। চার্লি চাপিল অআইনস্টাইনকে সামনে রেখে বলেছিলেনঃ নিউটনের তত্ত্ব তিনশত বছরকালীন, অআইনস্টাইনের যুগ কত যুগ যুগান্তরের…..। কিন্ত্ত কোয়ান্টাম মেকানিক্সের পর সে ধারা বদলে যায়। তবে সাফল্যও কম নয়।……..বিজ্ঞান শেষ হবে না। যদিও ৪ থেকে ০.১ (শুন্য দশমিক এক)-এ নেমে এসেছে জানার হার। অআরও নামার অআশংকা রয়েছে। তাই বলে কি পদার্থ বিজ্ঞানের বিদায় ঘন্টা বেজে উঠা কি সময়ের ব্যাপার। …মতে তার উলটোটা ঘটতে যাচ্ছে নতুন বিজ্ঞানে।· মহাকর্ষের দূর্বলতা, নুনের কার্যকারিতা তত্ত্ব প্রয়োগ করে নতুন বিজ্ঞানের অআলোকে বিজয় ঘন্টা বাজার কথা। আইনস্টাইনের সার্বিক একীভূতকরণ তত্ত্বের স্বার্থে ধর্মকেও আমলে নিয়েছিলেন এই বলেঃ Science without religion is lame, religion without science is blind. বিশ্বের প্রধান প্রধান ধর্মের অভিন্নমত যে, মানব সৃষ্টিকর্তার সৃষ্টি। এমনকি সেমিটিক ধর্মসমূহে প্রথম মানব, প্রথম মানবীর অভিন্ন নামও রয়েছে। সেমিটিক-নন সেমিটিক মানব জাতির ক্ষেত্রে অভিন্ন মানবের নামও দেখা যায়। কিন্তু অভিন্ন জীব-জন্তু, কীট-পতংকের এমনকি অভিন্ন গাছের নাম কোথাও রয়েছে কিনা এ যাবৎ জানা যায়নি। ফলে প্রথম গরু প্রথম ছাগল, প্রথম হাঁস, প্রথম মুরগী, প্রথম ব্যাঙ, প্রথম কুকুর-শেয়াল, প্রথম বক-সারস প্রভৃতি বিচরণশীল উভয়চর, সাগরে হরেক রকমের মাছ-এসব প্রথমবারের মতো কি করে এলো? WSTRC এর গবেষণা মতে, ব্যাখ্যাবিহীন এসব কিছুর উদ্ভবের পেছনে স্ট্রিং থিওরির কম্পনের নেপথ্য কারণ অনুমান করা হয়েছে। কম্পনের মাত্রা অনুযায়ী যেমন ইলেকট্রন, কোয়ার্কেরযেমন উদ্ভব তেমনি কম্পনের মাত্রা অনুযায়ী অভিন্ন জীব-জন্তু, কীট-পতংকের এমনকি অভিন্ন গাছের নাম কোথাও রয়েছে কিনা এ যাবৎ জানা যায়নি। ফলে প্রথম গরু প্রথম ছাগল, প্রথম হাঁস, প্রথম মুরগী, প্রথম ব্যাঙ, প্রথম কুকুর-শেয়াল, প্রথম বক-সারস প্রভৃতি বিচরণশীল উভয়চর, সাগরে হরেক রকমের মাছ-এসব প্রথমবারের উদ্ভব হওয়ার সময় প্রকৃতির বুদ্ধিমত্তার পরিচয় মেলে xx (Negetive-Female) & xy (Positive-Male) এমনকি গাছের বেলায়ও রয়েছে পুংকেশর, স্ত্রীকেশরের বিন্যাস। স্ট্রিংয়ের জন্য বৈজ্ঞানিক কতিপয় শর্ত (ক) একমাত্রিক লম্বাটে তার কিংবা সুতার ন্যায় হতে হবে। (খ) কম্পমান হতে হবে। (গ) কম্পনের মাত্রা অনুযায়ী ফলস্বরূপ বস্তুকণার উদ্ভব হতে হবে। (ঘ) দৃশ্যমান হতে হবে। (ক) একমাত্রিক লম্বাটে তার কিংবা সুতার ন্যায় হওয়াঃ কণা পদার্থ বিজ্ঞানে প্রতিটি কণা বিন্দুর ন্যায়। সকল শক্তি, বস্তু যখনকুন্ডলী পাকিয়ে অসীম ভরে পরিণত হয় তখন লম্বাটে কোনো বস্তু বিন্দুর ন্যায় ধারণ করে। উপগ্রহ, গ্রহ, নক্ষত্র গোলাকার বিন্দুর ন্যায় এ কারণে রূপ লাভ করেছে। আবার আয়ুস্কাল শেষ হয়ে এলে এসব বিন্দুর ন্যায় বস্তুসমূহ ছোট হতে হতে পরম বিন্দু সিঙ্গুলারিটিতে এসে থেমে যায়। উদাহরণস্বরূপ একটা লম্বাটে সাপ যখন নিজেকে গুটিয়ে নেয় কুন্ডলী পাকিয়ে তখন বহুদূর থেকে তাকে দেখাবে বিন্দুর ন্যায়। তবে কণা ডিটেক্টরে কণাকে কণারূপেই দেখা যায় কিন্তু তরঙ্গ ডিটেক্টরে তরঙ্গ আকারে দেখা যাবে। তবে সত্যিকারভাবে স্ট্রিং এবং তার কম্পনকে দেখতে প্রয়োজন হতে পারে ১০-৩৩ সেন্টিমিটার দর্শনক্ষম সুপার ডিজিটাল মাইক্রোস্কোপের। তাই না দেখেও সার্বিক বাস্তবতার ভিত্তিতে স্ট্রিং থিওরির স্বীকৃতি স্ট্যান্ডার্ট মডেলে প্রদান করা যেতে পারে। (খ) কম্পমান হওয়াঃ স্ট্রিং হতে হবে কম্পমান। কণা পদার্থ বিজ্ঞানমতে, প্রতিটি কণা কম্পমান। অয়লারের বেটা ফাংশনের মূল কথাও কণাগুলি লম্বাটে এবং কম্পমান। (গ) কম্পনের মাত্রা অনুযায়ী ফলস্বরূপ বস্তুকণার উদ্ভব হওয়াঃ আবার লার্জ হ্যাড্রন কলাইডারে ৮ teV-শক্তি প্রয়োগে সেকেন্ডেট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন কম্পন সৃষ্টি করলে প্রোটনকে দেখা যাবে হিগস বোসন কণা আকারে। ২০১২ সালে সার্ণ কর্তৃক লার্জ হ্যাড্রন কলাইডারে এভাবে প্রথমবারের মতো কৃত্রিমভাবে হিগসবোসন কণা উৎপন্ন করা হয়েছিল। ১৩ কিংবা তদুর্ধ্বের teV-শক্তি প্রয়োগে সেকেন্ডে/ন্যানো সেকেন্ডে ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন কম্পন সৃষ্টি করলে স্ট্রিংবিদরা আশা করেন এতে কৃত্রিমভাবে ইলেকট্রন-কোয়ার্ক উদ্ভব ঘটানো সম্ভবপর হতে পারে। তবে হিগস বোসনের ক্ষেত্রে সৌর তাপের চেয়ে লক্ষ গুণ উত্তাপ সৃষ্টির কারণে পৃথিবীতে একটি ছোট ধরণের কেয়ামত সংঘটনের আশংকা করেছিলেন বিজ্ঞানীরা। অধিক শক্তি ব্যয়ে সেই কেয়ামত বড় আকারে সংঘটনের আশংকা রয়েছে বিধায় এ ধরণের গবেষণায় জাতিসংঘ, মানবাধিকার এবং পরিবেশবাদী সংগঠনের তরফ হতে নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে। (ঘ) স্ট্রিং দৃশ্যমান হওয়াঃ ১৩ কিংবা তদুর্ধ্বের teV-শক্তি প্রয়োগে সেকেন্ডে/ন্যানো সেকেন্ডে ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন কম্পন সৃষ্টি করে কৃত্রিমভাবে ইলেকট্রন-কোয়ার্ক উদ্ভব ঘটানো সম্ভবপর হতে পারে কিন্তু সচক্ষে দেখা যাবে না। কারণ, সৃষ্ট স্ট্রিংয়ের সূক্ষ্ণতার পরিমাপ হচ্ছে ১০-৩৩ সেন্টিমিটার। এ যাবৎ বিজ্ঞানীদের হাতেরয়েছে ১০-১৭সেন্টিমিটার সূক্ষ্ণদর্শী মাইক্রোস্কোপ। কোয়ার্ক হচ্ছে এ যাবৎকালের সবচেয়ে সূক্ষ্ণ অণুকণা যার সূক্ষ্ণতা হচ্ছে ১০-১৬। ১০-১৭সেন্টিমিটার। পদার্থ বিজ্ঞানের সূচক যদি অ্যাটম বিবেচনায় তিন মিলেনিয়াম (তিন সহস্র) বছর ধরা হয় তাহলে স্ট্রিং দেখতে ১০-৩৩ সেন্টিমিটারের মাইক্রোস্কোপের জন্য কম-বেশি অআরও হলে তিন মিলেনিয়াম (তিন সহস্র) বছর অপেক্ষা করতে হবে বৈকি। স্ট্রিং থিওরি (String Theory) হলো আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের একটি তাত্ত্বিক কাঠামো, যা মহাবিশ্বের সমস্ত মৌলিক কণা ও বলকে (মহাকর্ষসহ) কম্পনশীল অতি ক্ষুদ্র সুতা বা "স্ট্রিং"-এর মাধ্যমে ব্যাখ্যা করে [১, ৫, ১২]। এটি কোয়ান্টাম মেকানিক্স ও আইনস্টাইনের সাধারণ আপেক্ষিকতাকে একত্রিত করে একটি "থিওরি অফ এভরিথিং" বা সবকিছুর তত্ত্ব হিসেবে গণ্য হয় [২, ৭]। স্ট্রিং থিওরির মূল দিকসমূহ: · মৌলিক কণা: এ তত্ত্ব মতে, ইলেকট্রন বা কোয়ার্কের মতো বিন্দু-সদৃশ কণাগুলো আসলে অতি ক্ষুদ্র এক-মাত্রিক স্পন্দনশীল সুতা [১, ১২]। · মহাবিশ্বের ঐক্য: এটি প্রকৃতিতে বিদ্যমান চারটি মৌলিক বলকে (মহাকর্ষ, তড়িৎ-চৌম্বক, সবল ও দুর্বল নিউক্লীয় বল) একটি একক গাণিতিক কাঠামোর অধীনে নিয়ে আসে [২, ৭]। · মাত্রা (Dimensions): স্ট্রিং থিওরি অনুযায়ী মহাবিশ্ব ১০ বা ১১টি মাত্রায় কাজ করে, যা মানুষের সাধারণ অভিজ্ঞতার (৩টি মাত্রা + সময়) চেয়ে অনেক বেশি [১৫]। · আশার আলো: এটি কৃষ্ণগহ্বর, মহাবিশ্বের সৃষ্টি, এবং কণা পদার্থবিজ্ঞানের মত জটিল সমস্যাগুলোর তাত্ত্বিক সমাধান দিতে পারে [৯]। চ্যালেঞ্জসমূহ: যদিও তাত্ত্বিকভাবে শক্তিশালী, তবুও স্ট্রিং থিওরি এখনও পরীক্ষামূলকভাবে প্রমাণিত নয় কারণ স্ট্রিংগুলো এত ক্ষুদ্র যে বর্তমান প্রযুক্তিতে তাদের সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা অসম্ভব [২, ১০]। এটি প্রকৃতির একটি সাধারণ তত্ত্ব হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, যা পদার্থবিজ্ঞানে এক নতুন দিগন্তের সূচনা করতে পারে। স্ট্রিং থিওরি হলো পদার্থবিজ্ঞানের সেই রোমাঞ্চকর ক্ষেত্র, যা মহাবিশ্বের সমস্ত মৌলিক কণা এবং শক্তিকে একটিমাত্র সুতোয় বাঁধার স্বপ্ন দেখায়। [১, ৪] বিজ্ঞানীদের কাছে এটি কেন এত বিশেষ, তার কয়েকটি কারণ নিচে দেওয়া হলো: · সবকিছুর তত্ত্ব (Theory of Everything): এটি সাধারণ আপেক্ষিকতা (মহাকর্ষ) এবং কোয়ান্টাম মেকানিক্সকে (ক্ষুদ্র কণা) একত্রে মেলানোর চেষ্টা করে, যা পদার্থবিজ্ঞানের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। [১, ২] · বিন্দুর বদলে স্ট্রিং: এই তত্ত্ব অনুযায়ী, কণাগুলো কোনো বিন্দু নয়, বরং অতি ক্ষুদ্র কম্পমান সুতো বা 'স্ট্রিং'। [১, ৫] এই সুতোর কম্পনের ভিন্নতার কারণেই আমরা ইলেকট্রন বা ফোটনের মতো ভিন্ন ভিন্ন কণা পাই। [৫] · অতিরিক্ত মাত্রা: আমাদের পরিচিত ৩টি মাত্রার বাইরেও মহাবিশ্বে ১০ বা ১১টি মাত্রা থাকতে পারে বলে এই তত্ত্ব দাবি করে। [২, ৪] · মাল্টিভার্স: এই তত্ত্বটি কেবল আমাদের মহাবিশ্ব নয়, বরং অগণিত সমান্তরাল মহাবিশ্বের অস্তিত্বের গাণিতিক সম্ভাবনা তৈরি করে। [৪] যদিও এটি এখনো গবেষণাগারে প্রমাণিত নয়, তবুও মহাবিশ্বের রহস্য উন্মোচনে এটি বিজ্ঞানীদের কাছে অন্যতম সেরা গাণিতিক হাতিয়ার। [১, ৩] আপনি কি এই তত্ত্বের অতিরিক্ত মাত্রা নাকি সমান্তরাল মহাবিশ্ব সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানতে চান? স্ট্রিং থিউরি (String Theory): মহাবিশ্বকে ব্যাখার চূড়ান্ত তত্ত্বআপনি যদি গিটারিস্ট হয়ে থাকেন, তাহলে এখনি আপনি আপনার প্রিয় গিটারটি হাতে নেন। হাতে নিয়ে যে কোন একটি স্ট্রিং বা তার-এ টোকা দেন, দেখবেন যে সেখান থেকে সুমধুর শব্দ উৎপন্ন হচ্ছে। এবার পাশের স্ট্রিং-এ টোকা দিলেও আপনি সেখান থেকে আরেক ধরণের সুমধুর সুর শুনতে পাবেন। আসলে আপনি যখন বিভিন্ন সুর উৎপন্ন করছেন, তখন বিভিন্ন স্ট্রিং-এ টোকা দিয়ে আপনি স্ট্রিং-গুলোকে বিভিন্ন কম্পাংকে কম্পিত করছেন। এক একটা তার তখন এক একটা ভাইব্রেশন বা কম্পন মুডে কাপছে, তাই আপনি ভিন্ন ভিন্ন সুর পাচ্ছেন। স্ট্রিং থিউরির বেসিক ধারণাটা এখান থেকে কিছুটা হলেও পেতে পারেন। স্ট্রিং থিউরি অনুযায়ী, বিশ্ব জগত সৃষ্টিকারী সমস্ত মৌলিক কণিকা অর্থাৎ কোয়ার্ক, লেপটন, গেজ বোসন ইত্যাদি মূলত স্ট্রিং ছাড়া আর কিছুই নয়। তবে এগুলো আমাদের দেখা স্ট্রিং যেমন তার বা গুনা জাতীয় কিছু নয়। এগুলো হল এনার্জি বা শক্তির স্ট্রিং যেগুলো বিভিন্ন কম্পাংকে কম্পিত হয়ে ভিন্ন ভিন্ন মৌলিক কণিকাসমূহ তৈরি করছে। ইলেকট্রনের জন্য এই এনার্জির স্ট্রিং যে ভাইব্রেশন মুডে কম্পিত হচ্ছে, মিউওনের জন্য তা অন্য ভাইব্রেশন মুডে কম্পিত হচ্ছে। তাই ইলেকট্রনের চার্জ এবং অন্যান্য মৌলিক গুনাবলি মিউওনের চার্জ এবং অন্যান্য মৌলিক গুনাবলি থেকে আলাদা।এইভাবে ভিন্ন ভিন্ন কম্পাংকের শক্তির স্ট্রিং-সমূহই মূলত ভিন্ন ভিন্ন মৌলিক কণিকাকে প্রতিনিধিত্ব (represent) করছে। বিষয়টিকে আরেকটু বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করা যাক। আমাদের অনেকগুলো মৌলিক প্রশ্নের একটি হলঃ একেবারে গভীরের জিনিসটি কী যা দিয়ে এই সমগ্র মহাবিশ্ব তৈরি? পার্টিকেল ফিজিক্স থেকে আমরা জানি, একেবারে গভীরের জিনিসটি হল কতগুলো অবিভাজ্য কণিকা যাদের দ্বারা সমগ্র মহাবিশ্ব তৈরি। এদেরকে বলা হয়ে থাকে "প্রাথমিক মৌলিক কণিকা"। এই মৌলিক কণিকাগুলির মধ্যে এক প্রজাতি পদার্থ গঠনে অংশগ্রহণ করে থাকে, যাদেরকে বলা হয় পদার্থ গঠনকারী কণিকা, অন্য নাম ফার্মিয়ন (উদাহরণঃ ইলেকট্রন, সমস্ত কোয়ার্ক। কোয়ার্ক বলাতে প্রোটন ও নিউট্রনকে আর আলাদাভাবে বললাম না কারণ প্রোটন, নিউট্রন মূলত কোয়ার্ক দ্বারা তৈরি। বাদ বাকি লেপটন সমূহও এই শ্রেণীর অন্তর্গত)। দ্বিতীয় প্রজাতির কণিকাসমূহ মৌলিক বল সমূহের বাহনকারী হিসেবে কাজ করে থাকে, এদেরকে বলা হয় বল বাহনকারী কণিকা, অন্য নাম গেজ বোসন (উদাহরণঃ সাধারণ আলোক কণিকা/ফোটন, গ্লুয়োন ইত্যাদি)। কণা বিজ্ঞানে আপাতত এগুলোকেই ধরা হয় সবচেয়ে ছোট কণিকা যাদেরকে এখনও পর্যন্ত আর ভাগ করা সম্ভব হয় নি। কিন্তু অনেক বিজ্ঞানীই ধারণা করে থাকেন যে, এতগুলি মৌলিক কণিকার পরিবর্তে হয়ত শুধু #একটিমাত্র ক্ষুদ্রতম জিনিস রয়েছে যার থেকে সমস্ত কিছুর উৎপত্তি। নিউট্রিনোর গতির ইসলামী মূল্যায়ন আইনস্টাইনসহ জগদ্বিখ্যাত বিজ্ঞানীদের অভিমত ছিলঃ আলোর গতি প্রতি সেকেন্ডে ১,৮৬,০০০ (এক লক্ষ ছিয়াশি হাজার)মাইল ইনভেরিয়েন্ট অর্থাৎ অপরিবর্তনীয়। নিউট্রিনোর আলোর গতির চাইতে অন্তত ৬০ ন্যানো সেকেন্ড অগ্রগামিতায় প্রমাণিত হয় যে, আলোর গতি অপরিবর্তনীয় নয় বরং স্থান-কাল-পাত্র ভেদে আপেক্ষিক অর্থাৎ পরিবর্তনীয় যা পবিত্র মিরাজের সত্যতাকে আবারও প্রতিপন্ন করে। উল্লেখ্য, আলোর প্রকৃত প্রাকৃতিক গতি প্রতি সেকেন্ডে ১,৮৬,২৮২ মাইলের কিছু বেশি। ‘বুরাক’ আরবী ‘বরকুন’ শব্দ থেকে নিস্পন্ন যার অর্থ বিদ্যুৎ (Electric/Current)| । বিদ্যুতের অন্যতম প্রধান ধর্ম হচ্ছে দ্রুত পরিবাহিত হওয়া যার জন্য দ্রুতগতি বুঝাতে বলা হয়ে থাকে বিদ্যুৎ গতি। উল্লেখ্য, প্রথমতঃ পবিত্র মেরাজুন্নবী সাল্লাল্লাহু আ'লাইহি ওয়াসাল্লাম পূর্বে পবিত্র মক্কা আল মুয়াজ্জিমা থেকে পবিত্র মসজিদুল আল আকসা পর্যন্ত রাত্রিকালীন মহানবী সাল্লাল্লাহু আ'লাইহি ওয়াসাল্লাম এর পরিভ্রমণকে ইসলামের ইতিহাসে ‘ইসরা’ বলা হয় । ইসরা-তে মহানবী সাল্লাল্লাহু আ'লাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বহনকারী যানের নাম ছিল বুরাক- যা এক অতি দ্রুতগামী বদ্বিতীয়তঃ পবিত্র মেরাজুন্নবী সাল্লাল্লাহু আ'লাইহি ওয়াসাল্লাম সংঘটিত হয়েছিল ঐ রাতের দ্বিতীয় পর্যায় মিরাজ বা সিঁড়িযোগে মসজিদুল আল আকসা হতে সাত আসমানের সর্বশেষ সীমানা সিদরাতুল মুনতাহা এবং তৃতীয়তঃ সিদরাতুল মুন্তাহা হতে রফ্ রফ যানে ‘আরশে ‘আজীম পর্যন্ত পৌঁছা- এসবই দুনিয়াবী সাধারণ আলোর গতিতে নয়, স্রেফ আল্লাহ পাকের সৃষ্ট অকল্পনীয় কুদরতি গতি সম্পন্ন হয়েছে- যে গতিতে রাণী বিলকিসের সিংহাসন চোখের পলকে বাদশাহ সোলায়মান ‘আলাইহিস্ সালামের নিকট আল্লাহপাকের হুকুমে পৌঁছে গিয়েছিল। একইভাবে আখেরাতে নেক্কার বান্দারাও আল্লাহপাকের কুদরতি গতিতেই মুহুর্তের মধ্যে অতি দ্রুততার সাথে পুলসিরাত পার হয়ে জান্নাত বাসী হবেন। আলোর গতির চাইতেও বস্তু বা বস্তু কণার গতি যে বেশি হতে পারে- সার্ণে কর্তৃক আলোর চাইতে দ্রুতগতি সম্পন্ন বস্তু কণা "নিউট্রিনো" আবিস্কারে এতে সুস্পষ্ট প্রতীয়মান এবং মিরাজসহ ইসলামের অন্যান্য গতি বিষয়ক বিষয়াদির বৈজ্ঞানিক সত্যতা স্রেফ আল্লাহ তায়ালার কুদরাতি ব্যাপার মাত্র। যে প্রক্রিয়ায় হিগস-বোসন কণার অস্তিত্ব প্রমাণিত হলো ‘কণা’ (PARTICLE) সম্পর্কিত গাণিতিক মডেলের (mathematical model) সূত্রমতে, উচ্চ গতিতে প্রোটনের সঙ্গে প্রোটনের আন্তঃসংঘর্ষ ঘটানো হলে বেশ কিছু মৌলিক কণা উৎপন্ন হয়। সেমতে, CERN এর লার্জ হ্যাড্রন কোলাইডার যন্ত্রে উচ্চ গতিতে প্রোটনের সঙ্গে প্রোটনের আন্তঃসংঘর্ষ ঘটিয়ে বেশ কিছু মৌলিক কণা উৎপাদন করা হয়। উৎপাদিত এই মৌলিক কণা-কে বলা হয় “হিগস্-বোসনহিগস-বোসন কণা'র অস্তিত্ব প্রমাণে CERN এর বিপুল আয়োজন ! পদার্থবিদরা বিশ্বাস করেন যে, রহস্যময় হিগস-বোসনের সঙ্গে সংঘর্ষে বিভিন্ন মাত্রার ভরের (Mass) জন্ম হয়। পদার্থ বিজ্ঞানের এ সংক্রান্ত বেশ কিছু প্রশ্নকে সামনে রেখে ১৯৭১ সাল থেকে কণাত্বরণ যন্ত্র লার্জ হ্যাড্রন কলাইডারে এ বিষয়ে বাস্তব প্রমাণের উদ্যোগ নেয়া হয় । তবে ২০০৮ সাল থেকে এই কলাইডারের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়।বিপুল শক্তিসম্পন্ন অতি পারমাণবিক কণার জন্ম-তত্ত্ব আবিস্কার করতে CERN আয়োজন করেছিল বিশাল আকারের মহাপরিকল্পনা। এই পরীক্ষা মানব ইতিহাসে শুধু গুরুত্বপূর্ণই নয়; দীর্ঘ সময়সাপেক্ষ এবং ব্যয় বহুলও বটে। অতি পারমাণবিক কণার জন্ম-তত্ত্ব গবেষণার প্রাক্কলিত ব্যয় ছিল তৎকালীন প্রায় ৫০০ কোটি পাউন্ড এবং তাতে উপস্থাপিত হয়েছে অন্ততঃ ৬০,০০০ (ষাট হাজার) অত্যাধুনিক কম্পিউহিগস-বোসন কণার নির্ভুল অস্তিত্ব প্রমাণে CERN এর সর্বোচ্চ সর্তকতাট বস্তু-পদার্থজাত বিশ্ব সৃষ্টির নির্ভুল ও অভিন্ন রহস্য বা উৎসমূল আবিস্কারের মহৎ লক্ষ্যে আজিকার বিশ্বের খ্যাতনামা সর্ববৃহৎ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি গবেষণা কেন্দ্রে CERN কর্তৃক বিশ্বের খ্যাতনামা বিজ্ঞানীদের-কে যথাক্রমে (১)(১) atoroidal lhc apparatus (atlas) এবং (২) compact muon solenoid (cms) নামক দু'টি দলে বিভক্ত করা হয়। সর্ম্পূণ পৃথক ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনায় একদল-কে জেনেভা এবং অপর দল-কে লন্ডনে নিয়োজিত করা হয়েছিল-যাতে উভয় দল একে অপরের কার্যক্রম সর্ম্পকে বিন্দুমাত্র অবহতি না হতে পারে। উদ্দেশ্য: নির্ভুলভাবে অভিন্ন ফলাফল লাভ। অবশেষে উভয় দল বিশাল দূরত্বে (জেনেভা হতে লন্ডন) অবস্থান করে কোন প্রকার পূর্ব যোগাযোগ ব্যতিরেকেই হিগস-বোসন অতিপারমানবিক কণা প্রাপ্তির বিষয়ে একই সঙ্গে একই ফলাফলে উপনীত হয়। যার ফলে CERN কর্তৃপক্ষ ২০১২ সালের ৪ঠা জুলাই, বুধবার এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মলেনে বিশ্ববাসীকে এ মর্মে বিজ্ঞাপিত করে যে, স্ট্যান্ডার্ড মডেলের স্বীকৃত ১২তম “হিগস-বোসন নামক বহুল প্রত্যাশিত মৌলিক কণারটির সন্ধান পাওয়া গেছে। দৃশ্যমান ও অদৃশ্যমান জীব ও জড় নির্বিশেষে সকল সৃষ্টিজগতের সৃষ্টিকর্তা কে এবং এটি কখন এবং কিভাবে সংঘটিত হয়েছিল-এ সম্পর্কিত বিস্তারিত তাত্ত্বিক ইতিহাস-কে সৃষ্টিতত্ত্ব (Creationism)বলা হয়। এ বিষয়ে রয়েছে একাধিক তত্ত্ব যথাঃ (ক) আস্তিক্যবাদী সৃষ্টিতত্ত্ব এবং (খ) বস্তুবাদী সৃষ্টিতত্ত্ব (ক) আস্তিক্যবাদী সৃষ্টি তত্ত্ব এই সৃষ্টিতত্ত্ব বিজ্ঞানমনস্ক ধর্মবিশ্বাসী সাধারণ জ্ঞানী-বিজ্ঞানীদের ধারণা-বিশ্বাসের উপর প্রতিষ্ঠিত। আস্তিক্যবাদী এই সৃষ্টি তত্ত্বের নাম ইমানিসনিজম (Emanisnism)| । ‘ইমানিসনিজম’ (মহাবিশ্বের উৎপত্তি, সৃষ্টি ও পরিবর্তন সম্পকিত একটি ধারণার নাম। ইংরেজী ‘Emanisnism’ শব্দটি এসেছে ল্যাটিন ‘Emanate’ শব্দ থেকে যার অর্থ To flow from...to pour fourth or out of অর্থাৎ কোন উৎস হতে বয়ে আসা, প্রবাহিত বা আগত, উৎসারিত ইত্যাদি। ইমানিজমের ধারণা-বিশ্বাস হচ্ছে, সব সৃষ্টির, সব বস্তুর উদ্ভব হয়েছে First Reality বা First Principle বা Perfect God থেকে। ইমানিশনিজম হচ্ছে Transcendental Principle অর্থাৎ অলৌকিক বা মানুষের জ্ঞানে কুলায় না-এমন একটি বিষয় (Beyond human knowledge: Source: A Student Dictionary)| Latin emanatus, past participle of emanare, from e- + manare to flow Relavant Synonym for emanate spring, arise, rise, originate, derive, flow, issue, emanate, proceed, stem mean to come up or out of something into existence. spring implies rapid or sudden emerging. arise and rise may both convey the fact of coming into existence or notice but rise often stresses gradual growth or ascent. originate implies a definite source or starting point. derive implies a prior existence in another form. flow adds to spring a suggestion of abundance or ease of inception. issue suggests emerging from confinement through an outlet. stem implies originating by dividing or branching off from something as an outgrowth or subordinate development. emanate applies to the coming of something immaterial (such as a thought) from a source. emanate verb em·a·nate ˈem-ə-ˌnāt emanated; emanating 1 : to come out from a source a scent emanating from the flowers 2 : emit sense 1a, give out seems to emanate confidence emanation ˌem-ə-ˈnā-shən noun emanational -shnəl -shən-ᵊl adjective emanative ˈem-ə-ˌnāt-iv (adjective) https://www.merriam-webster.com/dictionary উপরোক্ত সৃষ্টিতত্ত্ব মতে Nothing থেকে Everything সৃষ্টি হয়নি বরং অত্যন্ত সূক্ষ্ণদর্শী এবং মহা প্রবল প্রতাপশালী মহাজ্ঞানী একক সৃষ্টিকর্তা-ই সুপরিকল্পিত ও সুশৃঙ্খলিত এবং কঠোর নিয়মানুবর্তিতার মধ্য দিয়ে এই মহাবিশ্ব সৃষ্টি করেছেন (সুবহা-নাল্লাহি ওয়াবিহামদিহী, সুবহা-নাল্লাহিল আজীম। ইমানিশনিজম ছাড়াও আস্তিক্যবাদী সৃষ্টি বিশ্ব ধর্ম সমূহে ভিন্ন ভিন্ন ভাবে উপস্থাপিত হয়েছে যাতে কোথাও সাদৃশ্য আবার কোথাও বৈশাদৃশ্য বিদ্যমান। ইসলামী সৃষ্টিতত্ত্ব আস্তিক্যবাদী সৃষ্টি তত্ত্বের অপর নাম “ইসলামী সৃষ্টিতত্ত্ব”। ইসলামী সৃষ্টিতত্ত্বে মহাবিশ্বের মহান সৃষ্টিকর্তা, সৃষ্টির পূর্ব অবস্থা এবং পরের অবস্থা, পরিবর্তন এবং মহা ধ্বংসতত্ত্ব (কেয়ামত) ইত্যাদি সম্পর্কিত পবিত্র কুরআন ও সহীহ্ সুন্নাহ ভিত্তিক বিশদ বিবরণ রয়েছে। ইসলামী সৃষ্টিতত্ত্ব বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম أَوَلَمْ يَرَ الَّذِينَ كَفَرُوا أَنَّ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ كَانَتَا رَتْقًا فَفَتَقْنَاهُمَا ۖ وَجَعَلْنَا مِنَ الْمَاءِ كُلَّ شَيْءٍ حَيٍّ ۖ أَفَلَا يُؤْمِنُونَ “যারা কুফরি করে তারা কি দেখে না যে, (১) আসমানসমূহ ও যমীন মিশে ছিল ওতপ্রোতভাবে তারপর আমরা উভয়কে পৃথক করে দিলাম।(২); এবং প্রাণবান সব কিছু সৃষ্টি করলাম পানি থেকে (৩); তবুও কি তারা ঈমান আনবে না”? (সূরা আল-আম্বিয়ার ৩০নং আয়াত) মূলঃ তাফসীর ইবনে কাসীর। وَهُوَ الَّذِىۡ خَلَقَ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضَ بِالۡحَـقِّؕ وَيَوۡمَ يَقُوۡلُ كُنۡ فَيَكُوۡنُ ؕ قَوۡلُهُ الۡحَـقُّ ؕ وَلَهُ الۡمُلۡكُ يَوۡمَ يُنۡفَخُ فِى الصُّوۡرِ ؕ عٰلِمُ الۡغَيۡبِ وَ الشَّهَادَةِ ؕ “তিনিই সঠিকভাবে নভোমন্ডল সৃষ্টি করেছেন। যেদিন তিনি বলবেন: হয়ে যা, অত:পর হয়ে যাবে। তাঁর কথা সত্য” (সূরা আনআ’মঃ আয়াত ৭৩) وَ قَالَ الَّذِیۡنَ كَفَرُوۡا لَا تَاۡتِیۡنَا السَّاعَۃُ ؕ قُلۡ بَلٰی وَ رَبِّیۡ لَتَاۡتِیَنَّكُمۡ ۙ عٰلِمِ الۡغَیۡبِ ۚ لَا یَعۡزُبُ عَنۡهُ مِثۡقَالُ ذَرَّۃٍ فِی السَّمٰوٰتِ وَ لَا فِی الۡاَرۡضِ وَ لَاۤ اَصۡغَرُ مِنۡ ذٰلِكَ وَ لَاۤ اَكۡبَرُ اِلَّا فِیۡ كِتٰبٍ مُّبِیۡنٍ ٭ۙ﴿۳﴾ আর কাফিররা বলে, ‘কিয়ামত আমাদের কাছে আসবে না।’ বল, ‘অবশ্যই, আমার রবের কসম! যিনি গায়েব সম্পর্কে অবগত, তা তোমাদের কাছে আসবেই। আসমানসমূহ ও যমীনে অনু পরিমাণ কিংবা তদপেক্ষা ছোট অথবা বড় কিছুই তাঁর অগোচরে নেই, বরং সবই সুস্পষ্ট কিতাবে রয়েছে, আল-বায়ান [সূরা সাবা: ৩] (খ) বস্তুবাদী সৃষ্টিতত্ত্ব বস্তুবাদী সৃষ্টিতত্ত্বে কেবল মহাবিশ্বের কিভাবে উৎপত্তি ঘটেছে সে সম্পর্কে ধারণামূলক বিশ্ব সৃষ্টিতত্ত্ব রয়েছে। বস্তুবাদী সৃষ্টিতত্ত্বের অপর নাম “যান্ত্রিক বস্তুবাদ”। এ তত্ত্ব মতে, বস্তুর যান্ত্রিক ধারায় সৃষ্টির অস্তিত্ব লাভ, পরিচালনা এবং ব্যবস্থাপনা ঘটছে। অর্থাৎ যা ঘটেছে, ঘটছে এবং ঘটবে-সবই বস্তুর যান্ত্রিক ধারার অনিবার্য ফসল (নাউ'যুবিল্লাহি মিন জালিক)। এ ধরণের ধারণা-বিশ্বাস এক ধরণের নিশ্চয়তাবাদের উপর প্রতিষ্ঠিত। এতে যা ঘটবে তা ঘটবেই এবং যা ঘটবে না, তা কখনই ঘটবে না। এ ধরণের বিশ্বাস ইসলামীমতে কেবলমাত্র “অপরিবর্তনশীল তকদির” এর সাথে প্রায় সাদৃশ্যপূর্ণ। তবে, ইসলামী মতে এর অনুঘটক যন্ত্র নয়; সর্বশক্তিমান আল্লাহ। তবে এমন কিছু ঘটনা/বিষয় রয়েছে যা পরর্বিতনশীল এবং আল্লাহপাকের কুদরতি ইচ্ছায় এর পরবর্তন সাধন হয়ে থাকে অথবা এমন দোয়া-মুনাজাত রয়েছে তা পরর্বিতনশীল তাকদীরের পরর্বিতন ঘটায়। যেমনঃ “বিসমিল্লাহিল্লাজি লা-ইয়াদিররু মাআশফি শাইয়্যুন ফিল আরদ্বি ওয়ালা-- ফিস্ সামা-য়ি ওয়াহুয়াস সামিউল আ’লিম” (সকাল-বিকাল তিন বার করে পাঠ্য)-এই দোয়ার বরকতে মহান আল্লাহ রব্বুল আলামীন পরিবেশ-প্রতিবেশ বা অবস্থার পরিবর্তন ঘটায়- যার (ঘটনা-দূর্ঘটনা) সংঘটন ছিল অনিবার্সয এবং সময়ের ব্যাপার মাত্র। xxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxx বিজ্ঞান-প্রযুক্তির জগতে মুসলমানদের মৌলিক ভূমিকা জ্ঞান-বিজ্ঞানে মুসলমানদের মৌলিক ভূমিকার অমুসলিম স্বীকৃতি “The Arabs laid the foundation of those methods of experimental research, which in conjunction with mathematical analysis gave birth of modern Science”. (Robert Briffault)“ Source: The contribution of Mohamadans (Muslims) as transmitter of knowledge from ancient to modern European civilization must not be underrated”. (Bertrand Russell: The History of Western Philosophy). Former President Eisenhower, USA dedicates D.C. Islamic Center, June 28, 1957. He said: "Civilization owes to the Islamic world some of its most important tools and achievements. From fundamental discoveries in medicine to the highest planes of astronomy, the Muslim genius has added much to the culture of all peoples. That genius has been a wellspring of science, commerce, and the arts and has provided for all of us many lessons in courage and in hospitality.” “It is a privilege to take part in this ceremony of dedication. Meeting with you now, in front of one of the newest and most beautiful buildings in Washington, it is fitting that we rededicate ourselves to the peaceful progress of all men under one God. “And I should like to assure you, my Islamic friends, that under the American Constitution, under American tradition, and in American hearts, this center, this place of worship, is just as welcome as could be a similar edifice of any other religion. Indeed, America would fight with her whole strength for your right to have here your own church and worship according to your own conscience. “This concept is indeed a part of America, and without that concept we would be something else than what we are.” https://www.whitehousehistory.org/press-room/press-backgrounders/u-s-presidential-visits-to-domestic-mosques উল্লেখ্য, ওয়াশিংটন ডিসি ইসলামিক সেন্টার আমেরিকায় ইসলামের প্রতীক। ডিসি এলাকায় প্রায় ৬,০০০ মুসলমান ইসলামিক সেন্টার মসজিদে শুক্রবার জুমার নামাজ আদায় করেন। সেন্টারটি প্রথম ১৯৫৭ সালে খোলা হয়।ইসলামিক সেন্টার যুক্তরাষ্ট্রে সৌভ্রাতৃত্বের ধর্ম পবিত্র ইসলামের মৌলিক আদর্শ সে দেশে তুলে ধরার ক্ষেত্রে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তাছাড়া, এ সেন্টারটি ;মুসলমানদের জন্য ইসলামী সাহিত্য চর্চা, অতি দরিদ্র পরিবারকে সাহায্যের প্রদান, ইসলামী শরাহ-শরীয়ত মতে বিয়ে অনুষ্ঠান, শিশু ও বয়স্কদের জন্য সহীহ কুরআনসহ মুসলিম সম্প্রদায়ের পারস্পরিক মিলন মেলা হিসাবে নিরলসভাবে কাজ করছে। .চন্দ্রপৃষ্ঠে আগ্নেগিরি মুখের তিনজন বিখ্যাত মুসলিম বৈজ্ঞানিক নামে নামকরণ চন্দ্রপৃষ্ঠে তিনটি আগ্নেগিরি মুখের নামকরণ করা হয়েছে তিনজন বিখ্যাত মুসলমানদের বৈজ্ঞানিক নামের সে বিশ্ববরেণ্য বৈজ্ঞানিক হচ্ছেন ১) আলবেরুনি ২) ইবনে সিনা ৩) ওমর খৈয়াম। উল্লেখ্য International Astronomical Union কর্তৃক ১৯৭১ সালে এই নামকরণ করা হয়েছিল;।nbsp;(সূত্রঃ ইতিহাসের পাতা থেকে সৈয়দ আশরাফ আলী )এর পূর্বে ১৯৩৫ সালে International Astronomical Union কর্তৃক চন্দ্রপৃষ্ঠের কয়েকটি Lunar Farmers যা তখনকার সময়ে দূরবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে পরিমাপ করা হয়েছে এর মধ্যে যে সমস্ত Lunar Farmers AUকর্তৃক যে কয়েক জন মুসলিম জ্ঞানী-বিজ্ঞানীর নামে নামকরণ করা হয়েছে তারা হলেনঃ আব্দুর রহমান আল সুফি উলুগ বেগ মাশাল্লাহ (প্রকৃতপক্ষে ইনি আরব ইহুদি বিজ্ঞানী আলফা রাগানি আল বাতানি সাবিত ইবনে কুররা আল হাসান ৮. আল হাইশাম ৯ আল যারকালী ১০ যাবির ইবনে আফলাহা ১১. নাসিব আল দ্বীন প্রমুখ। মধ্যযুগীয় মুসলিম বিজ্ঞানীদের জীবন-কথা ১. জাবির ইবনে হাইয়ানঃ জাবির ইবনে হাইয়ানই সর্বপ্রথম এসিড আবিষ্কারক এবং সালফিউরিক এসিড তরলীকরণে সাফল্য অর্জন করেন। সোডিয়াম কার্বনেট, পটাশিয়াম, আর্সেনিক এবং সিলভার নাইট্রেট উদ্ভাবন তাঁর এক অমূল্য আবিষ্কার। তাকে আধুনিক রসায়ণবিদদের একজন ধরা হয়। তার রচিত ৫০০ বইয়ের মাঝে দর্শন, তর্ক ও রসায়ণ শাস্ত্রে আমরা মাত্র ৮০টি সম্পর্কে জানি। ২. আল-বাতানীঃ তিনি একজন শ্রেষ্ঠ জোর্তিবিদ হিসাবে পাশ্চাত্য জগতে বিশেষভাবে সমাদৃত। বিবিধ ত্রিকোণোমিতিক সমীকরণ সমাধান তার উল্লেখযোগ্য আবিষ্কার। তিনি এর গাণিতিক ছক প্রস্তত করেন। প্রকৃতপক্ষে তিনিই ত্রিকোণমিতি শাস্ত্রের জন্মদাতা।কয়েক শতাব্দী পর্যন্ত তার গ্রন্থগুলো রেফারেন্স বই হিসেবে পঠিত হত। ৩. আল-ইদ্দুসীঃ তিনিই সর্বপ্রথম পৃথিবীর মানচিত্র অংকন করেন যা যথার্থতার দিক থেকে আধুনিক মানচিত্রের কাছাকাছি ছিলো। তিনি সমান্তরাল সরল রেখা দিয়ে পৃথিবীকে ৭টি ভাগে ভাগ করেন।তার বিখ্যাত বই নুগহাত আল মোস্তফা কিফ ইখতিরাক আল অরফাক তিন শতাব্দী পর্যন্ত ইউরোপের প্রধান ভৌগোলিক গ্রন্হ হিসাবে পরিগণিত হত । ৪. ইবনে আল বিতারঃ এই বিজ্ঞানী জীব বিজ্ঞান ও চিকিৎসা বিজ্ঞানের ব্যবহারিক প্রয়োগের দিকে তিনি বিশেষভাবে মনোযোগী ছিলেন তার বিখ্যাত বই আল জামি লি মোফরাদাত আল আদওয়াইয়া ওয়াল আগদিয়ে ১৮৮১ সালে ফরাসী ভাষায় প্রকাশিত হলে ফরাসী বিজ্ঞানীরা এমন ৮০টিরও বেশী বিষয়ের সাথে পরিচিত হন যা ইতিপূর্বে তাদের অজানা ছিলো।এই অভিধানটিবর্ণানুক্রমিকভাবে সাজানো হয় এবং এতে ১৪০০ প্রকার ওষুধের বর্ণণা ছিল যার ৩০০টি এর আগে কখনো জানা ৫. ইবনুল হায়তামঃদৃষ্টিবিজ্ঞান ও আলোক রশ্মি সংক্রান্ত গবষেণায় তিনি বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেন। তিনিই সর্বপ্রথম চোখের ছবি অংকন করে আলোকের প্রতিফলন ও প্রতিসরণের নিয়মবালী ব্যাখ্যা করেন। তিনি চোখের কাঠামোতে আলোর প্রতিফলন কর্নিয়ার উপর পতিত ছবি, আলোক রশ্মি একত্রীকরণের সূত্র,কোন ছবির সম্প্রসারণ, প্রতিফলন এবং সংযুক্ত এবং বস্তুর রং পরিদর্শন ইত্যাদি ব্যাপারে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন। ১০৩৯ খ্রিস্টাব্দে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। ৬.আব্বাস বিন ফিরনাগঃ অটোলিলিয়ান থলের বহু শতাব্দী পূর্বেই কর্ডোভার এই বিজ্ঞানী এক জোড়া পাখা তৈরি করে ৩০০ মিটার উঁচু থেকে ঝাপ দিয়ে স্পেনের কর্ডোভা নগরীর উপর দিয়ে যান। কিন্তু গতি নিয়ন্ত্রণ ও দিক পরিবর্তনের কোন ব্যবস্হা না থাকায় তিনি ভারসাম্য হারিয়ে মাটিতে পড়ে গিয়ে জীবন বিসর্জন দেন এবং ভবিষ্যৎ বংশধরদের জন্য রেখে যান চিন্তুার জগতে এক প্রাতঃস্মরণীয় ঘটনা যা থেকে বিমান, রকেট প্রযুক্তির উদ্ভব ঘটে। এমনিভাবে এমন আরো অনেক মুসলিম বিজ্ঞানী ও দার্শনিক আছেন যাদের অনেক-কেই আমরা জানিনা ।তাই বিংশ শতাব্দীর ক্রান্তিলগ্নে দাড়িয়ে আমাদেরকে স্মরণ করতে হবে সোনালী যুগের সেই দিনগুলির কথা যখন আমরা জ্ঞানে বিজ্ঞানে বিশ্বকে নেতৃত্ব দিয়েছিলাম। আমাদেরকে আবারও জ্ঞানে বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে ঘটাতে হবে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন । যে বিজ্ঞানের অবদানে হবেনা হিরোশিমা ও নাগাসাকির মতো ধ্বংসলীলা যা বয়ে আনবে ইনশা আল্লাহ মানবজাতির জন্য এক মহা প্রশান্তি। (সূত্রঃ ইতিহাসের পাতা থেকে/গ্রন্থকারঃ আশরাফ আলী) হেরা গুহা ; ইসলামী জ্ঞান-বিজ্ঞানের সূচনাস্থল ১) হেরা গুহা (غارnbsp;حراءnbsp;Ġār Ḥirāʾ) সৌদি আরবের মক্কায় জাবালে নূর পর্বতে অবস্থিত একটি গুহা।সর্বপ্রথম কুরআন অবতীর্ণ হওয়ার স্থান হিসেবে এই গুহা প্রসিদ্ধ। ইসলামের ইতিহাসমতে, পবিত্র লাইলাতুল ক্বদরে আল্লাহর তরফ থেকে ফেরেশতা সর্দার জিব্রাইল আলাইহিমুস সালাম এই গুহায় সূরাহ আল আলাক্বের প্রথম ৫ আয়াত নিয়ে সর্বপ্রথম হযরতমুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এই হেরা গুহায় মোরাকাবা ,মোশাহাদারত অবস্থায় কুরআনের বাণী নিয়ে এসেছিলেন। জাবালে নূরঃসৌদি আরবের মক্কা নগরীর কাছে অবস্থিত এক ঐতিহাসিক পর্বতের নাম জাবালে নূর। আক্ষরিক অর্থে আরবি জাবালে নূর শব্দের মানে দাঁড়ায় আলোর পর্বত। এই আলো শুধু আক্ষরিক অর্থেই সীমাবদ্ধ নেই। কেননা, এই পর্বতে অবস্থিত হেরা গুহায় নাজিল হয়েছিল পবিত্র আল কোরআন। ২) দারুল আরকাম মক্কা আল মুয়াজ্জিমাদারুল আরকাম এর শাব্দিক অর্থ হলো, আরকাম নামক ব্যক্তির ঘর। আরকাম একজন সাহাবীর নাম। উনার পূর্ণ নাম হলো, আরকাম ইবনে আবুল আরকাম। শুরু যুগে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নতুন ইসলামে দীক্ষিত সাহাবীদেরকে নিয়ে আরকাম রা. এর ঘরে সমবেত হতেন। এবং তাদেরকে দীনী বিষয়াদি শিক্ষা দিতেন। এটা হলো ইসলামের প্রথম মাদরাসা বা ধর্মীয় পাঠশালা https://ar.wikipedia.orgnbsp; আসহাবে সুফফা Article content এই সেই পবিত্র মাসাজিদ আন নবী (সল্লাল্লাহু আ'লাইহি ওয়াসাল্লাম চত্বর আসহাবে সুফফার সাহাবীরা সাধারণত সহায়সম্বলহীন ছিলেন, যারা ব্যবসায়, শিল্প, কৃষি এবং ইসলাম শিখতে চেষ্টা করছেন। তারা কোন হস্তকর্মে শিক্ষিত ছিলেন না, তাই তারা সাধারণত মুহাম্মাদ-এর সাহচার্যে ও কুরআন তিলাওয়াত করে দিন কাটিয়ে দিতেন এবং ইসলামি জ্ঞান অর্জন করতেন। তারা উবাদা ইবনু সামিতের অধীনে কুরআন ও সুন্নাহ অধ্যয়ন করতেন। যখন তৎকালীন ইসলামী সরকার ধর্মীয় গবেষণায় শিক্ষক হিসাবে কাউকে নিয়োগ দিতেন, তখন এদের মধ্যে কেউ একজন শিক্ষক হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হতেন। সুফফা হলো ছাদবিশিষ্ট প্রশস্ত স্থান। সুফফার মূল ভূমির উচ্চতা ছিল প্রায় অর্ধমিটার। প্রাথমিক পর্যায়ে এর দৈর্ঘ্য ছিল ১২ মিটার এবং প্রস্থ ছিল ৮ মিটার। মসজিদে নববির উত্তর-পূর্বাংশে নির্মিত সুফফার দক্ষিণ দিকে ছিল রাসুলুল্লাহ (সা.) ও তাঁর স্ত্রীদের অবস্থানের কক্ষগুলো এবং সংলগ্ন পশ্চিম পাশে ছিল মেহরাব। প্রাথমিকভাবে সুফফা মুহাজির সাহাবিদের অবস্থানের জন্য নির্মিত হয় বলে এটি ‘সুফফাতুল মুহাজিরিন নামে পরিচিতি লাভ করে। পরে এটি বাইরে থেকে আগত শিক্ষার্থী সাহাবি এবং মদিনার উদ্বাস্তু সাহাবিদের রাত্রিকালীন আবাসস্থল ও দিবাভাগে শিক্ষায়তন হিসেবে ব্যবহৃত হতো। বিপুলসংখ্যক সাহাবি এখানে অবস্থান করতে পারতেন। সুফফা ছিল ইসলামের প্রথম আবাসিক মাদরাসা। ইসলামী জ্ঞান-বিজ্ঞানের ইতিকথা উমাইয়া যুগে মুসলিম জ্ঞান-বিজ্ঞান উমাইয়া খলিফা কাতেবে ওয়াহি হযরত আমীরে মুয়াবিয়া (প্রথম) রদ্বিয়াল্লাহু দামেস্কে বইয়ের একটি সংগ্রহ গড়ে তোলেন। এখানে ইসলামী তিব্ব অর্থাৎ চিকিৎসা, আলকেমি ও অন্যান্য বিষয়ের উপর গ্রিক ও খ্রিষ্টান উৎসের গ্রন্থ ছিল। দামেস্কভিত্তিক এই গ্রন্থশালাকে তৎকালীন 'বাইতুল হিকমাহ' (বিজ্ঞানালয়) মনে করা হত। তবে পূর্ণাঙ্গরূপে বাইতুল হিকমাহ প্রতিষ্ঠিত হয় আব্বাসী খেলাফত কালীন সময়ে। https://bn.wikipedia.org/wiki//আরব_বিশ্ব উল্লেখ্য, উমাইয়ারা চৈনিকদের কাছ থেকে কাগজ তৈরীর প্রক্রিয়া রপ্ত করে। তারা নিজেদের অধীনে অনেক বুদ্ধিবৃত্তিক কেন্দ্র সৃষ্ট করে খ্রিষ্টান ও পারসিয়ান (ইরানী) জ্ঞানী-গুণীদের আরবিতে অনুবাদ ও নতুন জ্ঞান সৃষ্টির জন্য নিয়োগ প্রদান করা হতো। আরব বিশ্বে জ্ঞানের উন্মেষের জন্য এসব ঘটনা ভিত্তি হিসেবে কাজ করে। উমাইয়া যুগে মুসলিম জ্ঞান-বিজ্ঞান বিজ্ঞানের ইতিহাসে একটি জনশ্রুতি আছে যে, হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু আনহু রাসায়নিক ফর্মুলা হিসেবে পারদ ও অভ্র দিয়ে বিদ্যুৎ সদৃশ বস্তুর ব্যবহারের ইঙ্গিত দিয়ে বলেছিলেনঃ (AI overview) https://www.google.com/searchহযরত+আলী+রা+বলেছিলেন+পারদ&oq=হযরত+আলী+রা+বলেছিলেন+পারদ+&gs_lcrp=EgZjaHJvbWUyDggAEEUYChg5GKABGMMEMgcIARAhGI8CMgcIAhAhGI8C0gEJMzkwODJqMGo3qAIAsAIA&sourceid=chrome&ie=UTF-8 যুজ আল ফারার ওয়তি তালাক ওয়াশ্ শাইয়ান আশবাহুল বারাক ইজাসাম জালাত ওয়া আস কাহাত মালাক তাল গারার ওয়াশ শারার অর্থ: “পারদ ও অভ্র একত্র করে যদি বিদ্যুৎ ও বজ্রসদৃশ কোনো বস্তুর সঙ্গে সংমিশ্রণ করতে পার, তাহলে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের মালিক হতে পারবে।” সম্ভবতঃ বিষয়টির মূল্যায়ন করে কথিত আছে যে, আমিরে মুয়াবিয়ার দৌহিত্র খালিদ ইবনে ইয়াজিদ সিংহাসনের আকাঙ্খা ত্যাগ করে রসায়ন বিজ্ঞান গবেষণাগার বা ল্যাবরেটরী প্রতিষ্ঠা করে স্বর্ণ তৈরির কৃত্রিম ফর্মুলা আলকেমির চর্চা করেছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে যে, পৃথিবীর বিস্তৃর্ণ এলাকা জয়ের ফলে প্রশাসনিক আর্থিক সংস্থানের অন্যতম রাজস্বের উৎস ছিল উক্ত আলকেমিক স্বর্ণ প্রযুক্তি। বাইতুল হিকমাহ (আরবি: بيت الحكمة; Bayt al-Hikma) বা জ্ঞানগৃহ ছিল আব্বাসীয় আমলে ইরাকের বাগদাদে প্রতিষ্ঠিত একটি গ্রন্থাগার, অনুবাদকেন্দ্র ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।[১] এটিকে ইসলামি স্বর্ণযুগের একটি প্রধান বুদ্ধিবৃত্তিক কেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়।[২][৩][৪] বাইতুল হিকমাহ খলিফা হারুনুর রশিদ (শাসনকাল ৭৮৬-৮০৯ খ্রিষ্টাব্দ) প্রতিষ্ঠা করেন এবং তার পুত্র আল মামুন (শাসনকাল ৮১৩-৮৩৩ খ্রিষ্টাব্দ) এর সময় তা সর্বোচ্চ চূড়ায় পৌছায়। জ্ঞানের আদানপ্রদানের জন্য আল মামুন অনেক জ্ঞানীগুণী ব্যক্তিকে বাইতুল হিকমাহতে নিয়ে আসেন। ৯ম থেকে ১৩ শতক পর্যন্ত পারসিয়ান ও খ্রিষ্টানসহ[৫] অসংখ্য পণ্ডিত ব্যক্তি এই গবেষণা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সাথে জড়িত ছিলেন। আরবিতে গ্রন্থ অনুবাদ ও সংরক্ষণের পাশাপাশি পণ্ডিতরা বিভিন্ন ক্ষেত্রে মৌলিক অবদান রাখেন।[৬][৭] আল মামুনের শাসনামলে মানমন্দির স্থাপিত হয়। এসময় এই প্রতিষ্ঠানটি গণিত, জ্যোতির্বিদ্যা, চিকিৎসাবিজ্ঞান, আলকেমি, প্রাণিবিদ্যা, ভূগোল ও মানচিত্রাঙ্কনবিদ্যাসহ বিভিন্ন বিষয়ে জ্ঞানচর্চার অপ্রতিদ্বন্দ্বী স্থান হয়ে উঠে। ভারতীয়, গ্রীক ও পারসিয়ান রচনা ব্যবহার করে পণ্ডিতরা বৈশ্বিক জ্ঞানের বিরাট ভান্ডার অর্জন করেন এবং এর মাধ্যমে তাদের নিজেদের আবিষ্কারের দিকে এগিয়ে যান। নবম শতকের মধ্যভাগে বাইতুল হিকমাহ ছিল পৃথিবীর সবচেয়ে বৃহৎ গ্রন্থভান্ডার।[৭] মোঙ্গলদের বাগদাদ অবরোধের সময় শহরের পতন হলে এই গ্রন্থাগারটিও ধ্বংস হয়ে যায়। cccccccccccccccccccccccccccccccccccccccccccccccccccccccccccccccccccccccccccccccc আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞানে মুসলিম বিজ্ঞানীদের ভূমিকা রসায়ন বিজ্ঞানের প্রাণ আধুনিক পর্যায় সারণীর স্থপতি জাবের ইবনে হাইয়ান

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

Holy Romado-n 1445 Hijrah/2024 News

Article