মহাজাগতিক তার (Cosmic string)/স্ট্রিং: মহাবিশ্বের বস্তুগত মূল অবকাঠামোর ভিত্তি!

ইষ্টার্ণ ইসলামিক সায়েন্স-টেক নিউজ (Eastern Islamic Science-Tech News) হলো বাংলাদেশের চট্টগ্রাম থেকে প্রকাশিত একটি নিয়মিত প্রকাশনা বা নিউজলেটার। এটি মূলত মুসলিম বিশ্বের ঐতিহ্যবাহী বিজ্ঞান চর্চা, ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং শিক্ষামূলক বিভিন্ন আর্টিকেল বা প্রবন্ধ প্রকাশ করে থাকে।এই প্রকাশনার উল্লেখযোগ্য দিকগুলো:মূল কেন্দ্র: এর প্রধান কার্যালয় বা যোগাযোগের ঠিকানা হলো: ২১২৩/২০০৫, উত্তর মোগলটুলী বাই লেইন, পশ্চিম মাদারবাড়ী, সদরঘাট, চট্টগ্রাম।সম্পাদক: এই প্রকাশনার এডিটর-ইন-চিফ বা সম্পাদক হলেন মুহাম্মদ শেখ রমজান হোসাইন।মূলভাবনা: এটি বিভিন্ন সংস্করণে (যেমন- দ্বিতীয় বা চতুর্থ সংস্করণ) ইসলামের সোনালী যুগের বিজ্ঞান, প্রাচীন মানচিত্র, জ্ঞানতত্ত্ব এবং আধুনিক প্রযুক্তির নানা দিক নিয়ে আলোচনা করে থাকে।প্রকাশনার মাধ্যম: এটি সাধারণত বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বা পেশাজীবীদের নেটওয়ার্ক যেমন LinkedIn Pulse-এর মতো প্ল্যাটফর্মে নিয়মিত আর্টিকেল আকারে প্রকাশিত হয়।মহাজাগতিক তার (Cosmic string)/স্ট্রিং: মহাবিশ্বের বস্তুগত মূল অবকাঠামোর ভিত্তি!বিজ্ঞানী হলো এমন এক শিশু, যে আসলে কখনো বড় হয়নি—নীল ডিগ্র্যাস টাইসন, জ্যোতিঃপদার্থবিদ কূলে থাকায় পৃথিবীতে গাছ-পালা, জীব-জন্তু ও প্রাণের ব্যাপক সমাবেশ সমাগম ঘটতে থাকে।মহাবিশ্ব দেখতে কেমন? যুগে যুগে নতুন নতুন বিজ্ঞানের আবির্ভাব নতুন বিজ্ঞানের শর্তাবলী ধারণার সংস্কারঃ ১)ফিজিক্স বনাম ম্যাটেরিয়াল সায়েন্স ২)মহাকর্ষ বনাম মাধ্যাকর্ষণ ৩) মহাকর্ষের চাপ বনাম মাধ্যাকর্ষণের টান ৪) আলোর গতির ইনভেরিয়েন্ট বনাম নন ইনভেরিয়েন্ট ৫) অআলোর সরল/বক্র রেখায় গমন ৬) নিউটনীয় ক্লাসিক্যাল বল বিজ্ঞান বনাম ম্যাক্স প্ল্যাংকীয় কোয়ান্টাম মেকানিক্স ৭) স্ট্রিং থিওরি কি প্রমাণিত নাকি অপ্রমাণিত? ৮) হাইয়েস্ট এনার্জেটিক রেডিয়েশনে সৃষ্ট বিগ ব্যাং বা মহাবিস্ফোরণ কি দূর্ঘটনা নাকি উদ্দেশ্যপূর্ণ? ৯) সময় কেন এগিয়ে চলে? মহাবিশ্বের গতিপ্রকৃতি অত্যন্ত জটিল। শুরুতে খালি চোখে, পরে আধুনিক টেলিস্কোপের সাহায্যে কোটি কোটি তথ্যবিন্দু বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা মহাবিশ্বে রজটিল নিয়ম বুঝতে চেষ্টা করে চলেছেন শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে। এ কারণে মহাবিশ্বের প্রকৃতিকে বিজ্ঞানের সূত্রে বেঁধে ফেলার অনেক চেষ্টা হয়েছে। তবে সে চেষ্টা হয়েছে ফিজিক্স (প্রকৃতি বিজ্ঞান)-এ নয় পদার্থ বিজ্ঞানে (ম্যাটেরিয়াল সায়েন্সে)। পদার্থ বিজ্ঞানে মহাবিশ্বের মহাসত্য জানার অগ্রযাত্রা শুরু হয়েছিল খ্রীষ্ট পূর্ব .... প্রাচীন গ্রীক দার্শনিক ডেমোক্রিটাসের হাত ধরে যা এখনও অব্যাহত রয়েছে। যার কারণে অতিসম্প্রতি প্রশ্ন করা হয়ঃ পদার্থ বিজ্ঞানের ইংরেজী নাম কি? নিঃসংশয়ে বলা হয়ঃ ফিজিক্স। মহাবিশ্বের বৈজ্ঞানিক নিয়ম সম্পর্কে আইরিশ sssss জর্জ বার্নার্ড শ ১৯৩০ সালে লন্ডনের একটি অনুষ্ঠানে আলবার্ট আইনস্টাইনকে পরিচয় করিয়ে দিতে গিয়ে বলেছিলেন:‘টলেমি একটি বৈজ্ঞানিক মহাবিশ্ব তৈরি করেছিলেন, যা ১ হাজার ৪০০ বছর টিকে ছিল। এরপর নিউটন একটি বৈজ্ঞানিক মহাবিশ্ব তৈরি করেছিলেন, যা টিকে ছিল ৩০০ বছর। এরপর এলেন আইনস্টাইন। আমরা এখনো জানি না আইনস্টাইনের বৈজ্ঞানিক মহাবিশ্ব কত বছর টিকে থাকবে। আইনস্টাইনের জেনারেল থিওরি অব রিলেটিভিটি বা সাধারণ আপেক্ষিকতার সার্বিক তত্ত্ব থেকে আমরা যে মহাবিশ্বের ধারণা পেয়েছি, তাতে মহাকর্ষের ব্যাপারে কিছুটা ধারণা পাওয়া গেলেও মহাকর্ষের প্রতিকণা কোয়ান্টাম গ্র্যাভিটনএখনো অধরাই রয়েছে। তবে সাধারণ আপেক্ষিকতায় বর্ণিত মহাকাশের যে ভারি বস্তু তাকে ব্ল্যাকহোল নামে সত্যতা প্রমাণে প্রায় ১০০ বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে ২০১৯ সাল পর্যন্ত। তবে থিওরি অব রিলেটিভিটি বা সাধারণ আপেক্ষিকতার সার্বিক তত্ত্ব ঝুঁকির মধ্যে পড়ে ২০১১ নিউট্রিনো আলোর চাইতে ৬০ ন্যানো সেকেন্ড এগিয়ে যাওয়ার প্রমাণ পাওয়া যাওয়ায়। অবশ্য পরে তা স্টিফেন হকিংয়ের অনুরোধে বাতিল করা হয় অনিবার্য কারণে। আইনস্টাইনের অভিকর্ষ বলের স্থান-কালের নীতির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মহাবিশ্বে ছড়ানো বিপুল পরিমাণ অদৃশ্য বস্তু বা ডার্ক ম্যাটার এবং অদৃশ্য শক্তি বা ডার্ক এনার্জি। হিসাবমতে মহাবিশ্বের মোট বস্তুগত উপাদান-উপকরণের ২১ ভাগ অদৃশ্য বস্তু বা ডার্ক ম্যাটারে (বস্তুতে) এবং ৭৫ ভাগ অদৃশ্য শক্তি বা ডার্ক এনার্জি নিহিত রয়েছে১৯২০ সালে জ্যোতি-পদার্থ বিজ্ঞানী এডউইন হাবল আবিস্কৃত শক্তিশালী হাবল (পরে জেমস ওয়েব) টেলিস্কোপের সাহায্যে ১৯৬৪ সালে মহাকাশে প্রাপ্ত বিগ ব্যাংয়ের শুরুতে সৃষ্ট ব্যাক গ্র্যাউন্ড রেডিয়েশনের ধ্বংসাবশেষ কম্পিউটার সিমুলেশনের মাধ্যমে অর্জিত তথ্য ও উপাত্ত এবং আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের তত্ত্বের সমন্বয়ে মহাবিশ্বকে।বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে উপস্থাপন করার জন্য তৈরি করা হয় সর্বাধুনিক মডেল ল্যামডা কোল্ড ডার্ক ম্যাটার মডেল বা ল্যামডা-সিডিএম (LCDM) মডেল যার অপর নাম কসমোলজিক্যাল স্ট্যান্ডার্ড মডেল। উল্লেখ্য, মহাবিশ্বের তিনটি প্রধান উপাদান হলো গুপ্ত শক্তি (ডার্ক এনার্জি), গুপ্তবস্তু (ডার্ক ম্যাটার) এবং সাধারণ পদার্থ ও শক্তি। এই তিন ধরনের উপাদানকে ল্যামডা-সিডিএম মডেল তথা স্ট্যান্ডার্ড মডেলে চমৎকারভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। ল্যামডা হলো মহাজাগতিক ধ্রুবক (কসমোলজিক্যাল কনস্ট্যান্ট), যা ডার্ক এনার্জির অস্তিত্ব প্রতিষ্ঠা করেছে। মহাবিশ্বের গতিপ্রকৃতি সার্থক ও সঠিকভাবে ব্যাখ্যা করা যায় এ মডেলের সাহায্যে। এমনও হতে পারে, মহাবিশ্বেরআসলে কোনো সার্বিক তত্ত্বই নেই। সেটাও এক সম্ভাব্য অবস্থা। সে ক্ষেত্রে সার্বিক তত্ত্ব অন্বেষণ কিংবা মহাবিশ্বকে ব্যাখ্যার সম্ভাব্য তত্ত্বগুলো খুঁজে ফিরবে মানুষ যুগ যুগ। ---------------------------------------------------- Comments Comments settings like 1 Photo of Muhammad Sheikh Ramzan Hossain Like Comment Share Add a comment… Open Emoji Keyboard No comments, yet. Be the first to comment. Start the conversation বর্তমান বিজ্ঞানে ‘Cosmic String' তথা মহাজাগতিক তার (স্ট্রিং) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় যা খুবই উচ্চ পর্যায়ের জ্ঞান সমৃদ্ধ। বিংশ শতাব্দির ৮০-র দশকে প্রথমবারের মতো বিজ্ঞান ‘Cosmic String' তথা মহাজাগতিক তার (স্ট্রিং) সম্পর্কিত সৃষ্টিতত্ত্ব উপস্থাপন করে বিশ্বে রীতিমত তাক লাগিয়ে দেয়। Big Bang model গবেষণাকারী বিজ্ঞানগণ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে গিয়ে এই মহাজাগতিক তারের উপস্থিতি এবং এ মহাবিশ্বের সৃষ্টির একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে এই তারের যাদুময়ী কর্মকাণ্ড সম্পর্কে ধারণা লাভ করতে থাকে। এ মহাজাগতিক তারগুলো (Cosmic strings) লম্বায় লক্ষ লক্ষ আলােকবর্ষ কিংবা তার চেয়েও বেশি লম্বা। কিন্তু ব্যাস এত সূক্ষ্ম যে কল্পনা করাও বেশ দুরূহ ব্যাপার। গাণিতিকভাবে প্রকাশ করলে দাঁড়ায় ১০-৩৩ cm প্রায়। অর্থাৎ ১ সে.মি. দৈর্ঘ্যকে ১০০ কোটি, কোটি, কোটি কোটি দিয়ে ভাগ করলে যা হবে তার সমান মাত্র। এদের আকৃতি কোথাও কুণ্ডলীর মতো, কোথাও আংটির মতো, কোথাও সর্পিল আবার কোথাও দেখতে কটিবন্ধের মতো । Cosmic strings-এর পদার্থ ভর অকল্পনীয়, বিরাট ও বিশাল, মাত্র কয়েক কিলোমিটার তারের ভর সমগ্র পৃথিবীর ভরের চাইতেও কয়েক গুণ বেশি। এ তারগুলো খুবই শক্তিশালী এবং এদের ঘনত্ব 'ব্ল্যাক হোলের ঘনত্বের চেয়েও বেশি।যেহেতু স্ট্রিং থিওরি হল গানিতিকভাবে গঠিত একটি কোয়ান্টাম মেকানিক্সের তত্ত্ব,- তাই স্পিন-২ টাইপে গ্রাভিটনের অস্তিত্ব এটাই প্রমাণ করে যে, স্ট্রিং তত্ত্ব কার্যতঃ কোয়ান্টাম গ্রাভিটিরই (মহাকর্ষের কোয়ান্টাম রুপ) পরিপূরক এক অভিন্ন তত্ত্ব । এই তত্ত্ব মতে, তারগুলো মূলতঃ ২ প্রকার। ক) খোলা এবং খ) বন্ধ দুই ধরনেরই হতে পারে। খোলা তারগুলোর দুই প্রান্ত একটি আরেকটির সাথে জোড়া না লেগে আলাদা আলাদাভাবে থাকে, আর বন্ধ তারগুলোর দুই প্রান্ত পরস্পরের সাথে জোড়া লেগে লুপ গঠন করে। খোলা তারগুলোর চেয়ে বন্ধ তারগুলো কিছুটা ভিন্ন ভাবে আচরণ করে থাকে। বন্ধ তারগুলো গ্রাভিটন উৎপন্ন করে, অপরদিকে শুধুমাত্র খোলা তারগুলো ফোটনের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ আচরণ করে।০০০গ্র্যাভিটন কণা দেখার জন্য আমাদের অনেক ভারী বস্তু দরকার। সেই বস্তুগুলোর হতে হবে মহাজাগতিক ভরের, যাতে অন্য বলগুলো ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থায় থাকবে। এই অতিভারী বস্তুকে পরস্পরের সঙ্গে সংঘর্ষের মুখে ফেললেই গ্র্যাভিটন বা মহাকর্ষ কণা পর্যবেক্ষণ করার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। সে জন্য হাতের কাছে যেকোনো বস্তু টনকে টন জড়ো করে, তা দিয়ে অতিভারী বস্তু তৈরি করে সংঘর্ষ ঘটালে হবে না। আমাদের দরকার দানবীয় অতিভরের কোনো কৃষ্ণগহ্বরের মতো বস্তু বা দুটি কৃষ্ণগহ্বরের সংঘর্ষ। এ রকম মহাজাগতিক অতিভারী দুটি বস্তুর মধ্যে সংঘর্ষ ঘটিয়েই কেবল মহাকর্ষকে হয়তো কোয়ান্টাম পরিঘটনা হিসেবে প্রমাণ করা সম্ভব। কিন্তু আমরা ভালো করেই জানি, এ রকম কিছু করা আমাদের পক্ষেতার চেয়ে হয়তো মৃত নক্ষত্রের কথা ভাবা অনেক বেশি বাজেটবান্ধব। মজার ব্যাপার হলো, এসব ক্ষেত্রে আমরা ভাগ্যবান। মহাবিশ্বে হরহামেশাই উদ্ভট সব ঘটনা ঘটতে দেখা যায়। তার মধ্যে আছে কৃষ্ণগহ্বরের সংঘর্ষ। মাঝেমধ্যে এ রকম ঘটনা ঘটে মহাকাশে। ভালোমতো খুঁজলে এমন কিছু হাতের নাগালে পেয়েও যেতে পারেন। তবে এসব ঘটনা আমাদের ইচ্ছেমতো ঘটে না। বারবার একই ঘটনার পুনরাবৃত্তিও হয় না অসম্ভব। আমাদের বাজেট বলেন আর সামর্থ্য, কোনোটাতেই কুলাবে না। ০০০একসময় দুটির মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষ ঘটে। ফলে হয়তো চতুর্দিকে তীব্র বেগে গ্র্যাভিটন কণা বেরিয়ে আসতে পারে। আসলে সেটি ঘটে কি না, তা আমাদের পর্যবেক্ষণ করে দেখতে হবে। কিন্তু ব্যাপারটা অত সহজ নয়। কৃষ্ণগহ্বর থেকে সত্যিই যদি কোনো গ্র্যাভিটন কণা বেরিয়ে আসে, তা–ও শনাক্ত করা খুব কঠিন। মহাকর্ষের দুর্বলতার কারণে আপনার ভেতর দিয়ে গ্র্যাভিটন কণা চলে গেলেও কিছুই টের পাবেন না। মহাবিশ্বে নিউট্রিনো নামের একটি অদ্ভুতুড়ে ও অসামাজিক কণা আছে। কয়েক আলোকবর্ষজুড়ে পুরু সিসার পাত ভেদ করেও এই কণাটি চলে যেতে পারে। কারণ, এই কণা সহজে অন্য কারও সঙ্গে মিথস্ক্রিয়া করে না। কিন্তু গ্র্যাভিটনের তুলনায় নিউট্রিনোকে সামাজিক কণা বলা যায়। কারণ, গণনায় দেখা গেছে, বৃহস্পতি গ্রহ আকৃতির কোনো ডিটেক্টর দিয়ে গ্র্যাভিটন কণা খোঁজা হলে তীব্র গ্র্যাভিটন উৎসের কাছেও প্রতি ১০ বছরে মাত্র একটি কণা পাওয়া যেতে পারে। কাজেই গ্র্যাভিটনের কাছে নিউট্রিনো দুগ্ধপোষ্য শিশু। ০০০একটি গ্র্যাভিটন কণা যদি আলাদা করে দেখা অসম্ভব হয়, তাহলে মহাকর্ষ আসলে কোয়ান্টাম পরিঘটনা কি না, তা বোঝা সম্ভব হবে কীভাবে? সে ক্ষেত্রে আরেকটি উপায় আছে। এমন কোনো ভৌত পরিস্থিতি অনুসন্ধান করা দেখা, যেখানে দুটি তত্ত্বের ভবিষ্যদ্বাণী মিলবে না। সেটি হতে পারে কৃষ্ণগহ্বরের ভেতরে অনুসন্ধান চালানো। অবশ্য সেটি খুব একটি বাস্তবসম্মত প্রস্তাব নয়। আপেক্ষিক তত্ত্বমতে, কৃষ্ণগহ্বরের কেন্দ্রে রয়েছে সিঙ্গুলারিটি বা পরম বিন্দু। এই বিন্দুতে পদার্থের ঘনত্ব এতই বেশি যে সেখানে মহাকর্ষ ক্ষেত্র অসীম। আক্ষরিক অর্থেই ব্যাপারটা মাথা ঘুরিয়ে দেওয়ার মতো। কারণ, এখানে স্থান-কাল এমনভাবে বিকৃত হয়ে যায় যে তা বোধগম্য হয় না। এ রকম পরম বিন্দুর অস্তিত্বের ব্যাপারে সাধারণ আপেক্ষিকতায় কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু কোয়ান্টাম মেকানিকসের বিরোধী। কোয়ান্টাম মেকানিকসের নীতি অনুসারে, কোনো একক বিন্দুতে (পরম বিন্দুর মতো) যেকোনো কিছুকে আলাদা করা অসম্ভব। কারণ, সেখানে সব সময় কিছু না কিছু অনিশ্চয়তা থেকে যায়। কাজেই এই পরিস্থিতিতে দুটি তত্ত্বের একটি অকার্যকর হয়ে যায়। যদি জানা যেত কৃষ্ণগহ্বরের ভেতরে আসলে কী ঘটে, তাহলে কোয়ান্টাম মেকানিকস এবং মহাকর্ষকে একত্রে জোট বাঁধার জন্য কিছু০০০তাহলে কোয়ান্টাম মেকানিকস এবং মহাকর্ষকে একত্রে জোট বাঁধার জন্য কিছু ক্লু হয়তো পাওয়া যেত। দুর্ভাগ্য হলেও সত্যি, সরেজমিনে কৃষ্ণগহ্বর পরিদর্শন করা কিংবা সেখানে গিয়ে সশরীর টিকে থাকা, পরীক্ষাটা সম্পন্ন করা, তারপর ফলাফলটা ঝুলিতে ভরে কৃষ্ণগহ্বরের অতি শক্তিশালী মহাকর্ষকে পাশ কাটিয়ে পৃথিবীতে ফিরে আসা এখন পর্যন্ত অসম্ভব। ০০০০তবে এসব ব্যবহার করে গ্র্যাভিটন আবিষ্কার করা না গেলেও কৃষ্ণগহ্বরের সংঘর্ষ থেকে অনেক কিছুই জানা যায়। কারণ, মৃত্যুচুম্বনের জন্য পরস্পরের দিকে সর্পিল গতিতে ধেয়ে আসা কৃষ্ণগহ্বরের সংঘর্ষ থেকে জন্ম হয় মহাকর্ষ তরঙ্গের। গ্র্যাভিটেশনাল ওয়েভ বা মহাকর্ষ তরঙ্গ হলো ত্বরণপ্রাপ্ত ভরের কারণে সৃষ্ট স্থানের ভেতর মৃদু ঢেউ। গোসলের সময় বাথটাবে বা কোনো শান্ত পুকুরের পানিতে হাত রাখলে, চারদিকে যেমন ছোট ছোট ঢেউ ছড়িয়ে পড়ে, স্থানের ভেতর দিয়ে মহাকর্ষ তরঙ্গও অনেকটা সেভাবে ছড়িয়ে পড়ে। অতিভারী বস্তুগুলো স্থানের ভেতর চলাচল করলেও ঠিক একই ঘটনা ঘটে। এই চলমান ভর খোদ স্থানকেও বাঁকিয়ে দিতে পারে। তা এমন এক উত্তেজনা বা বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি করে, যা তরঙ্গের মতো চারদিকে ছড়িয়ে পড়তে পারে। ০০০০মহাকর্ষ তরঙ্গ তার চলার পথে সামনে যা পায়, তাকেই সংকুচিত ও প্রসারিত করতে করতে এগিয়ে যায়। তাই মহাকর্ষ তরঙ্গের সামনে একটি বৃত্ত পরিণত হয় উপবৃত্তে, বর্গ পরিণত হয় আয়তক্ষেত্রে। কথাটা শুনতে মজার মনে হচ্ছে তাই না? এই বইটা পড়ার সময় কোনো মহাকর্ষ তরঙ্গ যদি আপনার দেহ ও বইটাকে ভেদ করে চলে যায়, তাহলে দুটির আকৃতিই বিকৃত হয়ে যাবে। কিন্তু আপনি তা ঘুণাক্ষরেও বুঝতে পারবেন না। একেবারে ভুতুড়ে ব্যাপার! আসলে মহাকর্ষ তরঙ্গস্থানকে বিকৃত করে ১০-২০ গুণ। এর মানে হলো আপনার কাছে যদি ১০২০ মিলিমিটার লম্বা একটি লাঠি থাকে, আর তার ভেতর দিয়ে মহাকর্ষ তরঙ্গ চলে যায়, তাহলে লাঠিটা ছোট হবে মাত্র এক মিলিমিটার। এই সংকোচন এতই ছোট যে তা শনাক্ত করা বেশ কঠিন। ০০০বিজ্ঞানীরা কম যান না। তাঁরা বেশ স্মার্ট, বুদ্ধিমান আর ধৈর্যশীলও বটে। তাই তাঁরা মহাকর্ষ তরঙ্গ শনাক্ত করার উপায়ও বের করেছেন। এমনই পরীক্ষা চালানো হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের লাইগোতে। লাইগোর পূর্ণ রূপ লেজার ইন্টারফেরোমিটার গ্র্যাভিটেশনাল ওয়েভ অবজারভেটরি। সেখানে চার কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের দুটি টানেল পরস্পরের সমকোণে স্থাপন করা হয়েছে। টানেলের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্ত পর্যন্ত দূরত্বের পরিবর্তন মাপার জন্য আছে একটি লেজার। মহাকর্ষ তরঙ্গ এর ভেতর দিয়ে চলে গেলে সেখানকার স্থান একদিকে প্রসারিত হয়, আবার অন্যদিকে সংকুচিত হয়। তার প্রভাব টানেলের লেজার রশ্মিতেও পড়বে। লেজার রশ্মির ব্যতিচার পরিমাপ করে পদার্থবিদেরা নিশ্চিত হন, কোনো মহাকর্ষ তরঙ্গ সেখানকার স্থানকে সংকুচিত ও প্রসারিত করেছে কি না। ০০০০যুক্তরাষ্ট্রের দুটি জায়গায় প্রায় ৬২০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার খরচে এ রকম দুটি টানেল স্থাপন করা হয়। ২০১৬ সালে সেখানে প্রথমবার মহাকর্ষ তরঙ্গ শনাক্ত করেন বিজ্ঞানীরা। প্রায় ১০০ বছর আগে এমন তরঙ্গের ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন আইনস্টাইন। তবে এখান থেকে মহাকর্ষ কীভাবে কাজ করে, সে ব্যাপারে কোনো কোয়ান্টাম চিত্র পাওয়া যায় না। কারণ, মহাকর্ষ তরঙ্গ আর মহাকর্ষ কণা বা গ্র্যাভিটন এক জিনিস নয়।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

Holy Romado-n 1445 Hijrah/2024 News

Article