AI উত্তর মিরাজুন্নবীর ঘটনাটি হলো মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর ঊর্ধ্বগমন ও মিক হাশূন্য পরিভ্রমণের এক মুজিযা

Gilbert’s 1600 book, 'De Magnete', revolutionized the understanding of magnetism. After extensive research, he proposed that Earth behaves like a giant bar magnet, explaining compass needle behavior and magnetic variations linked to geographical features. গিলবার্টের ১৬০০ সালের বই, 'ডি ম্যাগনেটে', চৌম্বকত্ব সম্পর্কে ধারণায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছিল। ব্যাপক গবেষণার পর, তিনি প্রস্তাব করেন যে পৃথিবী একটি বিশাল দণ্ড চুম্বকের মতো আচরণ করে, যা কম্পাসের সূঁচের আচরণ এবং ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যের সাথে যুক্ত চৌম্বকীয় তারতম্য ব্যাখ্যা করে। তিনি পবিত্র (আল্লাহ) যিনি তাঁর বান্দাকে (হজরত মুহাম্মদ সা.) ইসরা বা রাত্রিকালীন ভ্রমণ করিয়েছেন মসজিদে হারাম থেকে মসজিদে আকসা পর্যন্ত, যার আশপাশ আমি বরকতময় করেছি। যাতে আমি তাকে আমার لَقَدۡ رَاٰی مِنۡ اٰیٰتِ رَبِّهِ الۡکُبۡرٰی ‘নিশ্চয়ই সে তার প্রভুর সবচেয়ে বড় নিদর্শন দেখেছে’।(সুরা আন নজম আয়াত ১৮ )AI উত্তর মিরাজুন্নবীর ঘটনাটি হলো মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর ঊর্ধ্বগমন ও মিক হাশূন্য পরিভ্রমণের এক মুজিযা।নিদর্শনসমূহ দেখাতে পারি। নিশ্চয় তিনিই সর্বশ্রোতা ও সর্বদ্রষ্টা।’ (সুরা–১৭ ইসরা, আয়াত: ১)।মিরাজ বিষয়ে আল্লাহ বলেন- আধুনিক বিজ্ঞানের আলোকে এই এখন কথা হলো ঘটনাকে আপেক্ষিকতার তত্ত্ব, মহাজাগতিক গতি, এবং স্থান-কাল (Space-Time) পরিমাপের সাহায্যে বিশ্লেষণ করা যায়।মিরাজের বৈজ্ঞানিক ও তাত্ত্বিক দিকগুলো নিচে সংক্ষিপ্ত আকারে তুলে ধরা হলো:আলোর গতি ও আপেক্ষিকতা: আলবার্ট আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতার সূত্র অনুযায়ী, আলোর গতির (c) কাছাকাছি গতিতে ভ্রমণ করলে সময়ের গতি ধীর হয়ে যায়। মিরাজের রাতে মহানবী (সা.) ‘বোরাক’-এ চড়ে মুহূর্তের মধ্যে সপ্তাকাশ ও মহাশূন্যের অনেক দূর পরিভ্রমণ করেন। আধুনিক বিজ্ঞানও প্রমাণ করে যে স্থান ও কালকে অতিক্রম করা তাত্ত্বিকভাবে সম্ভব।মহাজাগতিক ভ্রমণ (Space Travel): মানুষের তৈরি নভোযান, যেমন: ভয়েজার-১ বা অ্যাপোলো মিশন মহাকাশে নির্দিষ্ট গতিতে ভ্রমণ করেছে। মিরাজের ঘটনাকে মহাজাগতিক পরিভ্রমণের চূড়ান্ত রূপ হিসেবে দেখা যায়।আইনস্টাইনের থিওরি অব রিলেটিভিটি: মিরাজে যাওয়ার ও ফিরে আসার এই বিশাল প্রক্রিয়ায় পার্থিব সময় খুব সামান্যই অতিবাহিত হয়েছিল। বৈজ্ঞানিকভাবে গতি বাড়লে সময়ের সংকোচন ঘটে, যা মিরাজের ঘটনায় সময়ের এই সংক্ষিপ্ততাকে ব্যাখ্যা করতে সাহায্য করে।আল্লাহ তায়ালা তার প্রিয় হাবিবকে শুধু মহাকাশ নয় বরং সাত আসমান পার করিয়ে সিদ্রাতুল মুনতাহার পর্যন্ত সফর করিয়েছেন। যা বিজ্ঞানীদের নিকট শুধু স্বপ্নই থেকে যাবে। আল্লাহ তায়ালা তার প্রিয় নবীকে আকাশের লক্ষ কোটি গ্যালাক্সি, ছায়াপথ, নিহারিকাপুঞ্জ, ধুমকেতু, ব্ল্যাক হোল ইত্যাদি পার করিয়ে উর্ধ্ব আকাশে সর্বশেষ স্থানে উপনিত করেছেন। বিজ্ঞানের জয় যাত্রার গোড়ার দিকে কোনো কোনো বৈজ্ঞানিক মেরাজের সত্যতা নিয়ে কতিপয় প্রশ্ন তুলে ধরেছেন। তারা বলেছেন, ১. Gravitational force বা মধ্যাকর্ষণ শক্তি ভেদ করে কোনো ব্যক্তির পক্ষে উপরে উঠা সম্ভব নয়। ২. জড় জগতের নিয়ম শৃঙ্খলায় আবদ্ধ স্থূলদেহী মানুষের পক্ষে আকাশের বায়ু শুন্যস্তর ভ্রমন করা অসম্ভব কেনো না মধ্যাকর্ষণ শক্তি স্থুলদেহ সম্পূর্ণ বস্তুকে নিচের দিকে আকর্ষণ করে থাকে। ৩. বায়ুস্তর পার হওয়ার পর অক্সিজেন থাকে না আর অক্সিজেন ব্যতীত মানুষের পক্ষে বেচেঁ থাকা সম্ভব নয়। সুতরাং কোনো মানুষের দ্বারা মিরাজ সংঘটিত হওয়া অসম্ভব। বিজ্ঞানীদের ধারণা সৃর্যের দৃরত্ব প্রথিবী থেকে ৯ কোটি ৩০ লাখ মাইল দুরে। সুর্যের চেয়ে কোটি কোটি বিলিয়ন মাইল দুরে রয়েছে অসংখ্য নক্ষত্র, যার আলো এখনো পৃথিবীতে এসে পৌঁছেনি যদিও বিজ্ঞানীদের মতে পৃথিবীর বয়স ১৫০০ কোটি বৎসর। অথচ রাসুল (সা.) এর মিরাজ হয়েছে, এ গ্রহ নক্ষত্র বিশিষ্ট আকাশম-লীর আরো অনেক পরে। সুতরাং এখানে স্থূল দেহের প্রতিবন্ধকতার প্রশ্ন তোলা নিরর্থক। কোনো কোনো বিজ্ঞানি বলেছেন মহাকাশের নক্ষত্রপুঞ্জের অগ্নি গোলকসমূহকে পাড়ি দেয়া কোনো মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়। সুতরাং মোহাম্মদ (সা.) এর মিরাজ কিভাবে সম্ভব? মানুষ একসময় মনে করতো পানিতে নামলে ভিজতে হবে এটাই স্বভাবিক, কিন্তু বিজ্ঞান ওয়াটার প্রুফ পোশাক আবিস্কার করে দেখিয়ে দিল যে ওয়াটার প্রুফ পোশাক পরিধান করে পানির মাধ্যে ডুব দিলেও ভিজতে হয় না। অনুরূপভাবে বিজ্ঞানের আর একটি আবিস্কার ফায়ার প্রুফ পোশাক, যা পরিধান করে আগুনের মাঝ দিয়ে চলা ফেরা করা যায়। আগুন কোনো ক্ষতি করতে পারে না। যদি দুনিয়ার সাধারণ একজন মানুষের পক্ষে ফায়ার প্রুফ পোশাক পরিধান করে আগুনের মাঝ দিয়ে চলা ফেরা করা সম্ভব হয় তাহলে রাসুল (সা.) এর মত মহাপ্রথম আকাশ আল্লাহ রাসুল (সা,) পবিত্র পাথরের গম্ভুজ থেকে আকাশের মধ্য দিয়ে আরোহণ করেছিলেন, যেখানে তিনি কেবল অনেক অলৌকিক দৃশ্য এবং অসংখ্য ফেরেশতাই দেখেননি, তিনি অতীতের নবীদের সাথেও সাক্ষাৎ করেছিলেন। যাত্রা পথের মাঝে, রাসুল (সাঃ)কে উত্তেজনা ও আনন্দের সাথে অভ্যর্থনা জানানো হয়েছিল, কারণ তাঁর আগমনটি অনেক প্রত্যাশিত ছিল। তাঁকে স্বাগত জানানো হয় এই শব্দে, ‘স্বাগত হে ধার্মিক নবী ও পরহেজগার ভাই!’ ( সহি বুখারি)। (আদম (আ.) এবং ইব্রাহীম (আ.) অবশ্য তাকে ‘ধার্মিক পুত্র’ হিসেবে স্বাগত জানিয়েছিলেন)। আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর প্রথম আসমানে আরোহন আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রথম আসমানে আরোহন করলেন (আকাশের প্রথম স্তর এবং পরিচিত মহাবিশ্বের শেষ)। এখানে কুরআনে বর্ণিত খোদা সৃষ্ট এই মহাবিশ্ব যার আকার ও বিস্তৃতি বিশাল তারকারাজী আর গ্যালাক্সি নিয়ে গঠিত, এবং জ্যোতিবির্জানীরা এখন পর্যন্ত এ মহাবিশ্বের যতটুকু দেখেছেন, জেনেছেন ও কল্পনা করেছেন তা এই প্রথম আসমানের নীচে থাকা তারকারাজী তথা গ্রহ ,নক্ষত্র ও গ্যালাক্সির মধ্যেই সীমাবদ্ধ। বিষয়গুলি এই পুস্তকের ২য় অধ্যায়ে সচিত্র আলোচনা করা হয়েছে । আল্লাহ কুরআনে বলেছেন আমি অকাশকে সুসুভিত করেছি উজ্জল তারকা রাজি দিয়ে এবং সেগুলিকে সুরক্ষিত করেছি যমিনের উপর আসমান স্থাপন করে । আল্লাহ বলেন, تَبٰرَکَ الَّذِیۡ جَعَلَ فِی السَّمَآءِ بُرُوۡجًا وَّ جَعَلَ فِیۡهَا سِرٰجًا وَّ قَمَرًا مُّنِیۡرًا কতই না কল্যাণময় তিনি যিনি আসমানে নক্ষত্ররাজির সমাবেশ ঘটিয়েছেন আর তাতে স্থাপন করেছেন প্রদীপ আর আলো বিকিরণকারী চন্দ্র(সুরা ফুরকান, আয়াত ৬১)। আকাশে ঊর্ধ্বগমনের পথ সম্পর্কে সুরা আম্বিয়ার ৩২ নম্বর আয়াতে আল্লাহ পাক বলেন, وَ جَعَلۡنَا السَّمَآءَ سَقۡفًا مَّحۡفُوۡظًا ۚۖ وَّ هُمۡ عَنۡ اٰیٰتِهَا مُعۡرِضُوۡنَ এবং আকাশকে করেছি সুরক্ষিত ছাদ। কিন্তু তারা আকাশস্থিত নিদর্শনাবলী হতে মুখ ফিরিয়ে নেয়( সুরা আম্বিয়া , আয়াত ১৭)। তিনি কুরআনে অন্য একটি আয়াতে বলেছেন, وَحَفِظْنَاهَا مِن كُلِّ شَيْطَانٍ رَّجِيمٍ অর্থাৎ, আমি আকাশকে প্রত্যেক বিতাড়িত শয়তান হতে সুরক্ষিত করেছি। ( সুরা হিজর, আয়াত ১৭)। সুরা আরাফের ৪০ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলেছেন, اِنَّ الَّذِیۡنَ کَذَّبُوۡا بِاٰیٰتِنَا وَ اسۡتَکۡبَرُوۡا عَنۡهَا لَا تُفَتَّحُ لَهُمۡ اَبۡوَابُ السَّمَآءِ وَ لَا یَدۡخُلُوۡنَ الۡجَنَّۃَ حَتّٰی یَلِجَ الۡجَمَلُ فِیۡ سَمِّ الۡخِیَاطِ ؕ وَ کَذٰلِکَ نَجۡزِی الۡمُجۡرِمِیۡنَ নিশ্চয় যারা আমার আয়াতসমূহকে অস্বীকার করেছে এবং তার ব্যাপারে অহঙ্কার করেছে, তাদের জন্য আসমানের দরজাসমূহ খোলা হবে না এবং তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে না, যতক্ষণ না উট সূঁচের ছিদ্রতে প্রবেশ করে। আর এভাবেই আমি অপরাধীদেরকে প্রতিফল দেই( সুরা আরাফ , আয়াত ৪০) আকাশমন্ডলী সৃজন করা নিয়ে আল্লাহ বলেন, فَقَضٰهُنَّ سَبۡعَ سَمٰوَاتٍ فِیۡ یَوۡمَیۡنِ وَ اَوۡحٰی فِیۡ کُلِّ سَمَآءٍ اَمۡرَهَا ؕ وَ زَیَّنَّا السَّمَآءَ الدُّنۡیَا بِمَصَابِیۡحَ ٭ۖ وَ حِفۡظًا ؕ ذٰلِکَ تَقۡدِیۡرُ الۡعَزِیۡزِ الۡعَلِیۡمِ অতঃপর তিনি আকাশমন্ডলীকে সাত আকাশে বিন্যস্ত করলেন দু’দিনে আর প্রত্যেক আকাশকে তার বিধি-ব্যবস্থা ওয়াহীর মাধ্যমে প্রদান করলেন। আমি আলোকমালার সাহায্যে দুনিয়ার আকাশের শোভাবর্ধন করলাম আর সুরক্ষারও ব্যবস্থা করলাম। এ হল মহা পরাক্রমশালী সর্বজ্ঞ আল্লাহর সুনির্ধারিত (ব্যবস্থাপনা) (সুরা ফুরসিলাত , আয়াত ১২ )। আসমানের বিবরণ, প্রথম আসমানে তথা আমাদেরকে যতটুকু তিনি জ্ঞাত করিয়েছেন এবং জ্যোতির্বিজ্ঞানীগন যতটুকু জানেন সেই আসমানের বিষয়বস্তু এবং নিরাপত্তার বিষয়ে কুরআনে উপরে বর্ণিত আয়াতসমুহে বলা কথামালার বাস্তবসম্মত প্রমান পাওয়া যায় মিরাজের আলোচনায় আসমানসমুহের নিরাপত্তা রক্ষী ও তাদেরকে আল্লাহর আদেশের কথা বলে আসমানের দরজা খুলে দেয়ার বিবরণগুলি হতে। যা এ লেখাটি পাঠে এগিয়ে গেলে দেখা যাবে। যেমনটি হাদিসের বর্ণনায় জানা যায় যখন জিব্রাইলল (আ,) তারপর (আকাশের দরজা) খুলে দিতে বললেন (এর একটি দরজায় ধাক্কা দিয়ে)। (সহিহ বুখারী ৩৪৯) বলা হলো, "আপনি কে?" তিনি বললেন, জিবরাইলল (আ,)। বলা হলো, "এবং তোমার সাথে কে আছে?" তিনি বললেন, "মুহাম্মদ [সা,]"। বলা হল, "তাকে কি পাঠানো হয়েছে?" তিনি বললেন, “নিশ্চয়ই তাকে পাঠানো হয়েছে”। এবং এটি (আকাশের দরজা) "আমাদের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছিল এবং সেখানে তিনি (নবী) আদম (আ.) এর দেখা পেলেন। অতঃপর রাসুল (সা.) স্বাগত জানালেন এবং তাঁর জন্য কল্যাণ প্রার্থনা করলেন"। ( সহিহ মুসলিম , ১ম পর্ব , হাদিস নম্বর ৩১৯)। অন্য বর্ণনায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, প্রিয় নবী (সাঃ) এর আগমনে ফেরেশতা দারোয়ানরা আনন্দিত হয়েছিল এবং ঘোষণা করেছিল, 'তাঁকে স্বাগতম! কী আশ্চর্যজনক আগমন ঘটেছে!' (মুসলিম, হাদিস নম্বর ৩১৯) এবং 'তিনি স্বাগত এই পরিবারের মধ্যে!' ( সহিহ বুখারী ৩৪৯ )। অন্যান্য বর্ণনায় আমরা নবী (সা,) এবং হযরত আদম (আ,) এর সাক্ষাতের আরও বিশদ বিবরণ পাই: ’ সেখানে আমরা দেখলাম একজন লোক বসে আছেন কিছু লোক তার ডানদিকে আর কিছু লোক তার বামে। যখন তিনি তার ডান দিকে তাকান, তিনি হাসতেন এবং যখন তিনি তার বাম দিকে তাকান তখন তিনি কাঁদতেন। অতঃপর তিনি বললেন, হে পূণ্যবান নবী ও সৎ পুত্রকে স্বাগতম! (অথবা অন্য বর্ণনায়, "স্বাগত তোমাকে পরিবারের মধ্যে, হে বৎস! কি আশ্চর্যজনক পুত্র তুমি!" ( সহিহ বুখারি ,ইংলিশ ভার্ষান , ১ম খন্ড হাদিস নম্বর ৩৪৯)। আমি জিবরাইল (আ,)-কে জিজ্ঞেস করলাম, তিনি কে? তিনি উত্তর দিলেন, “তিনি আদম [আ,] এবং তার ডান ও বাম দিকের লোকেরা তার বংশধরের আত্মা। তার ডানদিকে যারা জান্নাতী এবং যারা তার বাম দিকে তারা জাহান্নামী এবং যখন সে তার ডান দিকে তাকায় তখন সে হাসে এবং যখন সে তার বাম দিকে তাকায় তখন সে কাঁদে।" (সহিহ মুসলিম, ১ম খন্ড , হাদিস নম্বর ৩২৩) অতঃপর নবী (সা,) জিব্রাইল (আ.)-এর সাথে আকাশের ২য় স্তরে আরোহণ করতে থাকেন। আবার প্রবেশের অনুমতি চাওয়া হল এবং ফেরেশতা রক্ষীরা আনন্দিত হয়ে রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-কে স্বাগত জানাল। দ্বিতীয় আকাশে, নবী ঈসা (আ.) এবং ইয়াহিয়া (আ.)-এর সাথে সাক্ষাৎ করেন (সহিহ মুসলিম ১ম খন্ড হাদিস নম্বর ৩১৯ ) তৃতীয় আকাশে, নবী (সা,) হযরত ইউসুফ (আ,)এর সাথে সাক্ষাত করেছিলেন।(সহিহ মুসলিম ১ম খন্ড হাদিস নম্বর ৩১৯ ) চতুর্থ আকাশে, রাসুল (সা,) হযরত ইদ্রিস (আঃ)-এর সাথে সাক্ষাত করেছিলেন, তিনি নবী সাল্লালাহু আলাইহেস সাল্লামকে খোশ আমদেত জানিয়ে তাঁর জন্য মঙ্গল প্রার্থনা করেন (সহিহ মুসলিম ১ম খন্ড হাদিস নম্বর ৩১৯ ) । উল্লেখ্য ইদ্রিস (আ.) এ বিষয়ে কুরআনে প্রশংসা করা হয়েছে: وَّ رَفَعۡنٰهُ مَکَانًا عَلِیًّا 'আমরা তাকে একটি উচ্চ অবস্থানে উন্নীত করেছি'। ( সুরা মরিয়ম আয়াত ৫৭) পঞ্চম আকাশে তিনি হযরত হারুন (আ.)-এর সাথে সাক্ষাৎ করেন((সহিহ মুসলিম ১ম খন্ড হাদিস নম্বর ৩১৯ ) ষষ্ঠ আকাশে তিনি হযরত হারুনের ছোট ভাই হযরত মুসা (আ.)-এর সাথে সাক্ষাৎ করেন।(সহিহ মুসলিম ১ম খন্ড হাদিস নম্বর ৩১৯ ) উপরে বর্ণিত প্রতিটি স্তরে, এই নবীগণ আমাদের রাসুল (সাঃ) কে স্বাগত জানিয়েছেন এবং তাঁর জন্য কল্যাণ প্রার্থনা করেছেন এই বলে যে, ‘স্বাগত হে ধার্মিক নবী ও পরহেজগার ভাই!’ ( সহিহ বুখারি ১ম খন্ড হাদিস ৩৪৯) সপ্তম আকাশ সপ্তম আকাশে, নবী (সা,) তাঁর সর্বশ্রেষ্ঠ পূর্বপুরুষ হযরত ইব্রাহীম (আ.)-এর সাথে সাক্ষাৎ করেন, যিনি ‘আল-বাইত আল-মামুর’-এর দিকে পিঠে হেলান দিয়ে ছিলেন। আর এই মসজিদে প্রতিদিন সত্তর হাজার ফেরেশতা প্রবেশ করেন , আর কিয়ামত পর্যন্ত তাঁদের কেও দ্বিতীয়বার সে ঘরে ফিরে আসবেন না। (সহিহ মুসলিম ১ম খন্ড হাদিস নম্বর ৩১৯) মানবের পক্ষে আল্লাহ তায়ালার বিশেষ ব্যবস্থাপনায় মহাকাশ পাড়ি দেওয়া কি করে অসম্ভব হতে পারে?https://dailyvorerpata.com/details.php?id=58714সিদরাহ তিল-মুন্তাহা নবী (সাঃ) তাঁর যাত্রা চালিয়ে সিদরাতিল মুনতাহার নিকটে পৌঁছেছিলেন। عِنۡدَ سِدۡرَۃِ الۡمُنۡتَهٰی সিদরাতিল মুনতাহার নিকট (সুরা আন নাজম আয়াত ১৪) । অভিধানে ‘সিদরাহ' শব্দের অর্থ কুল বৃক্ষ। মুন্তাহা শব্দের অর্থ শেষপ্রান্ত। পৃথিবী থেকে যা কিছু নীত হয় তা ওখানে গিয়েই থেমে পড়ে অতপর তার অপরপারে যারা রয়েছেন তরা সেখান হতে তা গ্রহণ করে উপরে নিয়ে যান ( সহিহ বুখারী , তয় খন্ড , হাদিস নম্বর ৩৬০০ এর বিবরণীর ফুট নম্বর ৭৭, পৃষ্ঠা ৬২৭) মহানবী (স,) এই বিশাল বৃক্ষের বিস্তারিত বর্ণনা করেছেন! ‘[এর] পাতা ছিল হাতির কানের মতো এবং এর ফল বড় মাটির পাত্রের মতো’( সহিহ মুসলিম ১ম খন্ড নং ৩১৯] ‘অত:পর যখন তা আল্লাহর নির্দেশে আচ্ছাদিত হল, তখন এমন পরিবর্তন হল যে সৃষ্টির মধ্যে কেউই এর সৌন্দর্যের প্রশংসা করার ক্ষমতা রাখে না’। (সহিহ মুসলিম ১ম খন্ড হাদিস ৩১৯) তিনি আরও বলেছেন: 'অনেক রঙ এটিকে ঢেকে দিয়েছে যা আমি জানি না (অর্থাৎ এই গাছের রঙগুলি বর্ণনাতীত ছিল)'। [ সহিহ মুসলিম ১ম খন্ড হাদিস নং ৩১৯] সুবহানআল্লাহ, মহানবী (সা,) আল্লাহর পক্ষ থেকে সত্যিই এক আশ্চর্য নিদর্শন প্রত্যক্ষ করেছেন।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

Holy Romado-n 1445 Hijrah/2024 News

Article