চারপাশের প্রতিটি ঘটনায় একধরনের অদৃশ্য ছন্দ লুকিয়ে আছ

গবেষণা এবং আল কুরআন চিন্তা-ভাবনা-গবেষণার প্রতি উৎসাহিত করে মহান আল্লাহ তায়া'লা পবিত্র কুরআনে ফরমান: ٢٩- كِتَابٌ أَنزَلْنَاهُ إِلَيْكَ مُبَارَكٌ لِّيَدَّبَّرُوا آيَاتِهِ وَلِيَتَذَكَّرَ أُولُو الْأَلْبَابِ ◯ “আমি আপনার নিকট বরকতময় কিতাব (আল কুরআন) নাযিল করেছি, যাতে করে তার আয়াতসমূহ নিয়ে তারা গবেষণা করে।” (সূরাহ ছ-দ: ২৯) ٨٢- أَفَلَا يَتَدَبَّرُونَ الْقُرْآنَ ۚ وَلَوْ كَانَ مِنْ عِندِ غَيْرِ اللَّـهِ لَوَجَدُوا فِيهِ اخْتِلَافًا كَثِيرًا “তারা কি কুরআন সম্পর্কে চিন্তা-ভাবনা করে না? উহা যদি আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো নিকট হতে আসত তবে তারা তাতে অনেক মতপার্থক্য পেত।” (নিসা- ৮২) আল কোরআন নিয়ে চিন্তা-গবেষণার গুরুত্ব ٢٤- أَفَلَا يَتَدَبَّرُونَ الْقُرْآنَ أَمْ عَلَىٰ قُلُوبٍ أَقْفَالُهَا ◯ তারা কি কুরআন নিয়ে গবেষণা করে না? নাকি তাদের অন্তরে তালা মেরে দেয়া হয়েছে?” (সূরা মুহাম্মাদ- ২৪) তারা কি ভূপৃষ্ঠে ভ্রমণ করে না, যাতে তারা জ্ঞান-বুদ্ধিসম্পন্ন হৃদয় ও শ্রুতিসম্পন্ন শ্রবণের অধিকারী হতে পারে! বস্তুত চক্ষু তো অন্ধ নয়, বরং অন্ধ হচ্ছে তাদের হৃদয়।’ (সূরা হজ : ৪৬) তবে কি তারা লক্ষ্য করে না উটের প্রতি, কীভাবে তা সৃষ্টি করা হয়েছে এবং আকাশের প্রতি, কীভাবে তাকে উঁচু করা হয়েছে এবং পাহাড়সমূহের প্রতি, কীভাবে তাকে প্রথিত করা হয়েছে এবং ভূমির প্রতি, কীভাবে তা বিছানো হয়েছে’। (সূরা গাশিয়া ১৭-২০) নিশ্চয়ই মহাকাশ ও পৃথিবী সৃষ্টিতে এবং দিবা-রাত্রির আবর্তনের মধ্যে বোধসম্পন্ন লোকদের জন্য নিদর্শন রয়েছে। যারা দাঁড়িয়ে, বসে ও শায়িত অবস্থায় আল্লাহকে স্মরণ করে এবং মহাকাশ ও পৃথিবীর সৃষ্টির বিষয়ে চিন্তা-গবেষণা করে এবং বলে, হে আমাদের প্রতিপালক! এ সবকিছু তুমি অনর্থক সৃষ্টি করনি। সব পবিত্রতা একমাত্র তোমারই। আমাদের তুমি দোজখের শাস্তি হতে বাঁচাও। (সূরা আল-ইমরান ১৯০-৯১) Article content আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘হে নবী! বলে দাও, আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে, তার প্রতি দৃষ্টি নিবদ্ধ করো।’ (সূরা ইউনুস, আয়াত ১০১) প্রকৃতি নিয়ে , সৃষ্টিতত্ত্ব নিয়ে, মহাজাগতিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে ভেবে না দেখাকে আল্লাহ তায়ালা তিরস্কার করেছেন। কোরআনের ঘোষণা- 'তারা কি নিজেদের অঅন্তরে ভেবে দেখে না, আল্লাহ আসমান ও জমিন এবং এ দুয়ের মধ্যবর্তী সবকিছুই যথাযথভাবে ও নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সৃষ্টি করেছেন। (সূরা রুম, আয়াত ৮)[ তাফসিরে মা'আরেফুল কোরআন ও ইবনে কাছির অবলম্বনে] كِتَابٌ أَنْزَلْنَاهُ إِلَيْكَ مُبَارَكٌ لِيَدَّبَّرُوا آيَاتِهِ وَلِيَتَذَكَّرَ أُولُو الْأَلْبَابِ- “ এটি এক কল্যাণময় কিতাব, যা আমরা তোমার প্রতি নাযিল করেছি। যাতে তারা এর আয়াতসমূহ অনুধাবন করে এবং জ্ঞানীরা উপদেশ গ্রহণ করে” (ছোয়াদ ৩৮/২৯)। Article content ভূমিকাঃ বলা হয়ে থাকেঃ বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রা সেদিন থেকে শুরু-যেদিন মানব মনে সত্যকে জানার আগ্রহ জন্মেছিল। মানব জীবনের আদি কালের জাগ্রত সেই সত্য জানার আগ্রহের কারণে সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ থেকে পর্যায়ক্রমে ভাবুক,চিন্তাশীল কবি, সাহিত্যিক, বুদ্ধিজীবী, লেখক, দার্শনিক, বিজ্ঞানী সম্প্রদায়ের উদ্ভব ঘটে। শুরুতে মানুষ জানতে পাঠ্য করেছিল প্রকৃতিকে শুরুতেই মানব মন বিশ্ব প্রকৃতিকে পাঠ্য (টেকস্ট বুক) করেছিল প্রকৃতির পরতে পরতে অন্তর্নিহিত সত্যকে জানতে । উল্লেখ্য, প্রাচীন গ্রীসের প্রখ্যাত দার্শনিক ডেমোক্রিটাস মহাবিশ্বের মহাসত্য খুঁজতে গিয়ে বস্তু-পদার্থের মধ্যে অ্যাটম আবিস্কার করেছিলেন। বস্তুতঃ সেদিন থেকে ফিজিক্স (প্রকৃতি বিজ্ঞান) আর পদার্থ বিজ্ঞান (ম্যাটেরিয়াল সায়েন্স) সমার্থক হয়ে পড়ে বস্তুু-পদার্থ কি দিয়ে তৈরি-তা জানতে বস্তুুকে ভাঙতে ভাঙতে চূর্ণ-বিচূড়া গুড়া গুড়া করতে করতে একসময় হয়রান পেরেশান হয়ে ডেমোক্রিটা বলে উঠেছিলেনঃ আর ভাঙা যাবে না-(এই বাক্যটিই গ্রীক এক শব্দে দাঁড়ায়ঃ অ্যাটম)। ফলশ্রুতিতে আরেক গ্রীক দার্শনিক অ্যারিস্টটলও মহাবিশ্বের সত্য খুঁজে পান চতুর্মাত্রিক বস্তুমূল যথা ১) আব ২) আতশ ৩) খাক ৪) বাত অর্থাৎ পানি-আগুন-মাটি-বাতাসে। অতঃপর মধ্যযুগের আরব মুসলিম বিজ্ঞানী জাবির ইবনে হাইয়ান মহাবিশ্বের সত্য খুঁজে পান দ্বিমাত্রিক বস্তুমূলঃ ১) পারদ এবং ২) সালফারে- যা থেকে আধুনিক পর্যায় সারণীর উদ্ভব ঘটে। জাবেরীয় যুগ পেরিয়ে বিশ্ব উপনীত হয় রাদারফোর্ডীয় বস্তু জগতে। এতে অ্যাটম উন্নীত হয় নিউক্লিয়াসে। নিউক্লিয়াসে পাওয়া যায় নিউট্রন আর প্রোটন তৎসহ ইলেকট্রন। সর্বশেষ মারে গেলমানীয় বিশ্ব উপনীত হয় কোয়ার্কীয় বস্তুুজগতে। কোয়ার্কই হচ্ছে পদার্থ বিজ্ঞানের আপাততঃ শেষ কথা। যার সূক্ষ্ণতা বা ক্ষুদ্রতা হচ্ছে মাত্র ১০-১৬ সেন্টিমিটার। উল্লেখ্য, কোয়ার্ক থেকে নিউট্রন-প্রোটনের উদ্ভব। নিউক্লিয়াসের অবস্থান পরমাণুর কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত অতি ক্ষুদ্র ও ঘন অংশ হলো নিউক্লিয়াস। পরমাণুর প্রায় সম্পূর্ণ ভর এই কেন্দ্রেই পুঞ্জীভূত থাকে এবং এখানেই প্রোটন ও নিউট্রন আবদ্ধ থাকে। প্রোটন ও নিউট্রন কি দিয়ে তৈরি?প্রোটন ও নিউট্রন মূলত কোয়ার্ক (Quarks) নামক অতি ক্ষুদ্র মৌলিক কণা দ্বারা গঠিত। এরা নিজে একে অপরের সাথে যুক্ত হয়ে পরমাণুর কেন্দ্র বা নিউক্লিয়াস তৈরি করে।প্রোটনের গঠন: প্রতিটি প্রোটন ২টি আপ কোয়ার্ক এবং ১টি ডাউন কোয়ার্ক দ্বারা গঠিত। নিউট্রনের গঠন: প্রতিটি নিউট্রন ১টি আপ কোয়ার্ক এবং ২টি ডাউন কোয়ার্ক দ্বারা গঠিত। আবদ্ধকারী কণা: এই কোয়ার্কগুলোকে একসাথে বেঁধে রাখার কাজটি করে গ্লুয়ন (Gluons) নামক এক ধরণের কণা। কোয়ার্ক কি দিয়ে তৈরি? Highest Energetic Radiation নামক মহাআলোক গোলকটি মহাবিস্ফোরণ (Big Bang) এর পূর্বে (১) আলো (২) শক্তি ও (৩) তাপ-এই ত্রিমাত্রিক অবস্থায় বিরাজমান ছিল । এই সময় তাপমাত্রার পরিমাণ ছিল ১০৩২ ডিগ্রি কেলভিন অর্থাৎ ১০,০০০ কোটি, কোটি, কোটি, কোটি ডিগ্রি কেলভিন। মহাবিস্ফোরণ (big bang) ঘটার পরবর্তী মুহুর্তের অবস্থা বৈজ্ঞানিক ভাষ্যমতে Highest Energetic Radiation-এ মহাবিস্ফোরণ (big bang) ঘটার পর মুহুর্তে তাপমাত্রা 1030k থেকে দ্রুত ১০২৮ তে নেমে আসে তখন (highest energetic photon) কণিকারা নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটিয়ে পদার্থ কণিকা হিসেবে প্রথম বারের মত ‘কোয়ার্ক’ এবং এন্টি কোয়ার্ক এর জন্ম দেয়। অতঃপর তাপমাত্রা যখন আরো নিচে নেমে ১০১৩ কেলভিনে দাঁড়ায় তখন কোয়ার্ক এবং এন্টি কোয়ার্কের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটে।এতে উভয় এর ব্যাপক ধ্বংস সাধনঘটে এবং অবশিষ্ট থেকে যায় কিছু কোয়ার্ক। এরপর যখন তাপমাত্রা আরো কমে গিয়ে ১০১০ কেলভিন-এ দাঁড়ায় তখন ৩টি কোয়ার্ক (১টি আপ কোয়ার্ক এবং ২টি ডাউন কোয়ার্ক) মিলিত হয়ে প্রোটন কণিকা (Proton)জন্ম দেয়। পদার্থের গঠন ও কণার প্রকৃতি সম্পর্কে পদার্থবিজ্ঞানের বর্তমান তত্ত্ব অনুযায়ী, কোয়ার্ক (Quark) অন্য কোনো কণা দিয়ে গঠিত নয়। এগুলো হলো মহাবিশ্বের মৌলিক কণা (elementary particles)। পরমাণুর নিউক্লিয়াসে প্রথম হালকা কোয়ার্ক আবিষ্কৃত হয়েছিল ১৯৬৯ সালে। আবার এই কণাদের ভরের ভিত্তিতে তাদেরকে তিনটি আলাদা প্রজন্মেও ভাগ করা হয়। যেমন আপ ও ডাউন হলো প্রথম প্রজন্মের কোয়ার্ক। চার্ম ও স্ট্রেঞ্জ কোয়ার্ক দ্বিতীয় প্রজন্মের এবং টপ ও বটম তৃতীয় প্রজন্মের কোয়ার্ক। বৈদ্যুতিক চার্জ ছাড়াও প্রতিটি কোয়ার্কের আরেক ধরনের চার্জও থাকে। বৈদ্যুতিক চার্জ থেকে আলাদা করতে একে বলা হয় কালার চার্জ। কালার চার্জ অনুযায়ী, ছয়টি কোয়ার্কের প্রতিটিই তিনটি আলাদা রঙের হতে পারে। সেগুলো হলো: লাল, নীল ও সবুজ। মানে প্রকৃতির মৌলিক তিনটি রঙের। সহজভাবে বললে, আপ কোয়ার্ক তিনটি রঙে পাওয়া যায়। ডাউনসহ অন্যান্য কোয়ার্কও তাই। কাজেই কালার চার্জের হিসেব করলে কোয়ার্ক আসলে ছয় ধরনের নয়, ১৮ ধরনের। প্রশ্ন হচ্ছে কোয়ার্ক কি দিয়ে তৈরি? প্রশ্নটি অর্থবহ। ওয়ার্ল্ড সায়েন্স-টেক রিসার্চ সেন্টার মনে করে এ প্রশ্নের উত্তরের গভীরতায় রয়েছে একাধারে ১) নিউটন কথিত অদৃশ্য দড়ি তথা কোয়ান্টাম গ্র্যাভিটন এবং স্ট্রিং থিওরির সম্ভাবনা যা পরবর্তীতে শীঘ্রই বিস্তারিত ব্যাখ্যা করা হবে ইনশাআল্লাহ । ইলেকট্রন কি দিয়ে তৈরি? ইলেকট্রন কত প্রকার ও কি কি? ইলেকট্রন উচ্চ শক্তিস্তর হতে উদ্ভূত হয়ে নিউক্লিয়াসের চারদিকে নির্দিষ্ট কক্ষপথগুলোতে অবস্থান করে এবং সেই নির্দিষ্ট কক্ষপথে ইলেকট্রনগুলো নিউক্লিয়াসকে কেন্দ্র করে ঘুরতে থাকে। এসময় ইলেকট্রনগুলো নিজ অক্ষের চারদিকেও ঘুরে।ইলেকট্রনকে বলা হয় স্থিতিশীল এবং মৌলিক কণা। কারণ প্রোটন বা নিউট্রনের মতো একে আরও ক্ষুদ্র কোনো কণায় ভাঙা যায় না। আবার এখন পর্যন্ত এদের ক্ষয় হওয়ার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।https://www.bigganchinta.com/physics ইলেকট্রন মূলত কণা হিসেবে একই রকম হলেও, পরমাণুতে তাদের অবস্থান ও কাজের ওপর ভিত্তি করে এদের প্রধানত দুই ভাগে ভাগ করা যায়: ১. যোজ্যতা ইলেকট্রন (Valence Electrons): পরমাণুর একদম বাইরের কক্ষপথে বা শেলে যে ইলেকট্রনগুলো অবস্থান করে। এগুলোই অন্য পরমাণুর সাথে রাসায়নিক বন্ধন গঠনে এবং বিদ্যুৎ পরিবহনে অংশ নেয়। ২. কেন্দ্রস্থ ইলেকট্রন (Core / Bound Electrons): বাইরের কক্ষপথের ভেতরের কক্ষগুলোতে অবস্থানরত ইলেকট্রন। এগুলো পরমাণুর কেন্দ্রের সাথে খুব শক্তভাবে আবদ্ধ থাকে এবং রাসায়নিক বিক্রিয়ায় সাধারণত অংশগ্রহণ করে না। এছাড়া মুক্তভাবে বিচরণের ওপর ভিত্তি করে ইলেকট্রন ২ প্রকার: মুক্ত ইলেকট্রন (Free Electrons): যে ইলেকট্রনগুলো কোনো নির্দিষ্ট পরমাণুর সাথে আবদ্ধ না থেকে যেকোনো পরিবাহীর ভেতর স্বাধীনভাবে চলাচল করতে পারে। আবদ্ধ ইলেকট্রন (Bound Electrons): যে ইলেকট্রনগুলো পরমাণুর নিউক্লিয়াসের সাথে নির্দিষ্ট কক্ষপথে দৃঢ়ভাবে আবদ্ধ থাকে। পরমাণুতে কোয়ার্ক কিভাবে অবস্থান করে? পরমাণুতে কোয়ার্ক কিভাবে অবস্থান করে? পরমাণুর কোয়ার্ক কোনো পৃথক পদার্থের অবস্থা (State) হিসেবে নয়, বরং প্রোটন ও নিউট্রনের ভেতরের 'মৌলিক কণা' (Fundamental particle) হিসেবে আবদ্ধ অবস্থায় থাকে। এগুলো কখনো প্রকৃতিতে মুক্ত অবস্থায় পাওয়া যায় না; সর্বদা শক্তিশালী বলের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে হ্যাড্রন তৈরি করে। ইলেক্ট্রন হল প্রাথমিক কণা এবং কোন ছোট কণা দিয়ে তৈরি নয়। কণা পদার্থবিজ্ঞানের স্ট্যান্ডার্ড মডেল অনুসারে, ইলেক্ট্রনগুলিকে বিন্দু কণা বলে মনে করা হয়, যার অর্থ তাদের কোন আকার বা গঠন নেই। এগুলিকে লেপটন হিসাবে শ্রেণীবদ্ধ করা হয়, যা এক ধরণের প্রাথমিক কণা যা শক্তিশালী পারমাণবিক শক্তির সাথে যোগাযোগ করে না। ইলেকট্রনগুলির একটি ঋণাত্মক বৈদ্যুতিক চার্জ থাকে এবং তারা পারমাণবিক নিউক্লিয়াসের বাইরে অরবিটাল নামক অঞ্চলে পাওয়া যায়। ইলেকট্রনিক্স, কম্পিউটিং এবং টেলিযোগাযোগ সহ আধুনিক প্রযুক্তির অনেক দিকগুলির জন্য এগুলি অপরিহার্য। বলা হয়ে থাকে, মহাবিশ্ব যদি দালান (বিল্ডিং) হয় তাহলে তার ইট হচ্ছে কোয়ার্ক আর সিমেন্ট হচ্ছে বলকারক হিগস বোসন কণা। প্রখ্যাত মার্কিন জ্যোতি-পদার্থ বিজ্ঞানী কার্ল সাগানের মতে, পৃথিবীকে অর্থবহ করতে সাহসী প্রশ্ন আর তার উত্তরের গভীরতা দরকার (বিজ্ঞানচিন্তা)। অন্যদিকে পদার্থ বিজ্ঞানীদের মতে, এমন প্রশ্ন করা যাবে না-যার উত্তর এ জগতে নেই। পক্ষান্তরে ওয়ার্ল্ড ইসলামিক সায়েন্স-টেক রিসার্চ সেন্টার মনে করে, অর্থবহ পৃথিবীর জন্য অর্থবহ প্রশ্ন যেমন জরুরী তেমনি অর্থবহ পৃথিবীর জন্য অর্থহীন প্রশ্ন পরিহার্য। এমতাবস্থায়, অর্থবহ প্রশ্ন হতে পারেঃ কোয়ার্ক এবং হিগস বোসন কণা কি দিয়ে তৈরি। রিসার্চ সেন্টার মনে করে এই প্রশ্নের উত্তরে নিহিত থাকতে পারে পদার্থ বিজ্ঞানীদের বহুল আলোচিত এবং দীর্ঘ প্রত্যাশিত স্বপ্নিল গ্র্যান্ড ইউনিফিকেশন থিওরি তথা থিওরি অব ইভরিথিং। উপরোক্ত ইলেকট্রন এবং কোয়ার্কের বিশ্লেষণে এটা সুস্পষ্ট প্রতীয়মান হয় যে, মহাবিশ্বের বস্তুগত অবকাঠামোতে এমন দুটি মৌলিক কণা রয়েছে যা এখনও পর্যন্ত অবিভাজ্য। কণা দুইটি হচ্ছে ১) ইলেকট্রন এবং ২) কোয়ার্ক। ওয়ার্ল্ড সায়েন্স-টেক রিসার্চ সেন্টার মনে করে কার্ল সাগান উক্ত অর্থবহ পৃথিবীর জন্য সাহসী প্রশ্ন এবং তার উত্তরের গভীরতা দরকার-এই মন্তব্যটি প্রণিধানযোগ্য। উক্ত মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে অর্থবহ প্রশ্ন হতে পারে, ইলেকট্রন এবং কোয়ার্ক কি দিয়ে তৈরি? ওয়ার্ল্ড সায়েন্স-টেক রিসার্চ সেন্টার আরও মনে করে যে, প্রশ্নটির উত্তরের গভীরতা স্ট্রিং থিওরিতে নিহিত থাকতে পারে। ভরহীন কিছু কণার অস্তিত্ব থাকতে হবে, যা কখনো স্থির থাকতে পারবে না। এ রকম চরিত্রের একটা কণা হলো ফোটন। এরও ভর নেই। কখনো স্থির থাকে না। কিন্তু গাণিতিক হিসাব কষে আরেকটা এ রকম কণা পেলেন বিজ্ঞানীরা। কিন্তু তেমন ভরহীন কণার অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া গেল না। তাহলে ঘটনা কী? হিসাব মেলে না। ঠিক এ সময়ই বড় একটা পদক্ষেপ নিলেন জোয়েল শার্ক এবং জন শোয়ার্জ। একটা হাইপোথেটিক্যাল কণার অস্তিত্বের কথা কল্পনা করলেন দুই বিজ্ঞানী। কাল্পনিক সেই কণার নাম গ্র্যাভিটন; অর্থাৎ মহাকর্ষ কণা। স্ট্রিং থিওরি মতে, একটা বস্তু আরেকটাকে আকর্ষণ করে এই কণাদের আন্তবিনিময়ে। এভাবে স্ট্রিং থিওরির বড় একটা সমস্যার সমাধান হলো। একই সঙ্গে সম্ভব হলো মহাকর্ষ বলের সঙ্গে প্রকৃতির অন্য বলগুলোকে একীভূত করার কাজটা। স্ট্রিং থিওরিকে থিওরি অব এভরিথিং বলার এটাও অন্যতম এক কারণ।কম্পনই মহাবিশ্ব সৃষ্টির মূল কথা। এই কম্পনের মাত্রার উপর নির্ভর করে কোন্ বস্তু কিরূপ হবে। স্ট্রিং বা সুতার বিভিন্ন মাত্রার ঘূর্ণয়নের ফলে কম্পনের মাত্রা বিভিন্ন প্রকারের হয়ে থাকে। যেমন ইলেকট্রনের জন্য তন্তুর (স্ট্রিং) কম্পন মাত্রা এক রকম। কোয়ার্কের জন্য তন্তুর কম্পনমাত্রা আবার আরেক রকম। অন্য ১৪টি কণার জন্য তন্তুর আলাদা মাত্রার কম্পন নির্দিষ্ট আছে। তন্তুর কম্পনের মাত্রাই ঠিক করে দেয়, তা থেকে সৃষ্ট কণার ভর, চার্জ, স্পিন কেমন হবে তন্তুর কম্পনের মাত্রাই ঠিক করে দেয়, তা থেকে সৃষ্ট কণার ভর, চার্জ, স্পিন কেমন হবে। এই বৈশিষ্ট্যগুলোই এক ধরণের কণা থেকে আরেক ধরণের কণার মধ্যে পার্থক্য তৈরি করে। এসব বিচিত্র কণা দিয়েই গড়ে উঠেছে আমাদের মহাবিশ্ব। এই মহাবিশ্ব তাই সুতায় বোনা মহাবিশ্ব (বিজ্ঞানচিন্তা বর্ষঃ ৬ সংখ্যাঃ ০১, অক্টোবর, ২০২১, পৃষ্ঠাঃ ৫৪)। স্ট্রিং কাঁপে কেমন করে? মহাজাগতিক তারগুলো (Cosmic strings) লম্বায় লক্ষ লক্ষ আলােকবর্ষ কিংবা তার চেয়েও বেশি লম্বা। কিন্তু ব্যাস এত সূক্ষ্ম যে কল্পনা করাও বেশ দুরূহ ব্যাপার। গাণিতিকভাবে প্রকাশ করলে দাঁড়ায় ১০-৩৩ cm প্রায়। অর্থাৎ ১ সে.মি. দৈর্ঘ্যকে ১০০ কোটি, কোটি, কোটি কোটি দিয়ে ভাগ করলে যা হবে তার সমান মাত্র। এদের আকৃতি কোথাও কুণ্ডলীর মতো, কোথাও আংটির মতো, কোথাও সর্পিল আবার কোথাও দেখতে কটিবন্ধের মতো । Cosmic strings-এর পদার্থ ভর অকল্পনীয়, বিরাট ও বিশাল, মাত্র কয়েক কিলোমিটার তারের ভর সমগ্র পৃথিবীর ভরের চাইতেও কয়েক গুণ বেশি। এ তারগুলো খুবই শক্তিশালী এবং এদের ঘনত্ব 'ব্ল্যাক হোলের ঘনত্বের চেয়েও বেশি। ১৯৮৫ সালে বিজ্ঞানীগণ তথ্য দেন যে মহাজাগতিক তারগুলোর (Cosmic strings) ঘনত্ব হলো- 1021gm/c.c, যা কল্পনা করতেও কষ্ট হয়। প্রশ্ন হচ্ছেঃ বস্তুকণার উৎসমূল যদি হয় কম্পনের মাত্রার রকম ফের তাহলে স্ট্রিং কাঁপে কেন?? কণা পদার্থ বিজ্ঞানমতে, কণা মাত্রই কম্পমান। আইনস্টাইনের তত্ত্বমতে, প্রতিটি কণা বিন্দুর ন্যায় আর বিন্দুটির আয়ুস্কাল শেষ হওয়ার সময় হলে চুপসে যেতে যেতে এক পর্যায়ে পরম বিন্দুতে এসে থেমে যায় যাকে সিঙ্গুলারিটি বলা হয়। পক্ষান্তরে স্ট্রিং থিওরিমতে, পরম বিন্দু সিঙ্গুলারিটি কণা ডিটেক্টরে কণার মতই দেখালেও তরঙ্গ ডিরেক্টরে তা দেখাবে তরঙ্গ আকারে। অন্যদিকে ১০-৩৩ সেন্টিমিটার আয়তন বিশিষ্ট বস্তুুকণার প্রকৃত স্বরূপ দেখতে হবে প্রয়োজন হবে সুপার ডিজিটাল মাইক্রোস্কোপের যা এখনও অসম্ভব ব্যাপার। কারণ এই মুহুর্তে বিজ্ঞানীদের হাতে রয়েছে ১০-১৭ সেন্টিমিটার সূক্ষ্ণদর্শী ডিজিটাল মাইক্রোস্কোপ যদ্বারা ১০-১৬ সেন্টিমিটার আয়তন বিশিষ্ট কোয়ার্ক দেখা সম্ভবপর হয়েছে। স্ট্রিং থিওরির স্থপতি গ্যাব্রিয়েল ভেনেজিয়ান সবল নিউক্লীয় বলগুলো নিয়ে কাজ করতে গিয়ে অয়লারের কম্পমান বেটা ফাংশনের সঙ্গে কণার সুতা বা তন্তুর (স্ট্রিংয়ের) সম্পর্ক পেয়েছিলেন। বেটা ফাংশন যেহেতু সুতাজাতীয় বস্তুর কম্পন ও গতীয় বৈশিষ্ট্যের ব্যাখ্যা দিতে পারে, তাই নিউক্লিয়াসের ভেতরে নিউট্রন আর প্রোটন যে নিউক্লীয় বল দ্বারা যুক্ত থাকে, সেই সবল নিউক্লীয় বলের সঙ্গে নিশ্চয়ই কণার সুতা বা তন্তুর (স্ট্রিংয়ের) কোন সম্পর্ক আছে বলে বিজ্ঞানীরা মনে করেন যা নিউটনীয় ক্ল্যাসিকাল বল বিজ্ঞান এবং ম্যাক্স প্ল্যাংকীয় কোয়ান্টাম মেকানিক্সের সাথে সেতুবন্ধ রচনা করে। এই সম্পর্কটাই খুঁজছিলেন কণা পদার্থবিদরা বিশেষ করে গ্যাব্রিয়েল ভেনেজিয়ান এবং এই তন্তু তত্ত্বের (স্ট্রিংয়ের) সাহায্যে গ্যাব্রিয়েলসবল নিউক্লীয় বলের ব্যাখ্যা দেয়ার চেষ্টা করেন এবং এতে প্রমাণ পান যে, নিউট্রন ও প্রোটনগুলো পরস্পরের মধ্যে মেসন নামের বলবাহী কণা বিনিময় করে যেরূপ শক্তভাবে জোড়া লেগে থাকে তার পেছনে কাজ করে সবল নিউক্লীয় বল। মেসন এখানে বলবাহী কণা হিসেবে কাজ করে। কিন্তু নিউট্রন ও প্রোটনের মধ্যে থাকা কোয়ার্কগুলো পরস্পরের সঙ্গে কিভাবে যুক্ত থাকে? এর সমাধানে এগিয়ে আসেন পদার্থবিজ্ঞানী মারে গেল-মান। তিনি বলেনঃ কোয়ার্কগুলো পরস্পরের সাথে গ্লুয়ন কণা বিনিময় করে যার ফলে গ্লুয়নই হয়ে উঠে সবল নিউক্লীয় বলের মূল বাহক কণা। এতে জানা গেল যে, সবল নিউক্লিয় বলের বাহক কণা গ্লুয়ন দ্বারা নিউট্রন আর পজিট্রনের মতো পরস্পর ভ্যানিশ হওয়ার পরিবর্তে কোয়ার্ক অ্যান্টি কোয়ার্কশান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে থাকে। প্রশ্ন হচ্ছে, জড় বস্তুুরা যদি মেসন-গ্লুয়নের সাহায্যে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে থাকতে পারে তাহলে সৃষ্টির সেরা আশরাফুল মাখলুকাত কেন শান্তিপূর্ণ অবস্থানে থাকতে পারে না কেন? অবশ্য কেবল মানুষই নয় অধিকন্তু মহাকর্ষকেও দেখা যায় তিন বলের সাথে সহাবস্থান থেকে বিরত থাকতে। বিষয়টি কি আদৌ সত্য? যদি সত্য না হয় তাহলে স্ট্যান্ডার্ড মডেলে মহাকর্ষের স্থান বা স্বীকৃতি নাই কেন? প্রশ্ন বটে। মহাকর্ষের প্রতি প্রশস্তির যেমন শেষ নেই- এর প্রতি অপবাদেরও শেষ নেই। মহাকর্ষকেঅসামাজিক, অতি দূর্বল, নিঃসঙ্গ, ব্যাচেলার এমনকি ক্লিব লিঙ্গ ভাবতেও কারো কারো দ্বিধা নেই। ওয়ার্ল্ড সায়েন্স-টেক রিসার্চ সেন্টারের প্রশ্ন হাইয়েস্ট এনার্জেটিক রেডিয়েশনে যদি মহাকর্ষকেএকত্রে অপর ৩ বলের সাথে থাকতে পারে, এমনকি বিগ ব্যাংয়ের পরও কিছু কাল একত্রে থাকতে পারলেও এখন কেন পারছে না। এটা কি মহাকর্ষের খাসলতের কারণে নাকি আমাদের মীথ বা বদ্ধমূল ধারণার কারণে? এটাও প্রশ্ন বটে। রহস্যময় মহাকর্ষের সঠিক ব্যাখ্যা কী? এই বলটা দুর্বল কেন? কেন সেটি অন্য বলগুলোর মতো নয়? এর কারণ এমনও হতে পারে, মহাকর্ষ হয়তো বিশেষ কোনো বল। মহাকর্ষকে অন্য বলের মতো হতে হবে কিংবা একটিমাত্র তত্ত্ব দিয়েই সবকিছু ব্যাখ্যা করতে হবে, এমনটা না–ও হতে পারে। বড় দৃষ্টিভঙ্গির দিকে আমাদের মন খোলা রাখতে হবে। কারণ, মহাবিশ্বের মৌলিক কিছু সত্য সম্পর্কে আমরা এখনো অন্ধকারে রয়ে গেছি। বিভিন্ন ক্ষেত্রে আমরা এমন কিছু অনুমান করেছি, যা পরবর্তী সময়ে ভুল বলে প্রমাণিত হয়েছে। কিংবা নিদি৴ষ্ট বা বিশেষ কিছু শর্ত সাপেক্ষে তা সত্য। এমনও হতে পারে, আমাদের আগের জানা যেকোনো কিছুর চেয়ে মহাকর্ষ ভিন্ন কিছু। যার কথা আমরা আগে কখনো ভাবতে পারিনি। কিংবা কে জানে উল্টোটাও হয়তো সত্যি। মনে রাখতে হবে, আমাদের লক্ষ্য হলো মহাবিশ্বকে সঠিকভাবে বুঝতে পারা। তাই এটা আসলে কেমন, সে সম্পর্কে অনেক বেশি অনুমান করা বাদ দিতে হবে। কখনো যদি দেখা যায়, মহাকর্ষ বিশেষ কিছু এবং অন্যান্য মৌলিক বলের চেয়ে এটা একেবারেই আলাদা, সেটিই জোগান দিতে পারে মহাবিশ্বের বৃহৎ চিত্র সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ক্লু। এর মানে হয়তো মহাকর্ষ গভীর কিছু, যা মহাবিশ্বের নকশার মধ্যে গেঁথে আছে। মাঝেমধ্যে আমরা নিয়ম ছাড়াও ব্যতিক্রম থেকেও অনেক বেশি শিখতে পারি। এসব রহস্য ব্যাখ্যায় আমাদের কাছে বর্তমানে আইডিয়ারও কমতি নেই। মহাকর্ষের দুর্বলতা ব্যাখ্যার জন্য মাথা ঘুরিয়ে দেওয়ার মতো একটি আইডিয়া হলো অতিরিক্ত মাত্রার ধারণা। এ ধারণামতে, আমরা চার মাত্রা নয়, তার চেয়ে বেশি মাত্রার বিশ্বে বাস করি। কিছু পদার্থবিদ বলেন, মহাকর্ষ অন্য মাত্রাগুলোতে চলে যাওয়ার কারণে দুর্বল হয়ে গেছে। অতিরিক্ত মাত্রাগুলোকে আমলে নিলে মহাকর্ষ আসলে অন্য বলগুলোর মতোই শক্তিশালী। কিন্তু সেটিও ঠিকণা, বেঠিক তা প্রমাণ করার উপায়ও এখনো আমাদের জানা নেই। তাই মহাকর্ষ এখনো আমাদের কাছে বড় একটি রহস্য।................................................................................................................................................................... কোয়ার্ক এবং ইলেকট্রন কি দিয়ে অথবা কিভাবে সৃষ্টি? কণা পদার্থ বিজ্ঞানে মাত্র দুটি কণা রয়েছে যাদের পূর্বপুরুষ বা পূর্বসূরী বলতে আদৌ কেউ নেই বলে এই দুটি কণাকে মৌলিক কণা রূপে পদার্থ বিজ্ঞানে স্থান দেওয়া হয়েছে। কোয়ার্ক কিংবা ইলেকট্রন কি দিয়ে অথবা কিভাবে সৃষ্টি হয়ে থাকে এ ব্যাপারে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায় ২০১২ সালে সার্ণ কর্তৃক বিলিয়ন বিলিয়ন প্রোটন কণাকেনিজস্ব কণা চূর্ণকরণ সাইক্রেটন যন্ত্র লার্জ হ্যাড্রন কলাইডারে ৮ টেরা ভোল্ট শক্তি প্রয়োগে প্রায় আলোর গতিতে, পরস্পর মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটিয়ে সৌর কেন্দ্রের চাইতে অধিক উত্তাপ ঘটিয়ে সেকেন্ডে ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন কম্পন সৃষ্টি করে প্রথমবারের মতো কৃত্রিম অআদি ভরসম্পন্ন হিগস বোসন কণা গবেষণা প্রতিবেদন ২০১৮-২০২৬ঃ ওয়ার্ল্ড ইসলামিক সায়েন্স-টেক রিসার্চ সেন্টার (ওভারসীজ) মিশন-ভিশনঃ পদার্থ বিজ্ঞানে শত ভাগ সাফল্য অর্জন করে এই বিজ্ঞানের তিন সহস্রাব্দের বিজয় ঘন্টা বাজিয়ে উপসংহার (পরিসমাপ্তি) টেনে পুরাতন বিশ্বে নতুন বিজ্ঞান ফ্রন্টিয়ার সায়েন্সের অগ্রযাত্রা গবেষণা প্রতিবেদন ২০১৮-২০২৬ঃ ওয়ার্ল্ড ইসলামিক সায়েন্স-টেক রিসার্চ সেন্টার (ওভারসীজ) মিশন-ভিশনঃ পদার্থ বিজ্ঞানে শত ভাগ সাফল্য অর্জন করে এই বিজ্ঞানের তিন সহস্রাব্দের বিজয় ঘন্টা বাজিয়ে উপসংহার (পরিসমাপ্তি) টেনে পুরাতন বিশ্বে নতুন বিজ্ঞান ফ্রন্টিয়ার সায়েন্সের অগ্রযাত্রার সূচনা গবেষণার প্রতিপাদ্য বিষয়সমূহ গবেষণার ভিত্তিমূলঃ ১) আইনস্টাইনের বিশেষ আপেক্ষিকতা তত্ত্বের ভরশক্তি সমীকরণঃ E=mc². ২) নিউটনীয় ক্লাসিক্যাল বল বিজ্ঞানের প্রথম সূত্র, ৩) ম্যাক্স প্ল্যাংকীয় কোয়ান্টাম মেকানিক্স, ৪) হাইজেনবার্গের অনিশ্চয়তা তত্ত্ব গবেষণার প্রতিপাদ্য বিষয়সমূহ ১) মহাবিশ্বের সৃষ্টিতত্ত্ ২) স্ট্রিং থিওরি ৩) মহাকর্ষ কণা কোয়ান্টাম গ্র্যাভিটন, ৪) ডার্ক ম্যাটার-ডার্ক এনার্জি, ৫) সার্বিক একীভূতকরণ তত্ত্ব, ৬) সার্বিক পৃথকীকরণ তত্ত্ব, ৭) জ্ঞানের আলোকে শান্তির বৈজ্ঞানিক সূত্র উদ্ভাবন ৮) নতুন বিজ্ঞান ফ্রন্টিয়ার সায়েন্সের ধারণা প্রতিষ্ঠা এবং ৯) আলোর গতির স্ট্যান্ডার্ড মান নির্ধারণপূর্বক কসমোলজিক্যাল স্ট্যান্ডার্ড মডেল থিওরিসহ পদার্থ বিজ্ঞানের প্রতিষ্ঠিত সূত্রের সুরক্ষার উপায় উদ্ভাবন। প্রতিপাদ্য বিষয়ঃ ০১ মহাবিশ্বের সৃষ্টিতত্ত্ বিশ্ব এলো কোত্থেকে? মডার্ণ কসমোলজিক্যাল স্ট্যান্ডার্ড মডেল থিওরি কর্তৃক ১৯৬৪ সালে প্রাপ্ত মহাজাগতিক ব্যাক গ্রাউন্ড রেডিয়েশনের ধ্বংসাবশেষের কম্পিউটার সিমুলেশনের মাধ্যমে জানা যায় যে, হাইয়েস্ট এনার্জেটিক রেডিয়েশনে বিগ ব্যাং বা মহাবিস্ফোরণে সৃষ্ট মহাবিশ্ব সর্বপ্রথম দৃশ্যমান হয়েছিল বস্তুগত অবয়বে। বিগ ব্যাংয়ের পর মহাবিশ্ব প্রথমে ৪ মহাবলের মাধ্যমে আত্ম প্রকাশ করে। পরে ভরশুন্য ফোটন জাতীয় কণা এবং পরে ভরযুক্ত হিগস বোসন কণার মাধ্যমে এই বিশ্বের প্রকাশ ঘটেছিল আজ থেকে ১৩৭৫ কোটি বছর আগে। প্রতিপাদ্য বিষয়ঃ ০২ প্রকৃতিতে এতো এতো কণাঃ এসব কি দিয়ে তৈরি? গবেষণার ভিত্তিঃ স্ট্রিং থিওরিপদার্থবিজ্ঞানীরা উপলব্ধি করেন যে স্ট্রিং তত্ত্বের মধ্যে প্রকৃতির চারটি শক্তিকেই অন্তর্ভুক্ত করার সম্ভাবনা রয়েছে—মহাকর্ষ ,তড়িৎচুম্বকত্বশক্তিশালী বল , এবংদুর্বল বল —এবং সকল প্রকার পদার্থকে একটি একক কোয়ান্টাম বলবিদ্যার কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসা, যা ইঙ্গিত দেয় যে এটিই হয়তো বহু-প্রত্যাশিত একীভূত ক্ষেত্র তত্ত্ব ।স্ট্রিং থিওরিমতে, ইলেকট্রন-কোয়ার্কসহ বাকী ১৫টি মৌলিক কণাই স্ট্রিংয়ের কম্পনের রকমফের মাত্র।শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউচিরো নামবু, নীলস বোর ইনস্টিটিউটের হোগার নীলসেন এবং স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিদ লিওনার্দো সাসকিন্ড। তাঁরা বললেন, আমরা এত কাল কণাকে যেভাবে দেখে এসেছি, মৌলিক কণা আসলে সে রকম নয়; অর্থাৎ কণারা পয়েন্ট বা বিন্দুর মতো নয়, স্ট্রিং বা সুতার মতো। দুটি কণার মধ্যে শক্তিশালী পারমাণবিক বল যদি অতিক্ষুদ্র, চরম পাতলা এবং প্রায় রাবার ব্যান্ডের মতো সুতা আছে বলে ভাবা যায়, সেটা যদি ওই কণাদ্বয়কে সংযুক্ত করে, তাহলেই কেবল অয়েলারের সূত্র ব্যবহার করে গাণিতিকভাবে ওই কোয়ান্টাম প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করা সম্ভব। এই সুতাগুলো শুধু একমাত্রায় থাকে। সেগুলো প্রসারিত হতে পারে, পারে সংকুচিত হতেও। ঠিক রাবার ব্যান্ডের মতো। আরও ভালো করে বললে, রাবার ব্যান্ডের মতোই এই সুতাগুলো শক্তি অর্জন করলে প্রসারিত হয় এবং শক্তি হারালে সংকুচিত হয়। আবার ধারণা করা হলো, রাবার ব্যান্ডের মতো কম্পিত হয় সুতা বা স্ট্রিংগুলো। স্ট্রিং তত্ত্ব অনুসারে প্রকৃতিতে প্রাপ্ত সকল মৌলিক কণিকাই কম্পনশীল অভিন্ন তার (wire)! স্ট্রিং তত্ত্ব অনুসারে প্রকৃতিতে প্রাপ্ত সকল মৌলিক কণিকাই আসলে একই রকমের অভিন্ন তার (wire) । এসব তার বিভিন্ন কম্পাঙ্কে কাঁপে। এসব তারের ব্যাসার্ধ ও কম্পাংকের ভিন্নতার কারণেই বিভিন্ন রকম আকার-প্রকার বৈশিষ্ট্যের মৌলিক কনিকা হিসেবে দেখা দিচ্ছে। তারে কম্পনের পার্থক্যই এদের আধান, ভর নির্দিষ্ট করে দিচ্ছে। এই তত্ত্ব মতে, এক ধরনের কম্পনের কারনে স্পিন-২ নামে ভরহীন এক ধরণের কণিকার সৃষ্টি হয়। ২০১২ সালে সেকেন্ডে ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন "কম্পন" সৃষ্টি করে "হিগস বোসন" কণার কৃত্রিম উৎপন্ন সম্ভব হয় ।স্পিন-২ টাইপের কণিকার সবচেয়ে ভাল উদাহরণ হচ্ছে গ্রাভিটন নামের একটি কণিকা। গ্রাভিটনের মিথস্ক্রিয়ার সাহায্যে এক ধরনের বল কার্যকর হয়, যার বৈশিষ্ট্য হুবহু মহাকর্ষ বলের মত। প্রকৃতপক্ষে মহাবিশ্বের উৎসমূল স্ট্রিংয়ের কম্পনে নিহিত অর্থাৎ কম্পনই মহাবিশ্ব সৃষ্টির মূল কথা। এই কম্পনের মাত্রার উপর নির্ভর করে কোন্ বস্তু কিরূপ হবে। স্ট্রিং বা সুতার বিভিন্ন মাত্রার ঘূর্ণয়নের ফলে কম্পনের মাত্রা বিভিন্ন প্রকারের হয়ে থাকে। যেমন ইলেকট্রনের জন্য তন্তুর (স্ট্রিং) কম্পন মাত্রা একরকম। কোয়ার্কের জন্য তন্তুর কম্পনমাত্রা আবার আরেক রকম। অন্য ১৪টি কণার জন্য তন্তুর আলাদা মাত্রার কম্পন নির্দিষ্ট আছে। তন্তুর কম্পনের মাত্রাই ঠিক করে দেয়, তা থেকে সৃষ্ট কণার ভর, চার্জ, স্পিন কেমন হবে।এই বৈশিষ্ট্যগুলোই একধরণের কণা থেক আরেক ধরণের কণার মধ্যে পার্থক্য তৈরি করে। এসব বিচিত্র কণা দিয়েই গড়ে উঠেছে আমাদের মহাবিশ্ব। এই মহাবিশ্ব তাই সুতায় বোনা মহাবিশ্ব (বিজ্ঞানচিন্তা বর্ষঃ ৬ সংখ্যাঃ ০১, অক্টোবর, ২০২১, পৃষ্ঠাঃ ৫৪)। ওয়ার্ল্ড সায়েন্স-টেক রিসার্চ সেন্টার মনে করে, স্ট্রিংয়ের কম্পনই মহাবিশ্বের বস্তুুগত অবকাঠামোর শেষ কথা নয় কারণ কম্পনের উৎস মূল হচ্ছে শক্তি যা নিউটনের ক্ল্যাসিকাল বল বিজ্ঞানের প্রথম সূত্রে ব্যাখ্যার দাবী রাখে। পরীক্ষণঃ একটি অতি চিকন, মজবুত লম্বাটে তার নিই এবং উভয় প্রান্ত টান টান বেঁধে দিই। নিউটনের প্রথম সূত্র অনুসারে যতক্ষণ শক্তি প্রয়োগ না হবে-ততক্ষণ এই তার (স্ট্রিং) চিরকাল স্থির, নিশ্চল এবং নিস্তব্দ থাকবে। মৃদু শক্তি প্রয়োগ করলে তারটি নড়ে চড়ে উঠবে। শক্তির মাত্রা বাড়ালে তারটিতে কম্পন সৃষ্টি হবে। আরো শক্তি বাড়ালে মৃদু শব্দ উৎপন্ন হবে। সবচেয়ে সহজ উদাহরণ হচ্ছে রাত্রিবেলায় সুখকর নিদ্রা হরণকারী গভীর নিদ্রারত ব্যক্তিকেও জাগিয়ে তুলতে মশার দুই পাখার অনবরত কম্পনই যথেষ্ট। উল্লেখ্য, ৮ টেরা ভোল্ট শক্তি প্রয়োগে সার্ণ কর্তৃক মিলিয়ন মিলিয়ন প্রোটন কণার মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটিয়ে ২০১২ সালে বিশ্বের সর্ববৃহৎ পারমাণবিক গবেষণা কেন্দ্র সার্ণ কর্তৃপক্ষ নিজস্ব কণা চূর্ণকরণ সাইক্রোটন যন্ত্র লার্জ হ্যাড্রন কলাইডারে সেকেন্ডে ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন কম্পন সৃষ্টি করে প্রথমবারের মতো বহুল প্রত্যাশিত হিগস বোসন কণার কৃত্রিম উৎপন্ন করে । স্ট্রিং বিজ্ঞানীদের মতে, ১৩ টেরা ভোল্ড শক্তি প্রয়োগে কণা প্রথমতঃ আলোর গতি বেগ ছাড়িয়ে যাওয়া ছাড়াও ন্যানো সেকেন্ডে ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন কম্পন সৃষ্টি করে ইলেক্ট্রন-কোয়ার্কের কৃত্রিম উৎপন্ন অসম্ভব কিছু নয়। কারণ, স্ট্রিং বিশেষজ্ঞরা মনে করে, খুব উচ্চশক্তির পার্টিকেলগুলোর বিস্ফোরণ ঘটালে স্ট্রিংগুলোর কাঠামো দেখতে পাওয়া যাওয়ার কথা।(অশোক সেন, প্রখ্যাত স্ট্রিং গবেষক, হরিশচন্দ্র রিসার্চ সেন্টার, ভারত)। উল্লেখ্য, জানা যায় যে পদার্থ বিজ্ঞানীদের মতে, এক বিলিয়ন বছরেরও আগে দুটি বিশাল আকারের ব্ল্যাকহোলের মুখোমুখি সংঘর্ষে সৃষ্ট কম্পন থেকে প্রথমবারের মত সৃষ্টি হয়েছিল মহাকর্ষ তরঙ্গ। কণা তাত্ত্বিক পদার্থ বিজ্ঞানের মতে, মৌলিক কনিকারা হল মাত্রাহীন বিন্দুর মত। জ্যামিতিক ভাষায় বিন্দুর সংজ্ঞা হচ্ছে: “যার দৈর্ঘ্য প্রস্থ ও উচ্চতা নেই তাকেই বিন্দু বলে”। অর্থাৎ যে কণার দৈর্ঘ্য,প্রস্থ ও উচ্চতা নেই , বাস্তবে তার কোন মাত্রাও থাকার কথা নয়।সুতরাং, কণা তাত্ত্বিক পদার্থ বিজ্ঞানের মতে, মৌলিক কনিকারা হলো অনুরূপ মাত্রাহীন বিন্দুদের মত পক্ষান্তরে স্ট্রিং থিওরি মতে, মৌলিক কণিকারা মাত্রাহীন বিন্দুর মত নয়, বরং এগুলো হলো একমাত্রিক তারের মত। একটি তারের যেমন শুধু দৈর্ঘ্য আছে; মৌলিক কণারাও ঠিক তেমনি। এ কারণেই এই তত্ত্বের নামও হয়েছে স্ট্রিং থিওরি বা তার-তত্ত্ব।স্ট্রিং থিওরির প্রকারভেদঃ মৌলিক কনাগুলোকে তাদের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী মুলত দুই ভাগে ভাগ করা যায়। ক) এক শ্রেনির নাম বোসন খ) আরেক শ্রেনির নাম ফার্মিওন। প্রথম দিকে যে স্ট্রিং থিওরি গঠন করা হয় তাকে বলা হত বোসনিক স্ট্রিং থিওরি। স্ট্রিং থিওরীর মূল লক্ষ্যঃ স্ট্রিংগুলোর কোয়ান্টাম অবস্থা ও বৈশিষ্ট্য ব্যবহার করে প্রকৃতিতে বিদ্যমান সকল মৌলিক কনিকার আচরণ ব্যাখ্যা করা স্ট্রিং থিওরীর মূল লক্ষ্য। স্ট্রি থিওরীতে কোয়ান্টাম মহাকর্ষ তত্ত্ব ! দেখা যাচ্ছে, স্ট্রি থিওরিতে একটা মৌলিক কণা স্বয়ংক্রিয়ভাবে (অটোমেটিক্যালি) চলে আসছে। সেটা ঠিক মহাকর্ষের মতো আচরণ করে। সেই কণাটা কোয়ান্টায়িত। অর্থাৎ কোয়ান্টাম মহাকর্ষের একটা তত্ত্ব পাওয়া গেল স্ট্রি থিওরীতে!কম্পাঙ্ক:কোয়ান্টাম শক্তির বাহক►বিদুৎ-চৌম্বকীয় শক্তি নির্গত হয় বিচ্ছিন্ন গুচ্ছ আকারে। এই গুচ্ছেরই নাম কোয়ান্টা যা থেকে কোয়ান্টাম শব্দের বুৎপত্তি। প্রতিটি কোয়ান্টার শক্তি নির্ভর করে শুধুমাত্র এর কম্পাঙ্কের ওপর। এতে প্রতীয়মান যে, কোয়ান্টার শক্তির উৎসমূল কম্পন যা স্ট্রিং থিওরির ভিতকোয়ান্টাম ফিল্ড থিওরি অনুসারে, কোয়ান্টাম ফিল্ডকে প্রচণ্ড শক্তিতে আঘাত করা হলে সেই ফিল্ডে এক ধরনের কম্পন তৈরি হয়। এই কম্পনে সেই ফিল্ডে “কোয়ান্টা” (Quanta) নামক এক প্রকার কণিকা তৈরি হয়- যা বিজ্ঞানীরা পর্যবেক্ষণ যন্ত্রে অতিপারমাণবিক কণিকা হিসেবে পর্যবেক্ষণ করে থাকেন। অর্থাৎ আমরা যেসব মৌলিক কণিকার কথা বলি, এগুলো মূলত বিভিন্ন কোয়ান্টাম ফিল্ডের কম্পন। ইলেকট্রনের ফিল্ডকে আঘাত করা হলে ইলেকট্রন তৈরি হবে। কোয়ার্ক ফিল্ডে আঘাত করলে কোয়ার্ক তৈরি হবে। ইলেকট্রোম্যাগনেটিক ফিল্ডে আঘাত করলে আলোর কণিকা ফোটন তৈরি হবে। হিগস ফিল্ড যেহেতু একটি কোয়ান্টাম ফিল্ড, তাই হিগস ফিল্ডকে আঘাত করলেও একটি কণিকা তৈরি হবে। হিগস ফিল্ডের কোয়ান্টাকে আমরা বলি হিগস বোসন (গড'স পার্টিকেল)। স্ট্রিং তত্ত্বঃ হতে পারে কোয়ান্টাম মহাকর্ষ তত্ত্বের উত্তম ব্যাখ্যাকার ►"মহাবিশ্বের সার্বিক কাঠামোর ব্যাখ্যা করতে, ব্ল্যাক হোলের রহস্য ভেদ করতে কিংবা পদার্থ বিজ্ঞানের সার্বিক একটা তত্ত্বে পৌঁছাতে হলে কোয়ান্টাম মহাকর্ষ তত্ত্ব জরুরী হয়ে পড়েছে। এই তত্ত্ব ব্যাখ্যা করার জন্য অনেক তত্ত্বের জন্ম হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে সফল তত্ত্বটি হলো স্ট্রিং তত্ত।....মহাবিশ্বের প্রায় সব অমীমাংসিত বিষয়গুলো তাত্ত্বিকভাবে ব্যাখ্যা করতে পারে কেবল স্ট্রিং তত্ত্বই। তাই এই তত্ত্বই হতে চলেছে আগামী দিনের পদার্থ বিজ্ঞানে এর মূল অনুষঙ্গ।" (অশোক সেন, গবেষক, অধ্যাপক, হরিশচন্দ্র রিসার্চ সেন্টার, ভারত)। মহাজাগতিক তার (Cosmic string) বর্তমান বিজ্ঞানে ‘Cosmic String' তথা মহাজাগতিক তার (স্ট্রিং) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় যা খুবই উচ্চ পর্যায়ের জ্ঞান সমৃদ্ধ। বিংশ শতাব্দির ৮০-র দশকে প্রথমবারের মতো বিজ্ঞান ‘Cosmic String' তথা মহাজাগতিক তার (স্ট্রিং) সম্পর্কিত সৃষ্টিতত্ত্ব উপস্থাপন করে বিশ্বে রীতিমত তাক লাগিয়ে দেয়। Big Bang model গবেষণাকারী বিজ্ঞানগণ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে গিয়ে এই মহাজাগতিক তারের উপস্থিতি এবং এ মহাবিশ্বের সৃষ্টির একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে এই তারের যাদুময়ী কর্মকাণ্ড সম্পর্কে ধারণা লাভ করতে থাকে। এ মহাজাগতিক তারগুলো (Cosmic strings) লম্বায় লক্ষ লক্ষ আলােকবর্ষ কিংবা তার চেয়েও বেশি লম্বা। কিন্তু ব্যাস এত সূক্ষ্ম যে কল্পনা করাও বেশ দুরূহ ব্যাপার। গাণিতিকভাবে প্রকাশ করলে দাঁড়ায় ১০-৩৩ cm প্রায়। অর্থাৎ ১ সে.মি. দৈর্ঘ্যকে ১০০ কোটি, কোটি, কোটি কোটি দিয়ে ভাগ করলে যা হবে তার সমান মাত্র। এদের আকৃতি কোথাও কুণ্ডলীর মতো, কোথাও আংটির মতো, কোথাও সর্পিল আবার কোথাও দেখতে কটিবন্ধের মতো । Cosmic strings-এর পদার্থ ভর অকল্পনীয়, বিরাট ও বিশাল, মাত্র কয়েক কিলোমিটার তারের ভর সমগ্র পৃথিবীর ভরের চাইতেও কয়েক গুণ বেশি। এ তারগুলো খুবই শক্তিশালী এবং এদের ঘনত্ব 'ব্ল্যাক হোলের ঘনত্বের চেয়েও বেশি। ১৯৮৫ সালে বিজ্ঞানীগণ তথ্য দেন যে এদের ঘনত্ব হলো- 1021gm/c.c, যা কল্পনা করতেও কষ্ট হয়। Cosmic strings' গুলোই নবীন মহাবিশ্বে প্রথম গ্যালাক্সির বীজ বপন করেছিল। তখন নবীন মহাবিশ্ব ধোঁয়ায়/ পরিপূর্ণ ছিলো। ঐ সময় Cosmic strings' ধোঁয়ার মধ্যে আবির্ভূত হয়ে প্রবল মাধ্যাকর্ষণ বলের (Gravity) মাধ্যমে ধোঁয়া, গ্যাস ও ধূলিকণাকে আকর্ষণ করে নিজেদের অভ্যন্তরে জমা করতে থাকে। ফলে এক পর্যায়ে নবীন মহাবিশ্বটি গুচ্ছ গুচ্ছভাবে গ্যাসীয় পদার্থের মেঘখণ্ডরূপে বিভক্ত হয়ে পড়ে। অতঃপর মহাকর্ষ বলের প্রভাবে মেঘখণ্ডগুলো আবর্তন শুরু করে এবং দু'মিলিয়ন বছরে প্রােটো-গ্যালাক্সি ও চার মিলিয়ন বছরে পূর্ণ গ্যালাক্সিতে রূপান্তরিত হয়ে মহাবিশ্বের মূল কাঠামোতে পরিণত হয। বিজ্ঞানীগণ এখনও রেডিও টেলিস্কোপের সাহায্যে কোনো কোনো গ্যালাক্সির কেন্দ্রে Cosmic strings-এর সন্ধান পাচ্ছেন। গ্যালাক্সিগুলো দিকে তাকালে ওদের গঠন অবয়বে Cosmic strings বা মহাজাগতিক তারের স্পষ্ট প্রভাব লক্ষ্য করা যায় । বিস্তারিতঃ ভিজিট করিঃ স্ট্রিং থিওরিঃ বিজ্ঞানীদের আশার আলোhttps://www.linkedin.com/pulse//সটর-থওর-বজঞনদর-আশর-আল-ramzan-hossain/ ভূমিকাঃ পদার্থ বিজ্ঞান (ম্যাটেরিয়াল সায়েন্স) মহাবিশ্বের মূল সত্বা বিবেচনায় তাত্ত্বিকভাবে প্রায় শতভাগ লক্ষ্য অর্জন করে সত্য, কিন্তু পুরো বিশ্ব প্রকৃতি বিজ্ঞান ফিজিক্স বিবেচনায় লক্ষ্য অর্জনের পরিমাণ প্রায় অর্ধ শতাংশ । কারণ, মহাবিশ্ব মৌলিকভাবে দ্বিমাত্রিক যথাঃ ১) বস্তুগত ২) জ্ঞানগত। এ যাবৎ ডেমোক্রিটাস থেকে শুরু করে অআইনস্টাইন পর্যন্ত সকল বিজ্ঞানীর সকল গবেষণার ভিত্তি ছিল ফিজিক্স নামে মূলতঃ ম্যাটেরিয়াল সায়েন্স যাকে বাংলা ভাষায় বলা হয় পদার্থ বিজ্ঞান। সুতরাং, সংগত কারণে নিউক্লিয়াস আবিস্কারক রাদারফোর্ড একবার বলেছিলেনঃ সব বিজ্ঞানই পদার্থ বিজ্ঞান। যদিও প্রকৃতপক্ষে পদার্থ বিজ্ঞান ফিজিক্সের একাংশ মাত্র। যার কারণে পদার্থ বিজ্ঞানের বয়স প্রায় তিন সহস্রাব্দ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনও বলা হচ্ছেঃ মহাবিশ্ব যদি বাঘ হয় পদার্থ বিজ্ঞানীরা সে বাঘের ল্যাজটা নাড়া চাড়া করছেন মাত্র। কারণ, পুরো মহাবিশ্বের মাত্র ৪ শতাংশ সত্য নিহিত রয়েছে পদার্থ বিজ্ঞানে। বাকী সত্যের ২১ শতাংশ ডার্ক ম্যাটারে এবং ৭৫ শতাংশ ডার্ক এনার্জিতে। ওয়ার্ল্ড ইসলামিক সায়েন্স টেক রিসার্চ সেন্টারের মতে এ যাবৎ বিজ্ঞানীরা মহাবিশ্বের প্রায় ৫০ শতাংশ সত্য অর্জন করেছেন । ডার্ক ম্যাটার এনার্জি, গ্রাাভিটন্ স্ট্রিং থিওরিসহ দশ প্রধান অমীমাংসিত প্রশ্নগুলি মহাবিশ্বের মূল সত্যের মৌলিক নয় আনুষঙ্গিক মাত্র। উক্ত ৫০ শতাংশ মূল সত্য নিহিত ছিল হাইয়েস্ট এনার্জেটিক রেডিয়েশনে (বস্তুগতভাবে) আর বিগ ব্যাং উত্তর শীতলমুখী বুদ্ধিমাত্রিক এন্ট্রপিতে ৫০ শতাংশ। মডার্ণসমোলজিক্যাল স্ট্যান্ডার্ড মডেল থিওরিমতে, আজ থেকে প্রায় ১৩৭৫ কোটি বছর পূর্বে হাইয়েস্ট এনার্জেটিক রেডিয়েশনের মহাবিস্ফোরণ (Big Bang) থেকে শুরু হয়েছিল মহাবিশ্বের দ্বৈতরূপে-যার সংক্ষিপ্ত বিবরণ নিম্নরূপঃ ১) মহাশুন্য তথা মহাকাশ এবং ২) ৪ মহাবল যথাক্রমে(ক) বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় বল (খ) দূর্বল (গ) সবল নিউক্লিয় বল (ঘ) মহাকর্ষ বল (ঙ) ডার্ক এনার্জি এবং চ) ডার্ক ম্যাটার (ছ) ভরশুন্য ফোটন জাতীয় কণা (জ) ভরযুক্ত হিগস বোসন জাতীয় সর্ব প্রকার বস্ক‌ু কণা যদ্বারা যত সব বস্তু-পদার্থের উদ্ভব। প্রশ্ন হচ্ছেঃ মহাবিশ্ব কি দিয়ে তৈরি? কিংবা বস্তুতে কি আছে? এই প্রশ্নের জবাব খুঁজতে গিয়ে বস্তুকে ভাঙতে ভাঙতে গুঁড়া-গুঁড়া, চূর্ণ-বিচূর্ণ করতে করতে গিয়ে হয়রান পেরেশান হয়ে প্রাচীন গ্রীসের সেরা দার্শনিক ডেমোক্রিটাস বলে উঠেছিলেন এই বলেঃ আর ভাঙা যাবে না। এই বাক্যটি মাত্র একটি গ্রীক যে শব্দে নিহিত রয়েছে সে শব্দটির নাম অ্যাটম (ATOM)। অ্যাটম (ATOM) কি দিয়ে তৈরি? প্রশ্নটি প্রকৃতিতে এত এত কণা-এসব কি দিয়ে তৈরি? এই প্রশ্নের মতই পদার্থ বিজ্ঞানের ১০ প্রধান অমীমাংসিত এবং নিষিদ্ধ প্রশ্নের অন্যতম। এ ধরণের প্রশ্ন পদার্থ বিজ্ঞানে এ কারণে নিষিদ্ধ যে, এমন প্রশ্ন রয়েছে যার উত্তর এ জগতে নেই মর্মে পদার্থ বিজ্ঞানীদের সর্বসম্মত অভিমত। উল্লেখ্য, সুদূর মহাকাশের এমন প্রান্ত সীমায় বিজ্ঞানীদের দৃষ্টি পৌঁছে যা কেবল অআলোর পর্দা দিয়ে অআচ্ছাদিত-যাতে দৃষ্টি দিতে বিজ্ঞানীদের মানা। কারণ, আলোগুলি এমন যে সাধারণ চর্ম চোখে ধারণ অক্ষম। বিজ্ঞানীদের হাতে বর্তমানে এমন ডিটেক্টর নেই যদ্বারা এই আলো ধারণ করা যায়। তবে পর্দার ওপার হতে মাঝে মাঝে নিউট্রিনোর আনাগোনা থেকে ওপারের কিছু তথ্য পদার্থ বিজ্ঞানীরা জানছেন। পক্ষান্তরে প্রখ্যাত মার্কিন জ্যোতি-পদার্থ বিজ্ঞানী কার্ল সাগানের মতে, পৃথিবীকে অর্থবহ করতে সাহসী প্রশ্ন এবং উত্তরের গভীরতা দরকার (বিজ্ঞানচিন্তা)। অন্যদিকে WISTRC এর মতে, অর্থবহ পৃথিবীর জন্য অর্থবহ প্রশ্ন জরুরী। উত্তর মেরুতে কি আছে? এটি প্রশ্ন বটে। কিন্তু উত্তর মেরুর উত্তরে কি আছে? প্রশ্নটি অর্থহীন এবং অপ্রয়োজনীয়। WISTRC মনে করে অ্যাটম (ATOM) কিংবা মহাবিশ্ব কি দিয়ে তৈরি? এই প্রশ্ন উত্তর মেরুর উত্তরের খবর নেওয়ার মত বেয়াড়া প্রশ্ন নয় বরং সুদূরপ্রসারী গুরুত্ব রাখে। WISTRC আরও মনে করে যে, অ্যাটম (ATOM) কিংবা মহাবিশ্ব কি দিয়ে তৈরি? এই প্রশ্নের উত্তরে নিহিত আছে একাধারে স্ট্রিং থিওরি, বহুল প্রত্যাশিত কোয়ান্টাম গ্র্যাভিটনের মতো পদার্থ বিজ্ঞানের সবচেয়ে জটিল তত্ত্বের অপূর্ব সম্ভাবনা তত্ত্ব। প্রশ্নটির উত্তরে পদার্থ বিজ্ঞানের প্রায় শতভাগ এবং প্রকৃতি বিজ্ঞানের প্রায় অর্ধশত ভাগ সত্য নিহিত রয়েছে। বলা হয়ে থাকে বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রা সেদিন থেকে শুরু হয়েছিল যেদিন মানব মনে সত্যকে জানার আগ্রহ জন্মেছিল। অ্যাটম (ATOM) কিংবা মহাবিশ্ব কি দিয়ে তৈরি? অথবা প্রকৃতিতে এত এত কণা-এসব কি দিয়ে তৈরি? এই প্রশ্নের উত্তর নিহিত রয়েছে পবিত্র কুরআনের সূরাহ অআল যারিয়াতের ৪৭.নং এবং সূরাহ হাদীদের ২৫ নং নিম্নোক্ত আয়াতেঃ ৩. وَالسَّمَاءَ بَنَيْنَاهَا بِأَيْدٍ وَإِنَّا لَمُوسِعُونَ [ الذاريات: 47] আমি স্বীয় ক্ষমতাবলে আকাশ নির্মাণ করেছি এবং আমি অবশ্যই ব্যাপক ক্ষমতাশালী। [সূরা যারিয়াত: 47]https://surahquran.com/tafsir-Bangla-aya-47-sora-51.html وَأَنزَلْنَا الْحَدِيدَ فِيهِ بَأْسٌ شَدِيدٌ وَمَنَافِعُ لِلنَّاسِ "আমি আরো নাযিল করেছি লোহা, তাতে প্রচন্ড শক্তি ও মানুষের জন্য বহু কল্যাণ রয়েছে।https://www.hadithbd.com/quran/link/?id=5100, https://quranyusufali.com/57/ আইনস্টাইনের ভরশক্তি সমীকরণ আইনস্টাইনের বিখ্যাত ভর-শক্তি সমীকরণটি হলো \(E = mc^2\)। এটি পদার্থবিজ্ঞানের অন্যতম যুগান্তকারী সূত্র, যা প্রমাণ করে যে ভর এবং শক্তি একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। ভর, শক্তি ও আলো পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত হয় কীভাবে? আর তাদের মধ্যকার এই সম্পর্ক আমাদের নিজেদের এবং মহাবিশ্বের মৌলিক প্রকৃতি সম্পর্কে কী অর্থ প্রকাশ করে? WISTRC এর ব্যাখ্যা কোয়ান্টাম মেকানিক্স তত্ত্বমতে, বল-মহাবল এবং তরঙ্গও এক প্রকার কণা এবং শুন্যে শক্তি বিরাজমান থাকা কোয়ান্টাম তত্ত্বে নতুন কথা নয়। অন্যদিকে আইনস্টাইনের ভরশক্তি সমীকরণ মতে, পদার্থ চুপসে যেতে যেতে এক সময় পরম বিন্দুকণায় এসে থেমে যায়। পুরোপুরি ভ্যানিশ (ধ্বংস) হয়ে যায় না যাকে বলা হয় সিঙ্গুলারিটি। এই পরম বিন্দু সিঙ্গুলারিটি জমে থাকা শক্তি বিশেষ যা অবস্থাভেদে ভর, ওজন, পদার্থ নামে অভিহিত। অনুরূপ আলো যেহেতু আইনস্টাইনের ফটো ইলেকট্রিক ইফেক্ট তত্ত্বমতে একাধারে কণা এবং তরঙ্গ এবং যেহেতু কোয়ান্টাম তত্ত্বমতে তরঙ্গও এক প্রকার কণা এবং ভরশক্তি সমীকরণমতে, কণা হচ্ছে জমে থাকা শক্তি সেহেতু ভর, শক্তি ও আলো পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। বস্তুতঃ শক্তি যেমন ভর, শক্তি ও আলো পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত তেমনি প্রতিটি জড়, জীব নির্বিশেষ সবার সাথে এমনকি ডার্ক ম্যাটার, ডার্ক এনার্জি, মহাকর্ষসহ চার বল, তার প্রতিবল গ্র্যাভিটন, মেসন, গ্লুয়ন এমনকি পুরো মহাবিশ্ব হাইয়েস্ট এনার্জেটিক রেডিয়েশনের প্রতিফলন মাত্র যে রেডিয়েশনের বিগ ব্যাং বা মহাবিস্ফোরণে মহাবিশ্ব এবং তদস্থিত সব কিছুর উদ্ভব। Emergent properties Emergent properties are complex characteristics that arise from the interaction of simpler elements within a system. Understanding emergent properties is crucial because they help explain complex phenomena like consciousness, ecosystems, and social structures, highlighting the importance of studying systems holistically. https://www.vaia.com/en-us/explanations/philosophy/philosophy-of-mind/emergent-properties/ জ্ঞাতব্য যে, মানব দেহ পার্থিব বস্তুগত উপাদানে গঠিত। প্রাণ একটি অমীমাংসিত বিষয়। কম্পনঃ স্ট্রিং তত্ত্বের একটি মৌলিক দিক কম্পাঙ্কের সংজ্ঞা একক সময়ে অর্থাৎ এক সেকেন্ডের মধ্যে যতবার পূর্ণতরঙ্গ সম্পন্ন করে তাকে কম্পাঙ্ক (n) বলা হয় যদি কোনো বস্তু প্রতি সেকেন্ডে কমপক্ষে ২০ বার কাঁপে তবে সেই বস্তু থেকে উৎপন্ন শব্দ শোনা যাবে। এভাবে আবার কম্পন যদি প্রতি সেকেন্ডে ২০,০০০ বার এর বেশি হয় তাহলেও শব্দ শোনা যাবে না। সুতরাং আমাদের কানে যে শব্দ শোনা যায় তার কম্পাঙ্কের সীমা হলো ২০ Hz থেকে ২০,০০০ Hz। কম্পাঙ্কের এই পাল্লাকপ শ্রাব্যতার পাল্লা বলে। যদি কম্পাঙ্ক ২০ Hz এর কম হয় তবে তাকে শব্দেতর কম্পন বলে। যদি কম্পাঙ্ক ২০,০০০Hz এর বেশি হয় তবে তাকে শব্দোত্তর কম্পন বআমাদের অন্তঃকর্ণের মধ্যে এই পর্দায় শব্দ পৌঁছালে আমরা শুনতে পাই। ২০ হাজার হার্জের শব্দ আমাদের শ্রবণা অনভূত সৃষ্টি করে না। যেমন উচ্চ শব্দের কোনো মাধ্যম থেকে আমরা শব্দ পাই না। আমাদের মস্তিষ্ক তা গ্রহণ করে না।https://bn.quora.com/শব্দের-কম্পাঙ্ক-20-000-Hz-এর-বেশি বিগ ব্যাং উত্তর প্রথম কম্পন” হার্ভার্ড-স্মিথসোনিয়ান সেন্টারের জ্যোতিপদার্থবিদরা দক্ষিণ মেরুতে স্থাপিত টেলিস্কোপের সাহায্যে যে তরঙ্গ প্রবাহের সন্ধান পেয়েছেন, তা ১৪শ' কোটি বছর আগে এই তরঙ্গের উৎপত্তি এবং তরঙ্গটি বিগ ব্যাং-এর প্রথম কম্পন” বলে বর্ণনা করেছেন-যা আলবার্ট আইনস্টাইনের এক শতকের পুরোনো আপেক্ষিক তত্ত্বের মিল পাওয়া যায় ৷ এ থেকে এই প্রথম ‘কসমিক ইনফ্লেশন' বা মহাজাগতিক স্ফীতির সরাসরি তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেল৷ শুধু তাই নয় এই তত্ত্ব থেকে এ কথাও সহজেই বলা যায় যে, মহাবিশ্ব তার সূচনাকালীন ‘চোখের পলক ফেলার সময়ের মধ্যে একশ ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন গুণ বিস্তার লাভ করেছে ৷ এই আলোক তরঙ্গ নির্ণয়ের ফলে মহাবিশ্বের সৃষ্টি ঠিক কত কোটি বছর আগে – এটা নিয়ে বিশ্বজুড়ে বিদ্যমান নানা যে জল্পনা-কল্পনা চলছে এ মহাজাগতিক তথ্য এসব জল্পনা-কল্পনার একটা সদুত্তরও হতে পারে বলে বিজ্ঞানীদের বিশ্বাস (সূত্রঃ উইকিপিডিয়া)। কম্পাঙ্ক:কোয়ান্টাম শক্তির বাহক►বিদুৎ-চৌম্বকীয় শক্তি নির্গত হয় বিচ্ছিন্ন গুচ্ছ আকারে। এই গুচ্ছেরই নাম কোয়ান্টা যা থেকে কোয়ান্টাম শব্দের বুৎপত্তি। প্রতিটি কোয়ান্টার শক্তি নির্ভর করে শুধুমাত্র এর কম্পাঙ্কের ওপর। এতে প্রতীয়মান যে, কোয়ান্টার শক্তির উৎসমূল কম্পন যা স্ট্রিং থিওরির ভিতকোয়ান্টাম ফিল্ড থিওরি অনুসারে, কোয়ান্টাম ফিল্ডকে প্রচণ্ড শক্তিতে আঘাত করা হলে সেই ফিল্ডে এক ধরনের কম্পন তৈরি হয়। এই কম্পনে সেই ফিল্ডে “কোয়ান্টা” (Quanta) নামক এক প্রকার কণিকা তৈরি হয়- যা বিজ্ঞানীরা পর্যবেক্ষণ যন্ত্রে অতিপারমাণবিক কণিকা হিসেবে পর্যবেক্ষণ করে থাকেন। অর্থাৎ আমরা যেসব মৌলিক কণিকার কথা বলি, এগুলো মূলত বিভিন্ন কোয়ান্টাম ফিল্ডের কম্পন। ইলেকট্রনের ফিল্ডকে আঘাত করা হলে ইলেকট্রন তৈরি হবে। কোয়ার্ক ফিল্ডে আঘাত করলে কোয়ার্ক তৈরি হবে। ইলেকট্রোম্যাগনেটিক ফিল্ডে আঘাত করলে আলোর কণিকা ফোটন তৈরি হবে। হিগস ফিল্ড যেহেতু একটি কোয়ান্টাম ফিল্ড, তাই হিগস ফিল্ডকে আঘাত করলেও একটি কণিকা তৈরি হবে। হিগস ফিল্ডের কোয়ান্টাকে আমরা বলি হিগস বোসন (গড'স পার্টিকেল)। শক্তিঃ কম্পনের প্রাণস্পন্দন ! স্ট্রিং থিওরিমতে কম্পমান সূক্ষ্ণ সুতা/তারের উৎসমূল শক্তি (Energy) জার্মান পদার্থ বিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইনের বিশেষ আপেক্ষিকতা তত্ত্ব E=mc2 সমীকরণমতে বস্তু ও শক্তি আসলে সমার্থক। (বিজ্ঞান চিন্তা পৃঃ ৪৪)। ... “তাই জমে থাকা শক্তিও জমে থাকা বস্তুর মত” (পৃঃ ৩৫)। স্ট্রিং থিওরীর মূল লক্ষ্যঃ স্ট্রিংগুলোর কোয়ান্টাম অবস্থা ও বৈশিষ্ট্য ব্যবহার করে প্রকৃতিতে বিদ্যমান সকল মৌলিক কনিকার আচরণ ব্যাখ্যা করা স্ট্রিং থিওরীর মূল লক্ষ্য।যায়, মহাবিশ্বের উদ্ভব বিগ ব্যাং থেকে। বিগ ব্যাং কিসের বিস্ফোরণে ঘটেছিল? তারও উত্তর রয়েছে এমসিএসএম থিওরিতে। এই থিওরি বলছে, বিগ ব্যাং ঘটেছিল হাইয়েস্ট এনার্জেটিক রেডিয়েশনের বিস্ফোরণ থেকে? যদি প্রশ্ন করা হয়, হাইয়েস্ট এনার্জেটিক রেডিয়েশনের পূর্ব কি ছিল? এর উত্তর পাওয়া যায় বিগ ব্যাং থিওরির প্রবক্তা বৃটিশ পদার্থ বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিংয়ের মন্তব্যে। তিনি দাবী করেন, হাইয়েস্ট এনার্জেটিক রেডিয়েশনের পূর্বে মহাবিশ্ব ব্যাপক শুন্যময় ছিল। তাঁর দাবী শুন্য থেকে হাইয়েস্ট এনার্জেটিক রেডিয়েশন তথা মহাবিশ্বের উদ্ভব ঘটেছিল। চূড়ান্ত প্রশ্ন হতে পারে, শুন্যময় অবস্থার আগে কি ছিল? এ প্রশ্নের পরোক্ষ উত্তর রয়েছে এমসিএসএম কোয়ান্টাম থিওরিতে। এই থিওরিতে শুন্যে শক্তি বিরাজ করা নতুন কিছু নয়। এতে সুস্পষ্ট প্রতীয়মান যে, মহাবিশ্বের উদ্ভব তথা বিগ ব্যাং, হাইয়েস্ট এনার্জেটিক রেডিয়েশনের পূর্বে যে শুন্যাবস্থা তাতে বিদ্যমান ছিল কেবল শক্তি আর শক্তি। মহাবিশ্বের মূল সত্য জোড়া জোড়ায় অর্থাৎ মহাবিশ্ব দুই মূলোৎসে নিহিত ১) শক্তিনির্ভর বস্তুগত অবকাঠামো যা মহাবিশ্বকে দৃশ্যমান করেছে। ২) জ্ঞাননির্ভর পরিচালনা-ব্যবস্থাপনাগত অবকাঠামো যা মহাবিশ্বকে সুবিন্যস্ত, সুশৃঙ্খল এবং উদ্দেশ্যপূর্ণ করেছে যাতে রয়েছে প্রখর বুদ্ধিমত্তার পরিচয়। উল্লেখ্য, প্রায় তিন মিলিনিয়াম বা তিন সহস্রাব্দব্যাপী পদার্থের মধ্যে মহাবিশ্বের সত্য খুঁজতে গিয়ে প্রথমবারের মতো প্রাচীন গ্রিক দার্শনিক ডেমোক্রিটাস (৪৬০–৩৭০ খ্রিস্টপূর্ব) সর্বপ্রথম ‘পরমাণুবাদ’ বা বস্তুর ক্ষুদ্রতম অবিভাজ্য কণার ধারণা প্রদান করেন। তাঁর মতে, এই মহাবিশ্ব মূলত দুটি উপাদান দিয়ে গঠিত: ১) অতি ক্ষুদ্র কণা অ্যাটম এবং ২) শূন্যস্থান। কিন্তু এই অ্যাটমই পরিণত হয় বিজ্ঞানের মাধ্যমে বিশ্ব প্রকৃতির (ফিজিক্স) রহস্য জানার একমাত্র মাধ্যম। ফলে অ্যাটম কেন্দ্রিক ফিজিক্স (প্রকৃতি বিজ্ঞান) পরিণত হয় পদার্থ বিজ্ঞান বা ম্যাটেরিয়াল সায়েন্সে। পদার্থ বিজ্ঞানের প্রথম কথা যদি হয় অ্যাটম। শেষ কথা হচ্ছে কোয়ার্ক। ১০-১৭ সেন্টিমিটার সূক্ষ্ণাতি সূক্ষ্ণ কোয়ার্কের চাইতে ক্ষুদ্রতম কণা এ পর্যন্ত খুঁজে পান নি পদার্থ বিজ্ঞানীরা। কিন্তু অআইনস্টাইনের ভরশক্তি সমীকরণমতে, কোয়ার্ক শেষ কথা নয়, এমনকি বস্তুুর ওজন কিংবা ভরও নয়। WSTRC ; এর মতে, কোয়ার্কের শেষ কথা স্ট্রিংয়ের কম্পন আর কম্পনের শেষ কথা হচ্ছে শক্তি অআর শক্তি। প্রত্যেক বিষয় মূলে পৌঁছে। অআইনস্টাইনের মতে, প্রত্যেক বিষয়ের একটা ইনভেরিয়েন্ট বা পরম পরিণতি রয়েছে সে পরিণতির নাম পরম বিন্দু সিঙ্গুলারিটি। কণা পদার্থ বিজ্ঞান মতে, প্রতিটি কণা কম্পমান বিন্দু সাদৃশ্য। কিন্তু স্ট্রিং থিওরিমতে, পরম বিন্দু সিঙ্গুলারিটি পদার্থের শেষ কথা নয়। বরং স্ট্রিং থিওরির স্ট্রিংয়ের ১০-৩৩ সেন্টিমিটার সূক্ষ্ণ বিশিষ্ট লম্বাটে কম্পমান স্ট্রিং তথা শক্তি হতে পারে পদার্থ বিজ্ঞানের উপসংহার তথা শেষ কথা। উল্লেখ্য, মহাবিশ্বের জন্ম হয়েছিল বিগ ব্যাং (মহাবিস্ফোরণ) থেকে বিগ ব্যাং হয়েছিল হাইয়েস্ট এনার্জেটিক রেডিয়েশন থেকে যাতে নিহিত ছিল ৪ মহাবল যথাক্রমে ১) বিদ্যুৎ চুম্বকীয় বল ২) সবল এবং ৩) দূর্বল নিউক্লিয় বল এবং ৪) মহাকর্ষ বল। ওয়ার্ল্ড ইসলামিক সায়েন্স টেক রিসার্চ সেন্টার মনে করে এতে কেবল ৪ বলই নিহিত ছিল না, ডার্ক ম্যাটার এবং ডার্ক এনার্জিও নিহিত ছিল। মহাবিশ্ব সর্বপ্রথম দৃশ্যমান হয়েছিল ৪ মহাবলসহ ভরশুন্য ফোটন জাতীয় কণা দ্বারা। পরে এক সময়ে শুন্যে বিদ্যমান হিগস ফিল্ড নামক শক্তি ক্ষেত্রের সংস্পর্শে এসে এসব ভরশুন্য কণারা ভরত্ব লাভ করে হিগস বোসন কণা ওরফে গড পার্টিকেল নামে। শক্তি পরিচিতি আইনস্টাইনের ভরশক্তি সমীকরণ তথা স্পেশাল রিলিটিভিটি থিওরির মূল কথা ভরশক্তি। এমতে যা ভর তা-ই শক্তি, যা শক্তি তা-ই ভর। অর্থাৎ জমে থাকা শক্তি জমে থাকা বস্তুর মতই। সেমতে বস্তু+ভর+শক্তি সমার্থক। শক্তির সাধারণ বৈশিষ্ট্য কী? পদার্থবিজ্ঞান ও রসায়নে শক্তির নিত্যতার সূত্র জানায় যে কোনো একটি বদ্ধ সিস্টেমের শক্তি সর্বদা ধ্রুব থাকে; এটি সময়ের সাথে পরিবর্তনশীল নয়। এর মানে এই যে শক্তির কোনো সৃষ্টি বা ধ্বংস নেই; বরং এটি কেবল এক রূপ থেকে অন্য রূপে স্থানান্তরিত হয়। এই শক্তির নিত্যতার সূত্রটি সর্বপ্রথম প্রস্তাব এবং পরীক্ষা করেন এমিলি দ্যু শাতলে । https://digiexamguide.com/341-2/ শক্তিঃ মহাবিশ্বের মহাবিস্ময়! বধিরদের কান আছে কিন্তু শোনেন না/অন্ধদের চোখ আছে কিন্তু দেখেন না/প্যারালাইসিসদের হাত-পা আছে কিন্তু তা নড়া-চড়া করে না-কারণ একটাই শক্তির (Energy) অভাব। বধিররা যে শক্তিতে কানে শোনেন তার নাম শ্রবণ শক্তি। শক্তির নিত্যতা তত্ত্ব “প্রত্যেক বিষয়বস্ত্ত মূলে পৌঁছে” (ফারাবী আল আরাবি)। বস্ত্তগত বিবেচনায় এই মূল হচ্ছে শক্তি। স্ট্রিং থিওরিতে রয়েছে এই শক্তির চমৎকার মেরুকরণ যার সংক্ষিপ্ত বর্ণনা নিম্নরূপঃ আইনস্টাইনেরতত্ত্বমতে, কোনোবস্ত্তরআয়ুস্কালফুরাতেশুরুকরলেবস্ত্তটিরভর, শক্তিআস্তেআস্তেচুপসেযেতেথাকে।এভাবেচুপতেচুপতেএকসময়পরিণতহয়একপরমবিন্দুতে যাকে সিঙ্গুলারিটি বলা হয়। কণা পদার্থ বিজ্ঞানমতে প্রতিটি অণু-পরমাণু কম্পমান। স্ট্রিং থিওরিমতেও কণাগুলো কম্পনশীল। CIRNN এর মতে, এই কম্পনের উৎসমূল শক্তি। পরীক্ষণঃ সূত্রঃ নিউটনের প্রথম সূত্র বলে, “বাহ্যিক কোন বল প্রয়োগ না করলে স্থির বস্তু চিরকাল স্থির ও গতিশীল বস্তু চিরকাল গতিশীল থাকবে”। এককথায়, বস্তু নিজে তার অবস্থার পরিবর্তন করতে পারেনা, করতে হলে বাইরের বল (শক্তি) প্রয়োজন। স্ট্রিং তত্ত্বের নিউটনীয় পরীক্ষা অতি সূক্ষ্ণ বা চিকন (সরু) শক্ত কয়েক ফুট লম্বা একটি স্ট্রিং বা তার নিই । মনে মনে তারটিকে A, B এবং C-তে ভাগ করি। তারের অগ্রভাগ-কে A, মধ্যম অংশ-কে B এবং প্রান্ত বা শেষ অংশকে C ধরি। অতঃপর তারটির অগ্রভাগ এবং শেষ ভাগ-কে টান টান ভাবে শক্তভাবে বেধে রাখি। দেখা যাবে, তারটি কোনো প্রকার কম্পন এবং শব্দ ছাড়াই নিরব-নিথরভাবে নিস্ক্রীয় পড়ে আছে। এরপর তারটির মধ্যভাগে হালকাভাবে দৈহিক শক্তি প্রয়োগে তর্জনী আঙ্গুল দ্বারা নাড়া দিলে দেখা যাবে, তারটি ক্রমশঃ সক্রিয় হয়ে মৃদু কম্পন এবং মৃদু শব্দ সৃষ্টি করছে। যতই তারের মধ্যভাগে শক্তিবৃদ্ধি করে যত দ্রুত নাড়া দেয়া হয় তত বেশি কম্পন এবং শব্দ সৃষ্টি হবে। এখানে কম্পন এবং শব্দের উৎসমূল দাঁড়াবে শক্তি। শক্তির নিত্যতা: শক্তির নিত্যতা বা থার্মোডিনামিক্সের ১ম সূত্র বলে “শক্তির কোন সৃষ্টি নেই, ধ্বংস নেই এটা কেবল একরূপ থেকে অন্যরূপে রূপান্তরিত হয়।” মহাবিশ্ব হচ্ছে শক্তির সমষ্টি। E=mc2 সূত্রানুসারে বস্তুর ভরটাও হল শক্তি। প্রশ্ন, এই শক্তি উৎস কী? বলা হয়ে থাকে, শুন্যের উৎসমূল শূণ্যতা থেকে। প্রশ্ন হতে পারে, শূণ্য মানে কি শুধুই শুন্য অর্থাৎ কিছুই নয় কিংবা কিছুই না? এর উত্তর Modern Cosmological Standard Model এর কোয়ান্টাম থিওরি মতে, শূণ্যতা আসলে শূন্যতা নয় এটা হল বিশাল হিগস ক্ষেত্র। এর ভেতরে আছে কোয়ান্টাম ফ্ল্যাকচুয়েশন ভ্যাকুয়াম এনার্জি! প্রশ্ন হল, এই ভ্যাকুয়াম এনার্জিটা কোথা থেকে আসে? যেহেতু এটা একটা এনার্জি (শক্তি) তাই এই শক্তিটা অন্যকারো রূপান্তরিত রূপ হতে বাধ্য। শূণ্য থেকে শূণ্য হয়, শূণ্য থেকে শক্তি হয়না। কথিত শূণ্যতার ক্ষেত্রে ভ্যকুয়াম এনার্জি থাকে এটা ভাল। কিন্তু এই ভ্যাকুয়াম এনার্জি কই থেকে আসে তার তার বিশ্নেষণ কি কখনো বিবেচনা করা হয়েছে ? শক্তি নিজেই পরিচয় বহণ করে সে অন্যকারো পরিবর্তিত রূপ। তাহলে গোড়ায় একটি আদিম বা প্রাইমেটিভ শক্তির অস্তিত্ব বাধ্যতামূলক। প্রশ্ন হল, ওই প্রাইমেটিভ শক্তিটা কি ছিল? শুরুতে এমন কোন প্রাইমেটিভ শক্তি ছিল যা শূণ্যতাকেও ভ্যাকুয়াম এনার্জি দিল? মহাবিশ্বের সবকিছু পরিবর্তনশীল। প্রশ্ন হল পরিবর্তন কি স্বত:স্ফূর্ত? নিজে নিজে হতে পারে? নিউটনের প্রথম সূত্র বলে, “বাহ্যিক কোন বল প্রয়োগ না করলে স্থির বস্তু চিরকাল স্থির ও গতিশীল বস্তু চিরকাল গতিশীল থাকবে”। অর্থাৎ, বস্তুর অবস্থার পরিবর্তনে বাইরের বল (শক্তি) প্রয়োজন। মহাজাগতিক তার (Cosmic string)/স্ট্রিং: মহাবিশ্বের বস্তুগত মূল অবকাঠামোর ভিত্তি! বর্তমান বিজ্ঞানে ‘Cosmic String' তথা মহাজাগতিক তার (স্ট্রিং) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় যা খুবই উচ্চ পর্যায়ের জ্ঞান সমৃদ্ধ। বিংশ শতাব্দির ৮০-র দশকে প্রথমবারের মতো বিজ্ঞান ‘Cosmic String' তথা মহাজাগতিক তার (স্ট্রিং) সম্পর্কিত সৃষ্টিতত্ত্ব উপস্থাপন করে বিশ্বে রীতিমত তাক লাগিয়ে দেয়। Big Bang model গবেষণাকারী বিজ্ঞানগণ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে গিয়ে এই মহাজাগতিক তারের উপস্থিতি এবং এ মহাবিশ্বের সৃষ্টির একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে এই তারের যাদুময়ী কর্মকাণ্ড সম্পর্কে ধারণা লাভ করতে থাকে। এ মহাজাগতিক তারগুলো (Cosmic strings) লম্বায় লক্ষ লক্ষ আলােকবর্ষ কিংবা তার চেয়েও বেশি লম্বা। কিন্তু ব্যাস এত সূক্ষ্ম যে কল্পনা করাও বেশ দুরূহ ব্যাপার। গাণিতিকভাবে প্রকাশ করলে দাঁড়ায় ১০-৩৩ cm প্রায়। অর্থাৎ ১ সে.মি. দৈর্ঘ্যকে ১০০ কোটি, কোটি, কোটি কোটি দিয়ে ভাগ করলে যা হবে তার সমান মাত্র। এদের আকৃতি কোথাও কুণ্ডলীর মতো, কোথাও আংটির মতো, কোথাও সর্পিল আবার কোথাও দেখতে কটিবন্ধের মতো । Cosmic strings-এর পদার্থ ভর অকল্পনীয়, বিরাট ও বিশাল, মাত্র কয়েক কিলোমিটার তারের ভর সমগ্র পৃথিবীর ভরের চাইতেও কয়েক গুণ বেশি। এ তারগুলো খুবই শক্তিশালী এবং এদের ঘনত্ব 'ব্ল্যাক হোলের ঘনত্বের চেয়েও বেশি।যেহেতু স্ট্রিং থিওরি হল গানিতিকভাবে গঠিত একটি কোয়ান্টাম মেকানিক্সের তত্ত্ব,- তাই স্পিন-২ টাইপে গ্রাভিটনের অস্তিত্ব এটাই প্রমাণ করে যে, স্ট্রিং তত্ত্ব কার্যতঃ কোয়ান্টাম গ্রাভিটিরই (মহাকর্ষের কোয়ান্টাম রুপ) পরিপূরক এক অভিন্ন তত্ত্ব । এই তত্ত্ব মতে, তারগুলো মূলতঃ ২ প্রকার। ক) খোলা এবং খ) বন্ধ দুই ধরনেরই হতে পারে। খোলা তারগুলোর দুই প্রান্ত একটি আরেকটির সাথে জোড়া না লেগে আলাদা আলাদাভাবে থাকে, আর বন্ধ তারগুলোর দুই প্রান্ত পরস্পরের সাথে জোড়া লেগে লুপ গঠন করে। খোলা তারগুলোর চেয়ে বন্ধ তারগুলো কিছুটা ভিন্ন ভাবে আচরণ করে থাকে। বন্ধ তারগুলো গ্রাভিটন উৎপন্ন করে, অপরদিকে শুধুমাত্র খোলা তারগুলো ফোটনের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ আচরণ করে। স্ট্রিং থিওরি মতে কোয়ার্কই শেষ ক্ষুদ্রতম কণা নয় মহাবিশ্বের সার্বিক কার্যক্রমে বলের দিক থেকে ৪ প্রধান বল যথাক্রমে ১.মহাকর্ষ বল ২. সবল নিউক্লীয় বল ৩. দূর্বল নিউক্লীয় বল এবং ৪.চৌম্বুক তড়িৎ.বল। অন্যদিকে কণা বিবেচনায় এ পর্যন্ত আবিস্কার বিবেচনায় মহাবিশ্বের মূল কণিকার সংখ্যা হলো ১৬। যার মধ্যে ১৪টি ফার্মিয়ান গোত্রের কণা আর আলোর ফোটন কণাসহ বাকী চারটিকে বলা হয় বোসন শ্রেণীর কণা। এই ১৬টি মৌলিক কণার মধ্যে সবচেয়ে ক্ষুদ্রতম কণা হচ্ছে কোয়ার্ক কণা। এটি মাত্র ১০-১৬ সেন্টিমিটার অআয়তন বিশিষ্ট। এমনকি ইলেকট্রনের চাইতেও ক্ষুদ্র। কোয়া‌র্কের চাইতে ক্ষুদ্রতম কণা এ যাবৎ পাওয়া যায় নি।তবে পদার্থ বিজ্ঞানীরা শতভাগ নিশ্চিত নয় যে, কোয়ার্কই প্রকৃতির সবচেয়ে ক্ষুদ্রতম। স্ট্রিং থিওরি মতেও ‌কোয়ার্কই একমাত্র সর্বশেষ ক্ষুদ্রতম কণা নয়। আরও ক্ষুদ্রতম অণু কণা রয়েছে যার ক্ষুদ্রাতি ক্ষুদ্রতা হচ্ছে প্রায় ১০-৩৩ সেন্টিমিটার। এ মতে, কণাগুলি বিন্দুর মত নয়, কম্পমান সুতার ন্যায় লম্বাটে যা অনেকটা একমাত্রিক তারের মতো-যার কারণে এটাকে বলা হয় কম্পনমান লম্বাটে স্ট্রিং সুতা কিংবা তার (ওয়্যার) । স্ট্রিংয়ের কম্পনে নিহিত মহাবিশ্ব সৃষ্টির বস্তুগত অবকাঠামোর মূলকথা এই কম্পনের মাত্রার উপর নির্ভর করে কোন বস্তু কিংবা বস্তুকণা কিরূপ হবে।স্ট্রিং বা সুতার কম্পনের মাত্রা বিভিন্ন প্রকারের হয়ে থাকে। যেমন ইলেকট্রনের জন্য তন্তুর (স্ট্রিং) কম্পন মাত্রা একর কম।কোয়ার্কের জন্য তন্তুর কম্পন মাত্রা আবার আরেক রকম। অন্য ১৪টি কণার জন্য তন্তুর আলাদা মাত্রার কম্পন নির্দিষ্ট আছে। তন্তুর কম্পনের মাত্রাই ঠিক করে দেয়, তা থেকে সৃষ্ট কণার ভর, চার্জ, স্পিন কেমন হবে। এই বৈশিষ্ট্যগুলোই একধরণের কণা থেক আরেক ধরণের কণার মধ্যে পার্থক্য তৈরি করে। এসব বিচিত্র কণা দিয়েই গড়ে উঠেছে আমাদের মহাবিশ্ব। এই মহাবিশ্ব তাই সুতায় বোনা মহাবিশ্ব (বিজ্ঞানচিন্তা বর্ষঃ ৬ সংখ্যাঃ ০১, অক্টোবর, ২০২১, পৃষ্ঠাঃ ৫৪)। স্ট্রিং থিওরির আদি কথা স্ট্রিং থিওরির প্রাথমিক নাম ছিল বোসনিক স্ট্রিং থিওরি। স্ট্রিং থিওরির এই মডেলটি ছিল খুব নিম্ন শক্তির “কোয়ান্টাম গ্র্যাভিটি” সংক্রান্ত।এটি ফোটনের মত কেবল “গেজ বোসন” কনিকার আচরণ ব্যাখ্যা করত। স্ট্রিং থিওরিতে পরকালীন (আখেরি) জীবনের ধারণা! স্ট্রিং তত্ত্বমতে, স্থান-কাল ক্রমে ক্ষয়ে যেতে থাকবে এবং এক সময় নিজের উপর দুমড়ে মুচড়ে পড়বে। মহাবিশ্বের কণাগুলো যে বিন্দুতে বসে আছে, ওগুলো অ্যাবসুলেট মিনিমাম নয়; লোকাল মিনিমাম। একটা সময় গিয়ে লোকাল মিনিমাম অবস্থা ভেঙ্গে পড়তে পারে। তখন কণাগুলো আর এই বিন্দুতে থাকতে পারবে না। চলে যাবে অ্যাবসুলেট মিনিমাম শক্তির বিন্দুতে। আর সেই বিন্দুগুলো আসলে আলাদা আরেকটা মহাবিশ্বের (যেটা আসলে অ্যাকচুয়াল মহাবিশ্ব) অংশ। তাই লোকাল অবস্থা ভেঙ্গে পড়লে আমাদের বর্তমান মহাবিশ্বের আর অস্তিত্ব থাকবেনা অর্থাৎ বিগ ব্যাং পূর্ব হাইয়েস্ট এনার্জেটিক রেডিয়েশন নামক মহা আলোর পরম বিন্দু সিঙ্গুলারিটি তথা স্ট্রিংয়ে পরিণত হবে । ফলে, এই মহাবিশ্বের সব উপাদান চলে যাবে আরেকটা মহাবিশ্বে। এটা যদি ঘটে, তাহলে মহাবিশ্বের তাপীয় মৃত্যুর আগেই আমরা অ্যাকচুয়াল মহাবিশ্বে চলে যাব। মহাবিশ্বের জন্ম শক্তি থেকে এবং এর বিকাশ বুদ্ধিমত্তা থেকে এটা অনস্বীকার্য যে,হাইয়েস্ট এনার্জেটিক রেডিয়েশন নামক বস্তুগত অবকাঠামো ঘিরে শক্তিমূলে বিগ ব্যাং (মহাবিস্ফোরণ) এর মাধ্যমে মহাবিশ্ব জন্ম নিয়েছিল সত্য কিন্তু এর বিকাশ হয়েছিল প্রখর বুদ্ধিমত্তা দিয়ে। বস্তু কেন্দ্রিক মহাবিশ্বের সত্য জানার ভিত্তি ডেমোক্রিটাস বৈজ্ঞানিক উপায়ে বস্তু কেন্দ্রিক মহাবিশ্বের সত্য জানার আদি ভিত্তি ছিলঃ প্রাচীন গ্রীক দার্শনিক ডেমোক্রিটাস আবিস্কৃত অ্যাটম। অ্যারিস্টটল পরবর্তী ধারাবাহিকতায় আরেক গ্রীক দার্শনিক অ্যারিস্টটল ১) মাটি ২) পানি ৩) আগুন এবং ৪) বাতাস বস্তুগত এই চতুর্মাত্রিক বিশ্বের ধারণা প্রকাশ করেন। জাবির ইবনে হাইয়ান রহিমাহুল্লাহ মধ্যযুগে ১) পারদ এবং সালফার ২) এই দ্বিমাত্রিক বস্তুগত মহাবিশ্বের ধারণা নিয়ে মধ্যযুগে আবির্ভাব হন আহলি বাইতি রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শেষ প্রদীপ খ্যাত হযরত জাফর সাদেক রহিমাহুল্লাহর বৈজ্ঞানিক সারগেদ জাবির ইবনে হাইয়ান রহিমাহুল্লাহ। আইজাক নিউটন স্যার আইজাক নিউটনের মহাবিশ্ব তত্ত্ব মূলত ১৬৮৭ সালে তাঁর প্রকাশিত ফিলোসফিয়া ন্যাচারালিস প্রিন্সিপিয়া ম্যাথমেটিকা গ্রন্থে বর্ণিত। এটি মহাকর্ষের সার্বজনীন সূত্র এবং গতির তিনটি সূত্রের ওপর প্রতিষ্ঠিত। এই তত্ত্বের মূল ভিত্তি হলো, মহাবিশ্বের প্রতিটি বস্তু কণা অন্য প্রতিটি বস্তুকণাকে নিজের দিকে আকর্ষণ করে।পদার্থ বিজ্ঞানী আইজাক নিউটনের মাধ্যমে পদার্থভিত্তিক ক্ল্যাসিক্যাল বল বিজ্ঞানের উদ্ভব ঘটে যার ব্যাপ্তিকাল ছিল তিন শত বছর। অতঃপর ম্যাক্স প্ল্যাংক কর্তৃক বস্তুবাদ কোয়ান্টাম মেকানিক্সের নামে নতুন বিজ্ঞানের সূচনা ঘটলে ডিজিটাল যুগের অগ্রযাত্রা শুরু হয়। নিউটনের মহাবিশ্ব তত্ত্ব কিন্তু তাতেও বিশ্ব প্রকৃতির সত্য উদঘাটনে কূল কিনারা খূঁজে পাচ্ছেন না বিজ্ঞানীরা। বরং কোয়ান্টাম মেকানিক্সের মাধ্যমে অতিপারমাণবিক জগতের অন্দর মহলের গভীর থেকে গভীরে যতই প্রবেশ করছেন বিজ্ঞানীদের ততই অজানার পাল্লাই যেন ভারি হয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে ডার্ক ম্যাটার-ডার্ক এনার্জি, স্ট্রিং থিওরি, কোয়ান্টাম মেকানিক্সের আবর্তে পড়ে বিজ্ঞানীদের এখন গবেষণা যেন দাড়িয়েছে ত্রাহি অবস্থা। উল্লেখ্য, আইনস্টাইনের বিশ্বাস ছিলঃ নিউটন প্রকৃতির সব ভাষা বুঝতেন। গণিতভিত্তিক নিউটনের ক্ল্যাসিকাল বল বিজ্ঞানের বদৌলতে বিংশ শতাব্দীর প্রথম দশকের প্রথম বর্ষ পর্যন্ত বিশ্ব প্রকৃতির জানার হার যেখানে শত ভাগ ছুঁই ছুঁই করছিল, কেবল বাকী ছিল ভূমিকম্প, দাবানল, অগ্নুৎপাত আর আবহাওয়ার শতভাগ সঠিক পূর্বাভাষ সেখানে ১৯২০ সালে আবিস্কৃত হাবল টেলিস্কোপের বদৌলতে জানার হার চার শতাংশে দাড়ালেও হালে জেমস ওয়েবের আবর্তে পড়ে আরও অবনতি ঘটছে মর্মে কোরা ডাইজেষ্ট সূত্রে ২০২৫ সালের অক্টোবরে জানা যায়। অথচ প্রখ্যাত মার্কিন জ্যোতি-পদার্থ বিজ্ঞানী কার্ল সাগানের মতে, বিজ্ঞান কখনও শেষ হবে না। তাই পদার্থ বিজ্ঞানের সফল উপসংহার টানতে বিজ্ঞানীরা মরিয়া হয়ে উঠছেন ০০০এখন সর্বোচ্ঢ গবেষণা করে যাচ্ছেন গ্র্যান্ড ইউনিফিকেশন থিওরির মাধ্যমে থিওরি অব এভরিথিং-এ পৌছতে । এ ক্ষেত্রে বিজ্ঞানীদের জন্য আশার আলো হয়ে উঠেছে স্ট্রিং থিওরি। মহাকর্ষ এবং মাধ্যাকর্ষণ শক্তির বাস্তবতা https://www.linkedin.com/pulse/মহকরষ-মহবশবর-মহবসময়-muhammad-sheikh-ramzan-hossain/ অ্যারিস্টটলের মতে স্বর্গীয় কারণে বস্তু উপরে উঠে এবং নারকীয় কারণে বস্তু নিম্নগামী হয়। গ্যালিলিওর মতে, হালকা পাখির পালক এবং ভারী সোনার কয়েন উভয় বস্তু বায়ু শুন্য স্থানে একসাথে নিম্নগামী হয়ে থাকে। হালকা বস্তুুতে বাতাসের উর্ধ্বগতির প্রভাব বেশি থাকায় ভারী বস্তুুতে প্রভাব কম থাকায় বাতাস হালকা বস্তুুকে উপরে উঠানোর কারণে পাখির পালক দেরিতে পতিত হয়েছিল। মহাকর্ষ বিষয়ে সেই প্রাচীন যুগে গ্রীক দার্শনিক অ্যারিস্টটল থেকে শুরু করে গ্যালিলিও, নিউটন গড়িয়ে আইনস্টাইন পর্যন্ত কূল কিনারা হাতিয়ে পাচ্ছিলেন না। তৎকালীন সোভিয়েত রাশিয়ান যুগে প্রথম বারের মত সয়ুজ-২ (Soyuz-2) যখন পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ ছাড়িয়ে যায় তখনই প্রমাণিত হয় মহাকর্ষ বা মাধ্যাকর্ষণ বলতে একটা অদৃশ্য কিছু প্রকৃতিতে জীবন্ত রয়েছে। মহাকর্ষের জন্য গ্র্যাভিটন অপরিহার্য হয়ে পড়ে ১৯৭০ সালে যখন আবদুস সালাম গংরা তিন মহাবলের তাত্ত্বিক সমাধান খুঁজে পান এসব বলের প্রতিবলের অস্তিত্ব আবিস্কারের মাধ্যমে। তবে মহাকর্ষের প্রতিকণা কোয়ান্টাম গ্র্যাভিটন আজও সায়েন্স ফিকশনই রয়ে যায়। ,তাই গ্র্যাভিটনের নাগাল পেতে বর্তমানে পদার্থ বিজ্ঞানীরা সর্বোচ্চ মেধা, শ্রম, অর্ধ ব্যয় করে চলেছেন। শুধু তা-ই এই জন্য় নানারূপ অসাধারণ কল্পনা করতেও বিজ্ঞানীরা দ্বিধাবোধ করছেন না। বস্তুতঃ এখন বিজ্ঞানীদের ভীষণভাবে পেয়ে বসে মহাকর্ষের প্রতিবল বা প্রতিকণা কোয়ান্টাম গ্র্যাভিটন সম্পর্কিত নিম্নোক্ত প্রশ্ন এবং বিষয়াবলীকে ঘিরেঃ "কখনো কি ভীষণ বিস্ময়ে ভেবেছেন, আপনি পৃথিবীতে আটকে আছেন কেন? মহাকাশে ছিটকে পড়ছেন না কেন? এর একটিই উত্তর, মহাকর্ষ" । "প্রথমত স্ট্যান্ডার্ড মডেলে মহাকর্ষকে খাপ খাওয়াতে গেলে মহাকর্ষও কোনো কণার মাধ্যমে স্থানান্তরিত হয় বলে কল্পনা করে নিতে হয়। পদার্থবিদেরা এই হাইপোথেটিক্যাল কণার একটি নামও দিয়েছেন—‘গ্র্যাভিটন’। বাংলায় বলা যায় মহাকর্ষ কণা। এ কণার অস্তিত্ব যদি সত্যিই থাকে, তাহলে আপনি শুয়ে, বসে বা দাঁড়িয়ে যেখানেই থাকুন না কেন, আপনার দেহ থেকে অনবরত অতিক্ষুদ্র বলের মতো গ্র্যাভিটন কণা ছুটে যাচ্ছে ভূপৃষ্ঠের দিকে। আবার ভূপৃষ্ঠ থেকেও একই রকম কোয়ান্টাম কণা ছুটে আসছে আপনার দিকে। এই দুই মহাকর্ষ কণা বিনিময়ের কারণে আপনি পৃথিবীর বুকে আটকে থাকতে পারছেন। কারণ ওই গ্র্যাভিটন কণার অবিরাম স্রোত দুইয়ের মধ্যে বিনিময় হচ্ছে "। ০০০ সাধারণ আপেক্ষিকতা। তত্ত্বে মহাকর্ষকে দুটি বস্তুর মধ্যে কোনো বলের টান হিসেবে ভাবা হয় না, বরং ভাবা হয় স্থানের বিকৃতির ফল হিসেবে। ০০০০এ তত্ত্ব বলে, কোনো বস্তু বা শক্তির উপস্থিতিতে তার চারপাশের নমনীয় চাদরের মতো স্থান বেঁকে যায়। এতে বস্তুটির কাছের বস্তুগুলোর গতিপথ বদলে যায়। আইনস্টাইনের চিত্রমতে, মহাকর্ষ বল বলে কিছু নেই, আসলে পুরোটাই স্থানের বিকৃতি বা বক্রতার ফল। ০০০ এ তত্ত্ব ব্যাখ্যা করে, আলো কেন বস্তুর চারপাশে বেঁকে যায় এবং আপনার জিপিএস কেন কাজ করে। এমনকি কৃষ্ণগহ্বরের ভবিষ্যদ্বাণী করে তত্ত্বটি। সমস্যা হলো সাধারণ আপেক্ষিক তত্ত্বটাকে কোয়ান্টাম বলবিদ্যার মতো অন্য কোনো মৌলিক তত্ত্বের সঙ্গে একত্র করা সম্ভব হয়নি। ০০০কোয়ান্টাম মেকানিকস অনুযায়ী, মহাবিশ্বের চিত্র একটু আলাদা। এ তত্ত্বে স্থানকে সমতল পটভূমি হিসেবে দেখা হয়। কিন্তু সাধারণ আপেক্ষিকতা অনুসারে, স্থান গতিশীল ও নমনীয়, যা সময়ের সঙ্গে মিলে স্থান-কাল গঠন করে। কাজেই বস্তুর ভর বা শক্তি স্থান-কালকে বাঁকিয়ে দিতে পারে। তাহলে প্রশ্ন আসে, কোন চিত্রটা সঠিক? মহাকর্ষ কি স্থানের বক্রতা নাকি কণার মধে৵ অজানা উড়ন্ত কোয়ান্টাম বল? মহাবিশ্বের সবকিছুই আসলে কোয়ান্টাম মেকানিকসের নিয়ম মেনে চলে। তাই মহাকর্ষও যদি সেই নিয়ম মেনে চলে, তাহলে বিষয়টা আমাদের জন্য বোধগম্য হয়ে উঠত। কিন্তু গ্র্যাভিটন বা মহাকর্ষ কণা এখন পর্যন্ত কাগজে–কলমেই সীমাবদ্ধ। গ্র্যাভিটন নামের কোনো কোয়ান্টাম কণার অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি। ০০০কোয়ান্টাম মেকানিকস এবং আপেক্ষিকতার মিলনে নতুন যে তত্ত্ব পাওয়া যাবে, তার পোশাকি নাম কোয়ান্টাম গ্র্যাভিটি বা কোয়ান্টাম মহাকর্ষ। কিন্তু সমস্যা হলো সেটি কেমন হবে? কেউ জানে না। পদার্থবিজ্ঞানীরা মাঝেমধ্যে তাত্ত্বিকভাবে এ ধরনের কণার ভবিষ্যদ্বাণী করেন, পরে সেগুলো পরীক্ষামূলকভাবে পাওয়া যায়। সম্প্রতি লার্জ হ্যাড্রন কলাইডারে পাওয়া হিগস বোসন এমন একটি কণা। কিন্তু কোয়ান্টাম মেকানিকস আর আপেক্ষিকতাকে একীভূত করতে পদার্থবিদেরা এখন পর্যন্ত যতবার চেষ্টা করেছেন, ততবারই ব্যর্থ হয়েছেন। এসব চেষ্টায় অসীমের মতো কিছু ফল পাওয়া গেছে,। কোয়ান্টাম মেকানিক্স আর আপেক্ষিকতার একীভূতকরণের ব্যাপারটি আপেক্ষিক। এটি কোয়ান্টাম গ্র্যাভিটনের ব্যাপারে ব্যর্থ হতে পারে কিন্তু ফটো ইলেক্টিক ইফেক্টে আইনস্টাইন ঠিকই আপেক্ষিকতাকে সফলভাবে একীভূত করে নোবেল পুরস্কারে ধন্য হয়েছিলেন। তাই অদূর ভবিষ্যতে গ্র্যাভিটনের ব্যাপারে সফল হওয়ার ব্যাপারে আশা করা যেতে পারে। ০০০তবে আশার কথা হলো, একদিন হয়তো ভালো কোনো আইডিয়া মাথায় উঁকি দিতেও পারে, যার মাধ্যমে এই বিপরীতধর্মী তত্ত্ব দুটিকে একত্র করা যাবে। তাঁদের এসব চেষ্টার ফসলের মধ্যে রয়েছে স্ট্রিং থিওরি এবং লুপ কোয়ান্টাম গ্র্যাভিটি। তবে এই তত্ত্ব দুটি সঠিক কি না, তা–ও আমরা জানি না। কারণ সেগুলো পরীক্ষা করে দেখাও কঠিন। তত্ত্ব দুটি পরীক্ষামূলকভাবে সত্যি প্রমাণ করতে আমাদের অবিশ্বাস্য রকম বড় পার্টিকেল অ্যাকসিলারেটর দরকার। একেকটা অ্যাকসিলারেটরের আকৃতি হবে আমাদের সৌরজগতের সমান। সেটি এই মুহূর্তে আমাদের পক্ষে বানানো অসম্ভব। WSTRC আইনস্টাইন যেমন অতি সহজ-সরল যুক্তিতে বিশেষ ভর শক্তি সমীকরণে বলেছিলেনঃ বস্তু কণার গতি বাড়ার সাথে সাথে স্বাভাবিকভাবে ভর বেড়ে যায় আর ভর বেড়ে গেলে গতি কমে যায়-এটা সাধারণ যুক্তি। কিন্তু বিশেষ যুক্তি হচ্ছেঃ অসীম শক্তি প্রয়োগ করা হলে কেবল বস্তুকণার গতি কমবে না। উল্লেখ্য, ২০১২ সালে সার্ণ কর্তৃক কণা চূর্ণকরণ সাইক্রোটন যন্ত্র লার্জ হ্যাড্রন কলাইডারে বিলিয়ন বিলিয়ন প্রোটন কণাকে ৮ টেরা ভোল্ট শক্তি প্রয়োগ করে সৌর কেন্দ্রের ন্যায় উত্তাপ সৃষ্টি করে সেকেন্ডে ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন কম্পন সৃষ্টি করে কৃত্রিমভাবে মহাবিশ্বের আদি ভরযুক্ত হিগস বোসন কণা উদ্ভব ঘটাতে গিয়ে প্রোটন কণাসমূহ প্রায় আলোর ‌কাছাকাছি গতি অর্জন করেছিল। ১৩ টেরা শক্তি সম্পন্ন সাইক্রোটন যন্ত্র নির্মাণ সম্ভব হলে অনেকটা নিশ্চিত যে, প্রোটন কণারা আলোর গতি ছাড়িয়ে যাবে। তবে তা পৃথিবীর জন্য বিপর্যয় বয়ে অআনতে পারে মর্মে বিজ্ঞানীদের অআশংকা। কারণ, ৮ টেরা ভোল্ট শক্তি প্রয়োগের ফলে সৌর কেন্দ্রের ন্যায় উত্তাপ সৃষ্টি হয়েছিল। খুব উচ্চশক্তির পার্টিকেলগুলোর বিস্ফোরণ ঘটালে স্ট্রিংগুলোর কাঠামো দেখতে পাওয়া যাওয়ার কথা( অশোক সেন, বিশিষ্ট স্ট্রিং তত্ত্ব বিজ্ঞানী, হরিশচন্দ্র রিসার্চ সেন্টার, ভারত )। ০০০মহাকর্ষ বল তার সঙ্গীদের চেয়ে একেবারেই আলাদা। মহাবিশ্বের অন্যতম বড় রহস্য এটা। এই জটিল ধাঁধা সমাধানে আমরা কী করছি? মহাকর্ষ আলাদা ব্যাচেলার কোনো মহাবল নয় যেমন নয় অপর তিন বলও। মহাবিশ্ব কীভাবে কাজ করে, তা বোঝার একটি পন্থা হলো পরীক্ষা করে দেখা। তারপর চৌকস কোনো আইডিয়া দিয়ে পর্যবেক্ষণকে ব্যাখ্যা করা। সে হিসেবে আমরা সাধারণ আপেক্ষিক তত্ত্ব এবং কোয়ান্টাম মেকানিকসের মধ্যে কোনটা সঠিক এবং কোনটা অকার্যকর, তা পরীক্ষা করে দেখতে পারি। যেমন আমরা যদি পরীক্ষা করে দেখতে পাই, দুটি বস্তু পরস্পরের মধ্যে গ্র্যাভিটন কণা বিনিময় করছে, তাহলে চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হবে যে মহাকর্ষ হলো কোয়ান্টাম পরিঘটনা। ০০০০ মহাকর্ষঃ টানে কিন্তু বাধনে জড়ায় না কেন? ০০০০তাহলে রহস্যময় মহাকর্ষের সঠিক ব্যাখ্যা কী? এই বলটা দুর্বল কেন? মহাকর্ষের প্রভাব বলেন আর প্রতিপত্তি বলেন, তা বিশাল, বিপুল। অনেক বড় পরিসরের। অথচ মহাবিশ্বের চারটি মৌলিক বলের মধ্যে মহাকর্ষই সবচেয়ে দুর্বল। কিন্তু কতটা দুর্বল?সেটি শুনলেও অনেকের চোখ কপালে উঠে যেতে পারে। মোটা দাগে বললে, অন্য তিনটি মৌলিক বলের তুলনায় প্রায় ১০৩৬ ভাগ দুর্বল এই মহাকর্ষ। অর্থাৎ ১/১,০০০,০০০,০০০,০০০,০০০,০০০,০০০,০০০,০০০,০০০,০০০,০০০ ভাগ। এত বড় সংখ্যা উপলব্ধি করা সহজ নয়। একটু সহজ উদাহরণ দেওয়া যাক। ধরুন, আপনার কাছে একটি পেঁপে আছে। পেঁপেটা কেটে চার ভাগ করলে এর প্রতিটি টুকরা হবে পেঁপেটির এক–চতুর্থাংশ। পেঁপেটাকে ১০৩৬ ভাগ করা হলে প্রতিটি টুকরোর আকার হবে পেঁপের একটি অণুর চেয়েও ছোট। আর পেঁপের একটি অণুর সমান টুকরার আকার করতে চাইলে আপনাকে প্রায় ২০ লাখ পেঁপে কেটে সমান ভাগে টুকরা করতে হবে। বোঝা গেল, ব্যাপারটা? অন্যান্য বলের তুলনায় মহাকর্ষের দুর্বলতা কতটুকু, তা বুঝতে আরেকটা পরীক্ষা করা যায়। সে জন্য দরকার হবে একটি চিরুনি ও ছোট ছোট টুকরা করে কাটা কিছু কাগজ। শুকনা চিরুনিটা দিয়ে আপনার মাথার শুকনো চুল কিছুক্ষণ আঁচড়ে কাগজের টুকরার কাছে ধরুন। দেখা যাবে, কাগজের টুকরাগুলোকে চিরুনিটা আকর্ষণ করছে। কিছু কাগজ চিরুনির সঙ্গে লেগেও যাবে। এর কারণ স্থির বিদ্যুৎ। চিরুনির সামান্য বিদ্যুৎ–চৌম্বকীয় বলও কাগজের টুকরাগুলোকে চিরুনির সঙ্গে আটকে রাখে। অথচ কাগজের টুকরাগুলোর ওপর পৃথিবীর মহাকর্ষ কাজ করছে। কিন্তু গোটা পৃথিবীর মহাকর্ষও চিরুনির সেই আকর্ষণ ঠেকাতে পারছে না। এতে বোঝা যায়, বিদ্যুৎ–চৌম্বকীয় বলের তুলনায় মহাকর্ষ কত দুর্বল। একটি ছোট চুম্বক লোহাজাতীয় কিছুর কাছে ধরলে তা বিশাল পৃথিবীর মহাকর্ষকে বুড়ো আঙুল দেখাবে। মহাকর্ষ যদি এত দুর্বলই হয়, তাহলে মহাবিশ্বে তার গুরুত্ব আসলে কী? ০০০০অনেকে হয়তো ভাবছেন, মহাকর্ষ যদি এত দুর্বলই হয়, তাহলে মহাবিশ্বে তার গুরুত্ব আসলে কী? শক্তিশালী অন্য বলের কাছে মহাকর্ষ কি ধরাশায়ী হবে না? তাহলে গ্রহ আর নক্ষত্রগুলোকে মহাকর্ষ কীভাবে নির্দিষ্ট কক্ষপথে ধরে রেখেছে? অন্যান্য বলের প্রভাবে সেগুলো ছিটকে যাচ্ছে না কেন? কিংবা অন্য বলগুলো যদি এত শক্তিশালী হয়, তাহলে তারা মহাকর্ষের ওপরে প্রভাব বিস্তার করে মহাকর্ষ বলকে মহাবিশ্ব থেকে নিশ্চিহ্ন করে ফেলতে পারছে না কেন? এর উত্তর হলো, অনেক বড় পরিসরে মহাকর্ষ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আবার বিপুল ভরের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ এই বল। কেন মহাকর্ষ অন্য বলগুলোর মতো নয়? ০০০০ কেন মহাকর্ষ অন্য বলগুলোর মতো নয়? এর কারণ এমনও হতে পারে, মহাকর্ষ হয়তো বিশেষ কোনো বল।০০০০মহাকর্ষের দুর্বলতা ব্যাখ্যার জন্য মাথা ঘুরিয়ে দেওয়ার মতো একটি আইডিয়া হলো অতিরিক্ত মাত্রার ধারণা। এ ধারণামতে, আমরা চার মাত্রা নয়, তার চেয়ে বেশি মাত্রার বিশ্বে বাস করি। কিছু পদার্থবিদ বলেন, মহাকর্ষ অন্য মাত্রাগুলোতে চলে যাওয়ার কারণে দুর্বল হয়ে গেছে। অতিরিক্ত মাত্রাগুলোকে আমলে নিলে মহাকর্ষ আসলে অন্য বলগুলোর মতোই শক্তিশালী। কিন্তু সেটিও ঠিক নয়, বেঠিক তা প্রমাণ করার উপায়ও এখনো আমাদের জানা নেই। মহাকর্ষকে অন্য বলের মতো হতে হবে-এমনটা না–ও হতে পারে মহাকর্ষকে অন্য বলের মতো হতে হবে কিংবা একটিমাত্র তত্ত্ব দিয়েই সবকিছু ব্যাখ্যা করতে হবে, এমনটা না–ও হতে পারে। বড় দৃষ্টিভঙ্গির দিকে আমাদের মন খোলা রাখতে হবে ০০০০ বড় দৃষ্টিভঙ্গির দিকে আমাদের মন খোলা রাখতে হবে। কারণ, মহাবিশ্বের মৌলিক কিছু সত্য সম্পর্কে আমরা এখনো অন্ধকারে রয়ে গেছি। বিভিন্ন ক্ষেত্রে আমরা এমন কিছু অনুমান করেছি, যা পরবর্তী সময়ে ভুল বলে প্রমাণিত হয়েছে। কিংবা নির্দিষ্ট বা বিশেষ কিছু শর্ত সাপেক্ষে তা সত্য। এমনও হতে পারে, মহাকর্ষ ভিন্ন কিছু ০০০০এমনও হতে পারে, আমাদের আগের জানা যেকোনো কিছুর চেয়ে মহাকর্ষ ভিন্ন কিছু। কে জানে উল্টোটাও হয়তো সত্যি ০০০০যার কথা আমরা আগে কখনো ভাবতে পারিনি। কিংবা কে জানে উল্টোটাও হয়তো সত্যি। মনে রাখতে হবে, আমাদের লক্ষ্য হলো মহাবিশ্বকে সঠিকভাবে বুঝতে পারা ০০০০ মনে রাখতে হবে, আমাদের লক্ষ্য হলো মহাবিশ্বকে সঠিকভাবে বুঝতে পারা। তাই এটা আসলে কেমন, সে সম্পর্কে অনেক বেশি অনুমান করা বাদ দিতে হবে। কখনো যদি দেখা যায়, মহাকর্ষ বিশেষ কিছু এবং অন্যান্য মৌলিক বলের চেয়ে এটা একেবারেই আলাদা কখনো যদি দেখা যায়, মহাকর্ষ বিশেষ কিছু এবং অন্যান্য মৌলিক বলের চেয়ে এটা একেবারেই আলাদা, সেটিই জোগান দিতে পারে মহাবিশ্বের বৃহৎ চিত্র সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ক্লু। এর মানে হয়তো মহাকর্ষ গভীর কিছু, যা মহাবিশ্বের নকশার মধ্যে গেঁথে আছে। WSTRC: WSTRC মনে করে যে, মহাকর্ষ নয়- বিশেষ কিছু হচ্ছে মহাকর্ষের প্রতিকণা গ্র্যাভিটন যা কোয়ান্টায়িত। অন্যান্য মৌলিক বলের চেয়ে এটা একেবারেই আলাদা নয়। মহাকর্ষেরও ধনাত্মক ঋণাত্মক চার্জ রয়েছে তবে তা মাধ্যাকর্ষণ শক্তি মিলে। মাধ্যাকর্ষণ এবং মহাকর্ষ এক এবং অভিন্ন নয়। মহাকর্ষ মহাকাশীয় বল বা শক্তি আর মাধ্যাকর্ষণ হচ্ছে পৃথিবীসহ সকল গ্রহ, চাঁদসহ সকল উপগ্রহ নিয়ে বিদ্যমান আকর্ষণীয় টান। অন্যান্য মৌলিক বলের চেয়ে মহাকর্ষ আলাদা হবে কেন? যদি মহাকর্ষ বিগ ব্যাং বা মহাবিস্ফোরণের পূর্বে হাইয়েস্ট এনার্জেটিক রেডিয়েশনে অপর তিন বলের সাথে একত্রে থাকতে পারে, এমনকি বিগ ব্যাং বা মহাবিস্ফোরণের পর মহাবিশ্ব প্রথমবারের মত দৃশ্যমান হওয়ার পরও অনেক কাল যাবৎ চার বল একত্রিত থেকে পরে পৃথক হতে পারে যা হয়নি ডার্ক ম্যাটার এবং ডার্ক এনার্জির ক্ষেত্রে তাহলে কেন এখন মহাকর্ষ পদার্থ বিজ্ঞান জগতে অসামাজিক খ্যাতি নিয়ে পৃথক থেকে যাবে? যদি অপর তিন সঙ্গি যদি সূর্য এবং পৃথিবীর ন্যায় ধনাত্মক এবং ঋণাত্মক উভয় চার্জ বিশিষ্ট হতে পারে তাহলে কেন মহাকর্ষ এক মাত্রিক অর্থাৎ কেবল আকর্ষণধর্মী হতে যাবে কোন্ দুঃখে? অআসলে মাধ্যাকর্ষণ এবং মহাকর্ষ দুটি পৃথক শব্দে লুকিয়ে আছে ধনাত্মক-ঋণাত্মক সম্পর্ক যাতে নিহিত অআছে স্বপ্নিল গ্র্যাভিটন। স্ট্যান্ডার্ড মডেল যেভাবে মহাকর্ষ এবং মাধ্যাকর্ষণকে সমার্থক এবং এক এবং অভিন্ন ভাবা হচ্ছে কেবল অআকর্ষণধর্মী হিসাবে ওয়ার্ল্ড সায়েন্স টেক সেরূপ মনে করে না। বরং প্রকৃতিগতভাবে উভয়ে সেরূপ যেরূপ ম্যাটার এন্টিম্যাটার, কোয়ার্ক এন্টি কোয়ার্ক যা মেসন কিংবা গ্লুয়নের প্রভাবে পরস্পর ভ্যানিশ না হয় বরং বিশ্বের বস্তুগত অবকাঠামোতে প্রাণশক্তিরূপে ভূমিকা রাখছে অনুরূপ মহাকর্ষ এবং মাধ্যাকর্ষণকে ধনাত্মক-ঋণাত্মক ধরা হলে তাতে মেসন-গ্লুয়নের মতই উপকারী এমন এক সত্বার উদ্ভব হতে পারে যা বহুল প্রত্যাশিত, স্বপ্নিল কোয়ান্টাম গ্র্যাভিটনের সম্ভাবনাকে উজ্জ্বল করবে বৈকি। কিন্তু কিভাবে? এ ব্যাপারে ওয়ার্ল্ড সায়েন্স-টেক রিসার্চ সেন্টারের বিশ্লেষণ নিম্নরূপঃ ................................................. প্রচলিত মিথ বা বদ্ধমূল ধারণা যে, মহাকর্ষ এবং মাধ্যাকর্ষণ অভিন্ন। নিউটন মাধ্যাকর্ষণ শক্তির মাধ্যমে সেরা বিজ্ঞানী । পক্ষান্তরে মহাকর্ষের সাথে মাধ্যাকর্ষণের বিপরীত্য অনুভব করে কার্যতঃ বিজ্ঞানী থেকে দার্শনিক তত্ত্বে ফিরে যান এবং দার্শনিক দৃষ্টিতে মহাকর্ষের যে সায়েন্স ফিকশন উত্থাপন করেন তাতে নিহিত ছিল কেবল গ্র্যাভিটনের ধারণা নয় উপরন্তু আগামীদিনের বিজ্ঞানীদের স্বপ্নিল স্ট্রিং থিওরি যাকে বলা হয় বিজ্ঞানীদের আশার আলো যাতে নিহিত রয়েছে গ্র্যান্ড ইউনিফেকশন থিওরি তথা থিওরি অব এভরিথিং যা জোগান দিচ্ছে মহাবিশ্বের বৃহৎ চিত্র সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ক্লু। আইজাক নিউটনের প্রাতঃস্মরণীয় দার্শনিক উক্তিটি নিম্নরূপঃ সূর্য এবং পৃথিবী যেন অদৃশ্য এক দড়িতে চিরকালের মতো বাধা পড়ে আছে। (স্যার আইজাক নিউটন)। WSTRC মনে করে যে, অদৃশ্য দড়ি (স্ট্রিং)টি আর কিছু নয় মহাকর্ষের প্রতিকণা গ্র্যাভিটন অআর স্ট্রিং থিওরির স্ট্রিং। যে প্রক্রিয়ায় মহাকর্ষ-মাধ্যাকর্ষণ পরস্পর ধনাত্মক এবং ঋণাত্মক চার্জ বিশিষ্ট মাঝেমধ্যে আমরা নিয়ম ছাড়াও ব্যতিক্রম থেকেও অনেক বেশি শিখতে পারি মাঝেমধ্যে আমরা নিয়ম ছাড়াও ব্যতিক্রম থেকেও অনেক বেশি শিখতে পারি। মহাকর্ষ এখনো আমাদের কাছে বড় একটি রহস্য মহাকর্ষ এখনো আমাদের কাছে বড় একটি রহস্য। মহাকর্ষের এই রহস্য বোঝা সম্ভব হলে মহাবিশ্ব ও চারপাশের জগৎকে বোঝার ক্ষেত্রে অনেক বড় প্রভাব পড়বে। মহাকর্ষ বিশাল বিপুল দূরত্বে কাজ করতে পারে মনে রাখতে হবে, মহাকর্ষ বিশাল বিপুল দূরত্বে কাজ করতে পারে। এটিই একমাত্র ও প্রধানতম বল, যা মহাবিশ্বের আকৃতি এবং তার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে। ...................................................................................................................................................................................... ০০০মহাকর্ষকেও অন্য বলগুলোর মতো ভাগ করা যায়। অর্থাৎ বস্তুর ভরকে মহাকর্ষের চার্জ হিসেবে কল্পনা করা যায়০০০মহাকর্ষকে অন্যান্য বলের মতো করে ভাবা যায়। অন্য বলগুলোর চার্জের মতো ভাবা যেতে পারে বস্তুর ভরকে। সব কণা, পদার্থ এবং অন্য তিনটি মৌলিক বলকে ব্যাখ্যা করা হয় কোয়ান্টাম মেকানিকসের মাধ্যমে। কোয়ান্টাম মেকানিকসে সবকিছুকে কণা হিসেবে বর্ণনা করা হয়। এমনকি বলগুলোকেও কণা হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয় এ তত্ত্বে।০০০কোয়ান্টাম মেকানিকসের মাধ্যমে মহাকর্ষকে ব্যাখ্যা না করতে পারার দুটো কারণ রয়েছে। আলোর গতি ছাড়িয়ে যাওয়া যে কারণে সম্ভব আলোর গতি ছাড়িয়ে গেলে যে কারণে স্ট্যান্ডার্ড মডেল থিওরি এবং পদার্থ বিজ্ঞানের সূত্র ভেঙ্গে পড়বে নাঃ আলোর গতি ১,৮৬,০০০ মাইল সেকেন্ডে-ইনভেরিয়েন্ট বা চিরন্তন সত্য-এটাই আলবার্ট আইনস্টাইনের বিশেষ আপেক্ষিকতা তত্ত্বের । তা মেনেই স্ট্যান্ডার্ড মডেল এবং পদার্থ বিজ্ঞানের যত সব প্রতিষ্ঠিত সূত্র রচনা। ২০১১ সালে সার্ণ কর্তৃক অপেরা প্রজেক্টের অআওতায় এক গবেষণায় হাজার বার প্রমাণিত হয় যে, নিউট্রিনোর গতি আলোর গতির চাইতে ৬০ ন্যানো সেকেন্ড বেশি। স্ট্যান্ডার্ড মডেলসহ পদার্থ বিজ্ঞানের সূত্রের সুরক্ষার জন্য তৎকালীন পদার্থ বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিংসহ খ্যাতনামা বিজ্ঞানীরা এই অআবিস্কার পুনর্বিবেচনার জন্য সার্ণ কর্তৃপক্ষের প্রতি অনুরোধ জানান। অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে সার্ণের পরবর্তী গবেষণায় নিউট্রনোর আবিস্কৃত গতি যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এমন অগ্রগামীতা এই ব্যাখ্যার মাধ্যমে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। ০০০০বস্তুর ভর বা শক্তি স্থান-কালকে বাঁকিয়ে দিতে পারে।মহাকর্ষ যে স্থান-কালকে বাঁকিয়ে দেয়, সেটিও কিছু চমৎকার সম্ভাবনার ইঙ্গিত করে। এই মুহূর্তে আমাদের পক্ষে এই সৌরজগতের বাইরে অন্য কোনো নক্ষত্র ব্যবস্থায় যাওয়া সম্ভব নয়। কারণ, আমাদের পাশ্ব৴বর্তী নক্ষত্রের দূরত্বও অনেক বেশি। কিন্তু মহাকর্ষের রহস্য ভেদ করা সম্ভব হলে হয়তো স্থানকে কীভাবে বাঁকাতে হয় কিংবা ওয়ার্মহোল কীভাবে তৈরি করতে হয় বা নিয়ন্ত্রণ করতে হয়, তা বুঝে ফেলতে পারব। সেটি সম্ভব হলে মহাবিশ্বের আনাচে-কানাচে ঘুরে বেড়ানোর আমাদের এত দিনের যে অদম্য ইচ্ছা, তা একদিন সত্যি হতে পারে। তখন স্থান-কালের চাদর ভাঁজ করে মহাবিশ্বের যেকোনো প্রান্তে চলে যাওয়া যাবে চোখের পলকে। সেটি সত্যে পরিণত করার মূল চাবিকাঠি হলো মহাকর্ষ।০০০০মহাকর্ষের এই রহস্য বোঝা সম্ভব হলে মহাবিশ্ব ও চারপাশের জগৎকে বোঝার ক্ষেত্রে অনেক বড় প্রভাব পড়বে। মনে রাখতে হবে, মহাকর্ষ বিশাল বিপুল দূরত্বে কাজ করতে পারে। এটিই একমাত্র ও প্রধানতম বল, যা মহাবিশ্বের আকৃতি এবং তার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে।০০০মহাকর্ষ যে স্থান-কালকে বাঁকিয়ে দেয়, সেটিও কিছু চমৎকার সম্ভাবনার ইঙ্গিত করে। এই মুহূর্তে আমাদের পক্ষে এই সৌরজগতের বাইরে অন্য কোনো নক্ষত্র ব্যবস্থায় যাওয়া সম্ভব নয়। কারণ, আমাদের পাশ্ব৴বর্তী নক্ষত্রের দূরত্বও অনেক বেশি। কিন্তু মহাকর্ষের রহস্য ভেদ করা সম্ভব হলে হয়তো স্থানকে কীভাবে বাঁকাতে হয় কিংবা ওয়ার্মহোল কীভাবে তৈরি করতে হয় বা নিয়ন্ত্রণ করতে হয়, তা বুঝে ফেলতে পারব। সেটি সম্ভব হলে মহাবিশ্বের আনাচে-কানাচে ঘুরে বেড়ানোর আমাদের এত দিনের যে অদম্য ইচ্ছা, তা একদিন সত্যি হতে পারে। তখন স্থান-কালের চাদর ভাঁজ করে মহাবিশ্বের যেকোনো প্রান্তে চলে যাওয়া যাবে চোখের পলকে। সেটি সত্যে পরিণত করার মূল চাবিকাঠি হলো মহাকর্ষ। কাজেই রহস্যময় হলেও মহাকর্ষ বল শুধু আমাদের মাটিতে আটকে রাখে, সে কথা কে বলল! বড় প্রেম যেমন শুধু কাছে টানে না, দূরেও ঠেলে, বিপুল পরিসরের মহাকর্ষ বলও তাই। এই বলের কাঁধে চেপে হয়তো আমরা আকাশ-বাতাস, গ্রহ-তারকা ভেদ করে একদিন দূরে, বহুদূরে চলে যেতে পারব। আর০০০সেই সম্ভাবনা নির্ভর করছে ভবিষ্যতের কোনো বিজ্ঞানীর হাতে মহাকর্ষের রহস্য সমাধানের ওপর। কে জানে, এই লেখার পাঠকদের মধ্যেই হয়তো লুকিয়ে আছে ভবিষ্যতের সেই বিজ্ঞানী। সূত্র: বিজ্ঞানচিন্তাhttps://www.bigganchinta.com/space উই হ্যাভ নো আইডিয়া/ জর্জ চ্যাম ও ড্যানিয়েন হোয়াইটসন; গ্র্যাভিটি/মার্কাস চোন; উইকিপিডিয়া উপরোক্ত বর্ণনার আলোকে এটা সুস্পষ্ট প্রতীয়মান যে,, বিজ্ঞানীরা বাই হুক বাই রুক অর্থাৎ যে করেই হোক, যেই পন্থাই হোক মহাবিশ্বের মহাসত্য জানতে চান। তাই অনেক বৈজ্ঞানিক মান মন্দিরে বসে অত্যাধুনিক টেলিস্কোপ নিয়ে, কখনও সরাসরি হাবল টেলিস্কোপ, ভয়েজার ১-২, জেমস ওয়েব নামক শক্তিশালী টেলিস্কোপ মহাশুন্যে উৎক্ষপন করে, কখনও সরাসরি সয়ুজ-১-২, এ্যাপোলো-১১ নভোচারীরা নিজেরাই সরেজমিনে মহাকাশের অবস্থা জানতে, কেউ বা অআবার ভূগর্ভের গভীর অভ্যান্তরে গিয়ে, সাগর-মহাসাগরের তলদেশে গিয়ে মহাবিশ্বের মহাসত্য জানতে কি না করছেন? তবুও কেন জানার গতি নিম্নমুখী?০০০০তাহলে রহস্যময় মহাকর্ষের সঠিক ব্যাখ্যা কী?মহাকর্ষ এখনো আমাদের কাছে বড় একটি রহস্য।০০০০০০০০০০০০০মহাকর্ষ বল শুধু আমাদের মাটিতে আটকে রাখে, সে কথা কে বলল! বড় প্রেম যেমন শুধু কাছে টানে না, দূরেও ঠেলে, বিপুল পরিসরের মহাকর্ষ বলও তাই।মৃত্যুচুম্বনের জন্য পরস্পরের দিকে সর্পিল গতিতে ধেয়ে আসা কৃষ্ণগহ্বরের সংঘর্ষ থেকে জন্ম হয় মহাকর্ষ তরঙ্গের। গ্র্যাভিটেশনাল ওয়েভ বা মহাকর্ষ তরঙ্গ হলো ত্বরণপ্রাপ্ত ভরের কারণে সৃষ্ট স্থানের ভেতর মৃদু ঢেউ। গোসলের সময় বাথটাবে বা কোনো শান্ত পুকুরের পানিতে হাত রাখলে, চারদিকে যেমন ছোট ছোট ঢেউ ছড়িয়ে পড়ে, স্থানের ভেতর দিয়ে মহাকর্ষ তরঙ্গও অনেকটা সেভাবে ছড়িয়ে পড়ে। অতিভারী বস্তুগুলো স্থানের ভেতর চলাচল করলেও ঠিক একই ঘটনা ঘটে। এই চলমান ভর খোদ স্থানকেও বাঁকিয়ে দিতে পারে।০০০০ ওয়ার্ল্ড সায়েন্স-টেক রিসার্চ সেন্টারের মতে, মহাবিশ্বের অন্ততঃ প্রায় অর্ধশত ভাগ সত্য নিহিত রয়েছে অআইনস্টাইনের ভরশক্তি সমীকরণে যা পদার্থ বিজ্ঞান বিবেচনায় শত ভাগ এবং পুরো বিশ্ব প্রকৃতি বিবেচনায় অর্ধশতভাগ সত্য অর্জনে পদার্থ বিজ্ঞান সফলকাম। রিসার্চ সেন্টার অআরও মনে করে ডার্ক ম্যাটার এনার্জি, স্টিং থিওরি পদার্থ বিজ্ঞানের মৌলিক নয় আনুষঙ্গিক বিষয়। তা বাদে পদার্থ বিজ্ঞান শতভাগ সফল যাতে পদার্থ বিজ্ঞানের উপসংহার টেনে নতুন বিজ্ঞান ফ্রন্টিয়ার সায়েন্সের শুভ সূচনা করা সম্ভব। তবে এক্ষেত্রে নিউটনের সরলীকরণ তত্ত্ব তথা মধ্যপন্থা হচ্ছে থিওরি অব এভরিথিং যাতে একাধারে নিহিত রয়েছে বহুল আলোচিত বিজ্ঞানীদের স্বপ্নিল কোয়ান্টাম গ্র্যাভিটন, স্ট্রিং থিওরি এমনকি ডার্ক ম্যাটার, ডার্ক এনার্জিরও সমাধান। মানুষ স্বভাবজাতভাবে সত্যপরায়ন; যা তাঁর অন্তকরণে সাক্ষ্য দেয়- যার কারণে বলা হয়ে থাকেঃ "বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রা সেদিন থেকে শুরু; যেদিন মানব মনে সত্যকে জানার আগ্রহ জেগেছিল"।শুরুতেই মানুষ সত্যকে জানতে চেয়েছে বস্তুগত মহাবিশ্বের অপরূপ সৌন্দর্য দেখে। রাতের অন্ধকারে তারা ভরা আকাশ, পূর্ণিমার রাতে জোাৎস্নার আলোর নৈস্বর্গিক জ্যােতি, প্রভাতে রক্তিম সূর্য দেখে মনের অজান্তে এসব সত্য জানার জন্য প্রশ্নের উদ্রেক ঘটে এই বলেঃ এসব এলো কি করে ?, এসব কি দিয়ে তৈরি ?ইত্যাদি। উল্লেখ্য,মহাবিশ্বের-অবকাঠামো বিবেচনায় বিজ্ঞান মৌলিকভাবে দ্বিবিধ। ১) বস্তুগত ২) জ্ঞানগত। বস্তুগত অবকাঠামো দু প্রকার ১) তাত্ত্বিক ২) ফলিত বা প্রয়োগিক। প্রয়োগিক বিজ্ঞানের অপর নাম প্রযুক্তি। বিজ্ঞান প্রযুক্তিগতভাবে এনালগ পৃথিবীকে ডিজিটালে উন্নীত করেছে। কিন্তু জ্ঞানগতভাবে এখনও এনালগেই রয়ে গেছে। শুধু তা-ই নয়, বিজ্ঞানীরা যতই অতিপারমাণবিকতার অন্দর মহলের গভীর থেকে গভীরে অবগাহন করছেন ততই নাকি অজানার পাল্লা ভারি হচ্ছে। নিউটনীয় ক্ল্যাসিকাল বল বিজ্ঞানে যেখানে বিজ্ঞানের অর্জন শতভাগ ছুঁই ছুঁই করছিল সেখানে ম্যাক্স প্ল্যাঙ্কীয় কোয়ান্টাম বল বিজ্ঞান, হাইজেনবার্গের অনিশ্চয়তা তত্ত্ব, হাবল টেলিস্কোপ, ডার্ক ম্যাটার, ডার্ক এনার্জির বদৌলতে জানার চাকা উল্টো পানে ঘুরে দাঁড়িয়েছিল সর্বসাকুল্যে ৪ শতাংশে। হালে জেমস ওয়েবের বদৌলতে তা কমে জানার হার দাঁড়িয়েছে ০.১৫ শতাংশে। সংগত কারণে বলা হচ্ছেঃ মহাবিশ্ব যদি বাঘ হয় তাহলে বিজ্ঞানীরা গবেষণা আর আবিস্কারের নামে অন্ততঃ ডেমোক্রিটাস থেকে শুরু করে অ্যারিস্টটল, জাবের ইবনে হাইয়ান, আইজাক নিউটন, গ্যালিলিও, রাদারফোর্ড, মারে গেলমান, আইনস্টাইন, ম্যাক্স প্ল্যাংক প্রমুখ জগদ্বিখ্যাত দার্শনিক-বিজ্ঞানীরা প্রায় তিন হাজার বছর যাবৎ সেই বাঘের লেজটা নাড়া করা করেছেন মাত্র? উল্লেখ্য, তিন শতাধিক বছর পূর্বে নিউটন মহাকাশে মাধ্যাকর্ষণ তত্ত্বের ব্যতিক্রম দেখে বিজ্ঞান জগত থেকে অনেকটা অবসরে যান এই বলেঃমাধ্যাকর্ষণ গ্রহগুলির গতি ব্যাখ্যা করে, তবে কে গ্রহগুলিকে গতিশীল করে তা ব্যাখ্যা করতে পারে না। জীবন সায়াহ্ণে দাঁড়িয়ে নিউটন তাই বলেছিলেনঃ আমি জানিনা বিশ্বের কাছে আমি কিভাবে উপস্থাপিত হয়েছি, কিন্তু আমার কাছে আমার নিজেকে মনে হয় এক ছোট বালক- যে কেবল সমুদ্র উপত্যকায় খেলা করছে এবং একটি ক্ষুদ্র নুড়ি বা ক্ষুদ্রতর এবং খুব সাধারণ পাথর সন্ধান করছে, অথচ সত্যের মহাসমুদ্র তার সম্মুখে পড়ে রয়েছে যা অনাবিষ্কৃতই রয়ে গেল।https://bn.wikiquote.org/wiki/আইজাক_নিউটন আইনস্টাইন বলেছেনঃ এই যদি গবেষণা হয় তাহলে গবেষক হওয়ার চাইতে বেয়ারা হওয়া বেহতর ছিল। তবে এটা অনস্বীকার্য যে, বিজ্ঞান সামথিং যা জেনেছে তা নাথিং থেকে অনেক অনেক ভাল। পদার্থ বিজ্ঞান মহাবিশ্বের সূচনা নয় কেবল;অধিকন্তু মহাবিশ্বের সূচনার পূর্বেকার অবস্থা সম্পর্কেও সম্যক অবহিত। এমনকি মহাবিশ্ব যদি একটি ইমারত হয় তার দেওয়াল বা ইট কি হতে পারে, তার সিমেন্ট কি হতে পারে তা-ও সম্যক জেনেছেন। জেনেছেন কোয়ার্ক ইট স্বরূপ আর হিগস বোসন কণা সিমেন্ট স্বরূপ । উল্লেখ্য, পদার্থ বিজ্ঞানীরা এসব বৈজ্ঞানিক তথ্য-উপাত্ত লাভ করেছেন ১৯৬৪ সালে বিগ ব্যাং উত্তর মহাবিশ্বের সূচনাকালীন উদ্ভূত কসমিক ব্যাক গ্রাউন্ড রেডিয়েশনের ধ্বংসাবশেষের কম্পিউটার সিমুলেশনের মাধ্যমে। তবে পদার্থ বিজ্ঞান অমীমাংসিত রয়ে যায় অন্ততঃ দশ প্রধান অমীমাংসিত প্রশ্ন বিশেষ করে ডার্ক ম্যাটার, ডার্ক এনার্জি, মহাকর্ষের প্রতিকণা কোয়ান্টাম গ্র্যাভিটন, গ্র্যান্ড ইউনিফিকেশন থিওরি তথা থিওরি অব এভরিথিং এর আশার আলো স্ট্রিং থিওরির কূল কিনারায় পৌঁছা বিজ্ঞানীদের জন্য এখনও সুদূরপরাহত ব্যাপার বটে। তাছাড়া, মাঝে মাঝে মডার্ণ কসমোলজিক্যাল স্ট্যান্ডার্ড মডেল থিওরির প্রাণ বিশেষ আপেক্ষিকতা তত্ত্ব, সাধারণ আপেক্ষিকতা তত্ত্ব প্রশ্নের মুখে পড়ে। তাই প্রযুক্তিতে বিজ্ঞ্যনের জোয়ার বইলেও বিশেষ জ্ঞানরূপ বিজ্ঞানে এখন বইছে ভাটা।অথচ কার্ল সাগানের দাবীঃ বিজ্ঞান কখনও শেষ হবে না। World Islamic Science-Tech Research Center-ও তা-ই মনে করে। উক্ত সেন্টারের ২০১৮-২০২৬ আট বছরের নিবিড় গবেষণায় এটা সুস্পষ্ট প্রতীয়মান হয় যে, পদার্থ বিজ্ঞান ম্যাটেরিয়াল সায়েন্সের বদৌলতে মৌলিকভাবে প্রায় শতভাগ লক্ষ্য অর্জন করেছে এবং পুরো প্রকৃতি বিজ্ঞান কসমোলজি তথা ফিজিক্স বিবেচনায় প্রায় অর্ধশত ভাগ জ্ঞান অর্জিত হয়েছেল। রিসার্চ সেন্টার মনে করে পদার্থ বিজ্ঞানের তিন সহস্রাব্দ জন্ম বার্ষিকী পালনের মাধ্যমে এই বিজ্ঞানের বিজয় ঘন্টা বাজিয়ে নতুন বিজ্ঞানঃ ফ্রন্টিয়ার সায়েন্সের অগ্রযাত্রা শুরু করা। এ লক্ষ্যে নিউটনের সরলীকরণ তত্ত্বের আলোকে পদার্থ বিজ্ঞানের আনুষঙ্গিক অমীমাংসিত প্রশ্নের দ্রুত সমাধান করা ইনশা আল্লাহ World Islamic Science-Tech Research Center-এর মিশন এবং ভিশন। পদার্থ বিজ্ঞান জ্ঞানগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক যে সব অমীমাংসিত বিষয়ে অনেকটা স্থবির হয়ে আছে তার কতিপয় নিম্নরূপঃ ১) ডার্ক ম্যাটার-ডার্ক এনার্জি ২) গ্র্যাভিটি বা মহাকর্ষ এবং তার প্রতিকণা কোয়ান্টাম গ্র্যাভিটন ৩) স্ট্রিং থিওরির চাক্ষুষ দর্শন ৪) আলোর গতি আপেক্ষিক নাকি ইনভেরিয়েন্ট (অপরিবর্তনীয়)? ১) ডার্ক ম্যাটার-ডার্ক এনার্জিঃ পদার্থ বিজ্ঞান যেমন মহাবিশ্বের বস্তুগত অবকাঠামোর অতিপারমাণবিকতায় ১০-১৬ সেন্টিমিটার ক্ষুদ্র কোয়ার্কে এসে থেমেছে তেমনি মহাবিশ্বের সূচনার ক্ষেত্রে বিগ ব্যাং (মহাবিস্ফোরণ) পর্ব ছাড়িয়ে তৎপূর্বেকার অবস্থা তথা হাইয়েস্ট এনার্জেটিক রেডিয়েশনে এসে বর্তমানে স্থিতি অবস্থায় আছে। অর্থাৎ পদার্থ বিজ্ঞানেরজানার, অনুমানের রেন্জ বা দৌড় এখানেই শেষ। বিগ ব্যাং উত্তর সৃষ্ট আদি উচ্চশক্তির বিকিরণের প্রাপ্ত ধ্বংসাবশেষের কম্পিউটার সিমুলেশনের মাধ্যমে জানা যায় হাইয়েস্ট এনার্জেটিক রেডিয়েশন ৪ মহাবল নিয়ে গঠিত। অর্থাৎ ৪ মহাবল হাইয়েস্ট এনার্জেটিক রেডিয়েশনে একত্রিতভাবে ছিল। এমনকি বিগ ব্যাংয়ের মাধ্যমে মহাবিশ্বের জন্ম হলেও ৪ মহাবল যদিও হাইয়েস্ট এনার্জেটিক রেডিয়েশন থেকে পৃথক হয়ে যায় কিন্তু নিজেদের মধ্যে তখনও একত্রিত ছিল। পরে পৃথক হয়েছে। ওয়ার্ল্ড রিসার্চ সেন্টার মনে করে, হাইয়েস্ট এনার্জেটিক রেডিয়েশনে ৪ মহাবলের সাথে ডার্ক ম্যাটার, ডার্ক এনার্জিও একত্রিত ছিল। তার মানে এই দাঁড়ায় যে, হাইয়েস্ট এনার্জেটিক রেডিয়েশন কেবল ৪ বল দিয়ে নয় ডার্ক ম্যাটার এবং এনার্জি দিয়েও গঠিত। পার্থক্য হচ্ছে বিগ ব্যাংয়ের পরে কোনো এক সময় ৪ বল পৃথক হয়ে অতিপারমাণবিক জগতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব প্রতিপত্তি খাটাচ্ছে কেউ মেসনের মাধ্যমে, কেউ গ্লুয়নের মাধ্যমে কিন্তু ডার্ক ম্যাটার এবং ডার্ক এনার্জি না মহাবিশ্বের বস্তুগত অবকাঠামোর অতিপারমাণবিক না বৃহৎ পরিসরে গ্রহ-নক্ষত্রে প্রভাব রাখছে বরং অসীম কারো নির্দেশে চুপটি মেরে আছে। রিসার্চ সেন্টার মনে করে, ডার্ক ম্যাটার আর এনার্জি যদি সক্রিয় হয় তাহলে মহাবিশ্বের বর্তমান যে সুশৃঙ্খল কাঠামো তা ভেঙ্গে পৃথিবীর জীব বৈচিত্র্যে হয়ত নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, মহাকর্ষ ১০ ৩৬ মাত্রার দূর্বলতার কারণে আমাদের মাটিতে পা ফেলতে এবং উঠাতে সমস্যা হচ্ছে না। মহাকর্ষকে শক্তিশালী করতে কোশেশ করলে ব্ল্যাক হোলের আশপাশের যে অসীম ভরের মহাকর্ষ তাতে যেমন পা উঠাতেই হিমশিম খাওয়ার অবস্থা হয় তাহলে পৃথিবীতেও অনুরূপ অবস্থার আশংকা থেকে যাবে। সূর্যকে ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার কারণে যদি ঠেলে সামান্য দূরে ঠেলে দেওয়া সম্ভব হতো তাহলে পৃথিবীর সব মহাদেশ অ্যান্টার্টিকার মত বরফের মহাদেশে পরিণত হতো। কিংবা যদি ৯ কোটি ২৯ লক্ষ ৯৯ হাজার মাইলে টেনে আনা হয় কিংবা চাঁদের দূরত্বের মতো বছরান্তে কম বেশি হতো তাহলে তাহলে ঃ থাকবো না আর এই দেশে চলরে মন আপন দেশে বলে কবরে যাওয়ার কোশেশ করা ছাড়া গত্যন্তর না থাকারই কথা। সুতরাং, ডার্ক ম্যাটার-ডার্ক এনার্জি যে ভাবে আছে তাদের সেভাবে থাকতে দেওয়াই নিরাপদ মনে করে রিসার্চ সেন্টার। এবার আসা যাক মহাকর্ষের ব্যাপারে। মহাকর্ষ নিয়ে সেই অ্যারিস্টটল থেকে শুরু করে গ্যালিলিও, নিউটন এবং আইনস্টাইন পর্যন্ত মাথা খাটিয়েছেন। মহাকর্ষ বলতে যে আসলে কিছু আছে তা প্রমাণিত হয় সোভিয়েত মহাকাশযান সয়ুজ যখন পৃথিবীর কক্ষ ছাড়িয়ে যায় তখনই প্রমাণিত হয় মহাকর্ষ বলতে কিছু আছে। কিন্তু বর্তমানে মহাকর্ষের ব্যাপারে জটিলতা কাটলেও মহাকর্ষের প্রতিকণা বা প্রতিবল কোয়ান্টাম গ্র্যাভিটন নিয়ে যত ভাবনা চিন্তা-গবেষণা। কারণ, বিরাট বিশাল বটগাছ দাঁড়িয়ে আছে মাটির গভীরে শেকড় বিস্তার করে, বড় বড় দালান কোঠা দাঁড়িয়ে আছে মাটির গভীরে পাইলিং-ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে। কিন্তু হাতি-ঘোড়া-বাঘ-ভাল্লুক-মানব-দানব এমনকি পিঁপড়া পর্যন্ত বিনা শেকড়ে, বিনা ফাউন্ডেশনে কেবল পায়ের ত্বকের স্পর্শ ছাড়া পুরো দেহ শুন্যে বিদ্যমান সত্ত্বেও কি করে বহাল তবিয়তে বাতাসের প্রবল উর্ধ্ব গতির চাপ সহ্য করে দাড়িয়ে আছে, বসে আছে শুয়ে আছে? এই প্রশ্নটি বিজ্ঞানীদের প্রচন্ডভাবে ভাবিয়ে তুলেছে। প্রশ্ন তুলছে বার বার এই বলেঃ কখনো কি ভীষণ বিস্ময়ে ভেবেছেন, আপনি পৃথিবীতে আটকে আছেন কেন? মহাকাশে ছিটকে পড়ছেন না কেন? এর একটিই উত্তর, মহাকর্ষ। এই বলটাই আপনাকে ভূপৃষ্ঠে আটকে রেখেছে। মহাকর্ষ ছাড়া আমরা কেউই পৃথিবীতে আটকে থাকতে পারতাম না, থাকতে হতো মহাশূন্যে ভেসে। বিছানায় শুয়ে, বসে কিংবা মাটিতে দাঁড়িয়ে পড়ছেন, তাঁরা নিশ্চয়ই জানেন মহাকর্ষ কী। অন্তত এটুকু নিশ্চয়ই জানেন, মহাকর্ষের টান না থাকলে এই লেখাটা পড়তে হতো মহাকাশে ভাসতে ভাসতে। রহস্যময় মহাকর্ষের সঠিক ব্যাখ্যা কী? এই বলটা দুর্বল কেন? কেন সেটি অন্য বলগুলোর মতো নয়? এর কারণ এমনও হতে পারে, মহাকর্ষ হয়তো বিশেষ কোনো বল। মহাকর্ষকে অন্য বলের মতো হতে হবে কিংবা একটিমাত্র তত্ত্ব দিয়েই সবকিছু ব্যাখ্যা করতে হবে, এমনটা না–ও হতে পারে। বড় দৃষ্টিভঙ্গির দিকে আমাদের মন খোলা রাখতে হবে। কারণ, মহাবিশ্বের মৌলিক কিছু সত্য সম্পর্কে আমরা এখনো অন্ধকারে রয়ে গেছি। বিভিন্ন ক্ষেত্রে আমরা এমন কিছু অনুমান করেছি, যা পরবর্তী সময়ে ভুল বলে প্রমাণিত হয়েছে। কিংবা নিদি৴ষ্ট বা বিশেষ কিছু শর্ত সাপেক্ষে তা সত্য। এমনও হতে পারে, আমাদের আগের জানা যেকোনো কিছুর চেয়ে মহাকর্ষ ভিন্ন কিছু। যার কথা আমরা আগে কখনো ভাবতে পারিনি। কিংবা কে জানে উল্টোটাও হয়তো সত্যি। মনে রাখতে হবে, আমাদের লক্ষ্য হলো মহাবিশ্বকে সঠিকভাবে বুঝতে পারা। তাই এটা আসলে কেমন, সে সম্পর্কে অনেক বেশি অনুমান করা বাদ দিতে হবে। কখনো যদি দেখা যায়, মহাকর্ষ বিশেষ কিছু এবং অন্যান্য মৌলিক বলের চেয়ে এটা একেবারেই আলাদা, সেটিই জোগান দিতে পারে মহাবিশ্বের বৃহৎ চিত্র সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ক্লু। এর মানে হয়তো মহাকর্ষ গভীর কিছু, যা মহাবিশ্বের নকশার মধ্যে গেঁথে আছে। মাঝেমধ্যে আমরা নিয়ম ছাড়াও ব্যতিক্রম থেকেও অনেক বেশি শিখতে পারি। WISTRC মনে করে মহাকর্ষ বিশেষ কিছু নয় বরং অন্য ৩ বলের মতই ধনাত্মক এবং ঋণাত্মক চার্জ বিশিষ্ট। মহাকর্ষ নিয়ে জটিলতার কারণ, মাধ্যাকর্ষণকে মহাকর্ষের সমার্থক মনে করা। নিউটন মাধ্যাকর্ষণের সাথে মহাকর্ষের অমিল খুঁজে পান যখন সূর্য এবং পৃথিবীর মধ্যে মাধ্যাকর্ষণ শক্তির কার্যকারিতা না দেখে। আপেল যদি সত্যিই নিউটনের মাথায় পড়ে, চাঁদ-সূর্য-গ্রহ-নক্ষত্র আমাদের মাথায় পড়ে না কেন? তবে নিউটন এ ব্যাপারে দার্শনিক যে উক্তি করে গেছেন WISTRC মনে করে তাতে নিহিত আছে, মহাকর্ষ এবং মাধ্যাকর্ষণকে পৃথক করে দেখানো হয়েছে এবং অআপেলের ন্যায় মাথায় না পড়ার কারণস্বরৃপ অদৃশ্য দড়ির বাঁধনকে দায়ী করছে যে অদৃশ্য দড়ি স্ট্রিং থিওরির যথার্থতাকে নির্দেশ করে। মহাকর্ষ এবং তার প্রতিকণা গ্র্যাভিটন চাপে এবং মাধ্যাকর্ষণ টানে। গ্র্যাভিটনের চাপ-কে ধনাত্মক চার্জ এবং মাধ্যাকর্ষণের টান-কে ঋণাত্মক চার্জ ধরা যেতে পারে যাতে নিম্নোক্ত বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়ায় উভয়ের মধ্যে মিথস্ত্রিয়ায় উদ্ভব ঘটানো সম্ভবপর হয় বহুল প্রত্যাশিত গ্র্যাভিটন। সবকিছুকে কোনো প্যাটার্নে খাপ খাওয়ানোর ইচ্ছা পদার্থবিদদের অনেক দিনের। এর একটি কারণ, তাঁরা পদার্থবিজ্ঞানের সবকিছুকে একত্র করে একটিমাত্র তত্ত্বের ভেতরে আনতে চান। অর্থাৎ একটিমাত্র তত্ত্ব দিয়ে মহাবিশ্বের সবকিছু ব্যাখ্যা করতে চান তাঁরা। একে বলা হয় থিওরি অব এভরিথিং বা সবকিছুর তত্ত্ব। এই চাওয়ার পেছনে সবচেয়ে বড় বাধা মহাকর্ষ। বিদ্যুৎ–চৌম্বকীয় বল দ্বিমুখী, কিন্তু মহাকর্ষ একমুখী মহাকর্ষ শুধু বস্তুকে আকর্ষণ করে বা টানে, বিকর্ষণ করে না। তাই মনে করা হচ্ছে, মহাকর্ষে ধনাত্মক-ঋণাত্মক চার্জ বলতে কিছু নেই। অন্যদিকে বিদ্যুৎ–চৌম্বকীয় বলের সঙ্গে দুই ধরনের বৈদ্যুতিক চার্জ জড়িত। ধনাত্মক ও ঋণাত্মক। একইভাবে দুর্বল ও সবল পারমাণবিক বলেরও বৈদ্যুতিক চার্জের মতো ধর্ম রয়েছে, যাদের বলা হয় হাইপারচার্জ ও কালার। এগুলোর মানও ভিন্ন ভিন্ন। পক্ষান্তরে মহাকর্ষের মান সংশ্লিষ্ট বস্তুর ভরের সঙ্গে সম্পর্কিত। অবশ্য মহাকর্ষকেও অন্য বলগুলোর মতো ভাগ করা যায়। অর্থাৎ বস্তুর ভরকে মহাকর্ষের চার্জ হিসেবে কল্পনা করা যায়-যার মাধ্যমে বস্তুটি কতটুকু মহাকর্ষ অনুভব করবে, তা নির্ধারিত হবে। কিন্তু সমস্যা হলো, মহাবিশ্বে শুধু এক ধরনের ভরই দেখা যায়। ঋণাত্মক বা নেগেটিভ ভর বলে কোনো কিছুর অস্তিত্ব নেই। কাজেই কোনো কণা বা বস্তুকে মহাকর্ষ বিকর্ষণ করে না। ওয়ার্ল্ড সায়েন্স-টেক রিসার্চ সেন্টার মনে করে, মহাকাশীয় মাধ্যাকর্ষণ যাকে বলা হচ্ছে মহাকর্ষ-তাকে ভূ-ত্বকীয় মাধ্যাকর্ষণ থেকে সম্পূর্ণ পৃথক মনে করা হলে আমরা মহাকর্ষকে ধনাত্মক চার্জ এবং মাধ্যাকর্ষণকে ঋণাত্মক চার্জ ধরে নিতে পারি। ব্যাখ্যাঃ যেহেতু ধনাত্মক চার্জ বিশিষ্ট মহাকাশীয় স্থানীয় মহাকর্ষ শুধু বস্তুকে আকর্ষণ করে বিধায় মহাকর্ষের পুরোটিই ম্যাগনেটিক বা চৌম্বকীয় যা মহাকাশে বিদ্যমান চুম্বক ক্ষেত্র, বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় বলের প্রভাব, বাহক কণা আলোর ম্যাগনেটিক কোয়ান্টাধর্মী ফোটনের সাথে মিথস্ত্রিয়ার ফলে মহাকর্ষ অআরও চুম্বকায়ন ঘটায় এতে সংগত কারণে কিছুটা ভর বা ওজন বেড়ে যাওয়ার কারণে নিম্নমুখী তথা পৃথিবী, চন্দ্রমুখী হয়ে পড়ে এবং যেহেতু পৃথিবীর ভূ-ত্বকে রয়েছে বিকর্ষণধর্মী খনিজ লৌহ কণিকা যাকে ঋণাত্মক চার্জ বিশিষ্ট ধরা যেতে পারে সেহেতু মহাকাশীয় ধনাত্মক চার্জ বিশিষ্ট ম্যাগনেটিক মহাকর্ষের সাথে ভূ-ত্বকীয় ঋণাত্মক চার্জ বিশিষ্ট খনিজ লৌহ কণিকার মিথস্ক্রিয়ায় ঘটতে পারে নিউটন কসমোলজিক্যাল স্ট্যান্ডার্ড মডেল থিওরির স্বপ্নিল বহুল আলোচিত এবং প্রত্যাশিত কোয়ান্টাম গ্র্যাভিটনের উদ্ভব যা হতে পারে নিউটনের দার্শনিক সেই প্রাতঃস্মরণীয় নিম্নোক্ত উক্তিটির বাস্তবতাঃ সূর্য এবং পৃথিবী যেন চিরকালের জন্য অদৃশ্য এক দড়িতে বাধা পড়ে আছে (নিউটন)। সূর্যের বেশির ভাগ যদি ধনাত্মক বৈদ্যুতিক চার্জ দিয়ে গঠিত হতো এবং পৃথিবী যদি বেশির ভাগ ঋণাত্মক চার্জ দিয়ে গঠিত হতো, তাহলে এই দুইয়ের মধ্যে যে আকর্ষণ দেখা যেত, তার পরিমাণ হতো বিপুল। তাহলে আমাদের গ্রহটাকে অনেক আগেই সূর্য গিলে ফেলত। কিন্তু পৃথিবী গঠিত হয়েছে প্রায় সমপরিমাণ ধনাত্মক ও ঋণাত্মক চার্জ দিয়ে। আবার সূর্যও গঠিত হয়েছে সমপরিমাণ ধনাত্মক ও ঋণাত্মক চার্জে। তাই তারা বিদ্যুৎ–চৌম্বকীয়ভাবে পরস্পরকে সেভাবে প্রভাবিত করে না। পৃথিবীর প্রতিটি ধনাত্মক ও ঋণাত্মক কণার উভয়েই সূর্যের ধনাত্মক ও ঋণাত্মক কণা দিয়ে আকর্ষিত ও বিকর্ষিত হয়। স্ট্যান্ডার্ড মডেলে মহাকর্ষকে খাপ খাওয়াতে গেলে মহাকর্ষও কোনো কণার মাধ্যমে স্থানান্তরিত হয় বলে কল্পনা করে নিতে হয়। পদার্থবিদেরা এই হাইপোথেটিক্যাল কণার একটি গালভরা নামও দিয়েছেন—‘গ্র্যাভিটন’। বাংলায় বলা যায় মহাকর্ষ কণা। এ কণার অস্তিত্ব যদি সত্যিই থাকে, তাহলে আপনি শুয়ে, বসে বা দাঁড়িয়ে যেখানেই থাকুন না কেন, আপনার দেহ থেকে অনবরত অতিক্ষুদ্র বলের মতো গ্র্যাভিটন কণা ছুটে যাচ্ছে ভূপৃষ্ঠের দিকে। আবার ভূপৃষ্ঠ থেকেও একই রকম কোয়ান্টাম কণা ছুটে আসছে আপনার দিকে। এই দুই মহাকর্ষ কণা বিনিময়ের কারণে আপনি পৃথিবীর বুকে আটকে থাকতে পারছেন। দুর্বল বলের বলবাহী কণার নাম ডব্লিউ ও জেড বোসন। এই বলবাহী কণা বিনিময়ের মাধ্যমে দুর্বল বল কাজ করে। আর শক্তিশালী বল বিনিময় হয় গ্লুয়ন কণার মাধ্যমে। বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় বলের বাহক কণা আলোর কোয়ান্টা কণা ফোটন। মহাকর্ষ বলের বাহক কণা কি নেই? সমাধান খুঁজতে গিয়ে বার বার অসীমের হাতছানি পাচ্ছে, তা থেকে সুরক্ষা পেতে আরেক যে অসীমে অবগাহন করতে হচ্ছে তা নিম্নরূপঃ বিজ্ঞানীরা গ্রাাভিটন খুঁজতে প্রয়োজনবোধ করছেন দুই প্রতিষ্ঠিত তত্ত্বের মিলন। দুটি পরীক্ষামূলকভাবে সত্যি প্রমাণ করতে আমাদের অবিশ্বাস্য রকম বড় পার্টিকেল অ্যাকসিলারেটর দরকার। একেকটা অ্যাকসিলারেটরের আকৃতি হবে আমাদের সৌরজগতের সমান। সেটি এই মুহূর্তে আমাদের পক্ষে বানানো অসম্ভব।কাজেই গ্র্যাভিটন কণা দেখার জন্য আমাদের অনেক ভারী বস্তু দরকার। সেই বস্তুগুলোর হতে হবে মহাজাগতিক ভরের, যাতে অন্য বলগুলো ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থায় থাকবে। এই অতিভারী বস্তুকে পরস্পরের সঙ্গে সংঘর্ষের মুখে ফেললেই গ্র্যাভিটন বা মহাকর্ষ কণা পর্যবেক্ষণ করার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। সে জন্য হাতের কাছে যেকোনো বস্তু টনকে টন জড়ো করে, তা দিয়ে অতিভারী বস্তু তৈরি করে সংঘর্ষ ঘটালে হবে না। আমাদের দরকার দানবীয় অতিভরের কোনো কৃষ্ণগহ্বরের মতো বস্তু বা দুটি কৃষ্ণগহ্বরের সংঘর্ষ। এ রকম মহাজাগতিক অতিভারী দুটি বস্তুর মধ্যে সংঘর্ষ ঘটিয়েই কেবল মহাকর্ষকে হয়তো কোয়ান্টাম পরিঘটনা হিসেবে প্রমাণ করা সম্ভব। কিন্তু আমরা ভালো করেই জানি, এ রকম কিছু করা আমাদের পক্ষে অসম্ভব। আমাদের বাজেট বলেন আর সামর্থ্য, কোনোটাতেই কুলাবে না।সত্যকে কখনও সরলতার মধ্যে খুঁজে পাওয়া যায়, এবং জিনিসগুলির বহুগুণতা এবং বিভ্রান্তিতে নয়।।https://bn.wikiquote.org/wiki/আইজাক_নিউটন সাহসী অনুমান ছাড়া কোনও দুর্দান্ত আবিষ্কার কখনও করতে পারে না। ১) ২টি ব্ল্যাক হোলের সংঘর্ষ ২) সৌরজগতের আয়তনের এক্সেলারেটর তৈরি ইত্যাদি। পবিত্র কুরআনের কতিপয় আয়াতভিত্তিক গবেষণার সংক্ষিপ্ত বিবরণ বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম ১. কুন-ফায়াকুন- إِنَّمَا أَمْرُهُ إِذَا أَرَادَ شَيْئًا أَن يَقُولَ لَهُ كُن فَيَكُونُ ◯https://quranyusufali.com/36/ "হও, আর তা হয়ে যায়" । আরবি 'কুন' (كُن) অর্থ "হও" এবং 'ফায়াকুন' (فَيَكُونُ) অর্থ "আর তা হয়ে যায়" কুন (كُن): হও (আদেশ বা আদেশ সূচক ক্রিয়া) ফা (فَ): সুতরাং/এবং ইয়াকুন (يَكُونُ): তা হয়/হয়ে যায় কুন (كُن): হও-এই আদেশসূচক কুদরাতি এই মহান শব্দটি মহান আল্লাহর অসীম সৃষ্টি ক্ষমতা ও নির্দেশকে বোঝায়—তিনি কোনো কিছু সৃষ্টি করতে চাইলে শুধু 'হও' বললে তা তাৎক্ষণিকভাবে অস্তিত্বে চলে আসে । এককথায়, 'কুন ফায়াকুন' হলো মহান স্রষ্টার সেই পরম ক্ষমতা, যার মাধ্যমে মহাবিশ্বের সবকিছু অস্তিত্বে আসে । কুন (كُن) কুদরাতি এই শব্দটি মহান আল্লাহর নিরঙ্কুশ ক্ষমতা ও ইচ্ছা শক্তির প্রতীক । সৃষ্টিজগতে যেকোনো কিছু করার জন্য আল্লাহর কোনো বাহ্যিক উপাদানের প্রয়োজন হয় না, শুধু কুন (كُن): হও-এই আদেশই যথেষ্ট যা আল্লাহর সুবহা-নিয়াত অর্থাৎ সৃষ্টির ক্ষেত্রে কোনো প্রকার উপকরণ-উপাদান হতে পবিত্র, মুক্ত এবং উপকরণ-উপাদান হতে স্বমাদ অর্থাৎ অমুখাপেক্ষি এই ইসমি শিফাত বা গুণাবলীর অপূর্ব প্রকাশ। ২. -أَوَلَمْ يَرَ الَّذِينَ كَفَرُوا أَنَّ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ كَانَتَا رَتْقًا فَفَتَقْنَاهُمَا ۖ وَجَعَلْنَا مِنَ الْمَاءِ كُلَّ شَيْءٍ حَيٍّ ۖ أَفَلَا يُؤْمِنُونَ “যারা কুফরি করে তারা কি দেখে না যে, (১) আসমানসমূহ ও যমীন মিশে ছিল ওতপ্রোতভাবে তারপর আমরা উভয়কে পৃথক করে দিলাম। ৩. وَالسَّمَاءَ بَنَيْنَاهَا بِأَيْدٍ وَإِنَّا لَمُوسِعُونَ [ الذاريات: 47]মি স্বীয় ক্ষমতাবলে আকাশ নির্মাণ করেছি এবং আমি অবশ্যই ব্যাপক ক্ষমতাশালী। [সূরা যারিয়াত: 47] অন্ধকার রাতে তারা ভরা আকাশ দেখে, দিনে প্রখর সূর্য তাপ আর ঝলমলে আলো দেখে, বিস্তুর্ণ শস্য-শ্যামল মাঠ প্রান্তর দেখে মানব জাতির সেই উষাকাল হতে এই প্রশ্ন জনমনে জেগেছিল যে, এই মহাবিশ্ব এলো কি করে? "এটাই হলো আদি প্রশ্ন" (বিজ্ঞানচিন্তা)। মডার্ণ কসমোলজিক্যাল স্ট্যান্ডার্ড মডেল থিওরি কর্তৃক ১৯৬৪ সালে মহাকাশে প্রাপ্ত পশ্চাৎপদ মহাজাগতিক রশ্মি (ব্যাক গ্র্যাউন্ড কসমিক রে) এর কম্পিউটার সিমুলেশনের মাধ্যমে জানা যায় যে, হাইয়েস্ট এনার্জেটিক রেডিয়েশনের মহাবিস্ফোরণ (Big Bang) থেকে শুরু হয়েছে মহাবিশ্ব। ১. কুন-ফায়াকুনঃ পবিত্র কুরআনের সূরাহ ইয়াসীনের ..নং আয়াতে বর্ণিতঃ "কুন" শব্দের মাধ্যমে যা ফায়াকুন হয়েছে তা হচ্ছে সূরাহ আম্বিয়ার ৩০ নং আয়াতে বর্ণিত "আসমান-যমীন একত্রে ছিল" যার বৈজ্ঞানিক নামঃ হাইয়েস্ট এনার্জেটিক রেডিয়েশন (Highest Energetic Radiation-অর্থাৎ মহাজাগতিক উচ্চ শক্তির বিকিরণ)। "পরে পৃথক করেছি"- এই আয়াতের বৈজ্ঞানিক নামঃ হাইয়েস্ট এনার্জেটিক রেডিয়েশনের "মহাবিস্ফোরণ বা বিগ ব্যাং" (Big Bang)। নতুন বিজ্ঞানঃ ফ্রন্টিয়ার সায়েন্সের ইতিকথা প্রখর বুদ্ধিদীপ্ত পরিচালনা-ব্যবস্থাপনায় এই জ্ঞানের বহিঃপ্রকাশ ঘটে। কিন্তু বিজ্ঞান শুরু থেকে বস্তুগতভাবে সীমাবদ্ধ হওয়ায় জ্ঞানগতভাবে বিজ্ঞানের অগ্রগতি নেই বল্লে চলে কারণ, প্রকৃতির বুদ্ধিদীপ্ত আচরণকে বলা হয় অতিপ্রাকৃতিক। তাই এ ব্যাপারে অগ্রগতি প্রায় শুন্য। কারণ, অতিপ্রাকৃতিক পথে বিজ্ঞান বার বার অসীমের হাতছানি পান যাতে সম্মতি দিতে বিজ্ঞানীদের রয়েছে অনীহা এ কারণে যে, এতে পদার্থ বিজ্ঞানের গুরুত্বপূর্ণ সূত্রগুলি প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে। তাই বিজ্ঞানীরা এসবকে অতিপ্রাকৃতিক, অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, ভূতুড়ে, অদ্ভূতুড়ে, হ্যালুয়েশন কিংবা টেলিপ্যাথি বলে উড়িয়ে দিতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। কিন্তু হালে অতি সত্যান্বেষী বিজ্ঞানীরা এভাবে প্রচলিত শব্দে, বাক্যে মহাবিশ্বের মহাবিস্ময় সূচক এ সব ঘটনা-পরিঘটনাকে এড়িয়ে যেতে অরুচীবোধ করে বরং এসবকে অবিশ্বাস্য হলেও সত্য বলে নীরব থাকতে অআর চান না। যার কারণে, বিগত বিংশ শতাব্দীর শেষ দিকে কিছু অতি সত্য সন্ধানী বিজ্ঞানীরা প্রথমবারের মতো নতুন বিজ্ঞান ফ্রন্টিয়ার সায়েন্সের ধারণা তুলে ধরেছিলেন এই প্রশ্নকে ঘিরে যে, লন্ডন প্রবাসী পিতার স্থানীয় সময় অনুসারে দিনের বেলায় সড়ক দূর্ঘটনায় আহত হওয়ার সাথে সাথে কি করে ঢাকায় তার ঘুমন্ত শিশুটা কেঁদে উঠে, কিংবা স্বদেশ ফেরত বহুজাতিক বাহিনীর সদস্যরা কেন অজ্ঞাত রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকেন? এসব টেলিপ্যাথিক ব্যাপারকে বিজ্ঞানীরা অতিপ্রাকৃতিক ব্যাপারে সীমাবদ্ধ থাকতে নারাজী থেকে এই নতুন ফ্রন্টিয়ার সায়েন্সের ধারণা বেগবান হয়েছে। তবে বিজ্ঞান সব সময় আপডেট হয় সেই প্রাচীন গ্রীসের অ্যাটম আবিস্কারক ডেমোক্রিটাসের যুগ থেকে। অতঃপর নতুন বিজ্ঞানের প্রবর্তন করেন আরেক গ্রীক দার্শনিক অ্যারিস্টট চতুর্মাত্রিক বিশ্বের ধারণা দিয়ে। মধ্যযুগে এই ধারণার অআপডেট করেন অআরব বিজ্ঞানী জাবের ইবনে হাইয়ানের দ্বিমাত্রিক বিশ্বতত্ত্বের মাধ্যমে, মারে গেলমান কোয়ার্কের মাধ্যমে একমাত্রিক বিশ্বের ধারণা প্রবর্তন করে যুগে যুগে নতুন বিজ্ঞানের উত্থান ঘটিয়েছিলেন। আলোচ্য নতুন বিজ্ঞান ফ্রন্টিয়ার সায়েন্সের ধারণা এসবেরই ধারাবাহিকতা মাত্র। তবে নতুন বিজ্ঞানে উত্তরণের পথ কুসুমাস্তির্ণ নয় বরং অনেক কন্টাকির্ণ। কারণ, বিজ্ঞানে অনেক অমীমাংসিত জটিল বিষয় রয়েছে যার সুরাহা ব্যতিত নতুন বিজ্ঞান অপূর্ণ থেকে যাবে। WISTRC World Islamic Science-Tech Research Center-মনে করে গ্র্যান্ড ইউনিফিকেশন থিওরি তথা থিওরি অব এভরিথিং পৌঁছতে হলে বিশেষ করে ডার্ক ম্যাটার, ডার্ক এনার্জি, মহাকর্ষের প্রতিকণা কোয়ান্টাম গ্র্যাভিটনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের সহজ-সরল সমাধান প্রয়োজন। কারণ, বিজ্ঞানীরা কোয়ান্টাম গ্র্যাভিটনের স্ট্যান্ডার্ড মডেল থিওরীর স্বীকৃতির জন্য দুটি বড় ধরণের ব্ল্যাকহোলের মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটিয়ে, সৌর জগতের অআয়তন বিশিষ্ট এক্সলেটর তৈরি যা এ মুহুর্তে অসম্ভব এবং স্ট্রিং থিওরির স্ট্রিংয়ের কম্পনে সৃষ্ট বস্তুকণার চাক্ষুষ দর্শনের জন্য ১০-৩৬ সেন্টিমিটার ক্ষুদ্র আয়তনের বস্তু পর্যবেক্ষণকারী সুপার ডিজিটাল মাইক্রোস্কোপের শর্ত জুড়িয়ে দিয়েছেন। বর্তমান সক্ষমতা রয়েছে মাত্র ১০-১৭ সেন্টিমিটার। কোয়ার্কের সূক্ষ্ণতা হচ্ছে ১০-১৬ সেন্টিমিটার। সুতরাং, এ মুহুর্তে ১০-৩৬ সেন্টিমিটার ক্ষুদ্র আয়তনের বস্তু পর্যবেক্ষণকারী সুপার ডিজিটাল মাইক্রোস্কোপ বিজ্ঞানীদের জন্য অআকাশ কুসুম কল্পনামাত্র। তাই .WISTRC মনে করে নিউটনের নিম্নোক্ত সরলীকরণ তত্ত্বের মাধ্যমে অআইনস্টাইন যেমন মহাকর্ষের সরলীকরণ তত্ত্ব উত্থাপন করে নন্দিত হন এই বলেঃ মহাকর্ষ স্থান-কালের বক্রতা মাত্র। অনুরুপ ডার্ক ম্যাটার, ডার্ক এনার্জি, স্ট্রিং থিওরি, মহাকর্ষের প্রতিকণা কোয়ান্টাম গ্র্যাভিটনের সরলীকরণ করা যেতে পারে যার সংক্ষিপ্ত বর্ণনা নিম্নে পেশ করা হলোঃ প্রশ্ন হচ্ছে, আমাদের আটকে রাখার ক্ষেত্রে মহাকর্ষের ভূমিকা নাকি মহাকর্ষের প্রতিবল বা প্রতিকণা কোয়ান্টাম গ্র্যাভিটনের ভূমিকা রয়েছে?। বিজ্ঞানীরা বর্তমানে যত না মহাকর্ষ নিয়ে চিন্তিত তার চেয়ে ঢের বেশি চিন্তিত গ্র্যাভিটন নিয়ে। কারণ, মহাকর্ষ প্রমাণিত সত্য। বিগত বিংশ শতাব্দীতে সোভিয়েত মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র সয়ুজ কর্তৃক প্রথমবারের মতো পৃথিবীর কক্ষ পথ ছেড়ে যাওয়ার সময় গ্র্যাভিটি বা মহাকর্ষের বাস্তব অস্তিত্ব অনুভব করেছিল। মহাকাশে অন্ততঃ ৫টি লাগ্র্যান্জ স্পট রয়েছে যাতে মহাকর্ষের অস্তিত্ব প্রমাণ করে। তবে এখনও প্রতিকণা গ্র্যাভিটনের কূল কিনারা পাওয়া যায় নি যা অমাদের আটকে রাখার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে মর্মে বিজ্ঞানীদের বিশ্বাস। গ্র্যাভিটনের কূল কিনারা পাওয়ার জন্য বর্তমানে বিজ্ঞানীরা কিনা করছেন। প্রশ্ন রাখছেনঃ ১) কখনো কি ভীষণ বিস্ময়ে ভেবেছেন, আপনি পৃথিবীতে আটকে আছেন কেন? মহাকাশে ছিটকে পড়ছেন না কেন? এর একটিই উত্তর, মহাকর্ষ। এই বলটাই আপনাকে ভূপৃষ্ঠে আটকে রেখেছে। মহাকর্ষ ছাড়া আমরা কেউই পৃথিবীতে আটকে থাকতে পারতাম না, থাকতে হতো মহাশূন্যে ভেসে। অবশ্য তখন মহাবিশ্বও পরিণত হতো ঘন অন্ধকারাচ্ছন্ন ও বিশালাকৃতির গ্যাস আর ধূলিকণায়। মহাকর্ষ না থাকলে গ্রহ, নক্ষত্র, ছায়াপথ বলে কিছু থাকত না। কাজেই বলতেই হচ্ছে, মহাকর্ষের প্রভাব বলেন আর প্রতিপত্তি বলেন, তা বিশাল, বিপুল। অনেক বড় পরিসরের। ২) যাঁরা বিছানায় শুয়ে, বসে কিংবা মাটিতে দাঁড়িয়ে পড়ছেন, তাঁরা নিশ্চয়ই জানেন মহাকর্ষ কী। অন্তত এটুকু নিশ্চয়ই জানেন, মহাকর্ষের টান না থাকলে এই লেখাটা পড়তে হতো মহাকাশে ভাসতে ভাসতে। আসলে মহাকর্ষই পৃথিবীসহ অন্যান্য গ্রহ, নক্ষত্র ও ছায়াপথের গতি-প্রকৃতি নিয়ন্ত্রণ করছে। সূর্যে শক্তি নিঃসরণ বা মহাকাশের দানব কৃষ্ণগহ্বরও তৈরি হচ্ছে ওই বলের কারণেই। লক্ষ্যনীয় যে, উপরোক্ত দুটি বর্ণনাই গ্র্যাভিটনকে গ্র্যাভিটির সমার্থক ধরা হচ্ছে। আমরা জানি, আমাদের চারপাশের জগতে এই বলটা কাজ করছে। কিন্তু অনেকেই হয়তো জানেন না এই বলটা অদ্ভুত। জাত-ধর্মেও অন্যদের চেয়ে আলাদা। অসামাজিক। কারণ, মহাবিশ্বের অন্যান্য মৌলিক বলের প্যাটার্নের সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায়, সেগুলোর সঙ্গে মহাকর্ষের কোনো মিল নেই। প্রথমত, অন্যান্য বলের তুলনায় মহাকর্ষ খুবই দুর্বল। আবার এই বল কখনো বিকর্ষণ করে না, সব সময় আকর্ষণ করে। শুধু কি তাই, কোয়ান্টাম জগতের সঙ্গেও এই বলকে খাপ খাওয়ানো যায় না। আরও লক্ষ্যণীয় যে, যে মহাকর্ষ বিগ ব্যাংয়ের পূর্বে হাইয়েস্ট এনার্জেটিক রেডিয়েশনে অপরাপর ৩ মহাবলের সাথে একত্রিত ছিল, এমনকি বিগ ব্যাংয়ের পরও কিছু সময় একত্রিত ছিল, পরে পৃথক হয়েছে তাতে মহাকর্ষকে কতিপয় কারণে অপর তিন বলের সাথে মিল খুঁজে পাচ্ছেন না। WSTRC মনে করে, মহাকর্ষেরও প্রতিকণা বা প্রতিবল রয়েছে যা বহুল প্রত্যাশিত গ্র্যাভিটন উৎপন্নে এবং বিচরণশীল প্রাণীদের ভূত্বকে অআটকে রাখছে। এ সমীকরণের জন্য বিজ্ঞানীদের ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত হতে হবে মিথ গত কারণে। যেমন বিজ্ঞানীরা নিউটনীয় ক্ল্যাসিকাল বল বিজ্ঞানের ধারণায় ত্যাগ স্বীকার করায় অআজ কোয়ান্টাম মেকানিক্স ফিজিক্সের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে স্থান পেয়েছে। অনুরূপ WSTRC এর কতিপয় ধারণাকে বিবেচনাধীন করা জরুরী মানবকূল সত্যকে জানতে বেছে নেন কেবল শক্তি দ্বারা সৃষ্ট বস্তু-পদার্থে গড়া বিশ্ব প্রকৃতিকে; মহাজাগতিক বুদ্ধিমত্তাকে নয়। আইনস্টাইনের মহাকর্ষের মসৃণ পটভূমিকে এখানে স্ট্রিংয়ের কম্পন দিয়ে প্রকাশ করা হয়, যাতে প্রকাশিত হয় কোয়ান্টাম বৈশিষ্ট্য৷ বর্তমানে বিশ্বজুড়ে অন্তত ৩০টি দল এলকিউজি নিয়ে গবেষণায় রত। একপর্যায়ে এসে গবেষণা দুই দিকে বেঁকে যায়। একটি হলো প্রথাগত লুপ কোয়ান্টাম গ্র্যাভিটি। অপরটি স্পিন ফোম থিওরি। এলকিউজি থেকে পাওয়া সবচেয়ে আধুনিক তত্ত্বের নাম লুপ কোয়ান্টাম কসমোলজি। যেখানে বিগ ব্যাংকে ধারণা করা হয় বিগ বাউন্সেরঅংশ। যাতে বলা হয় মহাবিশ্বের সংকোচন (বিগ ক্রাঞ্চ) ও প্রসারণ হয় পালাক্রমে৷ এক মহাবিশ্বের সংকোচন থেকে জন্ম হয় পরের মহাবিশ্বের।লুপ কোয়ান্টাম মহাকর্ষে সিঙ্গুলারিটি তৈরি হয় না। এর বদলে আছে অতিশয় ক্ষুদ্র ও অপরিসীম ঘন বস্তুখণ্ড। এই অতিশয় ক্ষুদ্র বস্তুখণ্ড দেখতে কেমন, সে সম্পর্কে আমাদের কোনো ধারণা নেই। মহাবিশ্বের সর্বজনীন তত্ত্ব পেতে তাই দরকার এমন তত্ত্ব, যা মহাকর্ষকে কোয়ান্টার তুলির আঁচড়ে চিত্রায়িত করতে পারবে। আর ঠিক এখানেই লুপ কোয়ান্টাম গ্র্যাভিটি (এলকিউজি) তত্ত্বের আবির্ভাব। পদার্থবিদ্যার দুই আলাদা তত্ত্বকে জোড়া দেওয়ার ক্ষেত্রে অন্যতম প্রতিশ্রুতিশীল এক তত্ত্ব। কোয়ান্টাম তত্ত্ব ও সার্বিক আপেক্ষিকতায় বড় একটি বিরোধ হলো স্থান-কালের ভূমিকা নিয়ে। কোয়ান্টাম তত্ত্বে স্থান-কাল নিছক একটি পটভূমি বা ঘটনার মঞ্চ। সে মঞ্চে বিকৃতি বা বক্রতা সৃষ্টি হতে পারে। সেই বক্রতা পাল্টাতে পারে কণার গতিপথও। কিন্তু ওইটুকুই। সবকিছু ঘটে সেই পটভূমির উপরিভাগে। কিন্তু সার্বিক আপেক্ষিকতায় স্থান-কাল কোনো অভিনেতার নাট্যমঞ্চ নয়। এখানে স্থান-কাল নিজেই অভিনেতা। এখানে আগে থেকে মঞ্চই থাকে না। অভিনেতা নিজেই সে মঞ্চতৈরি করে। সার্বিক আপেক্ষিকতা হলো স্থান-কালের বক্রতার ভাষা। আর বক্রতা তৈরিই করে মহাকর্ষ। মহাকর্ষ তো আসলে স্থান-কালের গতিবিদ্যাই। মহাকর্ষের কোয়ান্টাম তত্ত্ব পেতে তাই স্থান-কালের কোয়ান্টাম তত্ত্ব চাই। স্থান-কালকে কোয়ান্টায়িত করা গেলেই কেল্লা ফতে! আর এ কাজই করে লুপ কোয়ান্টাম গ্র্যাভিটি। লুপ নামটা দেওয়ার কারণ আছে। এমনিতে লুপ মানে ফাঁস বা এমন কিছু, যা ঘুরে আগের জায়গায় ফিরে আসে। কোয়ান্টাম তত্ত্ব বলে, প্রকৃতির বল ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কোয়ান্টায় গঠিত। তাহলে মহাকর্ষকেও তা–ই হতে হবে। স্থান-কালও তাহলে বিচ্ছিন্ন অংশ নিয়ে গঠিত হবে। কোয়ান্টাম তত্ত্বের অন্যতম কর্ণধার ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক ১৯০১ সালে শব্দটা ব্যবহার করেন। সে সময়ে তিনি জ্বলজ্বলে বস্তুর বিকিরণ নিয়ে কাজ করতে গিয়ে কেন তাপমাত্রা বাড়লে বিকিরণ লাল থেকে কমলা ও পরে নীল হয় এটা জানতে গিয়ে পেলেন একটি সমীকরণ। এতে শক্তির একককে স্বতন্ত্র বা আলাদাভাবে প্রকাশ করলেন। দেখলেন, একটি নির্দিষ্ট মাত্রার বিচ্ছিন্ন তাপমাত্রায় জ্বলজ্বলে বস্তু থেকে নির্গত শক্তি বর্ণালিতে ভিন্ন ভিন্ন রঙে ধরা দেয়। এ থেকেই এল কোয়ান্টা অর্থাৎ বিচ্ছিন্নতার ধারণা। কোয়ান্টাম তত্ত্ব বলে, প্রকৃতির বল ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কোয়ান্টায় গঠিত। তাহলে মহাকর্ষকেও তা–ই হতে হবে। স্থান-কালও তাহলে বিচ্ছিন্ন অংশ নিয়ে গঠিত হবে। হয়তো বা অতিক্ষুদ্র কাঠামোয় স্থান-কালও মৌলিক একক দিয়েই গঠিত। পক্ষান্তরে আইনস্টাইনের মহাকর্ষ প্রকৃতিগতভাবে অবিচ্ছিন্ন।বিশাল গ্রহ, নক্ষত্রও পরমাণু দিয়ে তৈরি। এই কণাদের ভাঙা বা জোড়া লাগা থেকে পাওয়া যায় আকর্ষণ ও বিকর্ষণ। চুম্বকের বিপরীত মেরু আকৃষ্ট হয়। এর পেছনে থেকে কাজ করে চৌম্বকক্ষেত্র। তবে আরও মৌলিকভাবে এটা আসলে কোয়ান্টাম কণার ওপর নির্ভর করে। কিন্তু প্রকৃতির চার মৌলিক বলের মধ্যে এক মহাকর্ষেরই কোনো কোয়ান্টাম ধর্ম পাওয়া যায়নি। তাই কেউ জানে না মহাকর্ষীয় ক্ষেত্রের উৎস কী বা এর অভ্যন্তরে কণারা কীভাবে কাজ করে। ওয়ার্ল্ড সায়েন্স-টেক রিসার্চ সেন্টারঃ মহাজাগতিক ক্ষুদ্র তরঙ্গ পটভূমি এবং মহাকাশ সম্প্রসারণের বৃহৎ-পরিসর গঠন পর্যবেক্ষণ ও সুপারনোভা পর্যবেক্ষণসহ মহাবিশ্বের বিভিন্ন উপাদানের পরিমাণের আনুপাতিক শক্তি-ঘনত্ব পরিমাপকারী ল্যাস্ব্‌ডা-কোল্ড ডার্ক ম্যাটার (Lambda-Cold Dark Matter) বা ল্যাম্বডা-শীতল অদৃশ্য বস্তু) বা কনকর্ডেন্স মডেল (concordance model) এর নকশা অনুসারে ১৯৭০ ও ৮০'রদশকে বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ দ্বারা এটি প্রমাণিত হয়,অদৃশ্য বস্তু (dark matter মহাবিশ্বের ছায়াপথসমূহ এবং এদের অন্তবর্তী স্থানে বিদ্যমান মহাকর্ষীয় বলের আপাত শক্তির পরিমাণ এত বেশি যে, দৃশ্যমান পদার্থগুলোর পক্ষে এ শক্তি সরবরাহ করা সম্ভব নয়। অর্থাৎ নির্দিষ্ট পদার্থের তুলনায় শক্তি অনেক বেশি। এর পর বিজ্ঞানীরা এই ধারণা গ্রহণ করতে বাধ্য হন যে, মহাবিশ্বের শতকরা প্রায় ৯০ ভাগ পদার্থই সাধারণ বেরিয়ন পদার্থ নয় বরং এরা হচ্ছে অদৃশ্য বস্তু (dark matter)। এর পূর্বে ধারণা করা হত মহাবিশ্বের সকল পদার্থই সাধারণ যা আমরা দেখতে বা অনুধাবন করতে পারি। ৩টি কোয়ার্ক(২টি আপ কোয়ার্ক এবং ১টি ডাউন কোয়ার্ক) মিলিত হয়ে নিউট্রন কণিকা (Neutron Particle) সৃষ্টি হতে থাকে। তাপমাত্রা যখন ১০৯ কেলভিন-এ নেমে আসে তখন পরিবেশ আরো অনুকুলে আসায় সৃষ্ট প্রোটন কণিকা ও নিউট্রন কণিকা পরষ্পর মিলিত হয়ে প্রথমবারের মত মহাবিশ্বে এটমিক নিউক্লি গঠিত হতে থাকে। এরপর তাপমাত্রা আরও কমে গিয়ে ১০৮ কেলভিন তখন এটমিক নিউক্লি মহাবিশ্বে বিক্ষিপ্ত ভাবে ছুটে চলা ইলেকট্রনিক কণিকাকে (Electronic Particle) চর্তুদিকের কক্ষপথে ধারণ করে। ফলে প্রথমবারের মত অণু'র (atoms) সৃষ্টি হয়। আরও পরে যখন তাপমাত্রা ৩,০০০ কেলভিনে উপনীত হয় তখন মহাবিশ্বের মূল সংগঠন গ্যালাক্সি (galaxy) সৃষ্টি হতে থাকে। পরবর্তীতে এর ভেতর নক্ষত্র, গ্রহ, উপগ্রহ ইত্যাদি সৃষ্টি হতে থাকে। স্ট্রিং যে প্রক্রিয়ায় জুটি বন্ধক জোয়েল শার্ক এবং জন শোয়ার্জ মহাকর্ষের প্রতিকণার কল্পিত নাম দিলেন গ্র্যাভিটন; অর্থাৎ মহাকর্ষ কণা। স্ট্রিং থিওরি মতে, একটা বস্তু আরেকটাকে আকর্ষণ করে এই কণাদের আন্তবিনিময়ে। এভাবে স্ট্রিং থিওরির বড় একটা সমস্যার সমাধান হলো। একই সঙ্গে সম্ভব হলো মহাকর্ষ বলের সঙ্গে প্রকৃতির অন্য বলগুলোকে একীভূত করার কাজটা। স্ট্রিং থিওরির বেশ কিছু উদ্ভটতা আছে সত্যি, কিন্তু তারপরও পদার্থবিজ্ঞানের দুটি বড় তত্ত্বকে জুটিবদ্ধ করতে পারছে এটি। অনেকে বলে তত্ত্ব দুটির মধ্যে বিবাহবন্ধনের ব্যবস্থা করতে পেরেছে স্ট্রিং থিওরি। সেই তত্ত্ব দুটি হলো সাধারণ আপেক্ষিকতা এবং কোয়ান্টাম তত্ত্ব। যেহেতু স্ট্রিং থিওরি হল গানিতিকভাবে গঠিত একটি কোয়ান্টাম মেকানিক্সের তত্ত্ব, তাই গ্রাভিটনের অস্তিত্ব এটাই বলছে যে স্ট্রিং তত্ত্ব কার্যতঃ কোয়ান্টাম গ্রাভিটিরই (মহাকর্ষের কোয়ান্টাম রুপ) পরিপূরক এক অভিন্ন তত্ত্ব । এই তত্ত্ব মতে, তারগুলো মূলতঃ ২ প্রকার। ক) খোলা এবং খ) বন্ধ দুই ধরনেরই হতে পারে। খোলা তারগুলোর দুই প্রান্ত একটি আরেকটির সাথে জোড়া না লেগে আলাদা আলাদাভাবে থাকে, আর বন্ধ তারগুলোর দুই প্রান্ত পরস্পরের সাথে জোড়া লেগে লুপ গঠন করে। খোলা তারগুলোর চেয়ে বন্ধ তারগুলো কিছুটা ভিন্ন ভাবে আচরণ করে থাকে। বন্ধ তারগুলো গ্রাভিটন উৎপন্ন করে, অপরদিকে শুধুমাত্র খোলা তারগুলো ফোটনের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ আচরণ করে। কোয়ান্টাম গ্র্যাভিটি: মহাকাশের এক অজানা অধ্যায় আপাততঃ দৃষ্টি সার্বিক আপেক্ষিকতার সঙ্গে কোয়ান্টাম তত্ত্বের কিছুটা বিরোধ বা দুর্বলতা রয়েছে। আইনস্টাইনের তত্ত্বে মহাকর্ষ হলো স্থান-কালের বক্রতার বহিঃপ্রকাশ। স্থান-কালের এক্ষেত্রে কোয়ান্টায়ন হয় প্ল্যাঙ্ক স্কেলে। উল্লেখ্য, ১০৯ জুল শক্তি, ৫×১০-৪৪ সেকেন্ড ব্যাপ্তি বা ১০-৩৫ মিটার দৈর্ঘ্যকে প্ল্যাঙ্ক স্কেল ধরা হয়। শক্তির পরিমাণটা প্ল্যাঙ্ক ভরের সমতুল্য পরিমাণ (আইনস্টাইনের ভর-শক্তির সমীকরণ E = mc2 থেকে)। আর প্ল্যাঙ্ক দৈর্ঘ্য প্রোটনের ১০ লাখ-কোটি-কোটি গুণ ছোট। প্ল্যাঙ্ক স্কেল পর্যন্তই শক্তি ও পদার্থের অর্থপূর্ণ পরিমাপ সম্ভব। কোয়ান্টাম তত্ত্ব বলে, যেকোনো বল আসলে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বিচ্ছিন্ন খণ্ডের সমাবেশ। এসব খণ্ডের নাম কোয়ান্টাম। বহুবচনে কোয়ান্টা। কোনো ভৌত বৈশিষ্ট্যের সর্বনিম্ন বিচ্ছিন্ন প্রকৃতির কোয়ান্টায়িত অংশ বোঝানোর জন্য লাতিন কোয়ান্টা শব্দটার আবির্ভাব। যেমন আলোর কোয়ান্টা হলো ফোটন কণা। প্রশ্ন হলো, স্থান-কালকে কোয়ান্টায়িত করার মানে কী? এর মানে হলো, মৌলিক একটি একক বা বিচ্ছিন্ন খণ্ডের অস্তিত্ব আছে অতিক্ষুদ্র, অ–ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য ও সূক্ষ্ম কাঠামোয়। ধরা যাক, একটি ছবি। একে জুম করতে থাকলে একসময় দেখবেন, মসৃণ ছবিটায় ফুটে উঠবে বহু ছোট ছোট বর্গ। এদের নাম পিক্সেল। স্থান-কালের ব্যাপারটাও এর সঙ্গে তুলনীয়। জুম ইন করে ছোট ছোট এককের দিকে যেতে থাকলে দেখা যাবে, স্থান-কাল অবিচ্ছিন্ন বা মসৃণাভাবে ভবিষ্যতের দিকে ছুটে চলছে না। চলছে বিচ্ছিন্ন এক ঘড়ির দ্রুত টিক বা স্পন্দনের মতো। চলাচলের পথটা মসৃণ নয়; বরং এ যেন স্থান-কালের এক পদক্ষেপ থেকে আরেক পদক্ষেপে থেমে থেমে হামাগুড়ি দিয়ে এগিয়ে যাওয়া। উদাহরণ স্বরূপ রাইচ মিল থেকে দৃশ্যতঃ নিরবচ্ছিন্নভাবে চাউল বের হলেও কার্যতঃ তা বের হচ্ছে মৌলিক একটি একক বা বিচ্ছিন্ন খণ্ডে এক একটি চাউল হিসাবেই। হাই স্পিডে নিরবচ্ছিন্নভাবে যে ফ্যান ঘুরছে তা মূলতঃ তিন পাখারই ঘূর্ণায়ন মাত্র। অনুরূপ ট্যাপ কিংবা টিউবওয়েল থেকে যে নিরবচ্ছিন্ন পানি বের হয় তার ক্ষুদ্ররূপ কোয়ান্টা হচ্ছে অক্সিজেন এবং হাইড্রেজেনের অণু কণা মাত্র। বেসিনে যে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পানির অংশ ইতস্ততঃ বিক্ষিপ্তভাবে ছড়িয়ে থাকে তা পানির কোয়ান্টারই বৃহৎ রূপ বা ভগ্নাংশ মাত্র। ................................................................................................................................................................................................ আইনস্টাইনের সিঙ্গুলারিটি তত্ত্বের সাথে এ ক্ষেত্রে কোয়ান্টা তত্ত মানান সই বলা যেতে পারে। যেহেতু বিদ্যুৎ চুম্বকীয় বলের বাহক কণা ফোটনের .সিঙ্গুলারিটি হচ্ছে কোয়ান্টা মূলতঃ আকর্ষণ বা চুম্বকধর্মী (ম্যাগনেটিক) এবং যেহেতু মহাকর্ষ শতভাগ আকর্ষণধর্মী যাতে মহাকাশীয় চুম্বক ক্ষেত্র এবং বিদ্যুৎ চুম্বকীয় বলের মিথস্ক্রিয়ায় ব্যাপক আকর্ষণধর্মী ধনাত্মক চার্জের উদ্ভব ঘটে ফলে সংগত কারণে অপরিহার্য হয়েছে মহাকর্ষকে অপর তিন মহাবলের কাতারে আবদ্ধ করা-যা বিগ ব্যাং পূর্ব হাইয়েস্ট এনার্জেটিক রেডিয়েশনে একত্রিত ছিল এমনকি বিগ ব্যাংয়ের পরও। পরে এক সময় ৪ বল পৃথকরূপে আত্ম প্রকাশ করে। ৩ বল গুণগতভাবে অর্থাৎ ধনাত্মক এবং ঋণাত্মক উভয় চার্জ নিয়ে সমাজবদ্ধ থাকলেও মহাকর্ষের প্রতিকণা বা প্রতিবল গ্র্যাভিটন আজও সায়েন্স ফিকশন হয়ে থাকায় মহাকর্ষকে ব্যাচেলর হয়ে থাকতে হচ্ছে। কিন্তু আর কত কাল? ঘটক ডেকে একটা জুটি বাধা দরকার করে করে ওয়ার্ল্ড সায়েন্স-টেক রিসার্চ সেন্টার। ঘটক হতে পারে আকর্ষণধর্মী স্ট্রিং থিওরি যাকে পদার্থ বিজ্ঞানে বলা হয় মেসন-গ্লুয়নের মতো জুটি বন্ধক। প্ল্যাঙ্ক স্কেলে এসে কোয়ান্টাম তত্ত্ব ও সার্বিক আপেক্ষিকতা—দুটিই মুখ থুবড়ে পড়ে স্থান-কালের কোয়ান্টায়ন হয় প্ল্যাঙ্ক স্কেলে। খুব ক্ষুদ্র দৈর্ঘ্য, সময়ে বা শক্তিতে৷ ১০৯ জুল শক্তি, ৫×১০-৪৪ সেকেন্ড ব্যাপ্তি বা ১০-৩৫ মিটার দৈর্ঘ্যকে প্ল্যাঙ্ক স্কেল ধরা হয়। প্ল্যাঙ্ক স্কেলে এসে কোয়ান্টাম তত্ত্ব ও সার্বিক আপেক্ষিকতা—দুটিই মুখ থুবড়ে পড়ে। কোনোটির পূর্বাভাসই কাজ করে না। মহাবিশ্বের জন্মের ঠিক পরপর এমন অবস্থা ছিল। আরও সঠিক করে বললে, জন্মের ১০-৪৩ সেকেন্ড পরে ছিল সে অবস্থা। মহাবিশ্বের এই বিশেষ সময়টার নামও প্ল্যাঙ্ক যুগ। সে সময়েরঅবস্থার কেমন ছিল বা সেটা কীভাবে হয়েছিল, তা বলতে পারে না দুই তত্ত্বের কোনোটিই। কোয়ান্টায়নের একটি দারুণ সুবিধা হলো সিঙ্গুলারিটি সমস্যার সমাধান। আইনস্টাইনের তত্ত্বে অসীম ঘনত্ব ও মহাকর্ষের স্থানে তৈরি হয় সিঙ্গুলারিটি বা পরম বিন্দু।সংজ্ঞাই বলছে, সিঙ্গুলারিটি অতিশয় ক্ষুদ্র। সে হিসাবে বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে এটি কোয়ান্টামধর্মী। এ কারণেই একে বুঝতে হলে চাই কোয়ান্টাম মহাকর্ষ তত্ত্ব।মহাবিশ্বের বস্তুগত জ্ঞান বা সত্যের যথাক্রমে ২১% এবং৭৫% (৯৬% অদৃশ্যমান)-অর্থাৎ বিজ্ঞানীদের মহাবিশ্বের জানা পদার্থের পরিমাণ ৪% যাতে মহাকর্ষের মাত্র ১০ শতাংশ জুড়ে আছে। বাকী ৯০ শতাংশ মহাকর্ষ অদৃশ্যমান। এতদ্বসত্ত্বেও বিজ্ঞানীরা যেন জীবন্ত অনুভব করছেন ৯৬ শতাংশ ডার্ক এনার্জি এবং ডার্ক ম্যাটারকে, মহাকর্ষের ৯০% এর অস্তিত্বকে। অনুরূপ স্ট্রিং দেখার জন্য ১০-৩৩ সেন্টিমিটার সুপার ডিজিটাল মাইক্রোস্কোপ অআবিস্কারের অআশায় প্রহর গণাপারস্ট্রিং থিউরি এবং বহু মহাবিশ্ব স্ট্রিং থিওরির একটি সীমাবদ্ধতা হল এই থিওরিতে বোসন কণিকাকে (যেগুলোর আদান-প্রদানের মাধ্যমে মৌলিক বলসমূহ কাজ করে থাকে) অন্তর্ভুক্ত করা হলেও ফার্মিয়নকে (যাদের দ্বারা সব পদার্থ তৈরি) স্থান দেওয়া হয় নি। তাছাড়া এই থিওরিতে আরো এক ধরণের কল্পিত কণিকাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে যাদেরকে বলা হয়ে থাকে "ট্যাকিওন"। "ট্যাকিওনরা" আলোর চেয়ে বেশি দ্রুতিতে চলাচল করতে পারে, যার ফলে এরা ভবিষ্যত এবং অতীত যেকোন দিকে যাওয়ার ক্ষমতা রাখে। এতে বড় সমস্যা হল স্থান (space) তখন অস্থিতিশীল (destabilized) হয়ে পড়ে। এই সমস্যা থেকে উত্তরণের উপায় হিসেবে বিজ্ঞানীরা সুপার স্ট্রিং থিউরির অবতারণা করেছেন, যেটি হল "স্ট্রিং থিওরি" এবং "সুপার সিমেট্রি" এর সম্মিলিত রূপ তাই "স্ট্রিং থিউরি" বলতে মূলত "সুপার স্ট্রিং" থিউরিকেই বুঝানো হয়ে থাকে।স্ট্রিং থিউরি মূলত কাজ করে থাকে ১১ ডাইমেনশনাল মহাবিশ্বে, যাদের ভিতর ১০ টি হল স্পেস বা স্থান সংক্রান্ত ডাইমেনশন এবং বাকী একটি হল "সময় বা টাইম" সংক্রান্ত ডাইমেনশন। আমাদের অতি পরিচিত প্রথম তিনটি ডাইমেনশন অর্থাৎ দৈর্ঘ্য, প্রস্থ এবং উচ্চতা বাদে অবশিষ্ট ৭ টি স্থান সংক্রান্ত ডাইমেনশন এতই ছোট যে (প্লাংক দৈর্ঘ্য-এর সমমানের, ১০^-৩৫ মিটার) এরা সংকুচিত হয়ে আমাদের চারপাশের স্থানের প্রতিটি বিন্দুতে অবস্থান করছে, যাদেরকে আমরা খালি চোখে দেখতে পারি না। স্ট্রিং থিওরির উপসংহার স্ট্রিং বিজ্ঞানীদের অভিমতঃ সুপার স্ট্রিংগুলি উচ্চতর ডাইমেনশনে বিচরণের ক্ষমতা রাখে এবং সেখানে এরা বিভিন্ন ভাইব্রেশন মুডে কম্পিত হয়ে বিভিন্ন মৌলিক কণিকা এবং বলকে আমাদের সামনে উন্মুক্ত করছে। WSTRC মনে করে, ১১ মাত্রিক সুপার স্ট্রিংগুলি উচ্চতর ডাইমেনশনে বিচরণ করে ভাইব্রেশন মুডে কম্পিত হয়ে সাগর-মহাসাগর, নদ নদী, খাল বিল,ঝিল, পুকুর ডোবা অর্থাৎ জলজ ভূমিতে মাছ এবং মাছ জাতীয় যত সব প্রাণী, বনে-জঙ্গলে জীব-জন্তুরূপে আমাদের সামনে উন্মুক্ত করছে। তবে এই সমীকরণের শর্ত হচ্ছেঃ ভাইব্রেশন মুডে কম্পনের আউটপুট একবার মাত্র ঘটতে হবে এবং এ ধারা অব্যাহত রাখার জন্য ধনাত্মক এবং ঋণাত্মক চার্জ অর্থাৎ বিপরীত লিঙ্গের বস্তুুগত ধারণাঅপরিহার্য হতে হবে। পদার্থ বিজ্ঞানের উপসংহার টানতে হলে অবশাই ভরশক্তি সমীকরণ অনুসারে শক্তিকে পদার্থ বিজ্ঞানের শেষ কথা মানতে হবে এই বিজ্ঞানের নিষেধাজ্ঞা মান্য করে। কারণ, শক্তি কি দিয়ে তৈরি? এই প্রশ্নে ডুবে থাকলে হয়ত শক্তি থেকে কিছু একটা বেরিয়ে অআসতে পারে-তা-ও হবে ইলেকট্রন কিংবা কোয়ার্কের মতই এনার্জি এন্টি এনার্জি অর্থাৎ বস্তু অআর বস্তু । এই বস্ত থেকে বেরিয়ে অআসা যতক্ষণ সম্ভব হবে না ততক্ষণ .. উদাহরণস্বরূপ গরু হবে ১১ মাত্রিক সুপার স্ট্রিংগুলি উচ্চতর ডাইমেনশনে বিচরণ করে ভাইব্রেশন মুডের ফসল এবং গাভী হবে এই মুডের ভিন্ন মাত্রার ফসল। ধনাত্মক এবং ঋণাত্মক চার্জ অর্থাৎ বিপরীত লিঙ্গের বস্তুুগত ধারণা লাভ সম্ভব। কিন্তু প্রাণীর প্রাণ কিংবা প্রকৃতির উদ্ভব কিভাবে? এভাবে থেকে গাভীর জন্ম হয়েছিল যাতে পরবর্তী প্রজন্মের উত্তরণ অব্যাহত থাকে। এভাবে মনে করা যেতে পারে যে, প্রকৃতিতে সুপার স্ট্রিংগুলি উচ্চতর ডাইমেনশনে বিচরণ করে ভাইব্রেশন মুডে কম্পন সুদূর অতীতে একবারই ঘটে পৃথিবীতে প্রাণীর উদ্ভব ঘটিছিল বস্তুগতভাবে। মানব দেহ মূলত পানি, খনিজ লবণ এবং কার্বন ভিত্তিক জৈব অণু (যেমন- প্রোটিন, লিপিড বা চর্বি, কার্বোহাইড্রেট এবং নিউক্লিক এসিড) দিয়ে গঠিত। মাত্র ৬টি মূল মৌল (অক্সিজেন, কার্বন, হাইড্রোজেন, নাইট্রোজেন, ক্যালসিয়াম এবং ফসফরাস) দেহের ওজনের প্রায় ৯৯% গঠন করে। মানব দেহের উপরোক্ত উপাদানই খনিজজাত মাটিনির্ভর। কিন্তু প্রাণীর বিশেষ করে মানব প্রাণের উৎস সম্পর্কে বিজ্ঞান নীরব। এমনকি পবিত্র কুরআনেও দৈহিক সত্বার ব্যাপারে মাটির উল্লেখ থাকলেও প্রাণ সম্পর্কে কেবল বলা হয়েছে ঃ প্রাণ হচ্ছে আল্লাহর আদেশ (আল কুরআন)। তাছাড়া আমরা যাকে প্রকৃতি (নেচার-নেচারাল) বলে অ্যাবস্ট্রাক্ট বা অতীন্দ্রিয় অদৃশ্য যে সত্বাকে জানি, বলে থাকি সেই প্রকৃতিটিরই বা সংজ্ঞা কি? এই প্রশ্নও পদার্থ বিজ্ঞানের ১০ প্রধান অমীমাংসিত প্রশ্নের একটি হতে পারে। তাছাড়া সুপার স্ট্রিংগুলি উচ্চতর ডাইমেনশনে বিচরণ করে ভাইব্রেশন মুডে কম্পনের জন্য প্রকৃতি কেন বেছে নিল পৃথিবীকে? এর উত্তর না নিউটনের ক্লাসিকাল বল বিজ্ঞান , না আইনস্টাইনের বিশেষ এবং সাধারণ আপেক্ষিকতা তত্ত্ব না ম্যাক্স প্ল্যাংকীয় কোয়ান্টাম থিওরিতে পাওয়া যাবে? তবে এর উত্তরের গভীরতা পাওয়া যেতে পারে নতুন বিজ্ঞান Frontier Science-এ মর্মে WSTRC মনে করে। উল্লেখ্য, পৃথিবীর সমগোত্রীয় সকল প্রাণীর কন্ঠস্বর এক এবং অভিন্ন হওয়ার কারণ হতে পারে, অভিন্ন স্বরতন্ত্র। কিন্তু পৃথিবীর সমগোত্রীয় সকল মানুষের স্বরতন্ত্র এক এবং অভিন্ন হওয়া সত্ত্বেও কন্ঠস্বর ভিন্ন কেন? স্ট্রিং তত্ত্বে এর ব্যাখ্যা কি? WSTRC মনে করে যে, মানুষসহ পৃথিবীর প্রতিটি প্রাণীর স্বরতন্ত্র অনেকটা রেকর্ড প্লেয়ার বা গ্রমোফোনের ন্যায় যা একই যান্ত্রিক উপায়ে নির্মিত। কিন্ত্ত কন্ঠস্বর বাচনভঙ্গির কারণে ভিন্নতা লাভ করে। কোনো বাক্যকে পদ্যের ভঙ্গিতে পাঠ করলে তা পদ্য এবং গদ্যের ভঙ্গিতে পাঠ করলে তা গদ্যই শোনা যাবে, গানের সূরে প্রকাশ করলে গানই শোনাবে। পৃথিবীর সকল দেশের সকল প্রাণীর রব একই হলেও পৃথিবীর সকল দেশের সকল মানুষের ভাষা এক না হওয়ার কারণ ভাষার তারতম্য। ভাষা গঠিতহয় স্বরবর্ণ (Vowel) এবং ব্যান্জনবর্ণ (Consonant)। ভাষা বিজ্ঞানীদের মতে, কয়েক কিলোমিটারের ব্যবধানে উচ্চারণ ধ্বনিতে পরিবর্তন আসে।ভাষায় বড় ধরণের পরবর্তন আসে ভিন্ন ভিন্ন স্বরবর্ণ (Vowel) এবং ব্যান্জনবর্ণের (Consonant) কারণে। প্রশ্ন হচ্ছেঃ বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন স্বরবর্ণ (Vowel) এবং ব্যান্জনবর্ণ (Consonant) আসলো কোত্থেকে? মানুষের জ্ঞানে একটা সীমাবদ্ধতা রয়েছে-এটা মানতে হবে বলেই পদার্থ বিজ্ঞানীদের সর্বসম্মত অভিমতঃ এমন প্রশ্ন করা যাবে না যার উত্তর এ জগতে নেই। তাছাড়া হাবল থেকে ভয়েজার-১, ভয়েজার-২ এবং জেমস ওয়েব মহাকাশ যানের বদৌলতে জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের দৃষ্টিসীমা মহাকাশের এমন গভীর অভ্যন্তরে পৌঁছেছে তা স্পষ্টতঃ আলোর পর্দা দিয়ে ঢাকা। এখানেই মহাকাশ প্রযুক্তিতে দূরতম অন্চলে নজর দেওয়ার শেষ মন্জিল বলা যেতে পারে । পর্দার ওপারে দৃষ্টি দেওয়ার মতো ডিটেক্টর এখনও হাতে না থাকায় বিজ্ঞানীরা ওপারে দৃষ্টি দিতেও নিষেধাজ্ঞা জারী করেছে। তবে মাঝে মধ্যে ওপার থেকে ভেদ করে আসা কিছু নিউট্রিনোকে কম্পিউটার সিমুলেশনে যৎসামান্য ওপারের খবরা খবর জানা যাচ্ছে।What’s the creation myth in Norse mythology?What’s the creation myth in Norse mythology? ©Getty Images The universe as we know it today was believed by the Vikings to be something completely different. They conceived of a universe that was created in a way that science has not been able to substantiate, and so it has become known as a creation myth. In Norse mythology, the creation myth is a vivid and complex tapestry of primordial forces, cosmic realms, and divine interventions, and it unfolds in a universe centered around a great sacred ash tree called Yggdrasil, which holds the nine worlds in its branches and roots.নর্স পুরাণে সৃষ্টিতত্ত্ব কী? ভাইকিংরা বিশ্বাস করত যে, আমরা আজ যে মহাবিশ্বকে জানি তা সম্পূর্ণ ভিন্ন কিছু। তারা এমন এক মহাবিশ্বের ধারণা করেছিল যা এমনভাবে সৃষ্টি হয়েছিল, যা বিজ্ঞান আজ পর্যন্ত প্রমাণ করতে পারেনি, এবং তাই এটি সৃষ্টিতত্ত্ব নামে পরিচিতি লাভ করেছে। নর্স পুরাণে, সৃষ্টিতত্ত্ব হলো আদিম শক্তি, মহাজাগতিক জগৎ এবং দৈব হস্তক্ষেপের এক প্রাণবন্ত ও জটিল চিত্রপট, এবং এটি ইগড্রাসিল নামক এক বিশাল পবিত্র অ্যাশ গাছকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এক মহাবিশ্বে উন্মোচিত হয়, যা তার শাখা-প্রশাখা ও শিকড়ে নয়টি জগৎকে ধারণ করে আছে।https://www.msn.com/en-xl/news/other/what-s-the-creation-myth-in-norse-mythology/ss-AA1uGP4e?ocid=msedgntp&pc=U531&cvid=6a448da0b6d54519bea5a2f1a63cb094&cvpid=6a448f1169bf4cf59c66b5edcfdc66f7&ei=13 WSTRC মনে করে, অর্থবহ পৃথিবীর জন্য যেমন অর্থবহ প্রশ্ন দরকার, তেমনি অর্থহীন প্রশ্ন পরিতাজ্য। উত্তর মেরুতে কি আছে? এটি অর্থবহ প্রশ্ন হতে পারে-কিন্ত্ত উত্তর মেরুর উত্তরে কি আছে? প্রশ্নটি যেমন সমস্যা জর্জরিত পৃথিবী এবং ক্ষণজন্মা বিজ্ঞানীদের জন্য অর্থহীন তেমন বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন স্বরবর্ণ (Vowel) এবং ব্যান্জনবর্ণ (Consonant) আসলো কোত্থেকে? এই প্রশ্নটিও অর্থহীন যা এমন প্রশ্ন যা এ জগতে না থাকার বিজ্ঞানীদের যে দাবী- প্রশ্নটি তারই অন্তর্ভূক্ত একটি বিষয় বটে। ভরহীন কিছু কণার অস্তিত্ব থাকতে হবে, যা কখনো স্থির থাকতে পারবে না। এ রকম চরিত্রের একটা কণা হলো ফোটন। এরও ভর নেই। কখনো স্থির থাকে না। কিন্তু গাণিতিক হিসাব কষে আরেকটা এ রকম কণা পেলেন বিজ্ঞানীরা। কিন্তু তেমন ভরহীন কণার অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া গেল না। তাহলে ঘটনা কী? হিসাব মেলে না। স্ট্রিং থিওরি মতে, স্ট্রিং বা তার বা সুতার আকার একটা পরমাণুর নিউক্লিয়াসের চেয়েও কোটি কোটি কোটি... ভাগ ছোট। প্রায় ১০-৩৩ সেন্টিমিটার। এটা বিভিন্নভাবে কাঁপতে পারে। এই কাঁপার ধরনের ওপর নির্ভর করে গড়ে ওঠে কোয়ার্ক বা ইলেকট্রনের মতো ভিন্ন ভিন্ন কণা। প্রকৃতিকে খুব কাছ থেকে খেয়াল করলে দেখা যায়, চারপাশের প্রতিটি ঘটনায় একধরনের অদৃশ্য ছন্দ লুকিয়ে আছে। পানির স্রোত হোক কিংবা তারের কম্পন, পদার্থবিজ্ঞানের এই ছন্দগুলোই আমাদের জীবনকে সচল রাখে এবং আধুনিক প্রযুক্তির ভিত্তি গড়ে দেয়। তরঙ্গের শক্তি যদি সামনের দিকে যায়, তবে মাধ্যমের কণাগুলো ওপর-নিচে কাঁপতে থাকে। আমাদের চেনা আলো কিন্তু একধরনের অনুপ্রস্থ তরঙ্গ! দৃশ্যমান আলোসহ সব ধরনের তড়িৎচৌম্বকীয় বিকিরণে বৈদ্যুতিক ও চৌম্বক ক্ষেত্রগুলো তরঙ্গের গতির সঙ্গে সমকোণে কাঁপতে কাঁপতে এগিয়ে চলে।বিজ্ঞানের ভাষায়, শব্দ হলো একধরনের চাপের তারতম্য বা কম্পন, যা গ্যাস, তরল কিংবা কঠিন মাধ্যমের ভেতর দিয়ে ঢেউয়ের মতো বয়ে চলে।আমরা কীভাবে শুনি? আমরা যে শব্দ শুনি, তার পেছনে রয়েছে আমাদের কানের এক চমৎকার মেকানিজম। বাতাসের সেই অদৃশ্য ঢেউ যখন আমাদের কানের পর্দায় এসে আঘাত করে, তখন পর্দাটি কাঁপতে শুরু করে। এই কম্পন কানের ভেতরের সূক্ষ্ম নার্ভের মাধ্যমে মস্তিষ্কে পৌঁছায়। মস্তিষ্ক তখন সেই সংকেত ডিকোড করে আমাদের চারপাশের চেনা শব্দ হিসেবে শোনায়। তরঙ্গের কম্পাঙ্ক যত বেশি হবে, বাতাসের চাপ তত দ্রুত ওঠানামা করবে। তখনই আমরা তীব্র বা চিকন সুর শুনতে পাই। একে বিজ্ঞানের ভাষায় বলে উচ্চ পিচ। একজন সুস্থ মানুষ সাধারণত ২০ থেকে ২০ হাজার হার্জ কম্পাঙ্কের শব্দ শুনতে পায়।How are electricity and magnetism related? Electricity and magnetism are two intertwined aspects of electromagnetism. Though long considered separate, the pivotal discovery that electric currents produce magnetic effects by Hans Christian Ørsted in 1820, proved they were linked. A changing magnetic field produces an electric field, and conversely, a changing electric field produces a magnetic field. James Clerk Maxwell unified these concepts, describing light as electromagnetic radiation, where electric and magnetic fields travel together as waves. These waves, such as radio waves, light, and X-rays, travel at the speed of light, differing only in their oscillation frequency. Maxwell's equations form a complete description of electromagnetism, explaining how electric fields diverge from electric charge and how changing magnetic fields produce electric fields.https://www.britannica.com/science/string-theory

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

Holy Romado-n 1445 Hijrah/2024 News

Article