ইরান যুদ্ধ শেষ করতে হিমশিম খাচ্ছেন ট্রাম্প
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে ইসরাইল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার উপদেষ্টারা যেকোনো মূল্যে ইরানের সঙ্গে একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে চাইছেন বলে দাবি করেছেন ইসরাইল কর্মকর্তারা। একজন জ্যেষ্ঠ ইসরাইলি কর্মকর্তার বরাতে ইসরাইল সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১২ এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিযেছে। একজন জ্যেষ্ঠ ইসরাইলি কর্মকর্তার বরাতে ইসরাইল সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১২ এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিযেছে।
সংবাদমাধ্যমটি বলছে, ট্রাম্পের ইরান নীতিকে ঘিরে তেল আবিবে অনিশ্চয়তা বাড়ছে।চ্যানেল ১২ আরও জানায়, ইসরাইলি কর্মকর্তারা ব্যক্তিগত আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়ে ঠাট্টা করেছেন। তাদের মতে, সম্ভাব্য কোনো চুক্তি হলে হরমুজ প্রণালিতে চলাচল নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে আগের সমঝোতা পুনরায় চালুর পথ তৈরি হতে পারে।https://www.jugantor.com/international/1136391ইসরাইলের সমালোচনা করলে কী যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ইহুদি সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে ঘৃণা, বিদ্বেষ বা সহিংসতা উসকে দেন- এমন বিদেশি নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হবে না। এক ভিডিও বার্তায় রুবিও বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন ইহুদি সম্প্রদায়ের নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো আপস করবে না।
তার ভাষায়, যারা ইহুদিবিদ্বেষ ছড়ায় বা সহিংসতাকে উৎসাহিত করে, তাদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের দরজা বন্ধ থাকবে।
তার দাবি, ইসরাইলবিরোধী কিছু উগ্র বক্তব্য প্রায়ই সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর প্রচারসামগ্রীর সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। ইসরাইল ঘিরে বিদ্বেষমূলক প্রচারণায় আন্তর্জাতিক সংস্থা ও বিভিন্ন রাষ্ট্রের ভূমিকাও ওয়াশিংটন আরও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত প্রসঙ্গে রুবিও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এখনো ‘আব্রাহাম চুক্তি’ আরও বিস্তারের মাধ্যমে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার আশা করছে।
তার মতে, আরব দেশগুলোর সঙ্গে ইসরাইলের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ ভবিষ্যতে শান্তি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সম্প্রতি রুবিও’র এমন বক্তব্যের পর প্রশ্ন উঠছে, ইসরাইলের সমালোচনা করলে কী যুক্তরাষ্ট্র ভিসা দেবে না। খবর এপির।মিলবে না
যুক্তরাষ্ট্রে ইহুদি সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা জোরদারে নতুন ও কঠোর ভিসানীতির ঘোষণা দিয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন।
সংবাদমাধ্যমটি বলছে, ট্রাম্পের ইরান নীতিকে ঘিরে তেল আবিবে অনিশ্চয়তা বাড়ছে।Why Barack Obama is one of the most significant figures in modern American historyWhy Barack Obama is one of the most significant figures in modern American history
©Getty Images
Barack Obama's legacy is defined by his role as the first African American president, his response to the international economic downturn known as the Great Recession, and the landmark Affordable Healthcare Act, the so-called "Obamacare."
His presidency, which spanned two terms from 2009 to 2017, saw a series of other significant shifts in policy, notably environmental regulation and foreign diplomacy. But his time in the White House was also marked by disappointment and setbacks, including failed immigration reform and failure to pass gun control.
Nevertheless, when Barack Obama left office, his approval rating was hovering around 60%, and the public rated him highly in comparison with other recent presidents.
Today, the former president is nurturing the next generation of leaders across the US and internationally through the Obama Foundation while supporting Democratic candidates and advocating for voting rights and structural democratic reforms.
In this gallery, we highlight Barack Obama's greatest achievements while ensconced in the White House and chart his post-presidency legacyকেন বারাক ওবামা আধুনিক আমেরিকান ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব
©গেটি ইমেজেস
বারাক ওবামার উত্তরাধিকার সংজ্ঞায়িত হয় প্রথম আফ্রিকান আমেরিকান রাষ্ট্রপতি হিসেবে তাঁর ভূমিকা, ‘দ্য গ্রেট রিসেশন’ নামে পরিচিত আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক মন্দার প্রতি তাঁর প্রতিক্রিয়া এবং যুগান্তকারী ‘অ্যাফোর্ডেবল হেলথকেয়ার অ্যাক্ট’, যা তথাকথিত "ওবামাকেয়ার" নামে পরিচিত, তার মাধ্যমে।
তাঁর রাষ্ট্রপতি থাকাকালীন, যা ২০০৯ থেকে ২০১৭ পর্যন্ত দুই মেয়াদে বিস্তৃত ছিল, নীতিতে আরও বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যায়, বিশেষ করে পরিবেশগত নিয়ন্ত্রণ এবং বৈদেশিক কূটনীতিতে। কিন্তু হোয়াইট হাউসে তাঁর সময়কাল হতাশা এবং প্রতিবন্ধকতা দ্বারাও চিহ্নিত ছিল, যার মধ্যে ব্যর্থ অভিবাসন সংস্কার এবং অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইন পাস করতে ব্যর্থতা অন্তর্ভুক্ত।
তা সত্ত্বেও, বারাক ওবামা যখন ক্ষমতা ছাড়েন, তখন তাঁর জনপ্রিয়তার হার প্রায় ৬০% ছিল এবং সাম্প্রতিক অন্যান্য রাষ্ট্রপতিদের তুলনায় জনগণ তাঁকে উচ্চ স্থান দিয়েছিল।
আজ, এই প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি ওবামা ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র এবং আন্তর্জাতিকভাবে পরবর্তী প্রজন্মের নেতাদের গড়ে তুলছেন, পাশাপাশি ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থীদের সমর্থন করছেন এবং ভোটাধিকার ও কাঠামোগত গণতান্ত্রিক সংস্কারের পক্ষে কথা বলছেন।
এই গ্যালারিতে আমরা হোয়াইট হাউসে থাকাকালীন বারাক ওবামার সেরা অর্জনগুলো তুলে ধরেছি এবং রাষ্ট্রপতি-পরবর্তী তাঁর উত্তরাধিকারের রূপরেখা অঙ্কন করেছি।
https://www.msn.com/en-xl/news/other/why-barack-obama-is-one-of-the-most-significant-figures-in-modern-american-history/ss-AA22A9rP?ocid=msedgntp&cvid=6a71a8c5abcd4ce09720ed309a83867e&ei=15
https://www.linkedin.com/posts/antonio-guterres_nelson-mandela-exemplified-peace-justice-ugcPost-7484982817593012224-IESk/?utm_source=share&utm_medium=member_desktop&rcm=ACoAACgi0cEBqVSK2hMqVSQK9k8wYRakAsVM8nM
The Trump administration has adopted a more assertive approach toward the Western Hemisphere. Recent remarks by a senior U.S. official have fueled debate over Washington’s regional ambitions, with critics arguing that the administration’s rhetoric reflects a vision they have dubbed “Greater North America.
”ট্রাম্প প্রশাসন পশ্চিম গোলার্ধের প্রতি আরও দৃঢ় মনোভাব গ্রহণ করেছে। একজন ঊর্ধ্বতন মার্কিন কর্মকর্তার সাম্প্রতিক মন্তব্য ওয়াশিংটনের আঞ্চলিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা নিয়ে বিতর্ক উস্কে দিয়েছে। সমালোচকদের মতে, প্রশাসনের এই বক্তব্য এমন একটি দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রতিফলিত করে, যাকে তারা ‘বৃহত্তর উত্তর আমেরিকা’ নাম দিয়েছেন।জনমতের লড়াইয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পিছিয়ে পড়ছে ইসরাইল: ভ্যান্
সDonald Trump slams 'bankrupt' Britain full of 'loser' windmills
After insisting he won't tell PM Andy Burnham how to govern Britain,
ডোনাল্ড ট্রাম্প 'ব্যর্থ' উইন্ডমিলে ভরা 'দেউলিয়া' ব্রিটেনের তীব্র সমালোচনা করেছেন। প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামকে ব্রিটেন কীভাবে শাসন করতে হবে তা তিনি বলবেন না।
https://www.msn.com/en-xl/news/other/donald-trump-slams-bankrupt-britain-full-of-loser-windmills/vi-AA29kDW0?
ocid=msedgntp&pc=U531&cvid=6a71a03fb5454f93b66e6f0c8caece31&cvpid=c1a3f45c927247e7fc39372cccba86fb&ei=3
যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে জনমত গঠনের লড়াইয়ে ইসরাইল ক্রমশ পিছিয়ে পড়ছে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। জনপ্রিয় মার্কিন পডকাস্টার জো রোগানের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে দুই দেশের সম্পর্ক ও বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনাকালে তিনি এই মন্তব্য করেন।সাক্ষাৎকার চলাকালে জেডি ভ্যান্স ইসরাইলকে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মিত্র হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তবে মিত্র দেশ হলেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ইসরাইল যে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করে, সে বিষয়টিও তিনি অকপটে স্বীকার করে নেন।
এ বিষয়ে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট স্পষ্টভাবে বলেন, তারা কি আমেরিকার রাজনীতিতে প্রভাব ফেলার চেষ্টা করে? হ্যাঁ, করে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, বিশ্বের অন্যান্য বেশিরভাগ দেশের তুলনায় ইসরাইল এই রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্রে নিশ্চিতভাবেই অনেক বেশি কার্যকর ও পারদর্শী।সূত্র:আল-জাজিরা।
16-07-2026
চরম অজনপ্রিয় ইরান যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসতে মরিয়া ট্রাম্প
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র টানা পঞ্চম দিনের মতো ইরানের অভ্যন্তরে হামলা চালিয়েছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের সামরিক নিয়ন্ত্রণ এবং আন্তর্জাতিক জলপথে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টির অপচেষ্টার সঙ্গে যুক্ত লক্ষ্যবস্তুগুলোতেই মূলত এই নতুন দফার হামলা চালানো হয়েছে।
তবে চলমান এই সামরিক সংঘাতের মাঝেই চরম অজনপ্রিয় এই যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার একটি সম্মানজনক পথ খুঁজছে ট্রাম্প প্রশাসন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সুস্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে ইরানের ওপর এই সামরিক হামলা অব্যাহত থাকবে। তবে একই সঙ্গে তিনি এই দাবিও করেছেন যে ইরানের পক্ষ থেকেই মার্কিন কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠকের জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।
সাম্প্রতিক এই তীব্র সহিংসতার পরও ট্রাম্প যে যেকোনো মূল্যে আলোচনার পথটি খোলা রাখতে চাইছেন, তা তার এই বক্তব্য থেকেই অনেকটা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র কতটা মরিয়া হয়ে এই আলোচনা সফল করতে চাইছে, এটি তারই একটি সুস্পষ্ট ইঙ্গিত। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জন্য এটি মূলত তার প্রশাসনের উপর চেপে বসা চরম অজনপ্রিয় একটি যুদ্ধ থেকে নিজেদের সরিয়ে নেওয়ার এবং একটি নিরাপদ প্রস্থান বা ‘এক্সিট র্যাম্প’ নিশ্চিত করার একটি মোক্ষম উপায় হিসেবে কাজ করছে।
সূত্র: আল-জাজিরা।https://www.jugantor.com/international/1127481
ইস্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১-এর শহীদ এবং জুলাইয়ের শহীদেরা যে বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন, সেই বাংলাদেশ গড়ার দায়িত্ব আমরা তরুণ প্রজন্মের হাতে রেখে যাচ্ছি। ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান জিন্দাবাদ, জুলাই স্মৃতি আমাদের শক্তির উৎস হোক।রান যুদ্ধ শেষ করতে হিমশিম খাচ্ছেন ট্রাম্পইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সর্বশেষ অবস্থান টিকেছিল মাত্র ২৪ ঘণ্টা। বিশ্লেষকদের মতে, এতে স্পষ্ট হচ্ছে, দীর্ঘায়িত এই সংঘাতের ইতি টানতে তিনি এখন ভিন্নধর্মী উপায় খুঁজছেন, তবে এখনো কার্যকর কোনো কৌশল খুঁজে পাননি।সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প ঘোষণা দেন, ইরানি নৌপরিবহণের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ আবারও কার্যকর করা হচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী সব জাহাজ, এমনকি, যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর জাহাজকেও ২০ শতাংশ ফি দিতে হবে। দাবি, বিশ্বের অন্যতম অস্থিতিশীল এই জলপথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের যে ব্যয় হচ্ছে, সেই খরচ মেটাতেই এই অর্থ নেওয়া হবে।
তবে, মাত্র একদিনের ব্যবধানে সেই অবস্থান থেকে পুরোপুরি সরে আসেন ট্রাম্প। নতুন প্রস্তাবে তিনি বলেন, উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ চুক্তি করা হবে। ইঙ্গিত দেন, এসব দেশের জন্য হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ নৌ-যাতায়াত নিশ্চিত করার বিনিময়ে অর্থ আদায়ের বদলে অর্থনৈতিক সহযোগিতার পথেই এগোতে চায় ওয়াশিংটন।
ট্রাম্পের এই আকস্মিক অবস্থান পরিবর্তন এমন এক সময়ে এল, যখন ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত চার মাসের বেশি সময় ধরে চলছে। এক মাস আগে, দুই পক্ষের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছিল। সেটির মাধ্যমে সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয় এবং ভবিষ্যৎ আলোচনার একটি কাঠামো নির্ধারণ করা হয়। তবে বাস্তবে সেই উদ্যোগ সংঘাত থামাতে ব্যর্থ হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ আরও বিস্তৃত করতে ট্রাম্প অনাগ্রহী হওয়ার পেছনে কয়েকটি কারণ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে যুদ্ধটি এখনো জনপ্রিয় নয়। যদি সংঘাত দীর্ঘায়িত হয়, তাহলে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে এবং মার্কিন সেনা ও মিত্রদের ওপর আবারও ইরানের হামলার ঝুঁকিও একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
অন্যদিকে, কোনো নতুন সমঝোতা ছাড়াই যুদ্ধের ইতি টানাও ট্রাম্পের জন্য রাজনৈতিকভাবে অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে পারে। কারণ তিনি এমন একটি চুক্তি করতে চান, যেটিকে ২০১৫ সালে বারাক ওবামা প্রশাসনের করা পারমাণবিক চুক্তির চেয়ে ভালো বলে দাবি করা যাবে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ডিফেন্স প্রায়োরিটিজ-এর মধ্যপ্রাচ্য কর্মসূচির পরিচালক রোজমেরি কেলানিড বলেন, সবচেয়ে সম্ভাব্য পরিণতি হলো: এই যুদ্ধের কোনো স্পষ্ট সমাপ্তি নাও হতে পারে। এটি এখন অমীমাংসিত যুদ্ধে পরিণত হয়েছে, আর এ ধরনের যুদ্ধ সাধারণত দীর্ঘ সময় ধরে চলতে থাকে।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় সকাল ১০টা ১৬ মিনিটে ট্রাম্পের সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক ঘোষণার মাধ্যমে কার্যত সমঝোতা স্মারকের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। ওই পোস্টে তিনি ইরানি জাহাজ চলাচলের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ পুনরায় কার্যকর করার ঘোষণা দেন। একই সময়ে ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় নতুন করে মার্কিন হামলাও শুরু হয়।
এর জবাবে, অঞ্চলজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশ এবং বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা আরও জোরদার করে ইরান। ফলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল আবারও প্রায় অচল হয়ে পড়ে।
প্রায় এক মাস ধরে, দুই দেশের মধ্যে দফায় দফায় আলোচনা চললেও মাঝেমধ্যেই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে, যা তথাকথিত যুদ্ধবিরতির কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র আবারও সেই একই সংকটের মুখোমুখি, যা সংঘাতের শুরু থেকেই বিদ্যমান ছিল।
সামরিক দৃষ্টিকোণ থেকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের জাহাজ, যুদ্ধবিমান ও বিভিন্ন সামরিক লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস এবং দেশটির প্রতিরক্ষা সক্ষমতা দুর্বল করার মতো কিছু লক্ষ্য অর্জন করেছে। কিন্তু রাজনৈতিকভাবে সংকটের কোনো স্থায়ী সমাধান এখনো কাগজে-কলমে মেলেনি।
বিশ্লেষকদের মতে, সামরিকভাবে দুর্বল হলেও ইরান এখনো হরমুজ প্রণালিতে নৌ-যাতায়াত বাধাগ্রস্ত করার সক্ষমতা ধরে রেখেছে। আর যুক্তরাষ্ট্র যদি এ অঞ্চলে সামরিক অভিযান নাটকীয়ভাবে আরও বিস্তৃত না করে, তাহলে তেহরানকে সেই পদক্ষেপ থেকে বিরত রাখা তাদের পক্ষে কঠিন হবে।
এই প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ২০ শতাংশ ফি'কে কেউ কেউ যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের কাছে সামরিক উপস্থিতির ব্যয়কে গ্রহণযোগ্য করে তোলার একটি রাজনৈতিক প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন। যদিও এটি নতুন কোনো ধারণা নয়। যুদ্ধ চলাকালেও একাধিকবার তিনি একই ধরনের প্রস্তাব দিয়েছিলেন।
তবে মাত্র এক মাস আগে, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ওপর ইরানের সম্ভাব্য ফি আরোপের পরিকল্পনার কঠোর সমালোচনা করেছিলেন।
রুবিও বলেছিলেন, ‘আন্তর্জাতিক জলপথে কোনো দেশ টোল বা ফি আরোপ করতে পারে না। আন্তর্জাতিক আইনে এ ধরনের কোনো সুযোগ নেই। বিশ্বের সব আন্তর্জাতিক জলপথেই এই নীতি প্রযোজ্য এবং এখানেও আমরা সেটাই প্রত্যাশা করি।’
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ ইস্যুতে ট্রাম্পের অবস্থান বদল আবারও প্রমাণ করছে যে, যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার জন্য তার সামনে এখনো সুস্পষ্ট কোনো 'পথ নেই'।
এদিকে, সমঝোতা স্মারকটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছিল, যাতে বহু বিষয় ভবিষ্যৎ আলোচনার জন্য খোলা রাখা হয়। সেখানে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল তদারকির ক্ষেত্রে ইরানের একটি ভূমিকার কথাও উল্লেখ ছিল। নথিতে বলা হয়, ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান সর্বোচ্চ চেষ্টা করে কোনো ধরনের ফি ছাড়াই বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচলের ব্যবস্থা করবে।’
এই ভূমিকাকে দীর্ঘদিন ধরেই নিজেদের অধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছে তেহরান। একই সঙ্গে, সমঝোতা স্মারকে ইরানে কয়েকশ' কোটি ডলারের বিনিয়োগ এবং আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের প্রতিশ্রুতিও ছিল।
ওয়াশিংটনের ধারণা ছিল, এসব অর্থনৈতিক প্রণোদনা এবং চুক্তি লঙ্ঘনের সম্ভাব্য পরিণতির সতর্কবার্তা মিলিয়ে ইরানকে হরমুজ প্রণালির ভৌগোলিক অবস্থানকে কৌশলগত অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা থেকে বিরত রাখা যাবে। তবে আপাতত সেই হিসাব সঠিক প্রমাণিত হচ্ছে না।
সূত্র: বিবিসি

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন